বাংলাদেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০ বছর পর পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। এই নিয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। মঙ্গলবার বিকেলে নবগঠিত এই সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ৫০ সদস্য বিশিষ্ট এই বিশাল মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর এটি তারেক রহমানের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য। বিএনপি এর আগে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। দীর্ঘ দুই দশক পর দলটি পুনরায় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।