• Colors: Yellow Color

‘মিডটার্ম’-এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী টিয়ার চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন ইয়াসমিনা এল-আব্দ। মিসরীয় টিভি সিরিজটি অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পীকে জেন–জি দর্শকের মধ্যে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে সিরিজটির প্রচার শেষ হয়েছে। তবে চরিত্রের ঘোর থেকে এখনো বের হতে পারেননি তিনি। টিএন ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘টিয়াকে কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আগে কখনো এমনটা ঘটেনি। অন্য কোনো চরিত্র নিয়ে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

একদল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিরিজটি মিসরের তরুণদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলে। আগে পার্শ্বচরিত্রে কাজ করলেও সিরিজটিতে প্রথমবারের মতো মূল চরিত্র করেছেন ইয়াসমিনা। ১৯ বছর বয়সেই এটা তাঁকে এনে দিয়েছে তারকাখ্যাতি।

ইয়াসমিনার ভাষ্য, ‘মিডটার্ম–এর শুটিংয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলাম। এত বড় প্রজেক্টে যুক্ত হওয়ার বিশাল ঝুঁকি ছিল।’ ঝুঁকিটা নিয়েছিলেন, ফলও পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বয়সের উপযোগী চরিত্র খুঁজে পেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। হয় অনেক বড় বয়সের চরিত্র যা করা কঠিন, নয়তো অনেক ছোট। আমি তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শেষ পর্যন্ত মিডটার্ম দিয়ে অভিনেত্রী ইয়াসমিনার পুনর্জন্ম ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, মানুষের আস্থা অর্জন করেছি। এটা হালকাভাবে নেওয়ার নয়। আমি এটা অর্জন করেছি, এখন ধরে রাখতে হবে।’

ইয়াসমিনা এল-আব্দ
ইয়াসমিনা এল-আব্দশিল্পীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতও নতুনভাবে জীবনে ফিরে এসেছে। গত ডিসেম্বরে তিনি ‘ডাম্মা’ প্রকাশ করেন। গানটি বিলবোর্ডের তালিকায় উঠেছিল।

মাত্র ৯ বছর বয়সে ইয়াসমিনার অভিনয়ে অভিষেক। ১২ বছর বয়সে গান শুরু করেন। সুক্কার, ইন ব্লুম, শ্যাডো অব কায়রোসহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁকে নিয়মিত দেখা গেছে।

বার্লিনের গুপ্তচর জগৎকে পটভূমি করে তৈরি নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘আনফ্যামিলিয়ার’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন–ইংরেজি কনটেন্টের তালিকায় বিশ্বব্যাপী শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিরিজটি দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে। মুক্তির পর এ পর্যন্ত ২৫ মিলিয়ন ঘণ্টার বেশি ভিউ হয়েছে সিরিজটির। আন্তর্জাতিক দর্শকের আগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছে—ইউরোপীয় পটভূমির গোয়েন্দা গল্পও আজ বৈশ্বিক বিনোদনের কেন্দ্রে জায়গা করে নিতে পারে।

সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শীর্ষ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা—মেরেট ও সিমন। মেরেট চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুসান উলফ আর সিমনের ভূমিকায় ফেলিক্স কারমার। একসময় তাঁরা ছিলেন জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষ অপারেটিভ; এখন বার্লিনে একটি গোপন ‘সেফ হাউস’ পরিচালনা করেন। কিন্তু অতীতের এক অন্ধকার হুমকি হঠাৎ ফিরে এলে তাঁদের শান্ত জীবন ভেঙে পড়ে। চুক্তিভিত্তিক খুনি, রুশ এজেন্ট ও নিজেদের সাবেক নিয়োগকর্তা জার্মান ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)—সবাইকে মোকাবিলা করতে হয় তাঁদের। আর সেই লড়াই শুধু দায়িত্বের নয়, নিজেদের পরিবার ও জীবনের সুরক্ষারও।

‘আনফ্যামিলিয়ার’ আসলে প্রযোজনা সংস্থা গোমোঁ জার্মানির নেটফ্লিক্সের সঙ্গে দ্বিতীয় বড় প্রকল্প, রোমান সাম্রাজ্যকে ঘিরে নির্মিত ‘বারবারিয়ানস’–এর পর। সেই সিরিজের পরিকল্পিত তৃতীয় মৌসুমের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন নির্মাতা পল কোটস। কিন্তু সেটি বাতিল হলে তিনি নতুন এক গুপ্তচর গল্পের ধারণা দেন, যা থেকে জন্ম নেয় ‘আনফ্যামিলিয়ার’।

কোটসের ভাষায়, এই সিরিজের ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। তিনি নিজেও পঞ্চাশোর্ধ্ব, তাই মেরেট ও সিমনের বয়সও জীবনের বাস্তবতা তাঁকে টেনেছে। সাধারণত গুপ্তচর কাহিনিতে তরুণ, শক্তিশালী, প্রায় অতিমানবীয় চরিত্র দেখা যায়। কিন্তু এখানে দুই মধ্যবয়সী মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা, বয়সজনিত ক্লান্তি ও মানসিক টানাপোড়েন গল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বেরাইসও মনে করেন, বয়সকে গল্পের অংশ করে তোলার মধ্যেই রয়েছে মৌলিকতা ও বাস্তবতা।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

সিরিজ নির্মাণে বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির কাছ থেকে। প্রযোজকেরা গল্পের খসড়া তাঁদের সঙ্গে ভাগ করেন, যাতে উপস্থাপনা বিশ্বাসযোগ্য হয়। অভিনয়শিল্পীরাও সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। এমনকি বার্লিনে বিএনডির সদর দপ্তরের বাইরে শুটিংয়ের অনুমতিও মিলেছিল, তবে কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মেনে। সপ্তাহান্তে শুটিং করতে হয়েছে, যাতে সংস্থার কর্মীদের স্বাভাবিক যাতায়াত চিত্রায়িত না হয়।

গোমোঁর জন্য ‘আনফ্যামিলিয়ার’ ছিল এক উচ্চাভিলাষী আন্তর্জাতিক প্রকল্প। তাদের আগের সফল সিরিজগুলোর মতো ‘নার্কোস’ বা ‘লুপিন’—এখানেও নির্মাতারা একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করতে চেয়েছেন। বার্লিনের ইতিহাস, শীতল যুদ্ধের স্মৃতি, আধুনিক ইউরোপীয় রাজনীতির উত্তাপ—সব মিলিয়ে এক বাস্তব অথচ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে গল্প স্বাভাবিকভাবেই বিস্তার লাভ করেছে।

কোটস জানান, শুরুতে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তারিক সালেহ পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘দ্য কন্ডাক্টর’ থেকে। বিশেষ করে একটি দৃশ্যে আহত নায়ককে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়, সেই রহস্যময় সেফ হাউসের ধারণাই তাঁকে ভাবায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল এডি মারসনের। সেই চরিত্রটির অদেখা জীবন, অজানা অতীত—এসব প্রশ্ন থেকেই সিরিজটির জন্ম।

সিরিজটির নির্মাণভঙ্গি ধীর ও সংযত। প্রথম পর্বেই সব রহস্য উন্মোচন না করে দর্শককে ধাপে ধাপে তথ্য দেন। চমকপ্রদ টুইস্টের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ‘স্লো–বার্ন’ পদ্ধতি—চাপ জমতে থাকে, উত্তেজনা বাড়ে এবং দর্শক অনিবার্য পরিণতির অপেক্ষায় থাকেন। এই ধৈর্যশীল গতি সবার কাছে সমান আকর্ষণীয় না–ও হতে পারে, কিন্তু অনেকেই এই সংযমকেই সিরিজটির শক্তি হিসেবে দেখছেন।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

নেটফ্লিক্স সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্পাই থ্রিলারকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে দক্ষতা দেখিয়েছে। ‘আনফ্যামিলিয়ার’ সেই ধারাতেই নতুন সংযোজন। অল্প পর্বসংখ্যা সিরিজটিকে সহজে টানা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বাস্তবধর্মী উপস্থাপন সিরিজটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে, যা অনেক কল্পনাপ্রবণ স্পাই ড্রামার ভিড়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে।

তবে বিতর্কের জায়গাটিও স্পষ্ট। অনেক দর্শকের কাছে এটি পরিচিত ফর্মুলার পুনরাবৃত্তি—অবসরপ্রাপ্ত গুপ্তচর, অতীতের ব্যর্থ মিশন, ভুয়া পরিচয়ে গড়া পরিবার। নতুনত্বের সন্ধানীরা হয়তো এটিকে ‘রিমিক্স’ বলবেন। কিন্তু চরিত্রকেন্দ্রিক উত্তেজনা, আবেগের ধীরে জমাট বাধা স্তর ও মধ্যবয়সী জীবনের বাস্তব সংকট—এই উপাদানগুলোই সিরিজটিকে অন্যদের কাছে আলাদা করে তুলেছে। মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বৈশ্বিক সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, দর্শক এখন এমন গুপ্তচর কাহিনি দেখতে চায়, যেখানে আছে মানবিক দুর্বলতা, বয়সের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক জটিলতার সমন্বয়।

‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি
‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি

এটি শুধু অ্যাকশন নয়; বরং মধ্যবয়সী দুই মানুষের টিকে থাকার গল্প; অতীতের ছায়া থেকে বর্তমানকে বাঁচানোর লড়াই। আর বার্লিন গুপ্তচর ইতিহাসের চিরন্তন শহর—এই লড়াইয়ের জন্য যেন আদর্শ মঞ্চ।

দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো আমন্ত্রণপত্র ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য মিলিয়ে এখন প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, এই বহুল আলোচিত তারকা–বিয়ের আয়োজন। এই দুই তারকা প্রকাশ্যে এখনো কিছু না বললেও প্রতিটি আপডেটে খবর রাখছেন ভক্তরা। এ কারণেই সম্প্রতি বিজয়ের হায়দরাবাদের বাড়ির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আগামী সপ্তাহে উদয়পুরে হতে যাওয়া বিয়েকে ঘিরে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে জমকালো আলোকসজ্জায়।

সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি

আর মাত্র এক সপ্তাহ, শোনা যাচ্ছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি প্রাসাদে বিয়ে করবেন এই জুটি। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান সামনে রেখে ‘অর্জুন রেড্ডি’খ্যাত অভিনেতার হায়দরাবাদের বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে অসংখ্য ফেয়ারি লাইটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতা তাঁবু টানানোসহ নানা প্রস্তুতির কাজ করতে দেখা গেছে তাঁদের।

কয়েক দিন আগে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় হবু এই তারকা দম্পতিকে। যদিও তাঁরা একসঙ্গে আসেননি, তবে একই সময়ে একই জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি নজরে পড়ে পাপারাজ্জিদের। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিয়ের কার্ডও ভাইরাল হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়—২৬ ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করছেন বিজয় ও রাশমিকা।
কার্ডে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে হায়দরাবাদের বানজারা হিলসের তাজ কৃষ্ণা হোটেলে আয়োজন করা হবে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। কার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবারের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে রাশমিকা ও আমি ২৬.০২.২৬ তারিখে একটি ছোট ও ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি। আমাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ৪ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা থেকে। তাজ কৃষ্ণা, বানজারা হিলস, হায়দরাবাদ। একসঙ্গে উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছান্তে, বিজয় (রাশমিকা ও আমার পক্ষ থেকে)।’

বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা
বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা, ছবি : ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবে কার্ডটি সত্যিই এই তারকা জুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
‘ডিয়ার কমরেড’ খ্যাত এই জুটি বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করেন। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুব ছোট পরিসরে এবং সীমিত অতিথি তালিকা নিয়ে আয়োজন করা হবে। ইন্ডিয়া টুডেকে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ‘অতিথির সংখ্যা খুবই কম থাকবে। কোনো মোবাইল ফোনের অনুমতি থাকবে না। এমনকি যাঁরা বিয়ের ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও চুক্তিতে সই করতে হচ্ছে।’পিঙ্কভিলা অবলম্বনে

বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে তোলা হয়েছে। 

বুধবার ১৯ (ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হিরো আলমকে বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আনোয়ারুল হকের আদালত হিরো আলমকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর গণমাধ্যমকে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় এক মামলায় হিরো আলমের বিরুদ্ধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এ সংক্রান্ত চিঠি সম্প্রতি আমাদের কাছে আসে। সম্প্রতি জানা যায়, হিরো আলম নিজ এলাকায় অবস্থান করছে খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ তাকে ধরতে গেলে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে হিরো আলম। পরে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকায় গ্রেপ্তার করি আমরা। এরপর তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সাদিয়া রহমান মিথিলা নামে এক নারীকে নায়িকা বানানোর স্বপ্ন দেখিয়ে আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম প্রতারণামূলকভাবে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। এ অভিযোগ অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মিথিলা। পরে পিবিআই তদন্ত করে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পায়। এরপর আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

বর্তমান সময়ের বিনোদন–দুনিয়ায় আলোচনায় থাকার যেন এক অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। নতুন সিনেমা হোক বা ব্যক্তিগত জীবন—সোশ্যাল মিডিয়া, প্রচারণা আর জনসংযোগ–কৌশলের মাধ্যমে সব সময় সামনে থাকতে পারলেই যেন সফলতা। কিন্তু এই ধারা থেকে সচেতনভাবেই দূরে থাকতে চান অভিনেত্রী সবিতা ধুলিপালা। তাঁর কথায়, তিনি বিশ্বাস করেন না অতিরিক্ত প্রচারণায়; বরং কাজ দিয়েই দর্শকের সামনে থাকতে চান।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সবিতা জানান, ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে তিনি জনসংযোগ টিমের সঙ্গে কাজ করলেও তা তাঁর ব্যক্তিত্ব বা জীবনদর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি যায় না। তিনি মনে করেন, সব সময় সংবাদে থাকা বা ২৪ ঘণ্টা দৃশ্যমান থাকা তাঁর জন্য জরুরি নয়।

অভিনেত্রীর ভাষায়, প্রত্যেক শিল্পীর পথ আলাদা। কারও জন্য জনসংযোগ কাজ করতে পারে, আবার কারও জন্য নয়। নিজের পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি চান কাজের মাধ্যমে পরিচিত হতে, ব্যক্তিগত আলোচনারকেন্দ্রবিন্দু হয়ে নয়।

সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তারকা–সংস্কৃতির ভেতরের ক্লান্তি
বলিউড ও ওটিটির বর্তমান সংস্কৃতিতে প্রায়ই দেখা যায়, সিনেমার চেয়ে প্রচারণাই বেশি আলোচিত হয়ে ওঠে। কখনো পোশাক, কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতি—এগুলো যেন ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে সবিতা বলেন, তিনি সব প্রশ্নের উত্তর জানেন না, তবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, কোন জীবনধারা তাঁকে মানায়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বাইরে থেকে আসা একজন শিল্পী হিসেবে তিনি ধীরে ধীরে নিজস্ব ছন্দ তৈরি করেছেন।
সবিতার মতে, সফলতার কোনো একক নিয়ম নেই। কেউ প্রচারণার মাধ্যমে জনপ্রিয় হন, আবার কেউ নিজের কাজের গুণেই জায়গা করে নেন। তিনি দ্বিতীয় পথটাই বেছে নিতে চান।

সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সবিতা ধুলিপালা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

নিজের শিকড়ে ফেরা
একই সাক্ষাৎকারে সবিতা কথা বলেন তেলেগু সিনেমায় ফেরা নিয়ে। বহুদিন পর তিনি মাতৃভাষার একটি প্রজেক্টে কাজ করছেন। এ অভিজ্ঞতাকে তিনি বলেছেন ‘স্বস্তিদায়ক’।

সবিতার মতে, ‘মাতৃভাষায় অভিনয় করতে গেলে সংলাপের সঙ্গে অনুভূতির সংযোগ আরও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে জটিল শব্দ বা দ্রুত সংলাপ বলার সময় ভাষাগত স্বাচ্ছন্দ্য অভিনয়কে সহজ করে দেয়।’
তেলেগু সিনেমার দর্শক হিসেবে সব সময় সংযুক্ত থাকলেও দীর্ঘ সময় পর আবার সেই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করা সবিতার জন্য নতুন আনন্দের অভিজ্ঞতা।

তারকা, কিন্তু আলাদা পথে
সবিতার ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে দেখা যায়, শুরু থেকেই তিনি একটু ভিন্ন ধরনের চরিত্র ও প্রকল্প বেছে নিয়েছেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের বাইরে তিনি বরাবরই শক্তিশালী নারী চরিত্রে কাজ করতে আগ্রহী।

ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

 এখন তিনি আন্তর্জাতিক তারকা—বলিউড থেকে হলিউড, দুই দুনিয়াতেই প্রতিষ্ঠিত নাম প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো মোটেও সহজ ছিল না। সম্প্রতি এক আলোচনায় প্রিয়াঙ্কা এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন, যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর করার পরও একটি চলচ্চিত্র থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল—এবং সেটিও নাকি সহ–অভিনেতার ইচ্ছায়।  

প্রিয়াঙ্কা জানান, ঘটনা তখনকার, যখন তিনি ২০০৭ সালের ‘সালাম–ই–ইশক’ ছবির শুটিং করছিলেন। নতুন একটি ছবির জন্য তিনি ইতিমধ্যে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, শুটিং শুরুর অপেক্ষা। ঠিক সেই সময় তাঁর সহ–অভিনেতা সেটে এসে ব্যক্তিগতভাবে জানান, পরিচালক নাকি ‘ভুল করে’ তাঁকে ছবিতে নিয়েছেন, কারণ ছবিটি মূলত অন্য এক অভিনেত্রীর জন্য পরিকল্পিত ছিল।  

‘তিনি এসে বললেন, পরিচালক ভুল করেছেন, ছবিটি আসলে অন্য কারও করার কথা ছিল। আমরা অন্য আরেকটা ছবি করব, চিন্তা কোরো না,’—প্রিয়াঙ্কা স্মৃতিচারণা করেন। কথাগুলো বলেই তিনি নাকি খাবার খেয়ে চলে যান। আর ২২ বছর বয়সী অভিনেত্রী তখন ভেঙে পড়েছিলেন।  

প্রিয়াঙ্কা বলেন, সেই সিনেমাটি তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হাতে চুক্তিপত্র থাকলেও বাস্তবে কিছুই করার ছিল না। ‘আমি ভাবছিলাম—চুক্তি তো সাইন করা, তাহলে কীভাবে সম্ভব?’—এই প্রশ্নের উত্তর তখন তিনি পাননি। শিল্পের অঘোষিত রাজনীতি তাঁকে বারবার এমন পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছে।  

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

শুধু এই একটি ঘটনা নয়, আরও কয়েকটি ছবি তাঁর কাছ থেকে ‘সরে গেছে’ বলে জানান তিনি। কখনো প্রধান চরিত্র থেকে দ্বিতীয় চরিত্রে নেমে আসতে হয়েছে, কখনো অন্য কাউকে জায়গা দিতে হয়েছে। তখন ‘নেপোটিজম’ শব্দটি এত প্রচলিত না হলেও শিল্পের ভেতরের সম্পর্ক আর ক্ষমতার প্রভাব যে কতটা কাজ করত, সেটি ধীরে ধীরে বুঝতে শুরু করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

এই ধাক্কাগুলো তাঁকে একসময় নিজের ক্যারিয়ার নিয়েই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি কলেজে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন—অভিনয়ে মনোযোগ বাড়াবেন, নিজের কাজ দিয়েই জায়গা করে নেবেন।
‘আমি ঠিক করি, কাজের ওপরই ফোকাস করব। সেটাই আমাকে ধরে রেখেছিল এবং আরও কাজ এনে দিয়েছিল,’—বলেছেন তিনি।
তবে কোন ছবি থেকে বাদ পড়েছিলেন আর কোন নায়কের এতে সায় ছিল—সে কথা অবশ্য বলেননি অভিনেত্রী।

২০০৩ সালে ‘আন্দাজ’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হওয়ার পর প্রিয়াঙ্কা দ্রুত জনপ্রিয়তা পান। তবে একই সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশ করেছিলেন বহু তারকার সন্তান, তখনই তিনি বুঝে ফেলেন—সবাই সমান জায়গা থেকে দৌড় শুরু করে না। তাঁর ভাষায়, ‘কেউ আমার জন্য সিনেমা বানাচ্ছিল না। কারও বাড়ির মানুষও ছিলাম না আমি।’

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তবু এই লড়াইই হয়তো তাঁকে গড়ে দিয়েছে অন্যভাবে। বৈচিত্র্যময় চরিত্র খুঁজে নেওয়া, নিজেকে বারবার নতুন করে তৈরি করা—এই পথ ধরেই তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছান।

প্রিয়াঙ্কা শেষবার ভারতীয় ছবিতে অভিনয় করেছিলেন ২০১৯ সালের ‘দ্য স্কাই ইজ পিংক’–এ। সামনে তাঁকে দেখা যাবে পরিচালক এস এস রাজামৌলির নতুন সিনেমা ‘বারানসি’–তে যা মুক্তির কথা রয়েছে ২০২৭ সালে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব