ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংগঠন ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী সপ্তম ‘বাংলাদেশ ইকোনমিকস সামিট’।  এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য ‘জনসংখ্যাগত লভ্যাংশের বাইরে: যুব কর্মসংস্থান ও টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য কাঠামোগত সংস্কার’।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এই সামিটের উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সামিটের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব

ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের সভাপতি অনির্বাণ ঘোষের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক বিদিশা, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক তৈয়বুর রহমান ও ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের মডারেটর অধ্যাপক সেলিম রায়হান। সামিটে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন।

সামিট আয়োজনের জন্য শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণা জার্নাল প্রকাশ ও একাডেমিক উপস্থাপনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কেবল পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে এ ধরনের গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিন দিনব্যাপী এই সামিটে এলডিসি উত্তরণ, শ্রম, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা এবং জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব আলোচনায় সিপিডির জ্যেষ্ঠ ফেলো, বিভিন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের গবেষকসহ দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেবেন।

নাফিউর রহমান নূর

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ এবং জ্বালানি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি চালু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে একটি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। তবে এই পরিকল্পনা ‘যথেষ্ট ভালো নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার রাতই সেই রাত হতে পারে। আর তেহরান বলেছে, অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, যুদ্ধের পুরোপুরি শেষ চায় তারা। হরমুজ প্রণালিও শিগগিরই খোলা হবে না।

এমন সময় যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি চালু নিয়ে পাকিস্তানের পরিকল্পনার খবর সামনে এল, যখন ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ রাত আটটায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ছয়টা) শেষ হচ্ছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, চুক্তি না হলে এবং হরমুজ না খুলে দিলে ইরানে ‘নরক নেমে আসবে’। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালানো হবে।

ইরান যুদ্ধ থামাতে বেশ কয়েক দিন ধরেই ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। কারণ, এ যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গতকালও প্রতি ব্যারেল তেল ছিল ১১০ ডলার। এ ছাড়া গতকাল যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ফলে বেড়েছে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা।

যা আছে পাকিস্তানের পরিকল্পনায়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে পাঠানো পাকিস্তানের পরিকল্পনার তথ্য রয়টার্সকে জানিয়েছে একটি সূত্র। সে অনুযায়ী, পরিকল্পনার দুটি ধাপ রয়েছে। প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি শুরু হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি খুলতে হবে। পরের ধাপে ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে। এই চুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’। গত রোববার রাতে পরিকল্পনাটি দুই পক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

সূত্র বলেছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে রোববার রাতভর যোগাযোগ করেন। যদিও এ বিষয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দরাবি রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।

এর আগে রোববারও একই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। তাতে মধ্যস্থতাকারীদের বরাতে বলা হয়েছিল, ইরান ও মধ্যস্থতাকারীরা দুই ধাপের চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। এর প্রথম ধাপে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য একটি যুদ্ধবিরতি হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি করা হবে।

হরমুজ খুলবে না ইরান

হরমুজ প্রণালি খোলা নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে ইরান। সম্প্রতি তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অন্যদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে প্রণালিটি খোলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ থাকবে। গতকালও ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলবেন না তাঁরা; চুক্তির জন্য কোনো সময়সীমাও মেনে নেবেন না।

পরিকল্পনায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও মানতে নারাজ তেহরান। তাদের ধারণা, বিরতি নিয়ে ‘শত্রুরা’ আবার নতুন করে প্রস্তুতি নিতে চাইছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেরি বলেন, যুদ্ধ যেন আবার নতুন করে শুরু না হয়, তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে একটি বহুতল ভবনে। এতে ভবনের সামনের রাস্তায় থাকা কয়েকটি গাড়ি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। গতকাল মধ্য ইসরায়েলের রামাত গান এলাকায়
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে একটি বহুতল ভবনে। এতে ভবনের সামনের রাস্তায় থাকা কয়েকটি গাড়ি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। গতকাল মধ্য ইসরায়েলের রামাত গান এলাকায়ছবি: এএফপি

যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ‘যথেষ্ট ভালো নয়’

যুদ্ধে পশ্চিমা মিত্রদের পাশে না পেয়ে এবং নিজ দেশের ভেতর থেকে চাপের কারণে চুক্তির ওপর জোর দিচ্ছিলেন ট্রাম্প নিজেই। তবে গতকাল হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে। আর এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে যথেষ্ট ভালো নয়। পরে ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসেই নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে মাত্র এক রাতেই পুরো ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দিতে পারে। তিনি বলেন, এক রাতেই পুরো দেশটিকে (ইরান) নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব। আর মঙ্গলবার রাতই সেই রাত হতে পারে।

এর আগে ইরানে ভূপাতিত হওয়া মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটদের উদ্ধারকে ট্রাম্প ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের পর কথা বলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সোমবার ইরানে সবচেয়ে বেশি হামলা চালানো হবে। এরপর মঙ্গলবার, অর্থাৎ আজ আরও বেশি হামলা হবে। যদিও এমন হুমকি তিনি আগেও দিয়েছেন।

ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা

এমন হুমকির আগেই গতকাল যুদ্ধের ৩৮তম দিনে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। এদিন ইরানের হামলায় উত্তর ইসরায়েলের হাইফা শহরে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন চারজন। তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলের অন্তত ২৮টি স্থানে হামলা হয়েছে। এদিন লেবানন, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ইরাকের হামলার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল তেহরানের শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে বোমা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের আসালুয়েহ এলাকায় পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায়ও হামলা হয়েছে। তেহরানের বাহারেস্তান এলাকায় হামলায় নিহত হয়েছেন ১৫ জন। এদিন হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) গোয়েন্দাপ্রধান সায়েদ মাজিদ খাদেমিও নিহত হন।

এ নিয়ে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ। এমন সহিংসতার মধ্যে এক ইরানি তরুণ বিবিসিকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছি। আমরা সাধারণ মানুষ কিই-বা আর করতে পারি? ট্রাম্পকে তো থামাতে পারব না।’

রয়টার্স আল–জাজিরা

দেশের শীর্ষস্থানীয় ৯ ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে নিয়ে বেসরকারি খাতবিষয়ক পরামর্শক পরিষদ বা কাউন্সিল গঠন করেছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। আজ শনিবার নবগঠিত এই পরিষদের প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে। বৈঠকে দেশের ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়েছে।

বেসরকারি খাতের ৯ জন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাকে নিয়ে নবগঠিত পরামর্শক পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী। মোট ১১ সদস্যের এই পরিষদের বাকি ৯ সদস্য হলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী এসিআইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরিফ দৌলা, এপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান, প্রাণ–আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, বে গ্রুপের এমডি জিয়াউর রহমান, ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি আব্দুল মুক্তাদির, ডিবিএল গ্রুপের এমডি আব্দুল জব্বার, র‌্যাংগস গ্রুপের এমডি সোহানা রউফ চৌধুরী ও প্যাসিফিক জিনসের এমডি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার অনুষ্ঠিত পরিষদের প্রথম সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে— প্রতি তিন মাস পরপর ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয় নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব সভায় সামগ্রিক ব্যবসার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি খাতভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরবেন পরিষদের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা সদস্যরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এপেক্স ফুটওয়্যারের এমডি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সংযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে এই পরিষদ গঠন ও বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এটি সবে শুরু। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। তিন মাস পরপর পরিষদের বৈঠক হবে। আগামী সময়ে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ীদের মতামতের ভিত্তিতে তাঁদের সমস্যাগুলোও আমরা তুলে ধরব। আজকের বৈঠকে আমরা ব্যবসা–বাণিজ্যের বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি, বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করা গেলে বিনিয়োগ ও ব্যবসা–বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগামীকাল রোববার থেকে অফিস চলবে সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস চলে।

আজ শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নিদের্শেনা দেবেন। আর বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

জরুরি পরিষেবা বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম ইত্যাদিকে বোঝোনা হয়।

ব্যাংকের লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত

ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামীকাল থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি অনুসারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলবে। আর ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বলবৎ থাকবে।

তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং বুথ আগের মতো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

বিপণিবিতান, অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ সন্ধ্যা ছয়টায়

সরকারের সিদ্ধান্ত হলো জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত আটটা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলার দাবি জানান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই দোকান ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।

এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে জুনে আবার স্বাভাবিক সময়ে, অর্থাৎ নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস করা হয়। এখন বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে আবার অফিস সময় এক ঘণ্টা কমল।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে গতকাল শুক্রবার তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামীকাল রোববার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক আজ বলেন, ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়ে। তাদের সবাইকে অনলাইনে ক্লাসের আওতায় আনা অসম্ভব। এর আগে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন বাস্তবে তাঁদের বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসে আনা যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, তারাও মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন। এ জন্য খোলা রেখে কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সেই চিন্তা তাদেরও আছে। তবে সিদ্ধান্তটি আসবে মন্ত্রিপরিষদ থেকে।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিসংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।

জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব ভবন নির্মাণ না হওয়া এবং ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট চালু না থাকায় স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে ভবন নির্মাণ এবং আইসিইউ চালুর দাবিতে রোগীর স্বজন ও সচেতন নাগরিকেরা মানববন্ধন করেছেন। দাবি পূরণে বিলম্ব হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন কর্মসূচি থেকে।

আজ শনিবার দুপুরে জেলা স্বাস্থ্যসেবা ও রোগীকল্যাণ কমিটির উদ্যোগে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, জামালপুর মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত হোসেন ও এনজিও প্রতিনিধি লিটন সরকার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে ৫০০ শয্যার জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব ভবন নির্মাণকাজ এগোচ্ছে না। একই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেলার লাখো মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের বাধ্য হয়ে দূরদূরান্তে ছুটতে হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, অবিলম্বে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু করে দ্রুত চিকিৎসাসেবা চালু করতে হবে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত আইসিইউ ইউনিট দ্রুত চালুর দাবি জানানো হয়। সেই সঙ্গে হাসপাতালকে দুর্নীতি ও দালালমুক্ত রেখে সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন বক্তারা। অন্যথায় দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক ও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।  

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে জামালপুর পৌর শহরের মনিরাজপুরে ৩৫ একর জায়গার ওপর জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এখনও ৫০০ শয্যার হাসপাতালের ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি জামালপুরের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের একটি কক্ষে নতুন আইসিইউর কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছিল; কিন্তু জনবলের অজুহাতে ওই ইউনিট আর চালু করা হয়নি।

চট্টগ্রামের সদরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে রাখা একটি ট্যাংকার থেকে প্রায় ৩৭ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তেল জব্দ করা হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ‘ওটি কোরবান আলী শাহ’ নামের একটি ট্যাংকারে অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছিল এসব ডিজেল। অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তেল জব্দ করা হয়।

নদীতে ট্যাংকারটিতে মজুত করে রাখা হয় ডিজেল
নদীতে ট্যাংকারটিতে মজুত করে রাখা হয় ডিজেল, ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রাফায়েত হামীম জানান, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনদুর্ভোগ কমাতে আজ থেকে অভিযানে নেমেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তারই অংশ হিসেবে ফার্মগেটে এ অভিযান চলছে। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টার পর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড এলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।

স্পেশাল মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট ও তেজগাঁও ডিসির নেতৃত্বে অভিযান চালাচ্ছে একটি দল। 

সরেজমিনে দেখা যায়, অবৈধভাবে দখল করে ফুটপাতে বসা ব্যাবসায়ীদের তুলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে অন্য ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করছে আভিযানিক দল।

এর আগে, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ট্রাফিক আটটি বিভাগের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে এ অভিযান শুরু হয়ে গুলশান বিভাগে গিয়ে শেষ হবে। ঢাকা মহানগরীর সড়কের পাশে বিভিন্ন দোকান পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হবে।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর দখলদারত্বের কারণে সৃষ্ট তীব্র যানজট নিরসনেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে এই ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

সিআইডি আজ সোমবার জানিয়েছে, ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাফরুল থানায় গতকাল রোববার মামলাটি করা হয়েছে।

সিআইডি জানায়, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইভ্যালির মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বিভিন্ন মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে।

সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, আত্মসাৎ করা অর্থ আসামিরা বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সম্পদ অর্জন, বিদেশ ভ্রমণসহ ভোগ-বিলাসে ব্যয় করেছেন। গ্রাহকদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজন জামিনে মুক্ত হন।

এ বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় মোহাম্মদ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে দুই মামলায় সাজা পরোয়ানা থাকায়।

প্রতারণার অভিযোগে করা একটি মামলায় মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

লিবিয়ায় বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে মাদারীপুরের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এক সপ্তাহের বেশি সময় আগে তাঁদের মৃত্যু হলেও পরিবারের কাছে তা গোপন রাখা হয়েছিল। নিহত দুই যুবকের লাশ দ্রুত দেশে আনার দাবি করেছে পরিবারগুলো।

নিহত দুই যুবক হলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার কালাম হাওলাদারের ছেলে ইলিয়াস হাওলাদার (২৫) এবং ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বিনতিলুক এলাকার প্রয়াত সেকেন হাওলাদারের ছেলে ফারুক হাওলাদার (৩৫)। নিহত দুজনের পরিবার গতকাল শনিবার কাছে তাঁদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় প্রায় তিন বছর আগে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে গিয়েছিলেন ইলিয়াস। সেখান থেকে বাংলাদেশি এক দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে গত বছরের আগস্টের শুরুতে কাতার থেকে দালালের সহযোগিতায় লিবিয়ায় পৌঁছান ইলিয়াস। সেখানকার একটি বন্দিশালায় ইলিয়াসকে বন্দী রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছ থেকে কয়েক দফায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন দালাল চক্রের সদস্যরা। ২৩ মার্চ ওই বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান ইলিয়াস। মৃত্যুর চার দিন পরে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ইলিয়াসের মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। এর পর থেকে পরিবারের চলছে মাতম।

গতকাল ইলিয়াসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির বড় ছেলেকে হারিয়ে অনেকটা বাক্‌রুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ইলিয়াসের বাবা কালাম হাওলাদার ও মা রানু বেগম। ইলিয়াসের দুই বছর বয়সী এক ছেলে আছে। বাবা যে আর কখনো ফিরবে না, সেটা বুঝতে পারছে না অবুঝ শিশুটি। ইলিয়াসের স্ত্রী বীথিও কাঁদছিলেন।

লিবিয়াতে দালালের নির্যাতনে ছেলে ইলিয়াসে হাওলাদারের মৃত্যুতে বাক্‌রুদ্ধ বাবা কালাম হাওলাদার। শনিবার দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকায়
লিবিয়াতে দালালের নির্যাতনে ছেলে ইলিয়াসে হাওলাদারের মৃত্যুতে বাক্‌রুদ্ধ বাবা কালাম হাওলাদার। শনিবার দুপুরে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকায়
 

কালাম হাওলাদার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে। দুজনই কাতারে থাকত। ওখানেই ভালো ছিল। বড় ছেলে ইলিয়াস আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজের সিদ্ধান্তে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া যায়। লিবিয়াতে যাওয়ার পরে আমরা জানতে পারি। ছেলের মুখের দিকে চাইয়ে আমি অনেক কষ্ট করে ২০ লাখ টাকা দালাল হাবিব মাস্টারের কাছে দিই। তবুও আমার ছেলেডা মরে গেল।’ তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরে শুক্রবার ঢাকায় দালাল আমাদের নিয়ে বসেছে। তিনি আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে এনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণও দিবে বলেছেন। তবে সেটা কবে দিবে, তা জানায় নাই।’

মা রানু বেগম বলেন, ‘আমার বাপজানের হায়াত নাই। ওরে আল্লায় নিয়া গেল। আমরা কোনো বিচার চাই না, পোলাডার লাশ যেন দেশে ফিরা আহে, সেটাই চাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাবিব মাস্টার ওরফে হাবিবুর রহমান খন্দকারের বাড়ি ডাসার উপজেলার গোপালপুর এলাকায়। তিনি একটি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক, বাংলাদেশে থেকে লিবিয়ার মানব পাচার চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই পেশায় জড়িত থাকলেও পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কালকিনি ও ডাসার উপজেলা থেকে অন্তত তিন শতাধিক যুবককে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠিয়েছেন হাবিব। এখনো লিবিয়ার বন্দিশালায় তাঁর অন্তত শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী আছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান খন্দকারের মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

অন্যদিকে ডাসার উপজেলার বিনতিলুক এলাকার ফারুক হাওলাদার লিবিয়ার বন্দিশালায় দালালের নির্যাতনে মারা গেছেন ১৮ মার্চ। পরিবার ফারুকের মৃত্যুর খবর পেয়েছে ২৫ মার্চ।

ফারুকের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে ফারুক রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। তিনি উন্নত জীবনের আশায় চার মাস আগে স্থানীয় দালাল হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। পরে তাঁকে একটি বন্দিশালায় আটক রেখে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে নেওয়ার কথা থাকলেও নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে দাবি পরিবারের।

লিবিয়াতে দালালের নির্যাতনে ছেলে ফারুক হাওলাদারের মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা মালেকা বেগম। শনিবার বিকেলে ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বিনতিলুক এলাকায়
লিবিয়াতে দালালের নির্যাতনে ছেলে ফারুক হাওলাদারের মৃত্যু কোনোভাবেই মানতে পারছেন না মা মালেকা বেগম। শনিবার বিকেলে ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বিনতিলুক এলাকায়
 

গতকাল বিকেলে ফারুকের বাড়ি বিনতিলুক এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরে ফারুকের পরিবার থাকে। মা মালেকা বেগম, স্ত্রী লাবণী আক্তার ছাড়াও ফারুকের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। ফারুকের এমন মৃত্যুতে তাঁর পরিবারসহ প্রতিবেশীরাও শোকাহত। ফারুকের মা মালেকা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘গেম ঘরে (বন্দিশালা) কী থেকে কী হইছে জানি না। আমার ছেলেডা আর বাঁইচা নাই। ওরে ছাড়া ক্যামনে বাঁচমু? ওর ছোট্ট দুই ছেলেমেয়ে, ওরাও অবুঝ। ওগের কী হবে? কে দ্যাখব?’

ফারুকের শাশুড়ি নাজমা বেগম বলেন, ‘দালাল বলেছে, লাশ এনে দিবে। তারপর তার বিচার চামু। এখন বিচার চাইতে গেলে লাশ দালালে আইনা দিবে না। তাই আমরা আপাতত থানা-পুলিশ কিছু করতেছি না।’

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, লিবিয়ার বন্দিশালায় দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। এ ছাড়া দালালদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।