মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রতি জনগণের যে এত বিপুল জনসমর্থন সেটার জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রী আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণ আমাদের কাছ থেকে যে সুশাসন এবং জবাবদিহিতা চায়, সেক্ষেত্রে আমরা স্ব-স্ব মন্ত্রণালয়ের যারা দায়িত্বে আছি, তারা যেন যেকোনো ধরনের প্রভাব এবং স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করি এবং বিশেষ করে দুর্নীতির প্রশ্নে যেন আমাদের একটা শক্ত অবস্থান থাকে।

আগামীতে যে রমজান শুরু হচ্ছে, এই রমজানকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা প্লাস হচ্ছে সেহরি, ইফতার, তারাবির সময়টা যেন বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন থাকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক থাকে এবং সরকারের যে কমিটমেন্ট, বিশেষ করে নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় জনসভায় যে বিষয়গুলো বলেছেন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড সেগুলো কীভাবে ইমিডিয়েটলি আসলে কিছু দৃশ্যমান কাজ করা যায়, সেই বিষয়গুলো নিয়েও তিনি আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন, আলোচনা করেছেন।

নুর বলেন, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর একটি ঘোষণা ছিল যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে সরকারের একটি উদ্যোগ থাকবে। সেটি নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন যে, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে কী করা যায়। সামগ্রিকভাবেই সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমি দুটো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি, আমাদের জায়গা থেকে আমরা একটা বিষয় তার দৃষ্টিতে আনার চেষ্টা করেছি, আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশ মিডল ইস্ট বেজড। মিডল ইস্টের সঙ্গে কিন্তু শ্রমবাজার ওপেনের ক্ষেত্রে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময় সেটার একটা ধারাবাহিকতা ছিল। কিন্তু মাঝখানে নানাবিধ কারণে সেটার একটা ছন্দপতন হয়েছে, বন্ধ হয়েছে অনেক জায়গার শ্রমবাজার। সেখানে শ্রমবাজার ওপেন করার জন্য যদি প্রধানমন্ত্রী একটি সফর দেন মিডল ইস্টে, সেটা আমাদের জন্য একটা সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে। আমাদের জায়গা থেকে এটিও বলেছি, তার জায়গা থেকেও আরও কিছু পরামর্শ আমাদের দিয়েছেন যেগুলো কাজের ক্ষেত্রে আমরা মেনে চলব।

এছাড়া সরকার ১৮০ দিনের একটি পরিকল্পনা নেবে বলেও জানান তিনি।

 

দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘কেউ দুর্নীতি করলে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নেওয়া হবে না, দুর্নীতির মামলাও দেওয়া হবে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না।’

গতকাল মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে উভয় বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিতিমূলক সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন আসাদুজ্জামান। এর আগে উভয় বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মন্ত্রীকে আইন মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারক শব্দটার সঙ্গেই সততার বৈশিষ্ট্য জড়িত। বিচারককে সৎ-অসৎ—এই জায়গায় আমি দেখতে চাই না।’

বিচারক মানেই সৎ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যাঁদের মনে হবে যে চাকরির টাকায় সংসার চলে না, যাঁদের এই টাকায় পোষাবে না, তাঁদের চাকরি করার দরকার নেই। তাঁরা ওকালতি করুক, কারণ তাঁদের অবসরের পরে ওকালতি করার সুযোগ থাকে। এটা আমার কমন মেসেজ (সাধারণ বার্তা)।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ মনে করেন, দুর্নীতি করে পার পাবেন, এটা এখানে পাবেন না। কেউ দুর্নীতি করলে তাঁর বিরুদ্ধে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাই নেব না, সঙ্গে একটি দুর্নীতির মামলাও দেওয়া হবে। এই বিষয়টি সবাইকে স্মরণ রাখতে হবে।’

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা একটি মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এ আদেশ দেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

দুদকের পক্ষে তদন্ত কর্মকর্তা ও উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, নুরুজ্জামান আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী মোছা. হোসনে আরা বেগম পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। তাঁদের নামের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। প্রাপ্ত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাই কারাগারে থাকা গ্রেপ্তার নুরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

গত বছরের ৩০ জানুয়ারি রংপুর নগরের জুম্মাপাড়া পোস্ট অফিসের গলিতে তাঁর ছোট ভাই ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়ি থেকে নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গত ৪ আগস্ট রংপুর সিটি বাজার এলাকায় মাহমুদুল হাসান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ২০১৫ সালে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও ২০১৯ সালে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবার সংসদ সদস্য হন। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বুধবার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তারেক রহমান তাঁর শ্রদ্ধা জানান।

তারেক রহমান প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এককভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বেশ কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এরপর তাঁরা সেখানে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান। পরে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত রাতে সপরিবার বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন তারেক রহমান।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। মহাসড়কে বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া দেওয়া হয়। এছাড়া পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা আনা হয় সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।

এদিকে, সর্বসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।

আজ প্রথম কর্মদিবস উপলক্ষে দুপুরে সচিবালয়ে যাবেন তারেক রহমান। বিকেলে সচিবালয়ে তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক। একই দিনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের (সচিব) সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে তার।

 

নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। গতকাল শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও পরবর্তী সময়ে দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে অর্থনীতি ছিল মূলত স্থবির। বিনিয়োগেও আশাজাগানিয়া কোনো সুখবর ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান সবখানেই ছিল একধরনের স্থবির অবস্থা। এ কারণে নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অর্থনীতি বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ও করণীয় বিষয়ে কথা বলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন অর্থনীতিবিদ।

অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর, ইউএনডিপি

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদী। এ ছাড়াও সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অন্য আরেকটি প্রজ্ঞাপনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা ওই দুই পদে যতদিন বহাল রাখার ইচ্ছা পোষণ করবেন, ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে।

 

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠি তুলে দিয়েছেন সে দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা। চিঠিতে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সুবিধাজনক দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা আজ মঙ্গলবার বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের ছবি এক্সে প্রকাশ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়ার তথ্য জানান তিনি।

ওম বিরলা লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি গঠনমূলক বৈঠক এইমাত্র শেষ করেছি। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে থেকে পাঠানো একটি ব্যক্তিগত চিঠি তাঁর কাছে হস্তান্তর করেছি। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁকে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

সাক্ষাৎ নিয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার আরও লিখেছেন, ‘ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমাদের দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্ব আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় নারী নেতৃত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে পাওয়া চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেছে, নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তিনজন প্রভাবশালী নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পূর্ণমন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির অভিজ্ঞ নেত্রী আফরোজা খানম। তাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের পর্যটন খাতকে পুনর্গঠন এবং বিমান পরিষেবার মানোন্নয়নে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারে যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির অত্যন্ত পরিচিত ও প্রভাবশালী দুই নারী মুখ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং ফারজানা শারমিন। মন্ত্রণালয়ের বণ্টন অনুযায়ী ফারজানা শারমিনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের নারী অধিকার রক্ষা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাকে এই দ্বৈত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া বিএনপির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। শামা ওবায়েদ দীর্ঘদিন ধরেই দলের কূটনৈতিক উইংয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১ তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। একইসঙ্গে মঙ্গলবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি) ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভার কে কোন দায়িত্ব পেলেন দেখে নেওয়া যাক

মন্ত্রী হলেন যারা:

১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

২. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (এমপি) অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়

৩. সালাহউদ্দিন আহমদ (এমপি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৪.  ইকবাল হাসান মাহমুদ (এমপি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

৫.  হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (এমপি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

৬.  আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (এমপি) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

৭.  ডা. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৮ . আবদুল আউয়াল মিন্টু (এমপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

৯.  কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (এমপি) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১০.  মিজানুর রহমান মিনু (এমপি) ভূমি মন্ত্রণালয়

১১.  নিতাই রায় চৌধুরী (এমপি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১২.  খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (এমপি) বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

১৩.  আরিফুল হক চৌধুরী (এমপি) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

১৪.  জহির উদ্দিন স্বপন (এমপি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

১৫.  মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (টেকনোক্র্যাট) কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়

১৬ . আফরোজা খানম (এমপি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

১৭.  মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (এমপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

১৮.  আসাদুল হাবিব দুলু (এমপি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

১৯.  মো. আসাদুজ্জামান (এমপি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

২০.  জাকারিয়া তাহের (এমপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

২১. দীপেন দেওয়ান (এমপি) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

২২.  আ ন ম এহসানুল হক মিলন (এমপি) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

২৩.  সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (এমপি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

২৪.  ফকির মাহবুব আনাম (এমপি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

২৫.  শেখ রবিউল আলম (এমপি) সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

শপথ নিচ্ছেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা

প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা:

১. এম রশিদুজজামান মিল্লাত (এমপি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়

২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়

৩.  মো. শরীফুল আলম (এমপি) বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়

৪.  শামা ওবায়েদ ইসলাম (এমপি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়

৬. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) ভূমি মন্ত্রণালয়

৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়

৮. মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

৯. মো. নুরুল হক নুর (এমপি) শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

১০. ইয়াসের খান চৌধুরী (এমপি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

১১.  এম ইকবাল হোসেইন (এমপি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়

১২ . এম এ মুহিত (এমপি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

১৩.  আহম্মাদ সোহেল মঞ্জুর (এমপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

১৪. ববি হাজ্জাজ (এমপি) শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়

১৫. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (এমপি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৬. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (এমপি) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়

১৭. হাবিবুর রশিদ (এমপি) সড়ক পরিবহন ও সেতু ও মো. রাজিব আহসান (এমপি) রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়

১৮. মো. আব্দুল বারী (এমপি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

১৯. মীর শাহ আলম (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

২০. মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (টেকনোক্র্যাট) অর্থ, পরিকল্পনা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

২১.  ইশরাক হোসেন (এমপি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

২২. ফারজানা শারমীন (এমপি) মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়

২৩. শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, ধর্ম বিষয়ক এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়