ড. আসিফ নজরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক। সাউথ এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের নির্বাচিত ব্যুরো মেম্বার ছিলেন। তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।কথা বলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশ নিয়ে বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্ত, সংবিধান সংস্কার পরিষদ, সংস্কার ইত্যাদি প্রসঙ্গে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল ইসলাম

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত অধ্যাদেশগুলো সম্পর্কে সরকারি দলের সিদ্ধান্ত আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ করেছেন। সরকারি দল অনেকগুলো অধ্যাদেশ গ্রহণ করলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা এখনই গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাবেক আইন উপদেষ্টা হিসেবে আপনি এসব আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আপনার প্রতিক্রিয়া কী?

আসিফ নজরুল: বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই কিছু হতাশা বা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে; কিন্তু এটাকে একপক্ষীয়ভাবে দেখতে চাই না। এর ইতিবাচক দিকও আছে, সেটি আগে বলি।  সংসদের বিশেষ কমিটি যেসব আইন হুবহু গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইন রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দেওয়ানি ও ফৌজদারি কার্যবিধি, আইনগত সহায়তা, সাইবার সুরক্ষা বা ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাস্তবিক অর্থে নাগরিকদের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সুযোগ বাড়াবে। এ ছাড়া জুলাই-সংক্রান্ত কয়েকটি আইন, যেমন জুলাই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, শহীদ ও যোদ্ধা পরিবারের কল্যাণ ফাউন্ডেশন গঠন এবং দায়মুক্তির বিধান—এসব রাখা হয়েছে। এগুলো শুধু আইন নয়, একটি ঐতিহাসিক অর্জন ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। পরিবেশ–সংক্রান্ত আইনগুলোও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা প্রশংসনীয়।

তবে সমস্যা হলো, এই ইতিবাচক আইনগুলোই যথেষ্ট নয়। যে ত্যাগ, যে প্রাণহানি, যে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আরও গভীর ও কাঠামোগত সংস্কার প্রত্যাশিত ছিল। সেগুলো আপাতত করা হচ্ছে না। সরকার বলছে, কিছু আইন সংশোধন করে আবার আনা হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি, এগুলো শুধু আশ্বাস পর্যায়ে থেকে যায়। তাই পুরোপুরি স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই।

আসিফ নজরুল: বিচারক নিয়োগ–সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল নিয়ে কিছু বিতর্ক ছিল, সেটি অস্বীকার করছি না। সংবিধানে যেখানে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে আইনগত প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু এর যৌক্তিকতা আইনটির প্রস্তাবনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তারপরও এগুলো সংশোধনযোগ্য বিষয়, এ জন্য পুরো আইন বাতিল করা ঠিক হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিল হওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে হতাশ করেছে। এটি দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এমনকি ২০২৪ সালের আদালতের রায়েও এটার নির্দেশনা রয়েছে। ইতিমধ্যে এই আইনের অধীনে কিছু কাঠামোগত অগ্রগতি হয়েছে। জনবল নিয়োগ, বাজেট প্রস্তুতি, আলাদা কার্যালয় তৈরি—এসব প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কারও কারও আপত্তি ছিল অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরিভাবে সুপ্রিম কোর্টে হস্তান্তর নিয়ে। কিন্তু আমরা তো তাৎক্ষণিকভাবে তা দিইনি। বলেছিলাম, সচিবালয় পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ধাপে ধাপে হবে। ফলে এ রকম কোনো অজুহাতে পুরো আইন বাতিল করা হলে তা হতাশাজনক। তবে আমি এখনো আশা ছাড়তে চাই না। এখনই গ্রহণ না করা হলেও, এই আইনগুলো অদূর ভবিষ্যতে প্রণয়ন করার সুযোগ থাকবে। সরকারের উচিত, বিরোধী দলের চাপে বা জনগণের সমালোচনার মুখে নয়, নিজের উপলব্ধি থেকেই এমন উদ্যোগ নেওয়া।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল

 

প্রশ্ন: অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। অন্যদিকে গুম কনভেনশনে পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার কারণে গুম প্রতিরোধে আইন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। মানবাধিকার আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন এখনই গ্রহণ না করাকে আপনি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন?

আসিফ নজরুল: এ দুটি আইন প্রণয়নের জন্য আমরা অনেক কষ্ট করেছিলাম। অন্য সব বিষয়ে সমালোচনামুখর দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও অ্যাকটিভিস্টরা ও মানবাধিকারকর্মীরাও আইন দুটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন। এ ছাড়া নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের অপশনাল প্রটোকল অনুযায়ী একটি জাতীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গঠনের বিষয়টি মানবাধিকার আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। গুম আইনটিও এ–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছিল। ফলে এসব আইন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এগুলো উপেক্ষা করা হলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে যাবে।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব আইন পুরোপুরি বাতিল করা বর্তমান সরকারের পক্ষে হয়তো সহজ হবে না। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী অতীতে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুম প্রতিরোধ আইন না হলে মায়ের ডাকের সানজিদা কিংবা গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর পরিবারগুলোকে কী উত্তর দেবে বিএনপি। এসব স্মরণ রেখে বিএনপি বরং অচিরেই আমাদের আমলের চেয়ে শক্তিশালীভাবে এসব আইন প্রণয়ন করবে বলে আশা করি।

প্রশ্ন: এসব অধ্যাদেশ গ্রহণ না করা কি জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী?

আসিফ নজরুল: আমরা যদি গুম প্রতিরোধ আইন না করি বা মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল রাখি, তবে তা অবশ্যই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থী হবে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান শুধু বৈষম্যের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের গুম, খুন, নির্যাতন ও হয়রানির মতো অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই তা বিস্ফোরিত হয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার–সংক্রান্ত আইনগুলো সেই আন্দোলনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশও আপাতত গ্রহণ করেনি। অন্যদিকে আইনটি যথেষ্ট কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে টিআইবিও (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) আপত্তি জানিয়েছিল। আইনটি কি আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে?

আসিফ নজরুল: কোনো আইনই নিখুঁত নয়, সব সময়ই উন্নয়নের জায়গা থাকে। দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় টিআইবি যে সুপারিশগুলো দিয়েছিল, তার অনেকগুলোই গ্রহণ করা হয়েছে। ধরা যাক, ১০টির মধ্যে ৭টি রাখা হয়েছে। তবে সব সুপারিশ গ্রহণ সম্ভব হয়নি। কারণ, আমলাতান্ত্রিক চাপ, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মতামত এবং রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়ে আশঙ্কার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হয়েছে।

সমস্যা হচ্ছে, সমালোচনার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকগুলো অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়। গঠনমূলক সমালোচনা হলে; অর্থাৎ কোন অংশ ভালো এবং কোন অংশ উন্নত করা দরকার—দুটি দিকই তুলে ধরা হলে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে। ভবিষ্যতে যদি আইনটি পুনর্বিবেচনা করা হয়, তখন এই সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এখানে একটি বড় বিষয় হলো বাস্তবতা। শুধু সুন্দর আইন করলেই হবে না; রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজ সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য কতটা প্রস্তুত, তা বিবেচনায় নিতে হয়। অনেক দেশেই ভালো আইন আছে, কিন্তু প্রয়োগের সক্ষমতা না থাকলে তা কার্যকর হয় না। তাই আইন হতে হবে শক্তিশালী এবং একই সঙ্গে বাস্তবসম্মত।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল

প্রশ্ন: ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংশোধিত আকারে পরে বিল আনার সুপারিশ করা হচ্ছে। বিরোধী দল এ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। এসব আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

আসিফ নজরুল: এখানে মূল বিষয় হচ্ছে নিয়ত। যদি আইন সংশোধনের লক্ষ্য হয় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানো এবং মানুষের ভোগান্তি হ্রাস, তাহলে তা ইতিবাচক। কিন্তু যদি সংশোধনের মাধ্যমে আইনকে দুর্বল করা হয়, জবাবদিহি কমানো হয় বা সরকারের ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

প্রশ্ন: সরকার আবার শতাধিক অধ্যাদেশ গ্রহণও করছে। এই ভিন্ন অবস্থানের কারণ কী? এটি কি এ জন্য যে যেসব অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হচ্ছে, সেগুলো সরকারের জবাবদিহির জন্য অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ?

আসিফ নজরুল: কিছু অধ্যাদেশ সরাসরি সরকার বা রাষ্ট্রের জবাবদিহির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হলেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক। যেমন আইনগত সহায়তা বৃদ্ধির উদ্যোগের ফলে বহু মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হচ্ছে, যা বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য বড় স্বস্তি। ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধন মানুষের হয়রানি কমাতে সহায়ক হবে, যদিও এসব পরিবর্তনের ফল এক দিনে দৃশ্যমান হয় না।

এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশটি ব্যাপক পরামর্শের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে, যেখানে সমালোচক ও ভুক্তভোগীদের মতামতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইন সরকার গ্রহণ করছে, তা প্রশংসনীয়। তবে সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বা মানবাধিকার কমিশন বা গুম প্রতিরোধ–সংক্রান্ত আইনগুলো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এসব আইন না হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন হবে।

প্রশ্ন: গণভোট অধ্যাদেশ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল: গণভোট অধ্যাদেশে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ‘দায়মুক্তি’–সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে, যা আইন বাতিল হলে আর থাকবে না। এ ছাড়া এতে কিছু অপরাধ ও দণ্ড–সম্পর্কিত বিধানও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গণভোট অধ্যাদেশটি সংরক্ষণ ও গ্রহণ করা প্রয়োজন।

প্রশ্ন: জুলাই সনদে সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছিল। বিএনপি বলছে, তারা সংবিধান পরিবর্তন চায় এবং কিন্তু এ জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন নেই। এ নিয়ে বিরোধী দলগুলোর ভিন্নমত রয়েছে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিতর্কটি কি লক্ষ্যভিত্তিক, নাকি প্রক্রিয়াগত?

আসিফ নজরুল: আমার মতে, বিতর্কটি মূলত প্রক্রিয়াকে ঘিরে। বিএনপি বলছে, সংসদের মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধন সম্ভব এবং অতীতেও তা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো মনে করে, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও গণ–অভ্যুত্থানের ভিত্তিতে একটি ‘কনস্টিটিউয়েন্ট অথরিটি’র মাধ্যমে মৌলিক সংস্কার হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে আইনি চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা কম থাকে। তবে আমার দৃষ্টিতে প্রক্রিয়ার চেয়ে লক্ষ্য অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও বিরোধী দল যদি ঐকমত্যে পৌঁছায়, তাহলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ বা সংসদ যেকোনো ফোরামের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। মূল বিষয় হলো, কাঙ্ক্ষিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা।

প্রশ্ন: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অনেকে অসাংবিধানিক বা বেআইনি বলছেন। এটা নিয়ে আপনার মতামত কী?

আসিফ নজরুল: জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পুরোপুরি সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করা বাস্তবে সম্ভব ছিল না। তবে চেষ্টা ছিল যতটা সম্ভব সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকা। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির জুলাই-সংক্রান্ত আদেশকে মূল্যায়ন করতে হবে। আদেশের প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এটি গণ–অভ্যুত্থানে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে গৃহীত।

এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে রাষ্ট্রপতির আদেশকে অসাংবিধানিক বলা কঠিন। এ ছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে ‘পোস্টভ্যালিডিটি’ বা পরবর্তী বৈধতা দেওয়ার নজির রয়েছে—যেমন পঞ্চম, সপ্তম বা একাদশ সংশোধনী। প্রয়োজনে এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ধরনের পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব। সুতরাং বিষয়টি কেবল আইনগত ব্যাখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশাও। গণভোটে যে রায়, সেটিও আমাদের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: সরকারে থাকা অবস্থায় আপনারা আইনি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এখন সেই সব আইন বাতিল হচ্ছে। তাহলে আপনাদের সংস্কারের উদ্যোগ কতটা সফল হলো?

আসিফ নজরুল: সংস্কারকে দুভাবে দেখতে হবে। প্রথমত, ভালো আইন প্রণয়ন—যেখানে সমাজের চাহিদা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দেশের আইনগত ঐতিহ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এই অংশ তুলনামূলক সহজ। কিন্তু কঠিন অংশ হলো সেই আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং জনগণকে প্রস্তুত করা। ইতিহাস বলছে, কোনো সংস্কারের ফল তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায় না। যেমন সিঙ্গাপুরে লি কুয়ান ইউয়ের সংস্কারের সুফল পেতে ৫–১০ বছর সময় লেগেছে। সেখানে আমরা পেয়েছি মাত্র দেড় বছর। সেই সীমিত সময়েও কিছু ইতিবাচক ফল দেখা যাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আইনগত সহায়তা–সংক্রান্ত সংস্কারের ফলে এখনই তিন থেকে চার গুণ বেশি মামলা আদালতের বাইরে নিষ্পত্তি হচ্ছে। দেওয়ানি কার্যবিধির সংশোধনে মামলা নিষ্পত্তির সময় কমেছে। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি আইন সহজ হওয়ায় প্রবাসীসহ বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। রেজিস্ট্রেশন আইন ও নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টে পরিবর্তনের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি গুম প্রতিরোধ আইনের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে উত্তরাধিকার দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আমরা ভিত্তি তৈরি করেছি—এখন তা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের।

প্রশ্ন: বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে কেউ কেউ সরকারি দল; অর্থাৎ বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ এবং বিরোধী দলগুলোকে ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

আসিফ নজরুল: সংস্কার আলোচনার সময় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সংস্কারবিরোধী মনোভাব দেখিনি। তবে সংস্কারের ফলে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে সতর্কতা ছিল, সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু ভিন্নমত ছিল।

বিএনপি নিজেই স্বৈরাচারী শাসনামলের বড় ভুক্তভোগী। তাই তাদের পক্ষে সংস্কারের বিরুদ্ধে থাকা স্বাভাবিক নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটুকু সংস্কার চায় এবং সেটি জনগণের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারছে। বিএনপি বলছে, কিছু সংস্কার এখন নয়, পরে করা হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এটাই সমস্যার একটা কারণ।

তবে বিএনপির সামনে এখন একটি বড় সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে সংস্কারের এমন অনুকূল পরিবেশ খুব কমই এসেছে। সংস্কার নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, প্রস্তুতিমূলক বহু কাজও করা হয়েছে—সব মিলিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক বিতর্কের কারণে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, দেশ আবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আপনি কী মনে করেন?

আসিফ নজরুল: আমি মনে করি, এটি অতিরঞ্জিত আশঙ্কা; বাস্তবে ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কারণ, ইতিমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে সাইবার সুরক্ষা আইনকে ধরা যায়। আগে এ ধরনের আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করা হতো, কিন্তু এখন সেই সুযোগ অনেক কমে গেছে। ফৌজদারি কার্যবিধিতেও আগের মতো হয়রানির সুযোগ নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এখন দেশে কার্যকর বিরোধী দল রয়েছে, যা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। সংসদের ভেতরে যেমন নতুন নেতৃত্ব আছে, তেমনি বাইরে তরুণ প্রজন্মও সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে।

এই বাস্তবতায় অতীতে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা জোরালো নয়। তবে চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে সামনে কত দূর অগ্রসর হওয়া যাবে, সেটি নিয়ে মানুষের উদ্বেগ থাকতে পারে। এটি যৌক্তিক। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ভবিষ্যতে আর কখনো জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সুযোগ না থাকে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর, বিশেষ করে বিএনপির দায়িত্ব অনেক বেশি। তাদের এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে জনগণের মনে অতীতের মতো অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে।

আসিফ নজরুল: আপনাকেও ধন্যবাদ।

‘আনন্দ শোভাযাত্রা’,  ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নয়। এবার থেকে পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নাম হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।

সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
সচিবালয়ে  সভা শেষে বাংলা নববর্ষের শোভাযাত্রার নতুন নাম জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী । আজ রোববার সকালে
 

আজ রোববার সচিবালয়ে এক সভা শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে শুরু হবে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামের টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। আর ৩ মে থেকে অবশিষ্ট সারা দেশে একযোগে টিকা দেয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের সরকার টিকা দেয়নি বলে হাম বজ্রপাতের মতো এসেছে। প্রথম পর্যায়ে টিকা দেয়া হচ্ছে ৩০টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। হাম এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনার মহামারীর চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকায় জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুনের ঘটনায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।

শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার বেলা একটার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের কদমতলী ডিপজল গলি সড়ক এলাকার কারখানাটিতে আগুন লাগে। দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আর বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভাতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর পাঁচজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

প্রথমে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ পাঁচজনের মরদেহের মধ্যে তিনজনই নারী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এদিকে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের অপারেশনস ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ঢাকা

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে হোস্টেলের কক্ষ থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে সহপাঠীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওশিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছোট।

সহপাঠীদের অভিযোগ, নওশিন মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষকের রোষানলে ছিলেন। তাঁকে প্রতিনিয়ত মানসিক চাপে রাখা হতো। একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিয়েও উত্তীর্ণ হতে পারেননি তিনি। এতে মানসিক চাপে ১০৯টি ট্যাবলেট সেবন করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শনিবার সকালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নওশিনের সহপাঠীদের অভিযোগ, কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের একজন শিক্ষকের রোষানলে বারবার ফেল করতে হয়েছে নওশিনকে। এটি তাঁর ওপর মানসিক চাপ তৈরি করে। ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে ঘটনার পর বিষয়টি আলোচনায় আসার পর অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষক গণমাধ্যমকে এড়িয়ে চলছেন। তিনি কারও কল ধরছেন না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খুলনার সরকারি করনেশন গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন অর্পিতা নওশিন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নওশিনের সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষ থেকেই কলেজের অ্যানাটমি বিভাগের ওই শিক্ষকের রোষানলে পড়েন নওশিন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় অন্যান্য সব বিষয়ে পাস করলেও অ্যানাটমিতে ফেল করেন তিনি। এরপর গত তিন বছরে আরও চারবার একই বিষয়ে পরীক্ষা দিলেও প্রতিবারই অকৃতকার্য হন। প্রথম বর্ষে থাকতেই প্রকাশ্যে তাঁকে ফেল করানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঠিক কী কারণে ওই শিক্ষক এমন আচরণ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তাঁদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। একই সেশনের অন্য শিক্ষার্থীরা এখন পঞ্চম বর্ষে পড়লেও নওশিন প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাতেই আটকে ছিলেন।

নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার বোনের আত্মহত্যা করার মতো মানসিকতা ছিল না। কলেজের মানসিক চাপই তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে। প্রথম বর্ষ থেকেই তাকে মানসিকভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে। সবাই পাস করলেও আমার বোনকে একটি বিষয়ে আটকে রাখা হয়েছে। তার সমস্যা কী, সেটাও কেউ বলেনি।’ তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফরম পূরণের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি আশ্বস্ত করেছিলাম টাকা পাঠাব। এমন খবর পাব, কখনো ভাবিনি।’

আজ বিকেলে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে ওই শিক্ষার্থীর অসুস্থতার খবর পাই। খবর পাওয়ার পরপর জরুরি বিভাগে থাকা সব চিকিৎসককে প্রপার ট্রিটমেন্টের অনুরোধ জানাই। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায় ওই ছাত্রী মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি ও পরিচালক হাসপাতালে ছুটে যাই। কিন্তু আমাদের ছাত্রীকে আর বাঁচাতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর ভাই বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আমরাও চরমভাবে শোকাহত।’

অ্যানাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। এ জন্যই আমরা তদন্ত কমিটি করেছি। যদি এ ঘটনায় কেউ যুক্ত থাকে, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফা বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর পরিবার বিষয়টি নিয়ে কোনো অভিযোগ করেনি। এরপরও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ তার সরকারের সকল উপদেষ্টাকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয়। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।

বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।

তারা সংসদে সমাধান চেয়েছিলেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না। যুদ্ধের কারণে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে, তাতে দলগুলোর ঐক্য দরকার ছিল।

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি এ-ও বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, তারা যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন— এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদেরকে ক্ষমতা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদেরকে হতাশ করেছে। তারপরও যতটুকু হয়েছে, তা ধরে রাখার জন্য তাদেরকেও রাজপথে নামতে হবে।

রাজধানীর কদমতলীর একটি গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন লেগেছে। দেড় ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস।

আজ শনিবার দুপুরে কদমতলী চৌরাস্তার আল বারাকা হাসপাতালের পাশে ওই কারখানায় আগুন লাগে।

কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
কদমতলীতে গ্যাসলাইট কারখানায় লাগা আগুন দেড় ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আজ শনিবার দুপুরে
 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের এক কর্মকর্তা বলেন, বেলা ১টা ১১ মিনিটে তাঁরা আগুন লাগার খবর পান। সাতটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করে। বেলা আড়াইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

কীভাবে আগুন লেগেছে এবং এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ ও গ্রামবাসীসহ অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন।

আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. মশিউর রহমান। তিনি ভাঙ্গা থানার কনস্টেবল পদে কর্মরত বলে নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান দিপু। তবে আহত অন্য ব্যক্তিদের নাম–পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আজ শনিবার সকাল সোয়া সাতটায় শুরু হওয়া এ সংঘর্ষ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের জানান, সংঘর্ষে দুপুর একটা পর্যন্ত ২৮ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবারের সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই আজ সকালে সেখানে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। এর আগে গতকাল বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর আবার সংঘর্ষে জড়ায় দুটি পক্ষ।

আজ সকালে শুরুতে হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ গ্রামের বাজার এলাকায় দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষে মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন এবং অন্য পক্ষে একই ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন।

সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
সংঘর্ষে একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
 

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য নিয়ে হামিরদী ইউনিয়নের খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া নামের তিনটি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ আছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন, ফুটবল খেলা উপলক্ষে মাইকিংকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়; আবার কেউ বলছেন, ঈদের চাঁদরাতে মনসুরাবাদ বাজারে একটি দোকানের সামনে পটকা ফাটানো নিয়ে বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত।

এ বিরোধের জেরে গতকাল বিকেল পাঁচটার দিকে খাপুরা গ্রামের এক ব্যক্তিকে মনসুরাবাদ বাজারে মারধর করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় এদিন বিকেল ও সন্ধ্যায় প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও আজ আবারও সংঘর্ষ হলো। প্রথমে সংঘর্ষ মনসুরাবাদ বাজার এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও পরে তা ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে জড়িত পক্ষগুলো দেশি অস্ত্র ও ঢাল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। মনসুরাবাদ গ্রামের লোকজন অবস্থান নেন বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অন্যদিকে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দারা হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের সামনে জড়ো হন।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা পুলিশের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এখনো থমথমে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষের প্রায় ৫ ঘন্টা পর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, ডিবি ও পলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা এসে উভয়পক্ষকে হটিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ভাঙ্গার হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খোকন মিয়া বলেন, অন্য তিনটি গ্রামের তুলনায় মনসুরাবাদ গ্রামটি বড় ও জনসংখ্যাও বেশি। বাজারটি তিন গ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাসস্ট্যান্ডটি মনসুরাবাদ গ্রামের দখলে রয়েছে। ছোটখাটো ঘটনা থেকে শুরু হয়ে এসব সংঘর্ষ পরে বড় আকার ধারণ করে। স্থানীয় আধিপত্যের কারণে তিনটি গ্রাম এক হয়ে মনসুরাবাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, তরুণদের মধ্যে নানা ছোট বিষয় নিয়েই বিরোধের সূত্রপাত হয়—কখনো ইভটিজিং, কখনো খেলাধুলা, আবার কখনো মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে। এসব ঘটনাই পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা
সংঘর্ষের পর মনসুরাবাদ বাজার এলাকার চিত্র। আজ দুপুরে তোলা

এ সংঘর্ষে পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন জানিয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম বলেন, ‘সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ডিবি ও থানা–পুলিশের দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

জ্বালানি ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দ করা জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম নেবেন। আর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়াও বন্ধ থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয় বলে আজ শুক্রবার সরকারি তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যের আলোকে গতকালের মন্ত্রিসভায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্প খাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

অফিস সময় ও বিপণিবিতান

সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আর জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বরাত দিয়ে তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশদূষণ কমাতে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকল্যে ২০ (বিশ) শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনগুলো ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিপণিবিতানগুলো সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।

আরও যত সিদ্ধান্ত

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা শতভাগ বন্ধ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দ করা জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে। সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমাতে হবে।

এ ছাড়া আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ কমানোর বিষয়েও মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‍সিদ্ধান্ত হয় বলে তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে তার পরিবারসহ হত্যার পরও দেশটির ইসলামী শাসনতন্ত্রের অবসান ঘটাতে না পেরে টানা ৩৩ দিন ধরে একের পর এক নেতা ও কমান্ডারকে হত্যা করে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেইসঙ্গে ধ্বংসের চেষ্টা চালানো হচ্ছে ইরানের জ্বালানি ও পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনাও।  

এরই ধারাবাহিকতায় এবার ইরানের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যৌথ এ হামলায় ভেঙে গেছে সেতুটির মধ্যভাগ। অন্তত ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এ ঘটনায়। সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৯৫ জন। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কারাজের কাছে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বি-১ সেতুতে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুতে দুইবার হামলা চালায়, যার ফলে সেতুর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রায় ১ কিলোমিটার লম্বা সেতুটির বড় বড় অংশ হামলার পর ধসে পড়েছে। বিশেষ করে সেতুটির মাঝামাঝি অংশ বিধ্বস্ত হয়েছে। 

আলব্রোজ প্রদেশের কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় সেতুর মধ্যভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরানের কর্তৃপক্ষ বি-১ সেতুকে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু বলে উল্লেখ করেছেন।  

হামলার প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা একটি অগোছালো শত্রুর পরাজয় এবং নৈতিক পতন। তিনি আরও লিখেছেন, অসমাপ্ত সেতুসহ নাগরিক স্থাপনার ওপর হামলা ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করবে না।

ইরানি মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, সেতুটি তেহরান ও কারাজ-এর মধ্যে যানজট নিরসন করতে এবং দেশের উত্তর দিকে যাতায়াত সহজ করতে নির্মাণ করা হচ্ছিল।