গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে একদল শিক্ষার্থীর চলমান আন্দোলন আজ রোববার সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংঘর্ষের সময় উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আজ সকাল থেকে ডুয়েট ক্যাম্পাসে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। তাঁদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।

ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়
ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়, ছবি: সংগৃহীত
 

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় ১৫ জনকে আনা হয়েছে।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। আজ তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ আহত হননি বলে জানান তিনি।

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সরকারি কর্মকর্তা অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

কলম্বিয়ান-ভেনেজুয়েলান এই ব্যবসায়ীকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়টি ভেনেজুয়েলার অভিবাসন সংস্থা সাইমে (এসএআইএমই) গতকাল শনিবার নিশ্চিত করেছে।

একজন মার্কিন আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক যৌথ অভিযানে সাব গ্রেপ্তার হন। এর ঠিক এক মাস আগে কারাকাসেই মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন নিকোলা মাদুরো।

অ্যালেক্স সাবের এ গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনাকে দুই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতার এক নতুন স্তর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ৫৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাব এর আগে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে গ্রেপ্তার হন। তখন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দী রাখা হয়েছিল।
 

ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজের অধীন দুই দেশের মধ্যে এমন সহযোগিতার সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে। দেলসি এর আগে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কলম্বিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ৫৪ বছর বয়সী ব্যবসায়ী অ্যালেক্স সাব এর আগে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে গ্রেপ্তার হন। তখন ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দী রাখা হয়েছিল।

পরে ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে একটি বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় সাবকে বিশেষ ক্ষমায় মুক্তি দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে আটককেন্দ্র থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউইয়র্কের আদালতের কাছে একটি হেলিপোর্টে নেওয়া হয় তাঁদের। যুক্তরাষ্ট্র, ৫ জানুয়ারি
নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আদালতে হাজির করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এর আগে আটককেন্দ্র থেকে হেলিকপ্টারে করে নিউইয়র্কের আদালতের কাছে একটি হেলিপোর্টে নেওয়া হয় তাঁদের। যুক্তরাষ্ট্র, ৫ জানুয়ারি, ছবি: রয়টার্স
 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা অপরাধমূলক মামলাগুলো আরও জোরালো করতে মার্কিন কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন এই ব্যবসায়ী।

মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে গত জানুয়ারিতে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁরা দুজনই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
 

উল্লেখ্য, মাদক-সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্রসহ বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে গত জানুয়ারি মাসে নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁরা দুজনই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ বহিষ্কারের বিষয়ে অ্যালেক্স সাবের আইনজীবী লুইজি জিউলিয়ানোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রয়টার্স

খাগড়াছড়ির রামগড়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক হওয়া তিনজন ইউপিডএফের সদস্য বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযানের সময় গোলাগুলির ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধ হন।

আটকরা হলেন– সাথোয়াই মারমা (৩৫), রনেল চাকমা (২৮) ও সার্চিং মারমা ওরফে রাজু (১৯)। এদের মধ্যে সাথোয়াই মারমা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

এদের মধ্যে রনেল চাকমা ইউপিডিএফের কালেক্টর ও অপর দুজন সংগঠনটির সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামগড়ের পাতাছড়া ইউনিয়নের বুদংছড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালায় সেনাবাহিনী ও রামগড় থানা পুলিশ।

এ সময় অস্ত্রধারীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকা তল্লাশিকালে সাথোয়াই মারমাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এবং কালেক্টর রনেল চাকমা ও রাজু মারমাকে আটক করা হয়।

তাদের কাছ থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, ৬ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি ম্যাগাজিনসহ আনুষাঙ্গিক সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, আহত সাথোয়াই মারমাকে প্রথমে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য (ভিসি) ড. মো. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

শনিবার (১৬ মে) ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা আছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন অধ্যাপক রশীদ। অধ্যাপক হাসিবুর জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, তা আমরা বাস্তবায়ন করবো। এতে মানুষ উপকৃত হবে। আমাদের রাজনীতি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার। আমাদের রাজনীতি প্রতিশ্রুতি পালনের। এই রাজনীতি পছন্দ হলে, বিশ্বাস করলে সচেতন থাকতে হবে।

শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুর সদরের বিশ্ব খাল পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

খাল খনন কর্মসূচিতে গ্রাম থেকে শহর সব জায়গার মানুষ উপকৃত হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেই কাজ আমরা শুরু করেছি। খাল খননের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে কৃষকদের।

তারেক রহমান বলেন, প্রথম পর্বের আন্দোলন সফল হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বে দেশকে পুনর্গঠন করতে হবে। ১৬ বছর দেশের টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রশাসনকে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। আরেকটি দেশের চিকিৎসার সুবিধার জন্য দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। একটা বালিশের দাম ৮০ হাজার টাকা করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
 
স্বৈরাচাররা বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেবে না বলেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা যখন প্রতিশ্রুতি পালন শুরু করেছি, তখন কিছু সংক্ষুব্ধ মানুষ বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে। সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকতে হবে যে, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

মানুষ সচেতন ছিল বলেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে রায় দিয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেসব কাজ করার রায় মানুষ দিয়েছে, সেসব কাজ আমরা বাস্তবায়ন করবো। কেউ বাধা দিতে চাইলে মানুষ তাদের সেই ষড়যন্ত্রকে ভেস্তে দেবে। বিভ্রান্তকারীদের ফাদে পা দেয়া যাবে না।

এ সময় সরকারপ্রধান আরও বলেন, জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির উৎস। জনগণ যতক্ষণ সমর্থন দেবে, দেশের জন্য কাজ করে যাব। তার থেকে একবিন্দু এদিক ওদিক হবে না। ’৭১ সালে যেমন স্বাধীন করেছিলাম, এখন প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর আজ চাঁদপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে পুরো জেলায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। পথে কুমিল্লার বরুড়া এলাকায় একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। পরে চাঁদপুরের শাহরাস্তি ও সদর উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

জানা গেছে, এই সফরে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি। এছাড়া বিকেলে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তার।

সবশেষে চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে চাঁদপুরজুড়ে সাজসজ্জা, প্রচারণা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি চোখে পড়ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ ও আলোচনা।

 

ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক পাচারকারী সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। পাঁচ মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে এই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত হয়। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নিহত হয়েছেন।

হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪ জন ভুক্তভোগীর কারও পরিচয় আদৌ শনাক্ত করেছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের পরিবারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর মাত্র তিনজনের নাম সামনে এসেছিল।

গত বছর ভেনেজুয়েলার কাছে সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর সময় থেকে এসব হত্যাকাণ্ড শুরু হয়। ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই এই হামলাগুলোকে যৌক্তিক প্রমাণের চেষ্টা করে আসছে। তাদের দাবি, যাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারী ‘মাদক-সন্ত্রাসী’।

তবে ‘লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ বা ক্লিপের নেতৃত্বে ২০ জন সাংবাদিকের একটি যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি সপ্তাহে নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক পাচারে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ক্লিপের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের সবাই—এমনকি যাঁরা মাদক পাচারে কিছুটা জড়িত থাকতে পারেন—লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের চরম দারিদ্র্যপীড়িত সম্প্রদায়ের মানুষ।

ক্লিপের পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস বলেন, মাদক-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব হামলা হচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি সত্ত্বেও বাস্তবে যা ঘটছে, তা হলো চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে বাস করা এবং পরিবারকে সহায়তার জন্য যেকোনো কাজ করতে বাধ্য হওয়া যুবকেরা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন।

মারিয়া আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পাবলো এসকোবার বা হোয়াকিন ‘এল চাপ’ গুজমানকে (মাদক সম্রাট) খতম করছে না।

এই অনুসন্ধান অন্যান্য প্রতিবেদন এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের এই সিদ্ধান্তকেও জোরালো করেছে যে এই হামলাগুলো যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ কমাতে পারেনি; বরং সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় অবহেলার কারণে আগে থেকেই ভেঙে পড়া ও দুর্বল হয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলোকে আরও ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে।

মারিয়া বলেন, এমন কিছু সম্প্রদায় রয়েছে, যেখানে মানুষ বোমা হামলার আতঙ্কে বেশ কয়েক সপ্তাহ মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিল। আর মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সেখানকার মানুষকে অনাহারে থাকতে হয়।

ওই পুরুষেরা বৈধ নাকি অবৈধ কাজ করছিলেন সেটি বড় নয়, বড় বিষয় হলো চরম দরিদ্র এই পরিবারগুলোর শিশুরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যিনি ঘরে খাবার নিয়ে আসতেন
মারিয়া তেরেসা রন্দেরোস, পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা, লাতিন আমেরিকান সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম

ক্লিপের পরিচালক বলেন, অনুসন্ধানের মূল প্রাপ্তিটি হলো ভুক্তভোগীদের বড় অংশের নাম ও পরিচয় সামনে নিয়ে আসা, যাতে দেখানো যায় যে তাঁরাও রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন। যদিও তাঁদের ব্যাপক একটি অংশ এখনো অজ্ঞাতনামা রয়ে গেছেন।

যুক্তরাজ্যের বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘এয়ারওয়ারস’ এবং কলম্বিয়ার ‘এল ভেইন্তে’র সহায়তায় কলম্বিয়ার (কাসামাকোন্দো, ভেরদাদ আবিয়ের্তা ও ৩৬০-গ্রাদোস ডট কো), ভেনেজুয়েলার (আলিয়ানজা রেবেলদে ইনভেস্তিগা) এবং ‘ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো গার্ডিয়ান’-এর সাংবাদিক, গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী গোষ্ঠীগুলো যৌথভাবে এই অনুসন্ধান চালিয়েছে।

মারিয়া জানান, স্বজন, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভয়ের মধ্যে থাকায় অনুসন্ধানটি করা ছিল ‘খুবই কঠিন’। তিনি আরও বলেন, ‘দাপ্তরিক সরকারি সূত্রগুলো, সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়—কেউই কথা বলতে চায়নি। কারণ, সবাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হওয়া এবং প্রতিশোধের শিকার হওয়ার ভয়ে আছে।

এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ১৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে আটজন ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাঁরা হলেন হুয়ান কার্লোস ফুয়েন্তেস (৪৩), লুইস রামন আমুন্দারাইন (৩৬), এদুয়ার্দ হিদালগো (৪৬), দুশাক মিলোভচিচ (২৪) এবং রবার্ট সানচেজ, জেসুস কারেনিও, এদুয়ার্দো জাইমে ও লুইস আলি মার্তিনেজ (এই চারজনের বয়স জানা যায়নি)। তিনজন কলম্বিয়ার নাগরিক—আলেহান্দ্রো আন্দ্রেস কারানজা মেদিনা (৪২) এবং রোনাল্ড আররেগোসেস ও আদ্রিয়ান লুবো (এ দুজনের বয়স জানা যায়নি)। ইকুয়েডরের দুই নাগরিক হলেন পেদ্রো রামন হোলগুইন (৪০) ও কার্লোস ম্যানুয়েল রদ্রিগেজ সলোরজানো (৩৪)। ত্রিনিদাদের দুই নাগরিক হলেন চ্যাড জোসেফ (২৬) ও ঋষি সামারু (বয়স জানা যায়নি)। আরেকজন হলেন সেন্ট লুসিয়ার রিকি জোসেফ (বয়স জানা যায়নি)।

আমুন্দারাইন এবং ফুয়েন্তেস ভেনেজুয়েলার গুইরিয়া অঞ্চলের গাড়িচালক ছিলেন। গাড়ি ধোয়ার কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়ে তাঁরা পারিয়া উপসাগর পার হয়ে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে যান। কয়েক দিন পর তাঁদের আরও দুজনের সঙ্গে একটি ছোট নৌকায় ভ্রমণের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ৩ অক্টোবর নৌকাটিতে বোমাবর্ষণ করা হয়।

কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
 

এ দুজনের বিধবা স্ত্রীরা ক্লিপকে বলেছেন, তাঁদের স্বামীদের কেউই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে ক্লিপের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সব লক্ষণ ইঙ্গিত করে যে তাঁরা একটি ‘রান’ করতে যাচ্ছিলেন। ‘রান’ শব্দটি অবৈধ মালামাল পরিবহন বোঝাতে স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।

এরপরও একটি বিষয় নজর কেড়েছে, সেটি হলো নৌযানটি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো থেকে ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছিল। মারিয়া বলেন, ‘সাধারণত নৌযানগুলো দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর দিকে মাদক নিয়ে যায়, এর উল্টোটা নয়।’

কয়েকটি ঘটনায় ভুক্তভোগীরা ছিলেন মৎস্যজীবী। তাঁদের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেমন কলম্বিয়ার একজন ও ত্রিনিদাদের সেই দুই নাগরিক, যাঁদের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এমনকি যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরাও মূলত চরম দারিদ্র্যের হাত থেকে বাঁচতে জীবনধারণের উপায় হিসেবে মাদক পরিবহনের পথ বেছে নিয়েছিলেন।

বিমান হামলা শুরুর পর গত আট মাসে নিহত ১৯৪ জনের কেউ মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্র দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, সব হামলাই ছিল ‘পরিকল্পিত, আইনসম্মত ও নির্ভুল’, যা ‘মাদক-সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের’ লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অভিযান এবং তথ্য সরবরাহকারী গোয়েন্দাদের ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’

মারিয়া বলেন, নিহত সবাই যদি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িতও থাকেন, তারপরও কোকেন পাচারের শাস্তি তো মৃত্যুদণ্ড নয়। তাই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তাঁদের হত্যা করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক আইনজীবী ব্রায়ান ফিনুকেন বলেছেন, এসব নৌযানে হামলা ট্রাম্পের মাদকবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ কোনো অভিযান নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি অংশত একটি সামরিক প্রদর্শনী ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন বীরত্বপূর্ণ কিছু করছে—এমন মোহ তৈরি করা।’

বিভিন্ন সংস্থা, দেশ এবং জাতিসংঘ এসব হামলাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে নিন্দা জানিয়ে আসছে। যদিও এ ধরনের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ব্রায়ান সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির জনগণ এবং মার্কিন রাজনীতিকদের কাছে এসব হত্যাকাণ্ড ‘স্বাভাবিক’ হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। কিংবা চলমান ইরান যুদ্ধের মতো ট্রাম্প প্রশাসনের নানামুখী সামরিক হঠকারিতার আড়ালে এগুলো ‘নিছক সামান্য ঘটনা’ মনে হতে পারে।

এদিকে ক্লিপের পরিচালক বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মূল্য দিতে হচ্ছে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলোকেই। তিনি বলেন, ‘ওই পুরুষেরা বৈধ নাকি অবৈধ কাজ করছিলেন সেটি বড় নয়, বড় বিষয় হলো চরম দরিদ্র এই পরিবারগুলোর শিশুরা এমন একজন মানুষকে হারিয়েছে, যিনি ঘরে খাবার নিয়ে আসতেন।’

দ্য গার্ডিয়ান

বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে তিউনিসিয়া। কোচ সাব্রি লামুশির এই স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন নরউইচ সিটির মিডফিল্ডার আনিস বিন সিলমানে এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান এলুমি। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি নিয়ে এবার বড় স্বপ্ন দেখছে ‘কার্থেজ ইগল’রা।

আজ বিকেলে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই তালিকা প্রকাশ করে। আগামী মাসে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসছে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এফ’-এ তিউনিসিয়ার সঙ্গী জাপান, নেদারল্যান্ডস ও সুইডেন।

তিউনিসিয়া তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৫ জুন। মেক্সিকোর মনটেরি স্টেডিয়ামে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ সুইডেন। একই ভেন্যুতে ২১ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে লামুশির শিষ্যরা।

এবারের দলে বড় চমক রায়ান এলুমি। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের গল্পটা বেশ নাটকীয়। গত জানুয়ারিতে কানাডার হয়ে গুয়াতেমালার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল তাঁর। তবে ম্যাচটি ‘বি’ লেভেলের হওয়ায় ‘অফিশিয়াল সিনিয়র ম্যাচ’ ছিল না। এলুমি পরে নিজের স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে তিউনিসিয়াকেই বেছে নেন। গত মার্চ উইন্ডোতে তিউনিসিয়ার হয়ে অভিষেকেই কোচ সাব্রি লামুশির নজর কাড়েন এলুমি। ক্লাব ফুটবলে ভ্যাঙ্কুভারের হয়ে ২৪ ম্যাচে দুটি গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট আছে তাঁর ঝুলিতে।

কোচ লামুশি মূলত ইউরোপীয় লিগগুলোতে খেলা প্রতিভাবান তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশেলে এই দল সাজিয়েছেন। মাঝমাঠের দায়িত্ব থাকছে সিলমানে, হানিবাল মেজবরি ও এলিয়েস সখিরিদের কাঁধে। রক্ষণে ভরসা জোগাবেন ডিলান ব্রন ও ওমর রিকিকরা।

তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলকিপার: আয়মেন দাহমেন, সাবরি বিন হাসিন ও মুহিব আল-শামিখ।
ডিফেন্ডার: মোন্তাসার তালবি, ডিলান ব্রন, ওমর রিকিক, ইয়ান ভ্যালেরি, আলি আবদি, মোয়াতাজ নাফাতি, রায়েদ শেখাউই ও আদম আরুস।
মিডফিল্ডার: এলিয়েস সখিরি, হানিবাল মেজবরি, আমিন বিন হামিদা, আনিস বিন সিলমানে, মোহামেদ হাজ মাহমুদ, রানি খেদিরা ও মোর্তাদা বিন উনাস।
ফরোয়ার্ড: এলিয়েস আচৌরি, ইসমাইল গারবি, এলিয়েস সাদ, সেবাস্তিয়ান তুনেক্তি, ফিরাস চাউয়াত, খলিল আইয়ারি, হাজেম মেস্তৌরি ও রায়ান এলুমি।

নিয়োগ দেওয়ার মাত্র ১০ দিনের মাথায় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এক আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়, মৌলভীবাজারের এসপি রিয়াজুল ইসলাম জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার অর্পণ করে ১৬ মের (শনিবার) মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে ৯ মে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের পৃথক দুই আদেশে ফেনী ও পঞ্চগড়ের দুই এসপিকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা হলেন ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল আনা হয়। বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তিনজনকেই প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো।

সিলেটের বিছানাকান্দিতে গোসল করতে নেমে পানির স্রোতে তলিয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শান্ত বণিক নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

শুক্রবার (১৫ মে) ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে বিছানাকান্দিতে ভ্রমণে গিয়েছিলেন শান্ত। বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি এলাকায় শান্তসহ তিন সহপাঠী একসঙ্গে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের টানে শান্ত তলিয়ে যান। বাকি দুজন নিরাপদে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও শান্ত নিখোঁজ থাকেন।

শান্ত বণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনার পর উদ্ধারকাজে কিছুটা বিলম্বের অভিযোগ তুলেছেন শান্তর সহপাঠীরা। পিএমই বিভাগের ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থী সোহেল রানা জানান, শান্ত নিখোঁজ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ফায়ার সার্ভিস বা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি। স্থানীয় ডুবুরিরা নিজ দায়িত্বে প্রথম উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিছানাকান্দি টুরিস্ট পুলিশের ক্যাম্প ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। ঘটনাস্থলটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ড সংলগ্ন হওয়ায় এবং সিলেট থেকে ডুবুরি দল পৌঁছাতে সময় লাগায় উদ্ধার অভিযান শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে চেষ্টা করলেও শুরুতে সফল হননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন অধিকারী শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী হওয়ায় তাকে দ্রুত স্থানীয় ডুবুরি দিয়ে উদ্ধারের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে শান্ত বণিকের মরদেহ উদ্ধার করে।

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে ১৪ দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, কুইক রেসপন্স টিম গঠন, হটলাইন চালু, সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে আলোর ব্যবস্থা করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম এসব সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি রাতে আবাসিক হলে ফেরার পথে এক নারী শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের ভেতরে বহিরাগত এক দুষ্কৃতকারী টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুষ্কৃতকারীকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রক্টর বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি প্রশাসনিক সভায় ১৪টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো একটি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন। নিরাপত্তাঘাটতির অভিযোগ পেলেই এই দল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ভাতাও দেওয়া হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত অভিযোগ জানানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি হটলাইন নম্বর চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে বহিরাগতদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে লগবুকে নাম-ঠিকানা ও প্রবেশের উদ্দেশ্য লিখে ঢুকতে হবে। ক্যাম্পাস-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা করা হবে। তাঁরা দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে পাস দেখিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন। ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনে কর্মরত নির্মাণশ্রমিক, দোকানের কর্মচারী ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নির্মাণশ্রমিক ও কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দোকানকর্মীদের তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ডেটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের সব ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেটে নিরাপত্তা প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কেন্দ্রীয় মসজিদ ফটক, প্রান্তিক ফটক ও গেরুয়া ফটকে অতিরিক্ত প্রহরী মোতায়েন করা হবে। এক মাসের মধ্যে নতুন পুরুষ ও নারী নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া আরও ১০০ জন নতুন আনসার সদস্য মোতায়েনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আবেদন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথের ত্রুটি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। আলবেরুনী হলের টিনশেড এক্সটেনশন ভবন অবিলম্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ভেঙে ফেলা হবে। একই সঙ্গে বুলিং, সাইবার বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র‍্যাগিং প্রতিরোধ নীতিমালা-২০২৩’ অনুযায়ী একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তা থেকে এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এক ব্যক্তি। পরদিন দুপুরে আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা একজনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদিন রাতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন এবং প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি জানান। তাঁরা আসামিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নামেন এবং প্রক্টরিয়াল টিমকে পদত্যাগের দাবি জানান। আজ শুক্রবার রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, চামড়া শিল্পের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে তিনি একাধিকবার বৈঠক করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আল্লাহর তৌফিক থাকলে বাংলাদেশে চামড়া শিল্প একটি বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়কারী খাতে পরিণত হবে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পের যে দুর্বলতাগুলো রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মাত্র আড়াই মাসে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না। এ বিষয়ে একটু সময় দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই শিল্পকে সত্যিকারের সম্ভাবনাময় খাতে রূপান্তর করতে আমাদের সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি। এই সাময়িক ও জরুরি সময়ে যেন এক পিস চামড়াও নষ্ট না হয়, সেজন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এটি শুধু একটি শিল্প নয়, বরং আমাদের জাতীয় সম্পদ। সচেতনভাবে কোনো সম্পদ নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ এতে দেশের অর্থনীতি ও সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।