দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এই উৎসব ঘিরে শহর ও গ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সারাদেশে মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন ঈদ জামাতে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইতোমধ্যে ঈদুল ফিতরের নামজের তৃতীয় জামাত সম্পন্ন হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, সকাল যথাক্রমে ৭টা, ৮টা ও ৯টায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আরও তিনটি জামাত বাকি রয়েছে।

এসব জামাতে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন এবং নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে, হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এখানে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এ জামাত শুরু হয়। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীর সঙ্গে এ জামাতে অংশ নেন। এ ছাড়াও প্রধান ঈদ জামাতে প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে, বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত সকাল ৭টা ও সকাল টার ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী ইমামতি করেন।

এ ছাড়া সকাল ৯টা, সকাল ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় আরও তিনটি জামাতদ অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ রাজধানীর সব ঈদ জামাতস্থলে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের সময় আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে মুসল্লিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভির আওতায় এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।

জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্ট—মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব ও শিক্ষা ভবন এলাকায় রোড ব্যারিকেড দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

 

রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হই এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগ-তাকওয়া আর সংযমের শিক্ষা দিয়ে বিদায় নিয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা ও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে।

তিনি বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমি দেশের জনগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

এসময় বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহকে ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্রতা তিন সপ্তাহ শেষেও কমেনি। শিগগিরই এই যুদ্ধ বন্ধের কোনো ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ খারগ দ্বীপ দখল নয়তো হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের খবরের মধ্যে দুই নেতা থেকে এমন বার্তা দেওয়া হলো।

তবে অব্যাহত হুমকি, হামলা ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হারানোর পরও অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে ইরান। নেতানিয়াহুর হুমকির পরদিন গতকাল শুক্রবার ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। মধ্য ইসরায়েলের তেল আবিবে একটি ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। জেরুজালেমের ওল্ড সিটিতে একটি পার্কিং লটে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন ইসরায়েলি আহত হয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) চান হরমুজ প্রণালি খোলা থাকুক। এটা নিশ্চিত করতে যদি খারগ দ্বীপ দখলের প্রয়োজনও হয়, সেটি করা হবে। যদি তিনি নৌপথে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন, সেটিও হবে। তবে এখনো সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

খারগ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত পাঁচ বর্গমাইল আয়তনের এক দ্বীপ। ইরানের উপকূল থেকে এর দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। এটি ইরানের সবচেয়ে বড় জ্বালানি কেন্দ্র। ইরান যে জ্বালানি রপ্তানি করে, তার ৯০ শতাংশই যায় এখান থেকে। এর আগেও দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। নিশানা করা হয়েছিল এর জ্বালানি স্থাপনাকেও।

ট্রাম্পসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের সময় সামরিক সংঘাতে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করেন ট্রাম্প প্রশাসনের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক প্রেসিডেন্টের আমলেই সংঘাতে আমাদের সব সময়ই স্থলবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। আমি জানি, বিষয়টি গণমাধ্যমে বেশ আলোচিত। এর রাজনৈতিক দিকটাও আমি বুঝি। কিন্তু প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) শেষ পর্যন্ত যেটা সঠিক মনে করবেন, সেটাই হয়তো করবেন তিনি।’

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুদ্ধে তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) জয়ী হতে যাচ্ছে। আর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে ইরান। তিনি বলেন, ‘মানুষ যা ভাবছে, তার চেয়েও দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটছে। প্রায়ই বলা হয়, শুধু আকাশপথে আপনি জিততে পারবেন না, আকাশ থেকে বিপ্লব ঘটানো যায় না। এটা সত্য। আকাশ থেকে অনেক কিছু করা যায়। আমরা তা করছিও। তবে এর সঙ্গে স্থলে উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন।’

তবে খারগ দ্বীপ দখলে নিতে হলে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলছেন, শুধু বিশেষ বাহিনীকে অভিযানে পাঠিয়ে এটা সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্র এটা যদি করতে পারে, তাহলে তেহরানের ওপর প্রভাব বাড়বে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ হবে আত্মঘাতী।

চিন্তন প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নিল কুইলিয়াম বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র এটি দখল করে, তাহলে কার্যত ইরানের তেলশিল্প বিচ্ছিন্ন হবে। ইরান উৎপাদন করবে, কিন্তু রপ্তানি করতে পারবে না। এটা হলে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হবে। এতে সংকট আরও বেড়ে যাবে।’

আইআরজিসির মুখপাত্র নিহত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে দেশটির রাজধানী তেহরানে। হামলা হয়েছে আরও কিছু শহরেও। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন।

গতকাল আইআরজিসির পক্ষ থেকে জেনারেল নায়িনি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়। এর আগে তাঁকে হত্যার দাবি করেছিল ইসরায়েল। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিমের খবর অনুযায়ী, গতকাল ভোরে এ হামলা চালানো হয়। তবে কোথায় এ হামলা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

আইআরজিসির মুখপাত্র হওয়ার আগে বিভিন্ন উচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন জেনারেল নায়িনি। তিনি ইরানের আধা সামরিক বাহিনী বাসিজ রেজিসট্যান্স ফোর্সের সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমান্ডারের পাশাপাশি আইআরজিসির সংস্কৃতিবিষয়ক উপকমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ইরানের আধা সামরিক বাসিজ বাহিনীর গোয়েন্দাপ্রধান ইসমাইল আহমাদিকেও হত্যার দাবি করেছে ইসরায়েল। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তেহরানে এক বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে। ইরানের আরেকজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাকেও হত্যার দাবি করেছে তারা। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তেহরানে দুই দিন আগে বিমান হামলায় নিহত হন ওই কর্মকর্তা। তবে তাঁর নাম জানানো হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেকে নিহত হয়েছেন। গতকাল দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক বার্তায় অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শুত্রু মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে বলেছেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে দেশ দুটির সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। গতকাল কুয়েতের আরও একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালায় তেহরান। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের কথা জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাহরাইনেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দেশটির এক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সৌদি আরব অন্তত ২০টি ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-৩৫ মডেলের যুদ্ধবিমান। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করছে তারা। যদি ঘটনা সত্যি হয়, তাহলে যুদ্ধে ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা হবে এটি।

এদিকে চলমান যুদ্ধের কারণে ইরাকে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের হামলা এবং তাদের অবস্থানে পাল্টা মার্কিন হামলার কারণে দেশটিতেও যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় ইরাকে থাকা সেনাদের সাময়িক প্রত্যাহার করে নিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ইরাকের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ঠিক যখন মার্কিন কর্তৃপক্ষ দাবি করছে যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, তখনই একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান আক্রান্ত হচ্ছে। যখন তারা ইরানের নৌবাহিনীকে শেষ বলে ঘোষণা করছে, তখন মার্কিন রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন আরও দূরে সরে যাচ্ছে।

(বাঁ থেকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুফাইল
(বাঁ থেকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ফাইলছবি: রয়টার্স

আরও সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধে অংশ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রয়টার্স ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে’ মধ্যপ্রাচ্যে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রের চার হাজার মেরিন সেনা ও নাবিক।

নিউজম্যাক্সের দেওয়া খবর অনুযায়ী, সামরিক উপস্থিতি জোরদারে মধ্যপ্রাচ্যে যাবে যুদ্ধজাহাজের বহর। এই বহরে হামলা চালানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি উভচর যুদ্ধযানও থাকবে। আরও থাকবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। সেনার মধ্যে ২ হাজার ৫০০ জন মেরিন।

সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলেও কী লক্ষ্য নিয়ে তাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে, সামরিক কর্মকর্তাদের সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেতে কুপারের সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে তা হবে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার শামিল।

একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করা আর অন্যদিকে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্তে চলমান সংঘাত নিয়ে অস্পষ্টতা বাড়ছে। তবে ট্রাম্প এখন ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের জয়ী ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে কোনোভাবে বের হয়ে যেতে চাইছেন বলে মনে করেন ওয়াশিংটনভিত্তিক চিন্তন প্রতিষ্ঠান কুইনসি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্প ক্রমেই উপলদ্ধি করতে পারছেন যে যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষভাবে ভালো যাচ্ছে না। পাশাপাশি তিনি এটাও বুঝছেন যে তাঁর সব ধরনের উত্তেজনা বাড়ানোর বিকল্পই বেশ সমস্যাজনক। কারণ, এ বিকল্পগুলো বেছে নিলে তাতে ইরানের ওপর যেমন চাপ বাড়বে, তেমনি চাপে পড়বে যুক্তরাষ্ট্রও।

ঢাকা

মার্চ মাসে দেশে কালবৈশাখী শুরু হয়ে যায়। এবারও হয়েছে। মধ্য মার্চ থেকে বেড়েছে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির দাপট। এই ঝড়বৃষ্টির এক ভিন্ন বৈশিষ্ট্য আছে। তা হলো, হঠাৎ করেই স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টি হয়। কালো মেঘে ছেয়ে যায় চারপাশ। এ মেঘ ঝরায় বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। কিন্তু এবার একটু ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। কীভাবে?

গত বুধবারের বৃষ্টির কথাই ধরুন। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ চারদিক কালো করে রাজধানীর আকাশে মেঘ জমল। ছিল ঠান্ডা হাওয়া। ৬টার পর থেকেই শুরু হলো বৃষ্টি। যাঁরা এ সময়ের মেঘবৃষ্টির আচরণ জানেন, তাঁরা ধারণা করেছিলেন হয়তো কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে। রাত ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।

আজ শুক্রবারের পরিস্থিতিও তা-ই। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে রাজধানীতে। সন্ধ্যার দিকে এ প্রতিবেদন লেখার সময়ও আকাশ মেঘলা। কোনো কোনো স্থানে ঝিরঝির বৃষ্টিও হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, ‘যেন শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি।’ ঝড়ের সেই পরিচিত দাপট নেই।

ভারতের এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি একটি অস্বাভাবিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতি, যেখানে একটি সরলরেখার মতো (একেবারে সোজা) নিম্নচাপজনিত পশ্চিমা ঝঞ্ঝা তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বৃষ্টিপাতের রেখা তৈরি হয়েছে, যা আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতের ভেতর পর্যন্ত বিস্তৃত। সাধারণত পশ্চিমা ঝঞ্ঝা (পশ্চিমা লঘুচাপ) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের নিম্নচাপ থেকে তৈরি হয় এবং উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে অগ্রসর হয়। এগুলো শীতকালে বেশি সক্রিয় থাকে এবং তুষারপাত ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে আসে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এই ঝঞ্ঝা বাঁক না নিয়ে সোজা একটি ট্রফ বা নিম্নচাপের রেখা হিসেবে বিস্তৃত হয়েছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা এ পরিস্থিতি দেখে এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। গত দুই দিন থেকেই আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, দেশের অন্তত পাঁচ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অন্তত আগামীকাল রোববার পর্যন্ত কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। এই যে হাজার কিলোমিটারের উপমহাদেশীয় ‘বৃষ্টিবলয়’, তার প্রভাব আছে বাংলাদেশেও। এ তথ্য জানালেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান।

এ সময় সুদীর্ঘ বৃষ্টিবলয়কে কিছুটা অস্বাভাবিক বলছেন আবহাওয়াবিদেরা। কারণ, মার্চের শেষ দিকে এশিয়ার ওপর সাধারণত যে বড় আকারের বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটে, এবার তা ঠিকমতো হয়নি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলছিলেন, এই যে মেঘবলয়ের সৃষ্টি হয়েছে, তা সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এটি হয় মূলত পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে। কিন্তু এবার ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ছিল প্রায় বৃষ্টিহীন। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব প্রায় ছিল না বললেই চলে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব প্রাক্‌-মৌসুমি বায়ুর এ সময়ে অনেকটাই অস্বাভাবিক। মার্চ থেকে এপ্রিল সাধারণত বজ্রঝড়ের মাস। দেশের মোট বজ্রঝড়ের ৩৮ শতাংশ হয় মার্চ থেকে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এ সময়টায় ঝড়বৃষ্টি সাধারণত হয় পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে। সেই লঘুচাপের জ্বালানি হলো আর্দ্রতা। সেই আর্দ্রতার জোগান আসে ভূমধ্যসাগর, কাস্পিয়ান সাগর, কৃষ্ণসাগর এবং পারস্য উপসাগর থেকে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে।

অল ইন্ডিয়া ওয়েদারের উপগ্রহ চিত্র তুলে ধরে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরব সাগর থেকে এটি আরও বেশি আর্দ্রতা সংগ্রহ করে। বিশেষ করে হিমালয়ের পাহাড়ি বাধার কারণে বায়ু ওপরে উঠে গেলে এই আর্দ্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আরব সাগর থেকে পাওয়া বাড়তি আর্দ্রতা এই বলয়কে শক্তিশালী করে তোলে। বলয়ের অগ্রভাগ ভারতের উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ওডিশা এবং পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই দীর্ঘ বলয়ের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া জলীয় বাষ্প যুক্ত হয়ে এর পরিধি বিস্তৃত করে। আর তাতে বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। বৃষ্টির বলয়ের প্রভাব বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত চলে আসে।

ঢাকা বাংলাদেশের মধ্যভাগে পড়েছে। গতকাল রাজধানীতে যে টানা বৃষ্টি, তাতে বঙ্গোপসাগর থেকে সৃষ্টি হওয়া জলীয় বাষ্পের ভূমিকা আছে। আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন যে ঝড়বৃষ্টি, তা পশ্চিমা লঘুচাপের ফল। কালবৈশাখী হয় উত্তর-পশ্চিম বায়ুর কারণে। গতকালের বৃষ্টিপাতে বাতাসের গতি বড়জোর ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার ছিল। পশ্চিমা লঘুচাপে সাধারণত বাতাস কম থাকে। কিন্তু এ সময়ের উত্তর-পশ্চিমা বায়ু বা কালবৈশাখীর সময় বাতাসের গতিবেগ মারাত্মক হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বার্তা বলছে, রোববার পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রঝড়। এটা যে দেশের সব এলাকায় একটানা হবে তা নয়, বিক্ষিপ্তভাবে হতে পারে।

কেন এটা অস্বাভাবিক

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সক্রিয় এই পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর পাকিস্তানের ওপরের বায়ুমণ্ডলে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বজ্রঝড় সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাবে ইতিমধ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা ও তামিলনাড়ুতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিলাবৃষ্টির ঘটনাও দেখা গেছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলছিলেন, এখন প্রায় এপ্রিল এসে গেছে। তারপরও এই সময় এ মাত্রায় দীর্ঘ বৃষ্টিবলয় কিছুটা অস্বাভাবিক। সাধারণত এই মধ্য মার্চের মধ্যে সাবট্রপিক্যাল জেট স্ট্রিম (পশ্চিমা ঝঞ্ঝা) উত্তর দিকে সরে যেতে থাকে। কিন্তু এবার সেটি এখনো তুলনামূলকভাবে দক্ষিণে অবস্থান করছে এবং বেশ শক্তিশালী রয়েছে। ফলে একটি ঝঞ্ঝা দুর্বল হয়ে যাওয়ার আগেই ভারতীয় উপমহাদেশের গভীর ভেতরে ঢুকে পড়তে পারছে।

একই সঙ্গে বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে একটি ট্রফ (নিম্নচাপ) প্রায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে সোজা রেখার মতো বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে সাধারণত এটি বাঁকানো থাকে। এর ফলে একটি দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন অস্থিতিশীলতার অঞ্চল তৈরি হয়েছে।

ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি আবার উত্তর ও মধ্য ভারতের ওপর কয়েকটি ছোট ছোট ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এগুলো আরব সাগর থেকে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস টেনে আনছে, অন্যদিকে পশ্চিম দিক থেকে ঠান্ডা বাতাস প্রবেশ করছে। নিচের স্তরে উষ্ণ আর্দ্র বাতাস এবং ওপরের স্তরে ঠান্ডা বাতাস—এই তীব্র পার্থক্য বায়ুমণ্ডলকে খুব অস্থিতিশীল করে তুলছে।

আবুল কালাম মল্লিক মন্তব্য করেন, যে সময়টায় পশ্চিমা লঘুচাপ আসার কথা অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে মার্চ—সে সময় তা ছিল কম। এখন উত্তর-পশ্চিম ঝঞ্ঝার সময় কিন্তু পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বায়ুপ্রবাহে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে।

 

বাংলাদেশের আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত করা হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলাদা বাণীতে তারা দেশবাসীর সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করেছেন।

 

ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আজ ঢল নেমেছে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমা তথা জুমাতুল বিদা উপলক্ষে এই সমাগম। সিয়াম সাধনার মাস বিদায়ের পথে– তাই জুমার নামাজে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও রহমত কামনায় ব্যাকুল ছিলেন ইবাদতকারীরা।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। তাদের অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন জাতীয় মসজিদে রমজানের শেষ জুমার নামাজ আদায় করতে।

দুপুর ১টার আগেই মসজিদের ভেতরের মূল অংশ মুসল্লিতে পূর্ণ হয়ে যায়। আজানের পর মসজিদের নিচতলার অংশটিও ভরে ওঠে। তবে বৃষ্টির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা কম লক্ষ করা গেছে। বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আল্লামা মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতে আখিরাতের মুক্তি এবং দেশ ও মুসলিম জাতির শান্তি কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। এসময় অনেককে নিজের পরিবার ও প্রয়াত আত্মীয়স্বজনের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দান-খয়রাত করতেও দেখা গেছে।

মুসলিম উম্মাহর কাছে মাহে রমজানের প্রতিটি দিনই পবিত্র ও মহিমামণ্ডিত। জুমার দিনটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন এবং ‘গরিবের ঈদ’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় এর ফজিলত অনেক। আর সেই দিনটি যখন রমজানের শেষ দশকে তথা জুমাতুল বিদা হয়, তখন তা প্রতিটি রোজাদারের কাছে বিশেষভাবে সম্মানিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

বদলে গেছে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোর চিত্র। গত কয়েক দিনের ভিড়ভাট্টা, ভোগান্তি ও যানজট আর নেই। আজ শুক্রবার ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অনেকটাই ফাঁকা। গাড়ির চাপ নেই, যাত্রীর চাপও নেই। বরং কোথাও কোথাও স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও কম সংখ্যায় গাড়ি চলতে দেখা গেছে।

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

গাজীপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার দুর্ভোগ আজ নেই। ফাঁকা সড়কে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। গত কয়েক দিন গাজীপুরের চন্দ্রা, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট লেগে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন যাত্রীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় আটকে থাকা, গরম, বৃষ্টি—সব মিলিয়ে ঈদযাত্রা হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ। তবে আজ সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে।

সকালে সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া, টঙ্গী ও কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঘরমুখী মানুষের উপস্থিতি থাকলেও যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কোথাও যানজট নেই, নেই আগের মতো স্থবিরতাও।

ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, ‘গত দুই দিন আমি রাস্তায় বের হয়ে আবার ফিরে গিয়েছিলাম যানজটের কারণে। আজ আবার রওনা হয়েছি। রাস্তায় কোনো ভোগান্তি নেই। ঢাকার বনানী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত আসতে যেখানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা লেগে যায়, সেখানে আজ এক ঘণ্টার মধ্যেই চলে এসেছি। আশা করি, সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত যেতে আর কোনো যানজটে পড়তে হবে না।’

রাজশাহীগামী যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে যাত্রা করছিলাম বলে খুব ভয় লাগছিল। আগের দিনে জ্যামের কথা শুনে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজকে রাস্তা ফাঁকা, দ্রুত যেতে পারছি।’

 ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অনেকটা ফাঁকা। আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায়
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কও অনেকটা ফাঁকা। আজ শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায়

পরিবহন–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেশির ভাগ মানুষ আগেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় আজ মহাসড়কে চাপ কমে গেছে। যানজট নেই বললেই চলে।

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক।’

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গত তিন থেকে চার দিন যানবাহনের যে চাপ ছিল, আজ তার উল্টো অবস্থা। মহাসড়কটি কার্যত ফাঁকা। এই সুযোগে যেসব যানবাহন চলছে, তা দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে।

আজ সকালে মহাসড়কে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাইপাস এলাকায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে মিনিটে যেখানে গড়ে উভয়মুখী অন্তত ১৮ থেকে ২০টি যানবাহন চলত, সেখানে আজ ৪ থেকে ৫টি যানও নেই। বাইপাস বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে বাসের জন্য অপেক্ষারত সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী আবদুল আউয়াল বলেন, ‘বেশ কিছুক্ষণ একা একা দাঁড়িয়ে আছি। বাস পাচ্ছি না। যেসব বাস যাচ্ছে, তার গতি খুবই বেশি। থামাতে হাত উঁচু করেও লাভ হচ্ছে না।’

একই এলাকার বাসিন্দা ফরিদ মিয়া বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার একই সময় মহাসড়কে ঝাঁকে ঝাঁকে বাস আসছিল। কয়েকটি স্থানে যানজটের কারণে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক

ঈদের আগের দিন ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকে মহাসড়ক ও পরিবহন কাউন্টারগুলোয়। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। প্রচুর যানবাহন থাকলেও যাত্রীসংকটে অনেকটাই ফাঁকা পড়ে আছে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টার। এ কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দিয়ে স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মানুষ।

আজ সকালে শহরের সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে দূরপাল্লার বাস। চালক ও তাঁর সহকারীরা হাঁকডাক করলেও প্রত্যাশিত যাত্রী মিলছে না।

সাইনবোর্ড এলাকায় কথা হয় নোয়াখালীর চাটখিলগামী আল বারাকা পরিবহনের যাত্রী মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি এলাকার একটি ডাইং কারখানার ব্যবস্থাপক। ঈদ উপলক্ষে শাশুড়ি ও ভায়রাকে বাসে তুলে দিতে এসেছেন। তিনি বলেন, সকাল নয়টায় গাড়ি আসার কথা থাকলেও সকাল ১০টা পর্যন্ত আসেনি। নির্ধারিত ভাড়া ৫০০ টাকা হলেও যাত্রীপ্রতি ৬০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

হানিফ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. জহির বলেন, গাড়ির কোনো সংকট নেই, বরং যাত্রী কম। সকালে চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী তাঁদের ১২টি বাস ছেড়ে গেছে। প্রতিটি বাসে ১৩ থেকে ১৪ জন করে যাত্রী ছিল। গত তিন দিন প্রচণ্ড চাপ ছিল, টিকিট দিতে পারেননি। আজ গাড়ি খালি যাচ্ছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নারায়ণগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট নেই। মৌচাক, মদনপুর ও মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চলাচলকারী পরিবহনের সাইনবোর্ড ও শিমরাইলে অন্তত ৭০টি কাউন্টার আছে। এসব কাউন্টার থেকে দেশের ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, মহাসড়কের কোথাও যানজট নেই। অধিকাংশ যাত্রী গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। সড়কে গাড়ি থাকলেও যাত্রীর চাপ নেই।

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা-গোমতী সেতু থেকে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার অংশে কোথাও কোনো যানজট নেই। আজ সকাল ৯টা থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের এই এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চান্দিনা উপজেলার হাড়ং গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার আরদিন নার্সিং ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্রী ফয়জুন্নেসা পুষ্প, দেবীদ্বারের ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ঢাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম, তাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগমসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকা থেকে দাউদকান্দির গৌরীপুর পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার মহাসড়ক অতিক্রম করতে ৫০ মিনিট সময় লেগেছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা স্বস্তি ও নিরাপদ করতে তাঁরা কাজ করেছেন। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।

একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।

এবার ঈদ উপলক্ষে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।

 

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিরা ফিরে আসতে চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের দেশে আনার ব্যবস্থা করবে সরকার, এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এই সংঘাতে সৌদি আরবে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে দেশে পৌঁছায়। মরদেহ হস্তান্তর করার সময় ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে তিনি এ তথ্য জানান।

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানালেন, নিহত মোশাররফসহ এ পর্যন্ত মারা যাওয়া পাঁচ বাংলাদেশির পরিবারের পুনর্বাসন সহযোগিতাসহ সন্তানদের দায়িত্ব নেবে সরকার।

এছাড়া, আটকে পড়াদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা এবং চাকরি হারানো প্রবাসীদের বিশেষভাবে তদারকি করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।