মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের বীর  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে তারা ফুল দিয়ে বীর  শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর  শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এছাড়া অন্যান্য দল ও সংগঠনের নেতারা একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদেন করেন বিরোধীদলীয় নেতারা।

এরপরই স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) বিকেলে এক বার্তায় তিনি এ অভিনন্দন জানান।

বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একইসঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সবাইকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা ও দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন– আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।

সবশেষ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীরাও সহকর্মীদের মাধ্যমে নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হন। ওয়ান-ইফরা উইমেন ইন নিউজ, ‘সিটি সেন্ট জর্জেস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন’ ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ২০২৫ সালে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৩৯ বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ সংবাদকর্মীর মধ্যে ১৫ শতাংশ যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমের জন্য যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ‘স্ট্রেনথেনিং উইমেন জার্নালিস্টস নেটওয়ার্ক টু ট্যাকল সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা গ্রহণ ও তা চর্চা করা উচিত। হয়রানির ঘটনায় নীরব না থেকে প্রতিকার চেয়ে সোচ্চার হওয়া উচিত ভুক্তভোগীদের। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক, সম্পাদক ও ব্যবস্থাপকেরা যেন ঘটনা প্রতিকারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন, সেটা নিশ্চিত করা উচিত।

অনুষ্ঠানে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের চুপ না থেকে ঘটনার প্রতিকার চাইতে সোচ্চার হতে হবে। যৌন হয়রানির প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনকে যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ, নোয়াবসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে বৈঠক করার আহ্বান জানান।

প্রথম আলো ইংরেজি ওয়েবের হেড অব কনটেন্ট আয়েশা কবির বলেন, সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা সম্পর্কে জানতে হবে। তাদের স্বচ্ছতার সঙ্গে নীতিমালাগুলো অনুসরণের চর্চা করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সাইফুল আলম চৌধুরী বলেন, যৌন হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীর পক্ষে অনেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখে জানান। সেসবের কোনোটি সত্য হতে পারে, না–ও হতে পারে। নীতিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করার বিষয়টিকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সেটা নিয়েও ভাবতে বলেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও নারী সাংবাদিক ৮-১০ শতাংশের বেশি নয়। সংবাদমাধ্যমে নারী সহায়ক পরিবেশ তৈরি না হলে নারী সংবাদকর্মী বাড়বে না। নারী সহায়ক কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন যৌন হয়রানি প্রতিকার নীতিমালা তৈরি করেছে। এ ধরনের একটি নীতিমালা সাংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, ওয়ান-ইফরা ও বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ২০২৫ সালের সমীক্ষা প্রতিবেদনটি এখন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ আরব অঞ্চল, সাবসাহারা আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ২০টি দেশের সংবাদকর্মীরা জরিপে অংশ নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন ৩৩৯ সংবাদকর্মী। এর মধ্যে ১০০ জন নারী, ১৯০ জন পুরুষ ও বাকি ৪৯ জন তাঁদের লিঙ্গভিত্তিক পরিচয় জানাননি। বাংলাদেশি সংবাদকর্মীদের মধ্যে সাংবাদিক, ফটোসাংবাদিক, কারিগরি ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেন এমন ব্যক্তি ছিলেন ২৪২ জন। সম্পাদক, প্রযোজক, ব্যবস্থাপক, বিভাগীয় প্রধান, টিম লিড পর্যায়ের সংবাদকর্মী ছিলেন ৮৬ জন। সংবাদমাধ্যমের নির্বাহী, পরিচালক, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক পর্যায়ে অংশ নিয়েছিলেন ১০ জন। এ ছাড়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজনও এই জরিপে অংশ নিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জরিপটি পরিচালিত হয়। জরিপ অনুসারে, ৬০ শতাংশ নারী ও ৯ শতাংশ পুরুষ মৌখিকভাবে যৌন হয়রানি, ৪৮ শতাংশ নারী ও ১৫ শতাংশ পুরুষ অনলাইনে যৌন হয়রানি আর ২৪ শতাংশ নারী ও ৭ শতাংশ পুরুষ শারীরিকভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সংবাদমাধ্যম উন্নয়ন ব্যবস্থাপক রাশেদুল হাসান অনুষ্ঠানে বলেন, জরিপে অংশগ্রহণকারী যে ৯ জন (৭ জন নারী ও ২ জন পুরুষ) ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আরও বিশদভাবে জানতে চেয়েছে ওয়ান-ইফরার কাছে। এ ব্যাপারে জবাব আসার পর জানা যাবে, ধর্ষণের ঘটনা সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে সহকর্মীদের মাধ্যমে ঘটেছে, নাকি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে ঘটেছে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (ডব্লিউজেএনবি) সমন্বয়কারী আঙ্গুর নাহার মন্টি। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা অন্যদের বৈষম্য-নিপীড়ন নিয়ে লেখেন। তাই নিজেদের সঙ্গে ঘটা নিপীড়ন চেপে রাখার দায় সংবাদকর্মীদের নেওয়া উচিত নয়। নিজেরা যৌন হয়রানির শিকার হলে কীভাবে প্রতিকার চাইতে হবে, আইনি লড়াই করতে হবে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে এই নীতিমালা থেকে।

অনুষ্ঠানে নীতিমালাটি উপস্থাপন করেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের আরাফাত সিদ্দিক। অনলাইনে যুক্ত হয়ে নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নীতিমালাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত সুলাইমান নিলয়।

কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে তৈরি এই নীতিমালায় বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর বিলম্ব, উপেক্ষা বা অযথা জটিলতা সৃষ্টি করা যাবে না। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রথম ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় প্রাথমিক মূল্যায়ন ও সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তদন্তের সময়সীমা সর্বনিম্ন ৭ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ কার্যদিবস হবে। ৫ সদস্যের কমিটি করতে হবে, কমিটির প্রধান হবেন নারী ও কমিটিতে প্রতিষ্ঠানের বাইরের অন্তত দুজন সদস্য রাখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ইচ্ছাকৃত মিথ্যা অভিযোগ বলে প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিদেশি সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধিদের সংগঠন ওকাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক (সিএনই) মীর মাসরুর জামান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশেষ প্রতিনিধি মুনিমা সুলতানা, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাসিমা আক্তার সোমা, ইন্টারনিউজের কান্ট্রি প্রতিনিধি শামীম আরা শিউলী, ডেইলি অবজারভারের বিশেষ প্রতিনিধি শাহনাজ বেগম, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নাদিরা কিরণ, বৈশাখী টেলিভিশনের হেড অব নিউজ জিয়াউল কবীর সুমন।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব সাইকোলজি অ্যান্ড হেলথের (আইপিএইচ) পরিচালক নাজমুল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মিনহাজ উদ্দিন, ডিজিটালি রাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের (জিআইজিএন) সম্পাদক তানভীর সোহেলসহ অনেকে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী স্নানোৎসব। উৎসব ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে আগত লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণে মুখরিত লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকা। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নানোৎসব শুরু হয়েছে। চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপমুক্তির বাসনায় নারী-শিশুসহ লাখো পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে মেতে ওঠেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ২৪টি ঘাটে স্নান শুরু হয়। এবারের স্নানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুণ্যার্থীর পাশাপাশি ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছে। নদীতে নিরাপত্তায় বিআইডব্লিউটিএ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল টহল দিতে দেখা গেছে।

উৎসবকে কেন্দ্র করে অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভক্তদের মধ্যে খাবার বিতরণসহ নানা সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পুণ্যার্থীদের জরুরি চিকিৎসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক চিকিৎসক দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত আছে।

লক্ষ্মীপুর থেকে স্নান করতে এসেছেন চন্দ্র কর ও তাঁর স্ত্রী কণিকা কর। চন্দ্র কর বলেন, ‘পুণ্যস্নানে নিজের পরিবারের জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি। এ ছাড়া দেশের মানুষের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি।’ কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর থেকে স্নান করতে আসা রতন আচার্য বলেন, ‘মায়ের কাছে প্রার্থনা করছি মঙ্গলের জন্য।’

পুরোহিত হরি সাধন চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ করো’—এই মন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী ও ডাব দিয়ে পুণ্য লাভ ও ভগবানের কৃপা লাভের আশায় পুণ্যার্থীরা এখানে স্নান করতে আসেন।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবীর বলেন, পুণ্যার্থীদের নির্বিঘ্নে স্নান সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ, শৌচাগার, জনস্বাস্থ্য, পার্কিংসহ চিকিৎসক দল, হাসপাতাল সুবিধা ও ছয়টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্নানোৎসব উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি বলেন, স্নানের নিরাপত্তায় ১ হাজার ১০০ পুলিশ, ৬০০ আনসার ও ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। পুরো এলাকা আলোকিত করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরির ধাক্কায় পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। আজ বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরি ঘাটের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৪০ জন যাত্রী নিয়ে রাজবাড়ী থেকে ছেড়ে আসে।

ফায়ার সার্ভিস এক বার্তায় জানিয়েছে, ফেরিতে উঠার সময় যাত্রী নিয়ে একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল কাজ করছে। ঢাকা সদর দপ্তর থেকে আরও ডুবুরি দল যাচ্ছে।

দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকেল পাঁচটার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া পাঁচটার দিকে ওই ঘাটে 'হাসনা হেনা' নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

বাস পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম।  আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
বাস পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম। আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
 

মনির হোসেন আরও জানান, ‘চোখের সামনে বাসটি পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, অথচ আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। এ সময় বাসে নারী-শিশু সহ অন্তত ৪০ জন যাত্রী ছিল। ইতিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী ওপরে উঠতে পারলেও অধিকাংশ যাত্রী বাসের ভেতর আটকা পড়েছে। আমরা বাসটি উদ্ধারের জন্য বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি এবং ফায়ার সার্ভিসকে জানিয়েছি। এখনো উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়নি।’

বাস পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম।  আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে
বাস পড়ে যাওয়ার পর শুরু হয়েছে উদ্ধার কার্যক্রম। আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে তাঁরা এখন ফেরি ঘাটে উদ্ধার কার্যক্রমের অপেক্ষা করছেন।

দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করার মতো পরিস্থিতিতে নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর কিছু বলতে পারব।’

ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে। ডুবুরি দলও কার্যক্রম চালাচ্ছে।

জামালপুর সদর উপজেলায় কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় প্রায় তিন হাজার লিটার পেট্রলসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে উপজেলার কালিবাড়ি বাজার এ ঘটনা ঘটে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন, মেলান্দহ উপজেলার হাকিম মিয়া (৪০) ও মো.মারুফ হোসেন (২৪), সদর উপজেলার হাফিজুর রহমান (৪০), বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুল মিয়া (৩৮) ও মহিনর হোসেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার মো. শাহ জামাল (৫০), সরিষাবাড়ী উপজেলার মো.জুগলু মিয়া (৪৪) ও মো.জরুরুল ইসলাম (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার গভীর রাতে একটি পিকআপ, একটি ভ্যান ও একটি অটোরিকশায় করে ১৫টি তেলের ড্রাম নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর নজরে আসে। এ সময় সন্দেহ হলে স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িগুলো থামিয়ে তল্লাশি চালান। পরে গাড়িতে থাকা প্রায় ৩ হাজার লিটার পেট্রলসহ সাতজনকে স্থানীয় লোকজন আটক করেন। আজ সকালে পুলিশকে বিষয়টি অবগত করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজলকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

আইন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়ে বলেছেন, এখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

রুহুল কুদ্দুস বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

রুহুল কুদ্দুস ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আইনপেশা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০২৩ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হন।

রুহুল কুদ্দুস বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ২০০৩-২০০৬ মেয়াদে কর্মরত ছিলেন।

ছাত্রজীবনে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রুহুল কুদ্দুস। তিনি ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স), ১৯৯৪ সনে এলএলএম করেন। ২০০৫ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ২০০৬ সালে লন্ডনের সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে বার ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০০৬ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-এট-ল সনদ অর্জন করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তিনি বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছাড়েন আসাদুজ্জামান। তাঁর পদত্যাগের পর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফকে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অন্যদিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আসাদুজ্জামান। বিএনপির সরকারে তিনি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৬৪ কর্মকর্তা সিনিয়র সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এই পদোন্নতির বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এই পদোন্নতির ফলে তারা এখন জাতীয় বেতন গ্রেড-২০১৫–এর ষষ্ঠ গ্রেডে (৩৫,৫০০-৬৭,০১০ টাকা ) বেতন–ভাতা পাবেন।

জানা গেছে, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীন সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সিনিয়র স্কেলে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতি পাওয়া ২৬৪ জন সিনিয়র সহকারী সচিব বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবের বরাবর ই–মেইলে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বর্তমান কর্মস্থলে কর্মরত থাকবেন।

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকা

 

ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে বৈশ্বিক মানে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর অসহনীয় যানজট কমিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই সভার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং যানজট নিরসনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বিভিন্ন বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

এক-এগারোর পটপরিবর্তনের অন্যতম আলোচিত চরিত্র, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা একটি মানব পাচার মামলার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে এই রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে। 

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেনী জেলায় ৬টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় ৫টিসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে পল্টন থানার ওই মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত পাড়ায় শুনানির সময় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। 

২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত ক্ষমতাধর ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তৎকালীন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ‘গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’র সমন্বয়ক নিযুক্ত হন। তার নেতৃত্বাধীন এই কমিটির অধীনেই সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায়।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে তার চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেনাবাহিনী থেকে অবসরের পর তিনি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। তিনি জাতীয় পার্টির (জাপা) টিকেটে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে দুই দফায় ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা ছিল বেশ নাটকীয়। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি প্রথমে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে ভোল বদলে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদ প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ লাভ করেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবেই তিনি মহাজোটের সমর্থন নিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন।

 

কোতোয়ালি থানায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ অভিযোগে দায়ের করা মানহানি মামলায় জামিন পেয়েছেন সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করার অভিযোগে করা মানহানির মামলায় সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জিয়াউল হক নামে একজন আইনজীবী ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই তিনজনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে এবং গণমাধ্যমে জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন।

মামলার অভিযোগপত্রে আরও হয়, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০২২ সালের ৩ অক্টোবর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

এছাড়া ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক সেমিনারে তিনি দাবি করেন, ‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে একজন অনুপ্রবেশকারী।’ তার এই মন্তব্যগুলো জাতীয় নেতার প্রতি চরম অবমাননাকর বলে বাদী পক্ষ দাবি করেন।

অন্যদিকে, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২০১৩ সালের ১৯ জুলাই পৃথক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অত্যন্ত ‘আপত্তিকর মন্তব্য’ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আসামিরা ধারাবাহিকভাবে জিয়া পরিবারকে নিয়ে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করে আসছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত আজ শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন।

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। 

নুরুল হক নুর বলেন, ঈদের ছুটির পর আজকে প্রথম অফিস এবং প্রথম অফিসে বেলা ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিবসহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে কর্মপরিকল্পনা চেয়েছিলেন, সেগুলো নিয়ে একটা ফলোআপ আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ এবং তার নির্দেশনায় আমরা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে যারা কোরিয়া, জাপান, চায়না, জার্মানি এরকম দেশগুলোতে যাবে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টি বা ব্যাংক সলভেন্সির সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। সেটা আমাদের মন্ত্রণালয়ের একটা ব্যাংক আছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, ওই ব্যাংকই ডেডিকেটেড করতে বলেছেন, যেন এই মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বা এই সংকটের ফলে আমাদের অনেক শ্রমিকরা সেখানে বর্তমানে আছে। আমাদের শ্রমবাজারের বড় একটা অংশই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য। সেক্ষেত্রে এই যুদ্ধের ফলে আমাদের কী ধরনের সংকট এবং সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে সেগুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা করেছে। বিশেষ করে ধরেন এখানে মিডিলইস্টে যে ধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেস্ট্রয় করা হয়েছে এগুলো আবার রিবিল্ড করতে হবে। তাছাড়া ওখানে আশা করি যে আমাদের দেশের শ্রমবাজার খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। বরং আমাদের দেশের চাহিদা আরো তৈরি হতে পারে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ বা ভাষা শেখার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। আমাদের দেশের মানুষ শুধু ভাষা না জানার কারণে তারা অল্প পয়সার চাকরি করে। ভাষা জানলে তারা একটু ভালো বেতন পেতে পারে।

প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানে এক লাখ লোক পাঠানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে একটা এমওইউ হয়েছে, সেটাকে কীভাবে ত্বরান্বিত করা যায়। জাপানসহ ইউরোপে কীভাবে আমরা লোক পাঠাতে পারি সেই বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে। 

ইউরোপের বেশ কিছু দেশের ভিসা করার জন্য ইন্ডিয়া যেতে হয়। তো এটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছিলেন যে, তাদেরকে পারসু করে বাংলাদেশে তাদের একটা অফিস বা কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা। এই বিষয়ে আজকে আলোচনা হয়েছে। কিছু দেশ এরইমধ্যে এখানে কনস্যুলার সেবা দিচ্ছে। বাকি দেশগুলো যেন এখানে নিশ্চিত করে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, বলেন নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডগুলো একটু প্রচার কম হচ্ছে। সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন যে, আমরা যেন যার যার মন্ত্রণালয় সোশ্যাল মিডিয়া, মেইনস্ট্রি মিডিয়ার সঙ্গে কানেক্টেড থেকে সরকারের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডগুলো যেন জনগণের সামনে আমরা পৌঁছে দেই। 

প্রতিমন্ত্রী  বলেন, আমাদের ১৮০ দিন যে কর্মপরিকল্পনা তার মধ্যে আমাদের অভিবাসন ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়ার একটা বিষয় আছে। আমরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে সেটি চূড়ান্ত করব। আমাদের যেসব শ্রমবাজারগুলো বন্ধ আছে, মালয়েশিয়াসহ যে ধরনের সমস্যাগুলো আছে, এটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে শর্টআউট করে লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা। থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও আমরা যেন লোক পাঠাতে পারি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে সেই বিষয়ে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে রেমিটেন্সে কোনো ধাক্কা আসবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যুদ্ধের ফলে আমাদের শ্রমবাজার কিংবা রেমিটেন্স-এর উপরে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না। হয়তো সাময়িক কিছুটা হতে পারে। বরং যুদ্ধ স্টপ হলেও এগুলো পুনর্গঠনে তাদের যে ম্যানপাওয়ার লাগবে, আমি মনে করি ওই সব দেশের শ্রমবাজারে নতুন করে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটা সম্ভাবনা তৈরি হবে।