• Colors: Yellow Color

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তেই দুবাইয়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার পর পাল্টা আঘাত হানছে ইরান—এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল রোববারও দুবাইজুড়ে নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। তিনি জানান, তিনি বর্তমানে দুবাইয়েই আছেন এবং নিরাপদে রয়েছেন, তবে পরিস্থিতি সহজ নয়।

ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ আবুধাবি ও কুয়েতের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী ও কয়েকজন ভারতীয় তারকা সেখানে আটকে পড়েছেন। এর আগে অভিনেত্রী সোনাল চৌহান, অভিনেতা বিঞ্চু মাঞ্চু ও অভিনেত্রী এশা গুপ্তর দুবাইয়ে আটকে পড়ার খবর প্রকাশ্যে আসে।

অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

তিন বছর আগে দুবাইয়ে বসবাস শুরু করা এরিকা জানান, স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখনো দুবাইয়ে আছি এবং নিরাপদে আছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার যেভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আশ্বস্ত করার মতো।’ তবে মানসিক চাপের কথা লুকাননি এই অভিনেত্রী। তাঁর ভাষায়, ‘পরিস্থিতি সহজ নয়। আকাশে যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো একেবারেই খুব ধাক্কা দেয়। আশপাশের মানুষ, বন্ধু ও পরিবার—সবাই নিজের চোখে এই পরিস্থিতি দেখছে। এটা মানসিকভাবে কঠিন। কোনোভাবে ঢেকে বলার সুযোগ নেই—পরিস্থিতি ভয়ংকর।’

এরিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি, নিরাপদে আছি এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলছি। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের সেরা পথ। যেখানে যাঁরা আছেন, সবার জন্যই আমার শুভকামনা। আমরা এক মুহূর্ত করে এগোচ্ছি।’

অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
অভিনেত্রী এরিকা ফার্নান্দেজ। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

দুবাই সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের তুলনামূলক নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে সেখানকার বাসিন্দা ও প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও আপাতত স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন এরিকা ফার্নান্দেজ।

ইন্ডিয়াডটকম অবলম্বনে

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দেশের তারকা ও কলাকুশলীরা। আত্মহত্যার ঘটনায় এবার ‘আয়নাবাজি’ অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর স্ট্যাটাসের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন।

সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা আলভীর স্ত্রী
সম্প্রতি আত্মহত্যা করেছেন অভিনেতা আলভীর স্ত্রী

স্ট্যাটাসে নাবিলা লিখেছেন, তিনি আত্মহত্যাকে একটি ‘চরম স্বার্থপর কাজ’ হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, ‘দুঃখিত, আমি আত্মহত্যাকে খুবই স্বার্থপর একটি কাজ বলে মনে করি। নিজের কষ্ট যদি বাবা-মা ও সন্তানের কষ্টের চেয়ে বড় হয়ে যায় এবং সন্তানকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিয়ে নিজের কষ্ট থেকে মুক্তি নেওয়াই মুখ্য হয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে স্বার্থপরতা।’

এই ঘটনার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ববোধের জায়গাটি সামনে এনেছেন এই অভিনয়শিল্পী। তিনি লিখেছেন, ‘নায়কোচিত আচরণ শুধু পর্দায় দেখালেই যথেষ্ট নয়; বাস্তব জীবনে পরিস্থিতি ও নিজের কাজের দায়ও নিতে হয়।’

আলভী ও ইকরা দম্পতির সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাবিলা। কারণ, একটি শিশু মা ছাড়া বেড়ে ওঠা কঠিন। নাবিলা লিখেছেন, ‘বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ যাতে সুস্থ আর নিরাপদ হয় এই দোয়া করি, আল্লাহ তার বাবা মাকে এই কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিক।’

[caption id="attachment_268642" align="alignnone" width="526"]
অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক[/caption]

একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেক মানুষের জীবন যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বড়। প্রেম বা সম্পর্কের চেয়ে অনেক বড়। জীবন কখনো রূপকথা নয়, এটি কঠিন, তিক্ত ও নির্মম।

নাবিলা লিখেছেন, ‘জীবনের একটি বিশেষ সৌন্দর্য আছে। আর যদি আপনার সন্তান থাকে, তাহলে জীবনের চেয়ে বড় আর কোনো আনন্দ কি চাইবেন? আপনার সন্তানের জন্য বেঁচে থাকুন, তার জন্য লড়ুন এবং তাকে একজন চমৎকার মানুষ হিসেবে বড় হতে দেখুন। জীবন যতই তিক্ত ও নির্মম হোক, হাল ছেড়ে দেওয়া কাজের কথা না। মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা, সব কষ্টের মধ্যেও অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক।’

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে স্বপ্নের বিয়ে সেরেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা। বিয়ের সন্ধ্যাতেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁদের চারহাত এক হওয়ার ছবি, যা দেখে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দর্শক-অনুরাগীরা। প্রায় আট বছরের সম্পর্কের মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়েছে উদয়পুরে। তবে গতকাল রাতে প্রকাশ্যে এসেছে বিয়ের আরও কিছু অদেখা ছবি, যা অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক দুই তারকা সম্পর্কে কিছু তথ্য—

খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
 এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে
‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে

দাম্পত্য কলহ ও পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা করা অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরাকে ময়মনসিংহের ভালুকার রানদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে দাফন করা হয়েছে।

রোববার (১ মার্চ) বাদ মাগরিব জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এ সময় স্বজনদের কান্নায় থমথমে হয়ে ওঠে পরিবেশ।

দাফনের আগে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে ইকরার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। দুপুর ২টায় ময়নাতদন্ত শেষ হলে মরদেহ নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে ভালুকার উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা।

দাফনের সময় উপস্থিত হতে পারেনি ইকরার স্বামী ও অভিনেতা আলভী। বর্তমানে একটি নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছেন তিনি। স্ত্রীর করুণ মৃত্যুর পরও কেন তিনি দেশে পৌঁছাতে পারেননি, তা নিয়ে নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে অভিনেতা জানিয়েছেন, ঢাকার ফ্লাইটের টিকিট না পাওয়ার কারণেই দ্রুত রওনা হতে পারেননি তিনি।

এদিকে স্ত্রীর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে অভিনেতা জাহের আলভীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। একই মামলায় অভিনেত্রী তিথি ও অভিনেতার মাকেও আসামি করা হয়েছে। রাজধানীর পল্লবী থানায় ইকরার মামা শেখ তানভীর আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও নির্যাতনের মাধ্যমে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। মামলার বিষয়টি সময় সংবাদকে নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আলমগীর জাহান।

২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী-ইকরা। তাদের ঘরে রয়েছে এক পুত্রসন্তান। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্যে স্বামীর পরকীয়া ও মানসিক নির্যাতনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ইকরা। সামাজিক মাধ্যমে ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাট নেটদুনিয়ায় ফাঁস হওয়ার পর বিষয়টি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে দেশজুড়ে।

 

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ায় বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান বর্তমানে সেখানেই আটকে পড়েছেন। নিরাপদে ভারতে ফিরতে তিনি ভারতের সরকারের সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দেয় এবং দুবাইসহ একাধিক শহরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এই অবস্থায় দুবাইয়ে অবস্থানরত সোনাল চৌহান ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে লেখেন, তিনি চলমান সংকটের মধ্যে দুবাইয়ে আটকে আছেন এবং দেশে ফেরার কোনো পরিষ্কার পথ নেই। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেন।

সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসকেও উল্লেখ করে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানান। তাঁর এই আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় আটকে পড়েছেন তিনি। নিরাপদে এবং সঠিক সময়ে নিজভূমে ফেরার কোনো আশা তিনি দেখছেন না। ‘আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বাঁচান’, লিখেছেন তিনি।

শুধু সোনাল নন, এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকাও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সান্ধ, দক্ষিণি তারকা অজিত দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দোহায় থাকা ভারতীয় বাস্কেটবল দলও যাত্রা স্থগিতের কারণে এগোতে পারছে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল ও বাহরাইনের আকাশসীমা কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

গতকাল শনিবার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরার অপমৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। স্বামী জাহের আলভী ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইকরাকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে খোলাচিঠি লিখেছেন অভিনেত্রী তমা মির্জা। দাম্পত্য জীবনে তারকা খ্যাতির আড়ালে ইকরার জন্য ভালোবাসা নাকি অবহেলা ছিল? কেন এমন জীবন বেছে নিলেন এই অভিনেত্রীর স্ত্রী—সেই প্রশ্নই তুলেছেন তমা।

জাহের আলভী ও ইকরা। ছবি: কোলাজ
জাহের আলভী ও ইকরা।

তমা লিখেছেন, ‘একটা মেয়ে কাউকে ভালোবাসলে সেই ভালোবাসার মানুষটির শূন্য পকেট হলেও তাকে ভালোবাসে। তার পাশে থাকে, তার সাহস জোগায়, জীবনে অনেক দূর এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়, পুরো পৃথিবীর সঙ্গে যুদ্ধ করে তবুও ভালোবাসার মানুষটার হাত ছাড়ে না।’

কিন্তু সেই একই মানুষের জীবনে সফলতা এলে জীবনটা বদলে যায়। সবার আগে সে জীবনে এগিয়ে থাকা মানুষটাকে অবহেলা করতে শুরু করে বলে মনে করেন তমা।

তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক থেকে
তমা মির্জা। ছবি: ফেসবুক থেকে

এই প্রসঙ্গে তমা লিখেছেন, ‘ভালোবাসার সেই মানুষটা যখনই জীবনে সফলতা পায়, পূর্ণতা পায়, ভালোবাসার মানুষ প্রতিষ্ঠিত হয়ে সবার প্রথম ওই মেয়েটিকেই ঠকায়, প্রতারণা করে, অবহেলা করে, কষ্ট দেয়, তুচ্ছ–তাচ্ছিল্য করে, প্রতিনিয়ত মানুষিক যন্ত্রণা দেয়।’
তমা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও লিখেছেন, ‘একটা মেয়ে সব মেনে নিতে পারে, সহ্য করতে পারে; কিন্তু তার ভালোবাসার মানুষের এই বদলে যাওয়া চেহারা মানতে পারে না, তখন জীবনটা অর্থহীন হয়ে যায়, নিজের কাছে জীবনের কাছে সে হেরে যায়। সবকিছু থেকে নিজেকে মুক্ত করে ওই মানুষটাকে মুক্তি দিয়ে সবার থেকে দূরে চলে যায়।’

পরিবারের সঙ্গে জাহের আলভী। ছবি: ফেসবুক থেকে
পরিবারের সঙ্গে জাহের আলভী। ছবি: ফেসবুক থেকে

তমার মতে, কখনো জীবনটা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে তখন হয়তো কেউ কেউ জীবন থেকে সরে দাঁড়ায়। কিন্তু এতে কী কোনো কিছু থমকে যায়? ‘এই চলে যাওয়াতে ওই মানুষটার জীবন থেমে থাকে না, কোনো উপলব্ধি হয় কি না, তা–ও আমার জানা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, মেয়েটা বেঁচে থেকে যে যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছিল হয়তো তার থেকে একটু কম যন্ত্রণার জায়গা সে খুঁজে নিয়েছে’—লিখেছেন তমা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব