সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের উদ্যোগে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। আজ শুক্রবার ‘অল্টারনেটিভস’ নামের এই প্ল্যাটফর্মের ১৭ সদস্যের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি (জাতীয় সাংগঠনিক কমিটি) ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা৷

আজ রাত সোয়া নয়টার দিকে অল্টারনেটিভসের ফেসবুক পেজে এই কমিটিসংক্রান্ত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মিনিট পাঁচেক পর মাহফুজ আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই পোস্ট শেয়ার করা হয়।

সাংগঠনিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে পরে ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্যসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অল্টারনেটিভসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের বড় অংশ এনসিপিতে যোগ দেন। শুরুতে এনসিপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও পরে নানা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাহফুজ আলমের সঙ্গে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়। সে কারণে মাহফুজ আর এনসিপিতে যোগ দেননি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেন। আজ সেই প্ল্যাটফর্মের কমিটি ঘোষণা করা হলো।

লক্ষ্য ‘পুনর্গঠন’

অল্টারনেটিভসের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের তরুণদের রাজনীতিতে ইতিবাচক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার করা এবং দায় ও দরদের বাংলাদেশ গড়ার জন্য সারা দেশের ছাত্র-নাগরিকদের পুনর্গঠন করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অল্টারনেটিভস এই কমিটি গঠন করেছে৷

নবগঠিত এই কমিটির সদস্যরা সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজনীতি-সচেতন তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা, জুলাইয়ের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা ও নীরবে থাকা সক্রিয় আন্দোলন কর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে একটি দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনকে সারা দেশে বিস্তৃত করা। এই প্ল্যাটফর্ম আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

এই কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসায় গোপনে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট তৈরি করা হচ্ছিল। কয়েক দিনে তৈরি করা হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট। ঈদের বাজারে এসব নোট ছাড়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এর আগেই অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরির কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া আমতলিয়াপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ মোহাম্মদ ইমরান (২৩) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইমরান যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার লুৎফুর রহমানের ছেলে। পুলিশ বলছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাল নোট তৈরির কাজে জড়িত ছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জাল নোট তৈরি এবং ঈদের বাজারে তা ছাড়ার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, জাল নোট তৈরির পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তার ইমরানকে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানায়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার–টেকনাফ সড়কের রামুর মরিচ্যা তল্লাশিচৌকিতে অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করেন। এ সময় জাল নোট পাচারের অভিযোগে রামুর কাউয়ারকুপ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ হাসান, একই এলাকার মো. কাজল ও এহসানুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের রামু থানায় সোপর্দ করে মামলা করা হয়।

এ ছাড়া একই বছরের ২২ এপ্রিল বিকেলে র‍্যাব–১৫-এর একটি দল চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার জাল নোট ও জাল নোট তৈরির সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন গর্জনতলী এলাকার মো. সুলতান ও পাশের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সবুজছায়াপাড়ার জাফর আলম।

র‍্যাব–১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক (আইন ও গণমাধ্যম) ও সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ কারখানা স্থাপন করে জাল নোট তৈরির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সংঘবদ্ধ একাধিক চক্র এর সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের দায়িত্ব পালনের সুবাদে বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এ বসবাসের স্মৃতি রোমন্থন করে ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন শফিকুল আলম।

শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে করা এক পোস্টে বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এর স্মৃতি রোমান্থন করেন তিনি।

পোস্টে তিনি লেখেন, বিদায়, বেইলি রোড। তুমি আমার জীবনের এক রোমাঞ্চকর যাত্রার সাক্ষী হয়ে আছো। বেইলি রোডের 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট' ভবনের পঞ্চম তলায় থাকতাম আমি। যদিও তখন সেখানে কোনো মন্ত্রীরা থাকতেন না। ওই ভবনে থাকতেন কেবল বিচারপতি ও নির্বাচন কমিশনাররা। চারপাশটা খুবই শান্ত ও স্থির মনে হতো। সেখানে সকালটা শুরু হতো পাখিদের কিচিরমিচিরে। আমার ফ্ল্যাট থেকে কয়েক কদম দূরেই ‘যমুনা’, যেখানে ঘটেছে অসংখ্য নাটকীয় ঘটনা।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর শাহীনবাগের নিজ বাসা ছেড়ে বেইলি রোডে 'মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট'-এ বসবাসের মূল কারণ ছিল যমুনা’র কাছে থাকা। কারণ, যমুনা’য় অবস্থান করতেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসের অধিকাংশ সময় তিনি সেখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। বহুবার এমন হয়েছে- আমাকে রাতের খাবার ফেলে রেখে যমুনায় ছুটে যেতে হয়েছে- সংকট ব্যবস্থাপনা কাছ থেকে দেখার জন্য এবং সেই প্রচেষ্টার কথা মানুষকে জানানোর জন্য।’

স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব লিখেন, ‘আমার বেইলি রোডের ফ্ল্যাট থেকে কয়েক গজ দূরেই ছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমি। সেখানে আমি প্রায় ৩০০টি সংবাদ সম্মেলন করেছি এবং ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপে অংশ নিয়েছি। এই জায়গার শান্ত পরিবেশ অনেক সময়ই ভেঙে গেছে উত্তাল বিক্ষোভে। তখন মনে হয়েছে, যেন আমাদের সবার জন্য এটাই শেষ। তবু কোনো এক রহস্যময় মোড়ে পরিস্থিতি বদলে যেত, আর বেইলি রোড আবার ফিরে পেত তার শান্ত সৌন্দর্য।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘আমার একমাত্র আক্ষেপ যে গত তেরো মাসে আমি রমনা পার্কে যথেষ্ট সময় নিয়ে যেতে পারিনি। এ ছাড়া অন্য মানুষদের মতো রমনায় সকালবেলার হাঁটাহাঁটি করা, কিংবা হাসি-আড্ডায় মেতে থাকা দলগুলোর সঙ্গেও যোগ দিতে পারিনি আমি। তবু আমি আর আমার স্ত্রী প্রায় প্রতিদিনই রাস্তার ধারে সকালে বসা অস্থায়ী বাজার থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতাম। যদিও সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ সেই ছোট ছোট দোকানগুলো সরিয়ে দিয়েছে।

সবশেষে তিনি লেখেন, বিদায়, বেইলি রোড। তুমি উপর থেকে শান্ত ছিলে। কিন্তু ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিলে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান বার্তা সংস্থা এএফপির বাংলাদেশ ব্যুরোপ্রধান শফিকুল আলম। 

 

বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান না থাকলেও জামায়াতে ইসলামীকে এই প্রস্তাব দিয়ে বিএনপি উদারতা দেখিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এই প্রস্তাব জামায়াতেরও উদারভাবে গ্রহণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ শুক্রবার সকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলটির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সালাহউদ্দিন আহমদ এ কথা বলেন। সকাল সাড়ে ১০টায় এই কর্মশালা উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে অন্য এমপিদের সারিতে বসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সঙ্গে ছিলেন তাঁর একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এ অধিবেশন সামনে রেখেই মূলত নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে বিএনপি।

কক্সবাজারের টেকনাফের প্রবালসমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের কাছে বঙ্গোপসাগরে এবার ট্রলারের জালে ধরা পড়েছে ২০৫ কেজি ওজনের (পাঁচ মণ পাঁচ কেজি) একটি বোল মাছ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেকনাফের আড়তে মাছটি বিক্রি হয় ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। প্রতি কেজি মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা।

শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বাজারে বোল মাছটি কেটে বিক্রি করা হবে বলে পৌরসভা এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের শীলেরকুম এলাকায় জাল ফেলেন টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা মো. নাছির ও কায়সার উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ট্রলার। বিকেলে বিভিন্ন মাছের সঙ্গে বিশাল বোল মাছটিও ধরা পড়ে। মাছ নিয়ে ট্রলারের জেলেরা টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজারের আবু মুছার আড়তে নিয়ে আসেন। জেলেরা বোল মাছটির দাম হাঁকান তিন লাখ টাকা। কয়েকজন ব্যবসায়ী মাছটি কিনতে প্রতিযোগিতা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় বোল মাছটি কিনে নেন স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর ও সাইফুল ইসলাম। এ সময় বোল মাছ দেখতে আড়তে ভিড় জমান বিপুলসংখ্যক মানুষ।

ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাফর বলেন, ‘রাতে বোল মাছটি বরফ দিয়ে আড়তের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে টেকনাফ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বাজারে বোল মাছটি কেটে কেজি দরে বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে পৌরসভায় মাইকিং করা হচ্ছে। প্রতি কেজি বোল মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ২৫০ টাকা। বিক্রি করা হবে কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। বড় বোল মাছ প্রতি কেজি দুই হাজার টাকায় বিক্রির রেকর্ড আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বোল মাছের চাহিদা অনেক।’

টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম বলেন, এত বড় বোল মাছ ধরা পড়া আসলে খুশির খবর। বিরল প্রজাতির এই বোল মাছ সব সময় জালে ধরা পড়ে না। সেন্ট মার্টিনের প্রবাল পাথরের স্তূপে এবং আশপাশে পাথর এলাকায় বোল মাছের বিচরণ বেশি থাকে। বোল মাছ ওজনে ৯-১০ মণও হয়ে থাকে। বড় মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু।

সেন্ট মার্টিনের প্রবাল পাথরের স্তূপে এবং আশপাশে পাথর এলাকায় বোল মাছের বিচরণ বেশি থাকে। বোল মাছ ওজনে ৯-১০ মণও হয়ে থাকে। বড় মাছ খেতে খুবই সুস্বাদু।
 

ট্রলারের মালিক কায়সার উদ্দিন বলেন, দুই দিন আগে ১০ জন জেলে তাঁর ট্রলার নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। টেকনাফের উপকূলে মাছ না পেয়ে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সাগরে যান। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানকার শীলেরকুম নাম স্থানে জাল ফেলেন এবং বিকেলে জালে বোল মাছটি ধরা পড়ে। পাঁচ মণের বেশি ওজনের মাছটি পানি থেকে ট্রলারে তুলতে জেলেদের বেগ পেতে হয়। আবার টেকনাফের ঘাটে ট্রলার থেকে রশি দিয়ে মাছটি বেঁধে আড়তে নিয়ে যেতে ১০-১২ জনের সহযোগিতা নিতে হয়। বিশাল বোল মাছ ধরতে পেরে জেলেরা মহাখুশি। আড়তে বোল মাছটি ওজন মেপে পাওয়া গেছে ২০৫ কেজি অর্থাৎ পাঁচ মণ পাঁচ কেজি।

মাছ ব্যবসায়ী সৈয়দ আলম বলেন, এত বড় বোল মাছ তিনি আর দেখেননি। এর আগে এত বড় বোল মাছ টেকনাফ উপকূলে ট্রলারে ধরা পড়েনি। তবে গত বছর ১৬৬ কেজি ওজনের আরেকটি বোল মাছ ধরা পড়ে ছিল টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে।

নারীর প্রতি উগ্রবাদ বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে জানিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচনের প্রসঙ্গ যুক্ত করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাচন ও বিরোধী দলকে জড়িয়ে যেভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, তা ‘দুর্ভাগ্যজনক’ ও ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ কথা বলেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হচ্ছিল। এর মধ্যে নারীর প্রতি উগ্রবাদ ও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রসঙ্গও আসে। উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল—মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির বিষয়গুলো তিনি কীভাবে দেখেছেন? এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকেই উগ্রপন্থীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন—এ কথাও প্রশ্নে উল্লেখ করা হয়।

বক্তব্যের ব্যাখ্যায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আলাপের একপর্যায়ে উপস্থাপক নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুললে তখন তিনি বলেন, বিরোধী দলের যেসব উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব বিষয়ে তাঁরা কাজ করবেন। এরপর তিনি আবার মূল প্রশ্নে ফিরে গিয়ে উগ্রবাদ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন।

তাঁর দাবি, পুরো আলোচনায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ করেননি, কারণ সেটি প্রশ্নের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক ছিল না। বিরোধী দল অবশ্যই মূলধারার অংশ—এ কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আমি কোনো দলকে মেইন স্ট্রিম হতে দিইনি বলে যে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেটা কেবলই অপব্যাখ্যা, অবান্তর এবং বিভ্রান্তিকর। আমার বক্তব্য ছিল উগ্রবাদী শক্তি বিষয়ে, কোনো দলের বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য ছিল না।’

এ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন দলের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘গতকাল আমরা একটা রাজসাক্ষী পেয়েছি। সেই রাজসাক্ষীর নাম হচ্ছে সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা। তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে এটা প্রকাশ করেছেন, যারা —তাঁর ভাষায় —নারীদের উপযুক্ত অধিকারকে নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধী দলে থাকলেও আমরা কিন্তু তাদের মূলধারায় বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি। তখনই বোঝা যায়, যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা এসেছে, সেটাকে উনি নিজেই স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছেন।’

জামায়াতের এই নেতা বলেন, কী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে মেজরিটি পেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটি তাঁরা জানতে চান। তিনি আরও বলেন, ‘এই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উনার সঙ্গে আর কারা জড়িত ছিল? পুরো গভর্নমেন্ট ছিল, নাকি গভর্নমেন্টের একটি অংশ ছিল, যারা নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে এবং তাদের ডিজাইন অনুসারে সেখানে ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি, প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ইত্যাদি নিয়োগ করে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকদের নিয়োগ করে তারা সেই তাদেরই কাঙ্ক্ষিত সংখ্যা, সেই সংখ্যায় একটি দলকে জেতানোর জন্য তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। জাতির কাছে এটা স্পষ্ট করতে হবে।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এই সরকারের কাছে দাবি জানাব, রিজওয়ানা হাসানকে তারা কীভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনবেন এবং আওতায় এনে পরিষ্কার যে সিচুয়েশন তিনি তৈরি করেছিলেন, সে সম্পর্কে ওনারা জানবেন, আমাদের জানাবেন, দেশবাসীর কাছেও এটা পরিষ্কার করবেন।’

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনের সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে এ বছর ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে স্ব স্ব নামের পার্শ্বে উল্লিখিত ক্ষেত্রে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

১. বেগম খালেদা জিয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদান
২. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, মুক্তিযুদ্ধ
৩. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ
৪. অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৫. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চিকিৎসাবিদ্যা
৬. ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সাহিত্য
৭. এ, কে, এম, হানিফ (হানিফ সংকেত), সংস্কৃতি
৮. বশির আহমেদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতি
৯. জোবেরা রহমান (লিনু), ক্রীড়া
১০. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), পল্লী উন্নয়ন
১১. ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা
১২. এস ও এস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সমাজসেবা/ জনসেবা
১৩. মো. সাইদুল হক, সমাজসেবা/ জনসেবা
১৪. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, সমাজসেবা/ জনসেবা
১৫. মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), সমাজসেবা/ জনসেবা
১৬. কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), জনপ্রশাসন
১৭. মোহাম্মদ আবদুল বাকী, পিএইচডি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ
১৮. অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ
১৯. অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ
২০. আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু), পরিবেশ সংরক্ষণ

উল্লেখ্য-স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার বা স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ এই পদক প্রদান করা হয়ে আসছে।

 

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় নিহতের স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান এ মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ রানা জানান, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ১০টার পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে আসমা সাদিয়া রুনার ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। বাদ যোহর কুষ্টিয়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।

নিহত রুনা শহরের কলেজ মোড়ে বসবাস করতেন। তিনি তিন মেয়ে ও এক ছেলেসহ মোট চার সন্তানের জননী।

উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ কক্ষে বসে থাকা অবস্থায় তাকে ছুরিকাঘাত করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

জানা গেছে, ফজলুর রহমানকে সম্প্রতি সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে বদলি করেছিলেন নিহত শিক্ষিকা। বর্তমানে তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা ঢাকা–চট্টগ্রাম–আবুধাবী–ঢাকা রুটে একটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

[caption id="attachment_268856" align="alignnone" width="624"] সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন।[/caption]

তিনি বলেন, বুধবার (৪ মার্চ) প্রথম ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে আবুধাবীর উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। চট্টগ্রাম থেকে রাত ৮টা ২০ মিনিটে ফ্লাইটটি অবহিত হবে। একই ফ্লাইট আবুধাবী থেকে স্থানীয় সময় রাত ১টায় (৫ মার্চ) ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বিশেষ ফ্লাইটটি পরিচালিত হবে ১৮৯ আসনবিশিষ্ট বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের মাধ্যমে। ঢাকা/চট্টগ্রাম–আবুধাবী ফ্লাইট নম্বর: বিএস-৩৪৯ এবং আবুধাবী-ঢাকা ফ্লাইট নম্বর: বিএস-৩৫০।

আবুধাবী এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, ইত্তেহাদসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, জাতীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮ জন ফ্লাইট ক্রু সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন গন্তব্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আটকে আছে। ৪ মার্চ বিএস-৩৪২ ফ্লাইটের মাধ্যমে ইউএস-বাংলা তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে, তাদেরকে অগ্রাধিকারে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।

 

মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। এ সময় অন্তত ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাঁচটি বসতঘর, দুটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় এক ইউপি সদস্যের বসতঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।

বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের নাম–পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার (৩৫), তাঁর মা হাসিয়া বেগম (৬০), একই এলাকার মকবুল হাওলাদার (৬০), নাসির হাওলাদার (৪৫), জাকির হাওলাদার (৪২), ইদ্রিস হাওলাদার (২৫)। আহত ব্যক্তিদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এরপর বুধবার দুপুরে শামচু সরদার মস্তফাপুর এলাকায় গেলে তাঁকে ধাওয়া করে হাওলাদার বংশের লোকজন। এর পরেই শামচু সরদার ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ২০টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। পরে ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাওলাদার বংশের আরও চারটি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এ সময় দুটি মোটরসাইকেল ও দুটি দোকানঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। শামচু সরদারের লোকজনের হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে ইফতারের আগে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন উভয় পক্ষের অন্তত আটজন। খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বর্তমানে ফের সংঘর্ষ এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মিজু হাওলাদার নামে ক্ষতিগ্রস্ত এক দোকানি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কারও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবু আমার দোকানের শাটার কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমার ক্ষতি করে কার কী লাভ হলো জানি না। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শামচু সরদারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর চাচাতো ভাই সোহরাব সরদার বলেন, ‘ছোটরা ধাওয়াধাওয়ি করেছে। সংঘর্ষে আমরা তো কেউ যাইনি। তবু আমাদের টানা হচ্ছে। আর হাবিবের ঘরে আগুন দেওয়া বা ভাঙচুর লুটপাটের বিষয় আমাদের কিছু জানা নেই। এটা তারা নিজেরা করে আমাদের নামে ষড়যন্ত্র করে অভিযোগ দিচ্ছে।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, মস্তফাপুরের দুই পক্ষ দুই মাস আগেও ব্যাপক সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। পরে পুলিশ তাদের আসামি করে মামলা করে। দুই পক্ষের লোকজনই হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে এসেছে। পরে আজ সকালে প্রথমে ছোটদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এক পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্য পক্ষকের বাড়িঘরে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের ১৪টি শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করেননি উল্লেখ করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর তার দুর্নীতির নতুন নতুন খবর ডালাপালা মেলছে উল্লেখ করে এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।

আজ বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেছেন তিনি।

সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হলো:

আসিফ নজরুলের দুর্নীতি?

আসিফ নজরুল আমেরিকায় বাড়ি কিনেছেন। বউ-বাচ্চা সব আমেরিকায় চলে গেছে। সেও শীঘ্রই আমেরিকায় ভেগে যাবে—এরকম একটা গুজব বছরখানেক আগে ইউটিউবে ছাড়া হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষ এটি দেখেন এবং কিছু লোক তা বিশ্বাস করাও শুরু করেন!

এর কিছুদিন পর খালেদ মুহিউদ্দিন-এর একটি অনুষ্ঠানে প্রসঙ্গটি ওঠে। আমি হাসব না কাঁদব বুঝতে পারি না। শুধু বলি, আমেরিকায় বাড়ি কিনলে রেকর্ড থাকে, কেউ তা লুকাতে পারে না। খালেদের অনুষ্ঠানে আমি সকল ইউটিউবার, সাংবাদিক ও গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জ করি—আমেরিকায় আমার বাড়ি থাকলে তার প্রমাণ খুঁজে বের করার জন্য। (আমি এই অনুরোধও করি, এই সংবাদের সত্যতা বের করতে না পারলে যে মিথ্যাবাদীরা এটি ছড়িয়েছে, তাদের কোনো কথা যেন কেউ বিশ্বাস না করে।)

এই চ্যালেঞ্জ জানানোর পর প্রায় আট মাস অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু আমেরিকায় আমার বাড়ি আছে, এমন কোনো ঠিকানা, দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। পারার কথাও নয়। কারণ আমেরিকা কেন, বাংলাদেশের বাইরে বিশ্বের কোনো দেশেই আমার বাড়ি নেই। কোনো রকম সম্পত্তিও নেই।

এই সব খবর আমার সহকর্মীদের অনেকে পাত্তাই দিতে চান না। আমিও চাই না। কিন্তু আমি জানি আমাকে বহু মানুষ ভালোবাসেন, আমার জন্য দোয়া করেন। তাদের একজনও যদি এসব মিথ্যোচারে কষ্ট পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমার কিছু কথা স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন। আমার বক্তব্য এখানে অন-রেকর্ড বলে রাখলাম তার মতো মানুষদের এবং অন্য যে কারো জন্য।

আমার বক্তব্য-১. আমি সরকারে থাকা অবস্থায় বা এর আগে-পরে জীবনে কখনো কোনো দুর্নীতি করিনি। এক টাকা—আবার বলি, এক টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমার জ্ঞাতসারে কাউকে দুর্নীতি করতেও দিইনি। আমি কোনো নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলিনি, আমার কোনো নতুন সম্পদ হয়নি, আয়কর দেওয়ার সময় আমি কোনো সম্পদ অপ্রদর্শিত রাখিনি। আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, করার প্রশ্নই আসে না।

বক্তব্য-২. আমি কোনো স্বজনপ্রীতিও করিনি। সরকারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবার বা আত্মীয়স্বজনকে বিন্দুমাত্র সুবিধা দিইনি বা তাদের কোনো অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিইনি। আমি প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছি, একজন আত্মীয়কেও নিয়োগ দেইনি। আমার আত্মীয়রা কখনো কারও পক্ষে তদবির করার সুযোগও পাননি।

বক্তব্য-৩. আমি কখনো এলাকাপ্রীতি করিনি। উপদেষ্টা থাকাকালে আমার গ্রামের বাড়ি বা ঢাকা শহরে, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, সেখানে একবারও যাইনি। তবে আমি লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি উন্নয়নের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে অল্প কিছু আর্থিক সহযোগিতা নিয়মানুগভাবে পেতে সহযোগিতা করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও ডাকসুর আবেদনক্রমে ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুরোধ করে ঢাবির খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য কিছু অনুদান এনে দিয়েছি। এর বাইরে কারও জন্য অনুদানের অনুরোধও আমি কখনো করিনি।

আমি বহু জঘন্য ও পৈশাচিক মিথ্যাচার সহ্য করে যাচ্ছি। আমাদের মহানবী (সাঃ) থেকে শুরু করে বহু উলামায়ে কেরাম এরচেয়েও অনেক বেশি মিথ্যাচার ও অপবাদের শিকার হয়েছেন। আমি তাদের তুলনায় নিতান্ত নগণ্য মানুষ। কিন্তু চুরি করে বা অন্যের হক মেরে বেঁচে থাকার জন্য আমার জন্ম হয়নি। আল্লাহ আমাকে এভাবে সৃষ্টি করেননি।

যারা আমার বিরুদ্ধে অপবাদ রটাচ্ছেন, তাদের সঙ্গে ঝগড়াঝাঁটি করার রুচি আমার নেই। কিন্তু এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে যে, দিনশেষে আমার কোনো ক্ষতি আপনারা করতে পারবেন না। আমাকে গত বিশ বছরে বহু অপবাদ দেওয়া হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আল্লাহ আছেন, আমার জন্য তিনিই যথেষ্ট।

হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিয়ামাল ওয়াকিল।

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিহত হয়েছেন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে ক্যাম্পাসের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ঈমাম বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।

আরএমও হোসেন ঈমাম বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনার সময় ওই শিক্ষক বেঁচে ছিলেন। তবে ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করামাত্রই তিনি মারা যান। তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আরেকজন পুরুষকে আনা হয়েছে। তাঁর অবস্থাও গুরুতর। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন  বলেন, খুবই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক মারা গেছেন।