ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এক দিন পর তিনি জানান, ‘গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলায় পরিকল্পিত নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

তবে ইরানিরা সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে তাদের ওপর হামলা চালানো হলে প্রতিবেশী দেশগুলো ও বিশ্ব অর্থনীতির কাছ থেকে এর চরম মূল্য আদায় করতে দ্বিধা করবে না।

ইরান কী আশঙ্কা করছে

চিন্তন প্রতিষ্ঠান ‘জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স’–এর ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজি বলেন, চলতি বছরের প্রথম দফার যুদ্ধে ইরানিরা প্রায় তিন মাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়।

হামিদরেজা আজিজি, ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্স

এর ফলে ইসরায়েল ও আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার সীমিত রেখেছিল বলে মনে করেন আজিজি।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, বিপরীতে এবার যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয়, তবে ইরানি নেতারা ধারণা করছেন যে এ লড়াই হবে ‘স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র’। ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে সমন্বিত ও ভারী হামলাও চালানো হতে পারে। আজিজি ইরানের সরকারঘনিষ্ঠ বিশেষজ্ঞ ও সামরিক বা নিরাপত্তাকাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রকাশ্য মন্তব্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে আসছেন।

এবার যেভাবে পাল্টা আঘাত হানতে পারে ইরান

হামিদরেজা আজিজি বলেন, নতুন করে যেকোনো লড়াই শুরু হলে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে, যাতে শত্রুকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশও বদলে দেওয়া যায়। এর ফলে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তীব্র হামলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলক্ষেত্র, শোধনাগার ও বন্দরগুলোয় আঘাত হানা হলো বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা এবং ট্রাম্পের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়গুলোর একটি। যদি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক ব্যাপক হয়, তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো এ যুদ্ধে আরও অনেক বেশি জড়িয়ে পড়তে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক নেতাই এ পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করে আসছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা শিল্প অঞ্চলে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখছেন বিদেশি শ্রমিকেরা। ৩ মার্চ ২০২৬, ছবি: রয়টার্স
 

সংযুক্ত আরব আমিরাত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে ইরানের ওপর হামলায় সাহায্য করেছে, এমন মনোভাব থেকে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানি কর্মকর্তা ও সরকারঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা তীব্র আমিরাতবিরোধী হুমকি ও বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকদের একজন মেহেদি খারাতিয়ান। গত মাসে এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আমিরাতকে উটে চড়ার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং আমরা তা করতে পারি। প্রয়োজন হলে আমরা আবুধাবি দখল করব।’

আরব গালফ স্টেটস ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো আলী আলফোনেহ এক ই–মেইলে বলেছেন, বক্তব্যগুলো যতই অতিরঞ্জিত হোক না কেন, এগুলো ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) শীর্ষ নেতৃত্বের ‘গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে’।

সম্ভাব্য সৌদি-ইরান অনাক্রমণ চুক্তির (নন-অ্যাগ্রেশন প্যাক্ট) খবরগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অবাস্তব’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন আলফোনেহ। তিনি বলেন, তেল উৎপাদনকারী বড় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার এই হুমকিই এখনো ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আচরণকে সংযত রাখার হাতে গোনা কয়েকটি নিয়ামকের একটি।

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

ইরানের হাতে আর কী কী ‘কার্ড’ আছে

ইরান বাব আল–মান্দেব প্রণালির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এটি লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা একটি সংকীর্ণ সমুদ্রপথ, যা দিয়ে বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ১০ ভাগের ১ ভাগ পরিবহন করা হয়। সমুদ্রপথটি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের পাশেই অবস্থিত।

গত দফার লড়াইয়ে ইরানিরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব খাটিয়েছে। হামিদরেজা আজিজি বলেন, যদি ইরান সরকার মনে করে, এ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ সংকটের মুখে পড়েছে, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটির পরিবর্তে দুটি সামুদ্রিক ফ্রন্টে মনোযোগ দিতে বাধ্য করতে চাইতে পারে।

মেহেদি খারাতিয়ান গত মাসে পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরান বাব আল-মান্দেবে জাহাজ চলাচল সীমিত করে এর পাল্টা জবাব দেবে।

এটা করা হলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ কৌশল শেষ পর্যন্ত জটিল জায়গায় গিয়ে ঠেকতে পারে।

আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হলে হুতি মিলিশিয়ারা ইরানকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেছে। তবে গত দফার লড়াইয়ে তারা বেশ সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। বিশ্লেষকেরা এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, গোষ্ঠীটি তাদের ফুরিয়ে আসতে থাকা সামরিক মজুত থেকে ঠিক কতটুকু ব্যবহারের সামর্থ্য রাখে, সেই হিসাব-নিকাশ করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকার লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত বগা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এসে বিএনপির সমর্থকদের অবরোধের মুখে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সড়কের মধ্যে প্রায় ৪৫ মিনিট তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন।

এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি মিছিলে ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে পৌনে দুইটা পর্যন্ত উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মন্ত্রী সভাস্থলে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন। ফেরি পার হয়ে চরগরবদি এলাকায় একটি মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম (মাসুদ) মন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য বগা ফেরিঘাট এলাকায় একটি সভামঞ্চ করেন। ওই সভামঞ্চের ব্যানারে কারও কোনো ছবি ছিল না। প্রধান অতিথি হিসেবে নাম ছিল মন্ত্রীর। বিশেষ অতিথি হিসেবে নাম ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর। সভাপতি হিসেবে নাম ছিল পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের।

দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে সংসদ সদস্য শফিকুল মন্ত্রীকে এগিয়ে আনার জন্য নদীর পশ্চিম তীরে অপেক্ষা করতে থাকেন। বেলা একটার দিকে ফেরিতে মন্ত্রীকে নিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকার সভামঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন। ওই সময় বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা সভামঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকার প্রতিবাদে মন্ত্রীকে ঘিরে মিছিল করতে থাকেন।

সড়কের মধ্যে মিছিলের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রীর সফর সঙ্গীরা। একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকেরা পাল্টাপাল্টি মিছিল করতে থাকলে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় ৪৫ মিনিট অবরুদ্ধ থাকার পর মন্ত্রী সভামঞ্চে না গিয়ে ফেরি পার হয়ে ওপারে চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশ করেন।

আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও শফিকুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি প্রমুখ।

মন্ত্রী রবিউল আলম বক্তব্যে জানান, বগা সেতু নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর লেখা বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের চিঠি এবং টেলিভিশনে শিশুটির প্রচারিত সাক্ষাৎকার প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ শফিকুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রবিউল আলম বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শিশু আদিরার হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন মন্ত্রী।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম–আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (ঝুরন) বলেন, ‘ক্ষমতায় বিএনপি সরকার। আর সরকার প্রধান তারেক জিয়া। সেখানে ব্যানারে তারেক জিয়ার নাম থাকবে না, সেই অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী যেতে পারে না। এ কারণে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের প্রতিবাদ ও অবরোধের মুখে সভা মঞ্চে সেতু মন্ত্রী যেতে পারেননি।’

লিবিয়ার বেনগাজী ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ১৭০ জন স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনেচ্ছুক বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৫টায় বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। 

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে, লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সক্রিয় সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে দালালের খপ্পরে পড়ে পাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহৃত হন এবং ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে ফিরে আসা বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতে ভুক্তভোগীদের এই দুর্বিষহ ও তিক্ত অভিজ্ঞতা নিজ নিজ এলাকায় সকলের সাথে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেক বাংলাদেশিকে পথখরচা, খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে এখনো আটকে থাকা অন্যান্য বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তারা। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টার্মিনাল উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ ধরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের প্রায় ৯৪ হাজার বর্গমিটার এলাকায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় টার্মিনাল এক, টার্মিনাল দুই, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল, ভিআইপি টার্মিনাল এবং পার্কিং এলাকাও রয়েছে। এতে যাত্রীরা এসব স্থানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা নিতে পারছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে এরইমধ্যে ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলছে।

তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি ডুবুরিদের সক্ষমতা বাড়াতে ৭২টি পদ সৃজনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ‌‘ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ, পদক বিতরণ ও পাসিং আউট প্যারেড’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেবা প্রদান করে যাচ্ছে যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। সেজন্য জনগুরুত্ব বিবেচনায় ২০টি ফায়ার স্টেশন নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১০০টি অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহের কাজও চলমান।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গতি, সেবা ও ত্যাগের মন্ত্রে উজ্জীবিত এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য যেকোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনা ও সংকটময় মুহূর্তে সাধারণ জনগণের জান-মাল রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা এখন নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। বিভিন্ন অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে তাদের পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রম জাতির আস্থা অর্জন করেছে। সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’ এই প্রতিষ্ঠানটি আমাদের কাছে একটি গর্বের বাহিনী হিসেবে স্বীকৃত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হলে নৌযান দুর্ঘটনা মোকাবিলায় এ বাহিনীর সেবা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া এই বাহিনীর ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অর্গানোগ্রাম পুনর্গঠনের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন।

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স একাডেমি স্থাপনের জন্যও আমরা কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এরইমধ্যে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সেবা সহজীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে অনলাইনভিত্তিক ই-ফায়ার লাইসেন্স প্রদানের কার্যক্রম গত ১ মে থেকে চালু করা হয়েছে। আমরা আশা করি, পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
 
তিনি বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়েও বর্তমান সরকার সচেষ্ট রয়েছে। এ বাহিনীর সদস্যদের অন্যান্য বাহিনী ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বেশকিছু প্রস্তাব বিবেচনাধীন। এ বাহিনীর সদস্যদের আবাসনের সমস্যা দূরীকরণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ঢাকার মিরপুর ও সদরঘাটে ২টি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। মিরপুরে তাদের সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের কাজও চলমান। এছাড়া বাহিনীর সদস্যদের বিশেষ ভাতা হিসেবে ‘ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ ভাতা’ এবং ফ্রেশ মানির বিষয়ে চাহিদা রয়েছে। তা আমরা পর্যালোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবো। এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে করি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে বিভিন্ন সময় এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা আত্মাহুতি দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। সর্বশেষ টঙ্গীর কেমিক্যাল অগ্নিদুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩ জন কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ২০২৫ সালে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিনির্বাপণ করে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করেছে; ৭ হাজার ৮১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ২৬৬ জন আহত ও ১ হাজার ৩৮ জন নিহত উদ্ধার করেছে; অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহন করেছে ১০ হাজার। ৪৮০ জন; সচেতনতা বৃদ্ধিতে ১৪ হাজার ৯৮৭টি গণসংযোগ, ২ হাজার ৭৮টি ভবন সার্ভে, ১০ হাজার ৫৩৩টি ভবন পরিদর্শন করেছে; নতুন কমিউনিটি ভলান্টিয়ার তৈরি করেছে ১০৩৯ জনকে এবং ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৬৫ জনকে অগ্নিনিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে; যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এছাড়া ২০২৫ সালে অপারেশনাল দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ বাহিনীর ৩ জন সদস্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের এই বহুমাত্রিক বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আজকের অনুষ্ঠানে পদক প্রদান করা হয়েছে। যারা পদক পেয়েছেন আমি তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল।

 

জমিজমা সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কারণে প্রচলিত আইনে বাইরে গ্রাম আদালত বা বিকল্প বিরোধ আইনের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে তিনদিনের ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ আলোচনা, মধ্যস্থতা বা সালিশ কিংবা সমঝোতার মাধ্যমে কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়েই জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায় সরকার। বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে মানুষের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায় বর্তমান সরকার। এজন্য সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি ওয়াদা বাস্তবায়নে মনোযোগী বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের আরও ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবং একই সাথেচ নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভূমি’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও খুব সম্ভবত তত বেশি সহজ হয়ে যায়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমিজমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাঘব পাবে। একই সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে।

ঢাকা

বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া ৫৩টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ও হাতিরঝিল থানা পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এরমধ্যে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ২৪টি ও হাতিরঝিল থানা ২৯টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট বুঝিয়ে দিয়েছে।

ডিএমপির তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা সূত্রে জানানো হয়, বিভিন্ন কারণে মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মোবাইল মালিকদের সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় গত কয়েকদিনে ২৪টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে।

তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার সালেহ্ মুহম্মদ জাকারিয়ার উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত ২৪টি মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে ডিএমপির হাতিরঝিল থানা সূত্রে জানানো হয়, তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনারের  উপস্থিতিতে গত কয়েকদিনে উদ্ধারকৃত ২৯টি ফোন প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এইসব মোবাইল ফোন বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে গিয়েছিলো এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে থানায় জিডি করা হয়েছিল। হাতিরঝিল থানা পুলিশ জিডিমূলে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এসব মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনসেটগুলো দ্রুততম সময়ে ফিরে পেয়ে আনন্দিত মোবাইল ফোন মালিকরা পুলিশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রিয় মোবাইল ফোনটি ফিরে পেয়ে অনেকে এ সময় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

 

রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে অবস্থিত কলমিলতা বাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর ৫টা ১৪ মিনিটে কলমিলতা বাজারে আগুন লাগার খবর পায় তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রথম দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সকাল ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

 

 

 

 

 

নিরাপত্তা ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সভাপতি করে একটি জাতীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। খবর বাসসের।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই কমিটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করবে। প্রয়োজনে কাজের ক্ষেত্র নির্ধারণ, কর্মপরিকল্পনা তৈরি, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ, আন্তঃসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করবে।

প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করা, সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ, বিভিন্ন সংস্থা ও অনলাইন প্লাটফর্মসমূহ নিয়মিতভাবে তদারকি, গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে।

নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকল্পে কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থাসমূহের কার্যপরিধি এবং ক্ষেত্র নির্ধারণ করবে।

এই কমিটির সহ-সভাপতি হচ্ছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে থাকছেন।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদফতরের (এনএসআই) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) মহাপরিচালক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেলের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক, র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ অব পুলিশের (এসবি) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক।

এছাড়া, কমিটিকে সহায়তাকারী হিসেবে চারজন অফিসারকে হিসেবে রাখা হয়েছে— সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিটের (এসএসইউ) অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান কর্মকর্তা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।