বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যাটারি চালিত বিশেষ এই যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। 

আজ শনিবার (৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল ইসলাম। এসময় তার বানানো ছোট এই বাহনটি দেখেন প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরো আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন এবং এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাক্ষাৎকালে তারেক রহমানকে স্মার্ট কার তৈরির গল্প শুনিয়েছেন ওয়াকিমুল ইসলাম। তিনি জানান, একসময় সারাদিন বাসায় বসে থাকতেন, বাহিরে বের হতে পারতেন না। কীভাবে বাহিরে একা চলাফেরা করা যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি কারটি বানানো শুরু করেন। ওয়াকিমুল ইসলাম যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তার পিতা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।  

তিনি আরও জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরো উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন। 

এ সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেস) এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল। তিনি জানান, গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়ন ইস্যুতে বিএনপি একটা ছলচাতুরী করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (৯ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সংস্কারের অচলাবস্থা ও করণীয় নিয়ে এনসিপির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।  

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার এখনও ক্লিয়ার পজিশন নেয়নি। একটা ছলচাতুরী করছে। তারা বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু কবে, কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হবে সে বিষয় এখনও ক্লিয়ার না। 

তিনি আরও বলেন, দেশে একটা অচলাবস্থা তৈরী হয়েছে। এই অচলাবস্থা থেকে আমরা বের হতে চাই এবং এর দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। এজন্য আমরা আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি। 

নাহিদ ইসলাম জানান, এ বিষয়ে আলোচনার জায়গা না রাখা হলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন আরও কঠিন হবে। কতটা কঠিন হবে তা নির্ভর করবে সরকার কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর।

এছাড়া তিনি আরও বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার না হওয়ায় দেশের মানুষ এখনো এর সুফল ভোগ করতে পারছে না। এছাড়া দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, মানবাধিকার পরিস্থিতিরও উন্নয়ন হয়নি। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে এখনো অবিশ্বাস বিদ্যমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। 

শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ি থেকে এক নারী, তিন শিশু ও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

নিহতরা হলেন ভাড়াটিয়া ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তাদের তিন সন্তান এবং ফোরকানের শ্যালক।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফোরকানের স্ত্রীকে জানালার সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের মেঝেতে পড়ে ছিল ২ থেকে ৫ বছর বয়সী তিন শিশুর গলাকাটা মরদেহ এবং খাটের ওপর পড়ে ছিল ফোরকানের শ্যালকের মরদেহ। পুলিশ বাড়িটি তল্লাশি করে মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামত জব্দ করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে রহস্যময় দিক হলো, মরদেহের পাশে পড়ে থাকা কিছু প্রিন্ট করা কাগজ। তিনটি ভিন্ন স্থানে থাকা মরদেহের পাশেই এই কাগজগুলো পাওয়া গেছে, যা কোনো মামলার নথিপত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে নথিতে কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন ফোরকান মিয়া। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ হতো বলে প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ফোরকান তার স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন।

বর্তমানে বাড়িটিতে সাধারণের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের ফরেনসিক দল আলামত সংগ্রহের কাজ করছে। 

গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন বলেন, একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একাধিক সংস্থা রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে এবং দ্রুতই প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

 

বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দিতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে (কেআইবি) প্রবেশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

শনিবার (৯ মে) সকালে ১০টা ৪৫ মিনিটে কেআইবি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন তিনি।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সভাস্থলে সকাল থেকেই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এ সময় দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

মতবিনিময় সভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে।

 

দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহনশীলতার ঘাটতি থাকলে সংবাদমাধ্যমও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা অনুপস্থিত থাকায় সংবাদমাধ্যমেও তার নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর শেষ দিনের সকালের সেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন কামাল আহমেদ। এই সেশনে আলোচনার বিষয় ছিল ‘পলিটিকো-গভর্ন্যান্স ইকোসিস্টেম অ্যান্ড ফ্রি মিডিয়া’। সেশনটির সঞ্চালক ছিলেন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক শাখাওয়াত লিটন। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)।

কামাল আহমেদ বলেন, দীর্ঘ শাসনব্যবস্থার অবসানের পর পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি হলেও সেটিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সংবাদমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলা হলেও এটি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। সমাজে গণতন্ত্র, সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে সংবাদমাধ্যমও স্বাধীন থাকতে পারে না।

কামাল আহমেদ বলেন, দেশে এখনো এমন পরিস্থিতি নেই, যেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে সব ধরনের মত প্রকাশ করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ৭ মার্চের ভাষণ প্রচারের ঘটনায় একজনের কারাভোগ এবং খাগড়াছড়িতে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে একই দিনে একাধিক মামলা হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, ‘সারা দেশে যা চলছে, সংবাদমাধ্যমেও সেটাই প্রতিফলিত হবে।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী মতকে উপেক্ষা করার প্রবণতা গভীরভাবে প্রোথিত বলে উল্লেখ করেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের নামে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন দেখছি, কিন্তু ভিন্নমতকে যথেষ্ট জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।’ এর প্রভাব সংবাদমাধ্যমেও পড়ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের চর্চার অভাবকেও বড় সংকট হিসেবে দেখেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, যেসব রাজনৈতিক দলে নিজস্ব গণতান্ত্রিক কাঠামো নেই, তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমও প্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো, সম্পাদকীয় নেতৃত্ব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলোয়ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। একই সঙ্গে সাংবাদিকতার সক্ষমতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং সাহসের অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে আলোচকেরা। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে
‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সেশনে আলোচকেরা। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই কনফারেন্সের আয়োজক মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই)। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে
 

বাংলাদেশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে রাজনৈতিক প্রভাবের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব পেলেও বাস্তবে সে ভূমিকা পালন করতে পারেনি। এমনকি সংবাদপত্রের ওপর আঘাতের ঘটনাতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যকর অবস্থান দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আর্থিক স্বনির্ভরতার ওপরও জোর দেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকা কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম যত দিন অর্থনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে না পারবে, তত দিন প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে না।’ কামাল আহমেদ আরও বলেন, ‘রাজনীতি ও গণমাধ্যম—উভয় ক্ষেত্রেই কালোটাকার প্রভাব স্পষ্ট।’

বক্তব্যে সমাধানের কথা উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ ও জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রেও আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আসলে সবাই একমত হতে পারছি না।’

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন পাকিস্তানের ডন পত্রিকার সম্পাদক জাফর আব্বাস, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, বিবিসির সাবেক সাংবাদিক আনোয়ার শাকিল, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

ফলো-আপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শনিবার (৯ মে) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।  

বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে বিদায় জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এই সফরে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে রয়েছেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এবার যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। চিকিৎসা শেষে আগামী ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

 

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এতে এক বৃদ্ধকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম ওরফে দয়াল (৬৫)। তিনি একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি সপরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিশুটির মা চাতালশ্রমিক এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালান। মেয়েটি বেশির ভাগ সময় তার মামার বাড়িতে থাকত। প্রতিবেশী হওয়ায় সেই বাড়িতে নুরুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। বিষয়টি টের পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে উভয় পক্ষ। কিন্তু নুরুল শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দেন।

শিশুটির মামির অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমানসহ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে এসে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আপস করতে যান নুরুল। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি পাতায় শিশুটির সই নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, মানসম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই লোকের সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দিতে রাজি হন। তিনি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

ওই আপস-মীমাংসায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিতে পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। আপস না হওয়ায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’

শিশুটির সঙ্গে নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শাকিব। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিব শাহ্ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল রা‌তে শিশু‌টির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পু‌লিশ কাজ কর‌ছে। একই সঙ্গে যাঁরা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়ী থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন শিশুটির মা। এতে এক বৃদ্ধকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম ওরফে দয়াল (৬৫)। তিনি একই উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ায় তিনি সপরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ওই শিশুটির মা চাতালশ্রমিক এবং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা ভিক্ষা করে সংসার চালান। মেয়েটি বেশির ভাগ সময় তার মামার বাড়িতে থাকত। প্রতিবেশী হওয়ায় সেই বাড়িতে নুরুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। এই সুযোগে শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন তিনি। সর্বশেষ গত ৫ ফেব্রুয়ারি শিশুটিকে একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ধীরে ধীরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। বিষয়টি টের পেয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে উভয় পক্ষ। কিন্তু নুরুল শিশুটির পরিবারকে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দেন।

শিশুটির মামির অভিযোগ, সপ্তাহখানেক আগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমানসহ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মীকে নিয়ে এসে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে আপস করতে যান নুরুল। মীমাংসার নাটক সাজিয়ে শিশুটির পরিবারকে দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কথিত বিয়ের কথা বলে একটি পাতায় শিশুটির সই নেওয়া হয়।

শিশুটির বাবা বলেন, মানসম্মানের ভয়ে এবং কয়েকজনের চাপাচাপিতে ওই লোকের সঙ্গে শিশুটির বিয়ে দিতে রাজি হন। তিনি নুরুলের শাস্তিসহ উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

ওই আপস-মীমাংসায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, ‘মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিতে পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে স্থানীয়ভাবে উভয় পক্ষ বসে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। আপস না হওয়ায় মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।’

শিশুটির সঙ্গে নুরুল ইসলামের কথিত বিয়ের কাজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শাকিব। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিব শাহ্ বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে। গতকাল রা‌তে শিশু‌টির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পু‌লিশ কাজ কর‌ছে। একই সঙ্গে যাঁরা বেআইনিভাবে এই আপস-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হ‌বে।

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)।

শুক্রবার (৮ মে) ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার বসন্তকালীন সমাবর্তনে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস‍্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত হয়ে জামিল ও বৃষ্টির পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘স্প্রিং ২০২৬’ সমাবর্তনে প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই দুই শিক্ষার্থীকেও ডিগ্রি দেওয়া হয়। নাহিদা ও জামিলের স্মরণে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের শুরুতে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার সকালে ডক্টরাল ডিগ্রি প্রদানের মূল অনুষ্ঠানে তাদের সম্মানে অনুষ্ঠানস্থলে দুটি খালি চেয়ার নির্ধারিত পোশাকে (রেগালিয়া) সজ্জিত করে রাখা হয়। এ বছর ৩৯৩ জন ডক্টরাল ডিগ্রিধারীর তালিকায় এই দুজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এর এক সপ্তাহ পর ফ্লোরিডার টাম্পায় হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড সেতুর কাছ থেকে জামিলের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর একই এলাকার ম্যানগ্রোভ বনের ভেতর থেকে বৃষ্টির দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত খুনের দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বর্তমানে সে কারাগারে।

 

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আগামীকাল শনিবার যুক্তরাজ্য যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের ফলোআপ হিসেবে লন্ডনের কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাঁর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং বাসসকে জানায়, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে।

রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্য, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ সফরে তাঁর সফরসঙ্গী হবেন।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ১৮ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়।

বাসস

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে কিছু পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ও টিফিন ভাতার হার বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে।

জানা গেছে, যেসব পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার কম, তাদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ বা দ্বিগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। এছাড়া ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেলেও নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব এসেছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে পুনর্গঠিত পে কমিশন সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে এবং শিগগিরই তা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

অর্থ বিভাগের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী অর্থবছরের বাজেটে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পুরো কাঠামো ও সুবিধা ২০২৮-২৯ অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন গত জানুয়ারিতে এসব সুপারিশ জমা দেয়। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

 

মুমিনুল হক তখন ফিফটি ছুঁয়েছেন, নাজমুল সেটা করে ফেলেছিলেন আগেই। দুজনের জুটিও ততক্ষণে এক শ ছাড়িয়ে গেছে। পেস, স্পিন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না—পাকিস্তান দল তখন যেন নিরুপায়!

মোহাম্মদ রিজওয়ান শর্ট লেগের ফিল্ডারকে একটু পিছিয়ে যেতে বললেন। নন–স্ট্রাইক প্রান্তে পপিং ক্রিজে টানা সাদা দাগের ওপর দাঁড়ালেন সেই ফিল্ডার। বোলাররা যেহেতু পারছেন না, ফিল্ডার সরিয়ে যদি বিভ্রান্ত করা যায় ব্যাটসম্যানকে, যদি একটি উইকেট মেলে!

তবে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ততটাও কঠিন ছিল না। সময় যত যায়, নাজমুলকে দেখেও মনে হলো ব্যাটিং করা কত সহজ! অন ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ কিংবা পুল—সবকিছুতে স্বচ্ছন্দ। প্রয়োজনে আবার নিখাদ ডিফেন্সিভ ব্যাটসম্যানও!

সেঞ্চুরির পর ব্যাটে চুমু এঁকে চেনা উদ্‌যাপন শেষ করার পরের বলেই নাজমুল আউট হলেন এলবিডব্লুর শিকার হয়ে। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। নিজের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে নাজমুল যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, তখন তাঁকে দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন নিখাদ ব্যাটিং যে সরাচর দেখা যায় না।

সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন
সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন

দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নাজমুল শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে যে বাউন্ডারির ঝড় শুরু হয়েছিল, সেটির শেষও হয়েছে তাঁর বলে এসেই। আউট হওয়ার আগের বলেই অবশ্য তাঁকেই বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরিটা তুলে নেন।

মুমিনুল হক উইকেটে এসেছিলেন নাজমুলেরও আগে। কিন্তু মুমিনুলের আগেই ৭১ বলে ফিফটি পান নাজমুল। একপ্রান্ত থেকে তাঁর দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের কারণে অন্য প্রান্তে মুমিনুলও খেলতে পারেন তাঁর মতো করে। ফিফটি তুলে নেন ১০২ বলে।

পাকিস্তানের তিন পেসার আব্বাস, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী—কাউকেই থিতু হতে দেননি নাজমুল। বাউন্সারে পুল করেছেন, অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার কিংবা পয়েন্ট দিয়ে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। তাতে ফিল্ডারদের দ্রুত মাঠে ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। এতে নাজমুলের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাও হয়েছে আরও পরিশীলিত।

পেসাররা মুমিনুল–নাজমুলের জুটি ভাঙতে না পারায় সালমান আগাকে দিয়ে যে ওভারে স্পিন শুরু করেছিল পাকিস্তান, ওই ওভারেই ছক্কা মারেন নাজমুল। ৭১ বলের ফিফটির পর সেঞ্চুরি পেতে খেলেন মাত্র ৫৮ বল। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার অভ্যাসের কারণে নাজমুল কিন্তু আলাদা করে বড় একটা বাহবা পেতেই পারেন। টেস্টে ফিফটির চেয়ে তাঁর সেঞ্চুরিসংখ্যা যে বেশি!

যে ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছেন এই সংস্করণে, তার মধ্যে ৯টিতেই সেঞ্চুরি করলেন (ফিফটি ৫টি)। শেষ ৮ ইনিংসেই সেঞ্চুরি ৪টি। হয়তো বাকিগুলোর চেয়ে এটা একটু বিশেষও—দুর্দান্তভাবে চাপ কাটিয়ে প্রতিপক্ষকে উল্টো চাপে ফেলেছেন, সচল রেখেছেন রানের চাকাও এবং মুমিনুলের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটিতে এক দিন আগেই প্রথম ইনিংসে দলীয় চার শ রান করার প্রতিশ্রুতিরও পথ করে দিয়েছেন।

সেঞ্চুরির পরপরই আউট হয়ে যাওয়ার হতাশা ভুলে নাজমুলের জন্য তাই শুধু করতালিই প্রাপ্য।