আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন ভোটারদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পঞ্চগড়-১ আসনের (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) ১১–দলীয় ঐক্যজোটের মনোনীত প্রার্থী ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দেবেন, তবুও একটা ভোট চুরি হতে দেবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে, তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন।’
আজ সোমবার সন্ধ্যার আগে পঞ্চগড় জেলা শহরে জালাসী এলাকায় পঞ্চগড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ারি করে দিয়ে সারজিস আলম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীলনকশা কেউ যদি করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে।’
পঞ্চগড়ের জেলা সদর থেকে শুরু করে উপজেলা, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে ওয়ার্ড, প্রতিটা জায়গায় তিন-চার-পাঁচজন করে নব্য স্বৈরাচার তৈরি হয়েছে বলে জনসভায় অভিযোগ করেন সারজিস আলম। সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা দেখলাম, তাদের হাত দিয়ে পঞ্চগড়ে আবার চাঁদাবাজি হয়, মাদক ব্যবসা হয়, সিন্ডিকেট চলে, মামলা–বাণিজ্য চলে, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করা হয়, বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়, নির্বাচনের পরে দেখে নেওয়ার ভয় দেখানো হয়।’
সারজিস আরও বলেন, ‘আমরা তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাংলাদেশ আর চব্বিশের আগের বাংলাদেশকে আপনারা এক কাতার করে দেখবেন না। বিগত ষোলো-সতেরো বছরে এই বাংলাদেশে বাস্তববাদী রাজনীতি করার কোনো অভিজ্ঞতা আপনাদের নাই। এই কারণে ২০ বছর আগে আপনারা যেই ধরনের অপসংস্কৃতির নোংরা রাজনৈতিক কালচারের রাজনীতি করেছেন, আপনারা মনে করছেন এখনো সেই রাজনীতি করে আপনারা পার পেয়ে যাবেন।’
বিএনপি নেতাদের ইঙ্গিত করে সারজিস আলম বলেন, ‘তারা নাকি বলছেন, আমাদের বয়স তাদের সন্তানের চেয়ে কম, আমারা নাকি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত হইনি। আমি তাদের বলতে চাই, যাদের বয়স আমাদের বাবা-দাদাদের সমান, যারা তাদের নেতা, তারা বাংলাদেশকে মুক্ত করার সময়, এই অভ্যুত্থানের সময় কোথায় লুকিয়ে ছিল। তাদের চেহারাগুলো তো পঞ্চগড়ে দেখা যায় নাই, তাদের চেহারাগুলো তো ঢাকায় দেখা যায় নাই। গর্তের মধ্যে ঢুকে, রুমের মধ্যে ঢুকে নেতাগিরি করার দিন শেষ হয়ে গেছে বাছাধন।’
নির্বাচিত হলে পঞ্চগড়ের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে সারজিস আলম পঞ্চগড় পৌরসভাকে সবচেয়ে উন্নত মানের পৌরসভা, পঞ্চগড়ে আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গ চালু করা, বন্ধ চিনিকল চালু করা, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন, নদী সুরক্ষা বাঁধ তৈরি, মাদকমুক্ত পঞ্চগড় প্রতিষ্ঠা, পর্যটনশিল্পে সমৃদ্ধ জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা, পঞ্চগড়ের অন্তত ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরিসহ নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সেই সঙ্গে তিনি প্রশাসনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত এবং পঞ্চগড়কে চোর–বাটপার–চাঁদাবাজমুক্ত পঞ্চগড় গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া বিজয়ী হলে বিএনপির পরাজিত নিরপরাধ নেতা–কর্মীদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সম্মানের সাথে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন সারজিস।