রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে কঠোর অভিযানে নামছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এই অভিযান সাধারণ হকারদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই সব সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যারা সড়কের ওপর রেস্টুরেন্টের কিচেন বা স্থায়ী স্থাপনা বানিয়ে জনপথ আটকে রেখেছেন। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করবো। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবার রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ, আসবাবপত্র ও পোশাকের দোকানগুলো তাদের কার্যক্রম ফুটপাত ও মূল সড়কে সম্প্রসারণ করেছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল বা কাবাব তৈরির মেশিন, ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র রাস্তার ওপর রাখার ফলে পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই ফুটপাত ও সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করে। এতে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করায় একদিকে যেমন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম যানজট।

ডিএমপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের অনতিবিলম্বে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যাতে নগরবাসী নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে চলাচল করতে পারে।

 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পদত্যাগপত্রটি গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গতকাল তিনি (বিচারপতি রেজাউল হাসান) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দেন তিনি। বিধি অনুসারে পদত্যাগপত্রটি গতকাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর (বিচারপতি রেজাউল হাসান) বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম চলমান ছিল।

কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণসহ দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে একটি আবেদন জমা পড়ে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদনটি দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক।

এই নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি রেজাউল হাসান গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, সবশেষ ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আবেদন দেন এই বিচারপতি।

সূত্রটির দাবি, দুটি মামলার মধ্যে একটিতে আপিল বিভাগে আবেদন হয়। অন্যটিতে করা হয়নি। হাইকোর্টের আদেশের পর একটির ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে করা আবেদনসূত্রে ২০১৭ সালে আবেদনকারীর (মজিবুল হক) স্ত্রীর প্রতিকার পান।

সূত্র জানায়, ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে দেওয়া আবেদনে বিচারপতি রেজাউল হাসান উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, নালিশ করতে চাইলে তা ২০১৭ সালেই কাউন্সিলে করতে পারতেন অভিযোগকারী। এ ছাড়া নালিশটি চলে না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর এ বিচারপতি ২৯ মার্চ পদত্যাগপত্র দেন।

বিচারপতি সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে উল্লিখিত বিচারপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যধারা শুরু হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রেজাউল হাসান। ১৯৮৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল হাসান। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেলের সুপারিশ নতুন সরকারকে পর্যালোচনা করা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে স্কেলের দাবি আছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে এটি করে গেছে। যেটি নিজে করতে পারেনি, সেটি অন্যের জন্য রেখে গেছে। বিগত সরকার অনেক কিছু এই সরকারের ওপর প্রলম্বিত দায় দিয়ে গেছে। এটি অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান সরকারের উচিত, নিজের মতো করে নতুন করে কমিশন করে এটি পুনর্বিবেচনা করা। এ ক্ষেত্রে আগের বেতন কমিশনের প্রতিবেদন একটি উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রশ্নহীনভাবে প্রস্তাবিত বেতন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এরপরও বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক জায়গায় আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মেলন কেন্দ্রে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটের জন্য ভাবনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। মিডিয়া ব্রিফিংটি আয়োজন করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়ল, তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। বেতন বাড়লে পেনশনও বাড়ে। তবে পেনশনে খরচ কতটা বাড়ল, তা নিয়ে আলোচনা হয় না। প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধির মধ্যে সরকারের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি লুকানো থাকে।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের জন্য সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করে। গত ২২ জানুয়ারি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন। তবে গ্রেড (ধাপ) আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ছিল ১: ৮, যা এত দিন ছিল ১: ৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন ধাপে বেতনকাঠামো ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ ধাপে বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এটি একটি মস্ত বড় কাজ। মানুষ বহুদিন ধরে এর জন্য অপেক্ষা করছে। আউটলাইন দেখে বুঝলাম, এটি খুবই সৃজনশীল কাজ হয়েছে।’ বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ কথা জানিয়েছে।

সেদিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি ফিলিং স্টেশনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক নেতার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত আটটার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত চাকসু নেতার নাম মাসুম বিল্লাহ। তিনি চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে রয়েছেন। পূর্বশত্রুতার জেরে হাটহাজারী এলাকার কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর ওপর হামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসু নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাতে মাসুম বিল্লাহ তাঁর মোটরসাইকেলের জন্য জ্বালানি তেল নিতে হাটহাজারীর ওই ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকজন যুবক এসে তাঁকে মারধর শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সায়েদুর ইফাজ জানান, মাসুম বিল্লাহর চোখের ওপরে গভীর ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে আহত মাসুম বিল্লাহ জানান, ৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে হাটহাজারীর এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান রাজ গুরুতর আহত হন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, পুলিশ ও চাকসু প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়, যেখানে তিনিও ছিলেন। বৈঠকে হাটহাজারীর ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায়ে শিক্ষার্থীকে সহায়তা করার জেরেই মূলত তাঁর ওপর হামলা হয়েছে।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ফজলে রাব্বি জানান, রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে হাটহাজারী থানায় মামলা হয়েছে।

, ঢাকা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সিলেটগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ ও শমসেরনগর রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী কালীপুর গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আজ সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ভানুগাছ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার গৌরপ্রসাদ দাশ পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইঞ্জিনের মবিল চুইয়ে পড়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে লোকোমোটিভটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। ফলে ট্রেনটি লাইনের ওপর আটকা থাকায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে কুলাউড়া রেলস্টেশন থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সকাল সোয়া নয়টার দিকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে আটকে পড়া ট্রেনটিকে উদ্ধার করে সিলেটের উদ্দেশে নিয়ে যায়। এরপরই রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর রেল স্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে সারাদেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৬টা দিকে মৌলভীবাজারে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, সিলেট থেকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে ট্রেনটি উদ্ধার করবে।
জানা যায়, ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে মবিল পড়ে গিয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই ইঞ্জিনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এতে করে চরম ভোগান্তি পড়তে হয় সিলেটগামী কয়েকশ ট্রেনের যাত্রী। এ ঘটনায় সিলেটের সাথে সারাদেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ বলেন, সিলেট থেকে বিকল্প একটা ইঞ্জিন কিছু সময়ের মধ্যে এসে ট্রেনটি নিয়ে আসবে। তবে এখন পর্যন্ত কোন ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় ঘটিনি।

 

ইরানে চলমান যুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করেছে স্পেন। সোমবার(৩০ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন প্রবেশাধিকারের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল স্পেন। এবার সেই অবস্থান আরও কঠোর করে, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক তৎপরতায় নিজেদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করল দেশটি।

সোমবার মাদ্রিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্গারিটা রবেলস বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য আমরা আমাদের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা কোনোটিই ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছি না।

স্পেনের এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে জরুরি বা বিশেষ পরিস্থিতির ফ্লাইটের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্পেনের অর্থনীতি মন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেন, একতরফাভাবে এবং ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে’ শুরু করা একটি যুদ্ধে সমর্থন না দেওয়ার স্প্যানিশ নীতিরই প্রতিফলন এই সিদ্ধান্ত।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। এদিকে, স্পেনের এমন অবস্থানের জেরে দেশটির বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এ পদক্ষেপ ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ইরান ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা।

 

পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল জলিল মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাত ১১টার দিকে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ডিবি সূত্র জানায়, আবদুল জলিল মন্ডলের বাড়ি পাবনায়। তিনি পুলিশ বাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। একসময় তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার এবং শাপলা চত্বরে হেফাজতের আন্দোলনের সময় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।

এবার সন্ত্রাসবিরোধী আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো কারাবন্দী সাংবাদিক শওকত মাহমুদকে। ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠক ঘিরে করা এই মামলায় আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়। এখন শওকত মাহমুদকে এ মামলায় ‘তদন্তে প্রাপ্ত’ আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) জুয়েল রানা শাহবাগ থানায় করা এ মামলায় শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গত ৭ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে রাজধানীর মালিবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, আজ শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাঁকে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

গ্রেপ্তার আবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র ও বিকৃতি রোধের লক্ষ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ২৮ আগস্ট সংগঠনটি সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করতে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত ১৬ আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০ থেকে ৮০ জন ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’–এর ব্যানারে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনার সঙ্গে শওকত মাহমুদের জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য–প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি তাঁর দলীয় লোকজন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন বলেও জানা যায়। এ অবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকায় রেললাইনের কাছে একটি কালো তেলের ডিপো থেকে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ২৫ হাজার লিটার তেল জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। জব্দ করা এসব তেল ডিজেল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আজ সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালান সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন। এর আগে দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আট হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন জব্দ করা হয়।

আজ সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডে অভিযানস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম। ঘটনাস্থলে ছিলেন যমুনা অয়েল কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম ডিবি) ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ আহমেদ।

সরেজমিন দেখা যায়, সিডিএ আবাসিক এলাকার সড়কের পাশেই টিনের ঘেরা দেওয়া একটি কালো তেলের ডিপো। প্রবেশমুখে রয়েছে চতুষ্কোণ একটি ট্যাংক। ভেতরে ছোট ছোট শতাধিক ড্রাম স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ডিপোর ভেতরে ট্যাংক লরিসহ বিভিন্ন ট্যাংকে জ্বালানি তেল মজুত করা হয়েছিল। অভিযানে এসব অবৈধ তেলের মজুত দেখতে পান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জানতে চাইলে যমুনা ওয়েল কোম্পানির এজিএম ক্যাপ্টেন শেখ জাহিদ আহমেদ বলেন, খোলা চোখে আপাতদৃষ্টিতে ট্যাংক লরির ভেতরে থাকা জ্বালানি তাদের কাছে ডিজেল মনে হয়েছে। তবে জ্বালানির মান কেমন, তা বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা করে জানাবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি কালো তেলের ডিপোতে অভিযান চালিয়েছেন তাঁরা। অভিযানের সময় ডিপোর মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযানে তাঁরা অবৈধ তেল মজুতের বড় একটি চালান ধরেছেন। প্রায় ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছেন। জব্দ ডিজেল আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হবে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুসারে প্রয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। আজও সিঙ্গাপুর থেকে একটি তেলের জাহাজ এসেছে। আরও ১০টি জাহাজ পথে রয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষকে জিম্মি করে বেশি লাভের আশায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করছেন। জেলা প্রশাসন অবৈধ মজুতকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালু রেখেছে। গত শুক্রবারও ছয় হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়। এখন পর্যন্ত অবৈধ জ্বালানি মজুত, কালোবাজারিসহ বিভিন্ন অপরাধে বিরুদ্ধে ৯৮টি মামলা হয়েছে। এতে চার লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বিক্রি বন্ধ ফিলিং স্টেশনে মিলল আট হাজার লিটার তেল

তেল নেই, এমন অজুহাতে ফিলিং স্টেশনের প্রবেশপথে দড়ি টেনে বন্ধ রাখা হয়েছিল যানবাহনের প্রবেশ। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন তেল নিতে এলে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। তবে জেলা প্রশাসনের অভিযানে ধরা পড়ে ভিন্ন চিত্র। বন্ধ ফিলিং স্টেশনের ভেতরে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানির মজুত। এ অনিয়মে চট্টগ্রাম নগরের আনোয়ারা জাকারিয়া ফিলিং স্টেশনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ দুপুরে নগরের বন্দর এলাকায় ওই ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা। এ সময় সেখানে বিক্রয়যোগ্য ৭ হাজার ৭৩৪ লিটার ডিজেল ও ৩৭৪ লিটার অকটেন মজুত পাওয়া যায়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা বলেন, স্টেশনটিতে তেলের পরিমাপেও কারচুপি করা হচ্ছিল। মজুত থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি না করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যেই অবৈধভাবে এ মজুত রাখা হয়েছিল। এসব অপরাধে দুটি আইনে তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে বেসামরিক বিদ্যুৎ স্থাপনা, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তেহরান চুক্তিতে রাজী না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়াবেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে শিগগিরই চুক্তি না হয়; যা (চুক্তি) সম্ভবত হবে; এবং যদি হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া’ না হয়, তবে আমরা ইরানের ক্ষেত্রে আমাদের সুন্দর ‘থাকা’ শেষ করব। তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেব।’

সূত্র: আল–জাজিরা।