যুক্তরাষ্ট্রের একটি বাণিজ্য আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক কৌশলে আবারও ধাক্কা দিয়েছেন। আদালত রায় দিয়েছেন, ১৯৭০-এর দশকের একটি বাণিজ্য আইনের আওতায় আরোপ করা তাঁর সর্বশেষ অস্থায়ী ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক যৌক্তিক নয়। তবে আদালত শুধু দুটি বেসরকারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এই শুল্ক স্থগিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের ২-১ সংখ্যাগরিষ্ঠতার এই রায়ে আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে অন্য সব আমদানিকারকের জন্য অস্থায়ী শুল্ক বহাল থাকবে। এই ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আদালত বলেছেন, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ছিল ভুল পদক্ষেপ। তবে বিচারকদের একজন মন্তব্য করেন, বাদীপক্ষকে এখনই চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা সময়োপযোগী হবে না।

প্রায় দুই মাস পর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া এসব শুল্ক নিয়ে দেওয়া আদালতের রায় ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক পরিকল্পনার জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন সময়ে রায়টি এল, যখন আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলারের শুল্ক ফেরত নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পথও তৈরি হলো। তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত একটি আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপ করা ব্যাপক বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক বাতিল করে দিয়েছিলেন।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বাণিজ্য আদালতের রায়কে ‘দুজন উগ্র বামপন্থী বিচারকের’ সিদ্ধান্ত বলে দোষারোপ করেন।

ওয়াশিংটনে একটি রিফ্লেকটিং পুল সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আদালত নিয়ে আমাকে আর কিছুই অবাক করে না। কোনো কিছুই অবাক করে না। আমরা একটি রায় পাই, তারপর অন্যভাবে কাজ করি।’

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো বড় বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ব্যাপক শুল্ক পুনর্বহালের পরিকল্পনা করছে। এ জন্য তারা ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের আরেকটি ধারা—সেকশন ৩০১—ব্যবহার করতে চায়, যা অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়। এ আইনের আওতায় বর্তমানে তিনটি শুল্ক তদন্ত চলছে, যেগুলোর কাজ জুলাইয়ে শেষ হওয়ার কথা।

নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত সব আমদানিকারকের জন্য শুল্ক স্থগিতের আদেশ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যসহ ২৪টি অঙ্গরাজ্যের জোট এমন আদেশ চাইলেও আদালত বলেন, তাদের এ ধরনের আবেদন করার আইনি ভিত্তি নেই।

রায়ে বলা হয়, বেসরকারি বাদীপক্ষ সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞার পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো যুক্তি দেয়নি। একজন বাদীর ক্ষতি পুরো ব্যবস্থার ওপর সর্বজনীন নিষেধাজ্ঞা জারির যথাযথ ভিত্তি হতে পারে না। তাই আদালত এমন আদেশ দিচ্ছেন না।

হোয়াইট হাউস ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ডরসি অ্যান্ড হুইটনির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের অংশীদার ডেভ টাউনসেন্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবশ্যই এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ফলে বিষয়টি এখন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত ও পরে সুপ্রিম কোর্টে আরও আলোচনার পথ তৈরি করল। তিনি আরও বলেন, এখন অন্য আমদানিকারকেরাও প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।

শিক্ষাখাতে সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, অবকাঠামো নয়, শিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক বিনিময়ই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে।

শুক্রবার (৮ মে) রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ শাসন অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় বিশ্বব্যবস্থা ক্রমেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। যুদ্ধ, অস্থিরতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের এই সময়ে বাংলাদেশ ও চীনের মতো বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভূয়সী প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।
 
বাংলাদেশ ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বহু বছর আগে থেকেই দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিশাল জনগোষ্ঠীকে মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হলে শিক্ষাখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে।
 
চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে ভবিষ্যতেও নিয়মিত বৈঠক ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শিক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানবসম্পদ উন্নয়নকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা, গবেষণা ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

 

বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি’ (নিকার)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নিকারের ১২০তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমানে দেশে ১২টি সিটি করপোরেশন আছে। বগুড়া নিয়ে সিটি করপোরেশনের সংখ্যা হবে ১৩টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

নতুন উপজেলাগুলো হলো বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলাকে ভাগ করে ‘মোকামতলা’, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলাকে ভাগ করে ‘মাতামুহুরী’, ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘রুহিয়া’ ও ‘ভুল্লী’ এবং লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলাকে ভাগ করে ‘চন্দ্রগঞ্জ’ উপজেলা।

দেশে বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। নতুন এই পাঁচটি নিয়ে উপজেলার সংখ্যা হবে ৫০০।

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে এক শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ১১ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৩৮ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাম শনাক্ত হয়ে শিশুটি ঢাকায় মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে বরিশালে ১ জন, ঢাকায় ৫, খুলনায় ১, ময়মনসিংহে ১, রাজশাহীতে ২ জন ও সিলেটে ১ জন মারা গেছে।

এর আগে ৪ মে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

আজ বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২৭৯ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৫৭ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩১ হাজার ৯১২ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ২৮ হাজার ২৩৮ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৬ হাজার ২০৮ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে আছে ৩টি জিপ, ১০০ টহল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস।

এসব গাড়ি কিনতে খরচ হবে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। গাড়িগুলো সরবরাহ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রস্তাব উপস্থাপন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি জিপ হবে ২ হাজার ৫০০ সিসির। একেকটির বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকার মতো। আর প্যাট্রল জিপের বর্তমান বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের বাজারমূল্য ৪৮ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ পরিপত্র জারি করে সব ধরনের যানবাহন কেনা বন্ধ রেখেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গত ২৬ জানুয়ারি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব গাড়ি সরাসরি কেনার জন্য নীতিগত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল।

বিভিন্ন সময়ে র‍্যাবের কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে প্রথমে গাড়ি কেনার প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। আর আজ বিএনপি সরকার তা কেনার সিদ্ধান্ত দেয়।

‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৬৩টি গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে বলে জানা গেছে।

প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৮ সালে। তখন প্রকল্প মেয়াদে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ২০৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ইতিমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম কেনাও হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধারণা, ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালির অবরোধ ও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আপনারা যখন চলমান ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখবেন তখন বুঝতে পারবেন খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে এসব করছি। আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্র বানানোর অনুমতি দিতে পারি না।’

রয়টার্সের খবর অনুসারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, আমি মনে করি বেশির ভাগ মানুষ বিষয়টি বুঝতে পেরেছে। তাঁরা বুঝতে পেরেছে আমরা যা করছি তা সঠিক। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

দেশের ৬ জেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সবাই কৃষক ও শ্রমিক। যারা মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করছিলেন। এসব ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

বুধবার (৬ মে) দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে নওগাঁ, জামালপুর, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম, ময়মনসিংহ ও নাটোরে বজ্রপাতের এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নওগাঁয় ৩ জন, জামালপুরে ১ জন, লালমনিরহাটে ১ জন, কুড়িগ্রাম ১ জন, ময়মনসিংহে ১ জন ও নাটোরে ১ জন।

নওগাঁ: নওগাঁর পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুই কৃষকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে জেলার নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নিয়ামতপুর উপজেলার রামনগর এলাকার অনুকূল চন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জুয়েল এবং মহাদেবপুর উপজেলার কুড়াপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র বর্মণ।

স্থানীয়রা জানান, নিয়ামতপুরের রামনগর এলাকায় মাঠে ধান কাটছিলেন অনুকূল চন্দ্র। একই সময়ে পাশের খাসের হাট উঠাপাড়া গ্রামে ধান কাটার কাজ করছিলেন শ্রমিক জুয়েল। বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে মহাদেবপুরের কুড়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান দিলীপ চন্দ্র বর্মণ। এসব ঘটনায় আরও দুজন মারাত্মক জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

জামালপুর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ভুট্টাখেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সোহেল মিয়া (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, বিকেল ৪টার দিকে নিজ খেতে ভুট্টা তুলছিলেন সোহেল। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ জহুরুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ভুট্টাখেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মো. ইউসুফ আলী (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ইউসুফ ওই এলাকার বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের জনক।

বুধবার দুপুরে উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ ভোটমারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ। বৃষ্টি শুরু হলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভোটমারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় নিজ জমিতে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে মো. ওবাইদুল নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ওবাইদুল উপজেলার বদিজামালপুর গ্রামের মো. আব্দুল হকের ছেলে।

দুপুরে জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। একপর্যায়ে আকস্মিক বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হীল জামান কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ময়মনসিংহ: নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে।

বুধবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশে বজ্রসহ বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি ছিটকে পড়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

নাটোর: লালপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম আজিজ মণ্ডল। বিকেলে উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওগাঁড়া সুলতানপুর চর এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন আজিজ মণ্ডল। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীরের বাম পাশের বড় অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

লালপুর থানার (ওসি) শফিকুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত মাসে প্রথম ধাপে ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় টিকা দেওয়া হয়েছিল। এক মাস পর দেখা গেছে, এসব উপজেলায় হামের সংক্রমণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে ‘হাম-রুবেলা টিকা কার্যক্রম ২০২৬ পর্যালোচনা এবং সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

বৈঠকের উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশজুড়ে চলমান হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের সফলতার হার ৯৩ শতাংশ। তবে সংক্রমণ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকাদানে অন্তত ৯৫ শতাংশ কাভারেজ নিশ্চিত করা জরুরি।

ইউনিসেফ ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের সংক্রমণের বিপদটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যারা মাঠে কাজ করেছে তারাই এর ভয়াবহতা টের পেয়েছে।

সময়মতো ভেন্টিলেটর সহযোগিতা দেওয়ায় বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এগুলো না পাওয়া গেলে মৃত্যুহার আরও বেশি হতো। আগামী দুই–এক দিনের মধ্যে আরও ১০টি ভেন্টিলেটর পাওয়া যাবে।

স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তহবিলে দশটা টাকাও রেখে যাননি খরচ করার মতো। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা দেশে এসেছে। ভবিষ্যতে টিকার আর কোনো সংকট তৈরি হবে না। ১০ মের মধ্যে হামসহ ১০ ধরনের ১ কোটি ৮ লাখ ডোজ টিকা দেশে আসবে।

আক্রান্তদের ৬৫ শতাংশ টিকা পায়নি

আলোচনায় মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ। উপস্থাপনায় বলা হয়, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা হয়। তিন ধাপে পরিচালিত এই কর্মসূচি প্রথমে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভা ও উপজেলা, পরে বড় সিটি করপোরেশন এবং শেষে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। বর্তমানে ক্যাম্পেইনের সাফল্যের হার ৯৩ শতাংশ, যা ১০০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ধাপে টিকা পাওয়া ৩০ উপজেলায় সংক্রমণ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল হামের সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো বরগুনা সদর ও পৌরসভা; পাবনা সদর, পৌরসভা, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর সদর, পৌরসভা ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও পৌরসভা, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট; নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, তারাকান্দা ও শ্রীনগর; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর সদর ও পৌরসভা; নাটোর সদর; মুন্সিগঞ্জ সদর ও পৌরসভা, লৌহজং; মাদারীপুর সদর ও পৌরসভা; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি ও শরীয়তপুরের জাজিরা।

হামের সংক্রমণের বিপদটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। যারা মাঠে কাজ করেছে, তারাই এর ভয়াবহতা টের পেয়েছে।সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী

১২ এপ্রিল ঢাকা মহানগর উত্তর–দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু হয়। আর ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে শুরু হয় হামের টিকাদান কর্মসূচি। তবে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) নিয়ে চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয় উপস্থাপনায়। সেখানে বলা হয়, সংক্রমণ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ টিকা কাভারেজ প্রয়োজন। তবে টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের হার তুলনামূলক কম।

হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি, আর ২১ শতাংশ আংশিক টিকাপ্রাপ্ত।

অপুষ্টিও কারণ

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই ৯ মাসের কম বয়সী। বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারণ, ছয় মাস বয়সের পর শিশুদের মায়ের কাছ থেকে অ্যান্টিবডি পাওয়ার কথা। শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পেলেও তাতে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ বা অন্যান্য অ্যান্টিবডি থাকছে কি না, তা জরুরিভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

জিয়াউদ্দিন হায়দার মনে করেন, দেশে হাম সন্দেহে মৃত্যুর প্রায় শতভাগ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছিল। তাঁর মতে, কেবল টিকাদান কর্মসূচি হাম প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী ২৪ শতাংশ শিশু অপুষ্টির শিকার। তাই শিশুদের পুষ্টির বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

নিয়মিত টিকাদানে জোর

বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ভবিষ্যতে কেবল ক্যাম্পেইননির্ভর না হয়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করে পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো একসঙ্গে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, স্কুলভিত্তিক টিকাদান ব্যবস্থার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সময় টিকা কার্ড যাচাই করলে বাদ পড়া শিশুদের সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে টিকার কোনো ঘাটতি না হয়।

দেশে টিকা উৎপাদনের তাগিদ

টিকাদানের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানকারী কারিগরি কমিটি ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি গ্রুপের চেয়ারপারসন ফিরদৌসী কাদরী বলেন, টিকার জন্য আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশে মানসম্মত উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণ গবেষণাগারকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর জোর দেন তিনি।

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সহকারী পরিচালক হাসানুল মাহমুদ টিকাদান কর্মসূচির বিবর্তন এবং বর্তমান সক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইপিআই বর্তমানে ১২টি রোগ মোকাবিলায় টিকা প্রদান করছে। জেলা পর্যায়ে তিন মাসের এবং উপজেলা পর্যায়ে এক মাসের টিকার মজুত রাখার সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত টিকার মজুত কোল্ড চেইন বজায় রেখে সংরক্ষণ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার (টিকাদান) চিরঞ্জিত দাস বলেন, মানসম্পন্ন ক্যাম্পেইন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএইচও। নজরদারি থেকে প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত নিয়মিত সরকারের কাছে তুলে ধরা হয়। যাতে বিদ্যমান হামের প্রাদুর্ভাব কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকাদান চললেও কিছু শিশু বাদ পড়ছে, যা বড় চ্যালেঞ্জ। তাদের শনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম সাইফুল ইসলাম বলেন, টিকা সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ঠিকভাবে বজায় না রাখলে অনেক সময় টিকা অকার্যকর (ইনভ্যালিড ডোজ) হয়ে যায়। এ জন্য ডিজিটাল তদারকি জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

কখন হাসপাতালে যেতে হবে

শিশুবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হামে আক্রান্ত সব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। তবে শ্বাসকষ্ট, খাবার গ্রহণে অক্ষমতা, অতিরিক্ত বমি বা পানিশূন্যতা, খিঁচুনি কিংবা চোখ-মুখে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। তিনি জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাম ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) আবু আহম্মাদ আল মামুন,বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল। এতে পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের প্রেস স্পেশালিস্ট রিকি সালমিনা। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক ফিরোজ চৌধুরী।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে সরকার কঠোর অবস্থান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

বুধবার (৬ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সরকারের এ অবস্থানের কথা জানান তিনি। 

জেলাপ্রশাসক সম্মেলন ২০২৬ এর চতুর্থ দিনের তৃতীয় অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত আলোচনা শেষে এ ব্রিফিং-এ মন্ত্রী বলেন, সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। 

তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে প্রাক-নির্বাচনি সময়ে যেসব লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র জমা প্রদান করতে বলা হয়েছিল জনসাধারণকে, সেই অস্ত্রগুলো এখনো ফেরত প্রদান করা হয়নি। সেই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে যাতে যথাশিগগির সেগুলো ফেরত প্রদান করা হয়। 

চিঠিতে নিম্নলিখিত ৩ ক্যাটাগরিতে আগ্নেয়াস্ত্র ফেরত প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: 

১. ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারির পূর্বের লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র
২. ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পর লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র 
৩. ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি হতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় ইস্যুকৃত লাইসেন্সসমূহ যাচাই-বাছাই এর লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে গঠিত কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই অন্তে যে সকল লাইসেন্স নীতিমালা মোতাবেক ইস্যু হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হবে সে সকল লাইসেন্সভুক্ত আগ্নেয়াস্ত্র।

মন্ত্রী আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জমা না দেওয়া প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান, মামলা ও বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে দায়েরকৃত ‘গায়েবি’ ও ভুয়া মামলা নিরসনে সরকার কাজ করছে বলে মন্ত্রী জানান। 

তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ভুয়া, হয়রানিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাগুলো যাচাই করবে। ভুক্তভোগীরা নির্ধারিত ফরমে চার্জশিট বা এজাহারসহ আবেদন করতে পারবেন। প্রাথমিক যাচাই শেষে সুপারিশসমূহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। সিআরপিসি (CrPC) ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী আইনগতভাবে এসব মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৫ আগস্ট পরবর্তী গণহত্যামূলক মামলাগুলোতে যাতে নিরপরাধ কেউ বা কোনো সাংবাদিক অযথা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আযহা নিরাপদ করতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সড়ক-মহাসড়কের উপর ও রেলপথের পাশে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। বড় হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে এবং পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা নিয়ে টহল দিবে। 

তিনি জানান, ঈদের সাত দিন আগে পুলিশ সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল স্থাপন করা হবে। মহাসড়কগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

তিনি আরও জানান, ফেরিঘাটগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক সাইনবোর্ডের ব্যবস্থা করা হবে।

চামড়া শিল্প রক্ষায় সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ করা হবে যাতে তৃণমূল পর্যায়েই সাত দিন পর্যন্ত চামড়া সংরক্ষণ করা যায়। ঢাকার ইটিপি (ETP) সিস্টেমের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় চামড়াগুলো যাতে সাত দিন পর ক্রমান্বয়ে ঢাকার দিকে আনা হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে জেলাপ্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুশব্যাকের আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে। 

এছাড়া মাদক, জুয়া এবং অনলাইন বেটিং-এর বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, এ বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চলবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি শপথ গ্রহণ করেছেন। বুধবার (৬ মে) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। 

সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় স্পীকারের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নিয়ম অনুযায়ী তিনি সংসদ সচিবের কক্ষে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

শপথ অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পীকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,  বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল ও জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ৫ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পীকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে শপথ পাঠ করান।

 

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমন কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সংলাপের আয়োজক ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)। সংলাপে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা (বিনিয়োগকারীরা) বলছেন, এখানে সরকারের যে সংস্থাগুলো আছে, সেগুলো খুব ধীরগতিতে চলে। তাঁরা (বিনিয়োগকারীরা) যে গতিতে কোনো ইস্যুর সমাধান চান, তা পান না। এতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়। তাঁরা হতাশ হয়ে যান। এটা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা অন্যতম প্রধান সমস্যা।

এখানে ব্যবসা–বিনিয়োগের পরিবেশ খুব ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কারণে বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষেত্রে হতাশ হন। সরকার সেই সব বিষয় ঠিক করার চেষ্টা করছে। আমলাতন্ত্রকে ঠিক করা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক কর্মসূচিগুলো মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস–তেল অনুসন্ধানের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক যে সমস্যাগুলো ছিল, তা পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখন ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।
বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এই সমস্যারও সমাধান করতে চায়।

ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে তুচ্ছজ্ঞান করে দেশটিকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের উচিত ‘আত্মসমর্পণের সাদা পতাকা’ ওড়ানো, কিন্তু আত্মসম্মানে লাগার কারণে তারা তা করছে না।

গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি এখন এতটাই হ্রাস পেয়েছে যে তারা শুধু ‘পি-শুটার’ (ছোট খেলনা বন্দুকের মতো অস্ত্র) দিয়ে গুলি চালানোর অবস্থায় আছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তেহরান প্রকাশ্যে যুদ্ধের হুঙ্কার দিলেও গোপনে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘তারা এখন শুধু লোক দেখানো খেলা খেলছে। তবে আমি আপনাদের বলছি, তারা প্রকৃতপক্ষে একটি চুক্তি করতে চায়। যখন নিজের সামরিক শক্তি পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন কেই–বা চুক্তি করতে চাইবে না?’

এ সময় ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি এ অবরোধকে ইস্পাতের দেয়ালের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, ‘এটি একটি ইস্পাতের খণ্ডের মতো মজবুত। কেউ এই অবরোধ ভাঙার সাহস দেখাবে না। আমি মনে করি, এটি খুব কার্যকরভাবে কাজ করছে।’

কোন ধরনের পদক্ষেপ নিলে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে ধরা হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘সেটি আপনারা (সময় হলে) জানতে পারবেন। কারণ, আমিই আপনাদের তা জানাব। তারা ভালো করেই জানে তাদের কী করা উচিত নয়।’

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘ইরানের উচিত আত্মসমর্পণের সাদা পতাকাটি বাঁচিয়ে রাখা (তুলে রাখা)। এটি যদি সাধারণ কোনো লড়াই হতো, তবে তারা অনেক আগেই তা থামিয়ে দিত।’

তথ্যসূত্র: রয়টার্স