বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করতে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী জেনি চ্যাপম্যান। 

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে ঢাকায় অবতরণ করেন তিনি। তার এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা। 

সফরকালে ব্রিটিশ মন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আলোচনায় থাকবে অভিবাসন, মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো।

সেইসাথে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশেষ করে নারী ও কন্যাশিশুদের সমর্থনে কক্সবাজারে যুক্তরাজ্য-সমর্থিত বিভিন্ন কর্মসূচিও পরিদর্শন করবেন তিনি। 

অপরদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নমন্ত্রী। কক্সবাজার সফরের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ সহযোগিতার ওপর একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেয়ার কথা রয়েছে তার। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) নিবন্ধিত ৬ দলের সাথে বৈঠকের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক দলের সাথে ইসির প্রথম দিনের সংলাপ শুরু হয়েছে।

আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ।

দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বসবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।

কয়েক ধাপে হওয়া এ সংলাপে পরবর্তীতে অংশ নেবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ ইসির নিবন্ধিত অন্য দলগুলো। দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় সংলাপে আমন্ত্রণ পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

ইসির বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৩টি। স্থগিত রয়েছে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন। বাতিল রয়েছে ফ্রিডম পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন ও পিডিপির নিবন্ধন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে দিনব্যাপী এই সংলাপে অংশ নিতে দলগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়।

বিএনপির ওপর অসাংবিধানিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যাদের সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা নেই তারাও সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী পল্লী চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। 

আমীর খসরু বলেন, জুলাই সনদ সই করে তারা ভিন্ন কথা বলতে চায়। গণতন্ত্রে তাদের বিশ্বাস রয়েছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ঐক্যমতের বাইরে গিয়ে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবেন না।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে বিএনপি। প্রতিটি পরিবার বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পাবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের ওপর দোষ চাপায় ভারত। দিল্লিতে বোমা হামলার বিষয়ে বাংলাদেশকে জড়িয়ে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অমূলক। এটা কেউ বিশ্বাস করবে না।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, চীন থেকে অস্ত্র কেনা বিষয়ে আমরা কারও দিকে ঝুঁকিনি। আমরা ব্যালেন্সড রিলেশনশিপ মেনে চলি। সবাই সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ বজায় রাখছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনার মামলায় রায়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায়ের বিষয়ে যে কেউই জাতিসংঘে আপিল করতে পারে। এ নিয়ে জাতিসংঘ কিছু বললে ঢাকা পদক্ষেপ নেবে। 

প্রসঙ্গত, ভারতের দিল্লিতে লাল কেল্লার সামনে গাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। কিছু ভারতীয় গণমাধ্যম এই হামলার সাথে বাংলাদেশকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করেছে।

ভারতে বসে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি দেয়া পাগলের প্রলাপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ছাত্রদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো গণতন্ত্রের পুনর্বাসন চায় না। দলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্র রক্ষার জন্য কোনো কাজ করেনি। এ সময় নির্বাচন কমিশনকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, গণভোটের মধ্য দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন হয়ে যাবে না। তবে মানুষের চাওয়া রক্ষায় এতে সায় দিয়েছে বিএনপি। এ সময় রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঘি দিয়ে তৈলাক্ত বক্তব্য সমীচীন নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ 'পিএনএস সাইফ'। শনিবার (৮ নভেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছালে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডারের পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান।

এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে। জাহাজটিকে স্বাগত জানাতে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা স্বাধীনতা তাদের অভ্যর্থনা জানায়।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে জাহাজটির অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কামান্ডার বিএন ফ্লিট, এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট ডকইয়ার্ডের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে অবস্থানকালীন জাহাজের অফিসার, নাবিক ও প্রশিক্ষণার্থীগণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান, নৌবাহিনী জাহাজ ও ঘাঁটি পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও,  বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকগণও পাকিস্তানের জাহাজটি পরিদর্শন করবেন। 

পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজের বাংলাদেশ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজটি আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ত্যাগ করবে।

দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি আদায়ে আগামীকাল রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকরা। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে এই ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে, শনিবার বিকেলে শাহবাগে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গেনেড ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন।

এরপর শিক্ষকরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে জড়ো হন। পরে সেখান থেকেই সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষকদের অভিযোগ, বিনা উস্কানিতে পুলিশ তাদের ওপর হামলা করেছে। এতে জড়িত পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে বিচার করার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

ভিন্নমতের বা নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোই একটি সভ্য গণতান্ত্রিক পথ বলে মনে করে বিএনপি। দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করা কোনো সরকারের কাজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোট আয়োজিত এক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমরা ভিন্ন ধর্ম বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করলেও সবাই একটাই পরিচয় বাংলাদেশি। শুধুমাত্র আইনের শাসনই প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির গুপ্ত বাহিনী যাতে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার সুযোগ না পায়। এজন্য রাজপথে সকলকে সঙ্গে নিয়ে সচেষ্ট থাকবো আমরা। এ সময় ক্ষমতায় গেলে ৫০ লক্ষ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং কৃষকদের জন্য বিশেষ ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অতীত ভুলে গিয়ে অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল দেশ গড়তে চায় বিএনপি। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনসহ বেশকিছু দাবি বাস্তবায়নের জন্য আগামী নির্বাচনে দলটির পাশে থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

রাজনৈতিক ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের বহু বিষয়ে আমূল সংস্কার আনেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের অগ্রগতির টার্নিং পয়েন্ট এই ৭ নভেম্বর— এমনটাই জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে' সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলার জন্য বিভিন্ন রকম চক্রান্ত চলছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই এ দিবসের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হবে।

এসময়, বিপ্লব ও সংহতি দিবসে গণতন্ত্রকে সংহত রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

অবশেষে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দিতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় জুলাই যমুনায় সরকারের কাছে  সুপারিশ জমা দেবে কমিশন।

এর আগে সোমবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয় কমিশনের সমাপনী বৈঠক। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ সহ ৬ সদস্য ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।  অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নেও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিশন সদস্যরা।  

এসময়, কমিশন গঠনের পর থেকে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদান পর্যন্ত সমস্ত ডকুমেন্ট, আলোচনার ভিডিও, অডিও, ছবি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। 

গত ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এতে বিএনপি-জামায়াতসহ প্রথম ধাপে ২৪টি রাজনৈতিকদল ও জোট এতে স্বাক্ষর করেন। এর ২ দিন পরে জাতীয় জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে গণফোরাম। 

তবে এখনও সই করেনি এনসিপিসহ কয়েকটি বাম দল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রথম বৈঠক বসে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামীকাল তালিকা প্রকাশ করা হবে। কয়টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে সে তালিকাও চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা নেই।

রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে নির্বাচন কমিশন ভবনে কমনওয়েলথের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

ইসি সচিব জানান, চলতি সপ্তাহের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন চূড়ান্ত করবে কমিশন। রোডম্যাপনুযায়ী কমিশনের সবকিছু শতভাগ করা সম্ভব নয়, সবমিলিয়ে সমন্বয় করে কাজ করছে ইসি।

তিনি আরও বলেন, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করতে গেলে প্রতীক ব্যবহারের বিষয়ে এবং বিএনপির আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে কমিশন।

 

এ সময় ইসি সচিব আরও জানান, তরুণ ভোটার, আরপিও, স্টেকহোল্ডারদের সাথে ধারাবাহিক সংলাপ, সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিষয়, নিরাপত্তা, প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানো এবং নির্বাচনী সহায়তার বিষয়ে কথা হয়েছে বৈঠকে।

জুলাই শহীদ পরিবারের সাথে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের এলডি হলে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে শহীদ পরিবারের সদস্যরা কমিশনকে জানান, যেসব আদর্শ ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তাদের সন্তানরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা আজও পূরণ হয়নি। বরং বিভিন্ন দফতরে তারা নানাভাবে লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। 

তারা জানান, নানা সময়ে নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করলেও অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

শহিদ পরিবারবর্গ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের একটি আইনি ভিত্তি থাকা প্রয়োজন, একইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জরুরি। এ বিষয়ে উপস্থিত সকল শহিদ পরিবারের সদস্যরা একমত পোষণ করেন।

কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা অবগত যে জুলাই ফাউন্ডেশন এই বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তবে শহীদ পরিবারবর্গ যে প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন—তা তাদের জানা ছিল না। কমিশন আশ্বস্ত করে যে, উত্থাপিত সব বিষয় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে।

শহীদ পরিবারগুলো যখন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কমিশন এ ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেয়।

বৈঠকে জুলাই শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের হয়ে উপস্থিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (শহীদ ফারহান ফাইয়াজ এর পিতা), মীর মোস্তাফিজুর রহমান (শহীদ মুগ্ধ র পিতা),  মো. মহিউদ্দীন (শহীদ ইয়ামিন এর পিতা), কবির হোসেন (শহীদ জাবির ইব্রাহিম এর পিতা), মোহাম্মদ আবদুল মতিন (শহীদ শাহরিয়ার এর পিতা),মো. গোলাম রাজ্জাক (শহীদ রিয়ান এর পিতা), মো. গাউছ উল্লাহ (শহীদ আব্দুল্লাহ এর ভাই), সাইফ আহমেদ খান (শহীদ আব্দুল হান্নান এর ছেলে), মো. ওবায়দুল হক,  সৈয়দ গাজীউর রহমান (শহীদ মোন্তাসির এর পিতা)। 

আর কমিশনের পক্ষ থেকে ছিলেন, সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ-সহ সদস্য  ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং জাতীয় ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।