আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানেই এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়; বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

 

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আজ সোমবার ভোরের দিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এগুলো ড্রোন নয়, বরং বাগদাদ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত মার্কিন ‘ভিক্টরি বেস’ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া রকেটের শব্দ।

জানা গেছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ রকেটগুলো ঠেকাতে পারেনি। রকেটগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ইরাকি স্পেশাল ফোর্সের একটি ‘এ৩২০বি’ পরিবহন উড়োজাহাজে আঘাত করলে সেটিতে আগুন ধরে যায়।

এই প্রথমবারের মতো মার্কিন ভিক্টরি ঘাঁটি সরাসরি হামলার শিকার হলো। তবে বর্তমানে সেখানে কোনো মার্কিন সেনা নেই। তাঁরা আগেই এ সামরিক ঘাঁটি খালি করে চলে গেছেন।

এ হামলা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী। কারণ, ইরাকে মার্কিন আগ্রাসনের চূড়ান্ত সময়ে এ এলাকাটিকে দেশটির সবচেয়ে নিরাপদ ও সুরক্ষিত স্থান মনে করা হতো। সেই সংরক্ষিত এলাকাটিই এখন হামলার মুখে পড়েছে।

এছাড়া রাতভর বাগদাদের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোকে চক্কর দিতে দেখা গেছে।

তুরস্কের গণমাধ্যম তুর্কি টুডের খবরে বলা হয়, ‘ভিক্টরি বেস’-এ একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইরাকের নিরাপত্তা সূত্রগুলো। তবে এই হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। এবারের ড্রোন হামলাটি সেই অভিযানেরই সর্বশেষ ঘটনা।

বাগদাদে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ভিক্টরি বেস কমপ্লেক্স’-এর ভেতরে অবস্থিত আল-ফাও প্রাসাদ। ছবিটির তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১
বাগদাদে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ‘ভিক্টরি বেস কমপ্লেক্স’-এর ভেতরে অবস্থিত আল-ফাও প্রাসাদ। ছবিটির তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১১ছবি: ইউএস আর্মি

বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার সূত্রপাত হয় মূলত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পরপরই। তেহরানে হামলার ঠিক দুদিন পর, ২ মার্চ ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী ‘সারায়া আউলিয়া আল-দাম’ এ চত্বরে দুটি ড্রোন ছোড়ে।

গোষ্ঠীটি মূলত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ছত্রছায়ায় কাজ করে। তখন একটি ড্রোন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথে ধ্বংস করতে পারলেও অন্যটি সীমানা পেরিয়ে ভেতরে আঘাত হানে।

অন্যদিকে, ইরাকের কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী ইরবিলে আজ ড্রোনের মাধ্যমে আরও একটি হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন ছোড়া হলেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো মাঝপথে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হয়।

সব মিলিয়ে ওই অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা ও তুর্কি টুডে

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরস্কার দেবে সরকার।

আজ সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করেছে সরকার।

সরকার কর্তৃক উচ্চমূল্যে আমদানি করা জ্বালানি তেলের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তথ্য প্রদানকারীর যাবতীয় পরিচয় গোপন রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তথ্য প্রদানকারীর পুরস্কারের অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন। আর্থিক সম্মানী সব ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠান–সংস্থার জন্য উম্মুক্ত থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনোটিই একেবারে বাতিল হবে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আগামি ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেবে সংসদের বিশেষ কমিটি।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।

কমিটির আরেক সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৩০ দিনের মধ্যে সব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে যেসব অধ্যাদেশ সময়ের অভাবে বাতিল হবে, তা পরবর্তীতে আলোচনার মাধ্যমে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে। এ সময় গণভোট অধ্যাদেশ বিল নতুন আকারে আইনে পরিণত করার কোনো অর্থ নেই বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে অনেক বিষয়েই দ্বিমত পোষণ করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে কমিটির বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন।

রোববার (২৯ মার্চ) ঢাকা আইনজীবী সমিতির মূল ভবন (৩ তলা) নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৫, ৬ ও ৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র বিতরণ, দাখিল এবং গ্রহণের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের জন্য ৮ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈধ তালিকা প্রকাশ ৯ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের জন্য ১২ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রার্থী পরিচিত সভা ২৬ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ৩.৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (২৯ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বহুল আলোচিত এমটিএফই (মেটাভার্স বৈদেশিক মুদ্রা) প্রতারণার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা অর্থের একটি অংশ সফলভাবে দেশে ফিরিয়ে এনেছে সিআইডি। এ পর্যন্ত ৪৪ কোটিরও বেশি টাকা উদ্ধার করে দেশে আনা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছিল, যা উদ্ধারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছিল অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পাচারকৃত অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তও অব্যাহত আছে।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের দুর্গম ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী খাসিয়াদের গ্রামকে স্থানীয়ভাবে পুঞ্জি বলা হয়) অনন্ত নামের এক চাষির সহস্রাধিক পানগাছ দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ওই চাষি গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে কুলাউড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ ও পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ইছাছড়া পুঞ্জিতে খাসিয়া সম্প্রদায়ের ৪৬টি পরিবার থাকে। এসব পরিবারের লোকজনের একমাত্র জীবিকা পান চাষ। সেখানে টিলাভূমিতে প্রতিটি পরিবারের পান চাষের আলাদা জমি রয়েছে। অনন্তর জমিতে প্রায় দেড় হাজার পানগাছ ছিল। গতকাল রোববার সকালের দিকে জমিতে গিয়ে অনন্ত দেখতে পান সহস্রাধিক পানগাছের গোড়া কাটা। এরপর বিষয়টি তিনি পুঞ্জির অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানান।

বিকেলে থানায় গিয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন অনন্ত। অভিযোগে বলা হয়, গত শনিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটতে পারে। এ ঘটনায় পানচাষি অনন্তর আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে এলাকার কারও কোনো বিরোধ নেই।

পুঞ্জির সহকারী মন্ত্রী (পুঞ্জিপ্রধান) জামাল মার্লিয়ার বলেন, কয়েক বছর ধরে প্রায়ই পুঞ্জিতে এ রকম ঘটনা ঘটছে। কে বা কারা কী উদ্দেশে এ কাজ করেন, তাঁরা তা বুঝতে পারছেন না। পুলিশের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল রাতে মুঠোফোনে বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার বিষয়ে আলোচনার জন্য জাতীয় সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। আজ রোববার তাঁর এ প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফায় বিতর্ক, হইচই ও হট্টগোল হয়। কিছু সময়ের জন্য সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সিদ্ধান্ত দেন, বিরোধীদলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবটি নিয়ে মঙ্গলবার দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে।

দিনের কার্যসূচি স্থগিত রেখে জনগুরুত্বপূর্ণ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য মুলতবি প্রস্তাব আনতে পারেন সংসদ সদস্যরা। এটি গৃহীত হলে দিনের কার্যসূচি স্থগিত রেখে প্রস্তাবে উল্লেখিত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রেক্ষাপট

জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোট করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় এই সংসদ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করার কথা।

কিন্তু বিএনপি ও তার জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

ঈদের ছুটির পর আজ সংসদের অধিবেশন আবার শুরু হয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন নিয়ে আলোচনার জন্য নোটিশ দেন (মুলতবি প্রস্তাব) বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তাতে জুলাই সনদ আদেশ জারির প্রেক্ষাপট, গণভোট ও তার পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা থাকলেও সেটা না করার বিষয় তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, জাতির প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে এ ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি করা কখনোই কাম্য নয়। এ অবস্থায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ অধিবেশন–সংক্রান্ত আলোচনার জন্য অন্যান্য কার্যক্রম মুলতবি রাখার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।

প্রথম দফায় বিতর্ক

আজ সংসদ অধিবেশনের প্রথম এক ঘণ্টা ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব। এ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান তাঁর নোটিশটি সংসদে উত্থাপন করেন এবং এটি নিয়ে আলোচনা করার দাবি জানান।

এর পরপরই চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর নোটিশের আলোচনা শেষে অন্য বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রশ্নোত্তরের পরেই এ আলোচনা হবে। তিনি সে মোতাবেকই দাঁড়িয়েছেন।

এরপর ফ্লোর নিয়ে কথা বলতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তখন বিরোধী দলের সদস্যরা আপত্তি জানান। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কথা বলার সুযোগ দেন অধিবেশনের সভাপতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। সরকারি দল বিধি মোতাবেক আলোচনার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে। রীতি অনুযায়ী, প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধির পর মুলতবি প্রস্তাব আলোচনা হতে পারে। তখন সরকারি দলও পয়েন্ট অব অর্ডারে কিছু কথা বলবে। তিনি স্পিকারকে বিধি মোতাবেক এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদের কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছে কীভাবে এই সংসদ গঠিত হয়েছে, তা সবাই ভুলে যাচ্ছেন। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও হয়েছিল। কিন্তু এখন কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, এ ধরনের কিছুই হয়নি। এটি সবচেয়ে বেশি জনগুরুত্বপূর্ণ, আগে এর সুরাহা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বিধি মোতাবেকই নোটিশ দিয়েছেন। সেটা নিয়ে আগে আলোচনা করার অনুরোধ করেন তিনি।

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, স্পিকার চাইলে অনুমতি দিতে পারেন। কিন্তু প্রশ্নোত্তর ও ৭১ বিধি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এগুলো সংসদ সদস্যদের অধিকার। এ দুটি কার্যসূচির জন্য দুই ঘণ্টা বরাদ্দ। এরপর অন্য সব বিষয়ে আলোচনা আসতে পারে।

পরে সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, তিনি বিরোধী দলের নোটিশটি পেয়েছেন। সংসদের রীতি মেনে বিধি-৭১–এর নোটিশগুলো নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি বিরোধী দলের আনা নোটিশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।

বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাব, আইনমন্ত্রীর জবাব

৭১ বিধির নোটিশ নিয়ে আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় মুলতবি প্রস্তাবটি সংসদে তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি প্রস্তাবের সঙ্গে থাকা বিবৃতি পাঠ করেন।

এরপর আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবটি যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। এটা আলোচনার দাবি রাখে। তবে আলোচনার আগে একটু সময় প্রয়োজন।

বিরোধীদলীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ের ওপর আলোচনা করতে গেলে প্রত্যেক সংসদ সদস্যের টেবিলের সামনে বাংলাদেশের সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ, বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ—এই কয়েকটি কপি অবশ্যই থাকতে হবে। যদি সম্ভব হয় মদিনা সনদ; হবস, লকস ও রুশোর সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট থিওরির বই এবং ১৯৭২ সালের গণপরিষদ আদেশ ও তার প্রেক্ষাপট—এগুলোও সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করার অনুরোধ জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, তাঁরা চান, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হোক এবং সরকার সে পথ ধরেই হাঁটছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য একটি সময় নির্ধারণের জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও হট্টগোল

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যেভাবে প্রস্তাবটি এনেছেন, তা কার্যপ্রণালি বিধির ৬২ অনুযায়ী হয়নি। এটি হবে ৬৮ অনুসারে। স্পিকার চাইলে বিরোধীদলীয় নেতাকে এটা সংশোধন করতে বলতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিরোধী দলের প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি বা অনাপত্তি কোনোটাই করছেন না, কিন্তু নোটিশটি বৈধ হয়নি। আগে বৈধভাবে নোটিশ দেওয়া হলে তারপর আলোচনা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সংসদে এ সময় হট্টগোল তৈরি হয়। বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সরকারি দলের সদস্যরাও হইচই করতে থাকেন। স্পিকার সংসদ সদস্যদের বসার জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনার প্রটেকশন চাইছি। আপনি বিরোধীদলীয় সদস্যদের ফ্লোর দেবেন, অসুবিধা নাই। কিন্তু লেট মি স্পিক, আমরা যেন আগের কালচারে ফিরে না যাই। আপনি যদি আমাকে সময় না দেন, তাহলে আমি বসে যাব, এটাই বিধি।’

তখন স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নোটিশটা গ্রহণ করলে সংশোধিত আকারে গ্রহণ করতে হবে। তা ছাড়া বিধি ৬৩ অনুযায়ী এমন কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় আনতে পারবেন না, যেই প্রস্তাবে প্রতিকার কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে হতে পারে। এখানে এটার প্রতিকার তো সংবিধান সংশোধন ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই হবে।

কমিটি গঠনের প্রস্তাব

বক্তব্যের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একটি প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই, আমার বিরোধীদলীয় সদস্য কেউ কেউ সংস্কার করতে চায়। পার্লামেন্টের ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে কনস্টিটিউশন হয় প্রণীত হবে অথবা রহিত হবে অথবা স্থগিত হবে অথবা সংশোধিত হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, সেই কমিটি ইচ্ছা করলে সংসদের বাইরে দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং বিশিষ্টজন, অংশীজন, পত্রিকার সম্পাদকসহ সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মতামত নেবে। সরকার সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি জুলাই জাতীয় সনদের বিরোধিতা করছেন না। এই দলিলের মাধ্যমে সরাসরি সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যায়নি। জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা হবে। যেসব দল ইশতেহারে অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করেছে, সে অনুযায়ী জনগণের রায় পেয়েছে, বিএনপি ৫১ শতাংশ মানুষের রায় পেয়েছে। বিএনপি ইশতেহারে উল্লেখিত সংবিধান–সম্পর্কিত অন্য বিষয়গুলো আনতে পারবে।

বিরোধীদলীয় নেতার পাল্টা জবাব

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর আবার কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। স্পিকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞ সংসদ সদস্য যে বক্তব্য রাখলেন, বিশাল একটা বক্তব্য উনি রেখেছেন এবং ওনার দৃষ্টিভঙ্গি উনি তুলে ধরেছেন। আমরা চাইছি, আগে মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় যান। তারপরে এসব বিষয়ে আমরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করব।’

স্পিকারের সিদ্ধান্ত, আবার হট্টগোল

এরপর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাবটি নিষ্পত্তি করতে হবে। সে হিসাবে ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে দুই ঘণ্টা বিরোধী দলের নেতার মুলতবি প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে নোটিশটি সংশোধন করে নেওয়ার জন্য আবার অনুরোধ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় দাঁড়ানোর পর বিরোধী দলের সদস্যদের অনেকে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ ও ব্যাপক হইচই করতে থাকেন।

অন্যদিকে মাইক ছাড়া কথা বলতে থাকেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় সংসদকক্ষে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। হট্টগোলের মধ্যেই স্পিকার বলেন, ‘মাই ডিসিশন হ্যাজ বিন প্রোনাউন্সড। ৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় থাকবে।’

তারপরও হট্টগোল চলতে থাকে। মাইক ছাড়াই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কথা বলতে দেখা যায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন ডেপুটি স্পিকার আবারও ৩১ মার্চ মুলতবি প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনার কথা জানিয়ে পরবর্তী কার্যসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর বিরোধীদলীয় নেতাকে মাইক দেওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আপনি রুলিং দেওয়ার পরে এ বিষয়ে কোনো কথা চলে না।’

এরপর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক কথা বলতে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তাঁকে ফ্লোর দেওয়া হয়নি। তখন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহকেও ফ্লোর চাইতে দেখা যায়।

তখন ডেপুটি স্পিকার তাঁদের বসার অনুরোধ করেন। এ পর্যায়ে দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়। বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাককে আলোচনায় অংশ নিতে আহ্বান জানানো হয়। এ সময় চিফ হুইপ দাঁড়িয়ে কিছু বলতে চাইলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ অন্য সদস্যরা হইচই শুরু করেন।

খন্দকার আশফাক বক্তব্য না দিয়ে আগে চিফ হুইপকে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংশোধিতভাবে প্রস্তাবটি দেওয়া হলে আলোচনা করতে সহজ হবে।

চিফ হুইপের বক্তব্যে আবার হইচই শুরু করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তখন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়ান। তিনি বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, আপনি তো রুলিং দেওয়ার পর রি-ওপেন করেননি। আশা করি, আপনি নিরপেক্ষ থাকবেন। খন্দকার আবু আশফাকের বক্তব্যের পর আপনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেবেন।’

আবু আশফাকের বক্তব্যের পর বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ভুলে যাওয়ার কথা নয়, দুটো নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এখানে এসেছি। একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। এখানে বারবার গণভোটকে অমান্য করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সংবিধান সংশোধন করার জন্য আসিনি, আমরা এসেছি সংবিধান সংস্কার করার জন্য।’

চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডংয়ের নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত হয়েছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের ১৪তম বৈঠকে যোগ দিতে আগামী ২ এপ্রিল তাঁর তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা ছিল।

রোববার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর স্থগিতের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গত, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য সুন ওয়েইডংয়ের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল।

২০২৪ সালের জুনে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের শেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বেইজিংয়ে।

জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন দুই সপ্তাহ মুলতবির পর পুনরায় শুরু হয়েছে। রোরবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৩টায় এ অধিবেশন শুরু হয়েছে।

শুরুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনি সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন।

পরে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজ এবং যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলীর মা রহিমা বেগমের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর সংসদ সদস্যরা তারকা চিহ্নিত ও সম্পূরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন। উপস্থিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সেগুলোর জবাব দেন।

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। দুই কার্যদিবস চলার পর ১৫ মার্চ অধিবেশন ২৯ মার্চ বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। ওই দিন থেকে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

 

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর’ এবং ‘দুষ্কৃতকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, তাঁদের অতীতের বহু কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পড়ে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আজ রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
এর আগে আজ সকালে ট্রাইব্যুনাল ২-এ মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যা ও শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৭ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যেই জেনেছেন যে আমাদের এক–এগারো এবং পরবর্তী সময় আমাদের ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের দুইজন দোসর, অনেক মানবতাবিরোধী অপরাধের কর্মকাণ্ডের সাথে তারা জড়িত। যাঁরা এই দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন বিনষ্ট করবার জন্যে এবং আয়নাঘরসহ নানা অপকর্মের সাথে খুন, গুম ইত্যাদির সাথে জড়িত; সেই রকম দুইজন দুষ্কৃতকারী কর্মকর্তা একজন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, আরেকজন হচ্ছেন শেখ মামুন খালেদ। আপনারা দেখেছেন, ইতিমধ্যে তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবং তাঁরা অন্য মামলায় পুলিশি হেফাজতে বা রিমান্ডে আছেন। তাঁদের অতীতের যে কর্মকাণ্ড, তাঁদের বহু কর্মকাণ্ড, আমাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায়িত অপরাধের মধ্যে পড়ে।’

অভিযুক্ত দুই আসামির সব অভিযোগ এখনই প্রকাশ করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁদের বিচার হওয়া প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আজকে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, এই দুষ্কৃতকারীদের এই ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এ রকম সরকারি দায়িত্বে থেকে কোনো কর্মকর্তা মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধ করার সাহস না পায়।
এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত সোমবার রাতে তাঁর ঢাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে পল্টন থানার মানব পাচার–সংক্রান্ত একটি মামলায় গত মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মানব পাচার মামলার পাশাপাশি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এক-এগারোর সময়কার ভূমিকার বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে ডিবি। মিরপুর থানার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালের একটি হত্যা মামলায় পরদিন বৃহস্পতিবার তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ডিবি হেফাজতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।