বানিজ্য

  • Colors: Orange Color

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে হরমুজ প্রণালিতে অচল অবস্থা বিরাজ করায় তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। তবে, এমন পরিস্থিতিতেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভালোভাবেই সচল আছে বাংলাদেশে। একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। শুধু গত ২৫ দিনেই ভিড়েছে জ্বালানি তেল ভর্তি ৩০টি জাহাজ। 

শুধু তাই নয়, আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে এই বন্দরে ভিড়বে আরও ছয়টি জাহাজ; যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে ২৭টি জাহাজ ইতোমধ্যে জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। বর্তমানে দুটি থেকে খালাস কার্যক্রম চলছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি আসছে।

এদিকে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ এবং বিশেষ অনুমোদিত দেশের জন্য এই জলপথ খোলা থাকবে। ইরানের এই বন্ধুতালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

বন্দর সূত্রে জানিয়েছে, ৩ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত আসা জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টিতে এলএনজি এসেছে। এর মধ্যে পাঁচটি এসেছে কাতার থেকে এবং একটি এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। এলপিজি নিয়ে এসেছে আটটি। এর মধ্যে তিনটি এসেছে মালয়েশিয়া, দুটি ওমান, দুটি এসেছে ভারত থেকে এবং একটি এসেছে সিঙ্গাপুর থেকে। বাকি ১৬টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটিতে গ্যাস অয়েল আনা হয়েছে। যার মধ্যে দুটি সিঙ্গাপুর, দুটি মালয়েশিয়া এবং একটি ভারত থেকে এসেছে। আরও চারটি জাহাজে হাই সালফার ফুয়েল এসেছে, যার সবগুলোই সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা হয়েছে।

অবশ্য, পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ক্রুড অয়েল আমদানি নিয়ে। দেশে প্রতি মাসে গড়ে ১ থেকে দেড় লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়, যা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কিন্তু, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্চ মাসে নির্ধারিত দুটি জাহাজের একটিও এখনও বন্দরে পৌঁছায়নি। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি জাহাজে করে ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়েছিল। এরপর আর কোনও চালান দেশে আসেনি।

তবে, বাংলাদেশ অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল নয়। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর মধ্যে ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আর বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

 

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে এই শিল্পের প্রয়োজনীয় উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

বিষয়টি হলো, উপসাগরীয় এলাকায় একাধিক দেশের ডেটা অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম অনেকটাই বিনষ্ট করে দিয়েছে তেহরান। ডেটা সেন্টারের প্রাত্যহিক কাজে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

এক দিকে তেলের দাম বাড়তি, অপর দিকে তার জোগানও কম—এই দুই চাপে বড় ধরনের কাটছাঁট করতে হচ্ছে এআই–শিল্পকে। ডেটা সেন্টার চালানোর ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় কিছু সেন্টার হয় বন্ধ করে দিতে হয়েছে, না হয় এসব কেন্দ্রের কাজকর্মের রাশ টানতে হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর চিপের জন্য অতি প্রয়োজনীয় হিলিয়াম–অ্যালুমিনিয়াম, ব্রোমিনসহ একাধিক কাঁচামালের সরবরাহ সংকট। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো বিশ্বজুড়ে এর অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারী। কিন্তু গত এক মাসে হরমুজ প্রণালি একরকম বন্ধ থাকায় সরবরাহব্যবস্থা যেভাবে ধাক্কা খেয়েছে, তাতে আগামী বেশ কয়েক মাস এআই চিপ তৈরির পরিকল্পনা নতুন করে করতে হচ্ছে।

হিলিয়ামের ব্যবহার ও উৎপাদন

চিপ উৎপাদনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপে, যেমন শীতলীকরণ, ছিদ্র শনাক্তকরণ ও উৎপাদনের প্রক্রিয়া নিখুঁত করতে হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুরুর পর থেকে এই গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াকরণের সময় উপজাত হিসেবে হিলিয়াম উৎপাদিত হয়। এর উৎপাদন ভৌগোলিকভাবে খুবই সীমিত কয়েকটি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় এক–তৃতীয়াংশই কাতার থেকে আসে।

সরবরাহব্যবস্থা–বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টিডাল ওয়েভ সলিউশনসের জ্যেষ্ঠ অংশীদার ক্যামেরন জনসন রয়টার্সকে বলেন, ‘হিলিয়ামের ঘাটতি নিঃসন্দেহে বড় উদ্বেগের বিষয়।’ চীনের সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত শিল্প খাতের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক আয়োজন ‘সেমিকন চায়না’ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ক্যামেরন আরও বলেন, আপাতত উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য উৎপাদনের দিকে মনোযোগ দেওয়া ছাড়া কোম্পানিগুলোর উপায় নেই। অনেকেই আশা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

জনসনের ভাষ্য, দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি দেখা দিলে তাঁর শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হতে পারে। ইলেকট্রনিকস থেকে শুরু করে অটোমোবাইল—বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারে।

সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর উপাদান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ভিএটির চীন শাখার বিক্রয়প্রধান জেরি ঝ্যাং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হিলিয়ামের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য কোম্পানির উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। তিনি জানান, পরিবহন বিলম্বে পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।

জেরি আরও বলেন, বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সরবরাহ আনার উদ্যোগ রয়েছে।

সংবাদে বলা হয়েছে, এই বিঘ্ন কেবল হিলিয়ামেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং অঞ্চলভিত্তিক বিস্তৃত সরবরাহের শৃঙ্খলে তা ছড়িয়ে পড়ছে। মাইক্রোনিকের এমআরএসআই ইউনিটের ঝৌ লিমিন জানান, ইসরায়েল থেকে সংগ্রহ করা কিছু কাঁচামাল সরবরাহে বিলম্ব দেখা দিয়েছে। ফলে সরবরাহের সময় বাড়ছে। শেষমেশ তার প্রভাব পড়ছে গ্রাহকদের ওপর।

ঝৌ বলেন, স্বল্প মেয়াদে যে এআই খাতে প্রভাব পড়েছে, তা পরিষ্কার। এদিকে ফরাসি শিল্প গ্যাস কোম্পানি এয়ার লিকুইডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গত বুধবার স্বল্প মেয়াদে হিলিয়ামের ঘাটতির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন।

কোন খাতে হিলিয়ামের কত ব্যবহার

হিলিয়ামের খাতভিত্তিক ব্যবহার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ২২ শতাংশ ব্যয় হয় বিশ্লেষণাত্মক, প্রকৌশল, গবেষণাগার ও বৈজ্ঞানিক কাজে। অর্থাৎ এটি কেবল সাধারণ গ্যাস নয়; বরং আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তির জ্বালানি।

এরপরেই রয়েছে ফাইবার অপটিকস ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, যেখানে ব্যবহৃত হয় ১৭ শতাংশ। আরও ১৭ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গ্যাস উত্তোলনের কাজে। স্বাস্থ্য খাতেও হিলিয়ামের গুরুত্ব কম নয়। এমআরআই স্ক্যান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয় মোট সরবরাহের ১৫ শতাংশ। এরপর মহাকাশ খাত। এই খাতে ব্যবহৃত হয় মোট হিলিয়ামের ৯ শতাংশ, বিশেষ করে রকেট প্রযুক্তিতে।

শিল্পকারখানায়ও এর ব্যবহার আছে, যদিও তুলনামূলকভাবে কম। ওয়েল্ডিংয়ে ব্যবহৃত হয় ৮ শতাংশ হিলিয়াম, ডাইভিং ও ছিদ্র শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হয় ৫ শতাংশ করে। বাকি ২ শতাংশ ব্যবহৃত হয় অন্যান্য খাতে।

চট্টগ্রাম

শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সংস্কারের দাবিতে শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (টাফ)। আজ শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে জাতীয় সংসদ ও সরকারের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

টাফের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশরাফ, টাফের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান, হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া, রিকশা-ভ্যানচালক শ্রমিক সংহতির বেলাল হোসাইন, নারী সংহতির অপরাজিতা দেব, আউটসোর্সিং শ্রমিক কর্মচারী পরিষদের নুরুল হকসহ আরও অনেকে। সভা পরিচালনা করেন টাফের নেতা অঞ্জন দাস।

বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম অধ্যাদেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেশের বৃহৎ শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর জীবনমান, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের আলোচনার ভিত্তিতে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়।

তাঁরা বলেন, অধ্যাদেশটি এখন সংসদে আইনে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এটি পাস না হলে বাতিল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঈদের পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই দ্রুত এটি আইন হিসেবে পাস করার দাবি জানান বক্তারা।

নেতারা জানান, সংশোধিত অধ্যাদেশে মোট ১২৫টি ধারা পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করা, গৃহশ্রমিকদের স্বীকৃতি, মাতৃত্বকালীন ও উৎসব ছুটি বৃদ্ধি, তিন বছর পরপর ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নীতিমালা প্রণয়নের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তাঁদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি শিল্প খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক পরিবেশে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং শ্রম খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি কমবে। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, কোনো অজুহাতে এই অধ্যাদেশ আইনে রূপ নিতে ব্যর্থ হলে তা হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তাসলিমা আখতার বলেন, ‘শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সুরক্ষায় শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি। তাই সরকারে কাছে এটা আইনে পরিণত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।’

 

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধের মধ্যে তেহরান এটিকে কূটনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায়, এ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির আশপাশে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে। সংকীর্ণ এই নৌপথটির উত্তরে ইরান এবং দক্ষিণে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান।

বৃহস্পতিবার ইরানি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ তেল পরিবহন পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে টোল আদায়ের জন্য আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে ইরানের কাছে দেনদরবার করছে। কারণ, উপসাগরীয় বেশির ভাগ দেশ থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এটাই একমাত্র সমুদ্রপথ। যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরান পাঁচটি দাবির একটি হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছে।

ইরানি পার্লামেন্টের সিভিল অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফারস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এ–সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির আইনি দল এটি চূড়ান্ত করবে।

এক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরানকে ফি আদায় করতে হবে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি একেবারেই স্বাভাবিক। অন্য করিডরগুলোর ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো দেশের মধ্য দিয়ে পণ্য গেলে শুল্ক দিতে হয়। হরমুজ প্রণালিও একটি করিডর। আমরা এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। তাই জাহাজ ও ট্যাঙ্কারগুলো আমাদের শুল্ক দেবে—এটাই স্বাভাবিক।’

তবে অভ্যন্তরীণ এ আইনি কাঠামোটি এখনো চূড়ান্ত না হলেও, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করেছে। গত বুধবার জাহাজ চলাচল বিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট এমন খবর প্রকাশ করেছে।

তাহলে ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা কী? এটি কীভাবে কাজ করে? এটি কি বৈধ?

হরমুজ প্রণালির ম্যাপের ইলাস্ট্রেশন
হরমুজ প্রণালির ম্যাপের ইলাস্ট্রেশন, ছবি: রয়টার্স

ইরান কেন টোল আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে

ইরানের জলসীমা হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর দেশটির উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো জ্বালানি বিতরণ সীমিত করতে ও শিল্প উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে ইরানের কাছে দেনদরবার করছে। কারণ, উপসাগরীয় বেশির ভাগ দেশ থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য এটাই একমাত্র সমুদ্রপথ। যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরান পাঁচটি দাবির একটি হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের কর্তৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চেয়েছে।

ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইনসংক্রান্ত সনদে স্বাক্ষরকারী হলেও দেশটির পার্লামেন্টে এটি অনুমোদন করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে ইরান যুক্তি দেখাতে পারে যে তারা এই আন্তর্জাতিক বিধির আওতায় বাধ্য নয়
অপূর্ব মেহতা, ভারতের আইনি পরামর্শক সংস্থা এএনবি লিগ্যালের অংশীদার

ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য আলায়েদ্দিন বোরৌজারদি গত রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পার্সি ভাষার স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পেরোতে কিছু কিছু জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিচ্ছে ইরান।

বোরৌজারদি বলেন, ‘এখন যেহেতু যুদ্ধের একটা খরচ আছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই আমাদের এটা করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ট্রানজিট ফি নিতে হবে।’

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে কত জাহাজ অপেক্ষায় আছে

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিশেষায়িত সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ আল–জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য প্রায় ২ হাজার জাহাজ অপেক্ষা করছে। জাহাজগুলো প্রণালির উভয় পাশে অবস্থান করছে।

১৫ মার্চ থেকে গত রোববার পর্যন্ত এক সপ্তাহে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) চালু থাকা মাত্র ১৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানকারী সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড আলাদা করে নিশ্চিত করেছে, গত ১৩ মার্চ রাতে ও তার পরদিন ভোরে চারটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে একটি পাকিস্তানি জাহাজও ছিল।

এ ছাড়া এআইএস ব্যবস্থা বন্ধ রাখা অবস্থায় প্রণালিতে অবস্থানকারী আটটি জাহাজ (ডার্ক শিপ) শনাক্ত করতে পেরেছে উইন্ডওয়ার্ড।

ডার্ক শিপগুলোর (এআইএস বন্ধ রাখা জাহাজ) মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি জাহাজও রয়েছে। ১৬ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরের কাছে জাহাজটিকে দেখা গিয়েছিল। এটি তেল ট্যাঙ্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এরপর এআইএস বন্ধ করে চলাচল করতে শুরু করে।

টোল নেওয়ার প্রক্রিয়া কী

ইরানি পার্লামেন্ট এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে টোল আরোপের আইন পাস না করলেও, গত দুই সপ্তাহে ২৬টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার জন্য আইআরজিসির ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থার পূর্ব অনুমোদিত পথ অনুসরণ করেছে। গত বুধবার জাহাজ চলাচল বিষয়ক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট এমন খবর প্রকাশ করেছে। এই জাহাজগুলোতে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) চালু ছিল না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় হরমুজ প্রণালি পার হতে জাহাজগুলোকে আইআরজিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয় এবং জাহাজের সব তথ্য জমা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে—নথিপত্র, আইএমওর নম্বর, পরিবহনকৃত পণ্য, ক্রু সদস্যদের নাম এবং জাহাজের চূড়ান্ত গন্তব্য।

মধ্যস্থতাকারীরা এসব তথ্য আইআরজিসির নৌ কমান্ডে জমা দেন। এ কমান্ডটি তথ্যগুলোর সত্যতা যাচাই করে। যদি কোনো জাহাজ যাচাইবাছাই প্রক্রিয়ায় উত্তীর্ণ হয়, তাহলে আইআরজিসি সেটিকে একটি ক্লিয়ারেন্স কোড দেয় এবং প্রণালি পারাপারের জন্য নির্ধারিত রুট সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়।

জাহাজ যখন প্রণালিতে প্রবেশ করে, তখন আইআরজিসি কমান্ডাররা ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে জাহাজের কাছে ক্লিয়ারেন্স কোড চান। জাহাজ থেকে তখন কোডটি বলা হয়। যদি কোডটি অনুমোদিত হয়, তখন ইরানি একটি নৌযান জাহাজের কাছে এসে সেই জাহাজটিকে লারাক দ্বীপের আশপাশ দিয়ে ইরানের জলসীমা পার হতে সহযোগিতা করে।

যদি কোনো জাহাজ আইআরজিসি নৌবাহিনীর স্ক্রিনিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়, তাহলে তাদের এই জলপথ দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয় না।

কারা টোল ফি দিচ্ছে

ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খোলা।

গত মঙ্গলবার ইরান আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমও–এর ১৭৬ সদস্যকে পাঠানো একটি চিঠিতে বলেছে, যেসব জাহাজ ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনে অংশ নেয় না এবং ঘোষিত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়মাবলি পুরোপুরি মেনে চলে, তারা ইরানি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুবিধা পেতে পারে।

এখন পর্যন্ত আলোচনার পর মালয়েশিয়া, চীন, মিসর, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি পেয়েছে। ইরানের ভাষায় এসব দেশ তাদের বন্ধু দেশ।

লয়েডস লিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি পার হতে কমপক্ষে দুটি জাহাজ চীনের মুদ্রা ইউয়ানে ফি দিয়েছে। কত অর্থ দেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভারত সরকার বলেছে, ভারতীয় জাহাজগুলো নিরাপদে প্রণালি পারাপারের জন্য ইরানকে কোনো অর্থ দেয়নি।

ভারতের আইনি পরামর্শক সংস্থা এএনবি লিগ্যালের অংশীদার অপূর্ব মেহতা আল–জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতি কেবল নির্দিষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য দেওয়া হলে, তা বৈষম্যমূলক হবে।

অপূর্ব বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোন জাহাজগুলোকে টোল দিতে হবে ও সেই অর্থ কোন মুদ্রায় দেওয়া হবে, তা এখন স্পষ্ট নয়।’

হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকার
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকার, ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
 

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে টোল নেওয়া কি বৈধ

জাতিসংঘের সমুদ্র আইনসংক্রান্ত সনদ (ইউএনসিএলওএস)-এর ধারা ৩৮ অনুযায়ী, সব জাহাজ ও উড়োজাহাজ ‘ট্রানজিট প্যাসেজের অধিকার’ ভোগ করে, যা কোনো দেশ স্থগিত করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্র আইনসংক্রান্ত সনদের ধারা ১৭ অনুযায়ী, প্রত্যেকটি বিদেশি জাহাজের কোনো দেশের জলসীমা দিয়ে নির্বিঘ্নে পারাপারের অধিকার রয়েছে।

ধারা ১৯ অনুযায়ী পারাপার তখনই নির্দোষ ধরা হয়, যদি তা উপকূলীয় দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর না হয়।

ভারতের আইনি পরামর্শক সংস্থা এএনবি লিগ্যালের অংশীদার অপূর্ব মেহতা বলেন, উপকূলীয় দেশ যদি কোনো পারাপারকে ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করে, তাহলে তারা নির্দিষ্ট এলাকায় বিদেশি জাহাজের নির্দোষ পারাপার স্থগিত করার মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

অপূর্ব আরও বলেছেন, ইরান ইউএনসিএলওএস–এর স্বাক্ষরকারী হলেও দেশটির পার্লামেন্টে এটি অনুমোদন করা হয়নি। সে ক্ষেত্রে ইরান যুক্তি দেখাতে পারে, তারা এই আন্তর্জাতিক বিধির আওতায় বাধ্য নয়।

সামুদ্রিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং লন্ডনের সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জ্যাসন চুয়াহ বলেন, হরমুজ প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ স্থানটি ২১ নটিক্যাল মাইল (৩৯ কিমি) প্রশস্ত। আর ইউএনসিএলওএস অনুযায়ী, দেশগুলো তাদের উপকূল থেকে সর্বাধিক ১২ নটিক্যাল মাইল (২২ কিমি) পর্যন্ত জলসীমা দাবি করতে পারে।

চুয়াহ আরও বলেন, পুরো প্রণালিটি ইরান ও ওমানের জলসীমার মধ্যে পড়েছে। তাঁর মতে, ইরান এই এলাকার ওপর সর্বভৌমত্ব দাবি করছে। উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইলের বাইরের জলসীমায় নিজেদের মালিকানা দাবি করার অধিকার ইরানের নেই।

চুয়াহ বলেন, ‘সুতরাং আপনার জাহাজ যদি ওমানের জলসীমা ব্যবহার করে, তাহলে ইরান টোল নিতে পারবে না। কিন্তু ইরান যেকোনো জাহাজকে রকেট, মাইন বা ড্রোন দিয়ে আঘাত করার অধিকার রাখে, সেটা ওমান বা ইরানের পাশে হোক।’

এ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে কোনো জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে চাইলে সেটিকে হয়তো ইরানের পাশ দিয়ে চলাচলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, টোল দিয়ে নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে হবে।

এটি যুদ্ধকালীন সময়ে টোল আরোপের প্রথম ঘটনা নয়।

২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছিল, ইয়েমেনের হুতিরা তাদের উপকূলের কাছে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ফি নিচ্ছিল।

সেই সময় ইরান–সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করেছিল। হুতিরা দাবি করেছিল, তারা গাজায় যুদ্ধের প্রতিবাদে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বা ইসরায়েলগামী জাহাজগুলোকে নিশানা করেছে।

দেশীয় বাজারে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।

দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, জ্বালানি মন্ত্রণালয়, ফেডারেল অ্যান্টিমনোপলি সার্ভিস, সেন্ট পিটার্সবার্গ এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস জানায়, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে নোভাক বলেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির চাহিদা এখনও শক্তিশালী রয়েছে, যা দেশের জন্য ইতিবাচক দিক।

এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তেল শোধনের পরিমাণ ২০২৫ সালের মার্চের পর্যায়ে স্থিতিশীল রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মজুদ রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলোও উচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে অস্থিতিশীলতার কারণে তেল পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

গত এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

 

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব