বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আগামীকাল ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আজ সোমবার বিকেলে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তাঁর এ–সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে আজও ভিড় করছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে নেতা–কর্মীরা ভিড় করেন। বেলা পৌনে একটার দিকে কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান।

আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন আজ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নেতা–কর্মীরা। তাঁদের অনেকের হাতে ফুল। আসছেন দলের প্রধানকে শুভেচ্ছা জানাতে।

সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান কার্যালয়ে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুর পৌনে ১২টায় যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নওগাঁ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী আসেন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। তাঁর সঙ্গে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরাও ছিলেন।

ইকরামুল বারী বলেন, ‘দেশে ১৭ বছর পর গণতন্ত্র ফিরেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপির নেতা–কর্মী ছিলেন সবচেয়ে নির্যাতিত। কেউ গুম হয়েছেন, কেউ খুন হয়েছেন। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বড় জয় পেয়েছে। তাই নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।’
বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ঠিক করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছি।’

বিরোধী দলে যাঁরা থাকবেন তাঁদের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সমালোচনা যাতে শুধুই সমালোচনা না হয়। দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ফেনী-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার আসন হওয়ায় আমার আসনে বিগত সময়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’

নির্বাচনে বড় জয়ের পর এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়েও সাধারণ মানুষসহ সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার জন্য বাসভবন ঠিক করা হবে- এমনটা জানিয়েছেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উনারা যেভাবে চান সেভাবে হবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রীদের বাসভবন নিয়ে ব্রিফিং করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা।ব্রিফিংয়ে, এমনটা জানান তিনি।

গণপূর্ত উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। মিন্টু রোড, ধানমন্ডি এবং গুলশান মিলিয়ে এ বাড়িগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। শপথ নিতে নিতেই এগুলো তৈরি হয়ে যাবে।

বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছিলো। ১৮ মাস জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেছি। গত সাড়ে ১৫ বছরের যে ফ্যাসিবাদী শাসন সেটি থেকে দেশকে একটি নতুন গতির মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি নিজেদের কাজের জন্য।

আদিলুর রহমান আরও বলেন, দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির রিপোর্টের ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে। জনগণের আলোচনা এবং টিআইবির রিপোর্ট এক জায়গায় যায় বলে মনে করি না। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সময় যারা রাস্তায় ছিলেন, তাদের সাথে কথা বললে হয়তো চিত্র আলাদা হবে। অনেক জায়গায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার সম্পন্ন হয়নি, আশা করি সেগুলো সম্পন্ন হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নাসিমুল গনি চুক্তিভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চুক্তিভিত্তিতে তাঁকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়। আবদুর রশিদ বলেন, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তা গৃহীত হয়নি। এখন আদেশ হলো।

আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিল করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বলা হয়, তিনি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হলো।

নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
 

নাসিমুল গনি কে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ১৪২ জনের মেধা তালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।

নাসিমুল গনি ১৯৮৩ সালে সহকারী কমিশনার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি) হিসেবে তাঁর চাকরিজীবন শুরু করেন। চার বছর রাঙ্গামাটিতে চাকরি করার পর তাঁকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। পরে তাঁকে একাডেমির উপপরিচালক, আরও পরে যুগ্ম পরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়।

১৯৯০ সালে নাসিমুল গনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে বদলী হন। পরে তাঁকে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়।

১৯৯৫ সালে নাসিমুল গনিকে ইরাকের বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয়। পরে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলি করা হয়।

১৯৯৯ সালে নাসিমুল গনিকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০১ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্ব শেষে তিনি স্পিকারের একান্ত সচিব পদে নিযুক্ত হন।

২০০৪ সালে নাসিমুল গনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালে নাসিমুল গনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

২০০৯ সালে নাসিমুল গনিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি সিনিয়র সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক হয়েছে গতকাল রোববার। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত-সমালোচিত দেড় বছরের শাসনকাল। উপদেষ্টারা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন, আর ফিরবেনও একই গাড়িতে। তবে তখন আর সেই গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না।

কাগজপত্রে দেড় দিন কর্মদিবস থাকলেও গতকালই মূলত তাঁরা উপদেষ্টা হিসেবে শেষ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে যোগ দেওয়া ছাড়াও অনেকেই সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে গেছেন, মতবিনিময় করেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ কেউ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস থেকে বিদায় নেবেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কে কী করবেন, সেই প্রস্তুতিও আগে থেকে শুরু করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে আছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন।

ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসফাইল ছবি: বাসস

অধ্যাপক ইউনূস কী করবেন

উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক শেষে গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কী করবেন?

জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন। উনি আগে যে কাজগুলো করতেন, সেগুলো করবেন। সামাজিক ব্যবসা নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলেন। ক্ষুদ্রঋণ ও “থ্রি জিরো” ভিশন নিয়ে কথা বলেন। দারিদ্র্যকে কীভাবে কমানো যায়, সেই কাজ তিনি এখন পর্যন্ত করছেন, আগামী দিনগুলোতেও করবেন। পরিবেশ নিয়েও কাজ আছে।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুলফাইল ছবি

অন্য উপদেষ্টারা কী করবেন

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে অফিস করেন। এ সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনিও কি নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন? জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

আলী ইমাম মজুমদার
আলী ইমাম মজুমদার
 

আলী ইমাম মজুমদার গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। তিনি আগেই জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে তিনি আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকালও সচিবালয়ে অফিস করেছেন। দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার বেলায় যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।
শারমীন এস মুরশিদ
শারমীন এস মুরশিদ
 

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করবেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত নারীদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।

ফরেন সার্ভিস একাডেমির সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা যাঁরা তাঁরা শপথের (নতুন মন্ত্রিসভার) দিন থাকবেন, তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শপথের দিন তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় ওই গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই দেশেই আছেন, তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ অ্যাফোর্ট দেবেন।’

  • আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
  • গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।

ঢাকা

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তাজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যার মামলা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, দেশের ‘অ্যাসেট’ হিসেবে দেখা উচিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে নেই। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাকিব আল হাসানের নামেও একাধিক মামলা হয়েছে একই কারণে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, তারা ক্রিকেটার এবং শুধু কোনো যেন-তেন ক্রিকেটার না, তারা আমাদের দেশের অ্যাসেট। আমি তাদের ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করছি। জনগণ ইতোমধ্যে একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা হয়েছে, সেটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়নি, তারা গিয়ে কোনো অর্ডার ক্যারি আউট করেছে বা নিজের হাতে বন্দুক নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিসিবির কাউন্সিলর কেমন করে হয় সেখানে জেলা প্রশাসক কাউন্সিলর নিয়োগ দেন। এটা মহাদুর্নীতি, বাণিজ্য ও পক্ষপাতিত্বমূলক প্রক্রিয়া। নিজেদের সিন্ডিকেট বোর্ডে বসানোর চেষ্টা হলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না।

তবে নিজে বোর্ড রাজনীতিতে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানান তিনি। আমি একজন কাউন্সিলর হলেও কখনো বোর্ডে আসব না। আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব। আমি চাই, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক, তারা আসুক। আমরা তাদের সহায়তা করব, যোগ করেন ইশরাক।

 

নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর যখন নির্দেশনা দেবে তখনই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে বলে গণমাধ্যকে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সব পদমর্যাদার সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের চমৎকার দায়িত্বশীলতা ও দক্ষতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

জানা গেছে, সেনাপ্রধান বলেছেন, দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে এবং সেনাবাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। দেশের জনগণের স্বার্থে যা করণীয় ছিল, তা সম্পন্ন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী এখন নতুন সরকারের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সরকারের নির্দেশনা পেলেই তারা ব্যারাকে ফিরে যাবে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত যে ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছিল, তা এরইমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে।

আরও জানা গেছে, ভাষণে সেনাপ্রধান ইউনিটপ্রধানদের চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি সেনাসদস্যদের মনোবল দৃঢ় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন।

এছাড়া মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন বিষয়ে সতর্ক এবং সচেতন থাকার জন্য সেনাসদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আজ রোববার রাতে বাহারুল আলমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, পদত্যাগ করেননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকার শপথ নেবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আইজিপি বাহারুল আলম পদত্যাগ করেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র বলছে, আজ পুলিশ সদর দপ্তরে নির্বাচন-পরবর্তী একটি সভা হয়েছে। সেখানে আইজিপি পদত্যাগ করবেন বলে উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তখন কর্মকর্তারা বলেছেন, দু-এক দিনের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হবে। এরপর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বার্তায় বলা হয়েছে, আইজিপির পদত্যাগ–সংক্রান্ত সংবাদটি সঠিক নয়। এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

বাহারুল আলম ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাঁকে আইজিপি পদে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বাহারুল আলমকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো। সে হিসাবে আইজিপি হিসেবে বাহারুল আলমের মেয়াদ আরও ৯ মাসের বেশি রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা আগামী মঙ্গলবার জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন। তাঁরা ফিরবেন ওই গাড়িতেই। তবে তখন আর গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

আজ রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টাদের নিয়ে কথা বলেন প্রেস সচিব।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে একজন সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘উপদেষ্টা যাঁরা তাঁরা শপথের (নতুন মন্ত্রিসভার) দিন থাকবেন, তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শপথের দিন তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় ওই গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।’

উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘তাঁরা সবাই দেশেই আছেন, তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ অ্যাফোর্ট দেবেন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল। আগামী মঙ্গলবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায় হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টায় বসুন্ধরা থেকে নাহিদ ইসলামের বেইলি রোডের বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর বেইলি রোডে নাহিদের বাসায় পৌঁছান তিনি৷ এ সময় বাসার সামনে এগিয়ে এসে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানান নাহিদ ইসলাম।

এ সময় তারেক রহমানের সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

এর আগে ,সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটে তিনি জামায়াত আমিরের বাসায় প্রবেশ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। জোটের শরিকদের আরও ৩টি আসন মিলিয়ে বিএনপি জোটের বর্তমান আসনসংখ্যা ২১২। দীর্ঘ দেড় দশক পর এমন ‘ভূমিধস’ বিজয় দলটির কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক বিজয়ে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 

আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

এসময় গেজেট প্রকাশে কমিশন কোনো তরিঘড়ি করেনি জানিয়ে ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করা হয়েছে। সঠিক সময়ে গেটেজ প্রকাশ হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের ফলাফল ঘোষণার পুনর্বিবেচনার বিষয়টি অপ্রসঙ্গিক। তবে, আইনের দ্বারস্থ হতে কোনো বাধা নেই কোনো অভিযোগকারীর। আদালতের নির্দেশ পেলে ভোট পুনর্গণনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে সফল হয়েছে কমিশন। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি পূরণ হয়েছে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

এদিকে শেরপুর-৩ আসনের ব্যাপারে এখনও ইসি সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন ইসি আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।