বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অনেক অভিনন্দন।

তিনি আরও বলেন, এই অর্জন বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলিত করে। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সে গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং বহুপাক্ষিক, যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যোগাযোগ, সংলাপ এবং সহযোগিতা করবে। আমরা তার এই নতুন দায়িত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।

[caption id="attachment_275589" align="alignnone" width="716"] প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন।[/caption]

এদিন জাতিসংঘের সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের ৪১তম অধিবেশনে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার বাংলাদেশের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হলেন। 

 

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরার পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজেদের বাসার ফটকের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন দুই নারী। ওই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েল ওরফে সোর্স জুয়েল ওরফে আরিফকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-২। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার এক অভিযানে নারায়ণগঞ্জ থেকে জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-২-এর সিপিএসসি কোম্পানির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম। তিনি বলেন, মোহাম্মদপুরের বহুল আলোচিত এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোড এলাকায় দুই নারী নিজেদের বাসার ফটকের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রিকশা থেকে নামার পর চাপাতি হাতে দুই ব্যক্তি তাঁদের ভয় দেখিয়ে লাগেজ, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার পর মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীরা ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকায় ফিরে বাসার সামনে পৌঁছানোর পর এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পুলিশ শুরু থেকেই এ ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় র‍্যাবের অভিযানে প্রধান সন্দেহভাজন জুয়েলকে গ্রেপ্তার করা হলো।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচনে ৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমানকে ভোট দিয়েছে। নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯১টি।

এ নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে দ্বিতীয়বারের মতো বসছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি।

ভোটে জয়ের পর বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। আজ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে
ভোটে জয়ের পর বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে ঘিরে উচ্ছ্বাস। আজ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে, ছবি: জাতিসংঘের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া
 

৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধির অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করে সুপারিশ করে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীন গঠিত সিডিপি।

বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরপরই গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধি করে ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত করার অনুরোধ জানায়। পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল এ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে এক চিঠিতে তাঁর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

সিডিপি এ উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিডিপির চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন যে কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করাই যথাযথ হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের। তবে বাংলাদেশকে এ সময়ে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ সংস্কার কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে।

সিডিপি তার মূল্যায়নে উল্লেখ করেছে যে বাংলাদেশ তিনটি এলডিসি উত্তরণ সূচকের প্রতিটিতেই নির্ধারিত মানদণ্ড অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ সরকারের একটি মসৃণ উত্তরণ কৌশল (এসটিএস) আছে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণকালীন সময়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য প্রণীত রূপরেখাই হলো এসটিএস।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি এই এসটিসি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। সিডিপি মনে করে যে প্রস্তুতি পর্ব সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ–পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তাব্যবস্থার জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

একই সঙ্গে সিডিপি বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতি পর্ব এবং উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসিসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার যথোপযুক্ত সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং বাণিজ্য আলোচনার সক্ষমতা বৃদ্ধি।

সিডিপি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এ কমিটির মতে, প্রস্তুতিপর্ব বৃদ্ধি কোনোভাবেই সংস্কার কার্যক্রম বিলম্বিত করার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত নয়, বরং এটি সংস্কার ত্বরান্বিত করার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার সিডিপির এই ইতিবাচক মূল্যায়ন ও সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে। সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি টেকসই, মসৃণ ও সফল এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

সর্বশেষ সফল সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ

এলডিসি উত্তরণের সময় পেছানোর আবেদন করে সর্বশেষ সফল হয়েছিল সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ। ২০২৩ সালে দেশটির সরকার গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে সিডিপির কাছে আবেদন করে। সিডিপি তখন মূল্যায়ন করে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া সুনামির কারণে মালদ্বীপ এবং ভূমিকম্পের কারণে নেপালের এলডিসি উত্তরণ নির্ধারিত সময়ে হয়নি।

উত্তরণে ধাপগুলো কী কী

তিন বছর পরপর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এ তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হলে অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হলে এলডিসি থেকে বের হওয়ার সুপারিশ করে জাতিসংঘ।

বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিন সূচকেই উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ এবং ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। তবে করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়ানো হয়। নতুন করে সময় বাড়ল তিন বছর।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার ও পুনর্বহালের দাবিতে রাঙামাটিতে আজ মঙ্গলবারও বিক্ষোভ করেছেন বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা। তাঁরা সড়ক অবরোধ করে ও রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেন।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শহরের কলেজ গেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশের আগে কলেজ গেট এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কলেজ গেট, টিটিসি, কল্যাণপুর হয়ে কেকে রায় সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজগেটে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

নেতা-কর্মীরা ‘দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র মানি না, মানব না’, ‘ষড়যন্ত্রমূলক পদত্যাগ বাতিল কর’ স্লোগান দিয়ে কলেজগেট সড়ক প্রায় ২০ মিনিট অবরোধ করে রাখেন। এতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

সমাবেশে রাঙামাটি জেলা বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘দীপেন দেওয়ানের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে মন্ত্রিত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর আমরা আবেদন জানাই। কোনো কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে দীপেন দেওয়ানের কিছু হলে রাঙামাটিবাসী তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে। এর দায়দায়িত্ব ষড়যন্ত্রকারীদের পাশাপাশি প্রশাসনকেও নিতে হবে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক শিবলী শান্তি চাকমা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি পারুল বেগম, জেলা বিএনপির সদস্য সাবের হোসেন, পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাদের আলী প্রমুখ। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সোমবার ১ জুন দীপেন দেওয়ান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন। তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে গতকাল সোমবার কাঁঠালতলীতে এবং আজ মঙ্গলবার কলেজ গেটে টানা দুই দিন সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা।

চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) ১৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে চায়না এয়ারের ফ্লাইটে হয়রত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ছেড়েছে প্রতিনিধি দলটি।

চীন সরকার ও চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি হবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং-এ। প্রতিনিধি দলের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্তি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ৮ জুন পর্যন্ত এই প্রশিক্ষন চলবে।

প্রতিনিধি দলে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) মহাপরিচালক জুলিয়া মঈন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক (ইনোভেশন এন্ড ইমপ্লিমেন্টেশন) মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, উপসচিব জেসমিন আখতার, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান,মোহাম্মদ আবদুল জাব্বার, মো. মাহবুবুর রহমান, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরওয়ার প্রমূখে র‌য়েছেন।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে কাজে লাগাতে পারবেন।

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০১৪ সালেই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

সালেহ শিবলী গত শনিবার লন্ডনে বলেন, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলেও তারেক রহমান এর পাঁচ বছর আগেই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মত দিয়েছিলেন।

সালেহ শিবলীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই লন্ডনের টাওয়ার হিলে এক অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থা সংস্কার করে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি তখনই এ অবস্থান নিয়েছিলেন।

দাবির সমর্থনে সালেহ শিবলী একটি ভিডিও দেখান। ভিডিওতে তারেক রহমানকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকারি চাকরিতে যে কোটা আছে, এখন বোধ হয় দেশে প্রায় ৫০ ভাগের মতো কোটা আছে। আমি মনে করি, এই কোটাটা ৫০ থেকে কমিয়ে মেধাবীদের জায়গা দেওয়ার জন্য ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা উচিত।’

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের মধ্যে রক্তাক্ত এক পথ পেরিয়ে তা গণ–অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তাতে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ।

সালেহ শিবলী বলেন, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। এর দেড় বছর পর গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। দেড় দশকের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

সালেহ শিবলী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে বিএনপি সরকার কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর উদ্যোগ, স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নার্স নিয়োগের ঘোষণা এবং বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী লন্ডন সফরে থাকার সময় কথা বলেন। সোমবার তিনি দেশের পথে রওনা হন।

গতকাল সোমবার চলতি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হতে পারে। আর তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। কেবল তা–ই নয়, দুই থেকে তিনটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহও হতে পারে।

জুনের মাঝামাঝি সময়েই দেশে বর্ষা ঋতুর প্রথম মাস আষাঢ় শুরু হবে। বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টি ঝরে এ মাসে, ৪৫৯ মিলিমিটার। আর জুলাইয়ে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়, ৫২৩ মিলিমিটার। এবার সেখানে জুনে বৃষ্টি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

চলতি মাসে একাধিক লঘুচাপের সম্ভাবনাও আছে। এর মধ্যে একটি আবার মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

এদিকে, গত এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে দেশে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল বা দেশের সবচেয়ে গরমের মাসে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিক নয়। এপ্রিলের এ বৃষ্টিতে বিশেষ করে হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

 

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এসময় সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে মামলায় অভিযুক্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের এজলাসে এ সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সাক্ষ্য দিয়েছেন মামলার বাদী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। তিনি এ সময় ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এছাড়া, আজ আরও কয়েকজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের কথা রয়েছে।

এর আগে গতকাল আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলায় প্রত্যক্ষদর্শী, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৮ জন সাক্ষী রয়েছেন।

 

ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে পদত্যাগ করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। তিনি গতকাল সোমবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এর মধ্যে মন্ত্রণালয় পরিচালনা, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন ও রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি অন্যতম।

পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান লিখেছেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়াতে আমার বর্তমান পদ (মন্ত্রী) থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল তাঁর অনুসারী-সমর্থকেরা রাঙামাটি শহরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তাঁদের দাবি, চাপ প্রয়োগের কারণে মন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দীপেন দেওয়ান শারীরিকভাবে অসুস্থ নন।’

মন্ত্রণালয় পরিচালনায় কর্তৃত্ব, রাঙামাটি জেলা বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ ঘিরে দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করে থাকতে পারেন—গতকাল দিনভর এমন আলোচনা বেশি ছিল। তবে সরকার-সংশ্লিষ্ট কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত করে পদত্যাগের কারণ জানা যায়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে অস্বস্তিতে ছিলেন। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এই মন্ত্রণালয়ে পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া। এই মন্ত্রণালয়ে পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ এই প্রথম এবং বিষয়টি নিয়ে পাহাড়িদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। তাঁরা মনে করেন, এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পাহাড়ি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরই প্রাপ্য। তবে এসব আলোচনার বিষয়ে গতকাল দীপেন দেওয়ানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে দূরত্ব ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তুলে ধরছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন গতকাল রাতে বলেন, ‘দীপেন চাচার সঙ্গে আমার কোনো দূরত্ব নেই। আমাদের দুজনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আমার আব্বা (সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন) যখন জুডিশিয়ারিতে ছিলেন, তখন তিনি সহকর্মী ছিলেন।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কখনো দূরত্ব ছিল না। পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরে আমি উনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু উনাকে পাওয়া যায়নি। তবে উনি অসুস্থ ছিলেন শুনেছি। কেন পদত্যাগ করেছেন, বুঝতে পারছি না।’

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের আরেকটি কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে—তিন পার্বত্য জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা পরিষদের পুনর্গঠনে মতভিন্নতা। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে দ্রুততার সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সময়ক্ষেপণ করছিলেন।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ান তাঁর মতো করে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন। সেটি পারেননি। মন্ত্রী তাঁর স্বজনদের কাউকে বসানোর চেষ্টা করছেন, এমন আলোচনাও আছে।

দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি আন্তরিক ছিলেন। চুক্তি সম্পাদনকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সঙ্গে সরকারের আলোচনারও পক্ষে ছিলেন তিনি। জেএসএসের প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আলোচনা হোক, সেটাও তিনি চেয়েছিলেন বলে সম্প্রতি প্রথম আলোর একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের স্নাতকোত্তর দীপেন দেওয়ান জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৫ সালে যুগ্ম জেলা জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। ২০১০ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি হন। কিন্তু দলের নেতৃত্ব নিয়ে ‘পাহাড়ি’, ‘অপাহাড়ি’ দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১৬ সালে দীপেনকে বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সহসম্পাদক করা হয়। এর পর থেকে জেলার রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও দীপেন দেওয়ান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান। নির্বাচনে তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হয়েছিলেন দীপেন দেওয়ান। তাঁর বাবা সুবিমল দেওয়ান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপজাতিবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।

 

পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল বিকেলে রাঙামাটিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ সভা করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের একটি অংশ। শহরের কাঁঠালতলী দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম মনে করেন, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ বিএনপির রাজনীতি, পাহাড়ের রাজনীতি এবং পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের জন্য ক্ষতিকর।

কাউখালী উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য সাজামং মারমা দাবি করেন, দীপের দেওয়ান পদত্যাগপত্রে যে কারণ দেখিয়েছেন, তা সঠিক নয়। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে মন্ত্রিত্ব চালানোর মতো সক্ষম। তিনি চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর সব মিলিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্য ৪৮ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ২৪ জন এবং প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। নতুন করে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হবে বলে কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। সরকার গঠনের পর এত কম সময়ের মধ্যে কোনো মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা দেশে বিরল।

‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে ভারতে ফিরছেন। ৬ জুন তিনি দেশে ফিরছেন এনইইট বা ‘নিট’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারির জন্য কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে। আজ সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই এই কথা জানিয়েছেন।

অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলছেন তাঁরা। এবার আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, সংবিধান মেনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ময়দানে নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছেন তাঁরা। সেই উদ্দেশ্যেই অভিজিৎ দেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। ৩০ বছর বয়সী এই তরুণ পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক করেছেন। তাঁর মা-বাবা ভারতের মহারাষ্ট্রে বসবাস করেন। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে তাঁদের বাসভবনের বাইরে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

সিজেপির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে আজ অভিজিৎ বলেন, ‘আমাদের সবার একজোট হওয়ার সময় এসেছে। সংবিধান মেনে শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করব আমরা। সংঘবদ্ধ হয়ে আমরা জোরাল দাবি তুললে তারা তা শুনতে বাধ্য হবে।’

ভিডিও বার্তায় সিজেপির নেতা বলেন, ‘আগামী শনিবার (৬ জুন) সকালে আমি দিল্লি আসব, ঠিক করেছি। আপনারা অনুগ্রহ করে দিল্লি বিমানবন্দরেই মিলিত হোন। সবাই মিলে আমরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় যাব। যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করার অনুমতি চাইব।’

 

নিট বা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট একমাত্র সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষার্থীরা দেশের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে। এই পরীক্ষারই প্রশ্নপত্র সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। অকুল পাথারে পড়েছেন লাখ লাখ শিক্ষার্থী।

এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো দাবি উঠেছে। বিরোধীরা দাবি তুলেছেন। ককরোচ বা তেলাপোকা পার্টিও। সিজেপির দাবিতে আট লাখ মানুষ সম্মতি দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও শিক্ষামন্ত্রী দায় গ্রহণ করেননি। ককরোচ বা তেলাপোকারা তাই ঠিক করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেড়ে বেরিয়ে পথে নেমে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে শামিল হবেন।

এই কথাই অভিজিৎ বলেছেন তাঁর ভিডিও বার্তায়। বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন। লাখ লাখ ছাত্রের পরিশ্রম বৃথা। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সই করেছেন আট লাখ ককরোচ বা তেলাপোকা। কোটি কোটি মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের দাবি সমর্থনও করেছেন। মহারাষ্ট্র, লক্ষ্ণৌ, জয়পুরসহ বহু স্থানে মানুষ বিক্ষোভও দেখাচ্ছেন।’

অভিজিৎ বলেন, মানুষ প্রতিবাদে সরব থাকলেও সরকার নির্বিকার। বিভিন্ন পরীক্ষার এক কোটি ছাত্রছাত্রীর জীবন আজ কৌতুকে পরিণত। শিক্ষার্থীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। কাউকে এর দায় নিতে হবে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত সম্প্রতি এক মামলার শুনানিতে দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যাঁরা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাঁদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউ বা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী। প্রধান বিচারপতি এই তরুণদের ‘পরজীবী ও তেলাপোকা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

এই মন্তব্যের পরই অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম দেন ককরোচ জনতা পার্টির। ব্যঙ্গাত্মকধর্মী কণ্ঠস্বর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠে এক অভূতপূর্ব আন্দোলন। কয়েক দিনের মধ্যেই সিজেপির ‘এক্স’ হ্যান্ডলে সদস্যসংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা হয় দুই কোটি। দিকে দিকে গড়ে ওঠে তেলাপোকাদের ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন। তৈরি হতে থাকে হাজার হাজার মিম।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই সামাজিক আন্দোলনের পেছনে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী জর্জ সোরসের হাত দেখতে পাচ্ছে। সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো ভারত সরকারের বিরোধিতা করা। সরকারকে দুর্বল করে তোলা। সেই জন্য জনমত সংগ্রহ করা। আধুনিক প্রজন্মকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলা।

গত সপ্তাহে সিজেপির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে দেওয়া হয়। অভিজিৎ দীপকে ও ভারতে বসবাসকারী তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতে থাকে। অভিজিৎ নিজেই শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, দেশে ফিরলে সম্ভবত তাঁর স্থান হবে তিহার জেল। তবুও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সরেজমিন সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন। এখন দেখার, ৬ জুন দিল্লি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আশঙ্কা সত্য প্রমাণিত হয় কি না।