দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-ও একই তথ্য প্রদান করেছে।

ভূমিকম্পটি মৃদু হওয়ায় এবং গভীরতা বেশি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। 

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা নিয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যশোরে একটি শিল্প আছে। সেটি হলো ফুল চাষ। গার্মেন্টেসের জামাকাপড় যেমন এক্সপোর্ট হয়, তেমনি আমরা ফুল বিদেশে এক্সপোর্ট (রফতানি) করতে চাই।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

এরআগে তিনি খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন। পরে তিনি যশোরে এসে জনসভায় যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার বিএনপি প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বানও জানান তারেক রহমান।

বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বলেছেন, ‘নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে একটি রাজনৈতিক দল উঠেপড়ে লেগেছে।

বক্তৃতায় নাম উল্লেখ না করে জামায়াত আমিরের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছেন। দেশের মানুষ যখন আন্দোলন শুরু করেছেন, তারা বাঁচার জন্য এখন বলছেন, তার অ্যাকাউন্ট নাকি হ্যাকড। প্রশাসনের লোকজন বলেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়নি। ওই রাজনৈতিক দল মিথ্যা কথা বলছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান আরও বলেন, যারা দেশের মানুষের কাছে মিথ্যা কথা বলে, তারা বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। এটাই তাদের চরিত্র। তাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। 

তারেক রহমান বলেন, তাদের ভূমিকার কারণে একাত্তর সালে লাখ লাখ মা-বোন ইজ্জত হারিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আদালতে হাজির করে তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রোমের মিয়া। এর আগে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উত্তরা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই তাহমিনা আক্তার।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে বীভৎসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গত রাত সাড়ে ৩টার দিকে সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার আলোচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি করছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টিকে চলমান প্রক্রিয়ার অংশ বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। আজ সোমবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করতে যান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকেরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা চীন ও জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এটা চলমান প্রক্রিয়া।’

পরবর্তী সরকার এগুলো এগিয়ে না নিলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতির কী হবে, সে প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, এটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন।

সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করা হয়েছে। কোনো দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা উড়োজাহাজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত হন না—এমন সমালোচনার জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, দুনিয়ার সব দেশে বিমান নেই।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো ছিল, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কার, জুলাই হত্যার বিচার ও জাতীয় নির্বাচন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ড্রোন কারখানা তৈরি নিয়ে চীনের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি, পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা, চীন থেকে জে-১০ সি যুদ্ধবিমান কেনা, ইউরোপীয় কনসোর্টিয়াম থেকে ইউরো ফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কেনা, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সাবমেরিন, তুরস্ক থেকে টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্ল্যাক হক মাল্টিরোল হেলিকপ্টার, ৬৫০ কোটি টাকায় যুদ্ধজাহাজ বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদের সক্ষমতা বাড়ানোর মতো কাজগুলো হাতে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার।

সরকার যদি মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারে, তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান এ মন্তব্য করেন। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মব সন্ত্রাস যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সেটি অন্য সবকিছুর মতো নির্বাচনেও প্রভাব ফেলতে বাধ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও দায় আছে। সরকার শুরু থেকে মব সহিংসতা প্রতিরোধে তৎপরতা দেখাতে পারেনি।

মবের উৎপত্তি নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশে মব সহিংসতা শুরু হয়েছে সরকারের ভেতর থেকে। দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে প্রথম মবের উৎপত্তি হয়েছিল। সরকারের বাইরের শক্তি যারা এখন মব করছে, তারা ক্ষমতায়িত হয়েছে সচিবালয়ে মব সৃষ্টির পরে। এর ফলে সরকারের নৈতিক ভিত্তিও দুর্বল হয়েছে।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর একটি হত্যাকাণ্ডও হবে না—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আর যেন নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা না হয়। তবে সহিংসতার ঝুঁকি শুধু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত নয়, এর পরবর্তী কয়েক দিনও থাকতে পারে। সরকার এই ঝুঁকির বিষয়টি ভালোভাবেই জানে এবং ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশের অতীত নির্বাচনী ইতিহাসের কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচনগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সহিংসতা প্রতিরোধ করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান জুলাই-পরবর্তী জবাবদিহির প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢালাওভাবে মামলায় জড়িয়ে সাংবাদিকদের আটক রাখা হয়েছে। পেশাগত অবস্থান অপব্যবহারের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া কতটুকু বিচার আর কতটুকু প্রতিশোধ—সে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এর ফলে প্রকৃত অপরাধী, কর্তৃত্ববাদের দোসরদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা কতটুকু সম্ভব ও গ্রহণযোগ্য হবে, সে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।

প্রকৃত জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির মতো অপরাধের প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ন্যায়সংগত ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনীতিবিদ ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। তারা তাদের স্বার্থ বজায় রাখতে চায়। এ কারণে ঐকমত্য কমিশনে জনগণের কাছে জবাবদিহি সরকারব্যবস্থার জন্য যে পদ্ধতিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের আপত্তি ছিল।

নোট অব ডিসেন্টের মৌলিক কনসেপ্ট ধারণ করলে আপত্তি থাকলেও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য বা সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটিই বাস্তবায়িত হবে বলে মন্তব্য করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার রীতি বিশ্বব্যাপী প্রচলিত আছে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটি হবে কি না, সেটি দেখার বিষয়। গণভোটের রায় ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গেলে সে ক্ষেত্রে যারা সরকারে যাবে, তাদের সদিচ্ছার ওপর সংস্কার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে।

সরকারের সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ও গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে সমালোচনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মিডিয়া বিশেষভাবে সরকার কর্তৃক উপেক্ষিত হয়েছে এবং মিডিয়ার প্রতি নতুন করে ঝুঁকি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ভেতরের ও বাইরের শক্তি কাজ করেছে। বাইরের শক্তিকে সরকারই অতিক্ষমতায়িত করেছে।

গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরাপদে কাজ করুক—এ চিন্তাভাবনা অন্তর্বর্তী সরকার ধারণ করেছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুটি মিডিয়া কমিশন লোকদেখানো পদক্ষেপ ছাড়া আর কিছু নয়।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিচারক নিয়োগ কমিটি, স্বাধীন বিচার বিভাগ সচিবালয়ের মতো কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সচিবালয় কতটুকু কার্যকর হবে, তার জবাব পরবর্তী সরকারকে দিতে হবে। এ ছাড়া বিচারব্যবস্থার ভেতরে দলীয়করণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

গণতান্ত্রিক সংস্কার সফল করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে রাজনীতিমুক্ত করার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে থাকা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যে বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ হুমকির মুখে। একটি দল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে নারীদের নিয়েই কটূক্তি করছে। আবার তার কোনো দায় নিচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নারীদের অপমান করে, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।’

শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনেরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘নারী অঙ্গন’-এর সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আমরা আইডি হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় নারীদের কটাক্ষ করা হয়েছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হল সংসদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসসুম, নারী অঙ্গনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্তাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত, ভেঙে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটি। জামায়াতের দাবি, দলীয় আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করে পোস্টটি করা হয়েছে। ওই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একই সময়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় জামায়াত।

রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক ও ছেলে রাদওয়ান মুজিব ববির বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার রায় আজ সোমবার।

দুই মামলাতেই শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৪ জন আসামি। তাঁদের ছাড়াও আজমিনার বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির তালিকায় আরও ৩ জন এবং রাদওয়ানের বিরুদ্ধে করা মামলায় আরও ৩ জন রয়েছেন।

গত ১৩ ও ১৮ জানুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪–এর বিচারক রবিউল আলম পৃথক এই দুই মামলায় রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেন।

মামলা দুটির অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা আবাসন সুবিধা থাকার পরও তা গোপন করেছেন। এর ফলে প্লট বরাদ্দে আইন, বিধি, নীতিমালা ও আইনানুগ পদ্ধতি লঙ্ঘন হয়েছে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রভাবিত করেছেন। মামলার আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে ও অন্যকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ১০ কাঠা করে প্লট তাঁদের নামে বরাদ্দ দেন।

দুদকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দুটির সব সাক্ষ্যপ্রমাণ ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালত বিভিন্ন মাধ্যমে আসামিদের হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করলেও তাঁরা পলাতক (একজন গ্রেপ্তার) ছিলেন। আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই।’

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। মামলায় টিউলিপ, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুই আসামিসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় এ বছরের ৫ জানুয়ারি। মামলায় মোট ৩১ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ১৩ জানুয়ারি রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন।

এ মামলায় আজমিনা ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

রাদওয়ানের বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতির মামলা

ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান। মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা, শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১০ মার্চ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ৩১ জুলাই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। এরপর ১৩ আগস্ট সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় গত মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। মামলায় মোট ২৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয় গত ১৮ জানুয়ারি। এরপর রায় ঘোষণার তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন আদালত। মামলার ১৮ আসামির মধ্যে খুরশীদ আলম কারাগারে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শেখ হাসিনা, টিউলিপ, সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, সচিব শহিদ উল্লাহ খন্দকার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সহকারী পরিচালক ফারিয়া সুলতানা, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ ও পরিচালক শেখ শহিনুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে কেবল খুরশীদ আলম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

এর আগে ঢাকার পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এক মামলায় শেখ রেহানাকে ৭ ও টিউলিপকে ২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চারপাশে উপচে পড়া ভিড়। মঞ্চে বসে আছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। মাঝে দাঁড়িয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় জনতার ভিড় ঠেলে আসেন এক তরুণী। হাতে একটি মাটির ব্যাংক ও একটি থলে।

আনিছা আকতার নামের ওই তরুণী বললেন, ‘স্যার আপনার জন্য বাড়ির পোষা মুরগির কয়েকটি ডিম আর কিছু পয়সা এনেছি। নির্বাচনের জন্য এই সামান্য উপহারটুকু গ্রহণ করবেন।’ তরুণীর কাছ থেকে মাটির ব্যাংক আর ডিম উপহার পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম।

আনিছার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কাজীপাড়া এলাকায়। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় কাজীপাড়া এলাকায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে গণসংযোগ করেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম। তখন আনিছা তাঁকে মাটির ব্যাংক ও ডিম উপহার দেন।

আনিছার কথা শেষে ব্যাংকটি হাতে নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল। পরে বলেন, ‘ওরা আমাকে একটা মাটির ব্যাংকে তাঁর যে সঞ্চিত অর্থ দিয়েছে নির্বাচনের খরচের জন্য। ডিমও দিয়েছে।’ বলতে বলতে গলা ধরে আসে তাঁর। এক সময় কেঁদে ফেলেন। নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবুল করুন। এই মেয়েটার আকুতিকে কবুল করুন।’

এ সময় মঞ্চে মির্জা ফখরুলের পাশে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আল মামুন আলম। তিনি বলেন, ‘এটি এই এলাকার মানুষের প্রচলিত একটি রীতি। নির্বাচনে তাঁরা যাঁকে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করেন, তাঁকে তাঁরা ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে এমন উপহার দেন। কেউ দেন মাটির ব্যাংকে জমানো টাকা, কেউ পরিয়ে দেন টাকার মালা। আবার কেউ কেউ বাড়ির ডিম, মুরগি, ছাগলও উপহার দেন।’

গতকাল শনিবার সদর উপজেলার আকচা ও চিলারংয়ে গণসংযোগ করেন মির্জা ফখরুল। আকচার নীমবাড়ি এলাকায় গণসংযোগের সময় এক শিশু তাঁর হাতে ৫০০ টাকা গুঁজে দেয়। টাকা পেয়ে মির্জা ফখরুল দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। পরে তিনি শিশুটিকে দেখিয়ে সবার উদ্দেশে বলেন, ‘এ বাচ্চাটি আমার নির্বাচনী খরচের জন্য ৫০০ টাকা দিয়েছে। আমি এই টাকা খরচ করব না। আজকের তারিখ লিখে রেখে দেব।’

পরে দেবীগঞ্জ বাজারে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন তিনি। সভায় তাঁকে দুজন কিছু টাকা উপহার দেন। বিকেলে চিলারং ইউনিয়নের মানু বাবুর মন্দির চত্বরে গণসংযোগে যান মির্জা ফখরুল। তখন স্থানীয় লোকজন বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁরা মির্জা ফখরুলকে টাকার মালা উপহার দেন। পরে সনাতন সম্প্রদায়ের এক নারী তাঁর হাতে একটি মাটির ব্যাংক তুলে দেন।

চিলারং ইউনিয়নের মাধবপুর এলাকায় নির্বাচনী সভা চলছিল। মাইক হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। তাঁর বক্তব্যের একপর্যায়ে একদল নারী উলুধ্বনি দিতে দিতে মঞ্চের দিকে এগিয়ে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল টাকার মালা। মঞ্চের কাছে এসে মির্জা ফখরুলের গলায় তা পরিয়ে দিলেন। মির্জা ফখরুলও দুই হাত একত্র করে তাঁদের ভালোবাসার জবাব দেন।

কিছুক্ষণ পর এক নারী বাড়ির পোষা হাঁসের কয়েকটি ডিম উপহার দেন। তখন ওই নারী মির্জা ফখরুলের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। সন্ধ্যায় আখানগর উচ্চবিদ্যালয়ের নির্বাচনী সভা চলাকালে আরেক নারী মির্জা ফখরুলকে টাকাভর্তি একটি মাটির ব্যাংক উপহার দেন।

জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বিএনপির মহাসচিবকে উপযুক্ত প্রার্থী বলে মনে করেন। সে কারণে এলাকার লোকজন মহাসচিবের প্রচারণা সহজ করতে টাকা, ডিমসহ নানা উপহার দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এটি স্থানীয় রীতি, যার মাধ্যমে মানুষ তাঁদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

নির্বাচনী সভা শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমি এই এলাকা থেকে বারবার নির্বাচন করি। কখনো জিতেছি, আবার কখনো হেরেছি। কিন্তু কেউ কাউকে ছেড়ে যাইনি। এলাকার মানুষের ভালোবাসার টানেই আমি তাঁদের কাছে সব সময় ফিরে আসি। এই ভালোবাসা কি ভোলা যায়?’

সারাদেশে শীতের দাপট কমে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়লেও এখনও শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশায় ছেয়ে থাকছে চারপাশ। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে ১০ ডিগ্রির ঘরে। তবে চলতি মাসের শেষের দিকে বজ্র ও শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ফেব্রুয়ারি মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মৃদু (০৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে চলতি মাসের শেষের দিকে অন্তত ২ দিন দেশের কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এ মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে এবং দিন-রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। এছাড়া এ মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অন্যদিকে চলতি ফেব্রুয়ারিতে দেশের প্রধান নদীগুলোয় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। এছাড়া এ মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ২ থেকে ৪ মিলিমিটার এবং গড় সূর্যকিরণকাল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকতে পারে বলেও দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (১ জানুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি—বিশেষ করে তৈরি পোশাক—ইইউ’র বাজারে অব্যাহতভাবে প্রবেশাধিকার পায়, সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মসৃণ করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও জোরদার হবে।

নুরিয়া লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এতে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। আমরা এফটি’র পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহ পায়—এ জন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ইইউ’র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক।

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক। বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।

 

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ হ্রাস এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এদিন চূড়ান্ত চুক্তি হতে যাচ্ছে দুই দেশের মধ্যে। সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি বোয়িং বিমান কেনা ও জ্বালানি খাতে আমদানির মতো বড় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

তিনি বলেন, এ ব্যাপারে চুক্তির খসড়া এবং ৯ ফেব্রুয়ারি তা স্বাক্ষর করার জন্য অনুমোদন চেয়ে আমরা সামারি পাঠিয়েছি। এটি অনুমোদিত হয়ে এলে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবো।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণা করে আলোচনার সুযোগ রেখেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনা শেষে গত ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে এ জন্য দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিসহ বাংলাদেশকে বেশ কিছু ছাড় দিতে হয়।

শুল্ক কত শতাংশ হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বাংলাদেশের রেসিপ্রোকাল শুল্কহার ২০ শতাংশ আছে। অন্যান্য দেশেও একই আছে, আবার অনেক দেশে বেশি আছে। তবে, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমতেও পারে; সে ধরনের একটি ধারণা আছে। তবে, নিশ্চিত করে বলতে পারব না; এখনো তা নিশ্চিত হয়নি। আমরা খসড়া করেছি, তবে শুল্ক কত হবে সেটি নির্ধারণ করতে ৯ তারিখ পর্যন্ত সময় নেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুবিধা পেতে বাংলাদেশকেও বেশ কিছু ছাড় দিতে হচ্ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করলেও দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। পরে এই শুল্কহার আরও কমানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আদায়ে আলোচনা অব্যাহত রাখে ঢাকা, যা চূড়ান্ত হয়ে চুক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ভারত ইইউ-এর সঙ্গে একটি এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষর করেছে— এটি নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখানে উদ্বেগের কিছু নেই। আমরা তৈরি পোশাক খাতে গত ৪৫ বছর ধরে সক্ষমতা অর্জন করেছি এবং আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ। আমাদের এই খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম অবকাঠামো আছে। এই সক্ষমতা অন্য কেউ রাতারাতি অর্জন করে ফেলবে বলে আমাদের মনে হয় না।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন ভারত বেসিক টেক্সটাইলে বেশ শক্তিশালী এবং বিশ্ববাজারে তাদের ভালো অবস্থান আছে। আমরা কাঁচামালও তাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করি। কাজেই এই দুই দেশ এখনো পরিপূরক (কমপ্লিমেন্টারি) অবস্থায় আছে। তাদের উপকরণ উৎপাদন এবং নিজস্ব তুলাও আছে। ফলে ভারত আমাদের প্রতিযোগী নয়, বরং পরিপূরক।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর অনেক সুযোগ-সুবিধা হারানোর পাশাপাশি নতুন শুল্ক যুক্ত হবে—সেক্ষেত্রে এফটিএ নিয়ে সরকার নতুন কিছু ভাবছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো দেশের সাথে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সাথে এফটিএ-র নেগোসিয়েশন শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে এফটিএ স্বাক্ষরিত হবে।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং আশা করছি এই বছরের মধ্যেই তাদের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএ-র প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যেসব বাজারে আমরা শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই, সবগুলোর কাছেই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে।

রমজানের প্রস্তুতির ব্যাপারে তিনি বলেন, রমজানের বাজার পরিস্থিতি, নিত্যপণ্যের মূল্য এবং রমজানভিত্তিক নির্দিষ্ট পণ্যগুলোর সরবরাহ নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, বিমান ক্রয়ের বিষয়টি আলোচনায় আছে। বিমানের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমেরিকার সাথে এই চুক্তির আগেও পরিকল্পনা ছিল। শুধু বোয়িং নয়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথেও আলোচনা ছিল। সেটি এখন একটি কাঠামোগত রূপ পেয়েছে। আমেরিকান রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ প্রসঙ্গে যতদূর জানি, তাদের সাথে নেগোসিয়েশন চলছে। বোয়িং কতগুলো এবং কোন বছর সরবরাহ করতে পারবে, দাম কী হবে এবং বিমানের ভেতরের কনফিগারেশন কেমন হবে— এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।

এখানে যুদ্ধবিমানও আছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, যুদ্ধবিমান এই চুক্তির আওতায় কখনোই আসবে না। মিলিটারি ইস্যু কখনো ট্রেড ইস্যুতে থাকে না।

গত ছয় মাসে রপ্তানি ৩.৭ শতাংশ নেতিবাচক— যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। এ নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, আমরা পর্যালোচনা করেছি। বিশ্ববাণিজ্যে ৩.৭ শতাংশ ঘাটতি হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে নই, সেই হিসেবে আমাদের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে, আমাদের নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ নয়, বরং ১.৬ শতাংশের মতো। অর্থাৎ গ্লোবাল অ্যাভারেজের চেয়ে আমরা ভালো অবস্থায় আছি।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চুক্তিতে থাকবে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এক দেশের উপকরণ ব্যবহার করলে কিউমুলেশন বেনিফিট পাওয়ার আশা থাকে। এটি একটি প্রগতিশীল প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের সুবিধার জন্যই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলায় উৎপাদিত পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের তুলায় তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রপ্তানি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪৬ মিলিয়ন ডলারের তুলা আমদানি করেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৭৮ মিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার এখনো যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার থেকে কমাতে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫০ কোটি ডলারের আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী কয়েক বছরে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনবে সরকার, যাতে খরচ হতে পারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া কিছুটা বাড়তি দামে প্রতিবছর সাত লাখ টন করে গম আমদানি করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল ও তুলার আমদানি বাড়ানো এবং এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করা হবে।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সাভারের আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ৫ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হবে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এদিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

এ মামলায় ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল কারাগারে আছেন। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক।

গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট ৬ জনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়া হয়। তবে সে সময়েও জীবিত ছিল একজন। এ ছাড়া ৪ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে একজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে।