রাজধানীতে আজ পূর্বাচল নীলা মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ দোকান পুড়ে ছাই। এতে আনুমানিক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি রেস্টুরেন্ট এবং একটি মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই দোকানগুলোতে থাকা মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকদের দাবি, এই অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পূর্বাচল ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ম্যানেজার জানায়, ভোরের দিকে মার্কেট চত্বরে হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলে, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে। 

এদিকে হঠাৎ আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকরা।

সিলেটে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৩২ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল চার।

তবে ভূমিকম্পে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিকাল ৫টা ৩২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি হয়। এর উৎপত্তিস্থল সিলেটের গোয়াইনঘাট, যা ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্র হতে ২১৪ কিলোমিটার দূরে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে এ ঘোষণা দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। নতুন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলেই তিনি পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন।

পদত্যাগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াচ্ছি, যেন নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের মতো করে প্রশাসন সাজাতে পারে।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট পদত্যাগ করেন তৎকালীন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল। এরপর ২৭ আগস্ট উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নিয়াজ আহমদ খানকে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতি—সবখানে তাদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

জামায়াত আমির বলেন, সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করি আল্লাহর মেহেরবানিতে আপনারা সবাই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। আজ আমি আপনাদের সামনে এখানে এসেছি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে নয়। আজ আমি একেবারে মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো একজন জেন-জি, একজন যুবক, আর আমাদের প্রজন্ম সবার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমানের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের দেশের অন্য ধর্মের ভাই-বোনদের জন্যও। আজ আমি এখানে যাদের কারণে কথা বলছি, সেই জুলাইয়ের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদেরও গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে এখনো বহু মানুষ আহত আছেন।

তিনি বলেন, আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য ও সুস্থতা কামনা করছি। জুলাই হয়েছিল কারণ আমাদের দেশ এক হয়েছিল। জুলাইতে রাস্তায় নেমেছিল আমার তরুণ বন্ধুরা। রাস্তায় নেমেছিল আমাদের প্রিয় মা-বোন-মেয়েরা। রাস্তায় নেমেছিল শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক ভাইয়েরা এবং সব মেহনতি জনতা। ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তখন এক হয়েছিল। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষও রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সে সময়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে। আমরা জুলাই আর চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনো দিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়। আমাদের বুঝতে হবে, জুলাই কেন হয়েছিল। জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। সেখান থেকে মুক্তির জন্য। বিশেষ করে ২০০৯ সাল থেকে জাতির ওপর এমন এক শাসকগোষ্ঠী চেপে বসে যারা মানবাধিকার, ভোটাধিকারসহ সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪-এর পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনের নামে তামাশার মাধ্যমে আমাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হয়। এসব নিপীড়ন ও অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যই এসেছিল রক্তাক্ত জুলাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের তরুণরা এখন একটা নতুন দেশ দেখতে চায়। যে দেশকে তারা গর্ব করে বলতে পারবে নতুন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ২.০। এক কথায় যদি বলি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী।  কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার থাকে না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আবরার ফাহাদ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ, ওসমান হাদী ও তাদের সহযোদ্ধারা। তাদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লাখ লাখ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই দেশ আমাদের সময়ের এই সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই তরুণরা রচনা করবে। এই তরুণরা পরিশ্রমী। এই তরুণরা সাহসী, এই তরুণরা মেধাবী। এই তরুণরা পরিবর্তনকে ভালোবাসে। এই তরুণরা নতুনকে আলিঙ্গন করে। এই তরুণরা সত্য বলতে দ্বিধা করে না। এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে জানে। তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে। আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মতো—কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকুক, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক। এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।

‘জনগণ চায় একটু নিরাপত্তা সুশাসন ও ইনসাফ। তাই আগামীর বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করে; কিন্তু এসব পরিকল্পনার সবগুলো যেমন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি তেমনি অনেকগুলো একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাত ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি এবং এ সংস্কার প্রক্রিয়াকে জারি রাখাসহ সংস্কার নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের আয়োজন করা হচ্ছে। এ গণভোট জনগণের সাধারণ ইচ্ছা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাই।’

‘নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্খার আলোকে আমাদের পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অঙ্গীকার আপনাদের নিকট স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পলিসি সামিটের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি কৌশল জনগণের সামনে তুলে ধরেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এর প্রতিফলন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা অবদান রেখেছেন। এছাড়াও আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে বসেছি, এবং তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি। আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহ ইচ্ছায় জনগনের ভালবাসায় আমরা সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশহাল্লাহ।’

‘আমাদের শাসক শ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদেরকে দেশের মালিক গণ্য করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবী-নীতি-প্রতিষ্ঠান, সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসাবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে চুরি ও দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতারিত করে জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প ব্যক্তিগত ও দলীয় লুন্ঠনের সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যাবস্থার অবসান ঘটানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আলহামদুলিল্লাহ, অতীতে জামায়াতে ইসলামীর থেকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদ, সরকার ও স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছে তারা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়নি। তারা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা দেশের মানুষ আপনারাই তার সাক্ষী।’

‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে একটি নতুন স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক মহাসুযোগ হিসাবে এসেছে। যেসব সমস্যা আমরা বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন। তাই জনগণকে ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের তরুণদের জন্য, আমাদের নারীদের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, প্রান্তিক মানুষের জন্য, শ্রমিকের জন্য, উদ্যোক্তাদের জন্য কোন বাংলাদেশ চাই। আমাদেরকে প্রশ্ন করতে হবে আমরা কি সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি নিয়ম-নীতি-শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি উন্নত দেশ হতে চাই, আমরা কি শোষণ-জুলুম-দুর্নীতি-চাঁদাবাজ মুক্ত রাষ্ট্র চাই। আমাদেরকে ভাবতে হবে আমরা কি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই, যোগ্যতা ও সততাকে সরকারি পদের জন্য মৌলিক শর্ত করতে চাই; আমরা কি আমাদের জাতীয় সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে চাই। এসব বিষয়ে যদি আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে আগামী নির্বাচন নিয়ে নৈতিকভাবে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক কথার ফুলঝুরির বাইরে এসে বাস্তবতার আলোকে সৎ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

‘আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য ৫টি বিষয়ে হ্যা এবং ৫টি বিষয়ে না বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যা বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত, নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি-কে স্পষ্ট করে না  বলতে হবে।’

‘বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যায় বড় একটি দেশ। এ জনসংখ্যাকে অনেকে সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করলেও আমরা মনে করি এটি আল্লাহর নেয়ামত এবং এক বড় সম্পদ। তাই আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তি হিসাবে রুপান্তর করতে হলে নীতি ও নৈতিকতা ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নাই। সমাজে নীতি-নৈতিকতা-শৃঙ্খলা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো জাতি আগাতে পারেনি। আমাদের পক্ষেও সম্ভব না।’

‘আমরা মনে করি সমাজে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকলকে মর্যাদা দিতে হবে এবং সকলের মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে হবে। সকল পরিচয় নির্বিশেষে আমরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে একটি মানবিক-উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সকলের মান-ইজ্জত-অধিকারের সুরক্ষা দিবো। এই বাংলাদেশ—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মত ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব।’
  
‘সম্মানিত ওলামায়ে কেরাম, একাধিক ধর্মের এ দেশে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই মুসলমান হিসাবে এটি আমাদের দায়িত্ব যে সমাজে ন্যায় বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। এগুলো ইসলামের শ্বাশত আদর্শ। সকল মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব; এটি আল্লাহ আমাদেরকে স্পষ্টভাবে বলেছেন। এ দায়িত্ব আমরা সকলে মিলেই পালন করব। প্রিয় তাবলীগ জামাতের ভাইয়েরা, আপনারা দ্বীনের জন্য যে মেহনত করছেন, দেশ গড়ার কাজেও আপনারা আমাদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবেন বলেও আমরা বিশ্বাস করি।  আমরা অঙ্গীকার করছি ভবিষ্যতে কেউ আপনাদেরকে অন্যায়ভাবে বিভিন্ন বিশেষণে ট্যাগ দিয়ে নির্যাতন করতে পারবে না। বিচার বহির্ভূতভাবে আপনাদেরকে হত্যা করতে পারবে না। আমরা জানি অতীতে আপনাদের কোন মানবাধিকার ছিল না। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জাতীয় নীতি-পদ্ধতিতে আপনাদের আনুষ্ঠানিক অবদান ও ভূমিকাকে জোড়দার করা হবে।’

‘আন্তর্জাতিক এবং জলবায়ু: আমরা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সম মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করবো। আমরা অন্যের ভৌগলিক অখণ্ডতাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করবো, তেমনি সকল দেশের সাথে বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিবো। তবে আমাদের জাতীয় স্বার্থ, মর্যাদা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নির্মাণে প্রধান ভূমিকা রাখবে। বৈশ্বিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জসমূহ, বিশেষতঃ জলবায়ু পরিবর্তন, নিরসনে আমরা সাধ্যমতো ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। নিপীড়নের শিকার হয়ে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্টীকে তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।’  

তিনি আরও বলেন, জন্মভুমি থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন। ইতিমধ্যে আপনারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নতুন বাংলাদেশে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে ইতিহাস রচনা করেছেন। আগামী দিনে দেশ গড়ার এই অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া আমাদের নতুন বাংলাদেশ -এর স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। আমরা চাই প্রবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা রাষ্ট্রীয়ভাবে নিশ্চিত করতে। সে লক্ষ্যেই প্রবাসীদের জন্য ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে—যারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সেবা ও সমস্যার বিষয়ে দূতাবাস বা হাইকমিশনের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে প্রবাসীদের স্বার্থে উপদেষ্টা ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। এবং প্রবাসীরাও যেন সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ আরো শক্তিশালী করতে আনুপাতিক হারে সংসদে প্রবাসী প্রতিনিধি নির্বাচন বা মনোনয়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা গিয়েছি। আপনারা আমাদের সভা-সমাবেশে যোগ দিয়েছেন; আমাদের কথা শুনেছেন। আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় আমরা অভিভুত। আমরা আপনাদের প্রতি চির কৃতজ্ঞ। আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা বা অন্যান্য কার্যক্রমে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বিরাট নৈতিক দায়িত্ব। তাই আমাদের আহ্বান নির্বাচনী আচরণ-বিধিকে সম্মান জানানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বি রাজনৈতিক দলের বৈধ অধিকারকে সম্মান করা। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। আমাদের সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা অনেক কষ্ট করে আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান কভার করেছেন। আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ঋণ শোধ করতে পারবো না। আপনারা ভালো থাকবেন।’ 

‘আমাদের দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী, শুভাকাঙ্খী এবং নির্বাচনী জোটের নেতৃবৃন্দ, কর্মীগণ নিরলস পরিশ্রম করেছেন। আর্থিক ত্যাগ করেছেন। শেরপুরে আমার ভাই রেজাউল করিম, প্রতিপক্ষের নির্মম আঘাতে, শাহাদাত বরণ করেছেন। আল্লাহ সকলের ত্যাগ ও কুরবানি কবুল করুন। আমাদের ভাই, মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদল, যিনি শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী ছিলেন, ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাকে উত্তম পুরস্কার দিন ও জান্নাত নসীব করুন।’

‘আমরা আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি যে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হচ্ছে আমানত। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোন উপভোগের বিষয় নয়। সর্বাবস্থায় আমরা স্মরণে রাখবো ‘আমরা প্রত্যেকে দায়িত্বশীল এবং আমাদের দায়িত্বের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে’। আমরা হযরত ওমরের সেই বিখ্যাত উক্তি ও দায়িত্বশীলতা মনে রাখবো যে, “ফোরাতের তীরে একটি কুকুর না খেয়ে মড়ে গেলেও আমি ওমর দায়ী থাকবো”। আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে আমরা ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকবো, ইনশাআল্লাহ।’

‘আশা করি আপনারা আমাদের অঙ্গীকার ও স্বপ্নকে বিশ্বাস করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের প্রতি সমর্থন দিবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লা মার্কায় এবং যেসব অঞ্চলে ১১ দলীয় প্রার্থী আছে সেসব এলাকায় ১১ দলীয় প্রতীকে ভোট দিবেন, এ আকুল আবেদন আপনাদের প্রতি রাখলাম। আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহাসুযোগ আমাদের দিয়েছে, আসুন সেটা কাজে লাগাই। বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করি। একটি নতুন বাংলাদেশ তৈরি করি যেখানে সবাই মান-ইজ্জত-মর্যাদা নিয়ে বাস করবে। আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হোন। আল্লাহ আমাদের অঙ্গীকার পালনে সহায়তা দিন।’ 

 

বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি নিজের জীবনের এক কঠিন ও ব্যক্তিগত অধ্যায়ের কথা প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভাই বিক্রান্তকে রক্ষা করতে তিনি অস্ট্রিয়ায় থাকা নির্যাতনমূলক দাম্পত্য জীবন ছেড়ে রাতারাতি ভারতে ফিরে আসেন।

পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেলিনা জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে একটি ফোনকল তাঁর জীবন পুরোপুরি বদলে দেয়। তখন তিনি অস্ট্রিয়ায় বসবাস করছিলেন। ফোনে জানতে পারেন, তাঁর ভাই সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক হয়েছেন।

সেলিনা বলেন, ‘রাত প্রায় ৯টার দিকে ফোনটা আসে। প্রথমে আমি বিষয়টাকে তেমন গুরুত্ব দিইনি। ভেবেছিলাম, আমার ভাই হয়তো মজা করছে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আমি বিষয়টাকে তার একটা বাজে রসিকতা বলেই ধরে নিয়েছিলাম।’
কিন্তু কিছু সময় পর পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তিনি। তখনই জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয় অভিনেত্রীকে।

সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সেলিনা জেটলি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

নির্যাতনমূলক দাম্পত্য জীবনের কথা অকপটে
সেলিনা জানান, ওই সময় তিনি নিজেও চরম ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ‘আমি তখন খুবই খারাপ ও নির্যাতনমূলক একটি দাম্পত্য সম্পর্কে ছিলাম; কিন্তু যখন সন্তান থাকে, তখন অনেক কিছু সহ্য করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হয়। যখন মা–বাবা নেই, সম্পদ নেই, তখন সন্তানদের জন্যই আপনি সবকিছু সহ্য করেন।’
সেলিনা বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এত দিন দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এক রাতেই সব ছেড়ে ভারতে ফেরা
ভাইয়ের বিপদের খবরই ছিল তাঁর জন্য টার্নিং পয়েন্ট। সেলিনা জানান, ভাইকে সাহায্য করতে হলে অস্ট্রিয়া ছেড়ে ভারতে ফেরা ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না।
‘আমি বুঝে গিয়েছিলাম, যদি আমি অস্ট্রিয়ায় থাকি, তাহলে ভাইয়ের জন্য লড়তে পারব না। তাই রাত একটার দিকে, প্রায় কোনো টাকা ছাড়াই, ক্রেডিট কার্ডে টিকিট কেটে আমি অস্ট্রিয়া ছেড়ে ভারতে ফিরে আসি’, বলেন সেলিনা।

সেলিনা আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন নিজের সন্তানদের এই লড়াইয়ের মধ্যে না জড়িয়েই।

ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প
সেলিনার এই স্বীকারোক্তি বলিউড অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুব একটা খোলামেলা না হলেও এবার তিনি সাহস করে নিজের কষ্টের গল্প তুলে ধরেছেন।
এ ঘটনা আবারও সামনে আনছে—তারকাদের ঝলমলে জীবনের আড়ালেও কতটা কঠিন বাস্তবতা লুকিয়ে থাকতে পারে।

ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়া গণস্বার্থের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিক, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারকে যুক্ত করে নেওয়া উচিত ছিল। কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়া গণস্বার্থের পরিপন্থী।

আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামে এ আয়োজন করে বন্দর সুরক্ষা কমিটি। এতে বন্দরের শ্রমিক, আলোচক ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা স্বচ্ছভাবে জনগণকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি কি না। নন-ডিসক্লোজার ক্লজের আড়ালে কোনো চুক্তি চলতে দেওয়া ঠিক নয়। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর দেওয়ার যুক্তি আমরা অদক্ষ, বিদেশিরা বন্দর নেবে, তারা মুনাফা করবে—এটি ভয়াবহ। বিপদের সময় রাষ্ট্রের পক্ষে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব কি না, এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।’

গণসার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বন্দর ও গণসার্বভৌমত্ব একসঙ্গে। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত আমলারা একতরফা নিতে পারবে না। গণসার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদের সার্বভৌমত্বের নামেই ক্ষমতা লুটেরা ও মাফিয়া শ্রেণির হাতে যাচ্ছে। নির্বাচন চলাকালীন জনগণ ঠিক কারা লুট করবে, তা নির্বাচন করছে।’

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, কিন্তু বন্দর অচল হয়ে গেলে তা বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’

সভার শুরুতে বক্তব্য দেন বন্দর সুরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক আহমেদ ফেরদৌস। পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বন্দরের অর্থায়নে নির্মিত বিভিন্ন প্রকল্প বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যা বন্দরের স্বার্থ ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি। এনসিটি বিদেশিদের হাতে গেলে প্রায় ৮০০ কর্মচারী কর্মহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা চাই বন্দর রক্ষা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা এবং দেশি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।’

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘কৃত্রিমভাবে আয় কম দেখিয়ে চুক্তির যৌক্তিকতা তৈরি করা হচ্ছে। দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা হলেও চুক্তি করা হচ্ছে তাদের আরেকটি কোম্পানির সঙ্গে, যার বোর্ড ও কাঠামো স্পষ্ট নয়। চট্টগ্রাম বন্দরের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা এই চুক্তির পূর্ণ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনের কড়াইল বস্তিতে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালু করেছে বিএনপি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কড়াইল বস্তির জামাইবাজার মাঠে ‘চেতনার বাংলাদেশ’র আয়োজনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির এ সেবার উদ্বোধন করেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হলে দেশ শুধু একজন প্রধানমন্ত্রীই পাবে না, পাবে একজন সমাজ সংস্কারক ও অর্থনৈতিক সংস্কারক। তার নেতৃত্বে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়ন অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে সমাজসেবার চেয়ে গুন্ডামির প্রবণতাই বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং একটি ব্যাংকে ঢুকে ম্যানেজারকে মারধরের মতো ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

হুমায়ুন কবির আরও বলেন, ইতিহাসে যেমন দেখা গেছে কেউ কেউ ইসলামের কথা বললেও প্রকৃত লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা, এক্ষেত্রেও তেমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে একটি দল বেপরোয়া আচরণ করছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তারেক রহমান নির্বাচিত হলে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পেলে ঢাকা-১৭ আসনকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে সবার জন্য সমান অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ যেখানে শুধু ক্ষমতাবানদের সন্তান নয়, সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েরাও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

চেতনা বাংলাদেশ’র চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফয়সাল সালাম বলেন, আজ থেকে কড়াইলের এই এলাকায় ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হলো। স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারী সবাই, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এখন বিনা মূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।

তিনি বলেন, চেতনা বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, যা বহু বছর ধরে মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। শুধু ঢাকা-১৭ আসন নয়, করোনাকালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটি নানা সামাজিক উদ্যোগ নিয়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলের স্থানীয় দলগুলোকে নিয়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

ফ্রি ওয়াইফাই সেবা পর্যায়ক্রমে পুরো কড়াইল এবং ভবিষ্যতে ঢাকা-১৭ আসনজুড়ে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সামনে বনানী লেক পরিষ্কার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নসহ আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে। তারেক রহমান নির্বাচিত হলে এলাকার পরিবেশ ও জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হবে।

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী নুরুল হক নুর এবং ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক এবং ছাত্র অধিকারের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবু নাঈম বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় হাসান মামুনের কর্মী-সমর্থকেরা ঘোড়া প্রতীকের মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময়ে তাঁদের ট্রাক প্রতীকের স্থানীয় কয়েকজন সমর্থক দাঁড়িয়ে ছিলেন। ঘোড়া প্রতীকের লোকজন তাঁদের সংখ্যায় কম দেখে উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে মারধর শুরু করেন। এতে ট্রাক প্রতীকের সমর্থক মো. আলতাফ প্যাদা (৪০), মো. ফিরোজ খান (৩৫), মো. মাহাতাব খানসহ (৩৭) সাত থেকে আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

হাসান মামুনের সমর্থক মো. মারুফ (২৩) বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া নির্বাচনী কার্যালয় থেকে তাঁরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে মিছিল করে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাস্তায় নেমেছিলেন। এ সময় ট্রাক প্রতীকের সমর্থকেরা তাঁদের পথরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর শুরু করেন। এই হামলায় সাত থেকে আটজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে জায়েদ মাহমুদ সাআদ (২৩) ও মো. ওয়াজিব হাওলাদারকে (২৪) গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, গতকাল রাতে ডাকুয়া এলাকায় নুর ও মামুনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আপাতত কোনো ঝামেলা নেই।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনী জনসভা শেষে ফেরার পথে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ শনিবার দুপুরে উপজেলার জগন্নাথদিঘি ইউনিয়নের হাটবাইর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সদরের এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির আমির শফিকুর রহমান।

জামায়াতের নেতাদের দাবি, জনসভা থেকে ফেরার পথেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এতে জামায়াতের কর্মী রবিউল হোসেন, জাকারিয়া রাসেল, রাসেল ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা রিফাত সানি আহত হন।

অন্যদিকে বিএনপি নেতাদের দাবি, কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা হাটবাইর গ্রামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা করেন। এর জেরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সোলেমান চৌধুরী, তাঁর গাড়িচালক মামুনসহ তিনজন আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতের আমিরের জনসভা শেষে দলটির নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে এলাকায় ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উভয় পক্ষের আহত ব্যক্তিদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভা শেষে আমাদের নেতা-কর্মীরা পিকআপে করে বাড়িতে ফিরছিলেন। হাটবাইর এলাকায় বিএনপি নেতা মিজান খান, গাজী ইয়াছিনসহ অন্তত ২০ জন আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন। তাঁরা আমাদের নেতা-কর্মীদের দেখে উসকানিমূলক বিভিন্ন কথাবার্তা বলেন। আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমাদের চারজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। সার্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, বিএনপির নেতা-কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন।’

আহত বিএনপি নেতা সোলেমান চৌধুরী বলেন, দুপুরে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা জনসভা থেকে ফেরার পথে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মিজানের বাড়িতে পরিকল্পিতভাবে হামলা করেন। এ সময় নারীদেরও মারধর করা হয়। এই সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা এগিয়ে যান। তখন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা করেন। এ সময় তিনিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর তারাই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।’

চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ছানা উল্লাহ বলেন, হাটবাইর এলাকায় সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অর্ন্তভুক্তিমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর এমনটাই জানিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বিকেলে ময়মনসিংহে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এ কথা জানান তিনি। বলেন, পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপিতে সব কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিএনপি বিশ্বাস করে বাংলাদেশ শুধু বাঙালির নয় বরং বৈধভাবে বসবাসকারী সকল জাতিগোষ্ঠীর। সকল জাতিগোষ্ঠী নিয়ে অন্তবর্তীমূলক নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে বিএনপি বদ্ধপরিকর। পাহাড় বা সমতলে সবার অধিকার সংরক্ষণের জন্য বিএনপির সকল কমিটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সরকারি চাকরিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য কীভাবে সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করবে।

তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ বাংলাদেশ নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা চায়। পাহাড়ি – সমতলের উন্নয়নে ৩১ দফা রূপরেখা দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তিনটি হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে অংশ নেয় ৩ হাজার ১৮৩ জন যৌথ বাহিনীর সদস্য। অভিযানে অস্ত্র-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং ১২ জনকে আটক করা হয়। একইসঙ্গে এলাকায় দুইটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৮৭ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ১৪৬ জন সদস্য, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৮০০ জন সদস্য, আরআরএফ চট্টগ্রামের ৪০০ জন সদস্য, ফেনী জেলা পুলিশের ১০০ জন সদস্য, পার্বত্য জেলার ৩০০ জন সদস্য, এপিবিএনের ৩৩০ জন সদস্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১২২ জন সদস্য এবং র‌্যাবের ৩৭১ জন সদস্যসহ সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। এছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযানকে কার্যকর করতে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) মো. রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।

সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে ১২ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশিকালে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি পিস্তল ও একটি এলজি), চারটি কার্তুজ, ১১টি ককটেল, ১৭টি দেশীয় অস্ত্র, ১৯টি সিসি ক্যামেরা, দুটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুইটি বাইনোকুলার উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া এসব সরঞ্জাম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, এলাকায় নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে দুইটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।