কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেটা নিশ্চিত করা, লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং গ্রাম–শহরে বিদ্যুৎবৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এ কথা জানান।

বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের কারণে সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে বা যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এরপরও দেখা যাচ্ছে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। এই বিষয় সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনাক্রমে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে, পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কৃষকেরা তাঁদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে।’

বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে কলমে অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গড়মিল রয়েছে বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকাল (বুধবার) বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে তাঁরা বাধ্য হয়েছেন।

এ ক্ষেত্রে সরকার প্রথম থেকেই একটি নীতি নিয়েছিল উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, যেহেতু ফসল ওঠার মৌসুমে কোনোভাবেই কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন। ফসলের ক্ষেত্রে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল এবং বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন। সেটি নিশ্চিত করার জন্য তাঁরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেশবাসীর কাছে আজকে এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁদের এই কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আমি বিনয়ের সঙ্গে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি শুধু আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা রয়েছে জনগণের দুঃখ–কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা।’

সক্ষমতা থাকলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ব্যর্থ হচ্ছে কেন, এমন প্রশ্ন উঠতে পারে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে উৎপাদন হয় প্রতিদিন ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন গড়ে আমদানি হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ, এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে, রাতারাতি সেই অবকাঠামোর সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। এ অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে, তার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দুটি আমদানিকৃত বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজেদের মেইনটেন্যান্সের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। সে ক্ষেত্রে আজ যে রকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং আমরা দেখতে পাচ্ছি, কিংবা কষ্ট স্বীকার করছি, এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।’

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেই যুদ্ধ করার জন্য নয় বরং যুদ্ধ এড়ানোর জন্য। 

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জাতীয় সমস্যা এবং এটি সমাধানে সবাইকে সম্পৃক্ত হতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। স্বাধীনতার ৫৪-৫৫ বছরেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্ব অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় ইস্যু। দেশে একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারি থাকায় চাহিদার তুলনায় খুব কম পরিমাণ অয়েল পরিশোধন সম্ভব হয় এবং বাকি জ্বালানি উচ্চমূল্যে আমদানি করতে হয়।

স্বাধীনতার পাঁচ দশক পার হলেও দ্বিতীয় রিফাইনারি গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংকট সরাসরি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে।

প্রতিরক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি সমুদ্রপথনির্ভর হওয়ায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনডিসি ভবিষ্যতে এ ধরনের কোর্সের সংখ্যা আরও বাড়াবে এবং অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখবেন।

গত ৫ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন সপ্তাহব্যাপী ‘ক্যাপস্টোন কোর্স ২০২৬/১’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাপস্টোন কোর্স ফেলোদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

এই কোর্সে মোট ৪৫ জন ফেলো অংশগ্রহণ করেন। যাদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি, কূটনীতিক এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিনিধি।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে অব্যাহত সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনে গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোর্স চলাকালীন ফেলোদের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, কৌশলগত বোঝাপড়া সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন খাতের নেতৃত্বের মধ্যে একটি শক্তিশালী জাতীয় মেলবন্ধন গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের অন্যতম প্রধান প্রশিক্ষণ হিসেবে ক্যাপস্টোন কোর্সটি কৌশলগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গঠনমূলক চিন্তাধারার বিকাশ, আন্তঃবিভাগীয় সহযোগিতা জোরদার এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ক একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী ও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, এনডিসির অনুষদ এবং অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী গত বৃহস্পতিবার থেকে ‘নিখোঁজ’ রয়েছেন।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা এস. বৃষ্টি। তাঁদের বয়স ২৭ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ বিভাগ গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ থাকার তথ্য গণমাধ্যমকে জানায়।

জামিল বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছেন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সবশেষ ১৬ এপ্রিল টাম্পায় দেখা গিয়েছিল। সেদিন জামিলকে সবশেষ দেখা যায় সকাল ৯টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তাঁর ছাত্রাবাসে।

অন্যদিকে নাহিদাকে সবশেষ দেখা যায় সেদিন সকাল ১০টার দিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিল্ডিংয়ে।

বর্তমানে স্থানীয় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ (পুলিশ) এই দুই নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনবিসিসহ একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, জামিল ও নাহিদার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তাঁদের এক পারিবারিক বন্ধু পরদিন গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের নিখোঁজ ব্যক্তির ডেটাবেজে দুজনের নাম ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত হয়েছে।

বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় পুলিশ কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে নিখোঁজ দুজনের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে তা অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছে পুলিশ।

পুলিশের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই দুই শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে নেই।

দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব কৃষি ব্যাংকের চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় আইন অনুযায়ী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি চাকরি ছাড়ার তিন বছর পার না হওয়ায় মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হলো।

মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এ সময় তাঁর আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘আগামী রোববার নির্বাচন কমিশনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করব। প্রার্থিতা ফিরে পাব আশা করি। আমরা বুঝেশুনেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’

সহকারী রিটার্নিং কর্মকতা ইসির উপসচিব মনির হোসেন বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। এরপর আসনটি শূন্য হলে সব দল/জোটের জন্য উন্মুক্ত হবে।

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটে জামায়াত জোটের ১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। গতকাল বুধবার বাছাইয়ে ১২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়। মনিরার মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়। আজ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান মনিরা শারমিন। তিনি ২০২৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে যোগ দেন। দুই বছর পর গত ডিসেম্বরে চাকরি ছাড়েন তিনি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ (১) (চ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন, যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসর গ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।

বিএনপির ৩৬ জনের মনোনয়ন বৈধ

ত্রয়োদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোটের ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সকালে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র বাছাই করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান। তিনি বলেন, বিএনপি জোটের ৩৬ জনের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হলো। স্বতন্ত্র জোটের একজনের মনোনয়নপত্রও গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, কোনো দল বা জোটের সমর্থন না থাকায় আলাদাভাবে জমা দেওয়া তিনজনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সরকার বাসের ভাড়া সমন্বয় করল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

নতুন এই ভাড়া আজ থেকেই কার্যকর বলে জানান মন্ত্রী। জ্বালানি তেলের দাম বাড়া–কমার সঙ্গে পরবর্তী সময় বাসভাড়া সমন্বয় করা হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ভাড়া ২ টাকা ৪২ থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা। আন্তজেলার বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা। এ ছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) এলাকার ক্ষেত্রে ২ টাকা ৩২ পয়সা ভাড়া ছিল। সেটা ১১ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া যা আগে ছিল, সেটাই আছে ১০ টাকা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটি বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করে। সেটি ১১ পয়সা বাড়ানো হলো।

চট্টগ্রামের হালিশহরের এক্সেস রোড এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। 

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত তিনটার সময় এ ঘটনা ঘটে। 

জানা গেছে, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না হাইড্রো কোম্পানি মাটি খননের সময় হঠাৎ করেই মাটি ধসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে কাজ করা চারজন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়েন। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সহকর্মীরা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি দুইজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

নিহতরা হলেন রাকিব (২৫) ও তুষার (২২), যাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আর আহতদের মধ্যে এরশাদের (২২) বাড়ি চট্টগ্রাম ও সাগরের (২৬) বাড়ি অজ্ঞাত।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত না করায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ পাড়ির এস আই আলাউদ্দিন বলেন, সকাল ছয়টার সময় চার শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হলে দুইজনকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেন রাকিব ও তুষার, যাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলায়। আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদকে চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।
 
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার আগামী ৫ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগও গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান  

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে গণতন্ত্র, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বিত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। দুর্নীতি দমন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা  হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উন্নয়ন জোরদার করে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সবার আগে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রনীতির এই মূল দর্শনকে বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সমতা, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।’

একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মধ্যে অন্যতম হলো— ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন এবং পুনঃখননের কার্যক্রম, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, কৃষির উন্নয়নে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা ও গির্জায় কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানি ও উৎসব ভাতা, ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ ইত্যাদি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ছাড়াও সারাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, ই-হেলথ কার্ড-এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগ এবং এ অর্থবছরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২ লাখ শিশুর মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণসহ অন্যান্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম কর্মসূচি ছিল প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্ব।

বাসস

 

দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বইছে তীব্র দাবদাহ। কাঠফাটা রোদে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। এর মধ্যেই উত্তাপের সব রেকর্ড ভেঙে রাজশাহীতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

বুধবার (২২ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তর এই তথ্য জানিয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সব জেলাসহ দেশের আরও বেশ কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিসের নিয়মানুযায়ী ৩৬ ডিগ্রি থেকে শুরু করে এর ওপরের তাপমাত্রা তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকা টাঙ্গাইল মাদারীপুর দিনাজপুর রাঙামাটি ও বান্দরবানসহ মোট ২৪টি জেলায় বর্তমানে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। 

এদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া যশোর ও সিরাজগঞ্জে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফরিদপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুয়াডাঙ্গা কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছে। রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রার পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পার করেছে। দিনের অধিকাংশ সময় কড়া রোদের কারণে বাইরে বের হওয়া দায় হয়ে পড়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো ওমর ফারুক জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহের তীব্রতা খুব একটা না বাড়লেও এরপরের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

 

ঢাকা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথমবারের মতো একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত ওই আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান (৫২) সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। আজ বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মো. মমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তার হাফিজুরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতে তনুর মা, বাবা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদী ও তনুর বাবা ইয়ার হোসেনের দাবি, সৈনিকের নাম শাহীন আলম নয়, জাহিদ হবে। তাঁরা ঘটনার শুরু থেকেই নামগুলোর কথা বলে আসছেন। শাহীন নামে কোনো সৈনিকের কথা তাঁরা তখন জানেননি, সৈনিক জাহিদের নামটি বারবার আলোচনায় এসেছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ কুমিল্লার আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আমরা তাঁকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাচ্ছি। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।’

এই হত্যাকাণ্ডের শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানায়। এ ছাড়া তনুর মায়ের সন্দেহ করা তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তবে ওই সময় তাঁদের নাম গণমাধ্যমকে জানায়নি সিআইডি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি ছিল প্রবল। কিন্তু সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তবে কোন প্রস্তাব, কোন আপত্তি আর কোন রাজনৈতিক দর-কষাকষির ভেতর দিয়ে সংস্কার আলোচনা এগোল—তা নিয়ে দুই পর্বের আয়োজন। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত হয় প্রথম পর্ব। আজ পড়ুন শেষ পর্ব

ঢাকা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে তাদের সামনে বড় প্রশ্ন ছিল—ইরানের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় আজ বুধবার সন্ধ্যা আটটায় শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য গতকাল মঙ্গলবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা ছিল। সে জন্য তাঁর বিমান ‘এয়ারফোর্স টু’ বিমানঘাঁটি অ্যান্ড্রুজের রানওয়েতে প্রস্তুতও ছিল।

তবে মার্কিন প্রশাসন বড় এক সমস্যার মুখে পড়েছে। সেটি হচ্ছে, ইরানিদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।

সংশ্লিষ্ট তিন কর্মকর্তার মতে, পরবর্তী আলোচনার আগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইরানকে চুক্তির খসড়া পাঠিয়েছিল, যেখানে তারা ইরানিদের আগাম সম্মতি চেয়েছিল। কিন্তু বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও কোনো জবাব না আসায় সন্দেহ তৈরি হয়, সশরীর আলোচনার জন্য পাকিস্তানে গিয়ে ভ্যান্স আদৌ কতটা সফল হবেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, মোজতবা খামেনির আড়ালে থাকার প্রবণতা ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনো ইরানিদের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা পাকিস্তানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে অনুরোধ করেছিলেন, যেন ভ্যান্স উড়োজাহাজে ওঠার আগে অন্তত একটি জবাব নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো উত্তর আসেনি।

তিন কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের শীর্ষ সহযোগীরা মনে করছেন, জবাব না আসার প্রধান কারণ হচ্ছে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে ‘কোন্দল’। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে তাঁরা এমনটা ভাবছেন।

মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং তাদের বর্তমান মজুত নিয়ে আলোচনার টেবিলে আলোচকদের কতটুকু ক্ষমতা দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ইরানের নেতারা একমত হতে পারছেন না। শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হোয়াইট হাউসে এনসিএএ কলেজিয়েট ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস ডের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হাত নেড়ে বিদায় নেন। ২১ এপ্রিল ২০২৬, ওয়াশিংটন
হোয়াইট হাউসে এনসিএএ কলেজিয়েট ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নস ডের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হাত নেড়ে বিদায় নেন। ২১ এপ্রিল ২০২৬, ওয়াশিংটন, এএফপি
 

ট্রাম্প প্রশাসন আরও মনে করছে, এই জটিলতার অন্যতম কারণ হলো ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনি তাঁর অধীনদের স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা দিচ্ছেন কি না, নাকি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে তাঁরা কেবল আন্দাজে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, মোজতবা খামেনির আড়ালে থাকার প্রবণতা ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এত বাধা সত্ত্বেও এক কর্মকর্তা জানালেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি আলোচকদের শিগগিরই দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটা কবে বা আদৌ হবে কি না, তা অনিশ্চিত।

সামরিক হামলা আবার শুরু করার বদলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগে ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কত দিন, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরান সরকারকে ‘গুরুতরভাবে বিভক্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এই যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধান চান। তিনি আবার এমন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নন, যা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নয়। বিশেষ করে যখন তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত—এমন কোনো সংকেত পেলেই দ্রুত সফরের ব্যবস্থা করা যাবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান—উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে আলোচনার এই সাময়িক ব্যর্থতা ট্রাম্পের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ, তিনি এমন একটি চুক্তি করতে চান, যাতে তাঁর সব শর্ত পূরণ হবে।

ইরান প্রকাশ্যে দাবি করেছে, তেহরান নতুন করে আলোচনায় বসার আগে ট্রাম্পকে ইরানি বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে হবে। ট্রাম্প এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। মঙ্গলবার সকালে সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা প্রণালি খুলে দেব না।’

ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম দফায় আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ১১ এপ্রিল ২০২৬, ইসলামাবাদ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রথম দফায় আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ১১ এপ্রিল ২০২৬, ইসলামাবাদ, ছবি: রয়টার্স

বিকেলের বৈঠকে ট্রাম্প ও তাঁর দল যুদ্ধবিরতির সময় বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মতে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই সময় শেষ হওয়ার কথা ছিল। ট্রাম্প অবশ্য এর আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তাত্ত্বিকভাবে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে ইরান খামেনির সম্মতিতে একটি একক সিদ্ধান্তে আসতে আরও সময় পাবে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত—এমন কোনো সংকেত পেলেই দ্রুত সফরের ব্যবস্থা করা যাবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান—উভয়ই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এ অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা আশা করছেন, দুই পক্ষই দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা গতকাল মঙ্গলবার একদিকে ইরানকে আলোচনায় রাজি করানোর চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে ট্রাম্পকে যুদ্ধবিরতির সময় বৃদ্ধি করতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন। সময় শেষ হয়ে আসার মুহূর্তে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত নেন, ‘ইরানের প্রস্তাব জমা না দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলবে।’

তবে ইরানি কর্মকর্তাদের কণ্ঠে কোনো পরিবর্তনের সুর শোনা যায়নি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির সময় বৃদ্ধি করার কোনো অর্থ নেই।

গালিবফ ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর মতে, পরাজিত পক্ষ শর্ত আরোপ করতে পারে না। অবরোধ অব্যাহত রাখা আর বোমা হামলা চালানো একই কথা। এর জবাব সামরিকভাবেই দেওয়া উচিত।

দ্বিতীয় দফায় আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের আলোচনা ঘিরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা। ২২ এপ্রিল ২০২৬, ইসলামাবাদ
দ্বিতীয় দফায় আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসলামাবাদ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের আলোচনা ঘিরে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা। ২২ এপ্রিল ২০২৬, ইসলামাবাদছবি: এএফপি

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির সময় বৃদ্ধির ঘোষণা এমন এক দিনে এল, যে দিনটি ছিল অনিশ্চয়তায় ঘেরা। দিনের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, তিনি শিগগিরই ইরানে আবার বোমা হামলা শুরু করতে পারেন।

তবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক করেছেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকলে ইরান আলোচনার সময়ক্ষেপণ করতে পারে।

আলোচকেরা আশা করেছিলেন, এই সপ্তাহে অন্ততপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হবে, যা পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে বিস্তারিত আলোচনার পথ খুলে দেবে।

তবে এই পদ্ধতির বিরোধীরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরান হয়তো আলোচনার নাম করে সময় নিচ্ছে, যাতে যুদ্ধের সময় লুকিয়ে রাখা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাগুলো আবার সচল করা যায়।

কয়েক ঘণ্টা পর যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের স্টেট ডাইনিং রুমে কলেজ অ্যাথলেটদের সম্মাননা দিচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্প এই যুদ্ধ নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে চুপ ছিলেন।

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ক্ষমতা, মজুত করা ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ এবং কোন কোন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে—এমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

উভয় পক্ষ তাদের শর্তে কতটা নমনীয় হবে, তার ওপরই নির্ভর করছে চুক্তিটি হবে কি না। ট্রাম্পের জন্য একটি বড় বিষয় হলো, এমন কোনো চুক্তি না করা, যা ওবামা আমলের পরমাণু চুক্তির মতো মনে হয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে সরে এসেছিলেন এবং সেটিকে সব সময় ‘দুর্বল’ চুক্তি বলে সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানে রাস্তার পাশে সংগীত পরিবেশন করছেন ইরানি শিল্পীরা। ২১ এপ্রিল ২০২৬, তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইরানে রাস্তার পাশে সংগীত পরিবেশন করছেন ইরানি শিল্পীরা। ২১ এপ্রিল ২০২৬, তেহরানছবি: এএফপি

গত কয়েক দিন ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব আলোচনার দক্ষতার মাধ্যমে একটি উন্নত চুক্তি করার বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। এমনকি মঙ্গলবার তিনি দাবি করেন, তিনি সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট থাকলে ভিয়েতনাম যুদ্ধেও খুব দ্রুত জয়ী হতেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি, আমরা একটি দারুণ চুক্তি করতে পারব। তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। আমরা তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং তাদের নেতাদের নির্মূল করেছি, যা একদিক থেকে বিষয়গুলোকে জটিল করে তুলছে।’

কয়েক ঘণ্টা পর যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের স্টেট ডাইনিং রুমে কলেজ অ্যাথলেটদের সম্মাননা দিচ্ছিলেন, তখন ট্রাম্প এই যুদ্ধ নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে চুপ ছিলেন। সেখান থেকে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করার চেষ্টা করলেও তিনি কেবল হাত নেড়ে বিদায় জানান।

সিএনএন