মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ভাষা ও সাংস্কৃতিক চেতনায় মুখর হয়। অনুষ্ঠানের এক অংশে আদিবাসী ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে এক বর্ণিল মিছিল প্রবেশ করে। মিছিলে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো ও তনচঙ্গ্যা ভাষার স্বতন্ত্র বর্ণমালা প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আদিবাসী ছাত্রছাত্রীকে প্রবেশ করতে দেখা যায়, যা তাঁদের ইতিহাস, পরিচয় ও সাংস্কৃতিক গর্বের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।
মিছিলটি শহীদ মিনারে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে আদিবাসী ছাত্রসংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
মিছিলে আগত দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী রূপক চাকমা বলেন, ‘ভাষা বাঁচলে জাতি বাঁচে। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের শেখায় ভাষার অধিকার মানে অস্তিত্বের অধিকার। তাই বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি সব আদিবাসী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষার বর্ণমালাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত। প্রতিটি অক্ষর আমাদের ইতিহাস, পরিচয় ও ভবিষ্যতের ধারক।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া চিরান যোগ করেন, ‘আমার ভাষা আমার অহংকার। একুশ শুধু বাংলা ভাষার জন্য নয়; বরং বিশ্বের সব মাতৃভাষার সম্মান ও অধিকার রক্ষার প্রতীক। আমি একজন গারো আদিবাসী, আমার নিজস্ব মাতৃভাষা—আচিক ভাষা রয়েছে। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বর্ণ আমার গর্ব। মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাই একুশের প্রকৃত শ্রদ্ধা।’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে এদিনের আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের মিছিল, পুষ্পস্তবক অর্পণ। আদিবাসী বর্ণমালা সহযোগে এই মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে একুশের চেতনাকে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বজনীন রূপ দান করেছিল।