• Colors: Yellow Color

প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে মারা গেছেন। আজ বেলা ১২টার দিকে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্য হয় বলে জানিয়েছেন আশা ভোসলে ছেলে আনন্দ ভোসলে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২।

অনেক দিন ধরেই যে তিনি অসুস্থ ছিলেন, তেমন নয়। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই ছড়িয়ে পড়ে তাঁর অসুস্থতার খবর।

প্রথমে শোনা গিয়েছিল, তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরে তাঁর নাতনি জানাই ভোসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট করে জানান, ‘চরম ক্লান্তি এবং বুকে সংক্রমণ’-এর কারণেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভারতীয় সংগীতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে সুপরিচিত আশা ভোসলে। আট দশকের বেশি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি একাধিক ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল—বিভিন্ন ধারার সংগীতে তাঁর অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

আশা ভোসলে। এএনআই
আশা ভোসলে। এএনআই

দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দক্ষিণ ভারতীয় বড় বাজেটের অ্যাকশন ছবি ‘কেডি: দ্য ডেভিল’–এর নতুন গান ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। গানটিতে পারফর্ম করেছেন অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফাতেহি। তবে মুক্তির পরই অনেক দর্শক গানটির ভাষা ও উপস্থাপনাকে ‘অশালীন’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে সমালোচনা করছেন। গানের সঙ্গে নাচকেও ‘অশালীন’ বলে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছিলেন অনেকে। এরপর গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গানটির অশালীন কথা এবং কুরুচিকর দৃশ্যায়নের অভিযোগে এবার নড়েচড়ে বসেছে ভারতের জাতীয় নারী কমিশন। গত সোমবার এক শুনানিতে কমিশনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সৃজনশীলতার দোহাই দিয়ে নারীর সম্মান ক্ষুণ্ণ করা মোটেই বরদাশত করা হবে না।

গানটি নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর ভারতের জাতীয় নারী কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে। সোমবারের শুনানিতে ছবির পরিচালক প্রেম, গীতিকার রাকিব আলম এবং প্রযোজনা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। নোরার পক্ষ থেকে তাঁর আইনজীবী উপস্থিত হলেও কমিশন তা গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। অভিনেত্রীকে সশরীর হাজির হওয়ার জন্য ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকেও ৮ এপ্রিল কমিশনের সামনে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘সারকে চুনার’ গানের দৃশ্যে সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফতেহি। এক্স থেকে
‘সারকে চুনার’ গানের দৃশ্যে সঞ্জয় দত্ত ও নোরা ফতেহি। এক্স থেকে

শুনানি চলাকালীন জাতীয় নারী কমিশনের চেয়ারপারসন অত্যন্ত অসন্তোষের সঙ্গে বলেন, ‘সৃজনশীলতার নামে নারীর মর্যাদার সঙ্গে আপস একেবারেই করা যায় না।’ যদিও ছবির নির্মাতারা দাবি করেছিলেন যে তাঁরা গানের কথার গভীর অর্থ বুঝতে পারেননি, কিন্তু কমিশন সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে।

শেষমেশ নির্মাতারা তাঁদের ভুলের জন্য লিখিত ক্ষমা চেয়েছেন এবং স্বীকার করেছেন যে গানটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আগামী তিন মাস তাঁরা নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কাজ করবেন এবং সেই রিপোর্ট কমিশনে জমা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

ওপার বাংলার নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু প্রথমবারের মতো নায়িকা হয়েছেন শাকিব খানের। তাঁকে দেখা গেছে ঈদের ‘প্রিন্স’ সিনেমায়। সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ব্যক্তিগত নানা প্রসঙ্গে কথা বলেন এই নায়িকা। আড্ডায় ঘুরেফিরে আসে প্রাক্তন ও প্রেমের কথা।

বর্তমানে তিনি একা রয়েছেন, নাকি কোনো প্রেমের সম্পর্ক রয়েছেন—এমন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জ্যোতির্ময়ী জানান, তিনি একাই রয়েছেন। তবে বিয়ে নিয়ে আপাতত ভাবছেন না। এদিকে দেশের ভক্তরা তাঁকে নিয়ে ফেসবুকে বেশ সবর। অনেকেই নাকি তাঁর প্রেমেও পড়েছেন। সে খবরও শুনেছেন। তবে বাংলাদেশে বিয়ে করতে চান না এই নায়িকা।

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে
 

সিঙ্গেল থাকলেও এর আগে প্রেমে জড়িয়েছিলেন এই নায়িকা। সেই প্রেম ভেঙে যায়। ‘আমাদের ভালোবাসাটা একই রকম ছিল। কোনো কারণে আমাদের সম্পর্ক টেকেনি। একটা চাবি দিয়ে কি সব তালা খোলা যায়! আমাদের একটু সমস্যা হয়েছিল। আমি কাউকে খারাপ বলছি না। ও ওর মতো, আমি আমার মতো। একটা সময়ে এসে মনে হচ্ছিল, সব ঠিকমতো হয়ে উঠছিল না,’ বলেন তিনি।

জ্যোতির্ময়ী জানান, একটা সম্পর্কের শুরু হয় শতটা ভালো লাগা থেকে, কিন্তু নানা কারণে সেই বোঝাপড়া, ভালো লাগা একসময় থাকে না। তাঁর ভাষ্যে, ‘আমরা নিজেরাই সম্পর্ক থেকে সরে এসেছি। ঝগড়া–ঝামেলা না করে আলাদা হয়ে যাই। পরে তারও মনে হয়েছিল, অন্য জায়গায় গিয়ে ভালো থাকতে পারবে। এখন সে তার মতো ভালো আছে। আমি আমার মতো আছি। আমি সব সময়ই মনে করি, একটা সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য সবার আগে দরকার বিশ্বাস। কারণ, আমরা বেঁচেই থাকি বিশ্বাসে।’

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে

প্রাক্তনের কাছ থেকে কী শিখেছেন—এমন প্রশ্নে জ্যোতির্ময়ী আরও বলেন, ‘আমার প্রাক্তন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। ওর কাছে শিখেছি ভালোবাসা। ওই প্রেমটাই খুব মনোযোগ দিয়ে করেছিলাম। সব মিলিয়ে আমরা একসময় ভালোই ছিলাম। কিন্তু সময় সব সময় একরকম যায় না।’

জ্যোতির্ময়ী প্রিন্স সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ছবি: ফেসবুক থেকে
জ্যোতির্ময়ী প্রিন্স সিনেমায় শাকিবের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। ছবি: ফেসবুক থেকে

কলকাতার টেলিভিশন অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর বড় পর্দায় অভিষেক হয় ‘প্রজাপ্রতি ২’ সিনেমা দিয়ে। গত বছরের বড়দিনে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পায় দেব অভিনীত সিনেমাটি।

নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু
নায়িকা জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, ছবি: ফেসবুক থেকে

রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হলো তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যমের। ‘কয়াল’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য দক্ষিণি ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। গতকাল সোমাবার চেন্নাইয়ে নিজের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

শ্রীলঙ্কায় জন্ম নেওয়া ৩৬ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী চেন্নাইয়ের পোরুর এলাকার কাছে আইয়্যাপ্পন্থাঙ্গলে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন, যেখানে শুটিংয়ের সময় তিনি অবস্থান করতেন। গত মাসের শুরুতে তিনি সেখানে ওঠেন। গত রোববার রাতে সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সুভাষিণী স্বামী বিপিন চন্দ্রণের সঙ্গে ভিডিও কলে ছিলেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। সেই তর্কের মধ্যেই তিনি আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁর স্বামী দ্রুত অ্যাপার্টমেন্টের নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

[caption id="attachment_271246" align="alignnone" width="821"] সুভাষিণী বালসুব্রহ্মণ্যম। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুভাষিণীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সরকারি কিলপক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীলঙ্কার মেয়ে সুভাষিণী বরাবরই অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা বুকে নিয়ে চলে আসেন চেন্নাইয়ে। তামিল বিনোদনজগতে নিজের জায়গা তৈরি করা সহজ ছিল না। অডিশন, ছোট ছোট চরিত্র এবং কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়েই তাঁকে এগোতে হয়েছে। তবে নিজের অধ্যবসায় ও অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে ধীরে ধীরে নতুন নতুন সুযোগ পেতে শুরু করেন। ‘কয়াল’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত করেন অভিনেত্রী।

অভিনেত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর সহকর্মী ও ভক্তরা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

আগের রাতেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ হয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। সকাল থেকেই বাড়িতে আত্মীয়দের ভিড়। এর মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবাকে নিয়ে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে হাজির হলেন বিদুষী বর্ণিতা। তাঁর মুখ থেকেই লাক্স সুন্দরী হওয়ার গল্পটা শুনলেন নাজমুল হক

মেহেবুব আলম ও মেরী ইয়াসমিন দম্পতির একমাত্র কন্যা বিদুষী বর্ণিতা। রাজশাহীতে জন্ম হলেও ঢাকাতেই তাঁর বেড়ে ওঠা। রেডিও ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন বাবা। মা–ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজকর্মে জড়িত ছিলেন। সংগীত শিক্ষালয় ছায়ানটে গান ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী মুনমুন আহমেদের কাছে নাচ শেখেন বর্ণিতা। তার মধ্যেই মা–বাবার হাত ধরে ছোট্ট বয়সে শোবিজযাত্রা শুরু। শিশুশিল্পী হিসেবে নাসির উদ্দীন ইউসুফের ‘গেরিলা’ সিনেমায় অভিনয়। বর্ণিতার বয়স তখন ছয় কি সাত বছর। রেডিও এবিসিতে চাকরি করতেন বাবা। সেখানের জনপ্রিয় রেডিও শো ‘কি শুনাইলেন কিবরিয়া ভাই’–এর বিজ্ঞাপনে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাঁর ভয়েস। এরপর বেশ কটি টেলিভিশন নাটক ও বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করেন। তখন থেকেই শোবিজে নিয়মিত কাজ করার আগ্রহ। তবে তেমন সুযোগ তখন আসেনি। শুরুর সেই সময়টা নিয়ে বর্ণিতা বলেন, ‘অনেক লম্বা একটা সময়, প্রায় আট-নয় বছরের একটা গ্যাপ ছিল। সে সময় অনেক কাজ খুঁজেছি, কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনি।’ নানা কারণে সেই সময় কাঙ্ক্ষিত সুযোগগুলো না আসায় তাঁর মনে অভিনয়ের প্রতি এক বিশাল ক্ষুধা জমে ছিল, কিছুটা আক্ষেপও ছিল। সেই অপূর্ণ ইচ্ছা থেকেই ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’ প্রতিযোগিতায় নাম লেখান। সাত বছর পর ফিরে আসা এই প্রতিযোগিতার মঞ্চে শেষ হাসিটাও তিনিই হেসেছেন।

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতাছবি: খালেদ সরকার

হাসপাতালের বিছানা থেকে
বর্ণিতার এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। প্রতিযোগিতার রেজিস্ট্রেশন যখন শুরু হয়, তখন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বর্ণিতা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলাম। একপ্রকার হবে না ভেবেই রেজিস্ট্রেশনটা করেছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, এই সময়ই কেন এটা হলো, অন্য সময় হলে হয়তো ভালো করতাম।’ কিন্তু নিজের ওপর আস্থা হারাননি বর্ণিতা। সুস্থ হয়ে লড়াইয়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জায়গা করে নেন তিনি। সেখান থেকে দীর্ঘ জার্নি শেষে সেরা দশে জায়গা পান বর্ণিতা। মজার ব্যাপার হলো, শুরুতে নিজের রেজিস্ট্রেশনের কথা পরিবারকে জানাননি; চেয়েছিলেন চূড়ান্ত হওয়ার পরই চমক দিতে।

 

আক্ষেপ ঘুচল
কখনো ‘প্রথম’ না হতে পারাটা বর্ণিতার জীবনের একটা বড় আক্ষেপ ছিল। পড়াশোনা বা অন্য কোনো প্রতিযোগিতায় সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও প্রথম হতে পারেননি। সব সময় দ্বিতীয় বা তৃতীয় হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো প্রথম হয়ে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন। বর্ণিতা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কখনো কোচিং করিনি বা কোনো টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়িনি, বাসায় একা পড়তাম। কেন জানি এর প্রভাব আমার মার্কসে পড়ত, হয়তো ডিজার্ভ করতাম ফার্স্ট পজিশন কিন্তু হয়েছি সেকেন্ড (হাসি)।’ শুক্রবারের রাত তাঁর জীবনের সব অপ্রাপ্তি মুছে দিয়েছে।
বিজয়ী হওয়ার পর থেকে বর্ণিতার চোখ থেকে ঘুম উধাও। সকাল থেকে বাসায় আত্মীয়স্বজন আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়, আর মোবাইলে হাজার হাজার বার্তা। বর্ণিতা জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে বাড়ছে তাঁর অনুসারী। একটি স্টোরিতেই প্রায় ৮০ হাজার ভিউ!

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতা, ছবি: খালেদ সরকার

বড়দের সান্নিধ্য
পুরো জার্নিতে জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফীর মতো তারকার সান্নিধ্য পেয়েছেন বর্ণিতা। বিশেষ করে জয়া আহসানের অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব বর্ণিতাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, ‘জয়া আহসান ম্যামের কাছ থেকে অভিনয় শিখতে পারা বা ওনার কাছ থেকে একটা ছোট অ্যাডভাইস পাওয়া—এভাবে দাঁড়াবে, এভাবে কথা বলবে—এগুলো অনেক বড় ব্যাপার। এ ছাড়া মেহজাবীন ম্যাম ও রায়হান রাফী স্যারের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ভিকি জাহেদ স্যার ও জাহিদ প্রীতম স্যারের প্রজেক্টে কাজ করাও জীবনের অন্যতম বড় সুযোগ হিসেবে দেখছি। তা ছাড়া এই জার্নিতে জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার মতো বড়মাপের ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করা আমার জন্য অনেক বড় অভিজ্ঞতা।’

দায়িত্বের ভার
বর্ণিতার কাছে বিজয়ের ট্রফিটি কেবল শোকেসে সাজিয়ে রাখার বস্তু নয়; এই ট্রফি তাঁর কাছে হাজারো মানুষের ভালোবাসার প্রতিফলন। তাই এটিকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ‘এই ট্রফিটা শুধু আমার নয়; যতজন মানুষ নেপথ্যে পরিশ্রম করেছেন এবং যাঁদের ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি এখানে আসতে পেরেছি, সবার পরিশ্রমের ভারটা ওই ট্রফির ওপর আছে। এই ট্রফির সম্মান রক্ষা করে ভবিষ্যতে এমন কাজ করতে চাই, যেন মানুষ বলতে পারে, “আমাদের মেয়েটা ভালো করছে।”’
বড় পর্দায় সুযোগ

বিদুষী বর্ণিতা
বিদুষী বর্ণিতা
 

কেবল ট্রফি ও গাড়িই নয়, বিজয়ী হিসেবে নির্মাতা রায়হান রাফীর পরিচালনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে একটি সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাচ্ছেন বর্ণিতা। সঙ্গে নির্মাতা শিহাব শাহীনের একটি ওয়েব প্রজেক্টে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এসব সুযোগ পেয়ে বর্ণিতা রোমাঞ্চিত। তিনি বলেন, ‘যখন জানলাম যে রাফী স্যার, শিহাব শাহীন স্যার দুজনের সঙ্গেই কাজের সুযোগ পাব, তখনকার অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। ওনারা দুজনই এখন দেশসেরা। একজন নতুন শিল্পী হিসেবে আমার শুরুটা তাঁদের মতো নির্মাতাদের সঙ্গে হচ্ছে, এটা আমার জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।’
পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চলবে। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্যই ভর্তি হয়েছেন বর্ণিতা। পড়ছেন পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে।

নতুনদের প্রতি বার্তা
ভবিষ্যতে যাঁরা শোবিজ বা এমন প্রতিযোগিতায় আসতে চান, তাঁদের উদ্দেশে বর্ণিতার পরামর্শ খুব সহজ, ‘শুধু আমাকে দেখে বা অন্য কাউকে দেখে স্বপ্ন দেখতে হবে তা না, নিজেকে দেখে নিজের জন্য স্বপ্নটা দেখতে হবে। নিজের ওপর বিশ্বাসটা দৃঢ়ভাবে রাখতে হবে, সেই চেষ্টার দ্বারাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

ঢালিউডে প্রেম ও গুঞ্জন নতুন নয়, কিন্তু পূজা চেরীকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে মন্তব্য সব নজর কেড়েছে, তা দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে হাস্য ও আলোচনার এক মিশ্রণ তৈরি করেছে। গত বুধবার ‘দম’ ছবিটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে আফরান নিশো মজার ছলে বলেন, ‘বিবাহিত পুরুষের প্রেমে পড়ার পূজার রেকর্ড নাই।’ এ মন্তব্য শুধু উপস্থিত সাংবাদিকদেরই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও চমকে দিয়েছে।

প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল
প্রদর্শনীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আফরান নিশো, চঞ্চল চৌধুরী, পূজা চেরী থেকে ‘দম’ সিনেমার নির্মাতা রেদওয়ান রনি ও প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল, ছবি: চরকি
 

রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘দম’ ছবিতে পূজা চেরী অভিনয় করেছেন আফরান নিশোর বিপরীতে। ছবির গল্পে শাহজাহান ইসলাম নূরের চরিত্রে একজন সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রাম ফুটে উঠেছে। এই সিনেমার শুটিংয়ের কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি কাজাখস্তানের হাড়কাঁপানো শীতে হয়েছে। মুক্তির পর থেকে ছবিটি দর্শক ও সমালোচকের মধ্যে সমান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সিনেমার বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন ঢালিউডের বিভিন্ন তারকা ও কলাকুশলী। প্রদর্শনীর পর সংবাদ সম্মেলনে আফরান নিশো তাঁর মজার মন্তব্য করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। এ মন্তব্যের পর পূজা চেরী অকপটভাবে বলেন, ‘জোকস অ্যাপার্ট এবং সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে আমি এনগেজড। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’ তাঁদের এই খুনসুটি ও স্বীকারোক্তি দর্শক ও অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

আফরান নিশো ও পূজা চেরী
আফরান নিশো ও পূজা চেরী, ছবি : সংগৃহীত
 

ঢালিউডে শোনা যায়, পূজা চেরীর নাম নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই তারকা কখনোই তা স্বীকার করেননি। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রেমের সম্পর্কে আছেন, তবে সেটি বিনোদন অঙ্গনের কোনো ব্যক্তির সঙ্গে নয়।

পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি
পূজা চেরী, আফরান নিশো ও রেদওয়ান রনি, ছবি : চরকির সৌজন্যে
 

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই মন্তব্যকে ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে দেখছেন, কেউবা পূজা চেরীর এনগেজমেন্ট সংবাদকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের খোঁজ করছেন। তবে সবাই একমত, আফরান নিশো ও পূজা চেরীর এই স্বাভাবিক খুনসুটি তাঁদের জনপ্রিয়তা ও দর্শকের কাছে সখ্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

‘দম’ সিনেমার গল্প, অভিনয় ও দর্শক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে এই ধরনের পেশাদার ও ব্যক্তিগত জীবনকে মজার ছলে মিলিয়ে দেওয়া বক্তব্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনীকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের মুক্তি–পরবর্তী তৃতীয় সপ্তাহে এসে ছবিটি এখনো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এবং পূজা–নিশোর এই খুনসুটি আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব