কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি প্রাইভেটকারে যাত্রীবাহী এক বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের চারজনসহ ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া, আরও একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মহাসড়কের কালাকচুয়া এলাকায় মিয়ামী হোটেলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমেন দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। অপরজন প্রাইভেটকারের চালক। নিহতরা হলেন নোয়াখালী সোনাইমুড়ি উপজেলার ছাতারপাইয়া এলাকার বাসিন্দা ও জামিয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়ার শাইখুল হাদিস শিক্ষক মুফতি আব্দুল মোমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), মেয়ে লাবিবা (১৯) ও ছেলে সাঈদ আশ্রাফ (৭) এবং প্রাইভেটকারচালক জামাল হোসেন (৫২)। জামাল বরিশালের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল প্রাইভেটকারটি। এ সময় মহাসড়কের কালাকচুয়ায় এলে চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ ঘটনায় মুমূর্ষু অবস্থায় প্রাইভেটকারের মধ্যে থাকা সবাইকে ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মুফতি আব্দুল মোমিন, তার স্ত্রী ও মেয়ে এবং চালক জামাল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আর আহত সাঈদ আশ্রাফ ও তার ভাই আবরারকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাইদের মৃত্যু হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমেন বলেন, খবর পেয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। তবে, বাসের চালক ও হেলপার কাউকে আটক করা যায়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ি সড়কে অন্তত ৪০ জন যাত্রী নিয়ে উল্টে পড়েছে একটি বাস। ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাপছড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বাসটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলা থেকে ছেড়ে আসছিল। ঈদের ছুটি শেষে নানিয়ারচর উপজেলা থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন গার্মেন্টসে কর্মরতরা চট্টগ্রামে বাসটি ভাড়া করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। বাসটিতে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মোটর মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাকিল জানান, বাসটিতে থাকা অনেকেই আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১২ জনকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শওকত আকবর খান বলেন, এ ঘটনায় আহত ১৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে।

 

চারদিকে সাগরঘেরা চট্টগ্রামের একমাত্র দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ। স্বাভাবিক সময়ে এতে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ছোট যানবাহনের শব্দে ব্যস্ত থাকে সড়ক। তবে এখন আর এ দৃশ্য নেই। জ্বালানি তেলের সংকটে দ্বীপটিতে যান চলাচল কমেছে। এ সংকট চলতে থাকলে পুরো দ্বীপটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সন্দ্বীপে সাধারণত মোটরসাইকেল, পেট্রলচালিত অটোরিকশা, কার ও মিনিবাসের মতো যানবাহন চলাচল করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতেই বাজারে অকটেন ও পেট্রলের সংকট দেখা দেয়। তবে গতকাল বুধবার বিকেল থেকে সংকট তীব্র হয়। পেট্রলচালিত বাহনের চালকেরা তেলের খোঁজে দোকান থেকে দোকানে ছুটছেন। এরপরও তেল পাচ্ছেন না তাঁরা। দুই–এক জায়গায় পাওয়া গেলেও সেখানে তাঁদের দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে।

দ্বীপটির অন্তত ১০ জন চালক জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে হন্যে হয়ে খুঁজেও তেলের সন্ধান পাননি তাঁরা। আনোয়ার হোসেন নামের এক টেম্পোচালক বলেন, তিনি সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তেলের জন্য বিভিন্ন বাজারে ঘুরেছেন। কোথাও এক ফোঁটা তেল পাননি। এর মধ্যে একজনের কাছ থেকে জানতে পেরেছিলেন, গুপ্তছড়া বাজারে ২০০ টাকায় পেট্রল বিক্রি হচ্ছে। উপায় না পেয়ে তিনি বাড়তি দামেই কিনতে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে গিয়েও পাননি।

অটোরিকশাচালক মো. আরিফ বলেন, ‘এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীকাল শুক্রবার থেকে রাস্তায় কোনো গাড়ি থাকবে না। আমাদের অবস্থা কী হবে, জানি না। আমাদের আয়রোজগারের অন্য কোনো পথ নেই।’

সন্তোষপুর ইউনিয়নের জ্বালানি তেল বিক্রেতা আহমেদ সুমন বলেন, ‘ঈদের আগেই আমার তেল আসার কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তেল আসেনি। কবে আসবে, তা জানি না। এ কারণে চাহিদামতো তেল কাউকে দেওয়া যাচ্ছে না।’

জানতে চাইলে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, এই সংকট কাটানোর জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। দ্রুত এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানান।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন। তিনি এ মামলায় মামুন খালেদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

মামুন খালেদকে গতকাল বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টা ২০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন (৪০) জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা মামুন খালেদের নির্দেশে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার মারা যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্‌ঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দরকার।

গত বছরের মে মাসে মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। সে সময় দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।

একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগমুহূর্তে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা-কর্মীদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর জাপার নেতা-কর্মীরা দাবি করেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ব্যানারসহ মিছিল ও ফুল নিয়ে লাইনে অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা করে। জাপার নেতা-কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের প্রতিরোধ করেন।

অন্যদিকে ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান দেওয়ার সময় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার ওপর হামলা করেন জাপার নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে আশপাশের লোকজন জাপার নেতা-কর্মীদের প্রতিহত করেন।

ঘটনার পরপরই জাপা মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না, কারা করেছে (হামলা)। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস একাত্তরবিরোধী চক্র, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা পাকিস্তানকে ধারণ করে, যারা পাকিস্তানে আবার ফিরে যেতে চায়; তারা এই পবিত্র জায়গায় এই অপবিত্র কাজটি করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন মিছিল নিয়ে আসছিলাম, তখন কিছু ছেলেপেলে আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। তবে আমাদের নেতা-কর্মীরা সেটিকে ভদ্রভাবে প্রতিহত করেছে।’

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসান লাবীব বলেন, ‘আমাদের ছেলেপেলেরা “ফ্যাসিবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান, মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান”—এ ধরনের স্লোগান দিচ্ছিল। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা উদ্ধত আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের ছাত্রশক্তির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি নাঈম আবেদিনের ওপর হামলা করলে নেতা-কর্মীরা ও আশপাশের লোকজন ক্ষিপ্ত হন। আশপাশের লোকজন জাতীয় পার্টির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।’

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে বাস ডুবে যাওয়ার ঘটনায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আর কোনো নিখোঁজের সংবাদ পেলে উদ্ধার কাজ আবার শুরু করা হবে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুরের ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীসহ পন্টুন থেকে পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন সৌভাগ্যক্রমে ভেসে উঠতে পারলেও, বেশিরভাগ যাত্রীই নিমজ্জিত হয় জলে। প্রায় ৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে বাসটি উদ্ধার করা হয়। এরপর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একের পর এক মরদেহ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসে যাত্রী ছিল ৪০ থেকে ৪৫ জন। ফেরিতে ওঠার আগে তাদের কয়েকজন নিচে নেমে এলেও বাকিরা ছিল বাসের ভেতরে। তবে শুরুতে উদ্ধার হওয়া দুই নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাদের।

 

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এর আগে, বুধবার (২৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ এ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

 

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে আমরা এই বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা এটার জন্যই এ মুহূর্তে কাজ করছি।’

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ।

মহান স্বাধীনতা দিবস নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার সপক্ষে যাঁরা ছিলেন, শহীদ হয়েছিলেন, বীরাঙ্গনা হয়েছেন, তাঁদের আজকের এই দিবসে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। আমাদের স্বাধীনতার অনেক আকাঙ্ক্ষাই পূরণ হয়নি। হয়নি বলেই আমাদের নতুন প্রজন্মকে আবারও রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। আমরা চাই সামনে যাতে আর এমন না হয়।’

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মার্কো রুবিও এ শুভেচ্ছা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

রুবিও আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ তার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে গুরুত্ব দেয়। একটি মুক্ত, অবাধ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ার লক্ষ্যে এ দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

মার্কো রুবিও জানান, আগামী দিনে দুই দেশের জনগণের স্বার্থে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী। বাংলাদেশের এ বিশেষ দিনে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মহান স্বাধীনতা দিবসে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্মৃতিসৌধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ স্মৃতিসৌধে তাঁরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রথমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এরপর আইজিপি আলী হোসেন ফকির পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিউব্লিউএন) পক্ষ থেকে পৃথকভাবে পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ‍কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় তারা জাতীয় প্যারেডগ্রাউন্ডে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পর কুচকাওয়াজ সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

দীর্ঘ দেড়যুগ পর আবারও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ফিরেছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে প্রদর্শিত হচ্ছে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা। প্যারেডে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। ঘোড়ায় চড়ে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মূল কুচকাওয়াজ। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

এবারের কুচকাওয়াজে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগনালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী ও আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশগ্রহণ করেছে। আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করবেন। একইসঙ্গে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত প্রদর্শনীও থাকবে।

সবশেষে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে প্রদর্শনীর সমাপ্তি টানবে।

 

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মোট ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। চালকসহ তিনজনের লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

[caption id="attachment_270283" align="alignnone" width="823"] গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে পদ্মা নদীতে পড়ে বাসডুবির ঘটনায় ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।[/caption]

এখন পর্যন্ত যে ২৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে তাঁরা হলেন রাজবাড়ী পৌরসভার লালমিয়া সড়ক ভবানীপুর এলাকার রেহেনা আক্তার, তাঁর ছেলে আহনাফ তাহমিদ খান, কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ড মজমপুর গ্রামের মর্জিনা খাতুন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের রাজীব বিশ্বাস, রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সজ্জনকান্দা গ্রামের জহুরা অন্তি, একই মহল্লার কাজী সাইফ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চর বারকিপাড়া গ্রামের মর্জিনা আক্তার, তাঁর মেয়ে সাফিয়া আক্তার রিন্থি, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ধুশুন্দু গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের শিশু সন্তান ইস্রাফিল, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেনের সন্তান ফাইজ শাহানূর, রাজবাড়ী পৌরসভার সজ্জনকান্দা মহল্লার কেবিএম মুসাব্বিরের শিশু সন্তান তাজবিদ, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখোলা গ্রামের গাড়িচালক আরমান খান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মহেন্দপুর ইউনিয়নের বেলগাছি গ্রামের নাজমিরা ওরফে জেসমিন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের লিমা আক্তার, একই ইউনিয়নের চর বেনিনগর গ্রামের জোৎস্না, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার আমতলী ইউনিয়নের নোয়াধা গ্রামের মুক্তা খানম, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মথুয়ারাই গ্রামের নাছিমা, ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার বাগধুনিয়া পালপাড়া গ্রামের আয়েশা আক্তার, রাজবাড়ী পৌরসভার সোহেল মোল্লার শিশু সন্তান সোহা আক্তার, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সমসপুর ইউনিয়নের গিয়াস উদ্দিনের শিশু সন্তান আয়েশা সিদ্দিকা, ঝিনাইদহর শৈলকুপা উপজেলার কাচেরকোল ইউনিয়নের খন্দকবাড়িয়া গ্রামের নুরুজ্জামানের শিশু সন্তান আরমান, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের মহেন্দপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের শিশু সন্তান আব্দুর রহমান ও রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশি ইউনিয়নের আগমারাই গ্রামের শরিফুল ইসলামের শিশু সন্তান সাবিত হাসান (৮) এবং উজ্জ্বল নামের এক ফল ব্যবসায়ী।

গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে বাসযাত্রী ও কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন।

এদিকে বাস দুর্ঘটনায় গতকাল মধ্যরাতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক এবং গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।