পর্তুগাল, পোল্যান্ড, মেক্সিকো ও মালদ্বীপে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যথাক্রমে এম মাহফুজুল হক, মো. ময়নুল ইসলাম, এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী) ও মো. নাজমুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই চার রাষ্ট্রদূতকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের মধ্যে মাহফুজুল হক সাবেক সচিব। ময়নুল ইসলাম পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ময়নুল ইসলামকে আইজিপি করা হয়েছিল। কয়েক মাসের মাথায় ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর বাহারুল আলমকে আইজিপি নিয়োগ দিয়ে ময়নুল ইসলামকে রাষ্ট্রদূত করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দমন–পীড়নের বিভিন্ন ঘটনা তিনি নিয়মিত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্রের ব্রিফিংয়ে তুলে ধরতেন। গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল।

আর মো. নাজমুল ইসলাম একজন একাডেমিক। তুরস্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন তিনি। তাঁকে চুক্তিতে মালদ্বীপে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই চারজনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকেও প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বদলি করা হয়েছে। পেশাদার কূটনীতিক আবিদা ইসলামকে গত বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল গত অন্তর্বর্তী সরকার। ১৫ ব্যাচের ওই কূটনৈতিক যুক্তরাজ্যে বহুল আলোচিত হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিমের স্থলাভিষিক্ত হন। শুরু থেকেই আবিদা ইসলামের নিয়োগ নিয়ে আপত্তি ছিল বিএনপি-জামায়াতের।

এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে অতিসত্বর ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী দেওয়া শুরু করতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

একই সঙ্গে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, বিহারের অধ্যক্ষ, যাজকসহ উপাসনালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। মন্দিরের পুরোহিতরা পাবেন পাঁচ হাজার টাকা, সেবায়েত তিন হাজার টাকা, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার টাকা এবং গির্জার যাজকেরা পাঁচ হাজার ও সহকারী যাজকেরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

আজ রোববার সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে। অন্যদিকে দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই সম্মানীর আওতায় আনা হবে।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে। ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগী ব্যক্তিদের কাছে সম্মানীর টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে। এর আগে ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ আরও বলেন, দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার বা প্যাগোডা এবং গির্জাকে অন্তর্ভুক্ত করে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সরকার চার ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ লাগবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। পরের বছর ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ রোববার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ মার্চ গ্রেপ্তারসংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরে তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক।

তদন্তে মোট ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলেও বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। এ হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এসব অর্থের অবৈধ উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন বেনজীর আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে। 

রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) মামলার আবেদনটি করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম।

এ সময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা মামলাটির আবেদন জমা দিয়েছি। সকাল ১১টার দিকে মামলার আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যায়। নির্বাচনের সময় তিনি বিভন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এসব বক্তব্য ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সবশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জা আব্বাস ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভোটের মাঠে কথার যুদ্ধে একপাক্ষিকভাবে বেশ আটঘাট বেঁধেই নামতে দেখা গিয়েছিল এনসিপির এ নেতাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে  তার করা বেশকিছু মন্তব্য ভাইরালও হয়। অবশ্য ভোটে জয়লাভ করতে পারেননি তিনি। এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ছয় নারী আজ শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী পুরস্কার পেয়েছেন।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

খালেদা জিয়ার পক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী সম্মাননা গ্রহণ করেন তার নাতনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যরিস্টার জাইমা রহমান। নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’ হিসেবে খালেদা জিয়াকে এই মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়া হয়।

বাকি পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন-
‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে নুরুন নাহার আক্তার, ‘শিক্ষা ও চাকুরিক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী’ ক্যাটাগরিতে মোছা. ববিতা খাতুন, ‘সফল জননী নারী’ ক্যাটাগরিতে নুরবানু কবীর, ‘নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী’ ক্যাটাগরিতে মোছা. শমলা বেগম ও ‘সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী’ ক্যাটাগরিতে মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।প্রতিটি নারীকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও অদম্য মনোবলের জন্য এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুরস্কার প্রথা দেশের নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে এমন ধরনের স্বীকৃতি নারীর সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও অবদানের গল্পকে দেশের জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বজুড়ে আজকের দিনটি কেবল উদযাপনের নয়, আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারেরও। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘অধিকার, ন্যায়বিচার, উদ্যোগ সব নারীর জন্য হোক’। এই আহ্বান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমতার পথে অগ্রগতি হলেও এখনো অসংখ্য নারী তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। তাই শুধু প্রতীকী সম্মান নয়, প্রয়োজন বাস্তব পরিবর্তন।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন এনজিও ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা এবং সম্মাননা প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা বিশ্বের সব নারীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
 

মূলত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ইতিহাস শতবর্ষেরও বেশি পুরোনো। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নারী শ্রমিকেরা কর্মঘণ্টা কমানো, ন্যায্য মজুরি ও ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের প্রস্তাব ওঠে। ১৯১১ সালে প্রথমবারের মতো কয়েকটি দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়।

এবারের প্রতিপাদ্যে তিনটি শব্দ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার, ন্যায়বিচার ও উদ্যোগ। অধিকার মানে কেবল আইনে স্বীকৃতি নয়, বাস্তবে সেই অধিকার ভোগের সুযোগ। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এসব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে নারীর উন্নয়ন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখনও বিশ্বের অনেক দেশে নারী শিক্ষার সুযোগ সীমিত, কর্মক্ষেত্রে সমান মজুরি পান না, কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে অংশ নিতে পারেন না। অধিকার প্রতিষ্ঠা মানে এসব বাধা দূর করা।
 

ন্যায়বিচার মানে বৈষম্য ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার। গার্হস্থ্য সহিংসতা, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ এসব শুধু সামাজিক সমস্যা নয়, মানবাধিকার লঙ্ঘন। আইন প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার সঠিক প্রয়োগ আরও জরুরি। একজন নারী যদি অন্যায়ের শিকার হন, তবে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করাই সভ্য সমাজের দায়িত্ব।

আর উদ্যোগ মানে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ। শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না; প্রয়োজন প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের জন্য আলাদা উদ্যোগ জরুরি, যাতে উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছায়।
 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী দিবসের গুরুত্ব আলাদা মাত্রা পায়। কেননা দেশে নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে লাখো নারী দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। ক্ষুদ্রঋণ ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে। কিন্তু এখনো বাল্যবিবাহ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক কুসংস্কার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। তাই এবারের প্রতিপাদ্য আমাদের জন্য বিশেষ প্রাসঙ্গিক অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে উদ্যোগ টেকসই হয় না।

 

নারী দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নারীর অগ্রগতি মানে কেবল নারীর নয়, পুরো সমাজের অগ্রগতি। পরিবারে সমান দায়িত্ব বণ্টন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ, এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এসব নিশ্চিত হলে উন্নয়ন আরও গতিশীল হয়। ছেলে ও মেয়েকে সমানভাবে বড় করে তোলা, তাদের স্বপ্ন দেখতে শেখানো পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রকে দিবসটি পালনের আহ্বান জানায়। এরপর থেকে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে এটি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এবং অপারেশন উইংয়ের প্রধান মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে মাসে ৩.৮০ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বিপিসির কাছে ১ লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুদ আছে। এর বাইরে ২.৮০ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি চূড়ান্ত হয়েছে।

শনিবার (৭ অক্টোবর) তিনি এসব তথ্য জানান। তবে কৌশলগত কারণে কোনো দেশ থেকে কী দরে এসব তেল কেনা হচ্ছে, তা জানাননি।

বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ২.৮০ হাজার টন ডিজেলের মধ্যে কিছু তেল ইতিমধ্যে আসা শুরু হয়েছে। কিছু সমুদ্রে জাহাজে রয়েছে এবং কিছু জাহাজীকরণ অবস্থায় আছে। ফলে মার্চ মাসে বাংলাদেশে ডিজেলের সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, আরও চারটি জায়গা থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। এখন সরবরাহকারীদের সঙ্গে ডকুমেন্ট লেনদেন পর্যায়ে আছে। ফলে ডিজেল নিয়ে সংকটের কোনো কারণ নেই এবং কেউ বাড়তি ডিজেল না কিনলে পাম্পগুলোতে সংকট হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

তবে বাজারে বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে জ্বালানি বিভাগ মনে করছে, বাইকাররা অযথা পেট্রোল পাম্পে ভিড় করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তাদের প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে কেনা) বন্ধ হলেই সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্যতা ফিরবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করায় আপাতত গ্যাস সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানান কর্মকর্তারা। এছাড়া, নভেম্বর পর্যন্ত সারের মজুদ থাকায় সরকার সার কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে গ্যাসের সরবরাহও স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করছে জ্বালানি বিভাগ।

এদিকে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে জানা গেছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুদ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা নেই।

 

চার দিন আগে অসুস্থ শিশুসন্তানকে নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেইলপাড়ার গৃহবধূ কোহিনুর আক্তার (৩১)। মেয়েকে হাসপাতালের পঞ্চম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তির পর ওষুধ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন কোহিনুর। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েও তাঁর সন্ধান পাননি।

আজ শনিবার দুপুরে হাসপাতালের লিফট থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও কর্মচারীদের মধ্যে সন্দেহ হয়। এরপর হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা খোঁজাখুঁজি করে লিফটের নিচের একটি গর্তে গৃহবধূর মরদেহ দেখতে পান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন লাশটি উদ্ধার করেন। মরদেহ বিকৃত হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। পরে স্বজনেরা শনাক্ত করেন মরদেহটি চার দিন আগে নিখোঁজ কোহিনুরের।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দীন বলেন, লিফট ত্রুটিপূর্ণ ছিল কি না অথবা অন্য কোনো কারণে ওই নারী নিচে পড়ে গেলেন কি না, তার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে ৪ মার্চ দুপুরে ওই গৃহবধূ লিফটে উঠেছিলেন কি না? উঠলে তাঁর সঙ্গে কে কে ছিলেন?

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য একই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন রোগী, তাঁদের অভিভাবক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, সদরের এই হাসপাতালে দৈনিক এক হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৫০০ জনের বেশি রোগী। ব্যস্ততম একটি হাসপাতালের পঞ্চম তলা থেকে এক নারী নিচে নামার সময় লিফটের গর্তে পড়ে যাবেন আর সেই নারী চার দিন ধরে গর্তে পড়ে থাকবেন, কারও নজরে পড়বে না—এমন তো হতে পারে না। এটা কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করা দরকার।

খাগড়াছড়ির পানছড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পানছড়ি সদর ইউনিয়নের বড়কোণা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম আপন ত্রিপুরা (২৮) তবে তিনি সংগ্রাম নামে পরিচিত ছিলেন। আপন ত্রিপুরা পানছড়ি উপজেলার উল্টাছড়ি ইউনিয়নের মরাটিলা এলাকার পদ্মিনীপাড়ার বাসিন্দা।

ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ হত্যার ঘটনায় জেএসএস–সন্তু লারমা পক্ষকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে জেএসএসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বিবৃতিতে অংগ্য মারমা বলেন, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেএসএসের (সন্তু লারমা) ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল পানছড়ি সদর ইউনিয়নের বড়কোণা এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় সাংগঠনিক কাজে যাওয়ার পথে ইউপিডিএফ সদস্য আপন ত্রিপুরা তাদের সামনে পড়ে গেলে তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অংগ্য মারমা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পানছড়ি এলাকায় জেএসএস–সন্তু লারমা পক্ষ খুন, অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্টো তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। এর ফলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।

জানতে চাইলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির কোনো সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি, ইউপিডিএফের একটি সশস্ত্র দল প্রতিপক্ষের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এতে তাদের একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে দোষারোপ করা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তবে এলাকা দুর্গম হওয়ায় সেখানে পৌঁছাতে এবং মরদেহ উদ্ধার করতে সময় লাগছে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ফুল নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যাওয়ার পথে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের কাছে স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতের সড়ক থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হাতে ফুল নিয়ে মিছিল করতে করতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতের সড়ক থেকে চারজনকে আটক করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের কিংবা দলটির নিষিদ্ধ সহযোগী সংগঠনের কোনোটিতে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ঘটা করে ৭ মার্চ পালন করা হতো। ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রয়েছে নিষিদ্ধ। অভ্যুত্থানের সাত মাস পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকে হামলা–হেনস্তার শিকার হন। কাউকে কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় অবৈধভাবে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৭ মার্চ) সিংড়া থানা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পানির ট্যাংকে প্রায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল মজুদ রাখার প্রমাণ পাওয়ায় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনকে (৩৪) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত। তিনি জানান, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাজারে স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

সংসদের খারাপ সংস্কৃতি আমরা মানুষের মন থেকে আমরা মুছে দেব বলে মন্তব্য করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংসদ সদস্যদের শেষ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসে সাংবাদিকদের এই কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কনস্টিটিউশন, রুলস অব প্রসিডিউর, কাস্টমস, কনভেনশন অব দি হাউস- এসব বিষয় নিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। সেইসঙ্গে বিশ্বের যেসব দেশ শক্তিশালী গণতন্ত্রের চর্চা করে থাকে, সেসব দেশের সংসদে চর্চার ওপর কথা বলেছি।

তিনি বলেন, আশা করি আমাদের ভবিষ্যৎ সংসদ অধিবেশন দেখে জাতি অনেকটা আশ্বস্ত হবে, বলবেন- এমন একটি সংসদই তারা দেখতে চেয়েছিলেন। অতীতে সংসদে যেসব নেতিবাচকতা সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো মানুষের মন থেকে আমরা মুছে দেব।

সালাহউদ্দিন বলেন, যারা নতুন সংসদ সদস্য, তারা নতুন করে যাত্রা শুরু করবেন, শিখবেন ভালো। তাদের ভেতরে কোনো খারাপ সংস্কৃতি না থাকলে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটা বাচ্চা যেমন জন্মগ্রহণের পর সতেজ সংস্কৃতি শিখে, ঠিত সেইভাবে নবীন সংসদ সদস্যদেরও প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।

নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে এই লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রথমবার নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের, সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি বিধান ও সংসদীয় আচার বিষকর প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলছে। দুদিনের এ কর্মশালার শেষ দিনের কার্যক্রম চলছে। সকালের সেশনে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের এবং ফরিদপুর জেলার সংসদ সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। বিকেলের সেশনে থাকবেন সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের সংসদ সদস্যরা।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখেই মূলত নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও মন্ত্রীদের জন্য এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিজ্ঞ সাবেক আমলা, একাডেমিশিয়ান ও সাবেক সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে এমপিদের দায়িত্ব, মন্ত্রিসভার সদস্যদের সংসদীয় রেওয়াজ ও মন্ত্রণালয় পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে কৌশলগত ভূমিকা কেমন হবে, তা তুলে ধরা হচ্ছে এই কর্মশালায়।