এবারের নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায় উপলক্ষে আজ সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ, ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্মিলিতভাবে একটি প্রশংসনীয় নজির সৃষ্টি করেছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচন কেমন হওয়া উচিত—এই নির্বাচন তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।

১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি।’ এ সময় তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের সময়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি কীভাবে দায়িত্বে এলেন, সেই ব্যাখ্যা দেন।

দায়িত্ব পালনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি, তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না—এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল, ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল। তিনি বলেন, দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যাঁরা জয়ী হয়েছেন, তাঁরা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যাঁরা জয়ী হতে পারেননি, তাঁরাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যাঁরা জয়ী হতে পারেননি, তাঁরা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে—এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।’

সরকারে থাকার সময় প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনীতি ও প্রতিশোধের ঊর্ধ্বে রেখেছি। ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, আর্থিক সংস্কারে হাত দিয়েছি; যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজেকে স্থাপন করতে না পারে। আর সর্বোপরি আমরা একটি উৎসবমুখর, অবাধ, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছি, যার মাধ্যমে জনগণ আবার তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে।’ এর জন্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ, আহতদের শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অভ্যুত্থান-পরবর্তী এক উত্তাল সময়ে দেশকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। একই সঙ্গে যখনই কোনো সংকটময় পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তখনই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছেন। তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ও সংযমই দেশকে অস্থিরতার পথ থেকে স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

[caption id="attachment_267441" align="alignnone" width="917"] সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং[/caption]

সংস্কার বাস্তবায়ন

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেয়ালে দেয়ালে তরুণেরা যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এঁকেছিল, এর কেন্দ্র ছিল প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করেছে। প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি করেছে, যার প্রায় ৮৪ শতাংশ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। এসব সংস্কার নাগরিক অধিকারকে সংহত করেছে, বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে। এ ছাড়া গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সেটা নিশ্চিত হয়েছে।

ধাপে ধাপে পুলিশের নাজুক অবস্থা ঘটানো হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এখন পুলিশ আর মারণাস্ত্র ব্যবহার করে না। বেআইনিভাবে কাউকে তুলে নিয়ে যায় না। ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করে না। পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর ভয়ে কাউকে ‘ডিলিট বাটন’ চাপতে হয় না। জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। বিচার বিভাগকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছ কাঠামো এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে যুগান্তকারী সংস্কার করা হয়েছে।

স্বৈরাচার যেন ফিরে না আসে

আওয়ামী লীগের শাসনামলের গুম-খুনসহ নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতে আর কখনো যেন কোনো জালেম মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, শত শত আয়নাঘর সৃষ্টি না হয়। আবার যেন বিচারবহির্ভূত হত্যা ফিরে না আসে। এর জন্য কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকারই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক ও গভীর সংস্কার। এই উপলব্ধি থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার তার সংস্কার কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি এখনো আমাদের মধ্যে তাজা হয়ে আছে। যারা ভয়াবহ নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের বিচার করা এবং যেন আর কেউ এ ধরনের দুঃশাসন কায়েম করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করা আমাদের গুরুদায়িত্ব।’

বিচার একটা চলমান প্রক্রিয়া জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, একাধিক ট্রাইব্যুনাল সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইতিমধ্যে একাধিক মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। গুমের মতো সেই ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুরু হয়েছে। বেশ কিছু মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষের পথে। আগামী দিনগুলোতেও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জুলাই সনদকে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছে দেশের মানুষ। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন হলে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথগুলো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। আশা করব এটা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ছোট–বড় ভালো–মন্দ অনেক কথা ভুলে গেলেও জুলাই সনদের কথা জাতি কখনো ভুলবে না।

পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ

পররাষ্ট্রনীতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও দেশের মর্যাদা—এই তিনটি মূল ভিত্তি দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক ইউনূস। নোবেল বিজয়ী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বাংলাদেশ এখন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি কিংবা অপর দেশের নির্দেশনা ও পরামর্শনির্ভর নয়। আজকের বাংলাদেশ নিজের স্বাধীন স্বার্থ রক্ষায় আত্মবিশ্বাসী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল। ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম—এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়—এটি দেশকে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উন্মুক্ত দরজা বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, নেপাল, ভুটান ও সেভেন সিস্টার্সকে (উত্তর-পূর্ব ভারত) নিয়ে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাণিজ্যচুক্তি ও শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের সুযোগের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার শক্তিশালী ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এর জন্য বন্দরগুলোর দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির কাজ অনেক এগিয়েছে। বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে না পারলে অর্থনৈতিক অর্জনে দেশ পিছিয়ে যাবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও শুল্কচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক সুবিধা নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে দীর্ঘ মেয়াদে শক্তিশালী করার জন্য একটি কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকার ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করিয়ে তারপর সংস্কারের পথ গেছে জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নিচ্ছে। কিন্তু গণতন্ত্র, জবাবদিহি, বাক্‌স্বাধীনতা ও অধিকার চর্চার যে ধারা শুরু হয়েছে, তা যেন কখনো থেমে না যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ছেড়ে গেলেও নতুন বাংলাদেশ গড়ার সার্বিক দায়িত্ব আমার, আপনার, আমাদের সবার। আমাদের সবার দায়িত্ব দেশকে সত্যিকারের গণতন্ত্র হিসেবে পরিস্ফুটিত করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের জন্য এই দরজা খুলে দিয়েছে, আমরা যদি স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি, তবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কাঠপট্টিতে কাঠের দোকানে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের দিকে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। তাৎক্ষণিক পাঁচটি ইউনিট সেখানে কাজ করে। পরে আরও ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেইন্যান্স) লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট ১১টি ইউনিট কাজ করেছে। মূলত কাঠের স-মিল থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কোনো ধরনের হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নির্বাপন করতে সময় লাগবে।

বোনের করা প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের একটি মামলায় ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান এবং তাঁর মা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহনাজ রহমানসহ ছয়জনকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আজ সোমবার গুলশান থানার এই মামলায় শুনানি নিয়ে তাঁদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এর মধ্য দিয়ে সিমিন রহমান, শাহনাজ রহমানসহ ট্রান্সকম গ্রুপের অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাযরেহ্ হকের দায়ের করা চারটি মামলার সব কটি থেকে তাঁরা অব্যাহতি পেলেন।

গুলশান থানার ২০(০২)২৪ নম্বর মামলায় আজ আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন মঞ্জুর করেন। অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, শেয়ার হস্তান্তর জালিয়াতির মামলায় শেয়ার হস্তান্তর দলিল ফরম-১১৭ উদ্ধার বা কোনো রূপ বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ছাড়াই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ২০২৩ সালের ছাপানো কিছু স্ট্যাম্পকে এই মামলার শেয়ার হস্তান্তর-সংক্রান্ত এফিডেভিট বিবেচনায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। কিন্তু মামলায় ওই সব শেয়ার ২০২০ সালে পরিপূর্ণভাবে হস্তান্তর হয়েছে এবং ২০২০ সালেই রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) কর্তৃক গৃহীত হয়। ২০২৩ সালে সরবরাহ করা স্ট্যাম্প তার আগের সময়ে ব্যবহার করা অসম্ভব অর্থাৎ স্ট্যাম্প ছাপানোর আগের সময়ে তার ব্যবহার সম্ভব নয়। আদালত অভিযোগ গঠনের কোনো উপাদান না থাকায় বিবাদীদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

ট্রান্সকম লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সিইও ছিলেন লতিফুর রহমান। তিনি জীবদ্দশায় তাঁর অবর্তমানে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা এবং তাঁর নিজস্ব শেয়ারের বণ্টন-সংক্রান্ত ২০২০ সালের ১২ জুন একটি ডিড অব সেটেলমেন্ট (সমঝোতা দলিল) সম্পাদন করেন। তাতে লতিফুর রহমান ছাড়াও তাঁর পরিবারের সব সদস্য অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী শাহনাজ রহমান, বড় মেয়ে সিমিন রহমান, ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক ও ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ওই সমঝোতা দলিলের সব শর্ত মেনে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর দেন। পরে তা কোম্পানির বোর্ড সভায় অনুমোদিত হয়। সমঝোতা দলিল সম্পাদনের পর লতিফুর রহমান রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (আরজেএসসি) কর্তৃক প্রণীত শেয়ার হস্তান্তর-সংক্রান্ত ফরম-১১৭ স্বাক্ষরের মাধ্যমে তাঁর নিজের মালিকানাধীন কোম্পানি ট্রান্সকম লিমিটেডের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার তাঁর বড় মেয়ে সিমিন রহমান, ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ার তাঁর ছোট মেয়ে শাযরেহ্ হক এবং ৪ হাজার ৭২০টি শেয়ার ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের বরাবরে হস্তান্তর করেছেন। পরবর্তী সময়ে ওই ফরম-১১৭ গুলো আরজেএসসিতে জমা দেওয়া হলে আরজেএসসি কর্তৃক যথারীতি শেয়ার হালনাগাদপূর্বক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারসংখ্যা-সংবলিত শিডিউল-এক্স ইস্যু করা হয়। লতিফুর রহমান ২০২০ সালের ১ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। লতিফুর রহমানের মৃত্যুর পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর কোম্পানি খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। লতিফুর রহমানের দুই কন্যা সিমিন রহমান, শাযরেহ্ হক এবং এক ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান পরবর্তী সময়ে ২০২১-২২ এবং ২০২২-২৩ করবর্ষে তাঁদের ব্যক্তিগত ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে (আয়কর বিবরণী) ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ার থেকে তাঁদের বরাবর হস্তান্তরিত শেয়ার প্রদর্শনও করেন।

লতিফুর রহমানের মৃত্যুর প্রায় চার বছর পর ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর কন্যা শাযরেহ্ হক কোম্পানির কর্ণধার সিমিন রহমান এবং তাঁর মা শাহনাজ রহমান চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে গুলশান থানায় প্রায় একই অভিযোগ ও একই ধারায় তিনটি মামলা দায়ের করেন, যা গুলশান থানার মামলা নম্বর ২০(০২)২৪, ২১(০২)২৪ ও ২২(০২)২৪। এসব মামলার কারণে সিমিন রহমান ও তাঁর মা বাংলাদেশে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁরা হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করে ২০২৪ সালের ২১ মার্চ বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি পান। সিমিন রহমানের বাংলাদেশে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করার লক্ষ্যে শাযরেহ্ হক একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে অর্থাৎ ২০২৪ সালের ২২ মার্চ লতিফুর রহমানের ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের ৯ মাস আগের স্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিমিন রহমান ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গুলশান থানার ১৯(০৩)২৪ নম্বর হত্যা মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে কোনো ধরনের সঠিকতা না পেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। পরে আদালত সেটি গ্রহণ করে সিমিন রহমানসহ অন্যদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

অপর মামলাগুলোও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে। এর মধ্যে ২২(০২)২৪ নম্বর মামলায় অভিযোগ ছিল, লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান স্বামীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে লতিফুর রহমানের টাকা উত্তোলন করে ট্রান্সকম ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের ৯ হাজার শেয়ার কেনেন। ওই মামলা পিবিআই তদন্ত শেষে টাকা উত্তোলন এবং ৯ হাজার শেয়ার কেনায় কোনো অনিয়ম না থাকায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যা পরবর্তী সময়ে আদালত গ্রহণ করে বিবাদীদের অব্যাহতি দেন।

লতিফুর রহমানের সম্পাদিত ডিড অব সেটেলমেন্ট জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে দাবি করে দায়ের করা ২১(০২)২৪ নম্বর মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিড অব সেটেলমেন্ট এবং যে সভায় সেটি অনুমোদিত হয়, তার কাগজপত্র জব্দ করে সিআইডি কর্তৃক বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা করান। ওই বিশেষজ্ঞ পরীক্ষার মতামত অনুসারে ডিড অব সেটেলমেন্ট এবং বোর্ড সভায় লতিফুর রহমান, তাঁর ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান এমনকি বাদী শাযরেহ্ হকের স্বাক্ষর সঠিক বলে প্রতীয়মান হয়। এর ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। আদালত তা গ্রহণ করে বিবাদীদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন।

আজকে ২০(০২)২৪ নম্বর মামলায় অব্যাহতির আদেশের মাধ্যমে সিমিন রহমান, তাঁর মা শাহনাজ রহমানসহ ট্রান্সকম গ্রুপের অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাযরেহ্ হকের দায়ের করা চারটি মামলা থেকেই তাঁরা অব্যাহতি পেলেন।

জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এনসিপির পক্ষে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন।

এ সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এনসিপির এই সনদে স্বাক্ষর করবে বলেই জাতির বিশ্বাস ছিল, আজকে সেই বিশ্বাস পূর্ণতা পেলো, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণতা পেলো। এনসিপিকে ধন্যবাদ এই মহতি কাজে অংশগ্রহণের জন্য।

তিনি বলেন, এই দলিল যেন নতুন বাংলাদেশকে মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে প্রতিটি পদে পদক্ষেপ রাখে তার জন‍্য প্রতি মুহূর্তে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামীকাল নতুন সংসদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। সবার সামনের দিনগুলো শুভ হোক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দল থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আগামীকাল শপথ গ্রহণ করবেন। আমরা একইসঙ্গে দুটো শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। আমাদের ওপর দেশের মানুষ যে আস্থা রেখেছে আমরা তা বাস্তবায়ন করবো। জুলাই সনদে সবার শেষ স্বাক্ষর করলেও এই সনদ বাস্তবায়নের জন‍্য আমরা ছিলাম সর্বোচ্চ তৎপর।

এনসিপির প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন মনিরা শারমিন, সারওয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন ও জহিরুল ইসলাম।

 

বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে নতুন নির্বাচিত সরকার। আর এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘটতে যাচ্ছে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।

নির্বাচিত সরকারের আগমনকে সামনে রেখে নিজ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

ভাষণ শেষে কার্যালয়ে কর্মরত সবার সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রায় দেড় বছর এই অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশ পরিচালনার পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর আগে, একই দিনে সকালে শপথ গ্রহণ করবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা। তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।

নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তারাই হবেন দেশের নতুন সরকার। শপথগ্রহণ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার বহাল থাকবে। নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

 

বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া–৬ ও ঢাকা–১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। আগামীকাল ঢাকা–১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ আজ সোমবার বিকেলে বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসন রেখেছেন। তাঁর এ–সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।

আইন অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিনটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে বিজয়ী হলে তিনি কেবল একটি আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারেন। বাকিগুলো ছেড়ে দিতে হয়। সেগুলোতে নিয়ম অনুযায়ী উপনির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে আজও ভিড় করছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও দলের নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে নেতা–কর্মীরা ভিড় করেন। বেলা পৌনে একটার দিকে কার্যালয়ে আসেন তারেক রহমান।

আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিন আজ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসছেন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নেতা–কর্মীরা। তাঁদের অনেকের হাতে ফুল। আসছেন দলের প্রধানকে শুভেচ্ছা জানাতে।

সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশান কার্যালয়ে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুপুর পৌনে ১২টায় যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

নওগাঁ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী আসেন ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। তাঁর সঙ্গে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীরাও ছিলেন।

ইকরামুল বারী বলেন, ‘দেশে ১৭ বছর পর গণতন্ত্র ফিরেছে। দীর্ঘ লড়াইয়ে বিএনপির নেতা–কর্মী ছিলেন সবচেয়ে নির্যাতিত। কেউ গুম হয়েছেন, কেউ খুন হয়েছেন। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি বড় জয় পেয়েছে। তাই নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছি।’
বেলা সাড়ে ১১টায় আসেন কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ঠিক করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছি।’

বিরোধী দলে যাঁরা থাকবেন তাঁদের উদ্দেশে শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা অবশ্যই সমালোচনা করবেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সমালোচনা যাতে শুধুই সমালোচনা না হয়। দেশের মানুষের কথা মাথায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ফেনী-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার আসন হওয়ায় আমার আসনে বিগত সময়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই।’

নির্বাচনে বড় জয়ের পর এখন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আগামীকাল মঙ্গলবার সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে শপথ নেবেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়েও সাধারণ মানুষসহ সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার জন্য বাসভবন ঠিক করা হবে- এমনটা জানিয়েছেন গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিষয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। উনারা যেভাবে চান সেভাবে হবে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নতুন মন্ত্রীদের বাসভবন নিয়ে ব্রিফিং করেন গণপূর্ত উপদেষ্টা।ব্রিফিংয়ে, এমনটা জানান তিনি।

গণপূর্ত উপদেষ্টা বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য এখন পর্যন্ত ৩৭টি বাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। মিন্টু রোড, ধানমন্ডি এবং গুলশান মিলিয়ে এ বাড়িগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকটি বাড়ি তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে। শপথ নিতে নিতেই এগুলো তৈরি হয়ে যাবে।

বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছিলো। ১৮ মাস জনগণের স্বার্থে কাজ করার চেষ্টা করেছি। গত সাড়ে ১৫ বছরের যে ফ্যাসিবাদী শাসন সেটি থেকে দেশকে একটি নতুন গতির মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার চেষ্টা করেছি নিজেদের কাজের জন্য।

আদিলুর রহমান আরও বলেন, দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির রিপোর্টের ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস করতে হবে। জনগণের আলোচনা এবং টিআইবির রিপোর্ট এক জায়গায় যায় বলে মনে করি না। ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামের সময় যারা রাস্তায় ছিলেন, তাদের সাথে কথা বললে হয়তো চিত্র আলাদা হবে। অনেক জায়গায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সংস্কার সম্পন্ন হয়নি, আশা করি সেগুলো সম্পন্ন হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নাসিমুল গনি চুক্তিভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চুক্তিভিত্তিতে তাঁকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর গত শনিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে থাকা শেখ আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিলের প্রজ্ঞাপন হয়। আবদুর রশিদ বলেন, তিনি আগেই পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের কারণে তা গৃহীত হয়নি। এখন আদেশ হলো।

আবদুর রশিদের চুক্তি বাতিল করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্যসচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বলা হয়, তিনি নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করা হলো।

নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন
 

নাসিমুল গনি কে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এই ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের ১৪২ জনের মেধা তালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ।

নাসিমুল গনি ১৯৮৩ সালে সহকারী কমিশনার (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাঙ্গামাটি) হিসেবে তাঁর চাকরিজীবন শুরু করেন। চার বছর রাঙ্গামাটিতে চাকরি করার পর তাঁকে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। পরে তাঁকে একাডেমির উপপরিচালক, আরও পরে যুগ্ম পরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়।

১৯৯০ সালে নাসিমুল গনি সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯৯১ সালে তিনি তৎকালীন ভূমিমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে বদলী হন। পরে তাঁকে শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়।

১৯৯৫ সালে নাসিমুল গনিকে ইরাকের বাগদাদে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পদে নিয়োগ করা হয়। এক বছর পর তাঁকে বাগদাদ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পর তাঁকে ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয়। পরে তাঁকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে বদলি করা হয়।

১৯৯৯ সালে নাসিমুল গনিকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০১ সালে তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে জামালপুরের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এই দায়িত্ব শেষে তিনি স্পিকারের একান্ত সচিব পদে নিযুক্ত হন।

২০০৪ সালে নাসিমুল গনি যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে যুগ্মসচিব হিসেবে কাজ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালে নাসিমুল গনি অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন। তাঁকে রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিব পদে নিয়োগ করা হয়। ২০০৭ সালে তাঁকে নিপোর্টের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হয়।

২০০৯ সালে নাসিমুল গনিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) নিয়োগ করা হয়। চার বছর ওএসডি থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তবর্তী সরকার নাসিমুল গনিকে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর তিনি সিনিয়র সচিব হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক হয়েছে গতকাল রোববার। আগামীকাল মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভার শপথের মধ্য দিয়ে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত-সমালোচিত দেড় বছরের শাসনকাল। উপদেষ্টারা জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন, আর ফিরবেনও একই গাড়িতে। তবে তখন আর সেই গাড়িতে জাতীয় পতাকা থাকবে না।

কাগজপত্রে দেড় দিন কর্মদিবস থাকলেও গতকালই মূলত তাঁরা উপদেষ্টা হিসেবে শেষ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠকে যোগ দেওয়া ছাড়াও অনেকেই সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে গেছেন, মতবিনিময় করেছেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। কেউ কেউ আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অফিস থেকে বিদায় নেবেন। উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কে কী করবেন, সেই প্রস্তুতিও আগে থেকে শুরু করেছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসংখ্যা প্রধান উপদেষ্টাসহ ২১। এ ছাড়া উপদেষ্টা পদমর্যাদায় বিশেষ সহকারী, বিশেষ দূত ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিলিয়ে আছেন চারজন। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার চারজন বিশেষ সহকারীও রয়েছেন।

ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসফাইল ছবি: বাসস

অধ্যাপক ইউনূস কী করবেন

উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক শেষে গতকাল বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে কী করবেন?

জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ওনার (অধ্যাপক ইউনূস) ডিকশনারিতে রিটায়ার্ড বলতে কিছু নেই। উনি হয়তোবা ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর ফিরে এসে দেখবেন নতুন একটা কাজ নিয়ে ভাবছেন, যুক্ত হয়েছেন। উনি আগে যে কাজগুলো করতেন, সেগুলো করবেন। সামাজিক ব্যবসা নিয়ে সারা বিশ্বে কথা বলেন। ক্ষুদ্রঋণ ও “থ্রি জিরো” ভিশন নিয়ে কথা বলেন। দারিদ্র্যকে কীভাবে কমানো যায়, সেই কাজ তিনি এখন পর্যন্ত করছেন, আগামী দিনগুলোতেও করবেন। পরিবেশ নিয়েও কাজ আছে।’

অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুলফাইল ছবি

অন্য উপদেষ্টারা কী করবেন

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গতকাল সচিবালয়ে অফিস করেন। এ সময় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনিও কি নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন? জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘প্রশ্নই আসে না।’

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল গত মঙ্গলবার বলেছিলেন, উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে তিনি আবার আগের পেশায়, অর্থাৎ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় ফিরে যাবেন। এ ছাড়া মৌলিক বিষয়ে লেখালেখি ও গবেষণা করবেন তিনি।

আলী ইমাম মজুমদার
আলী ইমাম মজুমদার
 

আলী ইমাম মজুমদার গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তরপ্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। তিনি আগেই জানিয়েছেন, দায়িত্ব শেষে তিনি আগের মতোই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। উপদেষ্টা হওয়ার আগে তিনি সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব শেষে আবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন
 

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, রমজানের পর আবার লেখালেখি ও বই পড়ায় ফিরবেন তিনি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গতকালও সচিবালয়ে অফিস করেছেন। দায়িত্ব শেষে তিনি আবার বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) কাজে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন। গতকাল তিনি বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবার বেলায় যোগ দেবেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি আগেই জানিয়েছেন ‘আপাতত কিছুদিন’ বিশ্রাম নেবেন। এরপর আগের মতোই লেখালেখিতে ফিরতে চান।
শারমীন এস মুরশিদ
শারমীন এস মুরশিদ
 

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ ব্রতীতে ফিরে যাবেন এবং মানবাধিকার বিষয়ে কাজ করবেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যুক্ত নারীদের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে বলে আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।

ফরেন সার্ভিস একাডেমির সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘উপদেষ্টা যাঁরা তাঁরা শপথের (নতুন মন্ত্রিসভার) দিন থাকবেন, তাঁরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং শপথের দিন তাঁরা পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। যখন শপথ অনুষ্ঠিত হয়ে যাবে, আসার সময় ওই গাড়ি তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেবে, কিন্তু পতাকা থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘তাঁরা সবাই দেশেই আছেন, তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে আরও এগিয়ে নিতে তাঁরা তাঁদের সর্বোচ্চ অ্যাফোর্ট দেবেন।’

  • আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
  • গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।

ঢাকা

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের আহ্বায়ক ইশরাক হোসেন বলেছেন, জাতীয় দলের সাবেক দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তাজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া গণহত্যার মামলা তার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটারকে রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, দেশের ‘অ্যাসেট’ হিসেবে দেখা উচিত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অনেক আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন মাশরাফি। ঘরোয়া ক্রিকেটে খেললেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি জনসম্মুখে নেই। অন্যদিকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাকিব আল হাসানের নামেও একাধিক মামলা হয়েছে একই কারণে তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।

একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইশরাক বলেন, তারা ক্রিকেটার এবং শুধু কোনো যেন-তেন ক্রিকেটার না, তারা আমাদের দেশের অ্যাসেট। আমি তাদের ক্রিকেটার হিসেবেই বিবেচনা করছি। জনগণ ইতোমধ্যে একপ্রকার জবাব দিয়ে দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে যে গণহত্যার মামলা হয়েছে, সেটি আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। আমার কাছে মনে হয়নি, তারা গিয়ে কোনো অর্ডার ক্যারি আউট করেছে বা নিজের হাতে বন্দুক নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছে।

সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। তিনি বলেন, আপনারা জানেন বিসিবির কাউন্সিলর কেমন করে হয় সেখানে জেলা প্রশাসক কাউন্সিলর নিয়োগ দেন। এটা মহাদুর্নীতি, বাণিজ্য ও পক্ষপাতিত্বমূলক প্রক্রিয়া। নিজেদের সিন্ডিকেট বোর্ডে বসানোর চেষ্টা হলে আমরা তো বসে থাকতে পারি না।

তবে নিজে বোর্ড রাজনীতিতে আসার আগ্রহ নেই বলেও জানান তিনি। আমি একজন কাউন্সিলর হলেও কখনো বোর্ডে আসব না। আমার বোর্ডে আসার সময় নেই। আমি ফুলটাইম রাজনীতি করব। আমি চাই, যারা ফুলটাইম ক্রীড়া সংগঠক, তারা আসুক। আমরা তাদের সহায়তা করব, যোগ করেন ইশরাক।