কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সিএনজি অটোরিকশার চালকসহ চারজন যাত্রী রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীবোঝাই সিএনজিটি শহরের কবুরহাট এলাকা থেকে বাইপাস হয়ে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদেরও মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশের তৎপরতায় পরে তা স্বাভাবিক হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

সারাদেশে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। আর চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বরিশালে একুশে ফেব্রুয়ারির আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তের বিনিময়ে শুধু বারবার আন্দোলন করলে হবে না। দেশকে সুন্দর করে গড়ার পরিকল্পনাও আমাদের থাকতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় আমরা ক্ষমতায় আসার আগে ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের পরিকল্পনা দিয়েছি। আমাদের সকল প্রতিশ্রুতি জনগণের কাছে পরিষ্কার করেছি। কেননা আমরা জনগণের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চাই। 

প্রশাসনের স্বকীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রশাসনের সাথে জনগণের সম্পর্কটা পরিষ্কার না থাকলে অহেতুক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি প্রশাসনকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যে অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনতে হলো তা কোনো নতুন প্রশাসন করে নাই। এই প্রশাসনেই আছে। যারা ইচ্ছায় সেটা করেছেন তাদের অবশ্যই চিহ্নিত হতে হবে। যারা অনিচ্ছায় করেছেন তাদের কে আমি সম্মান দেই। তা না হলে আমরা আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক চলতে পারবো না। 

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এই ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এদিনই প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে অফিস শুরু করেন তিনি। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মদিবসের শুরুতে তিনি একটি স্বর্ণচাঁপা গাছের চারা রোপণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তিনি তেজগাঁও কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে কাছে টেনে নেন তিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রীকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত অনেক কর্মচারীই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

 

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে।

সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি-সিডিপি'র চেয়ারম্যানের কাছে এ সম্পর্কিত চিঠি পাঠিয়েছেন।

এতে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা কারণে দেশের অর্থনীতিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে, এলডিসি থেকে উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

পাশাপাশি বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণসহ আরও কিছু বিষয় পর্যালোচনার জন্য চলতি মাসের শেষ দিকে সিডিপির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এলডিসি থেকে উত্তরণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায়। অতীতে কয়েকটি দেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বা স্থগিত হওয়ার নজির রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি।

প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
 
প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে উপজেলা শ্রমিক দলের এক নেতা আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ শ্রমিক দলের নেতার নাম মেহেদী হাসান (৩২)। তিনি উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে। তাঁর বাড়ি রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় শাহ আউলিয়া জামে মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিলেন মেহেদী হাসান। এ সময় মুখোশ পরে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মেহেদী হাসানকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল আলম বলেন, মেহেদীকে হত্যা করতে ৬টি গুলি করেছে সন্ত্রাসীরা। একটি গুলি তাঁর বুকের ডান পাশে এবং একটি গুলি পায়ে লেগেছে। আহত মেহেদীকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম আজ শনিবার ভোরে প্রথম আলোকে বলেন, মেহেদী হাসানকে কারা গুলি করেছে, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাধার মুখে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) রুমিন ফারহানা। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে রাত পৌনে ১২টার দিকে পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ মিনারে পৌঁছান রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী-সমর্থকরা। শহীদ বেদির সামনে অপেক্ষারত অবস্থায় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে উত্তেজিত বিএনপি নেতাকর্মীরা রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবক ছিঁড়ে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে তিনি কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন। ফলে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেননি।

ঘটনার প্রতিবাদে পরে রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভের সময় সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়।

রুমিন ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গেলে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে এসে যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। যারা দলের পদ ব্যবহার করে হিংস্রতায় জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দলের উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বলেন, শহীদ মিনারে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন সর্বস্তরের মানুষ। খালি পায়ে সারিবদ্ধভাবে ফুল নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন তাঁরা। অনেকেই পরেছেন একুশের প্রতীক সাদা–কালো পোশাক। ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনারের বেদি।

[caption id="attachment_267760" align="alignnone" width="921"] ফুল হাতে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে শিশুটি[/caption]

অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। তা চলে সাহ্‌রির আগপর্যন্ত। সাহ্‌রি শেষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টায় প্রভাতফেরিতে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু করেন।

 
বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসেছেন তাঁরা
বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসেছেন তাঁরা

প্রভাতফেরিতে এর মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয়তাবাদী তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ হল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল, বাসদ (মার্ক্সবাদী), সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট প্রভৃতি।

ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
ফুলে ফুলে ভরে গেছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, সংসদ সদস্য হাবিবুর রশিদ প্রমুখ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে এসেছেন তাঁরা । শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে এসেছেন তাঁরা । শহীদ মিনার, ২১ ফেব্রুয়ারি
 

ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

রাত বারোটা বাজার এক মিনিট আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পার কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এরপর ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেদিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ডলীগণ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৬ মিনিটে তিনি ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।

রাত বারোটা বাজার এক মিনিট আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান রাষ্ট্রপতি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পার কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি। শ্রদ্ধা জানিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শহীদ মিনারে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় তিনি শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান ভাষা শহীদদের প্রতি। এরপর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। 

এরপর ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বেদিতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্ডলীগণ।

এসময় সেখানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু, তথ্য মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা। এসময় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাও। পরে তারেক রহমান তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জায়মা রহমান শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। 

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এইদিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশ নির্মমভাবে গুলিবর্ষণ করে। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। তাদের মধ্যে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বার অন্যতম। তাই দিনটিকে শহীদ দিবস বলা হয়ে থাকে।

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ রাজধানীর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ডিএমপির ১৫ হাজার সদস্য। আর, পুলিশের পাশাপাশি সারাদেশে নিরাপত্তায় কাজ করবে র‍্যাবও। 

রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর পর ১২টা ৪০ মিনিট থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে প্রথম ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি এর চরম প্রকাশ ঘটে। ওইদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর নির্বিকারে গুলি চালায়। এতে কিছু ছাত্র শহীদ হন। এ ঘটনায় নানা নির্যাতন সত্ত্বেও ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরা প্রতিবাদ জানাতে পরের দিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুনরায় রাজপথে নেমে আসেন। 

তারা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে শহীদদের জন্য অনুষ্ঠিত গায়েবি জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি এক রাতের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গড়ে ওঠে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, যা সরকার ২৬ ফেব্রুয়ারি গুঁড়িয়ে দেয়। একুশে ফেব্রুয়ারির এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করলে ৭ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয় ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয়। যা কার্যকর করা হয় ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ থেকে।

কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৫ মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় পাচারের উদ্দেশ্যে বন্দি থাকা নারী ও শিশুসহ ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আটককৃত ৫ চক্রের সদস্যরা হলেন, বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়া এলাকার নবী হোসেন (২৭), মহেশখালী কেরুনতলী এলাকার মো. রায়হান (২০), বাহারছড়া বড় ডেইল এলাকার মাহফুজ উল্লাহ (১৮), উখিয়া কুতুপালং ১ নং ক্যাম্পের বাসিন্দা শফিক আলম (২২), একই ক্যাম্পের লাল মিয়া।

কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে তথ্য পাওয়া যায় যে, বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি, নারী ও শিশুসহ মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় বাহারছড়া, শাহপরী ও স্টেশন টেকনাফ থেকে আউটপোস্ট সদস্যরা একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, অভিযান চলাকালীন একটি সন্দেহজনক বোটকে থামার সংকেত প্রদান করা হয়। বোটটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কোস্ট গার্ড দল তা ধাওয়া করে কচ্ছপিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে ৩ জন মহিলা, ৩৯ জন পুরুষ, ১৩ জন শিশুসহ মোট ৫৫ জনকে উদ্ধার করা হয় এবং পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক আরও জানিয়েছেন, মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। আটক ও উদ্ধারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উদ্ধারকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বিভিন্ন পাচারচক্র বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং কম খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে সাগর পথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল।