চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে দ্রুতগতির এক মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। মুখোমুখি এ সংঘর্ষে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে বাসটি। আর ছিটকে সড়কের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা খেয়েছে মোটরসাইকেলটি। তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন এ ঘটনায়। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। 

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে খাগড়াছড়ি-ফটিকছড়ি সড়কের পাইন্দং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যাত্রীবাহী বাসটি খাগড়াছড়ি থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ফটিকছড়ির পাইন্দং এলাকায় ফেলাগাজি নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে ধাবমান একটি দ্রুত গতির মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এসময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশে জমিতে পড়ে যায়। মোটরসাইকেলটি গিয়ে সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায়।

হতাহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয় জনতা। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা মোটরবাইক যাত্রী।

পরে ফটিকছড়ি থেকে গুরতর আহত বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

 

ভারতে গ্রেপ্তার ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ফিরিয়ে আনতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে টেকনাফ স্থল বন্দর চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সব অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অহংকার হচ্ছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। এটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আগের মতো ঘোষণা দিয়ে প্রকাশ্যে মাদকের তালিকা হবে না। পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই তালিকা হবে। মাদক ও মানবপাচার রোধে উখিয়া-টেকনাফে রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি বাড়ানো হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের তত্ত্বাবধানে কক্সবাজার শহরের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, ট্রাফিক সিস্টেম উন্নয়নের জন্য জনবল নিয়োগ এবং টমটমের (ইজিবাইক) লাইসেন্স আর না বাড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সড়ক পথে নিজ এলাকা পেকুয়া উপজেলা থেকে বেলা ১২টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার, র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক, বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি, সিভিল সার্জন, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদ সৃজনের প্রস্তাব নিয়ে সভা ডেকেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবার ১০ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রোববার (৮ মার্চ ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সভাসংক্রান্ত একটি নোটিশ জারি করেছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, পুলিশ অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামোভুক্ত বিভিন্ন ইউনিটে চার হাজার এসআই (গ্রেড-১০) (নিরস্ত্র) পদ সৃজনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে। সকাল ১০টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে (ভবন নম্বর-৮, কক্ষ নম্বর-২০৮, তৃতীয় তলা) এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশের সব পর্যায়ে জনবলসংকট নিরসনে নিয়োগের বিষয়টি সামনে আনেন। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কনস্টেবলের শূন্য পদ জরুরি ভিত্তিতে পূরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদেও দ্রুত নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে কনস্টেবল ও পুলিশ সার্জেন্টের শূন্য পদেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এ দুটি পদে আবেদন শুরু হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে ভারতের কলকাতায় গ্রেফতার দুই বাংলাদেশিকে ফেরত চাইতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে দেশটির কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে কলকাতা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করেছে বলে গতকাল আমরা জানতে পেরেছি এবং তাদেরকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে তিনি আরও বলেন, 'কলকাতার উপ-কমিশনার ইতোমধ্যে যোগাযোগ করেছে। আমরা ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছি। কারণ, আমাদের কাছে যে তথ্য আছে, তা এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। কনস্যুলার অ্যাকসেস পাওয়া মাত্রই আমরা সামনের দিকে এগোতে পারবো। ভারতের সাথে আমাদের বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। যদি আসামিরা শনাক্ত হয়, তাহলে আমরা ভারত সরকারের সাথে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে বন্দিদেরকে ফেরত আনার ব্যবস্থা করবো।'

এই কনস্যুলার অ্যাকসেস পেলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বন্দিদের পরিচয় যাচাই করার পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন বলে জানান শামা ওবায়েদ। তারপরই বন্দি প্রত‍্যার্পন চুক্তির আওতায় গ্রেফতারকৃতদের ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড ধরে রিকশা করে যাওয়ার সময় গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গত শনিবার দিবাগত রাতে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতারের কথা গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পরিবীক্ষণ শাখা থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে (ডিসি) এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাহিদা আক্তার তানিয়ার সই করা পত্রে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যেন তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে মূলত তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তোলা বন্ধ করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি প্রতিহত করা এবং খোলা বাজারে তেল বিক্রি ও পাচার রোধে কড়া নজরদারির মাধ্যমে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে গত ৮ মার্চ একটি সূত্রের মাধ্যমে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই জনস্বার্থে এবং তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মাঠ প্রশাসনকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশের পর সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের তদারকিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বাজার মনিটরিং এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু করবেন। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই কার্যক্রম দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

 

সরকারের পাঁচজন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার নাম সংশোধন করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) নাম সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ওইদিনই ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে দলটি। নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী ‘আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী’র নাম পরিবর্তন করে করা হয়েছে ‘আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী’; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ‘আব্দুল আউয়াল মিন্টু’র নাম করা হয়েছে ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু’; ধর্মমন্ত্রী ‘কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ’ এর নাম ‘কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)’ করা হয়েছে।

কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ’ এর নাম ‘মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ’; পানিসম্পদ মন্ত্রী ‘মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি’র নাম সংশোধন করে ‘মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি’ করা হয়েছে।

এছাড়া, প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিযুক্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম’ এর নাম সংশোধন করে করা হয়েছে ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম’।

এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এর নাম সংশোধন করে ‘হাফিজ উদ্দিন আহমদ’ করার আবেদন করেছেন। এরইমধ্যে এ সংক্রান্ত আবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

 

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে দুবাইতে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি আহমেদ আলীর মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) আমিরাত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে আলীর মরদেহ বহনকারী বিমানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

এসময় নিহতের স্বজনরা ছাড়াও সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশের নাগরিকদের গুরুত্ব সরকারের কাছে সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আলী আহমেদের পরিবারের পাশে থাকবে সরকার। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আরও ১৪ জন আহত হয়েছে; যাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মধ্যপ্রাচ্যের ঝুকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলতে প্রবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।

এয়ারপোর্টের সার্বিক কার্যক্রম শেষে অভ্যন্তরীণ বিমানযোগে মরদেহ নেয়া হয় সিলেটের মৌলভীবাজারে। স্বজনরা জানান, আহমেদ আলী দীর্ঘদিন ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে বসবাস করতেন। ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গেলো ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি নিহত হন। গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানেই সমাহিত করা হবে তাকে।

 

 

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে যারা নিজেদের একক সম্পত্তি হিসেবে দাবি করছে, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার (০৯ মার্চ) বেলা ১১টার সময় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

আইজিপি আরও বলেন, আমরাও রাজপথে ছিলাম। জুলাই বিপ্লব কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীকে অচিরেই দেশে আনা হবে। 

আইজিপি বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দল-মতনির্বিশেষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলীয় কোনো বিবেচনার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্লক রেট দিয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ মাদক ব্যবসায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চলমান আছে।

চাঞ্চল্যকর কোনো ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গণধর্ষণ, ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সহিংসতার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। আমরা সিআইডিকে আরও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে মামলা তদন্তের গুণগত মান বাড়াতে চাই। মামলার তদন্তকার দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, আমরা এমনভাবে জনগণকে সেবা দিতে চাই, যাতে থানায় আগত মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরে যেতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের কমপ্লেইন না থাকে। পুলিশের রিঅ্যাকশন টাইম ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে।

আইজিপি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা। সে লক্ষ্যে দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে আমাদের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।

 

পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ান, রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী ও পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ট্রেনিং রিজার্ভ-টিআর পদে) মো. মাসুদুর রহমান ভূঞাকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে থাকা পুলিশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ও একই মন্ত্রণালয়ের ওএসডি থাকা মোহা. আবদুল আলীম মাহমুদকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো। সরকারি চাকরি আইন (২০১৮ সালের ৫৭ নম্বর আইন)–এর ধারার বিধান অনুযায়ী, জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরি থেকে অবসর প্রদান করা হলো।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, আবু হাসান মুহম্মদ তারিক ১২তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। বাকি চারজন ১৫তম বিসিএস ক্যাডারের (পুলিশ)। গত বছরের ২৭ জুলাই ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর অতিরিক্ত আইজিপি আবু হাসান মুহাম্মদ তারিককে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে সরকার। পুলিশের ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা আবু হাসান মুহম্মদ তারিক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ১৭ জানুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পান। ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ হন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত আইজিপি আলীম মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করে সরকার।

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তখন কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে রোববার রাতে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খানের জানাজা আজ সোমবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। সেখানে ধানুয়া গ্রামে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসরে যান। এরপর তিনি সেখানে পাঁচ বছর সংখ্যাতিরিক্ত (সুপার নিউমারারি) অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি বিভাগটির ‘অনারারি প্রফেসর’ ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন উপদেষ্টা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশায় আসার আগে প্রায় এক দশক তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করেছেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

অধ্যাপক সাখাওয়াত আলী খান ১৫টি দেশের বিভিন্ন সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি জার্নালে তাঁর ৩০টিরও বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর গবেষণার প্রিয় বিষয় ছিল ‘সাংবাদিকতা ও রাজনীতির মিথস্ক্রিয়া’। তিনি বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করেছেন।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাবের এই যৌথ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশগ্রহণ করছেন।

গত জানুয়ারি মাসে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় তখন আর অভিযান চালানো হয়নি।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল আজ সকালে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে তারা অভিযানে কৌশল অবলম্বন করছে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ২০০ জনকে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে তাঁদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় আটক এক আসামিকে। চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা, দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি।

এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

র‍্যাবের ওপর হামলার আগে জঙ্গল সলিমপুরে গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রোববার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য ছিল যে, বাংলাদেশে চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডসহ গুরুতর অপরাধ করার পর দুই বাংলাদেশি নাগরিক তাদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। সুযোগ পেলে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

ব্যাটারিচালিত রিকশায় বসা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে
ব্যাটারিচালিত রিকশায় বসা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি। ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কেছবি: সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে নেওয়া

এসটিএফ জানায়, এই তথ্যের ভিত্তিতে ৭-৮ মার্চ মধ্যবর্তী রাতে (শনিবার রাতে) অভিযান চালিয়ে বনগাঁ এলাকা থেকে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়। তারা হলেন-পটুয়াখালীর রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭) এবং ঢাকার আলমগীর হোসেন (৩৪)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান। তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।

স্পেশাল টাস্ক ফোর্স জানায়, এ বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে। আজ সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি বেশ কিছু দিন ধরে গণসংযোগ করে আসছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে যুক্ত বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য মতে, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতির কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করেছিলেন ফয়সাল করিম। তাঁকে সহযোগিতা করেন আলমগীর হোসেন। ফয়সাল করিম ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। এই হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলামও ভারতে পালিয়ে যান বলে তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা।