কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার পর শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাতে কুমিল্লায় রেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে একাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্য কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে এক বিবৃতিতে এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন তিনি। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতার জন্য দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশও দেন তিনি।

উল্লেখ্য, কুমিল্লায় রেল দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে ইতোমধ্যে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, অপর কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিটি তদন্ত কমিটিকে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার জন্য ইতোমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী, হবিগঞ্জ, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পবিত্র ঈদ উদযাপনের এই আনন্দঘন মুহূর্তে এসব দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক। প্রতিটি জীবন মূল্যবান। প্রতিটি মৃত্যুই অপূরণীয় ক্ষতি। আমি মহান আল্লাহর দরবারে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। হতাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে কোনো শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না।

তিনি আরও বলেন, রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতুর নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা নিরাপদ করতে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রধান আসামি ফয়সাল।

১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে রোববার (২২ মার্চ) উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমার বিশেষ আদালতে তোলা হয় হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে। এ সময় হাদি হত্যা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ফয়সাল বলেন, আমি এই কাজ করিনি, আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।

এর আগে, বিধান নগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

চলতি মাসের ৭ তারিখ রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। এরপর তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠান পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত।

এদিকে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এ দুই আসামিকে ভারতে ঢুকতে সহায়তা করার দায়ে গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে শনিবার (২১ মার্চ) ফিলিপকে আদালতে তোলা হয়।

ফয়সাল করিম মাসুদের (৩৭) বাড়ি পটুয়াখালীতে এবং আলমগীর (৩৪) হোসেনের বাড়ি ঢাকায়।

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদিকে গুলি করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

ঢাকা

ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের ঢল নেমেছে। এতে চিড়িয়াখানা এলাকার সড়কে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। যানবাহন না পেয়ে হাজারো মানুষ হেঁটে যাতায়াত করছেন। দর্শনার্থীরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। আজ রোববার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর ১ নম্বরের সনি সিনেমা হল থেকে চিড়িয়াখানার দিকে অল্প এগোলেই যানজট শুরু। দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে অনেকে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে নেমে যাচ্ছেন। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা হেঁটে তাঁরা চিড়িয়াখানায় যাচ্ছেন।

মানুষের ঢল থাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে রাইনখোলা মোড় থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যানবাহন যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে চিড়িয়াখানাগামী সব ধরনের দর্শনার্থীদের প্রায় এক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হচ্ছে।

অন্যদিকে চিড়িয়াখানা থেকে বের হওয়া লোকজনও যানবাহন পাচ্ছেন না। ফলে তাঁরা হেঁটেই গন্তব্যে যাচ্ছেন।

স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আশুলিয়া থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানার উদ্দেশে আসেন মো. আল আমিন। পরিবার নিয়ে তিনি হেঁটে হেঁটে চিড়িয়াখানার দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সনি সিনেমা হল থেকে একটু এগোতেই দেখি প্রচুর যানজট। কিছুক্ষণ বসে থেকে তাই পরিবার নিয়ে হেঁটেই রওনা দিলাম।’

মা, বোন ও ভাইকে নিয়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে চিড়িয়াখানায় আসেন মো. হোসাইন। তিনি বলেন, ‘চিড়িয়াখানায় প্রচুর ভিড়। আসার সময় ৪০০ টাকা দিয়ে যাত্রাবাড়ী থেকে চিড়িয়াখানা এসেছিলাম। চিড়িয়াখানা থেকে বের হয়ে দেখি, আশপাশে যানবাহন নেই। যে দু-একটা আছে, বাড়তি ভাড়া চায়।

সিএনজিচালকেরা যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছেন। এখন পরিবার নিয়ে হেঁটেই রওনা দিয়েছি।’

হোসাইনের বোন রোকেয়া আক্তার। তিনি বলেন, চিড়িয়াখানায় ঘুরে ঘুরে তাঁরা এমনিতেই ক্লান্ত। এর মধ্যে চিড়িয়াখানা থেকে বের হয়ে যানবাহন পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়ে হাঁটা শুরু করেছেন। ব্যবস্থাপনা আরও ভালো হওয়া দরকার ছিল। তাহলে সাধারণ মানুষকে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের জন্য রেল কর্তৃপক্ষ এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ করেছে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে বাসের সংঘর্ষের দুর্ঘটনাস্থলটি আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি।

হাবিবুর রশিদ বলেন, যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে রেল থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহত ব্যক্তিদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার খরচ সরকার বহন করবে।

যাদের গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান রেল প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যে রেলগেটগুলো অরক্ষিত আছে, সরকার সেই গেটগুলোকে ওভারপাস অথবা আন্ডারপাস করে দেওয়ার কথা ভাবছে। রেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে দুজনের গাফিলতি পেয়ে তাঁদের বরখাস্ত করেছে।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসে মেইল ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ১২ জনের মধ্যে সাতজন পুরুষ, তিনজন নারী এবং দুই শিশু রয়েছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

রোববার (২২ মার্চ) সকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অজয় ভৌমিক।

জানা যায়, শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত তিনটার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় মামুন পরিবহন নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী মেইল ট্রেন। 

এই ধাক্কায় বাসটিকে অন্তত আধা কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেনটি। এতে প্রথমে ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ জনে। ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। 

এ ঘটনায় দুটি আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন ডাকা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

 

থাইল্যান্ডে বিদেশি পর্যটকদের জন্য ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বর্তমানে এই ভিসাব্যবস্থার অপব্যবহার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের কথা বিবেচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজন হলে পর্যটকেরা অতিরিক্ত ৩০ দিন থাকার সুযোগ পাবেন। খবর ব্যাংকক পোস্টের

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও সম্প্রতি ফুকেট শহর সফর করেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এ ব্যবস্থার বিভিন্ন নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, ৬০ দিনের ভিসায় এসে অনেক বিদেশি স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষিত খাতে ব্যবসা শুরু করছেন। এ ছাড়া ভুয়া মালিকানা ব্যবহার করে অবৈধভাবে সম্পত্তিও কিনছেন। এ ছাড়া অনলাইনে প্রতারণার চক্রে জড়িত অনেককেই গ্রেপ্তারের পর দেখা গেছে, তাঁরা পর্যটক ভিসায় থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছিলেন।

সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, পর্যটন খাতকে চাঙা করতে থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন সরকারের সময় ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা চালু করা হয়েছিল।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভিসানীতি তদারকি কমিটি বলছে, দেশটিতে ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমান সময়সীমা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও আরও বলেন, প্রকৃত পর্যটনের বাইরে অন্য উদ্দেশ্যে প্রবেশকারীরা ভিসার এই দীর্ঘ সময়সীমার সুযোগ নিচ্ছেন। বাস্তবে অধিকাংশ পর্যটকের জন্য ৩০ দিনই যথেষ্ট। ভিসামুক্ত প্রবেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকেরা ৩০ দিন থাকতে পারবেন। এ ছাড়া প্রয়োজনে আরও ৩০ দিনের জন্য মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা নাগরিকদের লক্ষ্যে নয়; মূলত অনলাইন প্রতারণা ও অন্যান্য অপব্যবহার রোধ করাই এর উদ্দেশ্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এসব চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ ভিসামুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে থাইল্যান্ডে প্রবেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও যাতায়াত করছেন।

সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও আরও বলেন, থাইল্যান্ড বিদেশি পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে বা পর্যটনের সীমার বাইরে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ তৈরি করে এমন ফাঁকফোকর বন্ধ করাও জরুরি।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে একটি ভাসমান ব্রিজ ভেঙে ঈদে ঘুরতে যাওয়া শতাধিক মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদে পড়ে গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চার শিশুর প্রাণ হারানোর খবর পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে দেওয়ানগঞ্জ থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত চার শিশু হলো জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কালুরচর এলাকার শের আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব (৬) ও তার মেয়ে খাদিজা (১২), একই উপজেলার ডাকাতিয়া পাড়ার জয়নালের মেয়ে মায়ামনি (১০) ও বেলতলি রেলগেট এলাকার হাবীবুল্লাহর ছেলে আবীর হোসেন (১৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছর ওই ব্রিজে এবং আশপাশে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। আজ অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়ে।

এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান। তাদের মধ্যে অনেকে সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কিছু শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এখনও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

 

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক-শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর পরিবারসহ মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে সপরিবারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মোনাজাত করেন প্রধানমন্ত্রী।

বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া শেষে গুলশানের বাসভবনে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, আজ সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেওয়ার পর তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফিরে আসেন। সেখানে সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের ঢল নামে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য সকাল সাড়ে আটটায় মূল ফটক উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকা জনস্রোতে রূপ নেয়।

শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ড. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জায়মা রহমান। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত হাসিমুখে আগত অতিথিদের সঙ্গে হাত মেলান এবং ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

মধ্যপ্রাচ্যের এক যুদ্ধে টালমাটাল এখন বিশ্ব; সেই যুদ্ধের আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। তাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মোনাজাতেও ধ্বনিত হলো যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান।

এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের আনন্দের উপলক্ষ হয়ে আসে ঈদুল ফিতর। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মানুষের ঈদ উৎসব এবার ছিল ম্লান। গত শুক্রবার দেশগুলোতে ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হয়।

শাওয়ালের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর এক দিন পর আজ শনিবার। এদিন সকালে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে। সকাল সাড়ে আটটার এই জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঈদের শিক্ষা নিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়েন সবাই। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। নামাজ শেষে খুতবার পর মোনাজাতে হাত তোলেন সবাই।

ইমাম আবদুল মালেক দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন। পাশাপাশি সারা বিশ্বে ফিতনা-ফ্যাসাদ বন্ধের প্রার্থনা তিনি যখন জানান, তখন ‘আমিন-আমিন’ ধ্বনিতে তাতে সমর্থন জানান হাজারো মুসল্লি।

পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবদুল মালেক
পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে ইমামতি করেন মুফতি আবদুল মালেক, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
 

মুফতি আবদুল মালেক মোনাজাতে বলেন, ‘হে আল্লাহ, বিশ্বের ফিতনা-ফ্যাসাদ থেকে মানুষকে হেফাজত করেন। যুদ্ধবিগ্রহ থেকে মানুষকে নিরাপত্তা দেন।’

মোনাজাতে ইমাম মুফতি আবদুল মালেক অসহায় মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম দেশের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মজলুমদের জুলুম থেকে হেফাজত করেন। জালিমদের আপনি শায়েস্তা করে দেন আল্লাহ। কত জায়গায় মুসলমানরা মজলুম হয়ে আছে, অসহায়; আপনি তাদের সবচেয়ে উত্তম অভিভাবক। মানুষের মধ্যে আপনি তাদের জন্য অভিভাবক তৈরি করে দেন, প্রতিনিধি তৈরি করে দেন।’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে মুসলিম দেশ ইরানে আক্রমণ শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা হয়। পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন আক্রান্ত হচ্ছে ওই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি দেশ। এই দেশগুলোর সবই মুসলিমপ্রধান।

তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের যুদ্ধ বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজার করে তোলে অস্থির। সংকট এড়াতে বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ঈদের আগে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হয়। ঈদযাত্রার সময় রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও এই যুদ্ধ চলতে থাকলে তেল-গ্যাসের সংকেট লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

জাতীয় ঈদগাহে আজ শনিবার সকালে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতীয় ঈদগাহে আজ শনিবার সকালে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান,ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
 

যুদ্ধের মধ্যে ইরানে আটকে পড়া দেড় শতাধিক বাংলাদেশিকে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে ঈদের আগের দিনই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

আবার যুদ্ধপীড়িত দেশগুলোতে এখন অর্ধকোটির বেশি বাংলাদেশি নানা কাজে রয়েছেন। যুদ্ধের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এরই মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যাঁরা এখনো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে রয়েছেন, তাঁরাও আছেন উৎকণ্ঠায়।

এই প্রবাসীদের জন্য দেশে থাকা তাঁদের স্বজনদের যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি তা দেশের প্রবাসী আয় কমানোর ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি হলো রেমিট্যান্স, যার বেশির ভাগ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেই। ফলে এই যুদ্ধ প্রলম্বিত হলে বাংলাদেশকে যে ভুগতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। দৃশ্যত সে কারণে ঈদের নামাজেও ছিল তার প্রতিফলন। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়তে আসা এক ব্যক্তি একটি প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যেখানে ছিল যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান।

 পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি
পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহে প্রধান ঈদ জামাতে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি
 

এবার ঈদে রাষ্ট্রপতির বাণীতেও ছিল এই সংকটের কথা। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাত বাংলাদেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। ঈদের বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

প্রায় সাড়ে তিন দশক পর ঈদ জামাতে এবার একসঙ্গে দেখা গেল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে। আকাশি রঙের পাঞ্জাবি পরা তারেক রহমান সকাল ৮টা ২০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসেন। এর পাঁচ মিনিট পরই আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পরনে ছিল মেরুন রঙের পাঞ্জাবি। পাশাপাশি বসে ঈদের নামাজ আদায় করেন তাঁরা। নামাজ শেষে কোলাকুলিও করেন। তারেক রহমান নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নেন।

ঈদের দিন ঝড়বৃষ্টির আভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর। সকালে রাজধানীর আকাশ মেঘলা থাকলেও জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত নির্বিঘ্নেই হয়েছে।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশির মধ্য দিয়ে সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশ করেন। নামাজের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জাতীয় ঈদগাহ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে রাস্তায় নামাজ আদায় করেন অনেকে।

পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে সড়কেই নামাজ আদায় করেন
পবিত্র ঈদুল ফিতরে আজ শনিবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় ঈদগাহের ভেতরে জায়গা না পেয়ে অনেকে সড়কেই নামাজ আদায় করেন
 

এবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সব মিলিয়ে মূল প্যান্ডেলের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। নারীদের জন্যও আলাদা নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গা মিলিয়ে এবার ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ মুসল্লির একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হয়।