মাঠের উত্তরের গেট দিয়ে একের পর এক মিছিল ঢুকছে। মিছিলকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া গ্রামের মাজেদুল ইসলাম। সারা শরীর তাঁর ধানের শীষে মোড়ানো।

কাজটি করতে একটু আগেভাগেই এসেছেন মাজেদুল। মাজেদুল জানালেন, ধানের শীষের প্রচারণার এই কৌশল তারেক রহমান দেখলেই তিনি খুশি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় বড় মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। সকাল ১০টার মধ্যে মাঠটি বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের আগমনে প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে।

সকাল ১০টায় ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে করে নীলফামারীর সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বেলা ১১টায় সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা আছে তাঁর। বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি জনসভায় যোগ দেবেন। ১টার দিকে তিনি নীলফামারীর উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা হাতে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মাঠে হাজির হতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আবার হাতে ধানের শীষ নিয়ে এসেছেন। দূরদূরান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা বাস, ট্রাক, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে জনসভায় আসছেন। তবে তাঁদের গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে রেখে হেঁটে সমাবেশে ঢুকতে হচ্ছে।

নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মাজেদুল ইসলাম
নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাঁশগাড়া থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মাজেদুল ইসলাম

মঞ্চের সামনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতা-কর্মীর বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি দেখা গেছে। এ সময় তাঁরা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ঠাকুরগাঁওবাসীর পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’, ‘ভোট দিব কিসে, ধানের শীষে’সহ নানা স্লোগান দেন। দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরে আরও অনেক সাধারণ মানুষ এসেছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, মঞ্চের ঠিক সামনেই কেন্দ্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বসার জন্য বাঁশের বেষ্টনী দিয়ে বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর পর থেকে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের জন্য জায়গা রাখা। এক পাশে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্যদের বসার জায়গা। মাইকে তখন চলছে স্থানীয় নেতাদের বক্তৃতা। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধ, দেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়ে মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের শীষে মোড়ানো ট্রাকে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে ধানের শীষ দিয়ে।সেখানে পতাকা নাড়ছেন বিএনপি সমর্থক রাজিয়া সুলতানা
ঠাকুরগাঁওয়ে ধানের শীষে মোড়ানো ট্রাকে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে ধানের শীষ দিয়ে।সেখানে পতাকা নাড়ছেন বিএনপি সমর্থক রাজিয়া সুলতানা
 

ঠাকুরগাঁও শহর থেকে হরিপুর উপজেলার দূরত্ব ৬০ কিলোমিটার। উপজেলার মিনাপুর গ্রামের বাসিন্দা তৈয়ব আলী (৫৮) সকাল ৯টার দিকে জনসভাস্থলে এসে হাজির হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এসেছেন আরও ৫৫ জন। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান যেদিন দেশে আসলেন, সেদিনও ঢাকায় গিয়েছিলাম।’

সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের মুন্সিরহাট এলাকার বিএনপির কর্মী শহিদুল ইসলাম (৫২) বলেন, ‘২০০৩ সালের শীতের মধ্যে তারেক রহমান ঠাকুরগাঁওয়ে আসছিলেন। আমি সেদিনও ওই অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।’

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হাসান (৫৫) মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি না, তবে তারেক রহমানের কথা শুনে ভালো লেগেছে। তাই তাঁকে দেখতে এসেছি। সুযোগ পেলে তাঁর সঙ্গে একটা ছবি তুলব।’

রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা গ্রাম থেকে জনসভায় এসেছেন মাসুমা বেগমসহ আটজন নারী। একফাঁকে মাসুমা (৪৭) বলেন, ‘খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম আমাকে অবাক করে। তাঁর কারণে আমি এই দলটার ভক্ত। আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া নেই, শুধু চাই দেশটা সুন্দর হোক।’

ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মো. বাদশা
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজেকে ধানের শীষে মুড়িয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে তারেক রহমানের জনসভায় এসেছেন মো. বাদশা
 

ধানের শীষে নিজেকে মুড়িয়ে গাইবান্ধা থেকে শাহজাহান মণ্ডল আর দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার আঠাশ মাইল থেকে এসেছেন মো. বাদশা। গরমে কষ্ট হলেও তাঁরা তারেক রহমানকে দেখবেন, এ জন্য খুশি।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে এই অঞ্চলের নেতা-কর্মীর মধ্যে শুধু নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। এই জনসভায় কয়েক লাখ মানুষ অংশ নেবেন বলে আমরা আশা করছি।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পানছড়ি ব্যাটালিয়নের (৩ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ ২১ দশমিক ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকাসহ পানছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচনি দায়িত্বের অংশ হিসেবে পানছড়ি উপজেলার ২৫টি এবং দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া ইউনিয়নের ১টি ভোটকেন্দ্রে গত ৩০ জানুয়ারি পানছড়ি উপজেলায় ৪টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম।

এছাড়া দীঘিনালার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা নাড়াইছড়িতে অবস্থিত ১টি হেলি-সাপোর্টেড ভোটকেন্দ্রে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মোতায়েন করা বিজিবি সদস্যরা যানবাহন, পায়ে হেঁটে ও নদী পারাপারের মাধ্যমে নিয়মিত ডমিনেশন টহল পরিচালনা করছেন। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন নজরদারি, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং আধুনিক রায়ট কন্ট্রোল সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে লোগাং বিজিবি ক্যাম্প ও গিলাতলী বিওপি এলাকায় ২টি চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে জনসংযোগ, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশে উপকূলীয় ৬টি উপজেলা ব্যতীত ৪৮৯টি উপজেলায় ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছে।

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের আহ্বান এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আন্দোলনকারীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় ছেড়ে যান। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক মোড়ে যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

ডাকসুর নেতৃবৃন্দ আন্দোলনকারীদের প্রতি জনদুর্ভোগ কমানোর আহ্বান জানান। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা রাস্তা ছেড়ে দিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে শাহবাগ মোড় পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ব্যারিকেড সরিয়ে নেওয়ায় সব দিকের সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে আপাতত জনস্বার্থ বিবেচনায় আজকের কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শাহবাগ থেকে আন্দোলনকারীদের একাংশ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এদিন দুপুরের পর শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নিয়ে যমুনা অভিমুখে যাত্রার ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পরে বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখে রওনা করেন নেতাকর্মীরা। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা বাংলামোটর মোড়ে অবস্থানের চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। শহিদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে তারা কর্মসূচি পালন করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ইনকিলাব মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে জাতিসংঘের অধীনে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রা করছিল ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। পথে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ও রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বিএনপি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— ইশতেহারের মূল স্লোগান।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার তুলে ধরেন।

বিএনপি তাদের এই ইশতেহারকে ৫টি অধ্যায়ে ভাগ করেছে, যেখানে ক্ষমতায় এলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মোট ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেছে দলটি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা— দলটির এবারের ইশতেহার ভিত্তি।

বিএনপি বলছে, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণের দিন শুরু হবে। স্লোগান নয় বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বিশ্বাসী তারা। ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হবে— লুটপাট নয় উৎপাদন; ভয় নয় অধিকার এবং বৈষম্য নয় ন্যায্যতা।

নির্বাচনি ৯ প্রধান প্রতিশ্রুতিতে জনকল্যাণ ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে ওঠে এসেছে। প্রতিশ্রুতিগুলো হচ্ছে—

১. ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। এই সহায়তার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষক কার্ড: কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’ প্রবর্তন করা হবে। এর আওতায় ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বীমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। মৎস্য ও পশুপালন খাতের উদ্যোক্তারাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. স্বাস্থ্যসেবা: দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়তে সারাদেশে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা এবং মা ও শিশুর জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

৪. শিক্ষা: বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ (দুপুরের খাবার) চালু করা হবে।

৫. তরুণ ও কর্মসংস্থান: তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

৬. ক্রীড়া: খেলাধুলাকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা বাড়ানো হবে।

৭. পরিবেশ ও জলবায়ু: আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন বা পুনঃখনন করা হবে। চালু হবে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।

৮. ধর্মীয় সম্প্রীতি: ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ চালু করা হবে। এছাড়া ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইশতেহারের প্রধান ৫টি অধ্যায়—

প্রথম অধ্যায়: রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার ও সুশাসন

ইশতেহারের প্রথমভাগে রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। এতে গুরুত্ব পেয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা।

এছাড়া, সাংবিধানিক সংস্কার, জাতিগঠন ও সুশাসনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে দলটি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সামাজিক উন্নয়ন ও বৈষম্য নিরসন

বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে দ্বিতীয় অধ্যায় সাজানো হয়েছে। এতে দারিদ্র্য নিরসন, সামাজিক সুরক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া, দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুব উন্নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং শ্রমিক কল্যাণের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায়: ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

তৃতীয় ভাগে স্থান পেয়েছে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অর্থনীতি পুনর্গঠন। বিএনপি বলছে, ক্ষমতায় গেলে তারা অর্থনীতির ‘গণতন্ত্রায়ণ’ করবে এবং দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাবে। এই লক্ষ্যে বিনিয়োগ ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এছাড়া, জ্বালানি খাত, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগর

আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে চতুর্থ অধ্যায়ে বিশেষ পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— চট্টগ্রামকে দেশের ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ হিসেবে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া, উত্তরাঞ্চল, হাওর-বাওড় ও উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা উন্নয়ন পরিকল্পনা, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ঢাকাকে নিরাপদ ও টেকসই মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়: ধর্ম, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যম

ইশতেহারের এই ভাগে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকার করা হয়েছে। একইসাথে ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সমাজের নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেছে দলটি।

বিএনপি বলছে, এটি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি ‘নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি’। প্রতিশোধের রাজনীতিতে নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতায় বিশ্বাস করে বিএনপি। ক্ষমতার চেয়ে জনগণের অধিকারই তাদের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে দলটি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনা করেন। এতে বিএনপির উর্ধ্বতন নেতার উপস্থিত ছিলেন।

ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বার্তায় বলা হয়, জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা -শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।

তাদের দাবি, সংগঠনের নেত্রী জুমাকে এবং শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে আঘাত করা হয়েছে। আরেক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না।

আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব। সেই পর্যন্ত নিরাপদে থাকার আহ্বান জানাই।

শহীদ শরীফ ওসনান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে যমুনার সামনে অবস্থান করছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষ হয়।

এদিকে, আব্দুল্লাহ আল জাবেরের ফেসবুক আইডিতে থেকে জানানো হয়, শতাধিক আহত ও জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শান্তভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, আপাতত কোনো জমায়েত করবেন না। আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে আসব।

জাতিসংঘের অধীন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশকে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জাতিসংঘের অধীন ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এ জন্য ইন্টারকন্টিনাল মোড়ের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছিল পুলিশ।

আজ যমুনার সামনে অবস্থান করছিলেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন আর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ বিক্ষোভকারী অবস্থান নেন।

একপর্যায়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের লোকজন ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে তাঁদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা পুলিশের দিকে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

লাঠিচার্জ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
লাঠিচার্জ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী ব্যক্তিদের একটি অংশ জলকামানের ওপর উঠে সেটার ক্ষতি করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় জনস্বার্থে পুলিশ অ্যাকশনে যেতে বাধ্য হয়।

সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তখন তিনিসহ উপস্থিত লোকজন প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে শাহবাগ মোড়ের দিকে চলে যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহার ঘোষণা করছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিএনপির ইশতেহারে যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।

২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন।

৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে।

৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে।

রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শুক্রবার বিকেলে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আজ শুক্রবার বিকেলে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপিছবি: বিএনপির ফেসবুক পেজ

৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা–উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ১০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে।

৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।

বিএনপি বলছে, এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা—এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

বিএনপি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন, সবার আগে বাংলাদেশ।

নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় দফায় দফায় লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনকারীদের যমুনা এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে পুলিশ। সেই সঙ্গে এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার পর আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যমুনার সামনে থেকে সরে শাহবাগের দিকে চলে যান। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

এর আগে, বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়ে যমুনার উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন। শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে তারা প্রথম পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও লাঠিচার্জ করা হয়নি। তবে জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।

পরে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার সামনে পৌঁছান। সেখানে তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার পর ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। একই সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও সেখানে অবস্থান নেন।

প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে তারা তা প্রত্যাখ্যান করলে পুলিশ অভিযান শুরু করে। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিতে বারবার জলকামান ব্যবহার করা হয় এবং সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।

পুলিশি অভিযানের মুখে আন্দোলনকারীরা রমনা পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেও পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপকভাবে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে অভিযান চালায়।

এ সময় একাধিক সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা গেছে। দুপুর ১টার পর আন্দোলনকারীরা যমুনা এলাকা পুরোপুরি ছেড়ে শাহবাগের দিকে সরে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে চার-পাঁচজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ উপলক্ষে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’— এই স্লোগান নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, বিকেল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনা করবেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান।

জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির এই ইশতেহারে।

দলীয় সূত্র বলছে, ইশতেহারটি তৈরি করা হয়েছে বিএনপিঘোষিত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’, প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ‘১৯ দফা’, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে।

এবারের ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ ও পররাষ্ট্র নীতি, প্রতিরক্ষা খাত, পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার ও আওয়ামী লীগ আমলের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, খতিব-ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানীর মতো জনমুখী ইস্যুগুলোও থাকছে। নারী ও তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর সমন্বয়ে ইশতেহারের বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়েছে।

ইশতেহারে উল্লেখ থাকছে ১৯৭১ সালের ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ১৯৭৫ সালের ‘সিপাহী-জনতার বিপ্লব’, ১৯৯০ সালে ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার’ বিষয়গুলোও।

জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বিএনপি এবার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এ খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘ই-হেলথ কার্ড’। এছাড়া দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনা অনুযায়ী— মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য এবং প্রাণঘাতী ও জটিল রোগের আধুনিক চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— আইটি পার্কে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অফিসের সুবিধা প্রদান, দেশজুড়ে ফ্রি ওয়াইফাই জোন সৃষ্টি এবং আউটসোর্সিং ও ক্ষুদ্র-মাঝারি (SME) শিল্পের বিকাশে সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন ও আলিবাবার সঙ্গে দেশের বাজারকে সংযুক্ত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে। এছাড়া, তরুণদের বিশ্ববাজারের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিদেশি ভাষা শিক্ষা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ফান্ড’ গঠনে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকছে এ ইশতেহারে। শিক্ষাব্যবস্থায় বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি নিশ্চিত করতে ‘জব ম্যাচিং’ সেবা চালুর অঙ্গীকারও থাকছে দলটির ইশতেহারে।

শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ইশতেহারে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছে বিএনপি। শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। পাঠ্যক্রমে আন্তর্জাতিক চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে ইংরেজি ও বাংলার পাশাপাশি তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা থাকছে দলটির।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস প্রদান এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কঠোর অঙ্গীকার করা হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীসহ ‘ভেন্ডিং মেশিন’ স্থাপনের যুগান্তকারী উদ্যোগ নেবে দলটি।

পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। ইশতেহারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো প্রবর্তনের পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ কল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার জোরালো অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, এবার বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আগামী ৫ বছরে দক্ষ ও অদক্ষ মিলিয়ে মোট এক কোটি জনশক্তি বিদেশে পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিএনপির ইশতেহারে এক বিশাল সবুজ বিপ্লবের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির এক বলিষ্ঠ অঙ্গীকার করা হয়েছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকারও থাকছে বিএনপির ইশতেহারে।

বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ইশতেহারে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত স্বৈরাচারী আমলের সকল মানবতাবিরোধী অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতিও থাকছে। বিশেষ করে, যেসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও শুরু হয়নি, সেগুলো অবিলম্বে শুরু করে দায়ীদের দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা হবে। পাশাপাশি, গুমের মতো জঘন্য অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে এবং এর প্রতিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর আইন প্রণয়ন ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপির এবারের ইশতেহারের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ বা ‘চমক’ হতে যাচ্ছে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার এক অভিনব পরিকল্পনা। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে প্রতি বছর অন্তত একবার উন্মুক্ত স্থানে ‘উন্নয়ন জনসভা’ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি থাকছে এতে।

সেইসঙ্গে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুসংহত করতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে বিএনপি। এই নীতির আলোকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত একটি সুশৃঙ্খল, যুগোপযোগী ও আধুনিক সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে।

বিগত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারে ঘটে যাওয়া নানা অনিয়ম ও কারসাজিতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষায় এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর আস্থা ফেরাতে গত ১৫ বছরের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তে একটি ‘বিশেষ তদন্ত কমিশন’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির ইশতেহারে।

পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল ও শক্তিশালী করতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এছাড়া, তরুণ প্রজন্মকে পুঁজিবাজার সম্পর্কে সচেতন ও দক্ষ করে তুলতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেয়ারবাজার সংক্রান্ত শিক্ষার প্রসার ঘটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে বিএনপি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে বিএনপির ইশতেহারে থাকছে বিশেষ মহাপরিকল্পনা। এতে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, বর্ধিত চাহিদা মেটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে দলটির পক্ষ থেকে।

এছাড়া, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই খাতে অন্তত ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি থাকছে।

দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোয় বৈচিত্র্য আনতে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি ইশতেহারে থাকছে আধুনিক কিছু উদ্যোগ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসন ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত নিশ্চিত করতে প্রধান সড়কগুলোতে পৃথক লেন এবং জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে রাইড শেয়ারিংয়ে ‘সাইকেল সেবা’ চালুর বিশেষ অঙ্গীকার করতে যাচ্ছে বিএনপি।

দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। দলটির লক্ষ্য হলো রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তারা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে; যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ২ শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইশতেহারে থাকছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত আনার জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অর্থপাচার রোধে এবং আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা ইশতেহারে স্পষ্ট করা হয়েছে।

এছাড়া, বেসরকারি খাতে কর্মরত বিশাল জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে বিএনপি। বেসরকারি খাতের কর্মীদের কর্মজীবন শেষে বার্ধক্যের দুর্দশা নিরসনে এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি ‘কার্যকর পেনশন ফান্ড’ গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি থাকছে দলটির নির্বাচনি ইশতেহারে।

দেশের নৌপথ সচল এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ইশতেহারে। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও নাব্য সংকট দূর করতে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন এবং দখলকৃত জলাশয় পুনরুদ্ধার করা হবে।

‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’— বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উদার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে ধর্মীয় নেতাদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, মসজিদের খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাসিক সরকারি সম্মানী এবং ধর্মীয় উৎসবগুলোতে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

একইভাবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব উপাসনালয়ের প্রধানদের (পুরোহিত, ভান্তে, যাজক প্রমুখ) জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থা করার অঙ্গীকার থাকছে। এছাড়া, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের অধিকার রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি পৃথক ‘নৃগোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদপ্তর’ গঠনের প্রতিশ্রুতিও থাকছে বলে জানা গেছে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে আগামী রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নয়াপল্টনে পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি সমাবেশ বাতিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

 

তিনি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছে বিএনপি। এর পরিবর্তে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন প্রান্তে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী বক্তব্য দিতে পারেন।

এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নবনির্বাচিত ভিপি আব্দুর রশিদ জিতুসহ কেন্দ্রীয় হল সংসদের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত ছাত্রনেতারা বিএনপিতে ও ছাত্রদলে যোগ দেন।

পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে পুলিশের বাঁধা উপেক্ষা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। এ অবস্থা এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে সকালে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার দিকে যাত্রা শুরু করেন।

এরপর বেলা ১১টার দিকে মিছিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। তবে কিছু সময় পর আবারও আন্দোলনকারীরা জড়ো হয়ে যমুনা অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী সড়কে এ সংঘর্ষ চলে। এরপর আবারও থেকে থেমে সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। সেখানে তিনি ১৪৪ ধারা জারির তথ্য দেন।