দক্ষিণি সিনেমার দর্শকের কাছে ২০০০–এর শুরুর সময়টা আজও এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই সময় পর্দাজুড়ে ছিলেন রীমা সেন। ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’র চরিত্রে তামিল ও তেলুগু সিনেমার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই অভিনেত্রী আজ অনেকটাই আড়ালে। খ্যাতির শিখর ছুঁয়েও কেন তিনি আলো–ঝলমলে দুনিয়া ছেড়ে গেলেন—সে গল্পই যেন এক অন্য রকম জীবনচিত্র।

কলকাতায় জন্ম নেওয়া রীমা সেন খুব অল্প বয়সেই মডেলিং শুরু করেন। নব্বইয়ের শেষ দিকে জনপ্রিয় মিউজিক ভিডিওতে তাঁর উপস্থিতি তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। বিশেষ করে সেই সময়ের হিট অ্যালবাম ভিডিওগুলোয় তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি নির্মাতাদের নজর কাড়ে, আর সেখান থেকেই খুলে যায় সিনেমার দরজা।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

২০০০ সালে তেলুগু ছবি ‘চিত্রাম’ দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। প্রথম ছবিই দর্শকের মন জয় করে নেয়। কিন্তু সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠা তাঁর জন্য সময় নেয়নি খুব বেশি। ২০০১ সালে ‘মিনালে’ মুক্তি পাওয়ার পর রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে উঠে যান তিনি। ছবিটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন আর মাধবন।

‘ভাসেগারা’ গানটি যেন তাঁর ক্যারিয়ারের পরিচয় হয়ে ওঠে। কলেজ রোমান্সের আবহ, সরল অভিব্যক্তি আর একধরনের নির্ভেজাল পর্দা উপস্থিতি—সব মিলিয়ে রীমা সেন হয়ে ওঠেন সেই সময়ের রোমান্টিক সিনেমার অন্যতম মুখ। আজও গানটি বাজলে বহু দর্শকের চোখে ভেসে ওঠে তাঁর হাসি, তাঁর সহজ অভিনয়।

সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি
সিনেমার দৃশ্যে রীমা সেন। আইএমডিবি

এরপর তামিল ও তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি ভিন্নধর্মী চরিত্রেও দেখা যায় তাঁকে। কখনো রোমান্টিক নায়িকা, কখনো সাহসী বা নেতিবাচক চরিত্র—সবখানেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন তিনি। তাঁর অভিনয়যাত্রা দক্ষিণি সিনেমার গণ্ডি ছাড়িয়ে বলিউডেও পৌঁছায়। ২০১২ সালে ‘গ্যাংস অব ওয়াসেপুর’–এ তাঁর উপস্থিতি সমালোচকদের নজর কাড়ে। সেই ছবিই হয়ে যায় তাঁর শেষ চলচ্চিত্র।

ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ব্যক্তিগত জীবনের দিকে ঝুঁকে পড়েন রীমা সেন। ২০১২ সালে তিনি ব্যবসায়ী শিব করণ সিংকে বিয়ে করেন। পরের বছর মা হওয়ার পর প্রায় নিঃশব্দেই তিনি সিনেমা থেকে সরে যান। কোনো আনুষ্ঠানিক বিদায় নয়, কোনো ঘোষণা নয়—শুধু আলো থেকে নিজেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া।

অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু রীমা নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। পরিবার, সন্তান আর ব্যক্তিগত জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি মিডিয়া আর লাইমলাইট থেকে দূরে থাকাকে বেছে নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি খুব কম সক্রিয়, জনসমক্ষে দেখা মেলে আরও কম।

তবে আড়ালে থাকলেও রীমার জনপ্রিয়তা ফিকে হয়নি। পুরোনো গান, পুরোনো সিনেমা কিংবা দক্ষিণি সিনেমার নস্টালজিয়া ঘিরে আলোচনা উঠলেই ফিরে আসে তাঁর নাম।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব