দেশে ফিরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিমানবন্দরের লবিতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন তারেক রহমান। এছাড়া, প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

তারেক রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে বলেন, নিরাপত্তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকম পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমার নিরাপত্তার জন্য। এর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় রয়েছি।

প্রায় দেড় যুগ পর দেশে প্রত্যাবর্তন। সতেরো বছরের প্রতিটা ক্ষণ কি প্রহর গুনছিলেন তিনি দেশে ফেরার জন্য? দেশের মাটি স্পর্শ করার জন্য? সেই অপেক্ষার প্রহর ফুরোল আজ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অবশেষে ঢাকায় ফিরেছেন। খালি পায়ে ছুঁয়েছেন মাতৃভূমি।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

 

বিমানবন্দর থেকে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে তারেক রহমান বাইরে আসেন। রাস্তার পাশে সারি সারি গাঁদা ফুলে সজ্জিত ছোট্ট বাগান দেখে মন হয়তো আঁকুপাঁকু করছিল। পাদুকা খুলে পা রাখেন মাটিতে। কিছুক্ষণ খালি পায়ে হাঁটেন শিশিরভেজা ঘাসে। হাতে তুলে নেন এক মুঠো মাটি। তার চোখে মুখে তখন দেখা যাচ্ছিল আনন্দের ঝর্ণাধারা!

অপেক্ষা তখনই ভীষণ আনন্দের, যদি হয় জমকালো প্রত্যাবর্তন। অপেক্ষা তখনই হয় প্রবল সতেজ, যদি জনস্রোতের ভিড়ে হারিয়ে যাওয়া যায়। পায়ের তলে, হাতের মুঠোয় মাটির স্পর্শ লাগে। দেশের মাটি ও মানুষ তখন হয়তো আপনাকে বলে দেয়, অপেক্ষা শুদ্ধতম ভালোবাসার প্রকাশ।

১৭ বছর আগে তারেক রহমান যখন দেশত্যাগ করেন, তখন তিনি ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। সেই সময়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লন্ডনে যেতে বাধ্য হন তিনি।

আর এখন দেশে ফিরলেন পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে। এখন তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার মা খালেদা জিয়া দলের প্রধান নেতা।

দেশে ফিরেই আজ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে যাবেন তারেক। দেড় যুগ পর পা রাখা হলো মাতৃভূমিতে। এবার মাকে দেখার পালা। 

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে বহনকারী 'সবার আগে বাংলাদেশ' ব্রান্ডিংয়ে লাল-সবুজের বাসটি যাচ্ছেন ৩০০ ফুট এলাকার সংবর্ধনাস্থলে।

যেতে যেতে দেশবাসীর উদ্দেশে বাস থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে জনসমাগম হওয়ায় বাসটি ধীরে ধীরে আগাচ্ছে।

 

বাসের ভেতর থেকে নেতাকর্মীদের অভিবাদন গ্রহণ করছেন তারেক রহমান। ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেল

 

তার আগে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে বাসে ওঠার পূর্বে তারেক রহমান জুতা খুলে বাংলাদের মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন।

এর একটু আগে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে বিমানবন্দরে বরণ করেন ঢাকায় থাকা পরিবারের সদস্য ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাংঘিক ব্যক্তিত্ব, পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের চতুর্থ সংঘরাজ এবং “সাদা মনের মানুষ” হিসেবে পরিচিত শ্রীমৎ তিলোকানন্দ মহাথেরোর জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহষ্পতিবার শুরু হয় তিন দিন ব্যাপী জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার এই আয়োজন। রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মগবান শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে শুরু হওয়া এই আয়োজনে গতকাল ছিল দ্বিতীয় দিন। এ দিন বিকেলে হাজার হাজার পূণার্থী প্রয়াত তিলোকানন্দ মহাথেরোর মরদেহ দিয়ে পুরাতন ঐতিহ্য অনুসরণ করে “গাড়ীটানা”র আয়োজন করা হয়। এতে হাজারো পূণ্যার্থী অংশ নেন এবং পরে সাজানো চিতায় মরদেহ আগুনে ভষ্মিভূত করা হয়। আজ ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, সকালে ভষ্মিভূত এই মরদেহের হাড় সংগ্রহ অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়।

জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পরিচালনা কমিটির আয়োজনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি প্রয়াত সংঘরাজের জীবন ও দর্শনের ওপর আলোকপাত করেন।গত বৃহষ্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বাঘাইছড়ি উপজেলার শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার মাঠে আয়োজিত ধর্মসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। ধর্মদেশনা প্রদান করেন মিরপুর শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো। উপস্থিত ছিলেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো, মালয়েশিয়ার ধর্মীয় গুরু ধম্মাজ্যোতি মহাথেরো, থাইল্যান্ডের বৌদ্ধ ভিক্ষু পারা সামান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাথেরো, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমান আক্তার, রাঙামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খিসা, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজানসহ বিশিষ্টজনরা।

 

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনে প্রয়াত ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরোর জীবনীগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বৌদ্ধ ভিক্ষু ও পুণ্যার্থীরা প্রয়াত এই মহান ধর্মগুরুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আজসহ বিগত তিনদিন ধর্মীয় আলোচনা, বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রার্থনা এবং বিবিধ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি সুপ্রদীপ চাকমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের পথে রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নতুন নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। এজন্য সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।

 

তিনি বলেন, তিলোকানন্দ মহাথেরো পার্বত্য চট্টগ্রামে যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেছেন, তা আমাদের ধরে রাখতে হবে। যদি আমরা তা বজায় রাখতে না পারি, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য ভিক্ষু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ভদন্ত প্রজ্ঞাজ্যোতি মহাথেরো বলেন, শ্রদ্ধেয় ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরো মহোদয় ছিলেন ধর্ম, মানবতা ও অহিংসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যাঁর জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করে রাখবে।

 

উল্লেখ্য, মহাপ্রয়াণ তিলোকানন্দ মহাথেরো পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রদত্ত “অগ্রমহাপণ্ডিত” উপাধিতে ভূষিত, এটিএন বাংলা ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড কর্তৃক “সাদা মনের মানুষ” হিসেবে স্বীকৃত, এবং কাচালং শিশু সদনের অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২ নভেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে তার মহাপ্রয়াণ ঘটে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে  ২৯৯ নং রাঙ্গামাটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব দীপেন দেওয়ান পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বিএনপি সিনিয়র নেতারা।

এ সময় জেলা  বিএনপির সংসদ  নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএসপির সহ-সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড.মামুনুর রশীদ মামুন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক  সাইফুল ইসলাম পনির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলাম শাকিল, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো: নাজিম উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান, জেলা জাসাসের সভাপতি মো: কামাল উদ্দিনসহ বিএনপির অংগ-সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জেলা  বিএনপির সংসদ  নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভুট্টো বলেন, সারাদেশে বিএনপির পক্ষে গনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাঙ্গামাটিতে বিএনপির পক্ষে জনগণ ঐক্যবদ্ধ আছে।
জনসমর্থনের ভিত্তিতে ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হবেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ৫০০ শতাধিক ব্যক্তিকে বিচারবর্হিভূতভাবে গুম ও হত্যার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এর মধ্যে থেকে শতাধিক মানুষকে গুম ও হত্যার তিনটি অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আগামী রোববার (২১ ডিসেম্বর) এই অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

অভিযোগ তিনটি হলো, গাজীপুরে ৩ জনকে হত্যা, বরগুনার পাথরঘাটার চর দুয়ানিতে ৫০ জনকে হত্যা, বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনে বন্দুক যুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বেশ কয়েকজনকে হত্যা। শুনানিতে কীভাবে গুম করে হত্যা করা হতো, সেই নৃশংস বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

গ্রাফিক্স: এআই জেনারেটেড

 

তাজুল ইসলাম বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল হক সুমন, সালাহউদ্দিন আহমদসহ বহু ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার তথ্য মিলেছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চলছে। গুম ও হত্যায় অসাধারণ দক্ষতার কারণে আওয়ামী লীগের আমলে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেয়া হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশীরা নছিহত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তাদের উপদেশ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা স্বাভাবিক। আগে থেকেই ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। সেখানে নতুন মাত্রা যোগ হলো কি না তা বলা কঠিন। ভারতে বাংলাদেশ মিশন ছোট করার কোন কথা এখনো ভাবছে না সরকার। তবে প্রয়োজনে মিশন ছোট করা হবে।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান গতকাল রাত পর্যন্ত বাংলাদেশে আসার জন‍্য কোন ট্রাভেল পাস বা ডকুমেন্ট চান নি বলেও জানান তিনি। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ পদত্যাগের যে দাবি তুলেছেন তা কোনোভাবেই সরকারের অবস্থান নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যক্তিগত মান–অভিমান ভুলে গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে দলের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানের দলীয় কার্যালয়ে এলডিপির নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

আমীর খসরু বলেন, দেশ ও দলের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

এসময় শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ‌নি সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতার উপস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। পরে তাদের স্বাগত জানান আমীর খসরু।

বিগত সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা, আদালত, প্রশাসনসহ প্রত্যেকটা জিনিসকে ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

আজ সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের সমাপনী সেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। 

তারেক রহমান বলেন, বিগত সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে তারা দেশের অর্গানগুলোকে ব্যবহার করেছিল ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। এ থেকে উত্তরণে আমাদের একটা অনুষ্ঠানের নাম দিয়েছি 'দেশ গড়ার পরিকল্পনা'। 

একটা দল চাইলেই সব কিছু ভালো করতে পারবে এমন না, ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। তবে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশের মানুষ যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিয়েছে, ততবারই দেশ ও দেশের মানুষের জন্য ভালো কিছু করার চেষ্টা করেছে। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিলেন। তা ছিল খাল খনন প্রকল্প। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এর পেছনে অনেক কারণ ছিল। খাল খননের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন বন্যা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, আরেকদিকে ফসলের সেচ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটিছিলেন। এর ফলে যে জমিতে একটি ফসল হতো, সেখানে দুটি ফসল হওয়া শুরু করলো শুধু পানি সরবরাহ ঠিকভাবে করার কারণে। 

এজন্য তার আমলের আগে বাংলাদেশ যেখানে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, জিয়াউর রহমানের আমলে সেখানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। সেইসাথে, অল্প পরিমাণ হলেও আমরা বিদেশে রফতানি করতেও সক্ষম হয়েছিলাম। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে আবার দেশ পরিচালনার সুযোগ দিলে খাল খননের কাজ আবার শুরু করা হবে। 

প্রবাসীদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, আজকে আমরা দেখি প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি মানুষ বিদেশে, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য থেকে দেশে অর্থ পাঠান। যা দিয়ে দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ করা হয়। এই যে জনশক্তি রফতানি, এর উপায় প্রথম বের করেছিলেন জিয়াউর রহমান, যখন তিনি দেশ পরিচালনা করছিলেন। আমরাও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি, এই মানুষগুলোকে যদি সঠিকভাবে ট্রেনিং দেয়া যায় তা অনেক কাজে লাগবে।

তিনি আরও বলেন, যেই ৮ থেকে ১০ লক্ষ অদক্ষ মানুষ বিদেশে যাচ্ছে তাদেরকে আমরা ভ্যালু এড করে, ১৫ থেকে ২০ লক্ষ করতে চাই। এই মানুষগুলো যেন ধীরে ধীরে ভালো কাজ করতে পারে। অর্থাৎ এখন যদি তাদের একটি ভাষার কোর্স করানো হয় বা ট্রেনিং দেয়া হয়, তাহলে যেখানে তারা ১০০ ডলারের বেতন পায়, সেটা বেড়ে ৩০০ ডলার হয়ে যাবে। আর এতে দেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণও বেড়ে যাবে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল আয় নিয়ে বলেন, পেপালের সাথে কথা হয়েছে। আমরা অলরেডি একটা টিমের সাথে কথা বলেছি। অনেক তরুণ আছে যারা বিভিন্ন কন্টেন্ট তৈরি করে, কিন্তু সঠিক প্ল্যাটফর্মে তা দিতে পারছে না। এর ফলে তাদের আয় অনেক কম হচ্ছে। আমরা যদি তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় পলিসি করি, পেপাল, গুগল, মেটাসহ ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস এখানে নিয়ে আসতে পারি, তাহলে এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর যারা আছে, তাদের ইনকাম অনেক বেড়ে যাবে। 

এ সময়, ঢাকা শহরসহ সারা দেশের বায়ুদূষণ রোধে বৃক্ষরোপণের কথা জানান তিনি। সেইসাথে, দেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কথাও বলেন। অপরদিকে, প্রাইমারি শিক্ষকদের যথাযথ ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে আরো দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে উল্লেখ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। 

ক্রীড়া ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বেতনের বিভাজন কমাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর ভার্চুয়াল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একথা জানান তিনি।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, নারী ক্রিকেটারদের বেতন এরইমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে। সামনে নারী ফুটবলারদের বেতনও বাড়ানো হবে। অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ক্রীড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ইন্সিটিউট করার পরিকল্পনা রয়েছে। তরুণরা খেলাধুলায় যুক্ত হলে মাদকসহ অনেক কিছু থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির কাছে আসন না চাওয়ার কথা জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ। সব আসনে প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মঞ্চের নেতারা।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলোচনায় এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বিএনপি আমাদের সঙ্গে আসন নিয়ে সমঝোতা করবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আলোচনা না করেই বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবুও দলটির সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা আছে।

অপরদিকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারি জোনায়েদ সাকির অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন পেছাতে একটি দল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

শারীরিক অবস্থা ঠিক থাকলে আজ মধ্যরাত বা সকালে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেবেন খালেদা জিয়া। কাতারের দেয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা ছাড়বেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, লন্ডনে নির্ধারিত হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে। যাত্রাপথে প্রতিকূলতার মধ্যেও চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে অন্য কোনও চিন্তা করা হচ্ছে না। মেডিকেল বোর্ড নিয়মিত মিটিং করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক খালেদা জিয়াকে দেখেছেন। 

 
এদিকে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে চিকিৎসকসহ মোট ১৬ জন সফরসঙ্গী থাকবেন। তারা হলেন, খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শমীলা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. শাহাবুদ্দীন তালুকদার, ডা. নুরুদ্দীন আহমদ, ডা. রিচার্ড জন বিলি, ডা. জিয়াউল হক, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন। আরও থাকবেন, হাসান শাহরিয়ার ইকবাল, সৈয়দ শামীন মাহফুজ, আব্দুল হাই মল্লিক, মাসুদার রহমান।
 
এছাড়াও খালেদা জিয়ার পরিচর্যাকারী ফাতেমা বেগম ও রুপা শিকদারও সঙ্গে থাকবেন।
গ্রাফিক্স: এআই জেনারেটেড
 
বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। তবে, তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন তিনি।
 
এরইমধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য ও চীন থেকে বেশকয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ঢাকার এসেছেন। তারা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছেন।
 
গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। পরে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শক্রমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।