আগামীকাল (শনিবার) সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বেলা ১১টায় এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এই তথ্য জানান।

শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন। গণমাধ্যম সদস্যদের প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ভোটের ফলে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল প্রেস ব্রিফিংয়ে অধ্যাপক আলী রীয়াজ নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে অবহিত করবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং সাধারণ জনগণকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি তার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “১৩তম সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণকে জানাই আমার উষ্ণ অভিনন্দন! নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে এক অসাধারণ বিজয়ে নেতৃত্ব দেওয়ায় আমি তারেক রহমানকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল জনসমর্থন নিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপির ২১২ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৩৬ মিনিটে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন।তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

তার নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন ছিলেন। এবারই প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার গঠন করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন।

তারেক রহমান শুধু ঢাকা-১৭ আসনেই নয়, তার পৈতৃক নিবাস বগুড়া-৬ আসন থেকেও ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৫ নভেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছরের লন্ডনের নির্বাসনের পর দেশে ফেরেন তিনি এবং ২৭ নভেম্বর ভোটার হন। 

রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরোধী আন্দোলনে, এরপর ১৯৮৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সদস্য হন। ২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, ২০০৭ সালে নির্বাসিত, ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব নেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু বরণ করার পর ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের স্থায়ী কমিটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব পড়বে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকায় আসা একাধিক বিদেশি সাংবাদিক। তাঁদের এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও তাদের শরিক দল অংশ নিচ্ছে।

নির্বাচনের আগের দিন আজ বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয় ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে। সেখানে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরের দিন শুক্রবার সকালে সারা দেশ থেকে আসা ফলাফল গণনা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

বিবিসির একজন সাংবাদিক নির্বাচন কমিশনারের কাছে জানতে চান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ দল কার্যত নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না—এতে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর ছায়া পড়ছে কি না? বাংলাদেশে এমন মানুষ থাকতে পারেন, যাঁরা ওই দলকে সমর্থন করতে চান, কিন্তু আগামীকাল ব্যালট পেপারে তাঁদের সেই পছন্দ থাকবে না। নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সরকার কি উদ্বিগ্ন নয়—এ প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভুলে গেলে চলবে না। দেড় দশক ধরে এই দেশ গণতান্ত্রিক ঘাটতির মধ্যে ছিল। এই সময়ে যাঁরা এখন ত্রিশের কোঠায়, তাঁরা কখনো ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। আমরা একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। যাঁরা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া সেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি। সে কারণেই কিছু সত্তা নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। তবে এতে ভোটার উপস্থিতি কমবে না—আপনারা আগামীকাল তা দেখবেন।’

সম্পূরক প্রশ্নে বিবিসির আরেক সাংবাদিক জানতে চান, তাহলে কি আপনি নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছেন? জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমি বলছি, এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের বিষয়। আমাদের জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না।’

# আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি কমার সম্ভাবনা দেখছে না ইসি
# নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভোটার উপস্থিতি কমার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে মানুষের মধ্যে সমান উৎসাহ রয়েছে। কিছুসংখ্যক মানুষ না-ও আসতে পারেন—এটি সব সময়ই ঘটে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে অধিকাংশ মানুষই ভোট দেবেন। আর যে দলের কথা বলছেন, তারা একা ছিল না—তাদের অন্য অংশীদাররা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সহিংসতার অভিযোগ আছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কি দুর্বল নয়—এ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘আমি একটি পাল্টা প্রশ্ন করি—কেউ কাজ করছে কি না, তা কি সব সময় দৃশ্যমান হয়? আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। নিরপেক্ষ সরকারের অধীন নির্বাচন সব সময় ভালো—বাংলাদেশ ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন সফল নির্বাচন করেছে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে সরকারি প্রভাব নেই। সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় এটি অন্যতম সেরা পরিবেশ। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা সতর্ক। ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সক্ষমতা মোতায়েন করা হয়েছে—৯ লাখ ৫০ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে, প্রথমবার ইউএভি, ড্রোন, বডি ক্যামেরা, সিসিটিভি ব্যবহার হচ্ছে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশি-বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আয়োজিত নির্বাচন কমিশনের ব্রিফিং। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল, ঢাকা। ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘১৩ ডিসেম্বর থেকে “অপারেশন ডেভিল হান্ট” শুরু হয়েছে; প্রায় ৯০০ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় রয়েছে। সাধারণ কোনো হুমকি নেই। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা ব্যবস্থা নেব।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘তবে আমরা এমন ঘটনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না। বিশেষ করে আজ রাতে সব রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে—আমরা সে বিষয়ে প্রস্তুত আছি। আর চরম পরিস্থিতিতে যদি কোনো কেন্দ্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে সেখানে ভোট নেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে সেদিনই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার জানান, পোস্টাল ভোটের রেজিস্ট্রেশন ডিজিটাল ছিল, বাকিটা ম্যানুয়াল। প্রতিটি পোস্টাল ভোট সংসদীয় আসন অনুসারে গণনা করা হবে। ভোটের দিন বিকেল চারটার মধ্যে যে ভোটগুলো পোস্টে পৌঁছাবে, শুধু সেগুলোই গণনা করা হবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা শুরু হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে দুই–তিন হাজার ভোট, দুই ধরনের ব্যালট—গণনায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা লাগতে পারে। রাত থেকে ভোরের মধ্যে প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে।’

ওই অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) প্রশ্ন করা হয়েছিল আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁরা এখন কারাগারে। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরণতি তাঁকে ভাবায় কি না? সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা এ পর্যন্ত যা করেছি, জাতির কাছে যে ওয়াদা দিয়েছি সে লক্ষ্যেই আইনকানুনের মধ্যে থেকেই কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই কাজ করছি। আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য দেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি বলেন, ভিন্নমত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি স্বাভাবিক বিষয়, এ বিষয়টি স্বরণে রেখে উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। ভোটদান আমাদের শুধু নাগরিক অধিকারই নয় বরং দায়িত্ব। সবাই সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটকেন্দ্রে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার্থে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের প্রতি দায়িত্বশীল ও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিইসি। ব্যক্তিগত কষ্ট তুচ্ছ করে জাতীয় নির্বাচনের এই ‘মহতী ব্যবস্থাকে’ সার্থক করে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

ভোটকেন্দ্রে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শক্ত হাতে মোকাবিলা করা হবে বলে ভাষণে উল্লেখ করেছেন সিইসি। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। পরদিন শুক্রবারের (১৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করবে ইসি।

 

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) গুলিবিদ্ধ হওয়ার যে খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রার্থী নিজেই জানিয়েছেন। নুরুল হক জানান, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত আছেন এবং বর্তমানে নিজ নির্বাচনী এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নুরুল হক গুলিবিদ্ধ হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দেয়।

বিষয়টি নজরে আনা হলে নুরুল হক জানান, তিনিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর দেখেছেন। তবে বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব দাবি করে তিনি বলেন, তাঁকে জড়িয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য হলো তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং তৃণমূল ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা।

তবে নুরুল হকের অভিযোগ, তাঁর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের লোকজন। এতে তিনি ও তাঁর সমর্থকেরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। নুরুল হক দাবি করেন, হাসান মামুনের স্ত্রী প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে প্রভাব বিস্তার করছেন। এর ফলে অভিযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এসব বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিত অভিযোগ দিয়েও ফল পাচ্ছেন না বলে জানান নুরুল হক। তিনি বলেন, প্রশাসনের লোকজন ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গতকাল রাতে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বোনের বাসার সামনে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে।

এসব ঘটনার কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আজ বুধবার পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান নূর।

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছে ৭৪ লাখ টাকা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভোটের আগের দিন আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে টাকাসহ তাঁকে আটক করা হয়।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বিকেলে বলেন, সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৪ লাখ টাকা। আইনি প্রক্রিয়া চলছে। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী তাঁকে বিমানবন্দরে আটক রেখে থানায় খবর দেয়।

এর আগে বেলা পৌনে একটার দিকে নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি বলেছেন যে তাঁর কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ অর্ধ কোটি টাকার বেশি। পুলিশ এখনও গুনে দেখেনি। সবার উপস্থিতিতে টাকাগুলো গোনা হবে।

পুলিশ জানায়, পরে টাকা গুনে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বেলাল উদ্দিন ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যান। তাঁর ব্যাগে আনুমানিক ৪০ লাখ টাকা আছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যে তাঁকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের দপ্তর সম্পাদক আবদুল মান্নান। তবে তাঁকে আটক করা হয়নি।

পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের হাজীপাড়ায়। তিনি শিক্ষকতা করেন।

ব্যাগে কত টাকা আছে জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘এখানে ৫০-৬০ লাখ, ৫০ লাখ প্লাস টাকা আছে।’ কিসের টাকা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার, গার্মেন্টসের।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন প্রধান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাজমুল হুদা বলেন, তাঁর (বেলাল উদ্দিন) বুকে ব্যথা হচ্ছিল। তখন তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেলাল উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনী পরিবেশে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বহনের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করছে জেলা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকায় বাসের চাপায় এক অটোরিকশা (ইজিবাইক) চালক নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার বেলা একটার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের খুটাখালীর গ্রামীণ ব্যাংক রাস্তার মাথা নামের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইজিবাইকের চালকের নাম মো. তারেক (২১)। তিনি ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের আউলিয়াবাদ গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বেলা একটার দিকে ইজিবাইক নিয়ে চালক মো. তারেক গ্রামীণ রাস্তা থেকে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারমুখী দ্রুতগামী পূরবী পরিবহনের একটি বাস তাঁকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের চালকের মৃত্যু হয় এবং ইজিবাইকটি দুমড়েমুচড়ে যায়।

মালুমাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বাসের ধাক্কায় ইজিবাইকচালক তারেক নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইজিবাইক পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে বাসটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

আজ বুধবার বেলা দুইটায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সব নারী বা মেয়ের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষসহ সমাজে যাঁরা বেশি বাধা–বৈষম্য–লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন নারী সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা–হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা নিয়ে যে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্বসংস্থাটি সচেতন বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়।

বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় বলেছে, রাজনৈতিক নেতা–কর্মী, সাংবাদিক, মানবাধিকার রক্ষাকারীসহ জনজীবন–সংশ্লিষ্ট কাজে কর্মরত নারীরা জানাচ্ছেন, সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি ও ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে।

জাতিসংঘ সব অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে বলে উল্লেখ করে বাংলাদেশে বিশ্ব সংস্থাটির কার্যালয়। তারা আরও বলে, নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে জাতিসংঘ। নারীসহ সব ভোটার যেন ভয়ভীতি–বৈষম্য–অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছে, যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য।

বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও প্রত্যেক ব্যক্তির অধিকারসহ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে বলে জাতিসংঘ বিশ্বাস করে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সব সময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করে এই বিশ্ব সংস্থাটি।

রাজধানীর ১৩টি আসনে ১৪শ' ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র আছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং অফিসার ও ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিটার্নিং অফিসার বলেন, এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। এছাড়া, অন্য কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই সিসিটিভির আওতায় থাকবে। ঝুঁকিপূর্ন কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি আছে সরকারের।

এদিকে, ভোট গণনার সব কেন্দ্রেও থাকবে সিসিটিভি সুবিধা। কোনো কারণে বিদুৎ বিভ্রাট হলে আলোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলেও জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি ভোটকেন্দ্রকে নানা কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশে সুযোগ অন্বেষণ, নাগরিক পরিষেবা গ্রহণ এবং টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টিতে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো ও পারস্পরিক নেটওয়ার্ক জোরদারের লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপ ‘শুভেচ্ছা’ এবং যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্ম ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তাইয়্যেব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই দুই ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সংক্ষেপে প্ল্যাটফর্ম দুটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করা হয়।

‘শুভেচ্ছা’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই একশটিরও বেশি নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। অন্যদিকে, উৎসব-উদযাপনের দিনসহ অন্যান্য সময়েও বাস, রেল ও বিমানযাত্রায় অনিয়ম রোধ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘দ্রুত টিকেট’ চালু করা হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম দুটি সফলভাবে চালু হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, সরকারের সব সেবা যেন ভোগান্তি ছাড়াই নাগরিকদের কাছে পৌঁছে যায় এটাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। আজ এই দুটি প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হলো। এটি কেবল একটি সূচনা। প্ল্যাটফর্ম দুটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে নিয়ে যেতে হবে এবং আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। আশা করছি, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এই দুটি উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেবে।

দেশব্যাপী বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল (১২ ফেব্রুয়ারি)। এ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও যেকোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে মাঠে থাকছে পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকায় চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কোনো ধরনের আশঙ্কা নেই, তবুও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটারদের আশ্বস্ত করার কথা জানিয়ে ডিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে এবং নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। পুলিশ আপনাদের পাশে রয়েছে।

কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো হুমকি বা ঝুঁকির আশঙ্কা করছি না। সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে, পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।