জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।

খায়রুল হকের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার রুলসহ এ জামিন দেন।

এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন।

দুই মামলায় আজ জামিন হওয়ায় খায়রুল হকের কারামুক্তিতে আপাতত আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘মামলা দুটির একটির এজাহারে খায়রুল হকের নাম নেই। পাঁচ মামলায় জামিনের পর তাঁকে এই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। হাইকোর্ট শুনানি নিয়ে রুল দিয়ে খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর তথ্যমতে, পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় গত ৩০ মার্চ খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে গত রোববার হাইকোর্টে জামিন চেয়ে পৃথক আবেদন করেন খায়রুল হক, যা শুনানির জন্য আদালতের আজকের কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু, সাঈদ আহমেদ রাজা, আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন, মোনায়েম নবী শাহীন প্রমুখ।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

বিচারপতি খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এই পাঁচ মামলার মধ্যে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা–সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে করা পৃথক চার মামলায় হাইকোর্ট গত ৮ মার্চ খায়রুল হককে জামিন দেন। দুদকের করা অপর মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত ১১ মার্চ জামিন পান তিনি।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। আবেদনগুলো গত ৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন।

এর ধারাবাহিকতায় শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ গত ২৮ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) ও আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী হত্যাসহ পৃথক পাঁচ মামলায় খায়রুল হকের জামিন বহাল আছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিল নয়, পর্যালোচনার পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহের উর রহমান। তিনি বলেছেন, চুক্তির দ্বিতীয় সুযোগ অনুযায়ী পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘নেগোসিয়েশনে’ যেতে চান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোক্যাল ট্রেড—এআরটি) সই হয় গত ৯ ফেব্রুয়ারি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে। এ নিয়ে এখন ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া চলছে।

আজকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ চুক্তির বিষয়ে করা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জাহের উর রহমান বলেন, ‘এই চুক্তি যদি দেখেন, দেখবেন বাতিল করার অপশন (সুযোগ) আছে। এক নম্বর, ৬০ দিনের নোটিশ দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যাবে। দুই নম্বর হচ্ছে, এই চুক্তির মধ্যে আরেকটি কন্ডিশন (শর্ত) আছে। দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্তে পরিবর্তন করতে পারে। আমি আমার জায়গা থেকে মনে করি যে অন্তত পরে যে অপশনটা বললাম, পর্যালোচনা করা। আগে আমাদের সরকারি পর্যালোচনা করা।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘...প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমি এই ইস্যুতে (বিষয়ে) কথা বলেছি। আমরা সরকারের মধ্যেও এই চুক্তিটা নিয়ে কিছু পর্যালোচনা এবং চুক্তি এটা খুবই শক্তিশালী চুক্তি এবং এটা বাতিল করে দেওয়ার ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) কী হতে পারে, নিশ্চয়ই আমরা বুঝতে পারি, কোন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেটাও আমরা বুঝতে পারি। কিন্তু ওই যে বললাম, ওই সুযোগটা তো আমরা নিতে পারি যে এই চুক্তি রিকনসিডার (পুনর্বিবেচনা) করা কিছু কিছু জায়গায়। যে যে জায়গাগুলোকে আমরা বেশি সমস্যাজনক মনে করি, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে মনে করছি, সেগুলো নিয়ে আমরা আগে আমাদের প্রাথমিক বিবেচনা করব। আমি আশা করি যে আমরা সে রকম একটা নেগোসিয়েশনে (দর–কষাকষি) তাদের সঙ্গে যেতে চাই। বাতিল করাটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যে সংকট আছে, সেটা আবার চলে আসার সম্ভাবনা আছে।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন।

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। এ যুদ্ধ চীনের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা কীভাবে কাজ করে, চীন এই যুদ্ধ থেকে তা শিখতে পারে। স্মরণে রাখা ভালো—যেকোনো যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণে প্রতিপক্ষের ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

পারস্য উপসাগর এবং এর আশপাশে গত দুই মাসের লড়াই থেকে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে কী কী ধারণা পাওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে চীন, তাইওয়ান এবং অন্যান্য অঞ্চলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছে সিএনএন।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, চীনের নিজেদের শক্তি সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করা ঠিক হবে না। দেশটির উচিত, নিজেদের অভিজ্ঞতার অভাবকে গুরুত্বসহকারে নেওয়া এবং এই সংঘাতের ফলাফলকে ছোট করে না দেখা।

আগামী দিনে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে চীনকে প্রতিরক্ষার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।
ফু কিয়ানশাও, সাবেক কর্নেল, চীনের বিমানবাহিনী

চীনের বিমানবাহিনীর সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও সিএনএনকে বলেন, এই লড়াই থেকে এ পর্যন্ত তাঁর প্রধান উপলব্ধি হলো—পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) যেন তাদের প্রতিরক্ষার কথা ভুলে না যায়। প্যাট্রিয়ট বা থাডের মতো মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পেরেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে কীভাবে ফাঁকি দেওয়ার পথ খুঁজে বের করেছে ইরান, তা জানা দরকার।

ফু আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো যুদ্ধে নিজেদের অপরাজেয় রাখতে আমাদের প্রতিরক্ষার দিকের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

গত কয়েক বছরে পিপলস লিবারেশন আর্মি তাদের হামলা চালানোর সক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়েছে। তারা নিজেদের অস্ত্রভান্ডারে হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল–সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করেছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্র (যুক্তরাষ্ট্রের) ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩
চীনের লুয়াং-৩ শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস চুং-হুনের (ডিডিজি-৯৩) কাছ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারের ডেক থেকে তোলা। তাইওয়ান প্রণালিতে। ৩ জুন ২০২৩ফাইল ছবি: রয়টার্স

ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাংক আরইউএসআইয়ের তথ্যমতে, চীন তাদের বিমানবাহিনীতে দ্রুত পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার যুক্ত করছে। দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য তারা প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫–এর সমতুল্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বা বি-২১–এর মতো দূরপাল্লার স্টেলথ বোমারু বিমান তৈরির কাজও চালাচ্ছে চীন।

দূরপাল্লার নির্ভুল লক্ষ্যভেদী স্ট্রাইক মোডে কাজ করার জন্য চীন প্রায় ১ হাজার জে-২০ জেট মোতায়েন করবে। এসব যুদ্ধবিমান অনেকটা আমেরিকার এফ-৩৫–এর সমতুল্য।

তবে চীনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সস্তা শাহেদ ড্রোন ও স্বল্পমূল্যের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো তুলনামূলক আদিম বা সাধারণ প্রযুক্তি দিয়ে পারস্য উপসাগরে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানে এফ-৩৫ এবং বি-২–এর মতো যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি বি-১, বি-৫২ ও এফ-১৫–এর মতো যুদ্ধবিমান থেকে সস্তা ও কম উন্নত গাইডেড গোলাবারুদও ফেলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার থেকে শুরু করে নৌযান ও সেতু—সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছে।

চীনের সাবেক কর্নেল ফু কিয়ানশাও মনে করেন, বেইজিংকে অবশ্যই এই মিশ্র কৌশলের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিমানঘাঁটি ও বন্দরগুলোকে এ ধরনের আক্রমণ ও অভিযান থেকে কার্যকরভাবে রক্ষার জন্য আরও গভীরভাবে কাজ করতে হবে।’

তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
চিহ চুং, সহযোগী গবেষক, ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ
 

তাইওয়ান প্রণালির পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্ভাব্য সংঘাতের কথা উঠলে তাইওয়ানকে প্রায় সময় সেই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা হয়।

স্বশাসিত গণতন্ত্রিক তাইওয়ান দ্বীপকে নিজের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ‘একীভূত’ করার শপথ নিয়েছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। এখন পর্যন্ত তারা কখনো তাইওয়ান নিয়ন্ত্রণ করেনি। চীনের নেতা সি চিন পিং এই লক্ষ্য অর্জনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

তাইওয়ানের বিশ্লেষকেরা চীনের সক্ষমতা সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখেন। তাঁদের মতে, চীন এমন এক সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা একদিকে উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন নির্ভুল অস্ত্রের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। অন্যদিকে কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন দিয়ে যুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ইরানের মতো পারদর্শী।

তাইওয়ানের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চের সহযোগী গবেষক চিহ চুং সিএনএনকে বলেন, তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনের যৌথ সামরিক অভিযানে দূরপাল্লার রকেট ও ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন হামলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কিন্তু তাইওয়ান প্রণালির সম্ভাব্য যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য এসব সামরিক সক্ষমতাই কি যথেষ্ট?

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও নৌযানের দৃশ্য। ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের কাছে। ১ মে ২০২৬,ছবি: রয়টার্স
 

বিশ্লেষকদের মতে, চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ড্রোন প্রস্তুতকারক। তাদের উৎপাদিত ড্রোন বা মানুষবিহীন অস্ত্রব্যবস্থার সংখ্যা বিস্ময়কর।

বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার অন দ্য রকস’–এ ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।

কেউ কেউ সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান এই বিশাল পরিসরে চীনের হামলা মোকাবিলা করার জন্য এখনো প্রস্তুত নয়। সরকারি নজরদারি সংস্থার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের সামরিক বাহিনীর বর্তমান ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা ‘অকার্যকর’। এ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য ‘বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি’ তৈরি করছে।

চীনের বেসামরিক নির্মাতারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে তাদের কারখানাগুলোকে পুনর্গঠিত করে বছরে যুদ্ধোপযোগী ১০০ কোটি ড্রোন তৈরির সক্ষমতা রাখে।
 

বসে নেই তাইওয়ান

তবে তাইওয়ানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা ড্রোন-প্রতিরোধব্যবস্থা উন্নত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তাইওয়ানের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান থান্ডার টাইগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিন সু ড্রোনের ব্যাপক উৎপাদনসক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘শত্রুকে মোকাবিলা করতে আমাদের দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে ড্রোন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে

উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে যুক্তরাষ্ট্রও শিক্ষা নিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কোনো সংঘাত শুরু হলে ওয়াশিংটন নিজেকে আক্রমণকারীর চেয়ে রক্ষণকারীর ভূমিকায় বেশি দেখতে চাইবে। এমন একটি ধারণা ক্রমশ বাড়ছে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের এক শুনানিতে মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো বলেন, ড্রোন হামলাকারী পক্ষের জন্য যুদ্ধ অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে।

তাইওয়ান নিয়ে যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি কী হতে পারে? এ ক্ষেত্রে তাইওয়ান বা যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন ব্যবহার করে চীনের সেই সব জাহাজ বা বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে, যেসব জাহাজ বা বিমান লাখ লাখ পিএলএ সেনা নিয়ে প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করবে। প্রতিটি জাহাজ বা বিমান এবং তার ভেতরে থাকা সেনাদের মূল্য সেই সব ড্রোনের তুলনায় অনেক বেশি, যা তাদের ধ্বংস করতে সক্ষম।

ইরান যুদ্ধে এই ‘প্রতিরোধক ফ্যাক্টর’ বা ডিটারেন্স স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। ইরানের অসম যুদ্ধের কৌশলে সতর্ক হয়ে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরে খুব কম জাহাজ পাঠিয়েছে।

অ্যাডমিরাল পাপারো তাইওয়ান প্রণালির আকাশ, জলপথ ও সমুদ্রের তলদেশ হাজার হাজার ড্রোন দিয়ে ভরে ফেলার যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা নিশ্চয় চীনের চোখ এড়ায়নি। এর মূল লক্ষ্য হবে চীনা বাহিনীকে আটকে দেওয়া, যাতে করে পিএলএর সেনাদের জন্য তাইওয়ান অভিমুখে জলপথ পাড়ি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় জোর দিতে হবে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর বিষয়ক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরে কারিকুলাম নতুন করে সাজানো সময়ের দাবি। কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইনোভেশন গ্র্যান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এছাড়া স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনে এগিয়ে না গেলে প্রতিযোগিতারপূর্ণ বিশ্বে টিকে থাকা যাবে না।

তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কিছু করা সম্ভব। মেধা পাচার রোধ করে মেধা লালন করে দেশ গড়তে চায় সরকার।

এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়তে তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষার কার্যকর বাস্তবায়তে সরকার আন্তরিক বলেও জানান তিনি।

 

বাংলাদেশের স্বনামধন্য অণুজীববিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের মর্যাদাপূর্ণ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি, জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং জনস্বাস্থ্য গবেষণায় অবদানের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণ করবেন তিনি। সেঁজুতি সাহা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক। বাংলাদেশের টিকাব্যবস্থা, জিনোম গবেষণা, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ, মহামারির প্রস্তুতি ও দেশে টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন মোস্তফা ইউসুফ

প্রশ্নঃ ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’ কী, কারা এ স্বীকৃতি পায়?

সেঁজুতি সাহা: স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউট অনেক বছর ধরে একটি ‘গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড’ দেয়, যেটাকে অনেকটা লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড বলা যায়। অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী এই সম্মাননা পেয়েছেন। তবে ২০২০ সাল থেকে তারা আরেকটি পুরস্কার দিচ্ছে, সেটি হলো ‘রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড’। ৪০ বছরের নিচের বিজ্ঞানীরা এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

আমি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি বৈঠকে ছিলাম। হঠাৎ স্যাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহীর ফোন আসে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বোর্ড কোনো দ্বিধা ছাড়াই পুরস্কারের জন্য আমার নাম চূড়ান্ত করেছে। স্যাবিন মূলত ভ্যাকসিন ও ভ্যাকসিনেশন নিয়ে কাজ করা মানুষদের স্বীকৃতি দেয়। কেউ গবেষণায় কাজ করেছেন, কেউ হয়তো টিকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেছেন—এই পুরো ক্ষেত্রের অবদানের জন্যই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়।

প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন।

প্রশ্নঃ আপনাকে কোন কাজের জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে?

সেঁজুতি সাহা: মূলত টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন নিয়ে ল্যাবে গবেষণার জন্য। গত বছরের ১২ অক্টোবর বাংলাদেশে একটি বড় টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল
প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে টাইফয়েড কনজুগেট টিকা দেওয়া। এক মাসের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি শিশুকে টিকা দিতে পেরেছি। এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আমাদের ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) ব্যবস্থার। স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্কুলশিক্ষক—অনেকে দিনরাত কাজ করেছেন। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীও ছিল। আমার কাজটা ছিল তার আগের ধাপে। কোনো টিকা দেশে আনতে হলে তো প্রমাণ লাগবে কেন সেটি দরকার, কী ধরনের ঝুঁকি আছে, অর্থায়নের যৌক্তিকতা কী। সেই উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করাই ছিল আমাদের কাজ।

আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং নিয়ে আপনার কাজ কীভাবে শুরু হয়েছিল?

সেঁজুতি সাহা: যদিও সিএইচআরএফ অনেক আগে থেকে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণা করে আসছে, আমরা ২০১৬ সালে টাইফয়েড জিনমিক্স নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী কিছু টাইফয়েড কেস দেখতে পাই। এটা খুবই উদ্বেগজনক ছিল। কারণ, এই অ্যান্টিবায়োটিকটি সাধারণভাবে বহুল ব্যবহৃত। এর আগে বিশ্বের কোথাও এ ধরনের প্রতিরোধের রিপোর্ট ছিল না।

আমরা জিনোম সিকোয়েন্সিং করে কিছু নির্দিষ্ট মিউটেশন খুঁজে পাই। পরে আমরা আরেকটি ল্যাবরেটরি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে সেই মিউটেশন প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করি। বাংলাদেশে তখন সেই সক্ষমতা ছিল না, তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় সহকর্মীদের ল্যাবে কাজটি করা হয়। আমরা প্রমাণ করতে সক্ষম হই যে ওই মিউটেশনই অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধ তৈরি করছে। পরে বাংলাদেশে ফলাফল যাচাই করা হয় এবং বিশ্বের প্রথম অ্যাজিথ্রোমাইসিন প্রতিরোধী জিনোমের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় বাংলাদেশ থেকে।

একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।
প্রশ্নঃ জিনোম সিকোয়েন্সিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

সেঁজুতি সাহা: একটা ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কেমন আচরণ করবে, কোন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করবে, কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—সবকিছুর উত্তর তার ডিএনএর মধ্যে আছে। মানুষের চুলের রং, উচ্চতা বা শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন ডিএনএ নির্ধারণ করে, একইভাবে জীবাণুর বৈশিষ্ট্যও তার ডিএনএ নির্ধারণ করে।

আমরা যখন জিনোম সিকোয়েন্সিং করি, তখন বুঝতে পারি কোন জিন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ তৈরি করছে, কোন পরিবর্তনের কারণে জীবাণু আরও সংক্রামক হচ্ছে বা কোন অংশকে লক্ষ্য করে ভ্যাকসিন তৈরি করা যেতে পারে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কি জিনোমভিত্তিক রোগ নজরদারিব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি?

সেঁজুতি সাহা: অবশ্যই। ভবিষ্যতের মহামারি মোকাবিলায় জিনোমিক সার্ভেইল্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, পরবর্তী মহামারি আবারও কোনো শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস থেকেই আসতে পারে। কোভিডের সময় দ্রুত জিনোম সিকোয়েন্সিং করতে পেরেছিল বলেই বিশ্ব বুঝতে পেরেছিল এটি সার্স-কোভ-২

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এর জন্য প্রথমেই দরকার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব, চিকিৎসক, রিপোর্টিং সিস্টেম—সবকিছুকে যুক্ত করতে হবে। যুক্তরাজ্যে যেভাবে কোনো ল্যাবে টাইফয়েড জীবাণু শনাক্ত হলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় কিছু জিনমিক্স ল্যাবে পাঠানো হয় সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য, আমাদেরও সে ধরনের ব্যবস্থা দরকার।

আমরা টাইফয়েড সৃষ্টিকারী জীবাণু সালমোনেলা টাইফির জিনোম সিকোয়েন্সিং স্টাডিগুলোর একটি করেছি বাংলাদেশে বসে। এই গবেষণার মাধ্যমে আমরা নীতিনির্ধারকদের দেখাতে পেরেছি জীবাণুগুলো কীভাবে অ্যান্টিবায়োটিক–প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, কী ধরনের মিউটেশন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এখনো বাংলাদেশের অনেক টাইফয়েড রোগী ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু যদি এমন সময় আসে, যখন এসব অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না, তখন সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করে ইনজেকশন দিতে হবে। সেটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করবে। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা আগেভাগেই সেই ঝুঁকি বুঝতে পারছি। সত্যি বলতে, কেউ বিশ্বাস করত না বাংলাদেশে বসে আমরা এটা করতে পারব। বিদেশি ল্যাব বা সহকর্মীদের অনেকেই বলতেন, স্যাম্পল পাঠিয়ে দাও, আমরা কম খরচে করে দেব। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, স্যাম্পল বাইরে পাঠাব না। দেশে বসেই করব। খরচ বেশি হবে, কষ্ট বেশি হবে, তবু নিজেদের সক্ষমতা গড়ে তুলব।

আজ এই স্বীকৃতি আসলে শুধু আমার নয়, এটা বাংলাদেশের। এটা আমাদের প্রতিষ্ঠানের। কারণ, একসময় কেউ আমাদের বিশ্বাস করেনি, কিন্তু এখন বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে—আমরাও পারি।

বাংলাদেশেও যদি নিয়মিতভাবে হাসপাতাল ও কমিউনিটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সিকোয়েন্সিং করা যায়, তাহলে আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারব কোন ভাইরাস ছড়াচ্ছে, কোনটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, কতটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রশ্নঃ সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সেঁজুতি সাহা: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ইতিহাস বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।

একই সঙ্গে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়িয়ে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ও পুরোনো বই পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা এবং চতুর্থ শ্রেণিতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিবিষয়ক নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষাবিষয়ক বইয়ে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে ব্যাপক পরিমার্জন করা হচ্ছে।

এনসিটিবির সূত্র আরও জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় বিদ্যমান নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়।

সরকার প্রতিবছর প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবই বিনা মূল্যে দিয়ে থাকে। প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর জন্য আগামী বছর ৩০ কোটির মতো বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সব পাঠ্যবই চলতি বছরের ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে তারা। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছে।

 

ভারতীয় সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়া পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব বিষয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশ রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সার্বক্ষণিক সতর্ক রয়েছে। কোনো অঙ্গরাজ্য নয়, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে বাংলাদেশের।

সোমবার (১১ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে লবণচাষীদের জীবনমান উন্নয়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্তে অস্থিরতার যে খবর প্রচার করা হচ্ছে, সেগুলো সেখানকার পুরনো কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই বেড়া নির্মাণের জন্য আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তরের কথাও জানান তিনি।

এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে লবনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি লবনচাষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে ভাবছে সরকার।

বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করা যানবাহনের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহ থেকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ সোমবার ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক যানবাহনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে না। অনেকে নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ বিআরটিএর নিবন্ধন নম্বর প্লেট ব্যবহার না করে শুধু রং দিয়ে গাড়ির নম্বর লিখে যানবাহন চালাচ্ছেন।

সড়কে চলাচলকারী নিবন্ধিত যানবাহনে সরকার–নির্ধারিত রং, নকশা ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানো আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনেক যানবাহনের মালিক নম্বর প্লেটের অর্থ পরিশোধ করলেও বিআরটিএ থেকে নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংগ্রহ করেননি। এ ছাড়া অনেক যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে লাগানো আরএফআইডি ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যাচ্ছে। এতে মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

ডিএমপি যানবাহনের মালিক ও চালকদের বিআরটিএর সরবরাহ করা নির্ধারিত নকশা, রং ও আকারের নম্বর প্লেট নির্ধারিত স্থানে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের উইন্ডশিল্ডে থাকা আরএফআইডি ট্যাগ কার্যকর আছে কি না, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী সপ্তাহ থেকে বিআরটিএর সরবরাহ করা নিবন্ধন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।

আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে আগামী ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ সদর কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেছেন, এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক মনিটরিং, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং পুলিশ, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিআরটিএ এর ১৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৫০ জন নির্বাহী হাকিমকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।

সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অনিয়ম প্রতিরোধে রাজধানীর সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়াসহ দেশের সব বাস টার্মিনালে বিশেষ ভিজিল্যান্স ও মনিটরিং টিম গঠন করার কথা বলেন তিনি।

শেখ রবিউল আলম জানান, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা এবং যানজটপ্রবণ এলাকায় ঈদের সাত দিন আগে থেকে ঈদ পরবর্তী তিন দিন প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও রোভার স্কাউট সদস্যদেরও নিয়োজিত রাখা হবে।

ঈদযাত্রায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিসি ঢাকা মহানগরী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে বিশেষ ঈদ সার্ভিস পরিচালনা করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত স্ট্যান্ডবাই বাস প্রস্তুত রাখা হবে। এছাড়া পিক আওয়ারে যাত্রীচাপ বিবেচনায় মেট্রোরেলের হেডওয়ে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে দুর্ঘটনাপ্রবণ মহাসড়কে কনভেক্স ব্লাইন্ড স্পট মিরর স্থাপন, ব্ল্যাক স্পটসমূহে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ১০টি বিশেষ মেডিকেল টিম পেশাজীবী চালকদের ডোপ টেস্ট পরিচালনা করবে।

সভায় শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো, সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর অধিক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনা বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তদারককারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক ব্যবস্থাপনা শুধু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একার দায়িত্ব নয়। হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, বিআরটিএ, এলজিআরডিসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। দায় নিতে আমাদের সমস্যা নেই কিন্তু সবকিছু যে আমার একার নিয়ন্ত্রণে নয়, সেটাও বুঝতে হবে। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ৩৮৪ জন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ঈদুল ফিতরের ১১ দিনে সারা দেশে ১৭০ জন নিহত হন। এর মধ্যে হাইওয়েতে নিহত হন ৪৩ জন। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ, ব্যাটারিচালিত যানবাহন এবং ছোট রাস্তা থেকে সরাসরি ৯০ ডিগ্রিতে মহাসড়কে ওঠা দুর্ঘটনার বড় কারণ। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এসব সংযোগপথকে ‘লেফট লেন’ পদ্ধতিতে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদের মধ্যে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক-সহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতা এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু করার পরিকল্পনার কথা জানালেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি।’

আজ সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত এক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী পদ্মা সেতু নিয়ে এ কথা বলেন। এ সময় ঈদে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, গতবার ঈদযাত্রায় যে ব্যত্যয়গুলো হয়েছিল, এবার আরও অধিক মনোযোগী হয়ে ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সেটা কীভাবে নিরসন করা যায়, সেই লক্ষ্যেই আজকের সভা করা হয়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাব আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাব আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট (ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পূর্ণ হয়েছে)। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক্‌-প্রস্তুতি চলছে।’

মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে স্থাপিত বর্তমান পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ২০২২ সালে এই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করা হয়।

ফেনী ও পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া দুই কর্মকর্তাকে সম্প্রতি প্রত্যাহার করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

দুজন হলেন- ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান ও পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

সোমবার (১১ মে) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার ফেনী হিসেবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত) মাহবুব আলম খান ১০ মে-এর মধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন। আরেক আদেশে বলা হয়, পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করে ১০ মে-এর মধ্যে সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন।

গত ৫ মে দেশের ১২ জেলার পুলিশ সুপার পদে রদবদল করা হয়।

সিএমপির উপ-কমিশনার মাহবুব আলম খান ফেনীর এসপি হিসেবে পদায়ন হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

দুই হত্যা মামলার এ আসামির নিয়োগ চ্যালেঞ্জ করে ৭ মে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে তার নিয়োগ বাতিল, সাময়িক বরখাস্ত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল ল’ ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম জুলফিকার আলী জুনু জনস্বার্থে এ রিট করেন।

 

সততা-মেধা-দক্ষতাই পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১১ মে) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার যেমন চিরস্থায়ী নয়, তেমনি প্রশাসনের কোনো পদই কারো জন্য চিরকাল সংরক্ষিত থাকে না। পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু পদ নয়, বরং প্রতিটি পদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে কর্মকর্তা যে পজিশনেই দায়িত্বরত থাকুন না কেন, প্রশাসনের সকল পদে কাজ করার পেশাদার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শুধুমাত্র পদোন্নতি কিংবা পছন্দের জায়গায় পোস্টিংয়ের প্রত্যাশা করলে তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস হয়ে যায়। নিজের চাহিদা অনুযায়ী পোস্টিং পেলে সাময়িকভাবে তুষ্ট হওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু এটি প্রফেশনালিজমের পরিপন্থী। তাই আহ্বান থাকবে, যার যেখানে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, সেই কাজটি গুরুত্বসহকারে পালন করুন। তবেই আমরা একটি দক্ষ, গতিশীল এবং পেশাদার পুলিশ প্রশাসন গড়ে তুলতে পারবো। 

তিনি বলেন, সারাদেশের মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনারা সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। আপনাদের ওপর অর্পিত এই দায়িত্ব যদি সফলভাবে পালনে সক্ষমতার পরিচয় দেন, তবে আমি বিশ্বাস করি একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে আমরা একধাপ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবো।

তারেক রহমান বলেন, কৌশলী ও ইতিবাচক কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা সৃষ্টি হলে ৫ আগস্ট পরবর্তী মব ভায়োলেন্স-এর মতো সমস্যাগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। 

তিনি বলেন, গত দেড়-দুই বছরে এমন অনেক পরিস্থিতি আপনারা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছেন। দীর্ঘ দুই দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সরকার পুলিশ বাহিনীকে এমন এক রূপে দেখতে চায় যেখানে পুলিশ হবে সত্যিকারের জনবান্ধব এবং মানুষের আস্থার প্রতীক। সাধারণ মানুষ যেন পুলিশ প্রশাসনকে সরকারের দর্পণ বা আয়না হিসেবে দেখতে পায়। সুতরাং পুলিশ প্রশাসনের সাফল্য মানেই সরকারের সফলতা। একটি শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আপনাদের ভূমিকা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অপশাসনের বিরুদ্ধে কোনো আপস করতে চায় না। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় মুখ্য নয়; যে বা যারা অপরাধে লিপ্ত হবে, তাদের অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করবেন। কোনো ব্যক্তি বা দল আপনাদের পরিচয় নয়, বরং আপনারাই আইনের রক্ষক। আপনারা রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে অপরাধের ধরণ পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এরপর তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরণ বদলে যাওয়ায় পুলিশের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এটি এখন আর শুধু শহর বা জেলার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। একারণেই প্রতিটি পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বহুমুখী দক্ষতায় সমৃদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকারের সাফল্যের জন্য দক্ষ, সাহসী, সৎ ও নিরপেক্ষ পুলিশ প্রশাসনের কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা, মেধা এবং দক্ষতাই হবে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মূল নীতি। এই নীতি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পুলিশের দায়িত্ব যেহেতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দিন-রাত এমনকি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়, তাই পুলিশ সদস্যদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তারেক রহমান এরপর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নিয়ন্ত্রণে আপনাদের উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করতে হয়, যা দায়িত্বেরই অংশ। বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে চায়। তবে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা কোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। এ নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই।