• অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাবার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বক্তব্য

    চলচ্চিত্র নির্মাণের নামে ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরীর বাবা দেব প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই এই নায়িকা সম্পৃক্ত নন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

    পূজা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘সম্প্রতি আমার বাবা দেব প্রসাদ রায়ের গ্রেপ্তার এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা ফোন এবং বার্তায় জানতে চাইছেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তি এড়াতে আমি আমার অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।’

    পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
    পূজা চেরি। ছবি: ফেসবুক থেকে
     

    দীর্ঘ প্রায় এক যুগের ক্যারিয়ার পূজার। এই সময়ে তিনি কখনোই এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে আমি মিডিয়াতে কাজ করছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনযাপনের খরচ সম্পূর্ণভাবে নিজেই নির্বাহ করে আসছি।’

    নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে এই নায়িকা আরও লিখেছেন, ‘আমার বাবার কোনো ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই। এমনকি আমি বর্তমানে কোনো প্রোডাকশন হাউস বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত নই।’

    পূজা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শিল্পী হিসেবে তিনি সব সময় দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন এবং সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছেন। কিন্তু পরিবারের এমন ঘটনা তাঁর জন্য কষ্টদায়ক উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘পরিবারের সদস্য হওয়ার সূত্রে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি আমার জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক, তবে এটি একান্তই তার ব্যক্তিগত আইনি বিষয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং সত্য উদ্‌ঘাটিত হবে।’

    এমন ঘটনায় অনেকেই এই অভিনেত্রীকে জড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে পূজা লিখেছেন, ‘এই স্পর্শকাতর সময়ে অহেতুক আমাকে বা আমার কাজকে এই ঘটনার সঙ্গে না জড়ানোর জন্য বিনীত অনুরোধ করছি। আমি আমার দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশে চাই।’

    মামলাটি নিয়ে সবশেষে পূজা চেরীর মন্তব্য, ‘মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে, বিষয়টি বিজ্ঞ আদালত দেখবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন।’

  • অর্থনীতিবিদদের আভাস স্পেনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে ফ্রান্স

    অর্থনীতিবিদদের টেবিলজুড়ে সব সময়ই থাকে যুদ্ধবিগ্রহের আঁচ, মূল্যস্ফীতির খতিয়ান কিংবা সামষ্টিক অর্থনীতির একঘেয়ে মারপ্যাঁচ। এই রুক্ষ হিসাব-নিকাশের খাতা থেকে একটু মুক্তি পেতে কে না চায়! চার বছর পরপর তাই তাঁরাও মেতে ওঠেন এক অদ্ভুত স্বস্তির খেলায়।

    আগামী বিশ্বকাপ সামনে রেখে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তেমনি এক জরিপ চালিয়েছিল। যেখানে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বের নামীদামি ১৬০ জন অর্থনীতিবিদ। তবে জটিল সব তত্ত্ব দেওয়া এই পণ্ডিতেরা এবার অকপটে স্বীকার করেছেন এক মধুর সত্য—মূল্যস্ফীতির কঠিন হিসাব কষা যত না কঠিন, তার চেয়েও ঢের কঠিন বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ীর নাম বলা!

    সে যাক, অর্থনীতিবিদদের সেই জটিল সব গাণিতিক মডেল আর মনের সহজাত অনুভূতি এবার এক সুরে গান গাইছে ফরাসিদের পক্ষে। তাঁদের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ১৯ জুলাই বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে ফ্রান্স।

    ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম
    ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম, এএফপি
     

    অর্থনীতিবিদদের এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, তবে দিদিয়ের দেশম ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অমরত্ব পেয়ে যাবেন। ইতালির ভিত্তোরিও পোজ্জোর পর দ্বিতীয় কোচ হিসেবে গড়বেন দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার পর আবারও কোচ হিসেবে ট্রফি ছোঁয়ার অনন্য এক রেকর্ডও হয়ে যাবে। জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফরাসিরা যেখানে শীর্ষে, ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে স্প্যানিশরা ঠিক তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে। শীর্ষ পাঁচের বাকি তিনটি নামও বেশ চেনা—বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের চূড়ায় থাকা আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল ও ইংল্যান্ড।

    ব্রাজিলের সমর্থকেরা এই জরিপ দেখে নির্ঘাত চোখ ফিরিয়ে নেবেন। কার্লো আনচেলত্তির মতো হাইপ্রোফাইল চাণক্য ডাগআউটে থাকার পরও পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না বিশ্লেষকেরা। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে সেই যে বুক ভেঙেছিল সেলেসাওদের, সেই ক্ষতের দাগ এখনো দগদগে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থনীতিবিদের চোখে এবার ব্রাজিলের কপালে জুটছে ‘সবচেয়ে বড় হতাশাজনক পরাশক্তি’র তকমা। ব্রাজিলের পেছনেই আছে ইংল্যান্ড ও জার্মানি।
    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন।
    অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস বলছে, বিশ্বকাপে রানার্স আপ হবে স্পেন। এএফপি

    লন্ডনভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘আরবিসি’র জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথাল কেনেডি ফরাসিদের এই রাজত্ব ফিরে পাওয়ার পেছনে দেখিয়েছেন নিরেট যুক্তি। তাঁর মতে, ২০২২ ফাইনালের সেই লুসাইল ট্র্যাজেডির ক্ষত ভুলে ফ্রান্স এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। দলটিতে আছেন ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকা একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার। পিএসজি থেকে উঠে আসা কিছু তরুণ ফুটবলার দলটিকে আরও শক্তিশালী করেছেন। আর সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড? কেনেডি মনে করিয়ে দিলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, তারা একদম ফুরফুরে মেজাজে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে পাচ্ছে।’

    কিলিয়ান এমবাপ্পেই এবার ‘গোল্ডেন বল’ আর ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে। বিশ্লেষকদের চোখে তাঁর ঠিক পেছনেই হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে এই মৌসুমে ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা কেইন এবার ইংলিশদের স্বপ্নসারথি। এই দুই মহাতারকার সামনেই নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১২টি, কেইনের ৮টি। জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে লিওনেল মেসির (১৩ গোল) সঙ্গে আছেন তাঁরাও।

    কিলিয়ান এমবাপ্পে
    কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল

    অর্থনীতিবিদদের এই অনুমানের পেছনে কি শুধুই খাতা-কলমের হিসাব, নাকি মনের ভেতরের লুকানো কোনো টানও আছে? জরিপে অংশ নেওয়া ৮ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অকপটে স্বীকার করেছেন, দেশের প্রতি অন্ধ ভালোবাসাই তাঁদের দিয়ে দল পছন্দ করিয়েছে। যেমন দুজনের চোখে চ্যাম্পিয়ন জাপান, একজন মেক্সিকো আর একজনের ভোট পড়েছে মরক্কোর বাক্সে। এসবের যেকোনো একটা সত্যি হলে এবারের বিশ্বকাপ সব রূপকথাকে ছাড়িয়ে যাবে! তবে ৭৩ শতাংশ অর্থনীতিবিদই জানিয়েছেন, কোনো যুক্তি নয়, তাঁরা মনের সহজাত অনুভূতি থেকেই এই অনুমান করেছেন।

    বাকি প্রায় ২০ শতাংশ অর্থনীতিবিদ অবশ্য খাঁটি পেশাদার। তাঁরা কঠিন সব ডেটা ও বিশেষ গাণিতিক মডেলের ওপর নির্ভর করেছেন।

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

    স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস
    স্পেনের জার্সিতে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস, এএফপি
     

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপটি হতে যাচ্ছে ৪৮টি দলের, ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি। আয়োজক হিসেবে থাকছে তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। এত বড় মহাযজ্ঞে আন্ডারডগ বা কালো ঘোড়া হিসেবে ২১ শতাংশ ভোট নিয়ে সবার আগে আছে আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে। ১৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তাদের পেছনে জাপান।

    আর উদীয়মান তারকার ক্যাটাগরিতে যে মোট ৪৬ জন ফুটবলারের নাম এসেছে, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে স্পেনের ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামালের বাক্সে। গোলপোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী বা ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ জয়ের লড়াইয়ে ফেবারিটের তালিকায় আছেন ফ্রান্সের মাইক মাইনিয়, আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও স্পেনের উনাই সিমন।

     

    অর্থনীতির গ্রাফের ওঠানামা হয়তো পৃথিবীর ভাগ্য বদলায়, তবে দিন শেষে মনে রাখতে হবে, ফুটবলের সবুজ মাঠে কোনো অর্থনৈতিক মডেল কাজ করে না। সেখানে শেষ কথা বলে জাদুকরের পায়ের জাদু। সব সমীকরণ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে হয়তো ফুটবল তার নিজের পাণ্ডুলিপি নিজেই লিখবে।

    তবে আপাতত অর্থনীতিবিদদের ভবিষ্যদ্বাণী মেনে নিয়ে ফরাসিরা বলতেই পারেন, ‘লা ভি এন রোজ’—জীবন আসলেই চমৎকার!

  • অলিম্পিকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে ‘জিন টেস্ট’: মেয়েদের ইভেন্টে খেলতে লাগবে প্রমাণ

    আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানিয়েছে, এখন থেকে শুধু জন্মগতভাবে নারী ক্রীড়াবিদেরাই অলিম্পিক গেমসের মেয়েদের ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে পারবেন। জন্মগতভাবে নারী কি না, তা পরীক্ষা করা হবে জিন-স্ক্রিনিং পরীক্ষার মাধ্যমে।

    আইওসির এই নিয়মের ফলে এখন থেকে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের তাঁদের পরিবর্তিত পরিচয়ে বিবেচনা করা হবে না। সবাইকে জন্মগত লিঙ্গ অনুসারে দেখা হবে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিযোগিতায় এ নিয়ম কার্যকর থাকবে।

    আইওসি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইওসি বিবেচনা করে যে এসআরওয়াই জিনের উপস্থিতি সারা জীবনের জন্য অপরিবর্তিত থাকে এবং এটি একজন ক্রীড়াবিদের পুরুষ যৌন বিকাশ অনুভব করার একটি অত্যন্ত নির্ভুল প্রমাণ।’ আইওসি দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিকে ট্রান্সজেন্ডার অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো সর্বজনীন নিয়ম প্রয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল। ২০২১ সালে সংস্থাটি বিভিন্ন খেলার আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোকে তাদের নিজস্ব নির্দেশিকা তৈরি করে সে অনুযায়ী চলার নির্দেশ দিয়েছিল।

    তবে গত বছরের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইওসির নতুন প্রেসিডেন্ট কির্স্টি কভেন্ট্রি ভিন্ন অবস্থান নেন। তিনি জানান, একটি অভিন্ন পদ্ধতিই সব খেলায় প্রয়োগ করা হবে। আজ আইওসির বিবৃতিতে কভেন্ট্রি বলেন, ‘অলিম্পিক গেমসে সামান্যতম ব্যবধানও জয় এবং পরাজয়ের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। তাই এটি একেবারে পরিষ্কার যে জন্মগত পুরুষদের নারী ক্যাটাগরিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ন্যায্য হবে না। এ ছাড়া কিছু খেলাধুলার ক্ষেত্রে এটি মোটেও নিরাপদ হবে না।’

    অবশ্য আগের কোনো ঘটনা এবং তৃণমূল বা অপেশাদার খেলাধুলার ওপর আইওসির নতুন নীতিমালার কোনো প্রভাব থাকবে না। আইওসি জানিয়েছে, লিঙ্গ বিকাশের বিরল ক্ষেত্রগুলোর জন্য কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।

    ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে নারী ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দুজন বক্সারকে নিয়ে লিঙ্গ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। দুজনই নিজ নিজ ওজন শ্রেণিতে সোনা জিতেছিলেন। তার এক বছর আগে লিঙ্গযোগ্যতা পরীক্ষার জেরে তাঁদের আন্তর্জাতিক ফেডারেশন কর্তৃক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

    ফেডারেশনগুলোতে কী নিয়ম

    আজকের আগপর্যন্ত ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের নিজ নিজ ফেডারেশন থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর অলিম্পিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হতো। অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, রাগবি ইউনিয়নসহ কিছু ফেডারেশন এরই মধ্যে নিজস্ব নিয়ম তৈরি করেছে, যেখানে পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া অ্যাথলেটদের নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নিষিদ্ধ।

    এখন পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদ অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের লরেল হাবার্ড ২০২১ সালে টোকিও অলিম্পিকে ভারোত্তোলক হিসেবে অংশ নিয়ে প্রথম প্রকাশ্যে আসা ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেট হিসেবে জন্মগতভাবে নির্ধারিত লিঙ্গের বাইরে অন্য লিঙ্গ বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

    রয়টার্স

  • অস্কারের ৯৮তম আসরে পুরস্কার পেলেন যারা

    বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার অস্কার বা একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৮তম আসর জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ডলবি থিয়েটারে। স্থানীয় সময় রোববার (১৫ মার্চ) রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের এই বিখ্যাত ভেন্যুতে বসে বিশ্ব তারকাদের বহুল প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠান।

    এ বছরের আসরে বিভিন্ন শাখায় সেরা শিল্পী, নির্মাতা ও চলচ্চিত্রের নাম ঘোষণা করা শুরু হয়েছে। উপস্থাপক হিসেবে মঞ্চে রয়েছেন জনপ্রিয় কমেডিয়ান ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব কোনান ও’ব্রায়েন, যিনি একে একে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করছেন।

    চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকা, নির্মাতা ও অতিথিদের উপস্থিতিতে জমকালো পরিবেশে শুরু হয় অস্কারের এই আয়োজন। লাল গালিচায় বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

    ৯৮তম অস্কারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীসহ অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শক টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই আয়োজন সরাসরি উপভোগ করছেন।

    এক নজরে জেনে নেয়া যাক, উল্লেখযোগ্য বিভাগে কাদের হাতে উঠলো এবারের পুরস্কারঃ

    সেরা অভিনেতা: মাইকেল বি জর্ডান (সিনার্স)

    সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলি

    সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)

    সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: অ্যামি ম্যাডিগান (ওয়েপনস)

    সেরা পরিচালক: পল টমাস অ্যান্ডারসন

    সেরা সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স

    সেরা চিত্রনাট্য (অ্যাডাপ্টেড): ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা অ্যানিমেটেড ফিচার ফিল্ম: কেপপ ডেমন হান্টার্স

    সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেটেড: দ্য গার্ল হু ক্রাইড পার্লস

    সেরা কস্টিউম ডিজাইন: ফ্রাঙ্কেনস্টাইন

    সেরা মেকাপ ও হেয়ারস্টাইলিং: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

    সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন: ফ্র্যাঙ্কেস্টাইন

    সেরা সম্পাদনা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার

    সেরা ভিজুয়াল ইফেক্টস: অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ

    সেরা মৌলিক গান: গোল্ডেন (কেপপ ডেমন হান্টার্স)

    সেরা মৌলিক সংগীত: সিনার্স

    সেরা সাউন্ড: এফ১

    সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার ফিল্ম: মিস্টার নোবডি এগেনস্ট পুতিন

    সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু

    সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: সিনার্স।

     

  • অস্বস্তি থেকে উপভোগের মন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন কিয়ারা

    মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
    ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

    অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

    সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

    শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
    বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

    টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

    ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

  • অস্বস্তি থেকে উপভোগের মন্ত্র খুঁজে পেয়েছেন কিয়ারা

    মাতৃত্বকালীন বিরতির পর নতুন উদ্যমে কাজে ফিরছেন কিয়ারা আদভানি। শিগগিরই মুক্তি পাবে অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ছবি ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। কারণ, ‘কেজিএফ ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের পর দীর্ঘ বিরতি ভেঙে আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন যশ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো যশ ও কিয়ারাকে একসঙ্গে দেখতে মুখিয়ে আছেন দর্শকেরা।
    ভারতীয় গণমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ঘোষণার পর থেকেই।

    অ্যাকশন, আবেগ আর গাঢ় নাটকীয়তার মিশেলে নির্মিত এই ছবির পরিচালক জাতীয় পুরস্কারজয়ী নির্মাতা গীতু মোহনদাস। এর আগে তাঁর নির্মাণশৈলী ও চরিত্রনির্ভর গল্প বলার ধরন প্রশংসিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ফলে যশের মতো বড় তারকা ও গীতুর মতো নির্মাতার সমন্বয় শুরু থেকেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

    সম্প্রতি বম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘টক্সিক’–এ কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কিয়ারা। তিনি জানান, এই ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য অন্য রকম ছিল। বিশেষ করে পরিচালক গীতু মোহনদাসের কাজের ধরন তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। ‘গীতু আমাকে আগেই বলে দিয়েছিলেন, ‘তুমি যখন সেটে আসবে, আমি চাই তুমি পুরোপুরি তোমার চরিত্রের মধ্যে থাকো।’ বললেন কিয়ারা। এ তারকা জানালেন, তিনি সাধারণত সেটে গিয়ে সবার সঙ্গে ‘হাই’, ‘হ্যালো, ‘গুড মর্নিং’ বলেন। কিন্তু পরিচালক স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা চাই না। সরাসরি চরিত্রের জোনে চলে যেতে। কারও সঙ্গে হাই-হ্যালো নয়, এমনকি নিজের টিমের সঙ্গেও নয়। শুরুতে বিষয়টি কিয়ারার কাছে কিছুটা অস্বস্তিকর মনে হয়েছিল। কারণ, তিনি বরাবরই প্রাণবন্ত পরিবেশে কাজ করতে অভ্যস্ত। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, পরিচালক আসলে চরিত্রের আবেগ ও মানসিক অবস্থাকে বাস্তবভাবে ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধীরে ধীরে আমি বিষয়টা উপভোগ করতে শুরু করি। এতে চরিত্রের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকা সহজ হয়েছে।’

    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে
    ‘টক্সিক’ –এ কিয়ারা ও যশ। এক্স থেকে

    শুধু মানসিক প্রস্তুতিই নয়, ভাষাগত দিক থেকেও ‘টক্সিক’ কিয়ারার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এই ছবির অনেক দৃশ্য তাঁকে কন্নড় ভাষায় অভিনয় করতে হয়েছে। কিয়ারা বলেন, ‘এটাই প্রথমবার, যখন আমরা একই দৃশ্য ইংরেজি ও কন্নড়—দুই ভাষায় শুট করেছি। প্রথমে ইংরেজিতে দৃশ্যটি করা হতো। নিখুঁত টেক পাওয়ার পর আবার কন্নড়ে একই দৃশ্য ধারণ করা হতো। কন্নড় তো আমার ভাষা নয়। ফলে প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে আমাকে আগের রাতেই সংলাপ মুখস্থ করতে হতো। শুধু উচ্চারণ ঠিক করাই নয়, আবেগটাও একইভাবে ধরে রাখতে হতো। এটা সত্যিই কঠিন ছিল।’
    বলিউডে বহু অভিনেতা দক্ষিণ ভারতীয় ছবিতে কাজ করলেও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে খুব কম তারকাই এত খোলামেলা কথা বলেন। কিয়ারার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, চরিত্রের জন্য তাঁর এই প্রস্তুতি ছবিটির প্রতি তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ।

    টক্সিক ছবিটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ যশ। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্যের পর তিনি ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন। বিশেষ করে ‘কেজিএফ ২’ বিশ্বজুড়ে বিপুল ব্যবসা করার পর দর্শকেরা অপেক্ষায় ছিলেন তাঁর নতুন ছবির ঘোষণার জন্য। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসে টক্সিক। শুরু থেকেই ছবিটিকে প্যান ইন্ডিয়া পরিসরে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ভারতজুড়ে ছবিটির বাজার ও প্রত্যাশা দুটোই বড়।

    ছবিটিতে যশ ও কিয়ারা ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন নয়নতারা, হুমা কুরেশি, রুক্মিণী বসন্ত ও তারা সুতারিয়া। বড় তারকাবহুল এই কাস্ট ছবিটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে নয়নতারার যুক্ত হওয়াকে অনেকেই ছবির বড় চমক হিসেবে দেখছেন।

    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কিয়ারা আদভানি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
     

    কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের ব্যানারে নির্মিত ‘টক্সিক’ প্রথমে ৪ জুন মুক্তির কথা ছিল। তবে পরে নির্মাতারা মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেন। এখনো নতুন মুক্তির দিন ঘোষণা করা হয়নি। যদিও দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটির আপডেট, পোস্টার ও তারকাদের মন্তব্য ঘিরে আলোচনা আরও বাড়ছে।

  • অ্যালকোহলে আসক্তি নিয়ে কথা বলে বিপাকে জাহ্নবী

    মাদকাসক্তি নিয়ে নিজের মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিষয়টি পরিষ্কার করলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তাঁর সঙ্গে যুক্ত অ্যালকোহল-আসক্তি সচেতনতা উদ্যোগ ‘অব দ্য রকস অ্যান্ড আমাহা’ এক বিবৃতিতে জানায়, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাঁর বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।

    ‘ভুল ব্যাখ্যা উদ্বেগজনক’
    গতকাল রাতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে জাহ্নবীর সম্পৃক্ততা ও তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’। বিবৃতিটি জাহ্নবী নিজেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করেন।
    বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘জাহ্নবী কাপুর এই আলোচনায় যুক্ত একজন সহমর্মী ও সহযোগী হিসেবে; তিনি নিজে কখনো আসক্তি বা অ্যালকোহল–নির্ভরতার অভিজ্ঞতার মধ্যে ছিলেন না।’ এ ধরনের ভুল ব্যাখ্যা তাঁর ভূমিকাকে খাটো করে এবং আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে অসম্মান করে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    জাহ্নবী কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ক্লিকবেটের বিরুদ্ধে সতর্কতা
    বিবৃতিতে গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ব্যক্তিদের প্রতি দায়িত্বশীলভাবে খবর প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়, আসক্তির মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো শুধু ক্ষতিকরই নয়, এটি সংশ্লিষ্ট মানুষদের প্রতি অসম্মানজনকও।

    কী বলেছিলেন জাহ্নবী
    এই বিতর্কের সূত্রপাত রাজ সামানির পডকাস্টে দেওয়া জাহ্নবীর এক মন্তব্য থেকে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতার পর তিনি কিছু সময় নিয়মিত মদ্যপান করতেন।

    জাহ্নবী কাপুর
    জাহ্নবী কাপুর, জাহ্নবী কাপুরের ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তবে জাহ্নবী পরিষ্কার করেন, ‘আমি বলব না যে আমি আসক্ত ছিলাম বা অ্যালকোহলের অপব্যবহার করতাম, কিন্তু তখন আমি প্রায়ই মদ্যপান করতাম।’
    বিষয়টি বুঝে উঠতে সময় লেগেছিল অভিনেত্রীর। ক্রমে বুঝতে পারছিলেন, মদ্যপান তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। সকালবেলায়ও অস্বস্তি হতো তাঁর।

    জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছিল, সেটা আমার ভালো লাগছিল না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে অনুভূতি হতো, তা মোটেই সুখকর ছিল না। নিজের শরীর থেকেই এক অদ্ভুত গন্ধ বেরোত। এই গন্ধ আমার খুব পরিচিত ছিল। আমারই এক চেনা ব্যক্তি, যিনি নেশাগ্রস্ত থাকতেন, তাঁর শরীর থেকে এমন গন্ধ বেরোত।’ এভাবেই ক্রমে বুঝলেন, মদ্যপান মোটেই ঠিক নয় স্বাস্থ্যের জন্য। ক্রমে সেই অভ্যাস ত্যাগ করেন অভিনেত্রী।

    সামনে কী কাজ
    কাজের দিক থেকে জাহ্নবী কাপুরকে পরবর্তী সময়ে দেখা যাবে ‘পেড্ডি’ ছবিতে, যেখানে তাঁর সহ-অভিনেতা রামচরণ। ছবিটি মুক্তি পাবে আগামী ৬ জুন।

  • আইপিএল এবার ৩৬ বলে সেঞ্চুরি সূর্যবংশীর, টি–টুয়েন্টির নতুন বিশ্ব রেকর্ড

    বৈভব সূর্যবংশী ব্যাট করতে নামবেন আর চার-ছক্কার বৃষ্টি ঝরিয়ে রেকর্ড বইয়ে ওলট-পালট করবেন—এমন দৃশ্য এখন নতুন কিছু নয়। তবে আজ হায়দরাবাদের বিপক্ষে রাজস্থানের ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান যা করেছেন, তা রেকর্ড ছাড়িয়েও যেন বেশি কিছু।

    সূর্যবংশী আজ ৩৭ বলে করেছেন ১০৩ রান। টি-টুয়েন্টিতে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি। ছেলেদের টি-টুয়েন্টিতে সবচেয়ে কম ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরির নতুন বিশ্ব রেকর্ড হয়েছে তাতে। আর রেকর্ডগড়া ইনিংসটিই সূর্যবংশী খেলেছেন অনেকটা ‘প্রতিশোধের’ আবহে।

    এবারের আইপিএলে গত ১৩ এপ্রিল প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল রাজস্থান-হায়দরাবাদ। সে দিন প্রথম বলেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেই দলের বিপক্ষে জয়পুরে আজ ১০৩—প্রতিশোধের কথা বলা হচ্ছে এ কারণেই। তবে এটুকুতেই আটকে থাকেননি বিহারের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

    সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী
    সেঞ্চুরির পথে ১২ ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী, এএফপি
     

    সূর্যবংশী সে দিন শূন্য রানে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছিলেন প্রফুল হিঞ্জের বলে। আজ সেই একই বোলারকে প্রথম ওভারে সামনে পেয়ে টানা চারটি ছক্কা মেরেছেন সূর্যবংশী। শুরুতেই অমন ঝড় তোলা এই বাঁহাতি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ১৫তম বলে। পরের পঞ্চাশে পৌঁছাতে অবশ্য একটু বেশি বলই লেগেছে। তবে ৩৬তম বলে সেই তিন অঙ্কও ছুঁয়েছেন দাপটের সঙ্গে লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে। আইপিএলে এটি তাঁর দ্বিতীয় আর সব মিলিয়ে চতুর্থ টি-টুয়েন্টি সেঞ্চুরি।

    পরিসংখ্যান বলছে, সূর্যবংশী চারটি সেঞ্চুরির মালিক হয়েছেন মাত্র ২৬ ইনিংসে। টি-টুয়েন্টিতে এর আগে সর্বনিম্ন ৩৩ ম্যাচে চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন পাকিস্তানের উসমান খান। তার চেয়ে ৭ ইনিংস কম খেলেই রেকর্ডটা নিজের করে নিয়েছেন সূর্যবংশী।

    ৫ ছক্কা ১২ ছক্কায় করা তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসটি থেমেছে সেঞ্চুরির পরের বলেই, সাকিব হুসাইনের বলে এলবিডব্লু হয়ে। টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা সূর্যবংশীর দল ২০ ওভারে করে ৬ উইকেটে ২২৮ রান।

  • আইপিএল কাঁপিয়ে কান্নায় বিদায় সূর্যবংশীর

    ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর কাঁদছে। এই বয়সী কারও কান্নার নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ পরীক্ষায় অঙ্কে কম নম্বর পেয়ে কাঁদতে পারে, কেউ কাঁদতে পারে প্রথমবারের মতো কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে কিংবা কেউ বন্ধুর সঙ্গে ঝগড়া করেও কাঁদতে পারে। গতকাল রাতেও এক কিশোর কেঁদেছে। যদিও বাকিদের কান্নার চেয়ে এই কিশোরের কান্নার পার্থক্যটা বিশাল। তাঁর কান্না গতকাল রাতে ছুঁয়ে গেছে লাখো ক্রিকেটপ্রেমীর মন।

    সেই কান্নার দৃশ্য টেলিভিশন পর্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানোর পরপর ভাইরাল হয়েছে। অনেককে আফসোসও করতে দেখা গেছে। ব্যাট হাতে রুদ্রমূর্তি ধারণ করা ছেলেটির হাতে এবারের আইপিএল ট্রফিটা উঠতে পারত। শিরোপা জিততে না পারার আফসোস থাকবে, কিন্তু এই কান্নার দৃশ্য জন্ম দেওয়ার আগে বৈভব সূর্যবংশী নামের এই কিশোর যা করেছেন, তা অবিশ্বাস্য।

    ব্যাট হাতে তাঁকে তাণ্ডব করতে দেখে বারবার প্রশ্ন জেগেছে, এটা কি সত্যিকারের খেলা নাকি কোনো ভিডিও গেম।  ক্রিকেটে ব্যাটিং কি তবে এতই যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও এমন বিধ্বংসী হয়ে উঠতে পারেন!

    ব্যাটিং মোটেই সহজ কোনো কাজ নয়। কিন্তু সূর্যবংশীর মতো অমিত প্রতিভাধর কেউ এসে হুটহাট ব্যাট করাকে এমন ডাল-ভাত বানিয়ে ফেলেন। গতকাল রাতেও বেঞ্চে বসে কান্নার আগে রাজস্থান রয়্যালসের সূর্যবংশী করেছেন ৪৭ বলে ৯৭ রান। এমন ইনিংস খেলে যেকোনো ব্যাটসম্যান যেভাবে খুশিতে উৎফুল্ল হবেন।

    তবে সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে মনে হবে, বল বোধ হয় একটু বেশিই খেলেছেন! অবশ্য আর কিবা করার ছিল। একে তো মন্থর উইকেট, তারওপর সঙ্গীরা যখন ক্রিজে আসা-যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন, তখন স্বভাববিরুদ্ধভাবে একটু ‘দেখেশুনে’ খেলতে হয়েছে তাঁকে। ম্যাচ হারার পাশাপাশি অবশ্য সেঞ্চুরির আক্ষেপও থাকবে তাঁর। শেষ চার ইনিংসের তিনটিতেই যে ‘নার্ভাস নাইন্টিজে’ ফিরেছেন তিনি।

    সূর্যবংশীর দল রাজস্থান রয়্যালস শেষ পর্যন্ত ফাইনালে যেতে পারেনি। গুজরাট টাইটানসের কাছে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরেছে ৭ উইকেটে। সূর্যবংশীও কাছাকাছি গিয়েও সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু তাঁকে দেখতে আসার দর্শকদের মনোরঞ্জন তিনি ঠিকই করেছেন। নিউ চণ্ডীগড়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মহারাজা যাদবীন্দ্র সিং স্টেডিয়ামে তখন আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শুরুর আরও প্রায় তিন ঘণ্টা বাকি।

    নিরাপত্তাকর্মীর পাশ কাটিয়ে গ্যালারিতে ঢোকার সময় গর্বভরে সূর্যবংশীর গোলাপি রঙের ০৩ নম্বর জার্সি দেখিয়ে এক কিশোর বলে উঠল, ‘আমরা এসেছি বৈভবকে দেখতে।’ আসলে স্টেডিয়ামে উপস্থিত অসংখ্য দর্শকের মনের কথাই যেন বলছিল সে।

    গতকালের আগে এই বিস্ময়বালক গ্রুপ পর্বে এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি অসাধারণ ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন। প্লে-অফে এসে সেই ধারাবাহিকতাকে আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে খেলেছেন আরও দুটি দুর্দান্ত ইনিংস। বুধবার তিনি একাই প্যাট কামিন্সদের সব পরিকল্পনা তছনছ করে দিয়েছিলেন। এমন সহজতায় ব্যাট চালিয়েছিলেন, যেন টেলিভিশনে নিজের প্রিয় কার্টুনের চ্যানেল বদলাচ্ছেন।

    তবে শুক্রবারের ইনিংসটি ছিল ভিন্ন মাত্রার। সেটি শুধু আরেকটি ঝোড়ো ইনিংসই নয়, বৈভবের প্রতিভার নতুন একটি দিকও সামনে নিয়ে এসেছে। এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যবহৃত ৪ নম্বর পিচেই শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার অনুষ্ঠিত হয়। বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় উইকেটটি ছিল মন্থর এবং অসম বাউন্সের, বিশেষ করে ইনিংসের শুরুর দিকে। গুজরাট টাইটানসের লম্বা গড়নের পেসাররা সেটির পুরো সুবিধা নেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বল ছোট লেংথে ফেলে ব্যাটসম্যানদের চাপে রাখেন।

    অন্য প্রান্ত থেকে সূর্যবংশী দেখেছেন, মাত্র দুই ওভারের মধ্যে ফিরে গেছেন যশ্বসী জয়সওয়াল ও ধ্রুব জুরেল। এরপর চোটের কারণে রবীন্দ্র জাদেজার অনুপস্থিতিতে দুর্বল হয়ে পড়া মিডল-অর্ডারের দায়িত্বও অনেকটা কাঁধে তুলে নিতে হয় তাঁকে।

    এর মধ্যেই হেলমেটে বলের আঘাতও সহ্য করতে হয়েছে। স্বভাবতই আক্রমণাত্মক ও নির্ভার ক্রিকেট খেলেন বৈভব। কিন্তু চারপাশে এত প্রতিকূলতা তৈরি হওয়ায় সেদিন নিজের স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন, ধৈর্য দেখিয়েছেন এবং সমাধান খুঁজেছেন প্রতিটি চ্যালেঞ্জের।

    ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী
    ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন সূর্যবংশী, এএফপি

    প্রথম ছক্কা মারতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৪ বল পর্যন্ত। আইপিএলে এটিই ছিল তাঁর সবচেয়ে ধীরগতির ফিফটি, যদিও সেটিও এসেছে মাত্র ৩১ বলে। প্রায় ১৮ ওভার ক্রিজে ছিলেন তিনি, টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা তাঁর দীর্ঘতম ইনিংস। ম্যাচ শেষে রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান কোচ কুমার সাঙ্গাকারা বলেন, ‘আজ ও অসাধারণ ব্যাটিং করেছে। চারপাশে উইকেট পড়ছিল, ফলে এটি অনেক কঠিন একটি ইনিংস ছিল। কিন্তু ও স্নায়ুর দৃঢ়তা ধরে রেখেছে। আমাদের লড়াই করার মতো স্কোর এনে দেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ওর।’

    সাঙ্গাকারা আরও বলেন, ‘মাত্র ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের জন্য ও অবিশ্বাস্য রকম পরিণত। খেলার পরিস্থিতি খুব ভালোভাবে বুঝতে পারে, ম্যাচও দারুণ পড়ে। আর সবচেয়ে বড় কথা, ওর মধ্যে কোনো ভয় নেই।’

    বৈভব সূর্যবংশী কতটা পরিণত ক্রিকেট খেলেন, তা বোঝা যায় তাঁর ব্যাটিংয়ে। তিনি এমনকি টেস্ট ও ওয়ানডেতে ভারতের অধিনায়ক শুভমান গিলের ফিল্ড সাজানোর পরিকল্পনাও ভেস্তে দিতে পারেন, বদলে দিতে পারেন মোহাম্মদ সিরাজের বোলিং পরিকল্পনা।

    রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী
    রাজস্থানের বিদায়ে হতাশ সূর্যবংশী, রয়টার্স
     

    ইনিংসের তৃতীয় ওভারে গিল শর্ট ফাইন লেগ থেকে একজন ফিল্ডারকে কভার-পয়েন্টে সরিয়ে এনে অফ সাইডের ভেতরের বৃত্ত আরও শক্ত করেছিলেন। তখন লেগ সাইডের সীমানায় একমাত্র ফিল্ডার ছিলেন ডিপ স্কয়ার লেগে, যেখানে এর আগে আউট হয়েছিলেন জয়সওয়াল। সূর্যবংশী সেই ফাঁকটাই কাজে লাগান। ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিকে দুর্দান্ত এক সুইপ করে ফাইন লেগ অঞ্চলে পাঠিয়ে দেন, যে শট ওই দৈর্ঘ্যের বলে খুব কম ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেন।

    পরের বলেও একই কৌশল। প্রায় দাঁড়িয়ে থেকেই তিনি বলটিকে একই ফাঁক গলে গুজরাট টাইটানসের ডাগআউটের দিকে পাঠান। শটটি দেখে গুজরাটের কোচ আশিস নেহরাও নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। আর গ্যালারিতে থাকা ২৫ হাজারের বেশি দর্শকও উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

    এরপরও দর্শকদের রোমাঞ্চে ভাসিয়ে যেতে থাকেন বৈভব। পরের ওভারে কাগিসো রাবাদা নিজের পরিচিত হার্ড লেংথ থেকে সরে আসতেই ১৫২ কিলোমিটার গতির বল মিড-অফের ওপর দিয়ে চার মেরে দেন তিনি। প্রেস বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক কিশোর তখন বৈভবের ০৩ নম্বর জার্সি উঁচিয়ে ধরে জোরে জোরে নাড়াচ্ছিল। তার সঙ্গে থাকা বড়রাও উঠে দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছিলেন প্রাণভরে। শেষ পর্যন্ত তাঁর আনন্দময় ইনিংসটা থেমেছে ৯৭ রানে।

    দর্শকদের এমন আনন্দ অবশ্য পুরো আইপিএল মৌসুমজুড়ে দিয়েছেন সূর্যবংশী। একের পর এক চার-ছক্কায় এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ৭৭৬ রান তাঁর। ১৬ ইনিংসে ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেট ও ৪৮.৫০ গড়ে এই রান করেছেন তিনি। ৭২২ রান করে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গিল ফাইনাল নিশ্চিত করায় তাঁর সামনে সুযোগ আছে সূর্যবংশীকে টপকে যাওয়ার। যদিও এখনো ৫৫ রানে পিছিয়ে আছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক। সেই কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’টা সূর্যবংশীর কাছেই থেকে যাবে।

    এবারের আসরে গেইলের ছক্কার রেকর্ডসহ অসংখ্য রেকর্ড ভেঙেছেন সূর্যবংশী। গতকাল রাতের ৭ ছক্কাসহ তাঁর মোট ৭২টি। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো টুর্নামেন্টে এটিই কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। ২০১২ আইপিএলে ৫৯টি ছক্কা মেরে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ক্রিস গেইল।

    সূর্যবংশীর এসব রেকর্ড কে ভাঙবেন?

    হয়তো বৈভব সূর্যবংশী নিজেই! বয়সটা মনে আছে তো?

  • আইপিএলে আবারও চ্যাম্পিয়ন কোহলির বেঙ্গালুরু

    আইপিএলের প্রথম ১৭ মৌসুমে একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দুই মৌসুম পর সেই দলটির নামের আগে দুবারের চ্যাম্পিয়ন লিখতে হচ্ছে। গতবারের মতো এবারও যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টুয়েন্টি লিগ আইপিএল জিতেছে বেঙ্গালুরু।

    আহমেদাবাদে আজ স্বাগতিক গুজরাট টাইটানসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। টসে হেরে ফিল্ডিং নিয়ে গুজরাটকে ১৫৫ রানে আটকে রাখেন কোহলিরা। রানটা ৫ উইকেট ও ১২ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে শিরোপা ধরে রাখে বেঙ্গালুরু।

    গতবারের মতো এবারও ব্যাট হাতে বেঙ্গালুরুর হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেছেন বিরাট কোহলি। ব্যাটিং উদ্বোধন করা ভারতীয় তারকা ৪২ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। ভেঙ্কটেশ আইয়ারের সঙ্গে তাঁর ২৭ বলের ৬২ রানের উদ্বোধনী জুটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয়।

    ফিফটির পর বিরাট কোহলি
    ফিফটির পর বিরাট কোহলি, এএফপি
     

    আইয়ার ১৬ বলে ৩২ রান করে ফিরে যাওয়ার পর দেবদূত পাড়িক্কাল (১), অধিনায়ক রজত পাতিদার (১৫) ও ক্রুনাল পান্ডিয়া (১) অল্পতে ফিরে গেলেও কোহলি কারণেই ম্যাচের লাগাম ধরে রাখে বেঙ্গালুরু।

    ৩ উইকেট নিয়েছেন বেঙ্গালুরু পেসার রাসিখ সালাম (মাঝে)
    ৩ উইকেট নিয়েছেন বেঙ্গালুরু পেসার রাসিখ সালাম (মাঝে), এএফপি
     

    বেঙ্গালুরু ১০ম ওভারে ৯১ রানে চতুর্থ উইকেট খোয়ানোর পর টিম ডেভিডকে নিয়ে ৪১ রান যোগ করেন কোহলি। ডেভিড করেছেন ১৭ বলে ২৪। এরপর জিতেশ শর্মাকে নিয়ে বাকি কাজটা সম্পন্ন করেন ৯টি চার ও ৩টি ছক্কা মারা কোহলি।

    এর আগে গুজরাটের ৮ উইকেটে ১৫৫ রানের ইনিংসে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫০ রান (৩৭ বল) করেন ওয়াশিংটন সুন্দর। বেঙ্গালুুরুর ভারতীয় পেসার রাসিখ সালাম ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট।

  • আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইল, কোহলি তাহলে কী

    ‘দ্য চেজ মাস্টার।’

    বিরাট কোহলি কালও আইপিএলে নামের প্রতি সুবিচার করেছেন। গুজরাট টাইটানসের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর লক্ষ্য ছিল ২০৬। রান তাড়ায় কোহলি খেলেছেন ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস, হয়েছেন ম্যাচসেরা। এমন ইনিংস খেলার পথে নতুন এক মাইলফলকও ছুঁয়েছেন কোহলি।

    ৮১ রানের ইনিংসে কোহলি ছক্কা মেরেছেন ৪টি। তাতে আইপিএলে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৩০০ ছক্কার ক্লাবে ঢুকেছেন বেঙ্গালুরুর সাবেক এই অধিনায়ক। ২৬৬ ইনিংসে কোহলির ছক্কা ৩০৩টি। আগে থেকেই এই ক্লাবের সদস্য ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মা।

    গেইলের নামটাই সবার ওপরে। আইপিএলে মাত্র ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মেরেছেন গেইল। ৩১০ ছক্কা নিয়ে দ্বিতীয় রোহিত শর্মা, খেলেছেন ২৭১ ইনিংস। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, আইপিএলে ছক্কার রাজা গেইলই। রোহিত-কোহলিরা গেইলের ৩৫৭ ছক্কা ছাড়াতে পারবেন কি না, সেটাও দেখার বিষয়।

    সে ক্ষেত্রে এখনো তাঁদের কয়েক মৌসুম খেলতে হবে। ৩৫৭ ছক্কার মাইলফলক তাঁরা ছাড়িয়ে গেলেও ছক্কাবাজ হিসেবে গেইলের নামটা ওপরের দিকেই থাকবে। কোহলির প্রশংসাও আলাদা করে করতে হয়। ইনিংস ধরে খেলতে অভ্যস্ত কোহলি প্রয়োজনে যে ছক্কাও মারতে পারেন—এই ক্লাবে নাম লেখানোই তো তার প্রমাণ।

    কাল ফিফটির পর কোহলি
    কাল ফিফটির পর কোহলি, বিসিসিআই

    এবারের টুর্নামেন্টে অবশ্য কোহলি ছক্কার তালিকায় খুব একটা ওপরের দিকে নেই। আইপিএলে এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছক্কা অভিষেক শর্মার, ২৭টি। কোহলির ছক্কা ১২টি। অবশ্য সর্বোচ্চ রানে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওপেনার অভিষেককে ছাড়িয়ে গেছেন কোহলি।

    ৩২৩ রান নিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন অভিষেক। কাল ৮১ রানের ইনিংসের পর কোহলির রান দাঁড়াল ৩২৮। ৩২০ রান নিয়ে তালিকায় তৃতীয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হাইনরিখ ক্লাসেন। ৩ জনই খেলেছেন ৭টি করে ম্যাচ।

    স্ট্রাইক রেটে অবশ্য কোহলি ও ক্লাসেনের চেয়ে অনেক এগিয়ে অভিষেক। কোহলির স্ট্রাইক রেট ১৬৩.১৮, ক্লাসেনের ১৫৩.১১। অন্যদিকে অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ২১৫.৩৩।

  • আইপিএলে ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’, নড়েচড়ে বসেছে বিসিসিআই

    ভারতীয় ক্রিকেটে দলের সঙ্গে খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও প্রেমিকাদের সফর নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যার জেরে বিরাট কোহলিদের বিদেশ সফরে পরিবারের সদস্যদের জন্য দিন সংখ্যা নির্দিষ্টও করে দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আইপিএলে সামনে এল নতুন একটি বিষয় ‘অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড’।

    বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্রিকেটারকে তাঁদের প্রেমিকাদের নিয়ে দলীয় বাসে যাতায়াত ও টিম হোটেলে অবস্থান করতে দেখা গেছে। দলের বাইরের কারও সঙ্গে খেলোয়াড়দের যোগাযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন ইউনিটের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, অফিশিয়াল গার্লফ্রেন্ড বলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের দৈনিক জাগরণের প্রতিবেদনে বলা হয়, হার্দিক পান্ডিয়া, অর্শদীপ সিং, যশস্বী জয়সোয়াল ও ঈশান কিশানদের মতো তারকা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রেমিকাদের প্রায়ই দেখা যায়। কেউ কেউ খেলোয়াড়দের টিম বাসে হোটেলেও যান।

    এসব বিষয়ে বিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি। পরবর্তী বোর্ড সভায় এটি তোলা হবে। খেলোয়াড়দের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের হোটেলে থাকার বিষয়ে কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমাদের আরও একটু সিরিয়াস হতে হবে।’

    হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়
    হার্দিক পান্ডিয়া ও অর্শদীপ সিংদের নিয়মিতই খেলার মাঠে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা যায়, এক্স
     

    ভারতের সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিবারের থাকা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে বিসিসিআই একটি নীতিমালা তৈরি করে। যাতে বলা হয়, বিদেশ সফর ৪৫ দিনের বেশি হলে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ সঙ্গে থাকতে পারবেন। তবে আইপিএলে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে আইপিএলে নতুন নিয়মের আভাস দেন তিনি, ‘আগে আইপিএলে খেলোয়াড়দের হোটেলে প্রেমিকাদের থাকার অনুমতি ছিল না, কিন্তু এখন এটি একটি ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    শুধু পরিচিত তারকারাই নন, অনেক কম পরিচিত খেলোয়াড়ও প্রেমিকাদের সঙ্গে নিয়ে দলের সঙ্গে ভ্রমণ করছেন। কেউ সরাসরি টিম হোটেলে থাকছেন, আবার কেউ ম্যাচের শহরে অবস্থান করে সুযোগমতো দেখা করছেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যাঁদের কেউ কেউ আগে বেটিং ওয়েবসাইটের প্রচারণায় সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    এ বিষয়ে আইপিএলের অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের (এসিইউ) একজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে নতুন এক বিতর্কিত ধারণা উঠে আসে। বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এসিইউর একজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তাঁদের স্ত্রী এবং “অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ডদের” একসঙ্গে থাকার অনুমতি দিতে বলা হয়েছে।’

    বিসিসিআই কর্মকর্তা এতে বিস্ময় প্রকাশ করে এসিইউ কর্মকর্তার কাছে জানতে চান যে এই ‘অফিশিয়ালি অ্যানাউন্সড গার্লফ্রেন্ড’ নিয়মটি কোথা থেকে এল। এসিইউ কর্মকর্তা উত্তর দেন, ‘স্যার, আমাদের যেভাবে বলা হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি।’

    আন্তর্জাতিক সফরে দল ব্যবস্থাপনা করে বিসিসিআই, কিন্তু আইপিএলে ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের মতো করে চলে। যে কারণে নিয়ন্ত্রণ কম। কিছু ক্ষেত্রে এমন অভিযোগও উঠেছে যে টিম বাস খেলোয়াড়দের প্রেমিকাদের জন্য অপেক্ষা করে।

    সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এটি বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, এমন শঙ্কায় প্রেমিকাদের বিষয়ে জাতীয় দল ও আইপিএল মিলিয়ে অভিন্ন নীতিমালা তৈরি হতে পারে ইঙ্গিত দেন বিসিসিআইয়ের ওই কর্মকর্তা।

  • আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সুখবর

    চুরি বা হারিয়ে যাওয়া আইফোনের তথ্য সুরক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন নিরাপত্তা–সুবিধা দিয়ে আসছে অ্যাপল। তবে আইফোন আনলক অবস্থায় চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েই যায়। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে অ্যাপল। ব্যবহারকারী ছাড়া অন্য কেউ গোপনে ব্যবহার করলে বা আইফোনের অবস্থান হঠাৎ পরিবর্তন হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইফোন লক করে দেবে প্রযুক্তিটি।

    প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট নাইন টু ফাইভ ম্যাকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুরি বা ছিনতাই হওয়া আইফোনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নতুন একটি প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে অ্যাপল। বর্তমানে আইফোনে ‘স্টোলেন ডিভাইস প্রোটেকশন’সহ বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা–সুবিধা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সেন্সরের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইফোন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি চুরি বা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে। বিশেষ করে অ্যাকসেলেরোমিটার সেন্সরের মাধ্যমে আইফোনের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত করে সম্ভাব্য চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত করে লক করে দেবে প্রযুক্তিটি। ফলে চোর বা ছিনতাইকারী আইফোনটি ব্যবহার, রিসেট বা এর ভেতরে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত তথ্য দেখার সুযোগ পাবে না।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইফোন ও অ্যাপল ওয়াচের মধ্যকার দূরত্ব হঠাৎ বেড়ে গেলে সেটিকে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি কমাতে একাধিক তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করবে প্রযুক্তিটি। আইফোন যদি হঠাৎ পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোনো ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের আওতা ছেড়ে অপরিচিত নেটওয়ার্কে চলে যায়, সেটিও সম্ভাব্য চুরির ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতেও ডিভাইসটির সুরক্ষাব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হতে পারে।

    নতুন এ সুবিধা কবে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি অ্যাপল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আইফোনে থাকা থেফট প্রটেকশন নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিটি যুক্ত করা হবে।

    সূত্র: নিউজ ১৮

  • আইসিসি র‍্যাঙ্কিং অলরাউন্ডারদের ‘সিংহাসন’ ফিরে পেলেন রাজা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে জিম্বাবুয়েকে সুপার এইটে তোলার পুরস্কার পেলেন অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদ র‌্যাঙ্কিং তালিকায় টি-টুয়েন্টিতে অলরাউন্ডারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করেছেন রাজা।

    গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের জয়ে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন রাজা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের সাইম আইয়ুবকে দুইয়ে ঠেলে শীর্ষস্থানে উঠে এলেন রাজা। তাঁর রেটিং পয়েন্ট ২৯৪। সাইম আইয়ুবের রেটিং পয়েন্ট ২৮১। এই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান হাতবদল হয়েছে। দুই ধাপ এগিয়ে ভারতের শিবম দুবে উঠে এসেছেন সাতে। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবী তিন ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন আটে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন ভারতের অভিষেক শর্মা, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত বড় ইনিংসের দেখা পাননি ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হন। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রানে আউট হন। অভিষেক বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে গেলেও এ সংস্করণে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষেই আছেন। ৮১৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের সঙ্গে তাঁর ৬১ পয়েন্টের ব্যবধান।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এ পথ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান দুই ধাপ এগিয়ে উঠে এসেছেন তৃতীয় অবস্থানে। তিন ধাপ এগিয়ে ভারতের ঈশান কিষান উঠে এসেছেন পাঁচে, ১০ ধাপ উন্নতি করে নয়ে উঠে এসেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভাল্দ ব্রেভিস। গতকাল পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার এইটে সেঞ্চুরি করে জেতানো ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১০ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন ১৮তম অবস্থানে।

    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান
    ব্যাটসম্যানদের র‍্যাঙ্কিংয়ে তিনে উঠে এসেছেন সাহিবজাদা ফারহান, এএফপি
     

    টি-টুয়েন্টি বোলারদের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ভারতের স্পিনার বরুন চক্রবর্তী। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৪ ম্যাচে ৭ উইকেট নেওয়া পেসার করবিন বশ ২১ ধাপ উন্নতি করে উঠে এসেছেন তৃতীয় স্থানে। সাতে উঠে আসা ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসার ম্যাথু ফোর্ড উন্নতি করেছেন ২৩ ধাপ। ৭ ধাপ উন্নতি করে আটে ভারতের পেসার যশপ্রীত বুমরা। যৌথভাবে ২১তম স্থানে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার গুড়াকেশ মোতি উন্নতি করেছেন ১৭ ধাপ।

  • আইসিসির বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা

    সপ্তাহের শেষে এবং বড় টুর্নামেন্টের পর নিয়মিতই র‌্যাঙ্কিং হালনাগাদ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে প্রতিবছরের মে মাসের শুরুতে আসা বার্ষিক হালনাগাদটি দলগুলোর জন্য নিয়ে আসে ভিন্ন তাৎপর্য।

    ২০২৬ সালের সেই বার্ষিক র‌্যাঙ্কিংয়ে সুখবর পেয়েছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল। পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে নিগার সুলতানার দল।

    শুক্রবার আইসিসি তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারী ওয়ানডে দলের এই নতুন বার্ষিক র‌্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। এই র‌্যাঙ্কিংয়ে মোট তিন বছরের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ১ মে থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিলের মধ্যকার পারফরম্যান্সকে শতভাগ এবং তার আগের দুই বছরের পারফরম্যান্সকে পঞ্চাশ ভাগ ওয়েটেজে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

    মেয়েদের বার্ষিক র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ছয়ে কোনো পরিবর্তন আসেনি। অস্ট্রেলিয়া (১৬৩ পয়েন্ট), ইংল্যান্ড (১২৮), ভারত (১২৬), দক্ষিণ আফ্রিকা (১০০), নিউজিল্যান্ড (৯৩) এবং শ্রীলঙ্কা (৮৯) নিজ নিজ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে পাকিস্তানকে টপকে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ (৭৩)। শীর্ষ দশের বাকি দুটি জায়গায় যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (নবম) ও আয়ারল্যান্ড (দশম)।

    মেয়েদের ওয়ানডের পাশাপাশি ছেলেদের বার্ষিক টেস্ট র‌্যাঙ্কিংও প্রকাশ করেছে আইসিসি। এখানেও শীর্ষে অস্ট্রেলিয়া (১৩১)। গতবারের মতো দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দক্ষিণ আফ্রিকা (১১৯)। তবে ইংল্যান্ড (১০২ পয়েন্ট) জায়গা ধরে রাখতে পারেনি, তাদের পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভারত (১০৪)।

    নিউজিল্যান্ড পঞ্চম স্থান ধরে রাখলেও শ্রীলঙ্কা ছয় থেকে সাতে নেমে গেছে, এক ধাপ এগিয়ে ষষ্ঠ পাকিস্তান। এরপর যথাক্রমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (অষ্টম), বাংলাদেশ (নবম) ও জিম্বাবুয়ে (দশম)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৮টি টেস্ট না খেলায় আয়ারল্যান্ড র‌্যাঙ্কিং থেকে ছিটকে গেছে। আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে র‍্যাঙ্কিংয়ে ফিরতে আগামী এক বছরে অন্তত দুটি টেস্ট খেলতে হবে।

    ৫ মে টি-টুয়েন্টি এবং ৭ মে ছেলেদের ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের বার্ষিক হালনাগাদ প্রকাশ করা হবে।

  • আইসিসির বিবৃতি বিশ্বকাপ না খেলায় শাস্তি হবে না বিসিবির, পাচ্ছে পুরস্কারও

    নিজেদের দাবিতে অটল থেকে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেললেও বাংলাদেশকে কোনো ধরনের শাস্তি বা জরিমানা করবে না আইসিসি। উল্টো বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই আরও একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের স্বাগতিক করা হবে বাংলাদেশকে। আজ আইসিসির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর গতকাল আইসিসির সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভা হয়। আজ রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। এরপরই আইসিসি বাংলাদেশকে নিয়ে হওয়া এসব সিদ্ধান্তের কথা জানাল।

    আইসিসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে তাদের। সেখানে এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রিকেটের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের না থাকাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক অনুপস্থিতি’ বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে আইসিসি। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তাসংকটের কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আইসিসি তাতে রাজি না হওয়ায় বিশ্বকাপই খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।

    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি
    রোববার রাতে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার (বাঁ থেকে প্রথম) সঙ্গে বৈঠক করে পিসিবি ও বিসিবি

    আইসিসি জানিয়েছে, গর্ব করার মতো ক্রিকেট ঐতিহ্য এবং বৈশ্বিক ক্রিকেট বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বাংলাদেশের। ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারে ক্রিকেটের বিকাশে তারা তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যেন না ফেলে, সেটিও দেখবে আইসিসি।

    কোনো শাস্তি হবে না

    পরে দুটি বিষয়ের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছে বিসিবি। বিশ্বকাপ না খেলায় বিসিবির ওপর বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কোনো আর্থিক, খেলা নিয়ে অথবা প্রশাসনিক জরিমানা বা শাস্তি আরোপ করা হবে না। বিসিবি চাইলে বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে যাওয়ার অধিকার রাখে। আইসিসির বর্তমান বিধিমালার আওতায় এই অধিকার বিদ্যমান এবং তা অক্ষুণ্ন থাকবে।

    বাড়তি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব

    এ ছাড়া আইসিসির সঙ্গে বিসিবি ও পিসিবির সমঝোতার অংশ হিসেবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি আইসিসি ইভেন্ট আয়োজন করবে, যা আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া, সময়সূচি এবং পরিচালনাগত শর্তাবলির অধীন থাকবে। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা বাংলাদেশের।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সনযোগ গুপ্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লেখা হয়েছে, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি দুঃখজনক। তবে এটি বাংলাদেশকে একটি প্রধান ক্রিকেট জাতি হিসেবে আইসিসির দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারকে পরিবর্তন করবে না। বিসিবিসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা দেশটির ক্রিকেটের টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য ভবিষ্যৎ সুযোগ আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোনিবেশ করে যাচ্ছি।’

  • আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় বাংলাদেশের নাহিদ রানা

    সময় এখন নাহিদ রানার। বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার এবার এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। গত এপ্রিলে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ওয়ানডে খেলে উইকেট নেন ৮টি। ওই পারফরম্যান্সই তাঁকে মাসসেরা বানিয়েছে।

    এই সিরিজের আগে ও পরে নাহিদ রানা পারফর্ম করেছেন। গত মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও তিনি ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর সর্বশেষ পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেছেন ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। নেন ৪০ রানে ৫ উইকেট।

    নাহিদ রানা এই প্রথম আইসিসির মাসসেরা পুরস্কার জিতলেন। গত বছরের এপ্রিলে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের পর বাংলাদেশের প্রথম পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন নাহিদ রানা। তাঁর আগে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে এই স্বীকৃতি পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান (২ বার) ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

    মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
    মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ রানা
     

    মাসসেরা নাহিদ রানা বলেন, ‘নিউজিল্যান্ডের মতো বিশ্বমানের দলের বিপক্ষে ভালো পারফর্ম করে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় হতে পারাটা দারুণ এক অনুভূতি। এটি দেশের মাটিতে পারফর্ম করতে পারা সিরিজটিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে এবং এই সিরিজটি আমি সব সময় মনে রাখব।’

    সেই সিরিজে নাহিদ রানার শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় নেন ১ উইকেট। তবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেই তিনি ঘুরে দাঁড়ান এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বারের মতো নেন ৫ উইকেট।

    এর আগে চলতি বছরের মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনি প্রথমবার ৫ উইকেট পেয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ ম্যাচে নাহিদ রানা নেন ২ উইকেট। সিরিজসেরা খেলোয়াড়ও হন এই ফাস্ট বোলার।

    মেয়েদের মাসসেরা হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার লরা ভলভার্ট।

  • আগামী বছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে চার নতুন বিষয়

    আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৭) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বিষয় চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি বাধ্যতামূলক বিষয় যুক্ত হবে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

    ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। পরীক্ষা শেষ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এইচএসসি শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

    যে চার বিষয়ে যুক্ত হবে

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার তখনকার সময়ে চালু থাকা নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তুও রয়েছে তাতে।

    এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যবইয়েও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিষয়গুলোতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। মাধ্যমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজনের পাশাপাশি কয়েকটি বইয়ে ব্যাপক পরিমার্জনও করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিভিন্ন শ্রেণির বই পরিমার্জনও করা হয়েছে। তবে এসব পরিমার্জন কেবল আগামী বছরের বইয়ের জন্যই। আগামী বছর নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে আজকের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, যতটা দ্রুত সম্ভব শিক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। এখানে শিক্ষাক্রমের মধ্যে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন ও পরিমার্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী চতুর্থ শ্রেণি থেকে ক্রীড়া বিষয়টি যুক্ত করা হবে। সংস্কৃতি নামে আরেকটি বিষয়ও যুক্ত হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে।

    এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দুটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, একটি হচ্ছে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং আরেকটি হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এগুলো বাধ্যতামূলক বিষয় হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    উপদেষ্টা বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ একদিকে যেমন একটি বিষয় হবে। এ ছাড়া এর মূল্যবোধের নীতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই সঙ্গে শিক্ষকদের শেখানো ও প্রশিক্ষণের বিষয়টিও এই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’কোর্সের মধ্যে থাকবে।

    শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানোর লক্ষ্যে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে একটি বড় অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।

    ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম

    নতুন চারটি বিষয় কবে থেকে তা চালু হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা তিন মাসে সম্ভব নয়। প্রথমত এটিকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে বাস্তবসম্মত অনুধাবন করে ২০২৭ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে। আর পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের যে আশা করা হচ্ছে, সেটা নিয়েও কাজ শুরু হয়েছে। এটি ২০২৮ থেকে দেখা যাবে। শিখন ফল অর্জনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষাক্রম করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    সরকারের পরিকল্পনা হলো, ২০২৮ সাল থেকে নতুন করে একটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু করা। এই শিক্ষাক্রম প্রণয়নের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। তবে ২০২৮ সাল থেকে একেবারে সব শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হবে, না কি ধাপে ধাপে হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

    কিছুদিন আগে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে।

    এসএসসির ফল ২০ জুলাই—

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল। লিখিত পরীক্ষা চলে ২০ মে পর্যন্ত। এখন চলছে ব্যবহারিক পরীক্ষা। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১৪ জুন পর্যন্ত। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।

    ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৭ জানুয়ারি। আর পরীক্ষা শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। এ ছাড়া আগামী বছরের (২০২৭) এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ওই বছরের ৬ জুন, চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

    এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নেরে জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় পরামর্শ আসে পবিত্র রমজানের (আগামী বছরের) আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হয়ে যাক। সে অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি পরীক্ষা শুরু করতে চেয়েছেন। তবে প্রতিক্রিয়াও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে আপাতত সময়সূচি দেওয়া হয়েছে, সেটাই রয়ে গেছে এবং আশা করছেন এটাই থাকবে।

    সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট ও ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়, ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়োজন ও উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ।

  • আগামী বাজেটেই অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা চালুর আহ্বান রাশেদা কে চৌধূরীর

    দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সমন্বিত নীতি প্রণয়ন এবং তার কার্যকর বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। পাশাপাশি আগামী বাজেটেই পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালুর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, এটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং নীতিগত সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

    সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা অনুষ্ঠানে রাশেদা কে চৌধূরী এ কথা বলেন। বইটির লিখেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    দেশের কোচিংনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, শিক্ষা ব্যয়ের বড় একটি অংশ কোচিং খাতে ব্যয় হচ্ছে। এ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নীতিনির্ধারকদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের দুর্বলতা, পরীক্ষাভিত্তিক মূল্যায়নের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, ধারাবাহিক মূল্যায়নপদ্ধতি জোরদার না করে উচ্চ ঝুঁকির পাবলিক পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা শিক্ষার্থীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে।

    শিক্ষায় বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, সচ্ছল পরিবারের সন্তানেরা বেশি সুযোগ পাচ্ছে, কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষানীতি প্রণয়নের দাবিও জানান তিনি। একই সঙ্গে মাদ্রাসা, ইংরেজি মাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষাধারাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।

    বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সমতাভিত্তিক ব্যয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদা কে চৌধূরী। তিনি বলেন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, কোথায় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তার সঠিক নজরদারি প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তদারকি জোরদারের প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি স্বাধীন গবেষণা ও তথ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে নীতি প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন।

    অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, লেখক ও চিন্তক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, সাহিত্যিক ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবদুন নূর তুষার এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

    ‘বাংলাদেশের শিক্ষা সংস্কারের রূপরেখা: দ্য লার্নিং নেশন’ বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশনস। এটি বাংলাদেশের শিক্ষা খাত নিয়ে নীতিনির্ধারণমুখী ও গবেষণাভিত্তিক একটি বই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেন বারবার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তার কারণ নিরূপণ ও সমাধানের প্রস্তাব উঠে এসেছে এই গ্রন্থে। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও শিক্ষাগত উৎকর্ষের নিয়ামক হিসেবে নতুন করে নকশা করার দিকনির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বইটিতে।

  • আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না: মনির হোসেন চৌধুরী

    আগামী ২ মাসে জ্বালানির কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে ১ লাখ ১ হাজার ৩৮৫ মেট্রিক টন ডিজেল, ৩১ হাজার ৮২১ মেট্রিক টন অকটেন, ১৮ হাজার ২১১ মেট্রিক টন পেট্রোল এবং ৭৭ হাজার ৫৪৬ মেট্রিক টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে জ্বালানি বিষয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য দেন।

    জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, প্রতিমাসেই জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হয়। এপ্রিল মাসেও করা হয়েছে। আগামী মাসে কেমন দাম হবে তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।

    তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত ভিড়-এই সমস্যা ঢাকার বাইরে নেই। ঢাকায় সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু প্যানিক বায়িংয়ের প্রয়োজন নেই। গত বছর একই সময়ে যে তেল পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেওয়া হয়েছে, এ বছরও পরিমাণের তেল দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহ কোনোভাবেই কমানো হচ্ছে না। এতে তো সমস্যা হওয়ার কথা না।

    শিল্প কারখানার ডিজেলে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানান জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। তালিকা ধরে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারিভাবে ১৪ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    মার্চ ও এপ্রিল মাসে ক্রুড অয়েল আনতে পারেনি সরকার উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এপ্রিল বা মে মাসের শুরুতে সৌদি আরব থেকে ভিন্ন রুটে ক্রুড অয়েল আসবে।

    তিনি আরও বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি পরিশোধন করা হয়, যা মোট জ্বালানি চাহিদার এক পঞ্চমাংশ।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব