ঢাকা

সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের জানাজা চট্টগ্রাম নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা অংশ নেন।

জানাজা শেষে মোশাররফ হোসেনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পরে মরদেহ নেওয়া হয় গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে। এ সময় জানাজাস্থলে উপস্থিত কিছু লোকজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন।

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মোশাররফ হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর মরদেহ জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে আনা হয়। এ সময় সেখানে শোকের আবহ তৈরি হয় উপস্থিত মানুষের মধ্যে। সাবেক এই মন্ত্রীর জানাজাকে কেন্দ্র করে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ এলাকায় জোরদার করা হয় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা।

জানাজায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের হাজারো মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সাবেক এই মন্ত্রীর রাজনৈতিক জীবন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করতে দেখা যায় তাঁদের।

জানাজা শেষে লাশ মিরসরাইয়ের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
জানাজা শেষে লাশ মিরসরাইয়ের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
 

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে তিনি অনেক অবদান রেখেছেন। মিরসরাইয়ের সন্তান হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের জন্য কাজ করে গেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য মানুষ তাঁকে স্মরণ করবেন।’

বক্তব্য দেন সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবির সাবেক সভাপতি শাহ আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান। তাঁরা মহান মুক্তিযুদ্ধে মোশাররফ হোসেনের ভূমিকা এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

পরিবারের পক্ষে মোশাররফ হোসেনের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান তাঁর পিতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তাঁর বাবার আচরণে কেউ কষ্ট পেলে এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের অনেক কষ্টের দিন। বাবা অনেক দিন হাসপাতালে ছিলেন। বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছি। সব ব্যর্থ হয়েছে।’

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশাররফ হোসেনের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। প্রকৌশলবিদ্যায় পড়াশোনা করা মোশাররফ হোসেন একাধারে রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সফল শিল্পপতি ছিলেন। মিরসরাই আসন থেকে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে একাধিকবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তিনি। দলে সর্বশেষ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও বিএনপি কর্মী মকবুল হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আরও বেশ কিছু মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট সব মামলায় জামিন পেয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। এর পর থেকে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

না থেকেও প্রতিমুহূর্তে তিনি আছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কবে তিনি দেশে ফিরবেন, আবার কি খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে? বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর খেলা মানেই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের সেই টুর্নামেন্টের খোঁজখবর রাখতে শুরু করা। তবু দেশের ক্রিকেটে ব্রাত্য হয়ে আছেন সাকিব আল হাসান। কেমন কাটছে তাঁর এই সময়টা, সত্যিই কি ভাবেন আবার দেশের হয়ে খেলবেন, তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোরই-বা কী অবস্থা? যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুঠোফোনে তারেক মাহমুদকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সব বিষয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন সাকিব—

দিনাজপুর থেকে

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘের অব্যাহত অংশীদারত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক।

বুধবার (১৩ মে) সেনা সদর দপ্তরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের অবদান ও পেশাদারত্বের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি এবং নারী শান্তিরক্ষী মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।

জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু এবং ফারজানা রূপাকে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল তাদের হাজির করার নির্দেশ দেন।

প্রসিকিউশন জানায়, আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তাদের শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। একই সঙ্গে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হবে বলেও জানান তারা।

এর আগে প্রসিকিউশন জানায়, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এছাড়া, সেসময় মরদেহের সংখ্যা গোপন করতে সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রূপা সহায়তা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। 

প্রসিকিউশন আরও জানায়, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ ৪টি স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছেন বলে তদন্ত সংস্থা শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

এ মামলায় এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, জিয়াউল আহসান, শাহররিয়ার কবিরসহ ৬ জন। 

বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেছেন।

 

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুটের দাম গত বছরের তুলনায় দুই টাকা বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।

আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কোরবানি–সম্পর্কিত বিষয়াদির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে সাংবাদিকদের কোরবানির পশুর চামড়ার দামের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

এদিকে এবার খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরি ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কার্যকর হবে।

সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এবারও চামড়া সংরক্ষণের জন্য ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ বিনা মূল্যে দেবে সরকার। প্রতিটি এলাকায় ব্যবসায়ী ও মসজিদ–মাদ্রাসায় চামড়া সংরক্ষণ করা হবে।’

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী কোরবানির ঈদে আমাদের কোনো চামড়া যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মসজিদ-মাদ্রাসার লোকদের ডেকে এনে প্রশিক্ষণ দেবে। তাঁরা কোরবানির পরে চামড়া সংরক্ষণ করবেন।’

রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি হামে আক্রান্ত ছয় মাস বয়সী শিশু নূর নাহারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। তিনি শিশুটির চিকিৎসা, পরিবারটির সার্বিক খোঁজখবর এবং বিষয়টি তদারকের দায়িত্ব দেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’কে।

আজ বুধবার ‘হামে ৬ মাসের শিশুর অবস্থা গুরুতর, মায়ের কাছে টাকা নেই, জানেন না কী করবেন’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি জুবাইদা রহমানের নজরে আসে।

জুবাইদা জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) বোর্ড অব ডিরেক্টরস কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সুরভি’র অন্যতম সংগঠক।

গতকাল মঙ্গলবার নূর নাহারকে নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে হাসপাতালটিতে আসেন তার মা স্বর্ণা আক্তার। তিন দিন ধরে তীব্র জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে থাকা মেয়েকে হাসপাতালে নিতে বললে স্বর্ণার স্বামী রাজি হননি। তাই স্বর্ণা প্রতিবেশীর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে হাসপাতালে চলে আসেন।

দুই সপ্তাহ আগেও নূর নাহারকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন স্বর্ণা। চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির নিউমোনিয়া হয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার দিন থেকে টাকার অভাবে হাসপাতাল ছেড়ে কেরানীগঞ্জে চলে গিয়েছিলেন।

হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে
হামের উপসর্গ নিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সন্তান নূর নাহারকে ভর্তি করিয়েছেন মা স্বর্ণা আক্তার। নিজের অসহায়ত্বের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে
 

আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্যসচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিশু নূর নাহারের মা স্বর্ণা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটির চিকিৎসার খোঁজখবর নেয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতিনিধিদলটি অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেয় এবং শিশুটির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ড্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক ডা. এম আর হাসান, আবদুল্লাহ আল মিসবাহ, মশিউর রহমান মহান প্রমুখ।

 

হাসপাতালে ভর্তি শিশুটির আজ কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। হাসপাতালের শিশু কনসালট্যান্ট এ আর এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘শিশুটির হাম হয়েছে আরও ৯ দিন আগে। আমাদের কাছে গুরুতর অবস্থায় এসেছে গতকাল। হাম হওয়ার পর তার নিউমোনিয়াও হয়েছে। এর সঙ্গে যত্নের অভাবে তার ওজন কমে গেছে। এটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা তার সার্বক্ষণিক সেবা নিশ্চিত করছি। চিকিৎসা চলতে থাকলে আশা করি স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে।’

আজ সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে সেখানে কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, গতকাল চোখ মেলতে পারছিল না নূর নাহার। চিকিৎসা দেওয়ার পর আজ তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চোখ মেলতে পারছে। খাবারও খেতে পারছে নূর নাহার।

গতকাল মা স্বর্ণা আক্তার সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আজ সহযোগিতা পেয়ে তাঁর মুখে হাসি ফুটেছে। আমরা বিএনপি পরিবারের সহযোগিতা পেয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
স্বর্ণা আক্তার জানান, প্রথম আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর আজ সকাল থেকে বেশ কিছু আর্থিক সহযোগিতাও পেয়েছেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প পাস করেছে সরকার। এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা।

আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বছরের জুলাই মাস থেকে এই ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০৩৩ সালের জুন মাসে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্প পাসের তথ্য জানানো হয়েছে। আজ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা হয়।

এই প্রকল্পের নথি অনুসারে, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমিতে পানির সমস্যা সমাধানে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদীকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। যার মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে আসা লবণাক্ততার নিরসন হবে। এতে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। বাড়বে কৃষি ও মাছের উৎপাদনও।

আজ সব মিলিয়ে একনেকে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ১টি।

আজকের সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (২য় সংশোধন); গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (২য় সংশোধন); জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ বা পুনর্নির্মাণ (প্রথম পর্যায়); হাইটেক সিটি-২–এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (৩য় সংশোধন); সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমণি নিবাস নির্মাণ বা পুনর্নির্মাণ (২য় সংশোধন); সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ; চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা হতে সাগরিকা) (৫ম সংশোধিত) নির্মাণ; ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন)।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির প্রমুখ।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বুধবার (১৩ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব নির্দেশ দেন। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সুরক্ষা ও সেবা নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করতে এই সভা হয়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। এমন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সব কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সমস্যা, সীমাবদ্ধতা এবং অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবন নির্মাণ নীতিমালায় হাসপাতাল, রেস্টুরেন্টসহ সরকারি ও বেসরকারি সব স্থাপনায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের উপযোগী অবকাঠামো ও টয়লেট সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। কক্ষের দরজা এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে, যাতে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারীরা সহজেই প্রবেশ করতে পারেন।

নারীদের জন্য চালুর পরিকল্পনায় থাকা ইলেকট্রিক বাসেও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর জোর দেন তিনি।

এছাড়া সারা দেশে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলগুলো সঠিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ প্রতিযোগিতায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রাথমিকভাবে ১০ জেলার ১০ উপজেলায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করতে ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্প চালু করা হবে। দ্রুত এ কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলালও সভায় অংশ নেন।