নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তার এড়াতে ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছিলেন। শেষ পর্যন্ত গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪–এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মামলার পর ওই শিক্ষক গাজীপুর, টঙ্গী ও পরে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

বিষয়টি নিয়ে আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাব-১৪ প্রধান কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। মুঠোফোনও ব্যবহার করছিলেন না। গোয়েন্দা নজরদারিতে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার পর গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়র বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাবের ওই কর্মকর্তা জানান, তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। তাঁকে আজ দুপুরে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুলিশ প্রয়োজনে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

শিশুটির আত্মীয়স্বজন, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন।

পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে গতকাল মঙ্গলবার ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

এদিকে শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে ওই শিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক বিভিন্ন হুমকি পাচ্ছেন এবং তাঁকে নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নজরে আনা হলে র‍্যাব অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সামনে নিয়ে আসা চিকিৎসক নানাভাবে হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমারা অবগত আছি। তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছি। আমরা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এ ছাড়া একটি ডিএনএ রিপোর্ট নিয়ে যে তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে, সেটি সঠিক নয়।’

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার ঘটনায় করা মামলার আসামি মাদ্রাসার শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে র‍্যাব-১৪–এর একটি দল তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৪ মিডিয়ার দায়িত্বে থাকা কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সামসুজ্জামান। তিনি জানান, এ বিষয়ে আজ বুধবার দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহ আকুয়া বাইপাস এলাকায় র‍্যাবের ব্যাটালিয়ন সদরে প্রেসব্রিফিং করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা, এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষক চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে সেখানে লেখাপড়া করত। শিশুটির বাবা তার মাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় জীবিকার তাগিদে মা সিলেটে একটি বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন।

সম্প্রতি শিশুটি অসুস্থ বোধ করছিল এবং তার মধ্যে শারীরিক পরিবর্তন দেখা যায়। পরে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর থেকে আসামি মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এর মধ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে গতকাল ওই শিক্ষকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ পাঁচ হাজার মেগাওয়াট উন্নীত করার জন্য অফিসের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত কার্য-অধিবেশন শেষে একথা বলেন তিনি।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, অতি দ্রুত সোলারের মাধ্যমে আমাদের পাঁচ বছরে মিনিমাম পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্ল্যান আছে। সেটা বাস্তবায়নের জন্য ডিসি সাহেবদের প্রত্যেকটা অফিসে ও জেলার প্রত্যেকটা অফিসের রুফটপে (ছাদে সোলার প্যানেল) লাগানোর জন্য বলা হয়েছে।

‘আমাদের ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকেও ডিসিদেরকে যা অর্থ দরকার, অর্থের জোগান দিয়েছে। তাদেরকে অতি দ্রুত দুই মাস, তিন মাসের মধ্যে এটা শেষ করার জন্য অনুরোধ করেছি।’

তিনি বলেন, আশা করি তারা সেই কাজটা দ্রুতেই হাতে নেবে, আর তা শুরু করতে পারলে আমাদের বিদ্যুতের অনেক সাশ্রয় হবে। ডিসি সম্মেলনে আমরা আমাদের জ্বালানি এবং বিদ্যুতের যে পরিস্থিতি সেটা তুলে ধরলাম।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, কিছুদিন আগে যে একটি কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেখানে জেলা প্রশাসকরা প্রো-অ্যাকটিভ রোল প্লে করেছে। তাদের সহযোগিতায় আমরা সেই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পেরেছি। সেজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছি, আমাদের বিদ্যুৎ এবং জ্বালানির যে পরিস্থিতি, সেটার সম্বন্ধে তাদের অবহিত করেছি ও বলেছি, এই ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ৩৮টি রিপোর্টে স্থান পেয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ডের’ দুর্নীতির প্রতিবেদন। 

২০১৯ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক ভবনে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতি সামনে আসে। প্রতিটি বালিশ কেনায় ৫,৯৫৭ টাকা এবং তা ওপরে তোলার খরচসহ অন্যান্য সামগ্রীতে কোটি টাকার জালিয়াতি হয়।

প্রধানমন্ত্রী প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন, সেখানে বালিশ কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে।’

প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।

মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে কাছে ২০২১-২২ অর্থ বছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম।

‘বালিশ কাণ্ড’ দুর্নীতির ওই প্রকল্পে আবাসিক ভবনের জন্য ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় পদে পদে দুর্নীতি হয়। সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। 

যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। এর বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।

অডিট রিপোর্ট পেশকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।

 

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবারও ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৩ মে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। এবারও শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হবে।

ঈদুল আজহা উদ্যাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী, ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে যাত্রার টিকিট। একইভাবে ১৪, ১৫ ১৬ ও ১৭ মে যথাক্রমে ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মের টিকিট পাওয়া যাবে। ঈদ শেষে ট্রেনের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২১ মে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, প্রস্তুতি সভায় ১৩ মে থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে ৩০ এপ্রিল ঈদ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করা হয়। ওই বৈঠকে অগ্রিম টিকিট বিক্রির যে পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছিল, গতকালের বৈঠকে তা উপস্থাপন করা হয়। আলোচনার পর সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিগত ঈদের মতো এবারও প্রতিদিন সকাল আটটা থেকে রেলের পশ্চিমাঞ্চলের (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে। আর বেলা দুইটায় পূর্বাঞ্চলের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ) ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

টিকিট বিক্রি–সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদে অগ্রিম ও ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে একজন যাত্রী দিনে একবার সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। এসব টিকিট ফেরত দেওয়া যাবে না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য যাত্রার দিন ট্রেনের মোট আসনের ২৫ শতাংশ দাঁড়িয়ে (স্ট্যান্ডিং) যাওয়ার টিকিট বিক্রি হবে। তবে এই টিকিট দিয়ে উচ্চ শ্রেণির কোচে যাতায়াত করা যাবে না।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ঈদ উপলক্ষে এবার ১০টি বিশেষ যাত্রীবাহী ট্রেন চালানো হবে। এই ট্রেনগুলোর মধ্যে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে চলবে ‘তিস্তা স্পেশাল’ এবং চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চলবে ‘চাঁদপুর স্পেশাল’। এ দুটি ট্রেন ২৫ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এবং ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন চলাচল করবে।

এ ছাড়া ঈদের আগে ২৪ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিন দিন এবং ঈদের পর আরও তিন দিন জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে ‘পার্বতীপুর স্পেশাল’ চলবে। অন্য চারটি বিশেষ ট্রেন শুধু ঈদের দিন চলবে। এসব ট্রেন ভৈরব ও ময়মনসিংহ থেকে শোলাকিয়ার ঈদগাহর উদ্দেশে যাত্রী পরিবহন করবে।

এর পাশাপাশি কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য থাকবে পশুবাহী দুটি বিশেষ ট্রেন (ক্যাটল স্পেশাল)। এই ক্যাটল ট্রেন দুটি ২২ ও ২৩ মে চলাচল করবে। ট্রেন দুটি দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ছেড়ে কমলাপুর, তেজগাঁও ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে আসবে।

রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাঁড়াশি অভিযানে গতকাল সোমবার ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী মিলে যে ১৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ রয়েছেন ৩৫ জন। তালিকার বাইরে ৪৮ জনকে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৪ জনকে। এ ছাড়া ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী ১ মে থেকে গতকাল ৪ মে পর্যন্ত চার দিনে বিশেষ অভিযানে ৪৭৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ১ মে থেকে রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা ধরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে ডিএমপি চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে। অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া ও মহানগরীকে আরও নিরাপদ করতে এ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) চলচ্চিত্র নির্মাণে সৃজনশীল তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে ‘বানাই: এআই ফিল্মমেকিং কমপিটিশন’ শীর্ষক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) পরিচালিত গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের গবেষণা শাখা ব্রেনল্যাব।

‘লোকালাইজিং ভিজ্যুয়াল মডেলস’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে এআই দিয়ে তৈরি দুই থেকে পাঁচ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র জমা দিতে হবে। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিসিসির গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ভাষা, প্রকৃতি ও সমসাময়িক বাস্তবতাকে আরও প্রাসঙ্গিক ও বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান বিজয়ীদের যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা, ২৫ হাজার টাকা, ১৫ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু তা–ই নয়, সেরা চলচ্চিত্রগুলোর প্রিমিয়ার প্রদর্শনী ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শন করা হবে।

ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ৩১ মে পর্যন্ত চলবে। আগ্রহীদের অবশ্যই নিজেদের তৈরি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে গল্প, ভিজ্যুয়াল, শব্দ বা সম্পাদনার মতো সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র তৈরিতে এআই ব্যবহারের তথ্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করতে হবে। এই ঠিকানায় প্রবেশ করে প্রতিযোগিতার জন্য নিবন্ধন করা যাবে।

এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিনির্ভর সৃজনশীল শিল্পচর্চার প্রসার ঘটবে এবং নতুন প্রজন্মের নির্মাতারা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশকেন্দ্রিক গল্প বলার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে প্রতিযোগিতার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

অতিবৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে জেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে সহায়তা তুলে দিয়ে তিন মাসব্যাপী সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা দুর্নীতিমুক্ত ও নির্ভুলভাবে করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হাওরের এই অবস্থায় প্রথম দিন থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন, আমরা যেন প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে পারি।

ত্রাণমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এজন্য হাওরে আর ঠিকাদার পোষা, আর এদিক-ওদিক করার প্রকল্প হবে না। হাওরকে নিরাপদ উৎপাদনের ক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করা হবে।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে কাজ করতে হবে। আগামী দিনগুলোতে যাতে এমন দুর্যোগ না হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।

বিভাগীয় কমিশনার আপ্তাবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সুনামগঞ্জের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সমর কুমার পালের সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, বিএনপি নেতা আকবর আলী ও অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বক্তব্য দেন।

পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে অতিথিরা উপজেলার খরচার হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাত সহায়তা তুলে দেন।

 

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এতে বাংলাদেশের ওপরই বেশি শর্ত আরোপ হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানালেও সমালোচনা করার আগে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের চুক্তিগুলো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তাঁর এমন পরামর্শ আসে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) সই করে বাংলাদেশ। বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে এই চুক্তির আলোচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

এই চুক্তিতে বাংলাদশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত রয়েছে।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ১৩১টাতে “শ্যাল” বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এই রকম “শ্যাল” বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।’

চুক্তি নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই...আমি বলব, আপনারা সবাই মিলে সেটি দেখেন। তূলনামূলক দেখেন, আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি।’

চুক্তি নিয়ে করা আরেক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘এই আলোচনাটা ওইভাবে হওয়া উচিত, কারণ যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে, তোমাদেরকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, যেমন আমাদের ৩৯% বা ৩৭%। অন্যান্য সব দেশকে দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, ভিয়েতনাম। আমরা ১৯ পেয়েছি। এখন কে কী, সবারই কিন্তু এই অ্যাগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে পাওয়া যাচ্ছে।

‘আপনারা বাংলাদেশের অ্যাগ্রিমেন্ট অন্যান্য দেশের অ্যাগ্রিমেন্টের সঙ্গে তুলনা করে পড়েন, তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি; পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি, অন্যরাও কী চুক্তি করেছে, অন্যদের ‘পারচেজ কমিটমেন্ট’ কত, আমাদের ‘পারচেজ কমিটমেন্ট’ কত, সব মিলিয়ে দেখেন।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার বিকেলে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যান। যাওয়ার আগে দুপুরে চীন সফরের উদ্দেশ্য, ভারতের সঙ্গে ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বন্ধু দেশ, যার সঙ্গে আমাদের ‘স্ট্রাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ’ পর্যায়ে আমাদের সম্পর্ক। এবং আমাদের নতুন সরকারের তরফ থেকে এটা হচ্ছে চীনে প্রথম সফর। তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং এই সফরে আমরা আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দ্রুত এবং আরও গভীর এবং ব্যাপ্ত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

তিস্তা নিয়ে ভারতের জন্য ‘বসে থাকব না’

চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোনো আলোচনা হবে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘অবশ্যই আলোচনা হবে। এটা আমাদের ওই অঞ্চলের মানুষের মরণ-বাঁচনের বিষয়। তারা ডাক দিয়েছে “জাগো বাহে”। সেই ডাকে যদি আমরা সাড়া না দিই, তাহলে আমরা পড়ে আছি কেন? এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার, সেই অঞ্চলের সমস্যা সুরাহা করার এবং এটা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। এই অঙ্গীকার আমরা পূরণ করব এবং চীন সফরে এই বিষয়টা আমরা নিশ্চয়ই আলোচনা করব।’

ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে প্রায় দেড় দশক ধরে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির কারণে চুক্তিটি করা যাচ্ছে না বলে ভারতের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়ে আসছে। এবারের বিধানসভার নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় হয়েছে।

এতে তিস্তা চুক্তির সুরাহা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং তারা কী ভাবছে, কী করবে, সেটা তারা যদি না জানায়, তাদের মাইন্ড রিড করার কাজ আমার না। তবে প্রত্যাশা থাকবে, যাতে করে এই চুক্তিটা যেটা হয়েছিল তখন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা আমরা কনসিডার করতে পারি কি না। কিন্তু সে জন্য তো বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে।’

চীনের প্রকল্প এবং ভারতের সঙ্গে পানিবণ্টন চুক্তি দুটি ভিন্ন বিষয়কে এক করে দেখা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা যেটা হচ্ছে, তিস্তাপারের মানুষের একটা বড় ধরনের ‘ইকোলজিক্যাল’ বিপর্যয়ের মধ্যে তারা আছে, এটা তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়। আমরা যেভাবে পারি, যে কয়টা উপায় আছে, সবগুলো উপায় আমরা অনুসন্ধান করব। যেটা সর্বোত্তম, সেটাই আমরা দেব। এখানে সবচেয়ে বড় বিচার্য বিষয় হচ্ছে, আমাদের মানুষের ইন্টারেস্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ বিদ্বেষী বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরে সাংবাদিকেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এখন আসামের পর পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি ক্ষমতায় আসায় বাংলাদেশে ‘পুশ–ইন’ বাড়বে বলে মনে করেন কি না?

জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘যখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী এ কথাটি বলেছিলেন, স্বীকার করেছিলেন তিনি কিছু কাজ করেছেন, আপনারা দেখেছেন আমরা সেটাকে কড়া প্রতিবাদ দিয়েছি। সে বিষয়ে আমাদের যা যা ব্যবস্থা আমরা নেব।’

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৬টি বিভাগে এই চার ক্যাটাগরির পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে পদসংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনের শেষ তারিখ ১০ মে।

চাকরির বিবরণ

১. পদের নাম: অধ্যাপক

বিভাগ: কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা মাস্টার্স বা সমমানের ডিগ্রিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০–এর মধ্যে ৩.০০ থাকতে হবে।

কমপক্ষে ১১ বছরের শিক্ষকতা অথবা ১৪ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই এর মধ্যে কমপক্ষে আট বছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক বা তার ঊর্ধ্বতন পদে সক্রিয় শিক্ষকতা এবং অন্তত তিন বছর সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

২. পদের নাম: সহযোগী অধ্যাপক

বিভাগ: ১. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

২. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা মাস্টার্স বা সমমানের ডিগ্রিতে ন্যূনতম সিজিপিএ ৪.০০–এর মধ্যে ৩.০০ থাকতে হবে।

কমপক্ষে সাত বছরের শিক্ষকতা অথবা ৯ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই এর মধ্যে কমপক্ষে পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহকারী অধ্যাপক বা তার ঊর্ধ্বতন পদে সক্রিয় শিক্ষকতা এবং অন্তত তিন বছর সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত থাকার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৩. পদের নাম: সহকারী অধ্যাপক

বিভাগ: ১. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং

২. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

৩. ইংরেজি

৪. ফার্মেসি

৫. আইন ও মানবাধিকার

৬. বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন

৭. বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ (রসায়ন)

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। ব্যাচেলর ও মাস্টার্স উভয় ডিগ্রিতে ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.০০ বা সমমান থাকতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকলে তা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩. পদের নাম: প্রভাষক

বিভাগ: ১. আইন ও মানবাধিকার

২. ফার্মেসি

৩. কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং

৪. বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ (ইতিহাস)

৫. বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ (গণিত)

৬. বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ (সমাজবিজ্ঞান)

শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: প্রার্থীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রিতে ৪.০০ স্কেলে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে।

আবেদনের নিয়ম

ওয়েবসাইট থেকে আবেদন ফরম ডাউনলোড করে পূরণ করতে হবে। পূরণ করা আবেদন ফরম পিডিএফ ফরম্যাটে This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it. ঠিকানায় ই–মেইল করতে হবে।

বিষয় হিসেবে লিখতে হবে: ‘Application for [Position Name]’

আবেদনের শেষ তারিখ

১০ মে ২০২৬

এখন থেকে ইলেকট্রিক এবং হাইব্রিড গাড়ি কিনতে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন গ্রাহকেরা। অন্যদিকে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার ঋণসীমাও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ পাবেন। আজ বাংলাদেশ ব্যাংক এক নির্দেশনায় পরিবেশবান্ধব গাড়ি কেনায় এবং ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে ব্যাংকগুলো কত টাকা দিতে পারবে, সেই নতুন সীমা ঠিক করেছে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহনের চাহিদা ও ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া গাড়ির বাজারমূল্য বিবেচনায় এবং গ্রাহকদের ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহন কেনায় উৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গাড়ির ঋণ ৮০ লাখ টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণসীমা সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা। এটি হিসাব বিমাসহ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো একজন গ্রাহককে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘অটো লোন’ দিতে পারবে। কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল সদস্যদের অটো ঋণ দিলে তা ওই ব্যক্তির মোট ঋণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলছে, ‘অটো লোন’ দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থায়ন সুবিধা সর্বোচ্চ ৬০: ৪০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে প্রদান করতে হবে। তবে হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার জন্য অর্থায়ন সুবিধা সর্বোচ্চ ৮০: ২০ ঋণ-ইকুইটি অনুপাতে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ এক কোটি টাকার গাড়ির ক্ষেত্রের ব্যাংক গ্রাহককে ৬০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে। গ্রাহককে বাকি ৪০ লাখ টাকা দিতে হবে। তবে একই দামের হাইব্রিড বা ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ব্যাংক ৮০ লাখ টাকা দিতে পারবে, গ্রাহককে দিতে হবে ২০ লাখ টাকা।

সিটি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরুপ হায়দার বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও গাড়ির দামের বিবেচনায় ঋণ বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরিবেশবান্ধব বিবেচনায় ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবেশবান্ধব গাড়ির ঋণ বাড়বে। পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাড়ল ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কয়েক বছরে বাংলাদেশে ভোক্তা পণ্যের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ভোক্তার খরচ করার সামর্থ্য বাড়িয়েছে। বিদ্যমান বাজারমূল্য এবং ভোক্তাপণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে ভোক্তাঋণেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে। তবে ব্যাংকের জমা থাকা টাকার বিপরীতে দেওয়া ঋণ এই সীমার বাইরে থাকবে। আগে ব্যাংকগুলো ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারত।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে ভোক্তা অর্থায়ন (কনজ্যুমার ফাইন্যান্স) করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তা মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হার ব্যাংকের মোট ঋণের প্রবৃদ্ধির হারকে অতিক্রম না করে।

খুলনা নগরে রাজু হাওলাদার (৩৮) নামের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবার গুলি করার অভিযোগ উঠেছে।

আহত রাজু হাওলাদার লবণচরা থানার শিপইয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, ডাকাতিসহ একাধিক মামলা আছে। লবণচরা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার নগরের লবণচরা থানার কোবা মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন রাজু। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কখন ও কীভাবে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

রাজুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সময় অ্যাম্বুলেন্সটি রূপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় পৌঁছালে সেটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ বলেন, ‘লবণচরা থানার একটি পার্টি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় যাওয়ার পথে কুদির বটতলা এলাকায় কারা যেন অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে শুনেছি। পরে তারা আমাদের কাছে বিষয়টি জানিয়ে বাড়তি নিরাপত্তা চায়। আমরা পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে তাদের আমাদের থানা এলাকা পার করে দিই।’ তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। গুলি অ্যাম্বুলেন্সে লেগেছিল কি না, তাঁরা খতিয়ে দেখেননি। রাতের বেলা তারা শুধু সহায়তা চেয়েছিল, পুলিশ সেটাই করেছে।

লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, রাজুর ওপর গুলির ঘটনা কখন ও কোথায় ঘটেছে—এখনো স্পষ্ট নয়। রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে পাওয়া যায়। তাঁর পেটে গুলির চিহ্ন ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে থানায় চারটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। অ্যাম্বুলেন্সে গুলির ঘটনার বিষয়ে তেমন কিছু বলতে পারেননি তিনি।