জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আওতায় আনতে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে আরও শতাধিক আহতকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং ৩০, ২০২৫) এর ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট সরকার নিম্নোক্তভাবে প্রকাশ করিল, যথা: শ্রেণি- ‘খ’ (গুরুতর আহত)।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এটি কার্যকর হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবনে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর। এ সময় নৌ উপদেষ্টার আশ্বাস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রোববার থেকে আবার কর্মবিরতি কর্মসূচি চালুর ঘোষণা দেন তিনি।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলন কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনে এই ঘোষণা দিলেন সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। এর আগে শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছেন তাঁরা। এ সময় বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো আলোচনার উদ্যোগ না নিয়ে কর্মচারীদের বদলির ব্যবস্থা করা হয়, যে কারণে আন্দোলন কর্মসূচি তীব্র হয়েছিল।

উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা তুলে ধরে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন সাংবাদিকদের বলেন, ‘উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমরা চারটি দাবি জানিয়েছি। এই চারটি হলো নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপিওয়ার্ল্ডকে দেওয়া যাবে না। কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করতে হবে। বন্দর চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের পদত্যাগও দাবি করেছি।’

বন্দর ভবনের ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থান। আজ দুপুরে
বন্দর ভবনের ফটকের সামনে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থান। আজ দুপুরে
 

ইব্রাহীম খোকন বলেন, ‘নিউমুরিং টার্মিনাল নিয়ে তিনি (উপদেষ্টা) উচ্চপর্যায়ে আলাপ করার কথা বলেছেন। বাকি দাবিগুলোর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এ জন্য আমরা শনিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শনিবারের মধ্যে যদি কোনো সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে রোববার থেকে কর্মসূচি আবার চলবে।’

শনিবার থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি কর্মসূচির কারণে বন্দরের পরিচালন কাজ ব্যাহত হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতির পুরো বন্দরের কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে আসেন। বন্দরের চার নম্বর গেটের ফটকের বাইরে তিনি আন্দোলনরতদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। পরে বিকেলে তিনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বন্দর ভবনে বৈঠক করেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে নৌ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘রোজার আগে বন্দর বন্ধ করে এ ধরনের আন্দোলন অত্যন্ত অমানবিক। বন্দর বন্ধ রাখার কারও কোনো এখতিয়ার নেই। বাধা দিলে সরকার হার্ডলাইনে যেতে পারবে। কাল সকাল থেকে সচল না হলে সরকার হয়তো অন্যভাবে দেখবে।’

নিউমুরিং টার্মিনালের চুক্তি নিয়ে এম সাখাওয়াত বলেন, ‘চুক্তি বোধ হয় ঠেকানো যাবে না। তবে দেশের ক্ষতি করে কোনো চুক্তি হবে না।’ ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চূড়ান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

ফ্যাটি লিভার বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অসচেতন জীবনযাপনের ফলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এ রোগের সৃষ্টি হয়। শুরুতে উপসর্গ কম থাকায় অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেন না, কিন্তু সময়মতো শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এটি লিভারের দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

‘ফ্যাটি লিভার: বাস্তবতা ও আধুনিক চিকিৎসা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে গত ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা ফ্যাটি লিভার রোগের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এর বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তাঁরা রোগটির সময়মতো শনাক্তকরণ, জীবনযাপন পরিবর্তন এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল প্রথম আলো এবং ব্র্যান্ড পার্টনার ছিল ইমাজিড ও রেসমিট।

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির অনারারি প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজির সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি ও বারডেম জেনারেল হাসপাতাল ও ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিয়া আফসানা, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এম সাইফুদ্দিন এবং কোষাধ্যক্ষ ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপাকতন্ত্র, লিভার ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্ট্যারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আফসার আহাম্মদ, বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির প্রকাশনা সম্পাদক ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স ঢাকার এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আহমেদ সালাম মীর ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) গোলাম হায়দার।

ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার একটি অবস্থা। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো একটি অসংক্রামক রোগ, যা অবহেলিত থাকলে ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে।

আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচয় পর্ব শেষে সঞ্চালক শুরুতেই জানতে চান—ফ্যাটি লিভার কী, কেন হয় এবং এর লক্ষণ কী। জবাবে অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান বলেন, ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার একটি অবস্থা। এটি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও স্থূলতার মতো একটি অসংক্রামক রোগ, যা অবহেলিত থাকলে ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারেও রূপ নিতে পারে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। তিনি জানান, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মেদ বৃদ্ধি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম, পরিবেশগত সীমাবদ্ধতা এবং মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে ওজন ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়ে, যা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি তৈরি করে। প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ না থাকায় এ রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়।

ফ্যাটি লিভার কি শুধু মোটা মানুষের হয়

ফ্যাটি লিভার শুধু মোটা মানুষের হয়—এমন ধারণা প্রচলিত। কিন্তু আসলে এটি মোটা বা চিকন—উভয় রকম মানুষেরই হতে পারে বলে জানান ডা. ফারিয়া আফসানা। তিনি বলেন, ফ্যাটি লিভারের প্রধান কারণ হলো রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকা। ঝুঁকি বেশি থাকে এমন মানুষের মধ্যে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না বা যাঁদের কোমরের মাপ নারীদের জন্য ৮০ সেমি ও পুরুষদের জন্য ৯০ সেমি এর বেশি। এ ছাড়া ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি ও হরমোনজনিত সমস্যা, যেমন হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলেও ফ্যাটি লিভার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সুস্থ থাকতে হলে এসব ঝুঁকি এড়িয়ে চলা জরুরি।

বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর ১টি এবং স্থূল শিশুদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এতে আক্রান্ত। ৯ বছর বয়স থেকেই এটি ধরা পড়তে পারে। স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশের এ সমস্যা রয়েছে।

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের সম্পর্ক নিয়ে ডা. এ বি এম ছফিউল্লাহ বলেন, এই তিনটি রোগের সঙ্গেই ফ্যাটি লিভারের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ফ্যাটি লিভার শরীরে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি করে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে দেয়। পাশাপাশি হার্টের সমস্যা ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

শিশু–কিশোরদের মধ্যেও ফ্যাটি লিভারের উদ্বেগজনক বৃদ্ধি বিষয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে এটি সাধারণ ক্রনিক লিভার ডিজিজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে প্রতি ১০টি শিশুর ১টি এবং স্থূল শিশুদের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ এতে আক্রান্ত। ৯ বছর বয়স থেকেই এটি ধরা পড়তে পারে। স্কুলগামী শিশুদের মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশের এ সমস্যা রয়েছে। তবে তরুণদের চেয়ে তরুণীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম। মূল কারণ হলো হাই ক্যালরি প্রসেসড ফুডের বেশি ব্যবহার, স্ক্রিন টাইম বেড়ে যাওয়া ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব।

আলোচনায় ডা. শাহজাদা সেলিম ফ্যাটি লিভার শনাক্তে আধুনিক পরীক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে রক্ত পরীক্ষা, যেমন এএলটি (এসজিপিটি) এবং এএসটি (এসজিওটি), বিলিরুবিন, সিরাম অ্যালবুমিন ও লিপিড প্রোফাইল করা হয়। প্রাথমিক ইমেজিং হিসেবে পেটের আলট্রাসোনোগ্রাফি করা হয়। আধুনিক পরীক্ষার মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান লিভারের কঠিনতা ও চর্বির পরিমাণ নির্ণয়ে অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ প্রয়োজনে সিটি বা এমআরআই করা হয়। এ ছাড়া ফাইব্রোসিসের ঝুঁকি বুঝতে ‘এফআইবি–ফোর’ স্কোর এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে লিভার বায়োপসি করা হয়। তাই যাঁদের ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড রয়েছে, তাঁদের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই পরীক্ষাগুলো করানো অত্যন্ত জরুরি।

ফ্যাটিলিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী

ফ্যাটিলিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. এম সাইফুদ্দিন ১০টি পরামর্শ তুলে ধরেন—

১. উচ্চতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী দৈনিক ক্যালরি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ৫০০–১০০০ ক্যালরি কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. প্লেট মডেল অনুসরণ করতে হবে: অর্ধেক প্লেট সবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন, এক-চতুর্থাংশ শর্করা।

৩. হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি এড়াতে অতিমাত্রার ডায়েট, যেমন কিটো ডায়েট, পরিহার করতে হবে।

৪. অ্যালকোহল এড়াতে হবে। লিভারের সুরক্ষার জন্য চিনি-দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করা ভালো।

৫. শরীরের ওজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় প্রোটিন গ্রহণ করতে হবে।

৬. নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা সবজি ও ফলমূল খেতে হবে।

৭. প্রসেসড খাবার ও ফ্রুক্টোজ এড়িয়ে, খাবারের উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

৮. শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

৯. দুধ ও ডিমকে ক্ষতিকর মনে না করে খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে।

১০. কৃত্রিম চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটেনার সম্পূর্ণভাবে এড়াতে হবে।

ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ওজন বেড়ে যাওয়া। ফ্যাটি লিভারের আধুনিক চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবহার সম্পর্কে ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ওজন কমানোই এ সমস্যার মূল সমাধান। আধুনিক চিকিৎসায় এ জন্য ব্যবহার করা হয় জিএলপি-১ রিসেপ্টর এগোনিস্ট, যেমন সিমাগ্লুটাইড ও টির্জেপাটাইড। এ ছাড়া অবিটিকলিক অ্যাসিড নিয়েও চিকিৎসায় কথা হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা কিছুটা সীমিত। ওজন কমানোয় এগুলো না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এন্ডোস্কোপিক থেরাপি বা ব্যারিয়াট্রিক সার্জারি নেওয়া হয়। মেটাবলিক সিনড্রোমের জন্য অপর একটি কারণ হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, যা প্রতিরোধে মেটফরমিনের মতো ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ে। তাই স্ট্যাটিন ওষুধ দিয়ে রক্তের কোলেস্টেরল ও অতিরিক্ত চর্বি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া অবিটিকলিক অ্যাসিড এবং সহায়ক হিসেবে ভিটামিন-ইও ব্যবহার করা হয়। মূলত জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ও মেটাবলিক সিনড্রোমের উপাদানগুলো নিয়ন্ত্রণ করলেই রোগীরা সুস্থ হতে পারেন।

ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই প্রথম ও প্রধান ধাপ। এর জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করা জরুরি। প্রতিদিন সাত–আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

আলোচনার এক পর্যায়ে উঠে আসে, ওজন কমানো ও নিয়মিত ব্যায়াম করলে কি ফ্যাটি লিভার কমে যেতে পারে। ডা. মির্জা শরীফুজ্জামান বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তাঁর মোট ওজনের ৫ শতাংশ কমাতে পারেন, তবে লিভার থেকে চর্বি কমতে শুরু করে। আর ওজন ১০ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে লিভারের প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতও ভালো হয়ে যেতে পারে। আর নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমায়, ফলে লিভারে নতুন করে চর্বি জমতে পারে না। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করা উচিত। তবে দ্রুত ওজন কমানো উচিত নয়, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সপ্তাহে ০.৫ থেকে ১ কেজি ওজন কমানোই আদর্শ।

ডা. আফসার আহাম্মদ বলেন, ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই প্রথম ও প্রধান ধাপ। এর জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন কমানো, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করা জরুরি। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে কর্টিসল হরমোন বেড়ে বিপাক প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়। তাই প্রতিদিন সাত–আট ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলাও জরুরি।

ফ্যাটি লিভার হলে লিভার সুস্থ রাখা ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত ফলোআপ ও সুশৃঙ্খল জীবনধারা অপরিহার্য। ডা. আহমেদ সালাম মীর বলেন, নিয়মিত ফলোআপের অংশ হিসেবে অন্তত বছরে একবার রক্তে লিভার এনজাইম বা এএলটি এবং এএসটি পরীক্ষা করা উচিত। এ ছাড়া লিভারের ফাইব্রোসিস কোন পর্যায়ে আছে, তা বোঝার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ফাইব্রোস্ক্যান করানো প্রয়োজন। সঙ্গে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এইচবিএ১সি পরীক্ষা এবং রক্তে চর্বির মাত্রা বুঝতে লিপিড প্রোফাইল নিয়মিত করানো জরুরি।

ফ্যাটি লিভারের মতো নীরব ঘাতক রোগ মোকাবিলায় দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) গোলাম হায়দার বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে নিরাপদ ও প্রমাণভিত্তিক ওষুধ রোগীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শুধু ব্র্যান্ড নয়, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও গবেষণালব্ধ তথ্যও বিবেচনা করা জরুরি। আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, রেসমিটেরম—যা ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদিত। এসকেএফ প্রথমবারের মতো তা বাংলাদেশে এনেছে। এটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডিজিডিএ বা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, এসকেএফ শুধু ওষুধ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিকিৎসকদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেমিনার আয়োজন ও রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, ওবেসিটি ও ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ মোকাবিলায় রেসমিটেরমের মতো আধুনিক ওষুধ আনার জন্য এসকেএফকে ধন্যবাদ। তবে নতুন ওষুধগুলো যেন শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়, যাতে প্রান্তিক পর্যায়ে অপব্যবহার না ঘটে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সিগারেট কোম্পানিগুলো মানুষকে প্রভাবিত করতে পারলেও চিকিৎসকেরা জনগণকে জীবনযাত্রা পরিবর্তনের বিষয়ে যথাযথভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারছেন না। তাই ঠিক কোন উপায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করলে মানুষ তা গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন।

অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান আরও বলেন, ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা গবেষণার বিষয়। কারণ, সাধারণ মানুষের জন্য ক্যালোরি মেপে খাবার খাওয়ার চেয়ে এই উপবাস পদ্ধতিটি অনুসরণ করা অনেক সহজ। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যা থেকে প্রতিরোধ সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্কের ওপর বাণিজ্য চুক্তি হবে আগামী সোমবার। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হবে অবশ্য আগের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে দুই দিনব্যাপী এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানও।

বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক আলাদাভাবে মুঠোফোনে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) ও বাণিজ্যসচিব যাচ্ছেন না। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল যাচ্ছে ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি দলের সদস্যদের নামে যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে, তাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির জন্য এবারের সফরকারী দলের প্রধান হচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

জিও অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা। এতে ১০ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে আজ বেলা পৌনে দুইটায় জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব। জাপানের রাজধানী টোকিওতে কাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার নির্ধারিত দিন রয়েছে। ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা টোকিও যাচ্ছেন।

সরকারি আদেশে জানানো হয়, এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গঠিত দলে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আরও চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার। উপদেষ্টা ও সচিব ছাড়া এ চারজন দুই দিন আগে থেকেই টোকিওতে আছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই করে তাঁরা ঢাকায় ফিরে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, যা হবে অনলাইনে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকায় বসে ইতিমধ্যেই এ চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর সই করা কপি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

যেহেতু স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারদের মধ্যে একজন নিখোঁজ আর আরেকজন জেলে আছেন এবং তারা পদত্যাগও করেছেন তাই তাদের দ্বারা নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিনদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথগ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই। 

আইন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন ১২ ফেব্রুয়ারি ইলেকশনের পর তাদের শপথ পাঠ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু মামলা আছে এবং তারা পদত্যাগও করেছেন, বিশেষ করে স্পিকার। ফলে এই অবস্থায় তাদের দ্বারা শপথ পাঠ করানোর সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।

বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮(১) একং ১৪৮(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, স্পিকার অথবা স্পিকারের মনোনীত কোনো ব্যক্তি নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন। বর্তমানে যেহেতু স্পিকার না থাকায় সে অনুযায়ী শপথ পড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তিও যদি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে এমপিদের শপথ পাঠ না করান, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।

এছাড়া সংবিধানের তফসিল-৩ অনুযায়ী যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার দায়িত্বে না থাকেন তাহলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারেন।

নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, এটি ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে না বলে মনে করেন।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব এ কথা বলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘সবচেয়ে দ্রুত সময়ে (ক্ষমতা) হস্তান্তর হবে। যদি দেখা যায় তিন দিনের মধ্যে এমন হয় যে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, তারপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের লিডারকে (নেতা) ডাকা হচ্ছে যে আপনি আসেন শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তিন দিনের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে। আমর মনে হয় না এটি ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।’

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে যত দ্রুত সম্ভব দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়টি তিনি গতকালই জানিয়েছেন।

এর আগে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াতে পারেন সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এটা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখন আপনাদের চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন (বিকল্প) আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’

বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ব্যান্ড ওয়ারফেজকে ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একুশে পদক দেওয়া হয়।

একুশে পদকের জন্য মনোনীত ব্যক্তিরা হলেন চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক মো. আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ ছাড়া ব্যান্ড ওয়ারফেজকে সংগীত দল হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে গুমসহ ভয়ভীতি ও দমন–পীড়নের যে পরিবেশ বাংলাদেশে বিরাজমান ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের এই আমলে তার কিছুটা অবসান ঘটলেও মব, গণগ্রেপ্তার ও জামিন না দেওয়ার চর্চা চলছে বলে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। 

সংস্থাটির ভাষ্য, ২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিশ্রুত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যাপক হিমশিম খাচ্ছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হাজারো মানুষকে নির্বিচার আটকের অভিযোগও তুলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ সম্পর্কিত সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঘোষিত মানবাধিকার সংস্কার বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। পরে ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহিংস কর্মকাণ্ড অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারী অধিকার ও এলজিবিটিবিরোধী কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর উপস্থিতিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণপিটুনিতে অন্তত ১২৪ জন নিহত হয়েছেন।

গণগ্রেপ্তার ও হেফাজতে মৃত্যু

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও নির্বিচার আটকের যে চর্চা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ছিল, তা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও অব্যাহত রয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা হিসেবে কয়েক শ ব্যক্তিকে আসামি করার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা, কর্মী ও সমর্থক হত্যা মামলার সন্দেহভাজন হিসেবে কারাবন্দী রয়েছেন। বিচার ছাড়াই আটকে থাকা এসব ব্যক্তির জামিন নিয়মিতভাবে নাকচ করা হচ্ছে। এই তালিকায় অভিনেতা, আইনজীবী, গায়ক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত বছর শুরু হওয়া ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে অন্তত ৮ হাজার ৬০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আরও অনেককে আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশের পর নিরাপত্তা বাহিনী ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হন। ঘটনার পর পুলিশ কয়েক শ আওয়ামী লীগ সমর্থককে আটক করে এবং ৮ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে ১০টি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যাঁদের অধিকাংশই অজ্ঞাতনামা। যদিও সরকার গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর অক্টোবর মাসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জন নির্যাতনে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রায় ৮ হাজার মানুষ আহত এবং ৮১ জন নিহত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা

প্রতিবেনে এইচআরডব্লিউ’র পক্ষ থেকে বলা হয়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর ক্ষমতা ব্যবহার করে গত বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে সরকার। এর ফলে দলটির সভা-সমাবেশ, প্রকাশনা এবং অনলাইনে সমর্থনমূলক বক্তব্য প্রচারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

২০২৫ সালে সাংবাদিকদের ওপর অসংখ্য হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক দলের কর্মী ও সহিংস জনতার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় লেখক ও সাহিত্যিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ ও আদালত ফৌজদারি কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

এইচআরডব্লিউ’র মতে, সাইবার নিরাপত্তা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অন্যায্য বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ সৃষ্টি করছে। গত বছরের মার্চে আইনের ৯টি ধারা বাতিল করা হলেও এখনও এমন কিছু বিধান রয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা সরকার উৎখাতের আন্দোলনের সময় পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিল বলে ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হন।

তবে, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রগতি সীমিত বলে মন্তব্য করেছে এইচআরডব্লিউ। জুলাই মাসে পুলিশের একজন মুখপাত্র জানান, আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য মাত্র ৬০ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে, এই ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আইন সংশোধনের মাধ্যমে কিছু উন্নতি হলেও মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা এবং রাজনৈতিক সংগঠন বিলুপ্ত করার ক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংস্কার কার্যক্রমে স্থবিরতা

এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল। ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিচার বিভাগ, নির্বাচনব্যবস্থা, পুলিশ, শ্রম ও নারী অধিকারসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠন করে। তবে, রাজনৈতিক ঐকমত্যের অভাবে খুব কম সংস্কারই বাস্তবায়িত হয়েছে।

গত আগস্টে ‘জুলাই ঘোষণা’ এবং অক্টোবরে ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশ করা হলেও সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি সীমিত বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে। এ ছাড়া নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নতুন করে রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশ এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

 

নির্বাচনের পর অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। বরং নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব। ওই স্ট্যাটাসে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া কিছু প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আবুল কালাম আজাদ মজুমদার লিখেন, নির্বাচনের পরও অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে এমন দাবি বা প্রচারণা যারা চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ। তার ভাষায়, এই গোষ্ঠীটি কিছুদিন আগেও নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে সংশয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও লিখেন, এখন যখন স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তখন ওই মহল নতুন করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব সামনে আনছে। এসব অপপ্রচার মূলত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করারই একটি কৌশল।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব লিখেন, দুঃখজনক হলেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে এই ধরনের অসৎ প্রচারণায় অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে, বাস্তবতা হলো এ ধরনের বিভ্রান্তির কোনো ভিত্তি নেই এবং এতে বিভ্রান্ত হওয়ারও সুযোগ নেই।

তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন, নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব কেবল একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করা, এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক লক্ষ্য এই সরকারের নেই।

 

স্বাধীনতা যুদ্ধে ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থনে কক্সবাজারের উখিয়ার কোটবাজারে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতকে উদ্দেশ্যে করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা আহ্বান জানাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করুন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আপনাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আপনাদেরকে এখনও ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখে নাই, আপনারা এখন পর্যন্ত অনুতপ্ত নন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস দয়া করে আপনারা বর্ণনা করবেন না। কারণ পরীক্ষা করে দেখুন, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কখনোই আপনাদের এমন রাজনীতি গ্রহণ করবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য এরপর বলেন, স্বাধীনতার বিকল্প ইতিহাস বর্ণনা করা শুরু হয়েছে। জামায়াতের সম্মানিত আমির বলেছেন, এদেশে নাকি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেন নাই; আমাদের আরেক মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অলি নাকি সেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে সবাই এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির এই প্রার্থী আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, পাক-হানাদার বাহিনীর দোসর হিসেবে কাজ করেছে, এদেশের মা-বোনদের পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, যারা এদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে- তাদের মুখে কি গণতন্ত্রের ইতিহাস বর্ণনা মানায়? তারা আজও নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।

পথসভায় কক্সবাজার-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে আসছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত হবে।

সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ নিয়ে গঠিত এই আসনে শাহজাহান চৌধুরীর প্রধান প্রতিপক্ষ দাঁড়িপ্লালা প্রতীকের প্রার্থী এবং দলটির জেলা আমির অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী।

 

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ আজ বৃহস্পতিবার এই মামলার রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এই মামলার আসামি মোট ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন আটজন আসামি। তাঁরা হলেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান ও শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

বাকি আট আসামি পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম সায়েদ, সাবেক পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা ও যুবলীগ ক্যাডার রনি ভূইয়া।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
 

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন আশুলিয়া থানা এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে তাঁদের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজন গুরুতর আহত ছিলেন, তাঁকেও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেদিন যাঁরা নিহত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন, আস–সাবুর, তানজিল মাহমুদ, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল হোসেন প্রমুখ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ থেকে এটি প্রথম রায় হলো। অন্যদিকে ইতিমধ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা দুটি মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। এর মধ্যে একটি মামলায় গত ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল–মামুন দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

গত ২৬ জানুয়ারি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অপর পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল–১।

সিলেটে দুই কিশোরের কথা-কাটাকাটির জেরে মধ্যরাতে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন পাঁচ গ্রামের মানুষ। এক পক্ষে দুই গ্রামের, আরেক পক্ষে তিন গ্রামের মানুষ ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরের তেমুখী এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক ঘণ্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের জালালাবাদ থানার পুলিশ জানিয়েছে, জালালাবাদ থানার অধীন তেমুখী এলাকার পার্শ্ববর্তী কুমারগাঁও ও সাহেবেরগাঁও গ্রামের দুই কিশোরের কথা-কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে কুমারগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে নাজিরেরগাঁও এবং সাহেবেরগাঁওয়ের লোকজনের পক্ষে ছড়ারগাঁও ও কালিরগাঁওয়ের লোকজন যুক্ত হন। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। এ ঘটনায় ওই সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।\

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। তবে প্রাথমিকভাবে কারও নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিকে পুলিশ আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানার পাশাপাশি সংঘর্ষের কারণ জানারও চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

গতকাল দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শুরুতে কেউ কেউ সংঘর্ষের ঘটনাটি রাজনৈতিক বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে তথ্য পাওয়া যায়নি। ঝগড়ার মূল কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। মূলত দুই গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত।’