আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) ১১–দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দেবেন, তবুও একটা ভোট চুরি হতে দেবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন।’

আজ সোমবার সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় জেলা শহরে জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীলনকশা কেউ যদি করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে।’

পঞ্চগড়ের জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, প্রতিটা জায়গায় তিন-চার-পাঁচজন করে নব্য স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে বলে জনসভায় অভিযোগ করেন সারজিস আলম। সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা দেখলাম, তাদের হাত দিয়ে পঞ্চগড়ে আবার চাঁদাবাজি হয়, মাদক ব্যবসা হয়, সিন্ডিকেট চলে, মামলা–বাণিজ্য চলে, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয়, বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়।’

সারজিস আরও বলেন, ‘আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশ আর চব্বিশের আগের বাংলাদেশকে আপনারা এক কাতার করে দেখবেন না। বিগত ষোলো-সতেরো বছরে এই বাংলাদেশে বাস্তববাদী রাজনীতি করার কোনো অভিজ্ঞতা আপনাদের নাই। এই কারণে ২০ বছর আগে আপনারা যেই ধরনের অপসংস্কৃতির নোংরা রাজনৈতিক কালচারের রাজনীতি করেছেন, আপনারা মনে করছেন এখনো সেই রাজনীতি করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন।’

বিএনপি নেতাদের ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, ‘তারা নাকি বলছেন, আমাদের বয়স তাদের সন্তানের চেয়ে কম, আমারা নাকি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত হইনি। আমি তাদের বলতে চাই, যাদের বয়স আমাদের বাবা-দাদাদের সমান, যারা তাদের নেতা, তারা বাংলাদেশকে মুক্ত করার সময়, এই অভ্যুত্থানের সময় কোথায় লুকিয়ে ছিল। তাদের চেহারাগুলো তো পঞ্চগড়ে দেখা যায় নাই, তাদের চেহারাগুলো তো ঢাকায় দেখা যায় নাই। গর্তের মধ্যে ঢুকে, রুমের মধ্যে ঢুকে নেতাগিরি করার দিন শেষ হয়ে গেছে বাছাধন।’

নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়ের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সারজিস আলম পঞ্চগড় পৌরসভাকে সবচেয়ে উন্নত মানের পৌরসভা, পঞ্চগড়ে আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু করা, বন্ধ চিনিকল চালু করা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, নদী সুরক্ষা বাঁধ তৈরি, মাদকমুক্ত পঞ্চগড় প্রতিষ্ঠা, পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পঞ্চগড়ের অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

সেই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এবং পঞ্চগড়কে চোর–বাটপার–চাঁদাবাজমুক্ত পঞ্চগড় গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বিজয়ী হলে বিএনপির পরাজিত নিরপরাধ নেতা–কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মানের সাথে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সারজিস।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংকে সম্ভবত শেষ ব্রিফিং বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ১৮ মাসে আমরা সব সময়ই নিউজ যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে সরকারের অবস্থা কী তা আমরা আপনাদের জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পেজে এমন কোনো নিউজ নেই, যেটা আমরা শেয়ার করিনি। পেজ ২০ কোটি বার ভিউ হয়েছে মিনিমাম, সবকিছু মিলিয়ে।

শফিকুল আলম বলেন, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সময় প্রেস কনফারেন্সের যত কোশ্চেন আপনাদের ছিল, সব কোশ্চেনই আমরা নিয়েছি।

এ সময় প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আশা করছি আমরা টেবিলের ওপারে আপনাদের সঙ্গেই থাকব।

আরেক সদস্য ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে বেশি ক্লোজ থেকেছি। সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নানা কারণে আমরা এক্সট্রা অর্ডিনারি অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি। আমাদের কোনো আচরণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা সরি।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সন্ধ্যায় বন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করার পরই তাঁকে আটক করা হলো। ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলেরও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ রাতে বলেন, র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় দিয়েছে। যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ।

বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন বন্দরের কর্মচারীরা। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন দুজন। ইব্রাহিম খোকন ছাড়াও হুমায়ুন কবিরও এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে আন্দোলন করলেও পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে কঠোর আন্দোলন শুরু করেন তাঁরা।

৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। পরে গত মঙ্গলবার লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। পরে আজ সোমবার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্কপের প্রতিবাদ

ইব্রাহিম খোকনকে আটকের প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। বিবৃতিতে নেতারা বলেন, প্রশাসন শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ পরিহার করে বারবার শ্রমিকদের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গতকাল বন্দরের পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আর আজ আবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার উসকানিতে লিপ্ত হয়েছে।

নেতারা আরও বলেন, গতকাল গভীর রাতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পর যখন বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীলভাবে চলছিল, ঠিক তখনই প্রশাসনের এমন রহস্যজনক ও নেতিবাচক পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের জন্ম দেয়। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অশান্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

বিবৃতিদাতারা হলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, স্কপ চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন ও ইফতেখার কামাল খান, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদুল আলম, বিএফটিইউসির সভাপতি কাজী আনোয়ারুল হক, বিএলএফের সভাপতি নুরুল আবসার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন ও বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহেদ উদ্দিন।

ঢাকা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী প্রতারক দল। এই দল দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তাদের মুখে আবার নতুন করে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হচ্ছে। যারা এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তারা সঠিক ইতিহাস বলবে না। এখন আবার একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাড়ায় এনে প্রমাণ করতে চায় তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে।’

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় কক্সবাজারের চকরিয়ার শহীদ আবদুল হামিদ পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। জনসভায় তিনি কক্সবাজারের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে ধানের শীষে ভোট চান।

গণতন্ত্র, সাংবিধানিক সংস্কার এবং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি এ দেশের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। যখনই গণতন্ত্র, সংবিধান ও দেশের সার্বভৌমত্ব মুখ থুবড়ে পড়েছে বিএনপি তা রক্ষা করেছে। সুতরাং দেশ রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।

জনসভায় তিনি কক্সবাজারের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে কক্সবাজারসহ এ অঞ্চলে বহুমাত্রিক উন্নয়ন হবে। চকরিয়া থেকে সাতটি ইউনিয়নকে আলাদা করে মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠা করা হবে। মাতামুহুরী ও চকরিয়ায় একটি করে ক্রীড়া কমপ্লেক্স, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেন, চকরিয়া-পেকুয়া-বাঁশখালী-আনোয়ারা সড়ক চার লেন করা হবে। এ ছাড়া চকরিয়া শহরে বাইপাস সড়ক ও দুটি ফ্লাইওভার করা হবে।’

মন্ত্রী থাকাকালে চকরিয়া-পেকুয়ার উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বদরখালী থেকে বমুবিলছড়ি, খুটাখালী থেকে রাজাখালী পর্যন্ত যত সেতু করেছি, তা গুনতে আমার প্রতিদ্বন্দ্বীর সাত দিন সময় লাগবে। এবার নির্বাচিত হলে আরও অনেক সেতু, সড়ক করা হবে। আঞ্চলিক সড়কগুলো মহাসড়কে পরিণত করা হবে। আমার জন্মই হয়েছে এ দেশের উন্নয়ন ও সেবা করার জন্য। সুতরাং আমাকে উন্নয়ন শিখিয়ে লাভ নেই।’

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ, তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান সাঈদ ইব্রাহীম আহমদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী প্রমুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার‌ণে আগামী ১১-১২ ফেব্রুয়া‌রি ভিসা দে‌বে না ঢাকার ডেনমার্ক দূতাবাস।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়া‌রি) ঢাকার ডে‌নিশ দূতাবাস এক বার্তায় এই তথ্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।

ডে‌নিশ দূতাবাস জানায়, বাংলা‌দে‌শের জাতীয় নির্বাচনের কার‌ণে আগামী ১১-১২ ফেব্রুয়া‌রি ভিসা দেওয়া সম্ভব হবে না। ভিসা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল ভিসা আবেদন নে‌বে না।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় গেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যথাসময়ে পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষাণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সেক্টর ও প্রতিটি শ্রেণি পেশার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছি।

তিরি তার বক্তব্যে বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের সুবিধার কথা তুলে ধরেন।

দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করার কথা জানায় বিএনপি চেয়ারম্যান। যেখানে প্রথম পর্যায়ে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ও নিম্ন আয়ের সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ডে প্রতিমাসে আড়াই হাজার টাকা কিংবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান জানান, তার দল সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ একবছর কিংবা কংসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বেকার সমস্যা সমাধানে তারেক রহমান বলেছেন, বেকার সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাংক-বীমা-পুঁজিবাজারসহ দেশের অর্থনৈতিক খাতের সার্বিক সংস্কার ও অঞ্চলভিত্তিক ও অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা এবং শিল্প ও বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নাগরিকের দুয়ারে স্বাস্থসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ 'হেলথ কেয়ার' নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন তিনি। যার মধ্যে ৮০ শতাংশই থাকবেন নারী।

তারেক রহমানের মতে, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়, এটি ঠেকানো গেলে কৃষক কার্ডসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়ন অসম্ভব না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) নামের একটি সংস্থা। সাড়ে ৪১ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই জরিপ বলছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। আর জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন।

আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের থ্রিডি সেমিনার হলে ইএএসডির এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ইএএসডির দাবি, এবারের নির্বাচন নিয়ে যতগুলো জরিপ হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তাদের এই জরিপটিই সবচেয়ে বড় নমুনার জরিপ।

অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইএএসডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার। তিনি জানান, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনেই প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিট (পিএসইউ) পদ্ধতি অনুসরণ করে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার তথ্য ‘কোবো টুলবক্স’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ১৮ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী মাঠপর্যায়ে কাজ করেছেন। দেশের বিভিন্ন জনমিতিক ও আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করার জন্য সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৬৬টি পিএসইউ নির্বাচনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিটি পিএসইউ থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৫টি পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রতিটি পরিবার থেকে একজন যোগ্য উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে পদ্ধতিগত ও পক্ষপাতহীন তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত হয়। গ্রামীণ এলাকার জন্য ইউনিয়ন এবং শহরাঞ্চলের জন্য ওয়ার্ডগুলোকে ক্লাস্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যে এই জরিপে গ্রাম ও শহর উভয় অঞ্চলের মানুষের সমান প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।

তিনি জানান, মোট ৪১ হাজার ৫০০ জন উত্তরদাতার মধ্যে ২৬ হাজার ৫৬০ জন পুরুষ (মোট সংখ্যার ৬৪ শতাংশ) এবং ১৪ হাজার ৯২২ জন নারী (মোট সংখ্যার ৩৬ শতাংশ)। জরিপে ১৮-৩০ বছর বয়সী তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল মোট ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ ২১ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা ছিলেন ব্যবসায়ী। এঁদের মধ্যে বড় ও মাঝারি ব্যবসায়ী ছিলেন ৫ শতাংশ এবং ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ শ্রমজীবী খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে গৃহস্থালি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৯ দশমিক ১ শতাংশ; শিক্ষার্থীদের মোট অংশগ্রহণকারী ছিল ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

ফলাফল

ইএএসডির জরিপ অনুযায়ী, রাজনৈতিক পছন্দের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ভোটারের পছন্দ বিএনপি। সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এর বিপরীতে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এনসিপি ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির জনসমর্থন ৪ শতাংশ আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তা বেশি উল্লেখ করে জরিপের ফলাফলে বলা হয়, ৭১ দশমিক ১ শতাংশ নারী ভোটার বিএনপিকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিএনপি জোটের প্রতি সর্বোচ্চ সমর্থন চট্টগ্রাম (৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ) এবং সিলেটে (৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ)। তবে বরিশাল (১৭ দশমিক ৮ শতাংশ) ও খুলনায় (১৮ দশমিক ৬ শতাংশ) জামায়াত জোটের শক্তিশালী অবস্থান লক্ষ করা গেছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রংপুরে জাতীয় পার্টি ৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পেয়েছে।

আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, এমনটাও এই জরিপে উঠে এসেছে। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ ৬৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর বিএনপি জোট সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে এবং ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার তাঁদের নিজ নিজ আসনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করেছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৃহৎ পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতি প্রত্যাশাকেই জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

আগে নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ভোট দেওয়া ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন, এমনটাও এই জরিপে উঠে এসেছে। শামীম হায়দার তালুকদার বলেন, তাঁদের মধ্যে ৮০ শতাংশ আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটারদের ১৫ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই জরিপের ফলাফল অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পেতে পারে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। জরিপ অনুযায়ী বিএনপি জোট প্রায় ২০৮টি আসনে জয়লাভ করতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ৪৬টি। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন। একই সঙ্গে ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি (ক্লোজড কনটেস্ট) হতে পারে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন করেছেন সর্বাধিক ৬৮ শতাংশ উত্তরদাতা। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৪ শতাংশ আর এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পক্ষে মত দিয়েছেন ২ শতাংশ উত্তরদাতা। এ ছাড়া ১৬ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে মত প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক বলে জানিয়েছেন।

এই জরিপ প্রকাশের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইএএসডির উপদেষ্টা কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর। জরিপের ফলাফল উপস্থাপনের পর প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান শামসুল আলম সেলিম, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক তৌফিক জোয়ার্দার এবং নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য মীর নাদিয়া নিভিন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহানকে এই পদে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মেয়রের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মোহাম্মদ এজাজ। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন সুরাইয়া আখতার জাহান।

আজ সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মোহাম্মদ এজাজকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, নিয়োগ করা প্রশাসক সুরাইয়া আখতার জাহান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিধি অনুযায়ী তিনি কেবল ‘দায়িত্ব ভাতা’ পাবেন। এ ছাড়া অন্য কোনো আর্থিক বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

এর আগে, দুপুরে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেয়ায় বিধিনিষেধ আরোপের কথা জানায় ইসি। এদিন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলামের সই করা এ সংক্রান্ত একটি চিঠি সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, আনসার, সাধারণ আনসার বা ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য ফোন রাখতে পারবেন। এছাড়া, অন্যরা কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নিয়ে সমালোচনা করে নয়, জনগণের ভাগ্য বদলের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দিয়েই দেশের উপকার করা সম্ভব বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জনসভায় ঢাকা–১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি সভাপতিত্ব করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—যে বিশ্বাস শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধারণ করতেন, যে বিশ্বাস দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ধারণ করেছেন—বাংলাদেশই আমাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। সব অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্যেও তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। বলেছেন, এই দেশের মানুষই তাঁর পরিবার। আসুন, আমরা পরিশ্রম করি, ঐক্যবদ্ধ থাকি, দেশকে গড়ে তুলি। কারণ সবার আগে—বাংলাদেশ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচনী জনসভায় আমরা চাইলে আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের নিয়ে অনেক কথা বলতে পারি। বিভিন্ন ব্যক্তি, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু শুধু কথা বললেই কি দেশের বা জনগণের কোনো লাভ হয়? না—লাভ হয় না। দেশ ও জনগণের প্রকৃত লাভ তখনই হয়, যখন একটি রাজনৈতিক দলের হাতে থাকে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কর্মসূচি। ’

বিএনপি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে কৃষি কার্ড, দেশের মায়েদের, গৃহিণীদের পাশে দাঁড়াতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করবেন বলে জানান তারেক রহমান। গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক, খেটে খাওয়া নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতেই এটি করা হবে বলেন তিনি।

সারা দেশের স্কুলশিক্ষকদের পর্যায়ক্রমে কম্পিউটার প্রদানের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে বলেন তারেক রহমান। শহর ও গ্রাম—সব জায়গায় প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসী ভাই-বোনের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলে বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, তাঁদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।

দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য ধর্মীয় গুরুদের অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁদের জন্য সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

বিএনপির আরও অনেক পরিকল্পনা আছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সবগুলোর (পরিকল্পনা) মূল লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকবলিত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন, এমনকি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশকে ‘এমার্জিং টাইগার’ বলে স্বীকৃতি দেয়। তিনি (খালেদা জিয়া) মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। এই ইতিহাসই প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষের জন্য একটি কাঙ্খিত দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘১২ তারিখের নির্বাচন শুধু একটি ভোটের দিন নয়। এই নির্বাচন সেই ভোট, যার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ১৬ বছর অপেক্ষা করেছে।’

নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র আছে, অপচেষ্টা আছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি পক্ষের লোকজন নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তাই ঢাকা–১০ সহ সারা দেশের গণতন্ত্রপ্রত্যাশী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর বা অন্য কোনো তথ্য চায়, বুঝতে হবে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। এসব অপচেষ্টা রুখে না দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।’

এর আগে বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন–রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।

তারেক রহমান আজ নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেবেন। বনানী ও কলাবাগানের পর ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গী মাজার রোডে, ঢাকা-৯ আসনে মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠে , ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে , ঢাকা-৬ আসনে ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে তিনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।

এর আগে গতকাল রোববার তারেক রহমান ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো, সবাইকে নিজের মুঠোফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছা থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।

আজ সোমবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী। দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি পঞ্চগড়-১ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী।

সারজিস আলম আজ দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেন
সারজিস আলম আজ দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে একই পোস্ট নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দিয়েছেনকোলাজ: প্রথম আলো

গতকাল রোববার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মুঠোফোন নিয়ে যেতে পারবেন না ভোটাররা।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ফোন নিয়ে যাওয়া যাবে না।’

ইসির এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর পোস্টে লেখা হয়, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো, সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই বলে পোস্টে উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি লিখেছেন, এমনটা আগে কখনো দেখেননি। এটার মানে কোনো বিপদ হলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মুঠোফোন নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।

হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকেরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম-জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে, তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল, ভোটচুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে। সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়তো এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ যাতে করতে না পারে, সে জন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’

১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।