আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনার প্রতিটি ধাপ থাকবে কঠোর নজরদারির আওতায় থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ডিজিটাল সেল ও পর্যবেক্ষণ টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

সানাউল্লাহ জানান, প্রবাসীদের ব্যালটে মোট ১১৯টি প্রতীক থাকায় গণনায় কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে। ব্যালট নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। লাইভ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক থাকায় জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু প্রিজাইডিং অফিসার কলম ব্যবহার করতে পারবেন। অন্য কর্মকর্তাদের জন্য থাকবে পেন্সিল। প্রতিটি আসনে ১০ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন।

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অর্থ লেনদেনে সীমা নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের আপ্যায়ন গ্রহণ না করার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অপতথ্য প্রতিরোধে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। পাশাপাশি বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও আহত ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখতে প্রতিটি জেলা ও কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বড় দল হোক বা ছোট দল, পক্ষপাতমূলক আচরণ সহ্য করা হবে না। যেখানে অনিয়ম পাওয়া যাবে, সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন, পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ও স্মৃতিমাখা মাসের দিন গণনা শুরু হলো। আজ থেকে বাজবে ভালোবাসা গানের সুর, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কি ভুলিতে পারি।’

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গ করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রভাষার দাবি বাঙালির প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙালি তার ভাষাভিত্তিক পরিচয় লাভ করে এ মাসে আত্মত্যাগের মাধ্যমে।

রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে যারা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাদের স্মৃতি স্মরণের মাস এ ফেব্রুয়ারি। বাঙালির কাছে এ মাস ভাষার মাস, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার মাস। তাই বাঙালি জাতি পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে ভালোবাসা জানায় ভাষাশহীদদের প্রতি।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এর মধ্য দিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়।

পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক সভায় বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়।’ কার্জন হলে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার কথা বলার পর কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে চিৎকার করে প্রতিবাদ করেছিলেন, যা জিন্নাহকে অপ্রস্তুত করেছিল। এ ঘটনার পর জিন্নাহকে একটি স্মারকলিপিও দিয়েছিল একদল ছাত্র। এতে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানানো হয়। সেই শুরু হয় রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন। দীর্ঘ এ আন্দোলন ১৯৪৭ থেকে চলতে থাকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত।

বাংলা ভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন ক্রমে দানা বেঁধে ওঠে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুসংখ্যক ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী মিলে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের কাছাকাছি এলে পুলিশ ১৪৪ ধারা অবমাননার অজুহাতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে নিহত হন সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকসহ নাম না জানা আরো অনেকে। তাদের এ আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাঙালি জাতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা।

 

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ ছুটি আরও বাড়লো। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এই উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) ও ৬-৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার-শনিবার) যথাক্রমে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকার কারণে কেবল এক দিনের ছুটি নিলে টানা চার দিনের বিশ্রাম পাওয়া যাবে।

এছাড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ও তার আগের দিন অর্থাৎ ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর পরবর্তী দুইদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার হওয়ায় এখানে আবারও টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ১১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সাধারণ ছুটি থাকবে। ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ছুটি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সরকারি ছুটি থাকবে যা পূর্বেই ঘোষণা করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন, হিন্দুদের জন্য ৯ দিন, খ্রিস্টানদের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন বিশেষ ছুটি থাকবে।

ফেব্রুয়ারিতে এই ছুটির সুবিধায় সরকারি কর্মচারীরা লম্বা সময় বিশ্রাম নিতে পারবে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোট গ্রহণের সুবিধার্থে সারাদেশে নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হলো। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণা। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে বারোটার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছান তিনি।

এদিকে, নির্বাচনী সমাবেশ ঘিরে গভীর রাত থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা জড়ো হন সমাবেশস্থলে। ভোর থেকে বাড়তে থাকে সমাগম। সিলেট জেলার ৬টি সংসদীয় আসন ও সুনামগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসন থেকে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন।

এর আগে, সকালে সিলেটের একটি হোটেলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগামী বাংলাদেশ এবং নিজের পরিকল্পনা নিয়ে 'ইয়ুথ পলিসি ডায়লগ'-এ তারেক রহমান বলেন, গত ২০ বছরে দেশে জনসংখ্যা যেই পরিমাণ বেড়েছে; আনুপাতিক হারে বাড়েনি নাগরিক সুবিধা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর বাধ্য হয়েই তাকে বিদেশে থাকতে হয়েছে। বলেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা কাজে লাগিয়ে দেশে বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া, দেশ গড়ার বিষয়ে নানা প্ল্যানের কথা জানান তিনি।

এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানুষের মৌলিক পরিবর্তনের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেন।

বিগতদিনে এমপি সাহেবেরা দুর্নীতি উপহার দিয়েছেন মন্তব্য করে রাঙামাটি-২৯৯নং আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেছেন, আমি দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবো। সব কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার আওতায় আনবো। সবক্ষেত্রে সুষম উন্নয়নের জন্য কাজ করবো।

 

তিনি বুধবার বিকালে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন। এরআগে সকালে তিনি ধানের শীষের প্রতীক নির্বাচন কমিশন থেকে বরাদ্দ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার পার্শ্ববর্তী জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় জিয়াউর রহমানের মাজারে জিয়ারতের পর তিনি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করবেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট দীপেন দেওয়ান বলেন, আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রাপ্তির আশায় ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনে আমি একজন পদপ্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করবো এবং নির্বাচিত হতে পারলে এই এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করবো। তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করবো এবং এক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। সম্প্রীতি ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো, দারিদ্র্য বিমোচন, পর্যটন, কর্মসংস্থান, নারী উন্নয়নসহ সব সেক্টরে উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়নের কাজ করবো। পার্বত্য চট্টগ্রামে যেসব সমস্যা রয়েছে নির্বাচিত হতে পারলে সেসব সমাধানে সকলের সাথে বসে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কাউকে বঞ্চিত করা হবে না।

 

 দীপেন দেওয়ান আরো বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বাংলাদেশে এখন খুবই জনপ্রিয়, পার্বত্যাঞ্চল তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা যেখানেই যাচ্ছি ভালো সাড়া পাচ্ছি। সাধারণ মানুষ আমাদেরকে গ্রহণ করছে। প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া দীপেন দেওয়ান বলেন, আমরা পাহাড়ি-বাঙালি এসব বিবেচনা করে রাজনীতি করি না। আমরা সকলকে নিয়ে রাজনীতি করি। আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। এখানে ভেদাভেদ করি না। আঞ্চলিক দল কে নির্বাচনে আসলো, আসলো না সেটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। যেহেতু আমরা জাতীয় রাজনীতি করি, তাই জাতীয় পরিচয় দিতে আমরা বিশ্বাসী। আঞ্চলিক দল কারো সাথে এলায়েন্স হয়েছে কিনা সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি তো একটা বড় দল, প্রশ্নই উঠে না। তবে যেহেতু আমি প্রার্থী তাই সবার সহযোগিতা এবং সকলের ভোট প্রত্যাশা করি।

তিনি বলেন, পাহাড়ের পরিস্থিতি এখনো শান্ত আছে, তবে কালকে কি হবে সেটা আমি বলতে পারবো না। সময়ের প্রেক্ষাপটে বলে দিবে অবৈধ অস্ত্র আছে কি নাই, অস্ত্র উদ্ধার হবে কি না। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আমরা কাজ করে যাবো। রাঙামাটির প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, সার্বিক উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে।

 

 স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমার ঘটনায় সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে দীপেন দেওয়ান বলেন, আমার ওপর হামলার আশঙ্কা করছি না, তবে হবে না সেটাও বলছি না, আমরা সতর্ক আছি।

 

 মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রাম শেষে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা নির্দলীয়-নিরপেক্ষ একটি সরকার পেয়েছি। ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, এবার মানুষ ভয়ডরহীনভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মনীষ দেওয়ান, সাবেক সাংসদ ও উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো, সদস্য সচিব এডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি সাইফুল ইসলাম পনির, মিডিয়ার কমিটির আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম শাকিল ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিক আহমেদ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটি চেয়ারপারসনের পদ শূন্য হয়েছে। তবে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। মূলত খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলের সাতদিনের শোক কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচি শেষে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের আগে চেয়ারম্যান পদ ব্যবহার করছেন না তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বিএনপি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ইন্তেকালের পর খালেদা জিয়া দলটির হাল ধরেন। রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আড়াই বছরের মধ্যে তিনি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। দলটির গঠনতন্ত্রের ৭ এর গ ধারায় দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্বের উপধারা ২ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সাময়িক অনুপস্থিতিতে তিনিই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চেয়ারম্যানের সমুদয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই ধারা অনুযায়ী তারেক রহমান ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। সেই থেকে তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটায় বিএনপির উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়। মিলাদ শেষে খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

পরিবারের সদস্য তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শার্মিলা রহমান-ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।

হলফনামায় দেয়া মামলার তথ্য সংক্রান্ত জটিলতায় কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আজাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে মনোনয়পত্র যাচাইবাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।

তার ঘণ্টাখানেক আগে তার প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আবার শুনানিতে মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেয়া হলফনামায় জামায়াতের এ নেতা তার বিরুদ্ধে ৭২টি মামলার তথ্য দেন। তার মধ্যে ৭০টিতে তিনি খালাস, অব্যাহতি কিংবা প্রত্যাহার হয়েছে মামলা।

বাকি দুই দুইটি মামলা বর্তমানে চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলা বিস্ফোরক দব্য আইনে ঢাকার সিএমএম আদালতে দায়ের হয়, যেটি হাইকোর্ট স্থগিত করেছে।

অপর মামলাটি আদালত অবমাননার; আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ দায়ের হওয়া এই মামলা আপিল বিভাগে বিচারাধীন এখন। এই মামলার উপযুক্ত নথিপত্র দেখাতে না পারায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।

রির্টানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়পত্র বাতিল হলেও এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

স্থানীয় জামায়াত নেতারা বলছেন, যথাযথ প্রমাণাদি জমা দিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে যাবেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। এ নিয়ে চিন্তার তেমন কিছু নেই।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেয়া হলফনামায় নিজের সম্পদ ও আয়ের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, সারজিস আলমের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১ লাখ টাকা। তার নামে দানকৃত কৃষিজমির পরিমাণ ১৬ দশমিক ৫০ শতক। অর্জনকালে ওই জমির আর্থিক মূল্য ছিল ৭ হাজার ৫০০ টাকা, যা বর্তমানে আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসা থেকে বছরে তার আয় ৯ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) উল্লেখ করেছেন।

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, সারজিস আলমের নামে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। তার নামে কোনো বন্ড, ঋণপত্র বা স্টক এক্সচেঞ্জভুক্ত শেয়ার নেই। আসবাবপত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। তার কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নেই। এছাড়া তার নামে কোনো বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ভবনও নেই।

২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে সারজিস আলম তার মোট আয় দেখিয়েছেন ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার মোট সম্পদের মূল্য ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৮ টাকা। এ খাতে তিনি ৫২ হাজার ৫০০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন।

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মরদেহের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ১৯৬ নম্বর বাসায় দলের নেতাকর্মী ও স্বজনরা খালেদা জিয়াকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার আগে বাংলাদেশের পতাকায় মোড়ানো একটি গাড়িতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে গুলশানের উদ্দেশ্যে বের করা হয় তার মরদেহ। 

পরে নেয়া হয় গুলশানের তারেক রহমানের বাসায়। সেখানে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

উল্লেখ্য, দুপুর ২টায়  জাতীয় সংসদ ভবন মাঠ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাজা পড়াবেন জাতীয় মসজিদের খতিব। এরপর সাড়ে তিনটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে জানাজা ও দাফনস্থলে কোনো ব্যাগ বা ভারী সামগ্রী বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঘর ছেড়ে এলেন রাজপথে। আপসকে দূরে টেলে দিয়ে বেছে নিলেন সংগ্রাম। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর জনসমাবেশ ছড়িয়ে দিলেন সারাদেশে। তারপর জনতার রায়ে গেলেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পাশে সংসদ ভবনে। সেখানে থেকে বিশ্ব দরবারে নিজেকে চেনানোর প্রচেষ্টা। সরকার ছেড়ে বিরোধী দল, বিরোধী দল থেকে আবার সরকারে।

তারপর ষড়যন্ত্র, এক-এগারো। আশির দশকের সংগ্রাম আবার শুরু... পথ চলায় হারায় বাড়ি-ঘর, ছোট ছেলেকে।

কারাগারে গিয়ে ধীরে ধীরে শরীরে দানা বাঁধতে শুরু করলো রোগ। কিন্তু তার যে আপসহীন ভূমিকা, মাথা নোয়াবার নয়! তাই তো নিজের পথে ছিলেন অবিচল, করেননি আপস। আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

তবে শরীর যে মানে না! লড়াই চালিয়ে যান নিজের সাথে। পরিবার, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সুস্থ করে তোলার।

চলতি বছরের একদম শুরুতেই গেলেন বিলেতে। চিকিৎসা নিয়ে সেখানে থাকতে পারতেন পরিবারের সান্নিধ্যে। কিন্তু দেশকেই বেছে নিলেন। একাই থাকবেন, তবুও দেশের মাটিতে।

দেশে ফেরার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের বলেছিলেন, ভাইয়াকে (তারেক রহমান) দেখে রাখতে।

বারবার বলছিলেন, ছেলে তারেক রহমানকে দেখে রাখতে। এ যেন তিনি বুঝতে পারছিলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, নিজে আর ছেলেকে আগলে রাখতে পারবেন না। দলের নেতাকর্মীদেরকেই দিলেন সেই দায়িত্ব।

এই অনুরোধ করে ফিরলেন দেশে। কারণ, তিনি তো জাতিকে বলেছিলেন, 'আমি দেশ ছেড়ে, দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। দেশের বাইরে আমার কিছু নেই, কোনো ঠিকানাও নেই।'

এক-এগারো থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া তার কথা রেখেছেন। এমনকি দেশে ফ্যাসিস্টমুক্ত হওয়ার পরেও। সুযোগ ছিল বিদেশে গিয়ে জীবন কাটানোর, কিন্তু সেই পথ বেছে নেননি। গোটা দেশ দেখলো তা। জাতিও বিনিময়ে ভালোবাসা দিতে ভোলেননি।

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায়ে সারাদেশ থেকে ছুটে আসে মানুষ। সংসদ ভবন এলাকা পেরিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে শাহবাগ-বিজয় সরণি-আগারগাঁও-শ্যামলী-নিউমার্কেট এলাকা পৌঁছে যায় জনতার স্রোত।

জানাজাস্থল থেকে যতদূর চোখ যায়, দেখা মেলে মানুষ আর মানুষ।

জীবনের শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসনের পরিচয় ছাপিয়ে গেছেন, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় মানুষের এই জনস্রোত। একজন রাজনীতিবিদের জীবন কতটা বর্ণাঢ্য হলে এতটা ভালোবাসা মেলে, তার উত্তর উপস্থিত মানুষের মাঝেই রয়েছে। তাদের অনেকেরই চোখ ছিল অশ্রুসজল। 

বাংলাদেশের নেতা খালেদা জিয়াকে স্বয়ং প্রকৃতিও বিদায় জানিয়েছে। গেলো কয়েকদিনের কনকনে ঠান্ডা দূর করে মিষ্টি রোদ ওঠে নগরীতে। তাতে কিছুটা স্বস্তি পায় আগত জনতা।

জনতার এই স্রোত থামেনি দুপুর দুইটায়-ও, যে সময় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে জানাজা শুরু হতে বিলম্বও হয় কিছুটা।

ঘড়ির কাটায় যখন ২টা ৪৫ মিনিট, জানাজাস্থলে খালেদা জিয়ার কফিন পৌঁছায়। কফিনজুড়ে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। তার আগে হাসপাতাল থেকে গুলশানে তারেক রহমানের বাসা, সেখান থেকে সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার মরদেহ আনা হয়।

কফিন পৌঁছার পর দলের পক্ষ থেকে শুরুতে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের গল্প তুলে ধরেন।

এরপর ২টা ৫৮ মিনিটে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন তারেক রহমান। মা হারানো তারেক স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন আবেগাপ্লুত, শোকে মূহ্যমান। তিনি কোনও ধরনের ভূমিকায় যাননি বক্তৃতায়।

স্বজন হারিয়ে বাংলার আট-দশটি সাধারণ পরিবারের সন্তানের মতোই শোনা গেলো তার কণ্ঠ।

‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনেরা, মরহুমা যদি কারও কাছ থেকে কোনও ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন, আমি পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।

খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন উনার কোনও ব্যবহারে অথবা কোনও কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তার জন্য দোয়া করবেন।’

এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

লাখ-লাখ মানুষের এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক জানানোর পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।

দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিই বলে দেয়, খালেদা জিয়া বিএনপির নেত্রী নন, এই জাতি-রাষ্ট্রেরই নেতা।

জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর তোপধ্বনির মাধ্যমে গান স্যালুট প্রদর্শন করে সম্মাননা জানানো হয়। সরকার, তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা জানান।

নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাধিস্থলে সীমিত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। তবে বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন ফেরার সময় কবর জেয়ারত করে যেতে। বাংলার এই মানুষ বলে দিচ্ছেন খালেদা জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তাদের মানসপটে। তিনি থাকবেন বাংলার ধানের শীষে মিশে। যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা, রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প, দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাওয়ের স্লোগান।