রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার আসামি সোহেল রানা দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। 

বুধবার (২০ মে) রামিসা হত্যার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও সহযোগী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। 

পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার দিকে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

 

গণমাধ্যম সংস্কারে সরকার সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, এ পর্যন্ত গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা, সুপারিশ ও নীতিগত প্রস্তাব এসেছে, সেগুলোই ভবিষ্যৎ কাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রস্তাব তৈরি করা হবে।

‘পাবলিক ইন্টারেস্ট মিডিয়া অ্যান্ড হেলদি ইনফরমেশন এনভায়রনমেন্ট (পিআইএমএইচআইই)’ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে পরিচালিত ‘পিআইএমএইচআইই’ প্রকল্পের আওতায় এ সভার আয়োজন করে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাত নিয়ে ইতিমধ্যে সম্পাদক, গণমাধ্যমমালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরামর্শ কমিটি গঠনের পর আবারও সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত যেসব আলোচনা ও নথিপত্র তৈরি হয়েছে—সবই আমাদের ভবিষ্যৎ কাজের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’ গণমাধ্যম সংস্কার শুধু সরকারের একক দায়িত্ব নয়, এটি সরকার, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী ও নাগরিক সমাজ—সব পক্ষের যৌথ দায়িত্ব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সরকার একদিকে যেমন এ খাতের অংশীদার হিসেবে কাজ করবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সমন্বয়কারীর ভূমিকাও পালন করবে বলে উল্লেখ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, লক্ষ্য থাকবে জনগণের জন্য সুস্থ ও দায়িত্বশীল তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, উন্নয়ন সহযোগী, সাংবাদিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখছে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি জবাবদিহিমূলক ও পেশাদার গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।

গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত নয়

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার গণমাধ্যমের সঙ্গে সংঘাত নয়, বরং অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে এমন আইন ও নীতিমালা থেকে সরকার সরে আসতে চায় এবং এ বিষয়ে সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ২০ মে
বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ২০ মে
 

বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন হলেও তা কোনোভাবেই যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে বলে উল্লেখ করেন জাহেদ উর রহমান। গণতান্ত্রিক সরকার গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এগোনো হবে।

গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি

বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ২০ মে
বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ২০ মে
 

সংলাপে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সেন্সরশিপের অনুপস্থিতি নয়, এর সঙ্গে জড়িত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, পেশাগত মানদণ্ড ও জবাবদিহির সংস্কৃতি। তিনি বলেন, স্বাধীন ও বহুমাত্রিক গণমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি, যা ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির মধ্যে রাখে এবং জনগণের আস্থা গড়ে তোলে। তবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম খাত এখনো সীমাবদ্ধ আইনি কাঠামো, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ, অপতথ্যের বিস্তার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সারাহ কুক বলেন, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং সরকারের সংস্কার উদ্যোগ বাংলাদেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যমব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে।

অনুষ্ঠানে গত ১৫ মাসে প্রকল্পটির অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বিবিসির সিনিয়র মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট অফিসার আরাফাত আলী সিদ্দিক। বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পের আওতায় সম্প্রচার সাংবাদিকদের জন্য দেশের প্রথম নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ, সংবাদকক্ষের জন্য যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া নির্দেশনা তৈরি, নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশন নির্দেশিকা ও ই-পুস্তিকা উন্নয়ন এবং গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ আয়োজন করা হয়।

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার রাশেদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের ডিরেক্টর অব প্রোগ্রাম রিচার্ড লেইস। এরপর বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুনের সঞ্চালনায় সংলাপে বক্তব্য দেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ।

রাজধানীতে চলতি মাসে এই প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে আজ বুধবার। এ বছর গ্রীষ্ম মৌসুম শুরুর পর রাজধানীতে তাপপ্রবাহের দিন ছিল হাতে গোনা।

আজ নগরীতে ভ্যাপসা গরম পড়েছে। এতে বেশি কষ্টে পড়েছেন রাস্তায় কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ। এই প্রচণ্ড গরমের কারণ রাতের তাপমাত্রার বৃদ্ধি, এমনটাই বলছেন আবহাওয়াবিদেরা। গত রাতে রাজধানীর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর প্রভাব পড়েছে দিনে। এ অবস্থা আরও দুয়েক দিন থাকতে পারে বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আজ ঢাকাসহ দেশের সাত জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজধানীতে আজ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলেই তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। ঢাকা ছাড়া আজ যেসব এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, সেগুলো হলো বাগেরহাটে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যশোরে ৩৬ দশমিক ৮, সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৪, খুলনায় ৩৬ দশমিক ২, পাবনা ও রাজশাহীতে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মধ্যে বাগেরহাটের তাপমাত্রা আজ দেশের সর্বোচ্চ।

রাজধানীতে আজ গরমের তীব্র অনুভূতির প্রধান কারণ রাতের তাপমাত্রা বা সর্বনিম্ন তাপমাত্রার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এ তাপমাত্রা হলো ২৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক আজ বলেন, রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। আজ দিনে গরম বাড়ার মূলেই আছে এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা। কারণ, এ সময় দিনের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি রাজধানীর জন্য খুব বেশি নয়। কিন্তু গরমের অনুভূতি হচ্ছে অনেক বেশি। চলতি মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়। বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাস মে তার নিজ রূপে আবির্ভূত হয়নি এত দিন। প্রায় চার দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। তবে রাজধানীতে আজই প্রথম।

আগামী অন্তত দুই দিন এমন গরম এবং বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম মল্লিক।

আজ রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেলেও বৃষ্টি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের একাধিক এলাকায় আজ বৃষ্টি হয়েছে। রাজধানীতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে, তবে তা হতে পারে সামান্য।

ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।

আজ বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খরব হচ্ছে, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে। হাম নিয়ন্ত্রণে।

দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা–সংকটের কারণ, টিকা–সংকট কাটিয়ে উঠতে ইউনিসেফ কী করেছে, এই সংকট আর যেন না হয়, সে বিষয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বারবার বলেন, হামে শিশুমৃত্যু দুঃখজনক।

টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’

সাংবাদিকদের রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা ক্রয় করতে পারে। মনে রাখতে হবে, টিকার মজুত নিশ্চিত থাকা জরুরি। উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে টিকা সংগ্রহ করতে এক বছরের মতো সময় লেগে যায়। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ করা যায়।

দেশে চলতি বছর হামে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর বেশির ভাগই শিশু। ইতিমধ্যে মারাত্মক এই ভাইরাসে ৪৭৫ জন মারা গেছে। বাংলাদেশে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি। গত আড়াই দশকে কখনো দেশে হামের সংক্রমণ ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে হামের সর্বাধিক রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২০০৫ সালে, ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এর পর থেকে রোগী কমে আসে। ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। আগের পাঁচ বছরের (২০২০ থেকে ২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭। এ সময়ে মৃত্যুর ঘটনা ছিলই না। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামের প্রকোপ শুরু হয়। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকাদানে গাফিলতি এবার হামের এই মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এর আগে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, হাম নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে হাসপাতালের পুরোনো আইসিইউ ইউনিটসংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর তাঁকে দ্রুত বাইরে নেওয়া হলে হাসপাতালের বারান্দায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই আইসিইউতে থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর পাঁচটার দিকে মারা যান।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ বুধবার সকালে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওটি বিভাগে লন্ডভন্ড অবস্থা দেখা যায়
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আজ বুধবার সকালে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওটি বিভাগে লন্ডভন্ড অবস্থা দেখা যায়
 

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

দিলীপ কুমার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধোঁয়ার মধ্যে আমরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলাম। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামের রোগীর স্বজনেরা তাঁকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাঁদের মধ্যে দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধোঁয়ার কারণে ইমারজেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নার্সদের উদ্ধার করেন। একজন নার্সকে তিনতলা থেকে নামানোর সময় পড়ে যেতে দেখা যায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মো. মাসুদ সরদার বলেন, সকাল ছয়টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।

২০১৫ সালে বরিশালের ছাত্রদল ও জাসাসের ২ নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।

এই মামলার ৪ আসামির মধ্যে দুজন বরিশালের উজিরপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. মাহাবুল ইসলাম ও মো. জসিম উদ্দিন কারাগারে আছেন। আর পলাতক আছেন আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ।

মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ১৭ জুন থেকে শুরু হবে। মোট সাক্ষী ২৮ জন। এদিন আসামিদের অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদন খারিজ করা হয়।

এর আগে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার নির্জন হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পূর্ব মাইজপাড়া এলাকায় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের বাড়িতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে একদল ডাকাত জড়ো হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে তানজিম সারোয়ার নির্জনের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

এসময় লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার একজন ডাকাতকে আটক করলে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে অন্য ডাকাতরা। একপর্যায়ে লেফটেন্যান্ট নির্জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তারা।  গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। 

 

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।

আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানান মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। ডিএমপির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর প্রথম ‘মিট দ্য প্রেস’।

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনুষ্ঠানে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন। এক সাংবাদিক বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু ডিএমপির বিষয় নয়। এর সঙ্গে সিটি করপোরেশন, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তি চালুর পর যদি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ না করে, তাহলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে কি না।

জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে থাকা সিসিটিভির সঙ্গে এআই যুক্ত করে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এটি ডিএমপির নিজস্ব উদ্যোগ। ঢাকা শহরের ভৌত অবকাঠামো, জনসংখ্যা, যানবাহনের চাপ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই পদ্ধতি তৈরি করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে এটি চালু করা হবে।

অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যেখানে সমন্বয় প্রয়োজন, সেখানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। বর্তমানে এ সহযোগিতা ভালো রয়েছে।

অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ডিএমপির কমিশনার বলেন, আগে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমান সরকারের সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে যুক্ত রাখা হচ্ছে।

আরেক সাংবাদিক বলেন, রাজধানীতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চলাচলকারী যানবাহনের অন্যতম ব্যাটারিচালিত রিকশা। কিন্তু এগুলোর বেশির ভাগের কোনো নিবন্ধন নম্বর নেই। আইনগত অনুমোদনও নেই। ফলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বৈধ যানবাহন ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে এআই ক্যামেরা নম্বর প্লেট শনাক্ত করে মামলা দিতে পারে। কিন্তু যেসব ব্যাটারিচালিত রিকশার কোনো নম্বর প্লেটই নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধে কীভাবে মামলা দেওয়া হবে?

জবাবে ডিএমপির কমিশনার বলেন, অন্যান্য মহানগরের সঙ্গে ঢাকার তুলনা করা কঠিন। কারণ, রাজধানীতে জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ অনেক বেশি। ব্যাটারিচালিত রিকশার বর্তমান পরিস্থিতি এক দিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে এসব যানবাহনের বিস্তার ঘটেছে। বিগত সরকারের সময়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাকে কেন্দ্র করে একটি বড় সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল। গত ১৫ বছরে এসব যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৪৮টি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪১টি ব্যাটারি জব্দ, ৩ হাজার ৫১৮টি যান ডাম্পিং এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিট জব্দ ও ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শুধু পুলিশের পক্ষে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য পুলিশ, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব যানবাহনের সংখ্যা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহনের চাপ, সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা ও যানজটের পরিস্থিতি দ্রুত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রশীদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান কপোরেশন এমপ্লয়িজ (সার্ভিস) রেগুলেশনস ১৯৭৯–এর অনুচ্ছেদ ৫৮–এ ক্ষমতাবলে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মিজানুর রশীদকে নির্বাহী পরিচালক (ইডি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পরে বিকেল গড়াতেই সেই আদেশ রহস্যজনকভাবে বাতিল করা হয়েছে। গতকাল এই ঘটনা ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিমান সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদের সই করা এক আদেশে মিজানুর রশীদকে পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এই খবর প্রকাশের পর বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে তাঁকে অভিনন্দন জানান।

তবে কয়েক ঘণ্টা না যেতেই পরিস্থিতিতে নাটকীয় মোড় নেয়। বিকেলে একই বিভাগ থেকে আরেকটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পদোন্নতি ও পদায়নের আগের আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করা হয়। কী কারণে এত দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো, তা নিয়ে বিমানের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।

বিমানের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হয়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পান, তবে বিষয়টি নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখনো অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ মার্চ মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) পদে থাকাকালে তাঁকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিনই তাঁকে আবার প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও দেওয়া হয়, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চ পদ।

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, এখনো আসামিকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যার পর তার মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগারে পাওয়া যায়। শিশুটির শরীরের মূল অংশটি পাওয়া যায় খাটের নিচ থেকে।

পুলিশ জানায়, সোহেল রানা ওই কক্ষে দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে ওই বাসা থেকে তাঁর স্ত্রীকে তখনই আটক করা হয়।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, শিশুটির নিখোঁজের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে হত্যা করা হয় আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে। ৯৯৯ নম্বরে সংবাদ পেয়ে বেলা ১১টার পর শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তাঁর বাবার নাম আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি একটি রিকুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। মায়ের নাম পারভীন আক্তার। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে রামিসা ছোট। বড় মেয়ে রাইসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীর মিরপুর–১১ নম্বরের সেকশনের বি ব্লকের সাত নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার উত্তর পাশের ফ্ল্যাটে বসবাস করছে। শিশুটির লাশ পাওয়া যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে।

রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ
রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, ছবি: সংগৃহীত
 

এর আগে পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার আজ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের বলেন, শিশুটিকে হত্যায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের ভাড়াটে সোহেল রানাকেই মূল সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পেশায় রিকশার মেকানিক। তাঁর কক্ষ থেকেই রক্তমাখা কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শিশুটির পরিবার যা জানাল

আজ দুপুরের পর পল্লবীর ওই বাসার সামনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। ভিড় ঠেলে বাসায় ঢুকতেই দেখা যায়, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা আলামত সংগ্রহ করছেন। রামিসাদের বাসায় স্বজনদের ভিড়। একটি কক্ষে রামিসার মা–বাবা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে বসে ছিলেন।

রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোন রাইসার সঙ্গে রামিসার স্কুলে যাওয়ার কথা। হঠাৎই রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর মা পারভীন ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে দেখেন, রামিসার পায়ের একটি জুতা পড়ে আছে। তখন পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় নক করেন। ভেতর থেকে বন্ধ দরজাটি তখন খোলা হচ্ছিল না। অনেক সময় ধরে নক করা হলেও দরজা খোলা হয়নি। এতে সন্দেহ আরও বাড়ে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রামিসার লাশ পায়।

ঢাকা

সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সমন্বিত রেগুলেশনের জন্য দেশে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে জুনের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন,  সমন্বিত রেগুলেশনের মধ্যে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারে ও বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতেও এটি বলা হয়েছে। তারা সেই লক্ষ্যে এগোতে চান। অগ্রগতি হচ্ছে, সব অংশীজনই এখন এই লক্ষ্যের সঙ্গে যৌথ যাত্রার মধ্যে আছেন। 

তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুন মাসের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে।