বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করেছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন দলটি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার গঠন করা হবে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ নতুন এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামোও প্রায় চূড়ান্ত। এতে দলের সিনিয়র ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদেরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, প্রশাসনে গতিশীলতা আনা, নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সংযোজন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি; এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০০১–২০০৬ মেয়াদের সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন মন্ত্রীকেও এবারের মন্ত্রিসভায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে অতীতে যেসব মন্ত্রণালয় তুলনামূলকভাবে বিতর্কমুক্ত ছিল এবং যেসব নেতার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে, তাদের নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

মন্ত্রিপরিষদে নতুন মুখ, টেকনোক্র্যাট কোটায় চমক

মন্ত্রিপরিষদে একাধিক নতুন মুখ যুক্ত করতে যাচ্ছে বিএনপি। এদের মধ্যে প্রায় সবাই অপেক্ষকৃত তরুণ বা কমবয়সী। এদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

পাশাপাশি বিএনপির আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র (প্রতিমন্ত্রী) মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটর সদস্য ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুকে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।

এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থমন্ত্রী করা হতে পারে। একইসঙ্গে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অথবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদকে আইন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হতে পারে বলে বিবেচনা করছে দলটি।

থাকবেন অভিজ্ঞরাও

বিএনপির দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ২০০১ সালে তিনি ছিলেন কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে। যদিও তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন এমন আলোচনাও রয়েছে। তবে সেটি যেহেতু সময়সাপেক্ষ, তাই ততদিন হয়তো মন্ত্রিপরিষদেই রাখা হবে তাকে।

পাশাপাশি অভিজ্ঞদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়; ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, মির্জা আব্বাসকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

আলোচনায় আরও যারা

দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজ কল্যাণমন্ত্রী হিসেবে আবদুস সালাম পিন্টুর নামও শোনা যাচ্ছে।

আলোচনায় আছেন সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু এবং রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

একইভাবে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল ও আজিজুল বারী হেলাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলালের নাম। এছাড়া বিএনপির নারী নেত্রীদের মধ্যে শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল, তাহসিনা রুশদীর লুনা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

বঞ্চিত করা হচ্ছে না যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের

বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দমন-পীড়নের সময় সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করা দলগুলোকেও সুসময়ে বঞ্চিত করছে না বিএনপি। এ ব্যাপারে বিএনপি আগেই জানিয়েছিল যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করবে তারা। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদে থাকছেন যুগপৎ আন্দোলনের একাধিক নেতা।

এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।

এর মধ্যে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ১২-দলীয় জোট-প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন।

কে হবেন স্পিকার?

স্প্রিকার হিসেবে শোনা যাচ্ছে বিএনপি আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমিরের নাম। তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং সাবেক স্প্রিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে।

সরকার গঠন ও মন্ত্রিসভা

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে শপথগ্রহণ করবেন। এরপর স্প্রিকার নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং মতামতের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর তার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। মন্ত্রিসভায় কতজন থাকবেন বা সরকারের আকার ঠিক কতটা বড় বা ছোট হবে সেটি নির্ধারণ করবে বিজয়ী দল।

 

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশত্যাগ করেছেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে তিনি জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ইমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট (ইকে–৫৮৩) যোগে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দেন। তার সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফয়েজ আহমদ নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের প্রতিষ্ঠান ভোডাফোন জিংগো–তে সিনিয়র সফটওয়্যার সলিউশন আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত আছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে এনসিপি গঠনের লক্ষ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেন নাহিদ ইসলাম। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়টি শূন্য হলে সে বছরের ৫ মার্চ প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান ফয়েজ আহমদ। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগে ‘পলিসি এডভাইজার (সংস্কার ও সমন্বয়)’ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

তার আকস্মিক দেশত্যাগকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ৩০০ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে এককভাবে সরকার গঠন করতে কমপক্ষে ১৫১ আসন প্রয়োজন। দুই শতাধিক আসন পাওয়ায় বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। 

ভোটের পর এখন নতুন মন্ত্রিসভার অপেক্ষা। গেজেট জারির পর শপথ নেবেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এরপর শুরু হবে নতুন সরকারে গঠনের প্রক্রিয়া। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন হতে পারে বলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  

বিএনপি সরকারে কতজন মন্ত্রী থাকবেন এবং কে কোন দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলা হলেও একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে বিভিন্ন দপ্তরে দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মন্ত্রিত্ব দিতে আগ্রহী দলটি।

এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে পেতে চলেছেন, তা নিয়েও দলের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে।

বিএনপির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিজয়ী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দায়িত্ব নিতে পারেন। তিনি এর আগে বিএনপি সরকারের আমলে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবিরকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকেও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। বিএনপির তরুণ নেতাদের মধ্য থেকেও নতুন মুখ আসতে পারে।

তবে চূড়ান্তভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব কে পালন করবেন, সে জন্য আরও দু-একদিন অপেক্ষা করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বেসরকারিভাবে ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

 

আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) শপথ নেবেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। একই দিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেবে নতুন মন্ত্রিসভা।

সূত্র জানায়, সোমবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরইমধ্যে এ নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

এমপিদের শপথ গ্রহণের পর ওইদিন বিকেলেই রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে হাজির হবেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি।

ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিলের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া অতিরিক্ত দায়িত্বে এসেছেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থে জারীকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। বিসিএস ৮২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা  আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অতিরিক্ত সচিব থেকে অবসরে যান গিয়েছিলেন।

চব্বিশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব করা হয়েছিল। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে নিয়োগ পান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুইদিনের মাথায় নতুন সরকার গঠনের আগ মুহূর্তে শেখ আব্দুর রশীদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০টি সংসদীয় আসনের ফলাফল স্থগিত রেখে পুনর্গণনার জন্য আবেদন করেছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি আসনগুলোতে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ স্থগিত রাখার জন্যও আইন প্রদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

জামায়াত বলছে, এসব আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর সঙ্গে বিজয়ী ঘোষণা করা প্রার্থীর ব্যবধান খুবই অল্প। যেখানে ভোটের সর্বোচ্চ ব্যবধান হয়েছে ১০ হাজার মতো। আসনগুলোতে তারা জয়ের বার্তা পাচ্ছিল, যখন ভোগ গণনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ভোট পুনরায় গণনা হলে তারা জয় পাবে বলে আশা ব্যক্ত করেছে।

আসনগুলো হচ্ছে, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫, লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট- ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-১, বরগুনা-২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১ (রিকশা), ময়মনসিংহ-৪, ময়মনসিংহ-১০, কিশোরগঞ্জ- ৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩ (রিকশা), ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাক্ষণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।

ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় প্রতিপক্ষের আক্রমণের শিকার হচ্ছে জামায়াতের এজেন্ট সমর্থক ও নারীরা। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

তার মতে, ঢাকার কিছু আসনে ফলাফল দিতে অনেক দেরি হয়েছে। আবার কিছু জায়গায় খুব দ্রুত ফলাফল দেয়া হয়েছে। সেগুলোতে তিনি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখছেন।

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, যারা সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে, তারা নেতাকর্মীদের সহিংসতা রুখতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। জামায়াতে ইসলামী আশা করেছিল ফ্যাসিবাদী আচরণমুক্ত নতুন বাংলাদেশে হবে।

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ধানাইদহ গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগই জামায়াতের। এ ছাড়া দলটির ছয় নেতার বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। এ ঘটনায় এক বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ধানাইদহ বাজারে জামায়াত কর্মী সাকিব হোসেন ও বিএনপি কর্মী রাতুল আহম্মেদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কিল-ঘুষি মারার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য আজ সকালে ধানাইদহ বাজারে উভয় পক্ষের মধ্যে সালিস বসার কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে নগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাফ সরকারের নেতৃত্বে দলের ৪০–৫০ জন কর্মী ধানাইদহ বাজারে যাচ্ছিলেন। বাজার–সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে তাঁদের সঙ্গে দেখা হয় নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর হাসিনুর রহমানের। এ সময় বিএনপি কর্মীরা হাসিনুরের ওপর হামলা চালান। রামদা ও চাপাতির আঘাতে জামায়াতের এই নেতা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএনপি নেতা–কর্মীরা ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, আবদুস সোবহান এবং পশ্চিম পাড়ার সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ হোসেন ও হাফিজুর রহমাানের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। এ সময় জামায়াতের সমর্থকেরা বাড়িঘর থেকে বের হয়ে বিএনপি নেতা–কর্মীদের ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। এতে বিএনপি নেতা আসাফ সরকার এবং জামায়াত কর্মী সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, রায়হানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।

আহত ব্যক্তিদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় জামায়াত নেতা হাসিনুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের বেশির ভাগ চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন।

আজ বেলা দেড়টার দিকে ধানাইদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ। বাজারের মোড়ে অর্ধশতাধিক পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। সেখান থেকে ধানাইদহ পূর্বপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, জামায়াত সমর্থক ছানোয়ার হোসেন, তাঁর ভাই সৈয়দ ইব্রাহিম হোসেন ও সোবহানের টিনের বাড়ি তছনছ করা হয়েছে। ঘরের বেড়ার টিন কেটে চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে। ছানোয়ারের বাড়ির শয়নকক্ষের রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, সেলাই মেশিনসহ অন্যান্য আসবাব ও কাপড়চোপড় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে।

ভুক্তভোগী সৈয়দ ইব্রাহীম আলী জানান, ঘটনার সময় প্রতিপক্ষের লোকেরা কয়েকটি গুলি ছুড়েছেন। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রও ছিল। ছানোয়ার হোসেনের স্ত্রী মনি বেগম বলেন, ‘বিএনপির লোকজন আমার মেয়ের বিয়ের তিনটি সোনার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। হামলাকারীরা চুলার রান্না করা ভাত ও তরকারি মাটিতে ফেলে দিয়ে গেছে। আমাদের ঘরে ১০ টাকার জিনিসপত্রও নাই।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিশ সুপার আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহনশীল না হলে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা যাবে না। এ ঘটনায় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আসাফ সরকারসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে। মামলা হবে।’

এদিকে গতকাল বিকেলে লালপুর উপজেলার ডহরশোলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল মতিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করার ঘটনা ঘটেছে। তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী তাইফুল ইসলামের কর্মী ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিনের কর্মী আবদুল মজিদ ও তাঁর সহযোগীরা প্রকাশ্যে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।

তবে অভিযুক্ত আবদুল মজিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। লালপুর থানার পুলিশ ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ বিষয়ে নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে নির্বাচিত বিএনপির আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শুনেছি-ধানাইদহের ঘটনাটি নির্বাচনকেন্দ্রিক না। তবে নির্বাচনের পর পরই যেহেতু ঘটনাটি ঘটেছে ,তাই আমি প্রশাসনকে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এতে বিএনপির কেউ দায়ী হলে তাঁর দায় বিএনপি নেবে না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হচ্ছেন ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে নির্বাচন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মঞ্চে তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, তিনি (তারেক রহমান) আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ২৯৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এবার দেশ গড়ার পালা। দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার পরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এই নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। সেখানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকেরা উপস্থিত আছেন।

নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে
নির্বাচন–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে, ছবি: সংগৃহীত
 

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন দুর্বলতা। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

শান্তভাবে বিজয় উদযাপন করেছেন বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নেতা–কর্মীদের তিনি সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।

দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে বলেন তারেক রহমান। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তারেক রহমান।

গত বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও (চট্টগ্রাম–২,৪) বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। একটি আসনে জয় পেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সাতটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা দুই বিষয়ে শপথ নেবেন। একটি জাতীয় সংসদ ও অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কারের পক্ষে গণরায় এসেছে। এটা জুলাইয়ের স্বীকৃতি। ১৬ বছরের অনাচারের বিরুদ্ধে জনআকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট থাকলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আলাপ-আলোচনা ও ঐক্য বজায় রেখে সবার উচিত সনদ বাস্তবায়ন। অনেকে শুধু গণভোটে ভোট দিয়েছেন বলে সংসদ নির্বাচনের চেয়ে এক ভাগ ভোট বেশি পড়ে গণভোটে।

আলী রীয়াজ বলেন, অধিকাংশ মানুষ আর পুরানো ব্যবস্থায় ফেরত যেতে চায় না, একারণেই গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হয়েছে। সংস্কার এগিয়ে নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে। অঙ্গীকার অনুযায়ী দলগুলো কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন এমপিদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠান হবে।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের শপথ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেছেন, ‘খুব দেরি হলেও এটা ১৬ কিংবা ১৭ (ফ্রেব্রুয়ারি) তারিখ। এর পরে যাবে না।’

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এ কথা জানান।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘শপথের প্রস্তুতির কাজ গতকাল (শুক্রবার) থেকেই শুরু হয়েছে। আজ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি কাজগুলো খুব দ্রুতগতিতে চলছে। প্রধান উপদেষ্টা কালকেও কাজ করেছেন, আজকেও করছেন। টিম কাজ করছে, ক্যাবিনেট কাজ করছে।’

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল আলম বলেন, ‘এটা পরে জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ ১৭ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন হবে।’

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি। তিন দিনের মধ্যে এটি না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এখন সিইসিকে দিয়ে শপথ পড়াতে হলে গেজেট প্রকাশের পর তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। এর বিকল্প কোনো কিছু করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে যদি কোনো বিকল্প প্রস্তাব আসে, তাহলে এর আগেই সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন সরকারও দায়িত্ব নেবে।

সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।

প্রকৃতিতে আজ নবপ্রাণের স্পন্দন। বসন্তের রঙিন ছোঁয়ায় চারদিক যেন জেগে উঠেছে। কচি পাতার সবুজে, আগুনরাঙা শিমুল-পলাশের শোভায় প্রকৃতি আজ নতুন করে জীবনগান গাইছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, ‘আজি খুলিয়ো হৃদয়দল খুলিয়ো,/ আজি ভুলিয়ো আপন–পর ভুলিয়ো,/ এই সংগীতমুখরিত গগনে/ তব গন্ধ তরঙ্গিয়া তুলিয়ো।’

আজ পয়লা ফাল্গুন, বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। মাঘের শেষ বিকেলেও যে হিমেল পরশ টিকে ছিল, আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তা যেন মিলিয়ে গেছে। এই মহানগরের ইট-পাথরের ধূসরতা ছাপিয়ে আজ রাজপথ দখলে নিয়েছে বাসন্তী রং। বইছে দখিনা সমীরণের মৃদু হিল্লোল। অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া। এই পোশাকি বৈচিত্র্য যেন ঢাকার যান্ত্রিক চেহারাকে একনিমেষে মুছে দেয়।

আজ পয়লা ফাল্গুন, বাঙালির প্রাণের ঋতু বসন্তের প্রথম দিন। মাঘের শেষ বিকেলেও যে হিমেল পরশ টিকে ছিল, আজ ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই তা যেন মিলিয়ে গেছে। এই মহানগরের ইট-পাথরের ধূসরতা ছাপিয়ে আজ রাজপথ দখলে নিয়েছে বাসন্তী রং। বইছে দখিনা সমীরণের মৃদু হিল্লোল।
আগুন রাঙা পলাশের দেখা মেলে এই বসন্তে
আগুন রাঙা পলাশের দেখা মেলে এই বসন্তে

আজ পয়লা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজ এ উৎসব হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনই জানিয়েছে বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ।

অন্যান্য বার এই দিনে অমর একুশে বইমেলা থাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি এলাকা তরুণ–তরুণীদের পদচারণে মুখর থাকত। তবে এবার পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। তবু বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের উচ্ছ্বাসে কোনো ভাটা পড়ছে না।

অনেক তরুণীর পরনে হলুদ, বাসন্তী আর কমলা রঙের শাড়ি; মাথায় গাঁদা ফুলের মুকুট। অন্যদিকে ছেলেদের পরনে রঙিন পাঞ্জাবি অথবা ফতুয়া। এই পোশাকি বৈচিত্র্য যেন ঢাকার যান্ত্রিক চেহারাকে একনিমেষে মুছে দেয়।

নতুনের আবাহনের ঋতু

বসন্তের সাজে এক নারী
বসন্তের সাজে এক নারী

বসন্ত মানেই জড়তা ঝেড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। রুক্ষ মাটির বুক চিরে যেমন নতুন ঘাস মাথা তোলে, তেমনি মানুষের মন থেকেও ক্লান্তি আর বিষাদ মুছে দিতে আসে ফাল্গুন।

বসন্তে বাংলাদেশের গ্রামবাংলার চিত্র আরও বেশি সতেজ হয়ে ওঠে। মাঠের পর মাঠ হলুদ শর্ষে ফুলের সমারোহ এখন কিছুটা কমলেও আম্রকাননে মুকুলের ম-ম ঘ্রাণ জানান দেয় ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। যে শিমুলগাছটি সারা বছর নিঃশব্দে, প্রায় অবহেলায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেটিই এখন লালে লাল হয়ে দূর থেকেই পথচারীর দৃষ্টি কাড়ে। গ্রামে পুকুরপাড়ে ঝরে পড়া শজনে ফুল কিংবা মেঠো পথে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ মনে করিয়ে দেয়—বসন্ত শুধু রঙের নয়, নতুনের আবাহনেরও ঋতু।

আজ পয়লা বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় উৎসবে যোগ হয়েছে বাড়তি মাত্রা। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় চিরাচরিত বসন্ত উৎসবের ঠিকানা পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজ এ উৎসব হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে সাতটায়, সীমিত পরিসরে।

প্রকৃতিতে রঙের উৎসব

বসন্ত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ
বসন্ত উৎসবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ
 

ফাল্গুনকে বলা হয় ফুলের মাস। এ সময় বনে-বাগানে, পথের ধারে কিংবা গ্রামের উঠোনে ফুটে ওঠে বিচিত্র রঙের সমারোহ। পলাশের আগুনরাঙা ছটা, রক্তকাঞ্চনের গাঢ় লাল আভা, শিমুলের নরম পাপড়ি, অশোকের বিমোহিত সৌন্দর্য, সব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্কে গেলে দেখা মেলে রক্তকাঞ্চন, গামারি ও উদালের উচ্ছ্বাস। আম্রকুঞ্জে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।

বসন্তের দ্বিতীয় অংশ চৈত্রে এসে প্রকৃতি রূপ বদলায়। ফুলের উচ্ছ্বাস কমে আসে, গরম বাড়তে থাকে। দুপুরের রোদ তীব্র হয়। চৈত্র মানেই রোদের কড়া শাসন। এ সময় বাতাসে ধুলো মেশে। গাছের পাতা ঘন সবুজ হয়ে ওঠে, কিন্তু তাতে আর ফাল্গুনের কোমলতা থাকে না। মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়া, পুকুরের পানি শুকিয়ে আসা আর প্রকৃতির রুক্ষতা, সবই জানান দেয় যে গ্রীষ্মের দাবদাহ দোরগোড়ায়।

তবে চৈত্রের এই খরতাপেরও একটা নিজস্ব সৌন্দর্য আছে। ঝরাপাতার মচমচ শব্দ আর বিকেলের হলদেটে রোদে একধরনের উদাসীনতা কাজ করে। বাংলার লোকজ সংস্কৃতিতে চৈত্রসংক্রান্তি এক বিশাল আয়োজন। বছরের শেষ দিনটিকে ঘিরে যে মেলা আর উৎসব হয়, তা মূলত জরা ও ক্লান্তিকে ধুয়েমুছে নতুন বছরকে বরণ করার এক প্রস্তুতি।

রাজধানীর ‘ফুসফুস’খ্যাত রমনা পার্কে গেলে দেখা মেলে রক্তকাঞ্চন, গামারি ও উদালের উচ্ছ্বাস। আম্রকুঞ্জে মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় বাতাসে, কোকিলের কুহুতানে ভরে ওঠে চারদিক। এই মাসে বাতাসে মিশে থাকে এক মৃদু উষ্ণতা, যা শীতের মলিনতাকে নিঃশব্দে মুছে দেয়।

নবজাগরণ অনিবার্য

একদিকে ফাল্গুনের অফুরন্ত দান, অন্যদিকে চৈত্রের সব কেড়ে নেওয়ার প্রবণতা, এ দুইয়ের মেলবন্ধনেই আমাদের জীবন আবর্তিত হয়। বসন্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবন যেমন রঙিন হতে পারে, তেমনি কঠোর ও শুষ্ক হওয়াটাও প্রকৃতির নিয়ম।

আজকের এই সময়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে যখন ঋতুচক্রই বিপর্যস্ত, তখন বসন্তের চিরচেনা রূপ ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বন উজাড় আর ক্রমবর্ধমান দালানকোঠার ভিড়ে শিমুল-পলাশ ক্রমেই কোণঠাসা। তবু ঋতুরাজ প্রতিবছর ফিরে আসে তার নিজস্ব মহিমায় আমাদের মনে করিয়ে দিতে যে শীতের রিক্ততার পর নবজাগরণ অনিবার্য। প্রকৃতির এ চক্রই আমাদের আশাবাদী করে তোলে।