রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে জমাট পানিও দেখতে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমাট পানি এবং রুটির কারখানা থেকে এমন কোনো পদার্থ বা গ্যাস নির্গত হচ্ছে কি না, যা নবজাতকদের সহ্য ক্ষমতার বাইরে, তা পরীক্ষা করা হবে।’

আজ শনিবার বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. জাহিদ রায়হান এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রথমেই হাসপাতালটির পাঁচতলায় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) যান, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কলেজ ভবনের আটতলায় থাকা একটি বেকারি পরিদর্শন করেন। শেষে দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে যান। সেখানে ছয় নবজাতক ভর্তি অবস্থায় গত বুধবার মারা যায়। ওয়ার্ডটি পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে আরেকটি ভবন আছে। আট-দশ গজ দূরে। যেটি একটি সেতু দ্বারা হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত। ভবনটির আট বা নয়তলায় একটি বেকারি রয়েছে। বেকারিতে দুটি ইলেকট্রিক ওভেন রয়েছে। পরিদর্শনের সময় তিনি সেখানে কোনো বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী পাননি, একজন মেকানিক্যাল সহকারীকে পেয়েছেন। সেখানে অনেক ময়লা-আবর্জনাও দেখেছেন। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, শিক্ষার্থী ও স্বজনদের উপস্থিতি থাকে, সেখানে এমন অবস্থা থাকা উচিত হয়নি বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রুটির কারখানা থেকে কোনো ধরনের গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করেছে কি না, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি। আমাদের বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পরীক্ষা করছেন। আরও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো হবে। আগামীকালই (রোববার) তাঁরা কারখানাটি পরিদর্শন করবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন শেষে বেকারি প্রসঙ্গে হাসপাতালটির পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বেকারিটা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় থাকা পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড থেকে অনেক দূরে। এটা কলেজ ভবনের আটতলায় অবস্থিত। বেকারিতে ইলেকট্রিক ওভেন ব্যবহার করা হয়। কোনো গ্যাস সেখানে নেই, সবকিছু মেশিনে তৈরি করা হয়। তবে বেকারিতে একটু পানি জমে ছিল। যদিও ওই পানি বেকারিতে ব্যবহার করা হয় না।

তদন্ত প্রতিবেদন ৩ জুন

বুধবার সকালে হাসপাতালটির ডেলিভারির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা এক থেকে তিন দিন বয়সের ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। কী কারণে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনা তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

প্রাণ হারানো এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান বুধবার রাতে রাজধানীর রমনা থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে কাউকে আটক করা হয়নি।

৩ জুন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সকালে তদন্ত কমিটির সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। তাঁরা এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য মারা যাওয়া নবজাতকদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। মায়েরা অনেকেই দূরে আছেন। তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছে। আরও দু-তিন দিন সময় লাগবে সব মায়ের সঙ্গে দেখা করতে।’

ময়নাতদন্ত না হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘নবজাতকদের অভিভাবকেরা এতে সম্মতি দেননি। সিআইডিসহ সংশ্লিষ্টরা তাঁদের রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নবজাতকের মৃত্যুতে শোকাহত মা-বাবার মানসিক অবস্থা বিবেচনায় বিষয়টি সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়াও পরিবেশগত একটা প্রতিবেদন দিতে পারব।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তদন্ত কমিটির তিন সদস্যের পাশাপাশি পরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিভাগের একজন প্রকৌশলী, নবজাতক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককেও যুক্ত করা হয়েছে। কারিগরিসহ সব বিষয়ে প্রতিবেদনে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কর্মীদের ধাওয়ার মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছেন সাংবাদিকেরা। আজ শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের কর্মীদের ধাওয়ার মুখে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে যাচ্ছেন সাংবাদিকেরা। আজ শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে, ছবি: সংগৃহীত

সাংবাদিকদের ধাওয়া

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান।

পরে হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাহিদ ইয়াসমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বেকারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলগালা করে দিয়ে গেছেন। এখন আর কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব নয়।

এরপরও গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালটির নিচতলায় অবস্থান করে বেকারিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা এসে উপস্থিত হন। তাঁদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। একপর্যায়ে ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। মারধরও করা হয়। এতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছেন।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছে ছাত্রদল। 

শনিবার (৩০ মে) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভূইয়াকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। একইসাথে উক্ত কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো। সাংগঠনিক গতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির শনিবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। 

উল্লেখ্য, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) সকালে বাবার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বের হওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সদস্যদের সঙ্গে ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ভুঁইয়াসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

৪৫তম শাহাদতবার্ষিকীর দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলকের কথা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ শিরোনামে এক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র লেখেন, ‘এর মধ্যে যেকোনো একটি অর্জন থাকলেই নির্দ্বিধায় একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সফল বলা যায়। আর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এমন একজন রাষ্ট্রনায়ক, যার জীবনে গৌরবের এসব মহিমান্বিত পালক একত্রে বিদ্যমান। আমার জানা মতে, বিশ্ব ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই যে, একজন নেতা নিজ দেশের জন্য বহুমাত্রিক ভূমিকা রেখে এভাবে পরিণত হয়েছেন সমগ্র জাতির সত্তা ও অস্তিত্বের অংশে; তথা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতীকে।’

বাংলাদেশের রূপান্তরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ২০টি ঐতিহাসিক মাইলফলক নিয়ে মাহদী আমিনের ফেসবুকের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

১. বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, যার আহ্বানে শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ।

২. মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, এবং অসামান্য বীরত্বের জন্য ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত।

৩. সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের মহানায়ক এবং ইতিহাসের সফলতম সেনাপ্রধান।

৪. দেশের প্রথম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

৫. বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সুমহান আদর্শের প্রবক্তা, যা নিশ্চিত করে প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ, মত, পথ ও বিশ্বাসের মানুষ এবং সমতল ও পাহাড়ের প্রতিটি বাংলাদেশির সমান অধিকার ও স্বাধীনতা।

৬. বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং বাকস্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতের অধিকার স্থাপক।

৭. গণআকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধানের সংশোধন ও ইসলামী মূল্যবোধের ধারক।

৮. মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু, আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠন এবং বেসরকারি খাতের বিকাশে যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রবর্তক।

৯. রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের পথিকৃৎ এবং দেশজুড়ে ইপিজেড ও বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনাকারী।

১০. মধ্যপ্রাচ্যে ও অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানির পথিকৃৎ, যার ফলে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত প্রবাসীদের রেমিটেন্স আজও দেশের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি।

১১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার ভিত্তি নির্মাণ এবং তৃণমূলের উন্নয়নের রূপকার।

১২. গ্রাম সরকার ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা উদ্যোগের প্রবর্তক।

১৩. ঐতিহাসিক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির জনক।

১৪. গণশিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষা কর্মসূচির প্রবর্তক এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সবার জন্য সহজলভ্য করার কারিগর।

১৫. নারী ও যুবকদের জন্য দুইটি পৃথক মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

১৬. শিশু একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও নতুন কুঁড়ির প্রবক্তা।

১৭. দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সহযোগিতার জন্য সার্কের প্রতিষ্ঠাতা।

১৮. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের কারিগর।

১৯. পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বহির্বিশ্বের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের রূপকার, ইরান-ইরাক যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী, ফিলিস্তিনি জাতি নির্মাণে আল-কুদস কমিটির সদস্য।

২০. নতজানু পররাষ্ট্রনীতি ভেঙে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে শক্তিশালী অবস্থান ও পানির হিস্যা বুঝে নেওয়াসহ বহু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণকারী।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন লেখেন, ‘এসব গুরুত্বপূর্ণ অর্জন শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের সাফল্যের গৌরব নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন, উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কালজয়ী ইতিহাস। তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্ম, পরিকল্পনা, চিন্তা ও নেতৃত্ব আজও কোটি কোটি মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে এবং তার হাত ধরেই বদলে গেছে পুরো দেশ ও জাতির কাঠামো। আর ঠিক সেই আদর্শ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতাই আজ বহন করছেন জনগণের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যেমনটি করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।’

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা–৪ আসনের (দেবীদ্বার) এই সংসদ সদস্য বলেছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক যে টাকার কথা বলেছেন, সেটি উপজেলার জন্য বাজেট বরাদ্দ। সে টাকা তাঁকে দেওয়া হয়নি।

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ওই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। মোস্তাক মিয়া বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদকের পদে রয়েছেন

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসক যে কথা বলেছেন, তিনি সেটি দ্বারা উপজেলার জন্য বাজেট নেওয়ার কথা বুঝিয়েছেন। আর উপজেলার জন্য বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি। এ বাজেট তো কোনো ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয়েছে উপজেলাকে।’

দেবীদ্বার উপজেলাকে কোন কোন খাতে, কোন কাজে টাকা দেওয়া, সে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে আছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘উপজেলাও সে টাকা কোন খাতে কত টাকা, কোথায় খরচ করেছে, সে হিসাব আছে। তারা সেটি প্রকাশ করুক।’

উপজেলার উন্নয়নের জন্য সবকিছু করতে রাজি আছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি আমার উপজেলার মানুষের জন্য কোথাও যদি কোনো কিছু ভিক্ষা চাইতে হয়, সেটি নিয়েও আমার আপত্তি নাই। কারণ, আমি তো আমার জন্য চাচ্ছি না। আমি মানুষের জন্য চাচ্ছি।’

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। দেবীদ্বার উপজেলাকে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্যের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে, টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবীদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উনি বলেছেন, রাজস্ব খাত থেকে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটি তো রাজস্ব খাতের বরাদ্দ নয়, এডিপি প্রকল্পের বরাদ্দ।’

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আদর্শ নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি, এমনটাই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই দিনে আমরা শপথ নিতে চাই, সমাজে যার যার অবস্থান থেকে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াবো। 

পাশাপাশি, মানবিকতা-সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

এরপর, যাত্রাবাড়ীতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা তাঁর আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। 

এর আগে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড এবং খিলগাঁও এলাকায় খাবার ও বস্ত্র বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।  

 

রাঙামাটির সদর উপজেলার বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের পাশে কাপ্তাই হ্রদে গোসল করতে নেমে নবদ্বীপ বড়ুয়া (১৭) নামে এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিখোঁজ নবদ্বীপ বড়ুয়ার বাড়ি খাগড়াছড়ির তেঁতুলতলা এলাকায়।

বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অমর কুমার চাকমা বলেন, সাত-আটজন বন্ধু মিলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদে ঘুরতে বের হয়েছিল নবদ্বীপ। একপর্যায়ে তারা হ্রদে গোসল করতে নামে। এ সময় নবদ্বীপ পানিতে তলিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক নিউটন দাস বলেন, খবর পেয়ে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

তবে বেলা সোয়া দুইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নবদ্বীপকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন। তিনি এক বাণীতে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়কের অসামান্য অবদানকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেছেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ইতিহাসে জিয়াউর রহমান এক অবিস্মরণীয় নাম।

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, অগাধ দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অনঢ় অবস্থান, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা ও জীবন আদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য চিরকাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ঊষালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত হন।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রফতানি প্রবৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তিনি বহুমুখী পরিকল্পনা ও যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল একটি উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন জানিয়ে বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রেও তার অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দেশ পরিচালনায় তিনি স্বল্প সময় পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন, যা আজও এক সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

 

আজ শনিবার (৩০ মে) বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে নিহত হন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং ব্রিগেড ফোর্স 'জেড ফোর্স'- এর অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য পান 'বীর উত্তম' খেতাব। এছাড়া বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। 

১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জিয়াউর রহমান। তিনি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতি হন তিনি। 

বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেন জিয়াউর রহমান। তার শাসনামলে বাংলাদেশের কৃষিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে খালকাটা কর্মসূচির মাধ্যমে। তিনি বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির সূচনা করেন। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে গঠিত সার্ক প্রতিষ্ঠারও স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত আট দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

আজ শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করবে বিএনপি। এরপর বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এছাড়া, বিকেল ৩টায় দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করবে দলটি। 

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নেতিবাচক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে একটি অত্যন্ত জটিল ও শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এখানে মুহূর্তের মধ্যেই একজন রাজনীতিক বা যেকোনো ব্যক্তির চরিত্রহনন করা সম্ভব হচ্ছে।’
 
শুক্রবার দুপুর ১২টায় ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 
এ সময় সাংবাদিকতাকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা, এর চেয়ে সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ পেশা আর আছে বলে আমার জানা নেই। সমাজ ও রাষ্ট্রের সত্য তুলে ধরতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিয়ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।’
 
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সঠিক সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিগত সরকারের আমলে কমপক্ষে ৫০০ জন সাংবাদিক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতন ও নিগ্রহের শিকার হচ্ছেন না।
 
বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে আলোকপাত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েই আজ মুক্ত সাংবাদিকতা হুমকির মুখে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে অনেক সংবাদকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাংলাদেশে বাস্তবতা আরও কঠিন। এখানে সত্য সংবাদ প্রকাশের পর তা যদি কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির স্বার্থে আঘাত হানে, তবেই ওই সাংবাদিকের ওপর নেমে আসে অবর্ণনীয় নির্যাতন ও জুলুম।
 
উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে এমন অনেক কিংবদন্তি সাংবাদিক ছিলেন, যারা লেখনীর পাশাপাশি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের বড় বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। 
 
সাংবাদিকদের নিজেদের ভেতরের সব বিভেদ ভুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি থাকলে শোষকদের সুবিধা হয়। নিজেদের পেশাগত অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
 
মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অপসাংবাদিকতা একটি রাষ্ট্রকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।’
 
প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠুর সঞ্চালনায় এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, প্রবীণ সাংবাদিক ফজলে ইমাম বুলবুল, হারুন উর রশিদ, জয়নাল আবেদীন বাবুল, আপেল মাহমুদ, মোবারক হোসেন ও মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
 
এর আগে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন।

মৌলভীবাজারে তেলবাহী ওয়াগনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভানুগাছ-শ্রীমঙ্গল স্টেশনের মাঝামাঝি লাউয়াছড়া বনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

শ্রীমঙ্গল স্টেশন মাস্টার শাখাওয়াত হোসেন জানান, সিলেট থেকে চট্টগাম যাওয়ার পথে একটি ওয়াগনের চারটি চাকা লাইচ্যুত হয়। তবে ওয়াগনটিতে কোন তেল ছিলো না।

তিনি আরও জানান, লাইনচ্যুত ওয়াগন উদ্ধারে কাজ করছে রেল বিভাগ। উদ্ধারের জন্য হাইড্রোলিক টুলভ্যান নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধারের পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলেও জানান তিনি।

কোরবানির ঈদের বর্জ্য এবং ময়লা সময়মতো অপসারণ না করে রাস্তায় ফেলে রাখার দায়ে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

[caption id="attachment_275159" align="alignnone" width="935"] গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ পরিস্থিতি দেখেছেন তিনি, ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সৌজন্যে[/caption]

শাস্তিপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) জোন-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) জোন-১ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।

উল্লেখ্য, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কোরবানির পশুবর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিজেই পর্যবেক্ষণ করতে বের হন। সেসময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রীণরোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় কোরবানির পশুর বর্জ্য ও আগের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকায় তিনি তাৎক্ষনিক এই ব্যবস্থ্যা গ্রহণের নির্দেশ দেন।