রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক নীতিমালাকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। সংস্থাটি বলছে, পরিকল্পনাহীন ও অপরিণামদর্শীভাবে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দিলে নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে।

আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, হকার সমস্যা শুধু ঢাকার নয়; দেশের প্রায় সব নগর এলাকাতেই এটি পথচারীদের চলাচল, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে নয়, সারা দেশের নগর এলাকার জন্য সমন্বিত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় হকার নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই যেভাবে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর। এতে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া পথচারীদের স্বস্তি আবারও হারিয়ে গেছে।

আইপিডি বলছে, ফুটপাত ও সড়ক নাগরিকদের চলাচলের জন্য। সেখানে বাধা সৃষ্টি করে ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার আইনি ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে নিয়মিত লাইসেন্স, কর ও ফি দিয়ে ব্যবসা করা দোকান ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের, অনেক ক্ষেত্রে হকারদের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হচ্ছে।

নীতিমালায় পথচারীদের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একে ‘অপ্রতুল’ মনে করছে আইপিডি। সংস্থাটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও আধুনিক নগর-পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী বড় শহরের আবাসিক এলাকায় ৮ থেকে ১০ ফুট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ১০ থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় এই প্রশস্ততা হওয়া উচিত ২০ থেকে ৪০ ফুট।

এ ছাড়া নতুন নীতিমালায় মেট্রোস্টেশন, বাসস্টপ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে হকার বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাধারণত এসব স্থানের অন্তত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকার বসতে দেওয়া হয় না।

তবে নীতিমালার কিছু দিককে ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেছে আইপিডি। বিশেষ করে হলিডে মার্কেট, নৈশকালীন মার্কেট ও হকারমুক্ত এলাকা ঘোষণার বিষয়গুলোকে তারা ভালো উদ্যোগ হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি প্রান্তিক হকারদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টিও ইতিবাচক বলে মনে করছে সংস্থাটি।

তবে হকারদের লাইসেন্স ও পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণের বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা না থাকা এবং এলাকাভিত্তিক হকারদের তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় ঘাটতি হিসেবে দেখছে আইপিডি। এ ছাড়া হকার ব্যবস্থাপনা কমিটিতে নাগরিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করাও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিডির দাবি, বর্তমানে যেভাবে ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। প্রকৃত হতদরিদ্র হকারদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে অবৈধ দখলকে পুনর্বাসনের নামে বৈধতা দেওয়া ঠিক হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু পুনর্বাসন নয়, দারিদ্র্য বিমোচনের দৃষ্টিকোণ থেকেও ভাবতে হবে। পাশাপাশি হকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইপিডি। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, এ জন্য সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার প্রয়োজন।

জামালপুর ও নেত্রকোনায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলায় একজন, মাদারগঞ্জ উপজেলায় একজন ও নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় একজন মারা যান। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে বিকেলের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

জামালপুর

বজ্রপাতে জামালপুর সদর উপজেলার মেষ্টা ইউনিয়নের পশ্চিম আরংহাটি গ্রামের কৃষক ফারুক আহামেদের (৩৭) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টির সময় নিজ বাড়ির উঠান থেকে খড় তোলার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় কাছাকাছি থাকা তাঁর বাবা আফসার আলী আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ছাড়া মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি গ্রামের মজনু মিয়া (২৫) বজ্রপাতে মারা যান। তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশক্তির সদস্য ছিলেন।

পরিবার জানায়, দুপুরে বৃষ্টির সময় বাড়ির উঠানে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন মজনু মিয়া। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত স্থানীয় এক পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশিস রায় বলেন, ‘বজ্রপাতে মাদারগঞ্জের একজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

নেত্রকোনা

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জলাশয় থেকে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে এনামুল হক (২৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মাসকা হাওরে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেলা তিনটার দিকে এনামুল মাসকা হাওরে মাছ ধরতে যান। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতে তাঁর শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে কার্যালয়ের লোকজনকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। বিধি অনুযায়ী মারা যাওয়া যুবকের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বজ্রপাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি সভায় বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ায় এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ওই বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম মিজানুর রহমান। আলাউদ্দিন নামে যুবদলের কর্মী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ওই মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ। আলাউদ্দিন হাজীনগর ইউনিয়নের মাকলাহাট গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সচেতন মহল।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে হাজীনগর ইউপির উন্মুক্ত বাজেট সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান। বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। তাৎক্ষণিকভাবে ভুলবশত স্লোগান দিয়ে ফেলেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত আলাউদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা বীর মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং সভাস্থলের মাইকে সবার সামনে আবার ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন এই স্লোগান দেওয়া যে কারও জন্য বিপজ্জনক। গতকাল সভায় মুখ ফসকে জয় বাংলা বলার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে ভুল স্বীকার করি। এরপরও সবার সামনে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং মাইকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে আলাউদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে যুবদলের কর্মী বলে দাবি করেন। যদিও যুবদলের কোনো পদে থাকার প্রমাণ তিনি দেখাতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, ‘মিজানুর রহমান বক্তব্যের একপর্যায়ে “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দেন। সঙ্গে সঙ্গে আমিসহ কয়েকজন প্রতিবাদ করি। সবাই যখন উত্তেজিত হয়ে যায়, তখন বিষয়টি অন্যভাবে চলে যায়। পরে মিজানুর রহমান মাইকে সবার কাছে ক্ষমা চান। এখানে আমাকে একাই দায়ী করা হচ্ছে।’

যোগাযোগ করলে হাজীনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ বলেন,‎ আলাউদ্দিন নিজেকে বিএনপি কিংবা যুবদল নেতা দাবি করলেও বাস্তবে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। তিনি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে বিএনপির নাম ব্যবহার করেছেন। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে ভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নওগাঁ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে “জয় বাংলা” স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে হেনস্তা করা দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরাও “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” স্লোগান দিয়েছি। যদিও পরবর্তী সময়ে এই স্লোগানের অপব্যবহার করে বিতর্কিত করে ফেলা হয়েছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্ষমতা সীমিত’ হওয়ায় এবং ‘রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের’ অভাবের কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ওই সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ছিল গভীর সংকটে। ফলে নতুন সংস্কারের চেয়ে ভেঙে পড়া ব্যবস্থাকে সামাল দিতেই বেশি মনোযোগ দিতে হয়েছে।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অনেকে জানতে চান দেড় বছরে সরকার কী করেছে? কিন্তু বাস্তবতা হলো, ‘এক দিনে সব পরিবর্তন হয় না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব খারাপ করে আসছি, তা তো না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা অধ্যাপক সালেহউদ্দিন আহমেদ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এ সমাবর্তনে বিবিএ, এমবিএ, ইএমবিএ ও ডিবিএ—এই চারটি প্রোগ্রামের ৩৬৫ শিক্ষার্থী অংশ নেন।

গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দৃশ্যমান সব পরিবর্তন না এলেও অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে ভিত্তিগত কিছু সংস্কার হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি দুটি শব্দ ব্যবহার করি—রিপেয়ার ও রিফর্ম। প্রথমে আমাদের রিপেয়ার করতে হয়েছে, পরে রিফর্ম।’

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা ছিল রাজনৈতিক ‘ম্যান্ডেটের’ অভাব। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্ট্রেন্থ (শক্তি) ছিল না, ম্যান্ডেটও ছিল না।’ ফলে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত গতিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব প্রশাসনসহ অর্থনীতির প্রায় সব খাতেই অস্থিরতা ছিল উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ (মজুত) কমে গিয়েছিল, চলতি হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য নেতিবাচক ছিল। এসব সূচকে এখন কিছুটা স্থিতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অনেকেই পরিবর্তন দেখতে চান, কিন্তু অর্থনীতির গভীর সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না। তিনি বলেন, দেশের পরিস্থিতি এমন ছিল যে আগে অর্থনীতিকে ‘খাদের কিনারা’ থেকে ফেরাতে হয়েছে।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে  
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

ব্যাংক খাত নিয়ে সাবেক অর্থ উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল আইনের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আইন সংস্কার ছাড়া শুধু প্রশাসনিক নির্দেশনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, খারাপ আইন রেখে ভালো ফল আশা করা যায় না।

সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। কিছু ব্যাংকে বিপুল অঙ্কের অর্থসহায়তা দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কাজও সহজ নয়। তবে এখন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কারণে আগের তুলনায় কম সময়ে অর্থ উদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশে শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি খাতেও সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বলেন, জবাবদিহির সংস্কৃতি দুর্বল হওয়ায় বিভিন্ন খাতে অপচয় ও অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দুই বছরের প্রকল্প ১০–১২ বছর চলে, পাঁচ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ২০ বছরও লাগে।

বক্তব্যে দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো এ ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত অতিথিরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

রপ্তানি খাত নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হলেও অনেক শিল্প এখনো প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারেনি। ‘ইনফ্যান্ট ইন্ডাস্ট্রি’ হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হলেও সেই খাতগুলো এখনো পুরোপুরি পরিণত হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতির নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক শুল্ক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের সম্ভাবনা এখনো অনেক উল্লেখ করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তবে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সুশাসন, দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, একই অবস্থা থেকে শুরু করেও দেশ দুটি অনেক দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশও চাইলে তা পারে।

সমাবর্তনে ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তাই দক্ষতা, জ্ঞান ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে  
আইবিএর ৫৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার দেওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে
 

‘সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পরিবর্তন অনিবার্য’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের সময়ে নতুন প্রজন্মকে শুধু দক্ষ হলেই হবে না, নৈতিক নেতৃত্বও দিতে হবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছে, তা দেখিয়েছে—স্পষ্ট দৃষ্টি ও সৎ উদ্দেশ্য থাকলে পরিবর্তন অনিবার্য।

আইবিএর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে হবে সততা, মানবিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষ দিয়ে। কর্মজীবনে নানা ‘শর্টকাটের’ সুযোগ এলেও সঠিক পথ থেকে সরে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে আজীবন শেখার মানসিকতা ধরে রাখার তাগিদ দেন উপাচার্য। তিনি বলেন, পৃথিবীতে ভালো ব্যবস্থাপকের অভাব নেই, অভাব মানবিক নেতৃত্বের।

আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক ইফতেখারুল আমিন।

সমাবর্তনে ১১৬ জন শিক্ষার্থীকে ব্যাচেলর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিবিএ), ১২৬ জনকে মাস্টার অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এমবিএ, ১২২ জনকে এক্সিকিউটিভ এমবিএ প্রোগ্রাম–ইএমবিএ) এবং একজন শিক্ষার্থীকে ডক্টর অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিবিএ) ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ বছর অসাধারণ একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য ২৬ জন শিক্ষার্থী ‘ডিরেক্টরস অনার লিস্টে’ স্থান পান। এ ছাড়া দুজন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করেন।

পরীক্ষামূলকভাবে চালুর অনুমতি দেওয়া ফারাক্কা বাঁধ এখনো চালু থাকায় সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আগামীকাল ১৬ মে 'ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস' উপলক্ষ্যে আজ শুক্রবার (১৫ মে) দেওয়া বাণীতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেছেন, ভারতে গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণ করে অভিন্ন নদীর পানি একতরফা প্রত্যাহার শুরু করা হয়। যার ফলে বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চল প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ওই এলাকায় পানিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক ভারসাম্যহীনতা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

'জীববৈচিত্র ও পরিবেশগত মানকে বিবেচনা না করে এবং প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয়ের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে ভারতকে কয়েক দিনের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। কিন্তু সেই বাঁধ অব্যাহতভাবে এখন পর্যন্ত চালু থাকায় সেটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের কারণে এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত'— যোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, এই বঞ্চনা ও দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জনদুর্দশার আশঙ্কায় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী জনগণকে সাথে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক মিছিল করে ভারত সরকারের নিকট প্রতিবাদ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আনেন। তখন থেকে ব্যাপক মানববিপর্যয় সৃষ্টিকারী ফারাক্কা বাঁধের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হতে থাকে।

বিএনপি মহাসচিবের মতে, আজও ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আন্তর্জাতিক আইন-কানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণে নদীর ধারাকে বাধাগ্রস্থ করে একতরফা নিজেদের অনুকুলে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে উঠার আলামত ইতোমধ্যেই ফুটে উঠেছে।

তাই ন্যায্য পাওনা আদায়ের সংগ্রামে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে ভাসানীর নেতৃত্বে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে জনগণের ঐতিহাসিক মিছিল অকুতোভয় সাহসী পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়েছিল বলে বাণীতে উল্লেখ করেন তিনি।

এ কারণে প্রতি বছর ১৬ মে ‘ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস' যেকোনো অধিকার আদায়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী।

 

হাম ও হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে চার শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ৮ শিশুর।

এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৯২ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর শরীরে।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হাম শনাক্ত হয়ে মারা যাওয়া চার শিশুর দুজন ঢাকা বিভাগের আর একজন করে রয়েছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে। হামের উপসর্গ নিয়ে মাা যাওয়া আট শিশুর তিনজন ঢাকা বিভাগের, তিনজন চট্টগ্রাম বিভাগের আর একজন করে রয়েছে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৩৭৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৭৪ শিশু। মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ শিশুর। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪০ হাজার ১৭৬ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফিরেছে ৩৬ হাজার ৫৫ শিশু।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৭ হাজার ৪১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নবনির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকারগুলোও তুলে ধরেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে আরও বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারির সঙ্গে বৈঠককালে প্রতিমন্ত্রী এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

এ সময় নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকদের আর্থসামাজিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর কথাও তুলে ধরেন শামা ওবায়েদ।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। এ বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের বর্তমানে আর্থিক সংকট থাকা সত্ত্বেও শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ধারা অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। তিনি সংঘাত-পরবর্তী শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী ও যুব সমাজকে আরও বেশি অংশ নিতে আহ্বান জানান।

নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসইভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকটের একমাত্র কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন খালেদ খিয়ারি। বিশেষ করে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।

দশকের পর দশক ধরে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি রহস্য ভূতত্ত্ববিদদের ভাবিয়ে তুলছিল। বারমুডা দ্বীপটি কেন আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় এত উঁচুতে অবস্থান করছে, যেখানে এর আগ্নেয়গিরিগুলো ৩ কোটিরও বেশি বছর ধরে নিষ্ক্রিয়? সাধারণত আগ্নেয়গিরি নিভে যাওয়ার পর সমুদ্রতল নিচে নেমে যাওয়ার কথা থাকলেও বারমুডার ক্ষেত্রে তা হয়নি। মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল দাবি করছে, তারা অবশেষে এই রহস্যের জট খুলতে পেরেছেন। খবর এনডিটিভির।

বিজ্ঞানীদের মতে, বারমুডা এমন এক ধরনের ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায়নি। কার্নেগি সায়েন্সের ভূকম্পবিদ উইলিয়াম ফ্রেজার এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেফ্রি পার্কের নেতৃত্বে পরিচালিত নতুন গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। তাদের গবেষণাটি সম্প্রতি কার্নেগি সায়েন্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

হাওয়াইয়ের মতো আগ্নেয় দ্বীপমালাগুলো সাধারণত ‘ম্যান্টল প্লুম’-এর ওপর গঠিত হয়। এটি হলো পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত শিলার স্তম্ভ। আগ্নেয় কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে এবং টেকটোনিক প্লেট দূরে সরে গেলে স্ফীত অংশটি আবার নিচে নেমে যায়। কিন্তু বারমুডা এখনো আশপাশের সমুদ্রতলের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থান করছে।

এই রহস্য অনুসন্ধানে গবেষকরা বড় ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ করেছেন। বারমুডার একটি ভূকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য ব্যবহার করে তারা দ্বীপটির নিচে প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটি চিত্র তৈরি করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রীয় ভূত্বকের ঠিক নিচে ১২ মাইলেরও বেশি পুরু একটি বিশাল শিলাস্তর রয়েছে। এই শিলার ঘনত্ব আশপাশের ম্যান্টলের তুলনায় কম। ফলে এটি অস্বাভাবিকভাবে ভাসমান। নিচ থেকে কোনো উত্তপ্ত পদার্থ ওপরে ঠেলে দেওয়ার পরিবর্তে, এই হালকা শিলাস্তরটি অনেকটা ‘ভেলা’র মতো কাজ করছে। এই হালকা ও বিশাল স্তরের কারণেই বারমুডা এবং এর চারপাশের সমুদ্রতল এখনো ভেসে আছে।

গবেষকদের ধারণা, ‘আন্ডারপ্লেটিং’ নামে পরিচিত এই স্তরটি কয়েক কোটি বছর আগে বারমুডার আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকাকালীন গঠিত হয়েছিল। তখন কার্বনসমৃদ্ধ গলিত ম্যান্টল শিলা ভূত্বকের নিচের অংশে প্রবেশ করে সেখানেই ঠান্ডা হয়ে জমাট বাঁধে। এই পদার্থের উৎস সম্ভবত কয়েকশ কোটি বছর আগের, যখন সুপারমহাদেশ ‘প্যাঞ্জিয়া’ গঠিত হচ্ছিল।

গবেষক উইলিয়াম ফ্রেজার বলেন, বারমুডা গবেষণার জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কারণ এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রচলিত ‘ম্যান্টল প্লুম’ মডেলের সঙ্গে মেলে না। আমাদের এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবীর ম্যান্টলের ভেতরে আরও কিছু প্রবাহগত প্রক্রিয়া রয়েছে, যা আমরা এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।

উল্লেখ্য ফ্লোরিডা, বারমুডা এবং পুয়ের্তো রিকোর মধ্যবর্তী এই অঞ্চলটি ‘বারমুডা ট্রায়াঙ্গল’ হিসেবে পরিচিত। জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়ার নানা লোককথা এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে। যদিও অনেকে অলৌকিক শক্তির ইঙ্গিত দেন, তবে বিজ্ঞানীরা মনে করেন এর মূল কারণ অতিরিক্ত যানচলাচল, চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মানুষের ভুল। নতুন এই গবেষণাটি মূলত দ্বীপটির ভৌগোলিক উচ্চতা ও স্থায়িত্বের বৈজ্ঞানিক কারণ উন্মোচন করেছে।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় প্রায় ২০ টন সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রিচেষ্টার অভিযোগে একটি ট্রাকসহ চালক ও তাঁর সহকারীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার হাঁসকুঁড়ি মৈদাম এলাকায় নেত্রকোনা-মদন সড়কে অভিযান চালিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে পুলিশ।

আটক চালকের নাম শামিম মিয়া (৩২)। তিনি সদর উপজেলার ছোট গাড়া এলাকার নাজিম উদ্দিনের ছেলে। তাঁর সহকারী হলেন ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকার ছপিল উদ্দিন আকন্দের ছেলে শাহিন মিয়া (৩৪)। আজ শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত ১০টার দিকে মদন উপজেলা থেকে ৬৬৭ বস্তায় ২০ টন সরকারি চাল ট্রাকে নিয়ে বারহাট্টা উপজেলার একটি রাইস মিলে বিক্রির করা হচ্ছিল—এমন খবরে অভিযান চালায় পুলিশ। পরে হাঁসকুঁড়ি মৈদাম এলাকার সাম্য ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে সরকারি সিল যুক্ত ৬৬৭ বস্তা চালবোঝাই ট্রাকটি জব্দের পর চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়।

খবর পেয়ে মদন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার ঘটনাস্থলে এসে নিশ্চিত করেন, চালগুলো সরকারি। পরে তিনি সেগুলো জব্দের নির্দেশ দিলে পুলিশ ট্রাকভর্তি চালসহ চালক ও সহকারীকে থানাহেফাজতে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মদন উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়ের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।

এ বিষয়ে জানতে মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, চালকের ভাষ্যমতে, চালগুলো মদন খাদ্যগুদাম থেকে বারহাট্টা উপজেলার বাউসি তালুকদার রাইস মিলে নেওয়া হচ্ছিল। এ নিয়ে কোনো কাগজপত্র দেখাতেও পারছিলেন না তিনি। মূলত কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যেই চালগুলো নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২৭ মেয়াদের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল (নীল প্যানেল) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টি পদের মধ্যে ১৩টি পদেই বিজয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের প্রার্থীরা। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ সদস্যের একটি পদে জয় পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গভীর রাতে ভোটগণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেলের (নীল প্যানেল) সভাপতি প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। সম্পাদক পদে নীল প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন, যেখানে সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোটও।

উল্লেখ্য, সমিতির ইতিহাসে এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। গত ২৬ এপ্রিল সমিতির সাধারণ সভায় (ইজিএম) দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফলে এবারের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা সীমাবদ্ধ ছিল নীল, সবুজ ও লাল-সবুজ প্যানেলের প্রার্থীদের মধ্যে।

পবিত্র ঈদুল আজহায় সাত দিনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিন ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৫ মে থেকে ৩১ মে ২০২৬ পর্যন্ত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। একই প্রজ্ঞাপনে ২৩ মের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৩ মে (শনিবার) অফিসগুলো খোলা থাকবে। ২৪ মে (রোববার) পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ অফিস।

যা যা ছুটির আওতামুক্ত

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি পরিষেবা এই সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ; পানি; গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ; ফায়ার সার্ভিস; বন্দর কার্যক্রম; পরিচ্ছন্নতা সেবা; টেলিফোন ও ইন্টারনেট; ডাক এবং হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসেবা।

ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের জন্য আলাদা নির্দেশনা

এ ছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা নির্দেশনা দেবে। একইভাবে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

বেসরকারি খাতের সাধারণ ছুটি নির্ধারণে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা জারি করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন ধরে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপকদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রায় সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে অব্যাহতি ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

বুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক একরামুল হক। তিনি পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

এ ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন মো. মামুন অর রশিদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল (সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি উপাচার্যের দায়িত্বরত), জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সবার নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। উপাচার্যদের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

এর আগে গত মার্চে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। এ ছাড়া একই সময় উচ্চশিক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তন আনা হয়।