সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করলে, সুরক্ষা পাবে, ফ্যাসিবাদের দোসররা। যারা এখনও বিভিন্ন, হাউসে বসে অপসাংবাদিকতা করেছে; তবুও সরকার দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।  

রোববার (২৬ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের সঠিকভাবে বেতন ও মজুরি প্রদান না করা হলে প্রতিষ্ঠানের এক্রিডিটেশন ও সরকারের পক্ষ থেকে সকল সুবিধা বাতিল করা হবে। এন্ট্রি লেভেলে একটি বেসিক স্যালারী ঠিক করতে চায় সরকার, ১২ কিংবা ১৫ হাজার সেলারি কোনওভাবে সাংবাদিকদের হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

তিনি বলেন, অনলাইন প্লার্টফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা করতে আগামী সপ্তাহে নাগাদ সিদ্ধান্তে উপনীত হবে। নির্বাচনকালীন সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন সাথে আলোচনা করা হবে। তবে গুজব ও অপতথ্য রোধে সব প্রতিষ্ঠানকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে চায় তথ্য মন্ত্রণালয়। যেখানে সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, এবং যে বডি পত্রিকার সার্কুলেশন ও টেলিভিশনের সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ করবে পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।

রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি পিলার থেকে বিয়ারিং প্যাড (স্প্রিং) খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িকভাবে বন্ধ হয় রেল চলাচল। তবে বিকেল ৩টা থেকে উত্তরা উত্তর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল সেবা চালু করা হয়। আর মতিঝিল হতে শাহবাগ পর্যন্ত মেট্রোরেল ৭টা ১৫ মিনিটে চালু হয়।

রোববার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে আবুল কালাম আজাদ মারা যান। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠী এলাকার মৃত আব্দুল জলিল চোকদারের ছেলে। চার ভাইয়ের মধ্যে ছোট তিনি। স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন নারায়ণগঞ্জের পাঠানতলি এলাকায়।

এদিকে, দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক ও রেল উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। পরিবারের সদস্য কেউ যদি বেকার থাকে তাকে মেট্রোরেলে চাকরি দেয়া হবে। এই ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তখন তিনি বলেছিলেন, মেট্রার অন্য অংশ চালুর চেষ্টা করা হবে। তবে আজকে পর্যন্ত আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশ আজ চালু হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: ভাবির সঙ্গে শেষ কথায় কালাম বলেছিলেন— ‘ অতি শীঘ্রই বাড়ি ফিরবো’

নিহতের ভাবি আসমা আক্তার বলেন, সকালে আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিল ওর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলবে। বাড়ি আসতে বললে, সে জানায় অতি শীঘ্রই বাড়ি আসবে। কয়েক ঘণ্টা পর জানতে পারি, আমার দেবরের মৃত্যুর খবর। সংসারের হাল ওই ধরেছিল। আর ফিরে আসবে না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায্য বিচার চাই। তার সন্তানরা যাতে ভালো করে বাঁচতে পারে সরকার সেই ব্যবস্থা করুক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর এমন বিয়ারিং প্যাড খুলে গিয়েছিল। তখন কোনো হতাহত হয়নি। তবে ১১ ঘণ্টা বন্ধ ছিল মেট্রো চলাচল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হচ্ছে আজ। 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এ প্রসিকিউশন শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। এরপর পাল্টা যুক্তি দেবে রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী। এরপর আসামিপক্ষের যুক্তি খণ্ডন করবে প্রসিকিউশন এবং শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করবেন ট্রাইব্যুনাল। 

এ পর্যন্ত যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন সাক্ষ্য বিশ্লেষণ, শেখ হাসিনার সঙ্গে হাসানুল হক ইনু, সাবেক মেয়র তাপস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের ফোনালাপ পর্যালোচনা, বিভিন্ন ভিডিও, সংবাদ, ডকুমেন্টারি ও তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছে। 

অপরদিকে, আজ দুপুরে একই ট্রাইব্যুনালে চাঁখারপুলে ছয়জন হত্যার মামলায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং তিনিসহ সমন্বয়কদের গুম-নির্যাতনের ঘটনা ও চানখারপুলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরেন তিনি। 

উল্লেখ্য, ট্রাইব্যুনাল–২ এ আজ আশুলিয়ার ছয় মরদেহ পোড়ানোর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহোদর শাহাদাত হোসেনসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনসের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এক বিশেষ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের সহোদর শাহাদাত ছাড়াও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের আরও আটজন নেতাকর্মী রয়েছেন।

তবে তাদের কী কারণে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। আর সবচেয়ে বেশি ফেল করেছে ইংরেজি বিষয়ে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে এই ফল প্রকাশ করা হয়। সেইসাথে, রাজধানীর বকশিবাজারের আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি তুলে ধরে বিস্তারিত ফলাফল। এতে দেখা যায় ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২ শতাংশ। 

অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে (পাসের হার)— রাজশাহী বোর্ডে ৫৯.৪০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২.৫৭ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে ৫৭.৪৯ শতাংশ, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৫১.৫৪ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৫০.২০ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫১.৮৬ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮.৮৬ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে ৬২.৫৭ শতাংশ; মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৭৫.৬১ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬২.৬৭ শতাংশ। 

ঢাকা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৬৩ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৬ হাজার ৯৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ২ হাজার ৭০৭, যশোর বোর্ডে ৫ হাজার ৯৯৫ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ৬০২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১০ হাজার ১৩৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৬৭৪ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ৬ হাজার ২৬০ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে ২ হাজার ৬৮৪ জন; মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ২৬৮ জন ও কারিগরি বোর্ডে ১ হাজার ৬১০ জন। 

সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠান ৩৪৫টি। তবে ২০২ প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেতে পারেনি।

এর আগে, ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭.৭৮ শতাংশ, যা এবার প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। আর জিপিএ ফাইভ কমেছে প্রায় ৭৮ হাজার। 

অপরদিকে, এবারও পাসের হারে এগিয়ে আছে মেয়েরা। ছেলেদের চেয়ে ৫৯ হাজার ২৩২ জন বেশি নারী শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর জিপিএ ফাইভ বেশি পেয়েছে ৪ হাজার ৯৯১ জন। 

উল্লেখ্য, এবারের মতো এত কম পাশের হার ছিল ২০০৫ সালে। এরপর থেকেই বেড়েছে পাসের হার। এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেন। তাদের মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। সারা দেশে মোট ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। আর এবারও ফল তৈরি হয়েছে ‘বাস্তব মূল্যায়ন’ নীতিতে। 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্বাচন জুলাই সনদেরই অংশ। ভোট সুন্দর না হলে জুলাই সনদের মূল্য থাকবে না। তাই এই দুটি বিষয় যথাযথভাবে হতে হবে। জুলাই সনদে সকল রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে বলে আশা করছি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক এ কথা বলে তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। জুলাই সনদ পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে লেখা থাকবে। শেষ পর্যন্ত এটা হবে অনেকেই চিন্তা করেনি। কিন্তু এটা সম্ভব হয়েছে। এ সময় দলগুলোকে অভিনন্দনও জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ ছাড়া অভ্যুত্থানের পরবর্তী অধ্যায় রচনা করা সম্ভব ছিলো না। আমরা মুখে সংস্কারের কথা বলছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো প্রকৃতপক্ষে কি সংস্কার হবে তা দেখিয়ে দিয়েছে। 

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন হবেই। নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে সরকার।

এই বৈঠকে বিএনপি, জামায়াত এনসিপি'সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যোগ দেন।

রাজধানীর মিরপুরে কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই দুর্ঘটনায় নিরীহ মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। আমরা এই শোকের সময়ে তাদের পরিবারের পাশে রয়েছি। অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে মিরপুরের শিয়ালবাড়ীতে কারখানা ও একটি কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দগ্ধ হয়েছেন আরও অনেকেই।

দুই কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৮টি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে কারও সেফ এক্সিট নেই, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে নেত্রকোণার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় সারজিস আলম বলেন, কিছু উপদেষ্টার কথায়-আচরণে মনে হচ্ছে, তারা যেনতেন নির্বাচন দিয়ে সেফ এক্সিট চাইছেন। এটা হতে দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি— এই বিষয়গুলো যদি পিছিয়ে যায় তাহলে এটা নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলবে এবং নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।

এনসিপি নির্বাচন পেছানোর মানসিকতা ধারণ করে না জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, তবে জনগণের সকল আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে যদি নির্বাচনককেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা হয়, সেটার সাথে একমত হবে না এনসিপি।

রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে পোশাক কারখানা ও কসমিক ফার্মা নামে একটি কেমিক্যাল গোডাউনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলে যাচ্ছে আরও ৩টি ইউনিট।

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, ১১টা ৪০ মিনিটে তারা আগুন লাগার খবর পায়। আর ১১টা ৫৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। এছাড়া আগুনে কেউ হতাহত হয়েছে কী না এমনটাও জানা যায়নি।

এই সরকারের আমলেই বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর, একজন আসামিকে ১২টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। কোন কোন ধাপে টাকাও খরচ করতে হয়। এই জটিলতা ও হয়রানি নিরসনে অনলাইনে জামিননামার সুবিধা চালু করা হচ্ছে।

এর ফলে, জামিন পাওয়ার পর, এক ক্লিকেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট কারাগারে পৌঁছে যাবে। গুম, দুদক ও মানবাধিকার আইন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলেও মন্তব্য করেন আইন উপদেষ্টা।

আইন উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ই বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় হবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিচার বিভাগ পৃথক সচিবালয় আইন, গুমের আইন, দুদক আইন, হিউম্যান রাইটস আইন প্রতিষ্ঠা হবে।

শিশুদের টাইফয়েড থেকে সুরক্ষায়, সারা দেশে তৃতীয় দিনের মতো চলছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকেই বিভিন্ন স্কুলে এই প্রতিষেধক দেয়া হচ্ছে।

মাসব্যাপী এই কর্মসূচিতে সরকার প্রায় পাঁচ কোটি শিশু-কিশোর-কিশোরীকে বিনা মূল্যে এই টিকা দিচ্ছে। অনলাইনের পাশাপাশি জন্মসনদ ছাড়া ম্যানুয়াল পদ্ধতিতেও এই টিকার জন্য রেজিষ্ট্রেশন করা যাচ্ছে। ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর, নিকটস্থ স্কুল এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর টিকা দেয়া যাবে কমিউনিটি ক্লিনিকে।

টিকা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের https://vaxepi.gov.bd/registration/tcv ওয়েবসাইটে গিয়ে ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে সরাসরি ভ্যাকসিন কার্ড ডাউনলোড করা যাবে। এই নিবন্ধন অব্যাহত আছে। যেসব শিশুর জন্মসনদ নেই বা জন্মনিবন্ধন হয়নি, তাদের জন্যও টিকার নিবন্ধন করা যাবে। এর জন্য নিকটস্থ টিকাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, সব শিশুকে টিকার আওতায় আনাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এই কর্মসূচিতে ব্যবহৃত টিকাটি সরবরাহ করেছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট, আর সরকারের পক্ষ থেকে তা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভি–র সহায়তায়।

রাজধানীতে শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার প্রতিবাদসহ চার দফা দাবিতে এমপিত্তভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চলছে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি কর্মসূচি। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাত কাটানোর পর সকাল থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন ঢাকায় অবস্থান করা শিক্ষকরা। তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

তবে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। অনেক এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে গিয়ে দেখা যায় সকাল থেকে শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও পাঠদান থেকে বিরত রয়েছেন। দাবি-দাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তাদের।

আবার কোথাও কোথাও যথারীতি ক্লাস চলছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান চালু রয়েছে, সেখানকার শিক্ষকরা বলছেন, আন্দোলন কর্মসূচির সাথে সংহতি রয়েছে তাদের। কিন্তু শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার রাজধানীতে প্রেসক্লাবের সামনে ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়াসহ চারটি দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে শিক্ষকরা সরে গিয়ে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন এবং সেখানে থেকেই লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

সংগঠনটির নেতারা জানান, সরকারের ঘোষিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন বদলি নীতি বাস্তবায়ন দাবি করছেন।