কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, টহল দেওয়ার সময় ইরান ওই হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। ইরানের এই হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। গত রোববার রাত থেকে পরদিন সোমবার সকাল পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ হামলা বন্ধ করতে রাজি হয়।

ট্রাম্প রাতে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের সামরিক বাহিনী আমাকে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। হেলিকপ্টারটিতে দুজন পাইলট ছিলেন, তাঁরা নিরাপদ ও অক্ষত আছেন।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যা–ই হোক না কেন, এই হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন অপরিহার্য।’

ট্রাম্পের এই পোস্টের আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছিল, ওমান উপকূলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন বাহিনী দুই পাইলটকেই উদ্ধার করেছে।

এদিকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছেন, নির্দেশ পেলে ইরানে আবারও জোরালো হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে।

হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে মঙ্গলবারই ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা চমৎকার একটি চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছি। এ চুক্তি কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না।’ চুক্তি সই হওয়ার দুই–তিন দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। এর পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়ে থাকে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় করছে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম পক্ষ। তাই যেকোনো উপায়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই বর্তাবে।

এএফপি আল–জাজিরা

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব