• যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

    আজ বুধবার সকালে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হয়।

    আজকের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। এই চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই।

    চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি উইন-উইন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও, তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।

    ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।

    নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

    বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক কমল ১ শতাংশ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    আজ রাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও  যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এই বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা আড়াইটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সার্বিক দিক তুলে ধরা হবে।

    এদিকে চুক্তির ফলে সার্বিকভাবে ১ শতাংশ শুল্ক কমা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য খুবই আনন্দের ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন দেশটিতে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের একটি হা–মীম গ্রুপ।

    চুক্তি ও তার ফলে প্রাপ্ত সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবরটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। চুক্তির ফলে যে সুবিধা আমরা পেয়েছি, তা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, এই সুবিধা আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। এমনিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা আমদানি করি। এখন সেটি আরও বাড়বে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো পাল্টা শুল্ক বসবে না। এ জন্য আশা করছি, সুবিধাটি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।’

    আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষর হওয়া বাণিজ্যচুক্তি করতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটন যাননি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

    চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল ওয়াশিংটন গেছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সশরীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি হয়।

    চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা আমরা জানি না। আমি মনে করি, এই ধরনের চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে করা মোটেই উচিত হয়নি। আমরা কিছু নতুন সুবিধা পেয়েছি, সেটিকে আমরা অর্জন হিসেবে মনে করতে পারি। কিন্তু তার বদলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে বা বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, তা আমরা জানি না। ফলে এই চুক্তিতে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হলো, তা এককথায় বলা মুশকিল। এই চুক্তির দায়ভার এসে পড়বে পরবর্তী সরকারের ওপর। সেই সরকার চুক্তি শর্তগুলো পূরণে কতটুকু প্রস্তুত এবং তাদের এসব বিষয়ে বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কি না, তা–ও বড় প্রশ্ন। তাই আমি মনে করি, চুক্তির লাভ–লোকসানের হিসাব কষতে হবে চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা সার্বিকভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল দেশটিতে পণ্য রপ্তানিকারক ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

    শুরুতে বাংলাদেশের জন্য এই হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে এই পাল্টা শুল্কহার কার্যকর হয়। পাল্টা শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে দেশটিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। পাল্টা শুল্কারোপের পর সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

  • যৌনতা নিয়ে অজ্ঞতা, আলোচিত সিরিজে ‘নিষিদ্ধ’ সময়ের গল্প

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘ব্রিজারটন’ আবার ফিরেছে নতুন মৌসুম নিয়ে। চতুর্থ মৌসুমে শুধু রোমান্স বা রাজকীয় সাজসজ্জাই নয়, উঠে এসেছে একটি সংবেদনশীল ও দীর্ঘদিনের সামাজিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়—নারীদের যৌন অভিজ্ঞতা ও সে বিষয়ে অজ্ঞতার বাস্তবতা। এ মৌসুমে প্রেম, সম্পর্ক আর সামাজিক কাঠামোর ভেতরে নারীর অবস্থানকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    অজানা জীবন তৃতীয় মৌসুমের শেষে ফ্রান্সেসকা ব্রিজারটন ও জন স্টার্লিংয়ের বিয়ে হয়। নতুন মৌসুমে দেখা যায়, তারা হাইল্যান্ডস থেকে লন্ডনে ফিরে এসেছে দাম্পত্য জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে। কিন্তু তাদের রাজকীয় পোশাক আর সামাজিক আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট—ফ্রান্সেসকার যৌনতা সম্পর্কে প্রায় সম্পূর্ণ অজ্ঞতা।

    রিজেন্সি যুগে অবিবাহিত অভিজাত নারীদের যৌনতা সম্পর্কে কিছুই জানানো হতো না। বিপরীতে, পুরুষেরা ইউরোপ ভ্রমণের সুযোগ পেত এবং সেখানে অভিজ্ঞতা অর্জন করাকে প্রায় স্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হতো। এই বৈষম্য নতুন দম্পতির সম্পর্কের ভেতর অস্বস্তি তৈরি করে। ফ্রান্সেসকা বুঝতে পারে যে দাম্পত্য জীবনে তার হয়তো এমন কিছু অনুভব করার কথা, যা সে জানেই না।

     ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    নারীর সঙ্গে নারীর কথা
    নিজের অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে ফ্রান্সেসকা আশ্রয় নেয় পরিবারের নারীদের কাছে। মা লেডি ব্রিজারটন ও ভাবি পেনেলোপের সঙ্গে সে খোলামেলা আলোচনা শুরু করে। এই অংশ সিরিজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখানে দেখানো হয়েছে, পুরুষদের জন্য যা স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা, নারীদের জন্য তা কীভাবে নিষিদ্ধ ও গোপন বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

    ফ্রান্সেসকার চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রী হান্না ডডের ভাষায়, নারীরা যদি একে অন্যের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পায়, তাহলে তারা নিজের শরীর বা অনুভূতি সম্পর্কে জানবে কীভাবে? এই প্রশ্নই সিরিজের কেন্দ্রে এসে দাঁড়ায়।
    সম্পর্কের ভেতরের নীরবতার কারণ, ফ্রান্সেসকা ও জন দুজনই স্বভাবে অন্তর্মুখী। তাদের বিয়ে নতুন, একে অপরকে জানার পথ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। ফলে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলাটাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সিরিজে দেখানো হয়েছে নীরবতা ভাঙার চেষ্টা। সম্পর্কের ভেতরে সততা আর খোলামেলা আলোচনার গুরুত্ব এখানে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভিন্নতা ও আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান
    এই মৌসুমে ফ্রান্সেসকার চরিত্র ঘিরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। সেটা হলো, সমাজের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার অনুভূতি। সে প্রায়ই ভিড় থেকে সরে নিরিবিলি থাকতে চায়, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। অনেক দর্শক এই চরিত্রের ভেতর নিজেদের আলাদা অনুভব করার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন। সিরিজের নির্মাতারা সরাসরি কিছু না বললেও, এই ভিন্নতাকে সম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে।

     ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এর দৃশ্য। নেটফ্লিক্স

    বেনেডিক্টের প্রেম আর নতুন জগৎ
    চতুর্থ মৌসুমের মূল গল্প এগিয়ে গেছে বেনেডিক্ট ব্রিজারটনের প্রেমকে কেন্দ্র করে। এক মুখোশ বলের রাতে সে পরিচিত হয় রহস্যময় তরুণী সোফির সঙ্গে। এই গল্পের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ব্রিজারটনের ‘নিচের তলা’ বা গৃহপরিচারকদের জগৎও সামনে এসেছে। অভিজাত সমাজের ঝলমলের আড়ালে যাদের জীবন সংগ্রামে ভরা, সেই বাস্তবতা নতুন করে দেখা যায়।

     

    রানি ও লেডি ড্যানবেরির টানাপোড়েনে পুরোনো চরিত্রদের মধ্যেও সম্পর্কের নতুন রূপ দেখা যায়। রানি শার্লট ও লেডি ড্যানবেরির বন্ধুত্বে তৈরি হয় টানাপোড়েন। রানি চান না যে লেডি ড্যানবেরি ছুটিতে যান, কারণ, তিনি তাকে ছাড়া নিজেকে অসহায় মনে করেন। এখানে ক্ষমতা ও বন্ধুত্বের সীমারেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লেডি ড্যানবেরির আত্মসম্মান ও নিজের জন্য সময় চাওয়ার বিষয়টি নারীর আত্মপরিচয় ও সীমা নির্ধারণের বার্তা দেয়।

    ‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স
    ‘ব্রিজারটন ৪’–এ ইয়ারিন হা ও লুক থম্পসন। নেটফ্লিক্স

    নারীর অভিজ্ঞতা কেন নিষিদ্ধ? এই মৌসুমের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নারীরা কেন অভিজ্ঞতা পেতে পারবে না? কেন তাদের শরীর ও অনুভূতি সম্পর্কে জানাটাও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ? ব্রিজারটন এই প্রশ্নগুলোকে রোমান্টিক নাটকের কাঠামোর ভেতর রেখেই সাহসের সঙ্গে সামনে এনেছে।

    ‘ব্রিজারটন’-এর চতুর্থ মৌসুমের প্রথম কিস্তি মুক্তি পেয়েছে। বাকি চার পর্ব মুক্তি পাবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।

    বিবিসি অবলম্বনে

  • রকেট হামলায় ইরানে ২০ ভলিবল খেলোয়াড় নিহত

    ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর লামের্দে একটি স্পোর্টস হলে রকেট হামলায় অন্তত ২০ জন ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এসএনএন টেলিভিশন। খবরটি প্রকাশ করেছে মডার্ন ডট এজেড।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় মোট চারটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস হল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে ভলিবল খেলোয়াড়দের অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল বলে জানা গেছে। 

    এই ঘটনায় প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    হামলার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ বিষয়ে ইসরায়েলও আনুষ্ঠানিক কোনো দায় স্বীকার করেনি।

    ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হামলার উৎস ও প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করতে নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করছে।

     

  • রটারড্যামে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘মাস্টার

    নেদারল্যান্ডসের রটারড্যাম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআর) থেকে পুরস্কার পেল বাংলাদেশের সিনেমা ‘মাস্টার’। সিনেমাটি উৎসবের ‘বিগ স্ক্রিন কমপিটিশন’ বিভাগের শীর্ষ পুরস্কার জিতেছে। শুক্রবার রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত। ‘মাস্টার’ এ বিভাগের ১২টি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে পুরস্কার পেয়েছে।

    পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান
    পুরস্কার হাতে তিন অভিনয়শিল্পী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খানছবি: ফেসবুক
     

    পুরস্কার জয়ের খবরে উচ্ছ্বসিত সিনেমার টিম। রাতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমরা বিগ স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ড জিতেছি। অভিনন্দন আমাদের পরিচালক ও পুরো টিমকে। বাংলাদেশের জন্য দারুণ একটি দিন।’ এই পুরস্কার পরিচালকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
    অনুভূতি জানাতে গিয়ে পরিচালক রেজওয়ান শাহরিয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা অনেক বড় সম্মানের। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো নয়। আপনি আমাদের এ ক্যাটাগরির ছবিগুলোর তালিকা দেখলে দেখবেন, সেখানে অনেক ভালো ভালো সিনেমা ছিল। এ তালিকায় জায়গা পাওয়াতেই আমরা আনন্দিত ছিলাম। সেখানে পুরস্কার জয়, স্বপ্নের মতোই লাগছে।’

    কী আছে এই ‘মাস্টার’ সিনেমায়? সময়ের প্রয়োজনে একজন শিক্ষকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৈরি হয় নানা সংকট। নির্বাচনে তাঁর পেছনে যাঁরা সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেন, পরবর্তী সময়ে তাঁদের প্রায় সবাই শিক্ষকের কাছে অন্যায্য সাহায্য প্রত্যাশা করেন। সেই সাহায্যপ্রত্যাশীদের এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব হয় না, আবার নিজের ব্যক্তিত্ব ও বিবেক তাঁকে বাধাগ্রস্তও করে। এই দ্বন্দ্ব তাঁকে পরিণত করে ভিন্ন এক মানুষে—এমন গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে সিনেমাটি।
    সিনেমাটিকে পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে জুরি সদস্যরা বলেন, ‘“মাস্টার” মূলত একজন মানুষের নিজের নৈতিকতা ধরে রাখার লড়াইয়ের গল্প। ক্ষমতা ও পুঁজিবাদের প্রলোভন কীভাবে ধীরে ধীরে একজন আদর্শবাদী মানুষকে বদলে দেয়—ছবিতে তা সূক্ষ্মভাবে দেখানো হয়েছে। অসাধারণ ভিজ্যুয়াল, প্রাণবন্ত লোকেশন ও বাস্তবসম্মত পার্শ্বচরিত্রের ভিড়ে প্রধান অভিনেতা দক্ষ অভিনয়ে তুলে ধরেছেন চরিত্রটির ভেতরের দ্বন্দ্ব। শেষ পর্যন্ত ছবিটি ক্ষমতার সর্বগ্রাসী প্রভাবকেই উন্মোচিত করে।’

    ‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ
    ‘মাস্টার’ সিনেমার দৃশ্যে নাসির উদ্দিন খান ও শরীফ সিরাজ, ছবি: নির্মাতার সৌজন্যে
     

    গত ২ ফেব্রুয়ারি রটারড্যামে ছবিটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় এবং আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়ায়। নির্মাতা সুমিতের সঙ্গে উৎসবে অংশ নেন তিন অভিনয়শিল্পী অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন ও নাসিরউদ্দিন খান।
    প্রিমিয়ারের আগেই যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘কাওয়ানন ফিল্মস’ নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হওয়ায় ছবিটি বাড়তি আলোচনায় আসে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন চার্লি চ্যাপলিনের নাতনি কারমেন চ্যাপলিন ও প্রযোজক আশিম ভাল্লা।
    ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, লুৎফর রহমান জর্জ ও শরীফ সিরাজ। গল্প, চিত্রনাট্য, পরিচালনা ও প্রযোজনায় ছিলেন রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত নিজেই। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব আগামীকাল শেষ হবে। রটারড্যাম উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে ধরা হয় ‘টাইগার অ্যাওয়ার্ড’। এ পুরস্কার জিতেছে সাউথ আফ্রিকার সিনেমা ‘ভ্যারিয়েশনস অন আ থিম’। এটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ডেভন ডেলমার ও জেসন জেকবস।

  • রমজানে ১০ লাখ পরিবারকে স্বল্পমূল্যে দুধ-ডিম ও মাংস দেবে সরকার

    রমজানে নিম্ন আয়ের ১০ লাখ পরিবারকে সরকার সুলভ মূল্যে প্রোটিনের চাহিদা পূরণের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মহাখালীতে প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবার ১০ লাখ পরিবার কম দামে দুধ, ডিম ও মাংস কিনতে পারবেন। এ লক্ষ্যে উত্তরা, আজিমপুর, মিরপুরসহ রাজধানীর ২৫টি স্পটে বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। চলবে পুরো রমজান মাস জুড়ে।

    দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, এতে ডিমের ডজন মিলছে ৯৬ টাকায়, ১ কেজি দুধ ৮০ টাকা ও ১ কেজি মাংস ৬৫০ টাকায়। এই উদ্যোগের ফলে বাজারেও জিনিস পত্রের দাম কমে আসবে।

  • রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চান না সিডনি

    অভিনেত্রী সিডনি সুইনি রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন। ‘হোয়াইট লোটাস’ ও ‘দ্য হাউসমেইড’ তারকা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মত দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই তাঁর নেই—এ নিয়ে যত চাপই থাকুক না কেন।
    কসমোপলিটন সাময়িকীতে প্রচ্ছদ হয়েছেন সিডনি। সেখানেই দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি সুইনি বলেন, ‘আমি শিল্পের মানুষ। আমি রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে এখানে আসিনি। এটা এমন কোনো ক্ষেত্র নয়, যেখানে আমি কখনো নিজেকে কল্পনাও করেছি। আমি যে মানুষটি হয়েছি, তার কারণও এটা নয়।’

    ২৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, তাঁর পুরো মনোযোগ তাঁর কাজের ওপরই। তিনি বলেন,‘আমি অভিনেতা হয়েছি কারণ আমি গল্প বলতে ভালোবাসি।’ নিজের মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরে যোগ করেন, ‘আমি কোনো ধরনের ঘৃণায় বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবাইকে একে অপরকে ভালোবাসতে হবে, সম্মান ও বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি করতে হবে।’

    সিডনি স্বীকার করেন, রাজনীতিতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই উল্টো তিনি আরও বেশি সমালোচনার মুখে পড়ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি সব সময় শিল্প তৈরি করতেই এখানে এসেছি, তাই এটা এমন কোনো আলোচনা নয়, যেখানে আমি সামনে থাকতে চাই। আর মনে হয়, সেই কারণেই মানুষ বিষয়টা আরও বাড়িয়ে তোলে এবং আমাকে তাদের নিজেদের “অস্ত্র” হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু অন্য কেউ আমার ওপর কিছু আরোপ করছে—সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই।’

    ‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি
    ‘দ্য হাউসমেইড’ সিনেমার প্রিমিয়ারে সিডনি সুইনি। এএফপি

    মনে করা হচ্ছে, গত বছরের আমেরিকান ঈগল ব্র্যান্ডের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর আর কাজের বাইরে কথা বলতে চাচ্ছেন না তিনি। কসমোপলিটনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডনি আরও বলেন, অন্যের বিশ্বাস বা মতামত তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। ‘মানুষ যখন বলে দেয় আপনি কী বিশ্বাস করেন বা কী ভাবেন—বিশেষ করে যখন সেটা আপনার সঙ্গে মেলে না—তখন সেটা খুবই অস্বস্তিকর। এটা আমার জন্য অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। কারণ, এটা আমি নই। এর কোনোটাই আমি নই,’ বলেন তিনি।

    এর আগে গত ডিসেম্বরে পিপল সাময়িকীতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি যে বিষয়টিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছিলেন, সেই বিতর্ক তাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি অনলাইনে থাকি, সব দেখি। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছি। বিষয়টা এমন পর্যায়ে গেছে, যেখানে সবকিছু হজম করা আমার জন্য আর স্বাস্থ্যকর নয়।’

  • রাজনৈতিক ট্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন ইয়ামি

    ভারতের বৈশ্বিক উপস্থিতি আজ শুধু কূটনীতি বা অর্থনীতির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়; সিনেমা ও সংস্কৃতিও সমানভাবে সেই পরিচয় নির্মাণ করছে। ফলে চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা এখন কেবল অভিনয় বা বক্স অফিস ঘিরে নয়; বরং ছবির ভাবনা, বক্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও কেন্দ্র করে। এ পটভূমিতেই নিউজ১৮ রাইজিং ভারত সামিট ২০২৬-এর মঞ্চে উঠে খোলামেলা কথা বললেন ইয়ামি গৌতম। সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রেংথ উইদিন’। সেখানে তিনি এমন এক প্রশ্নের জবাব দিলেন, যা অনেক অভিনেতাই এড়িয়ে যান।

    আলোচনায় ইয়ামিকে জিজ্ঞেস করা হয়, এমন কি কখনো হয়েছে যে কোনো নির্মাতা বলেছেন, ‘তোমাকে নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি ওই ছবি করার পর আর নিতে চাই না?’ প্রশ্নটি ছিল স্পর্শকাতর। তবে ইয়ামি জবাব দিলেন ভাবনাচিন্তা করে, কোনো রক্ষণাত্মক ভঙ্গি ছাড়াই। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি। হয়তো তিন-চার বছর আগে এমন আশঙ্কা বা দ্বিধা কারও মনে থাকতে পারে। কিন্তু এখন তিনি যে ধরনের ছবি করছেন এবং পরিচালকরা তাঁকে যে ধরনের চরিত্রে ভাবছেন, সেখানে এমন মানসিকতা আর দেখছেন না। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সময় বদলেছে, বদলেছে শিল্পের দৃষ্টিভঙ্গিও।

    ‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি
    ‘হক’ সিনেমায় ইয়ামি গৌতম। আইএমডিবি

    ইয়ামি গৌতম এমন কয়েকটি ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যেগুলো রাজনৈতিক পটভূমিতে নির্মিত। এর মধ্যে রয়েছে ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘হক’। এই ছবিগুলো ঘিরে নানা বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছে। তবে ইয়ামির মতে, শেষ পর্যন্ত একটি ছবির মান নির্ধারিত হয় তার নির্মাণশৈলী দিয়ে, কেবল রাজনৈতিক অবস্থান দিয়ে নয়।
    ইয়ামি বলেন, অনেকেই তাঁকে বার্তা পাঠিয়ে লিখেছেন, রাজনৈতিক মত যা–ই হোক, ছবিটি যে ভালোভাবে নির্মিত, তা অস্বীকার করা যায় না। বরং এমন ছবি দর্শককে ভাবতে বাধ্য করে—আমরা যা বিশ্বাস করি, তা কি একমাত্র সত্য? নাকি বিষয়টিকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা যায়?

    ইয়ামির মতে, সিনেমার শক্তি এখানেই। এটি কোনো এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যম নয়; বরং প্রশ্ন তোলার এবং আলোচনার দুয়ার খুলে দেওয়ার শিল্পমাধ্যম।
    আলোচনায় ইয়ামি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন, সত্য লুকিয়ে রাখা যায় না। কারণ, ক্যামেরা অত্যন্ত স্বচ্ছ। তাঁর ভাষায়, ক্যামেরা শুধু একজন অভিনয়শিল্পীর অভিব্যক্তি নয়, লেখকের মনোভাব ও পরিচালকের অভিপ্রায়ও ধরতে পারে।

    অর্থাৎ অভিনয় কৃত্রিম হলে বা উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হলে তা পর্দায় ধরা পড়বেই। তাই ইয়ামি বিশ্বাস করেন, সততা নিয়েই কাজ করতে হয়। কারণ, দর্শক শেষ পর্যন্ত আন্তরিকতাই অনুভব করেন।

    ভারতের পরিবর্তিত বাস্তবতা নিয়েও কথা বলেন ইয়ামি। তাঁর মতে, এটি এক নতুন ভারত, যেখানে আধুনিক সিনেমাও নতুন ভাষা খুঁজে নিচ্ছে। পরিবর্তন শুধু সমাজে নয়, চলচ্চিত্রেও জরুরি। আর সেই পরিবর্তন দৃশ্যমানও হচ্ছে।

    ইয়ামি গৌতম
    ইয়ামি গৌতম, এএফপি

    এ পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই ইয়ামি দেখছেন নিজের যাত্রাকে। একসময় যেখানে শিল্পীরা ‘তকমা’ নিয়ে সতর্ক থাকতেন, এখন দর্শক ছবিকে তার গুণমান দিয়ে বিচার করছেন। বিষয়বস্তুর গভীরতা, নির্মাণশৈলী ও অভিনয়ের সততা—এসবই হয়ে উঠছে আসল মানদণ্ড।

    ইয়ামি গৌতমের বক্তব্য থেকে যে বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো আত্মবিশ্বাস। তিনি মনে করেন, শিল্পী হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ানোই গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হোক বা না হোক, যদি গল্পে বিশ্বাস থাকে, চরিত্রে সত্যতা থাকে, তবে কাজের মূল্যায়ন হবেই।

    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

  • রাশমিকা–বিজয়ের বিয়ের অদেখা ছবি প্রকাশ্যে

    গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উদয়পুরে স্বপ্নের বিয়ে সেরেছেন বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মন্দানা। বিয়ের সন্ধ্যাতেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁদের চারহাত এক হওয়ার ছবি, যা দেখে শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের দর্শক-অনুরাগীরা। প্রায় আট বছরের সম্পর্কের মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়েছে উদয়পুরে। তবে গতকাল রাতে প্রকাশ্যে এসেছে বিয়ের আরও কিছু অদেখা ছবি, যা অন্তর্জালে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে ছবিতে জেনে নেওয়া যাক দুই তারকা সম্পর্কে কিছু তথ্য—

    খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    খাঁটি দক্ষিণি নিয়ম মেনে বিয়ে সেরেছেন তারকা যুগল। তেলেগু ও কোডাভা নিয়মে বিয়ে সারেন তাঁরা। ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আলোচনার শীর্ষে তাঁদের দুজনের সাজপোশাক। এককথায় রাজবেশে বিয়ে সেরেছেন বিজয়। প্রথা মেনে সঙ্গে অসি নিয়ে বিয়ের মণ্ডপে এসেছিলেন অভিনেতা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তারকা জুটির বিয়ের মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই ছিল আদ্যোপান্ত দক্ষিণ ভারতীয় ছোঁয়া। তাঁদের বিয়ের মণ্ডপ সেজেছিল তামিলনাড়ু সংস্কৃতির ধাঁচে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    কলকাতার মেয়ে অনামিকা খান্নার ডিজাইন করা পোশাকে সেজেছিলেন রাশমিকা ও বিজয়। পুরোনো রীতি মেনে পালকি চড়ে লাজে রাঙা বউ হয়ে বিয়ের মণ্ডপে আসেন রাশমিকা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    বিয়েতে ভারী গয়না থেকে শাড়ি, হেয়ারস্টাইলে নজর কেড়েছেন রাশমিকা। এমনকি বিয়ের মণ্ডপের অন্দরসজ্জায় একই সঙ্গে জায়গা পেয়েছে পিতলের নানা মূর্তি। সঙ্গে নজর কেড়েছে লাল বস্ত্রে সংক্ষেপে উল্লিখিত জুটির নামের আদ্যাক্ষর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    আতিশয্য নয়, বরং শিকড় আঁকড়েই বিয়ের সমগ্র নিয়ম পালন করেছেন বিজয় ও রাশমিকা। তাঁদের বিয়ের দিনের অদেখা ছবিতে ফুটে উঠেছে তাঁদের বিয়ের ভেন্যুর ঐতিহ্যপূর্ণ সাজসজ্জা। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ঠিক যেমনভাবে চেয়েছিলেন সেভাবেই সেজেছিল বিজয়-রাশমিকা ছাঁদনাতলা। তাঁদের পছন্দের কথা মাথায় রেখে সাজানো হয়েছিল উদয়পুরের বিবাহবাসর। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    তবে উদয়পুরের পাঁচতারা হোটেলের নিজস্ব সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখেই সাজানো হয়েছিল ছাঁদনাতলা। বিজয়ের পছন্দ অনুযায়ী টেরাকোটার একাধিক জিনিস দিয়ে সাজানো হয়েছিল বিয়ের ভেন্যুর আনাচকানাচ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছিল অ্যাস্থেটিক লুকের ডমরু, ঘুঙুরের মতো নানা সামগ্রী। ইনস্টাগ্রাম থেকে
     এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    এমনকি দক্ষিণ ভারতীয় বিয়েতে পাত্র-পাত্রীর মাঝে একটি বিশেষ ধরনের কাপড় ধরা হয়, যা ‘আদ্দুত্তেরা’ নামে পরিচিত। বিরোশ-এর বিয়েতে সেই বিশেষ কাপড়েও বিশেষ কারুকার্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বিভিন্ন মন্ত্র। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অনাড়ম্বরভাবে, নিজেদের সংস্কৃতির যথাযথ মর্যাদা রেখেই বিয়ের সব পরিকল্পনা করেছিলেন বিজয় ও রাশমিকা। মেনু থেকে ভেন্যু সবখানেই তাই নিজেদের শিকড়কে বরাবর আঁকড়ে ছিলেন তাঁরা, যা তাঁদের বিয়েকে রূপকথার গল্পে পরিণত করেছে। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে
    ‘গীতা গোবিন্দাম’ সিনেমা দিয়ে জুটি হিসেবে যাত্রা শুরু করেন দুই তারকা, বিয়ের মাধ্যমে রাশমিকা ও বিজয়ের আট বছরের সম্পর্ক পূর্ণতা পেল। ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • রিভিউ বাংলাদেশে তৈরি অনার এক্স৯ডি ৫জি মডেলের স্মার্টফোনটি কেমন

    তুলনামূলক কম খরচে উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর ও শক্তিশালী ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে চান অনেকেই। আর তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও মিড রেঞ্জের স্মার্টফোনের বাজার বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখে গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তৈরি ‘এক্স৯ডি’ মডেলের স্মার্টফোন উন্মুক্ত করেছে চীনের স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনার। প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহার করে স্মার্টফোনটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরা হলো—

    নকশা

    হাতে নেওয়ার পর প্রথমেই মনে হলো, ফোনটি বেশ টেকসই। ম্যাট ফিনিশ ব্যাক প্যানেল থাকায় খুব বেশি হাতের ছাপ পড়ে না ফোনটিতে। আইপি৬৮ ও আইপি৬৯কে রেটিং থাকায় ধুলাবালি, পানি এমনকি উচ্চচাপের পানির স্প্রে থেকেও নিরাপদ থাকে ফোনটি। শুধু তা–ই নয়, ফোনটিতে থাকা ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর সাইড-মাউন্টেড বেশ দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করে।

    পর্দা

    ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দার ফোনটি ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট সমর্থন করে। ফলে স্ক্রল ও অ্যানিমেশন স্বচ্ছন্দে করা যায়। বেজেল এতটাই কম যে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও ফোনটিকে একটি ফ্ল্যাগশিপ লুক দিয়েছে। পর্দার উজ্জ্বলতা বেশি হওয়ায় সরাসরি রোদেও ভিডিও কনটেন্ট দেখতে অসুবিধা হয় না ফোনটিতে।

    সক্ষমতা

    অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএসে চলা ফোনটিতে ৪ ন্যানোমিটারের স্ন্যাপড্রাগন ৬ জেন ৪ মডেলের প্রসেসর থাকায় একসঙ্গে একাধিক কাজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছন্দে গেম খেলা যায়। তবে দীর্ঘ সময় আকারে বড় গেম খেলার ক্ষেত্রে সামান্য ফ্রেম ড্রপ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে ফোনটিতে। অর্থাৎ ফোনটি সাধারণ ও মাঝারি পর্যায়ের গেম খেলার জন্য উপযোগী হলেও হার্ডকোর গেমের জন্য তেমন উপযুক্ত নয়।

    ক্যামেরা

    ফোনটির পেছনে থাকা ১০৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে স্বাভাবিক রঙে ভালো মানের ছবি তোলা যায়। রাতে বা কম আলোতে ছবি তোলার জন্য রয়েছে উন্নত ‘নাইট মোড’, যা ছবির নয়েজ কমিয়ে স্বচ্ছতা বাড়ায়। সেলফিপ্রেমীদের জন্য সামনে আছে ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা, যা ভালো মানের ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে অনেক মিড-রেঞ্জ ফোনে টেলিফটো লেন্স থাকলেও অনার এক্স৯ডি মডেলে লেন্সটি যুক্ত করা হয়নি। এ ছাড়া ভিডিও রেকর্ডিং স্থিতিশীল হলেও ফ্ল্যাগশিপ মানের মতো নয়।

    ব্যাটারি

    ১২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট ধারণক্ষমতার ফোনটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হচ্ছে ৮ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি। ফলে একবার পুরো চার্জ করলে ফোনটি অনায়াসেই দেড় থেকে দুই দিন ব্যবহার করা সম্ভব। শুধু তা–ই নয়, ৬৬ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি থাকায় দ্রুত চার্জও করা যায় ফোনটি।

    পড়লেও ভাঙ্গে না

    অনারের তথ্য মতে, ‘হাইয়েস্ট স্মার্টফোন ড্রপ’ বিভাগে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখানো ফোনটি ৬.১৩৩ মিটার বা ২০ ফুটের বেশি উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না। বিষয়টি পরখ করার জন্য ১৬ ফুট উচ্চতা থেকে ফোনটি ফেলে দেখা গেছে, পর্দায় ফাটল বা দাগ পড়েনি।

    কানেকটিভিটি ও অডিও

    ফোনটির ৫জি কানেকটিভিটি বেশ উন্নত। ওয়াই–ফাই ও ব্লুটুথ সংযোগেও তেমন সমস্যা দেখা যায়নি। স্পিকার আউটপুট ভালো, তবে বেজ ততটা শক্তিশালী নয়। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৯৯ টাকা।

    সোহানুর রহমান

  • রুনা লায়লার গানে ‘বর্ণমালা’ চিনেছে ভারতের বিলুপ্তপ্রায় জাতি, খবরটি শোনার পর যা বললেন শিল্পী

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ভুটান সীমান্তবর্তী একটি ছোট্ট গ্রাম টোটোপাড়া। সেখানে বসবাস ভারতের অন্যতম প্রাচীন, ক্ষুদ্র ও বিপন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী টোটো সম্প্রদায়ের। বহুদিন ধরেই তাদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও ছিল না কোনো লিখিত বর্ণমালা। ফলে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ছিল ভাষাটি। অদ্ভুত হলেও সত্য—এই ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরির প্রেরণা এসেছে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার গাওয়া একটি গান থেকে। প্রায় চার দশক আগে গাওয়া তাঁর ‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’ গানটির একটি লাইনই নাকি বদলে দেয় এক আদিবাসী মানুষের ভাবনা। সেই খবর জানার পর নিজের অনুভূতির কথাও জানিয়েছেন দেশবরেণ্যে এই শিল্পী।

    সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
    সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা

    পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার টোটোপাড়া গ্রামে বসবাসকারী টোটো সম্প্রদায়ের ভাষা দীর্ঘদিন ধরে শুধু কথ্য রূপেই প্রচলিত ছিল। লিখিত কোনো লিপি না থাকায় ভাষাটি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে কয়েক বছর আগে টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র বর্ণমালা তৈরি করে আলোচনায় আসেন ধনীরাম টোটো।

    ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ধনীরাম টোটোর এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে। তবে খুব কম মানুষই জানেন, এই উদ্যোগের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে একটি গান। ধনীরাম টোটো এক সাক্ষাৎকারে জানান, একদিন রেডিওতে তিনি শুনছিলেন রুনা লায়লার গাওয়া গান—‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’। গানের এই লাইন তাঁর মনে গভীরভাবে দাগ কাটে। তখনই তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে—যদি অন্য ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা থাকতে পারে, তবে টোটো ভাষার কেন থাকবে না?

    ঢাকার পাঁচতারা হোটেলে প্রথম আলোর ক্যামেরায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
     উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা
     

    সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ গবেষণা ও প্রচেষ্টা। পরে তিনি টোটো ভাষার জন্য একটি স্বতন্ত্র লিপি তৈরি করেন, যা এখন ‘টোটো-হরফ’ বা ‘তোত্বিকো আল্লাবেত’ নামে পরিচিত। টোটো ভাষা সংরক্ষণের আরেকটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন ভক্ত টোটো। তিনি বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করে এই লুপ্তপ্রায় ভাষাকে নথিভুক্ত করার চেষ্টা শুরু করেন।

    স্থানীয়ভাবে টোটো ভাষার শব্দ সংগ্রহ, গল্প লেখা ও প্রাথমিক শিক্ষায় ভাষাটি ব্যবহারের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ এখনো কম নয়। আলিপুরদুয়ার জেলার তোর্সা নদীর তীরে বসবাসকারী এই ছোট্ট জনগোষ্ঠীর সামনে ভাষা টিকিয়ে রাখার লড়াই এখনো চলছে। আধুনিক শিক্ষা, বহিরাগত সংস্কৃতির প্রভাব ও সীমিত জনসংখ্যার কারণে ভাষাটি সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে। তবু নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতি বাঁচিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে টোটো সম্প্রদায়।
    রুনা লায়লা
    রুনা লায়লা
     

    দেড় মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মেয়ে ও নাতি–নাতনির সঙ্গে সময় কাটিয়ে ৫ মার্চ দেশে ফিরেছেন রুনা লায়লা। তাঁকে যখন এ ঘটনা জানানো হয় এবং এ নিয়ে বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদনের ইউটিউব লিংক পাঠানো হয়, তখন তিনি জানান—বিষয়টি তিনি দেখেছেন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের কয়েকজনও তাঁকে সেই প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। আলাপচারিতায় তিনি বলেন, একটি গান শুধু বিনোদন নয়, অনেক সময় তা মানুষের মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

    রুনা লায়লার ভাষায়, ‘একটা গান যখন মানুষের মনের ভেতরে ঢোকে, তখন তা নানাভাবে প্রভাব ফেলে। সংগীত দিয়ে অসুস্থ মানুষকেও সুস্থ করে তোলা যায়—এ কথাও তো বলা হয়। প্রত্যেকটা গানই কিন্তু একধরনের বার্তা দেয়।’ কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এই গানের বার্তা যে একটি বিপন্ন জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছেছে এবং তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে—এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। এতে আবারও মনে হলো, ভালো গানের শক্তি কত বড়।’

     রুনা লায়লা
    রুনা লায়লা
     

    গানটির পেছনের গল্প বলতে গিয়ে রুনা লায়লা ফিরে গেলেন সত্তরের দশকের শেষ দিকে। জানালেন, ‘তুমি আমি লিখি প্রাণের বর্ণমালা’ গানের কথা লিখেছিলেন কবি শামসুর রাহমান, আর সুর করেছিলেন খন্দকার নূরুল আলম। বাংলাদেশ বেতারের ট্রান্সক্রিপশন সার্ভিসের জন্য শাহবাগের বেতার ভবনে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনেও এটি পরিবেশন করেছিলেন।

    গানটি গাওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার স্মৃতি মনে করে রুনা লায়লা বলেন, ‘একদিন খন্দকার নূরুল আলম ভাই বাসায় ফোন করে বললেন—একটা দেশাত্মবোধক গান করতে চান এবং আমি যেন গাই। আমি বলেছিলাম, অবশ্যই গাইব। কেন গাইব না? এরপর বেতারে গিয়ে গানটি রেকর্ড করা হয়।’
    নানান সময়ে রুনা লায়লা
    নানান সময়ে রুনা লায়লা
     

    চার দশকের বেশি পুরোনো একটি গান যে একটি বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী ভাষাকে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে—এ কথা কখনো ভাবেননি রুনা লায়লা। তিনি বলেন, ‘৪৫ বছর আগের একটি গান শুনে তারা নিজেদের ভাষার জন্য বর্ণমালা তৈরি করেছে—এটা সত্যিই অদ্ভূত। আমার গাওয়া গান, সুর আর কথাগুলো একটি বিপন্ন আদিবাসী জাতির জীবনে নতুন ভাবনা তৈরি করেছে—এটা অবশ্যই আনন্দের বিষয়।’

  • রোনালদোর চোট যতটা ভাবা হয়েছিল তার চেয়েও ‘মারাত্মক’

    সৌদি প্রো লিগে গত শনিবার আল ফায়হার বিপক্ষে আল নাসরের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে ৮১ মিনিটে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠে ছাড়েন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডাগআউটে বসে এরপর ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে আইসপ্যাক লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। তখনই অনেকের মনে ভ্রুকুটি জেগেছিল—রোনালদো কি চোটে পড়েছেন?

    শঙ্কা সত্যি হয় গত মঙ্গলবার। আল নাসর জানায়, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েছেন রোনালদো। তবে সেরে উঠতে ঠিক কত দিন লাগতে পারে, সেটা তখন জানা যায়নি। তবে কাল আল নাসর কোচ জর্জ জেসুস জানালেন আরও শঙ্কার খবর। রোনালদোর চোট প্রথমে দেখে যতটা হালকা মনে হয়েছিল, আসলে তা নয়। জেসুসের ভাষায়, এই চোট নাকি ‘আরও মারাত্মক।’

    আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো
    আল নাসরের সর্বশেষ ম্যাচে চোট পান রোনালদো, এএফপি

    জেসুস এরপর বলেন, ‘ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে তাকে চিকিৎসা নিতে হবে। আমরা আশা করছি, শিগগিরই সে ফিরে এসে দলকে সাহায্য করতে পারবে।’
    সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিক জানিয়েছে, রোনালদো সৌদি আরব ছেড়ে স্পেনে গেছেন এবং মাদ্রিদে ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টের দ্বারস্থ হবেন। আজ রাতে এবং আগামী ১৪ মার্চ আল নাসরের ম্যাচে রোনালদো খেলতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন জেসুস। তবে এরপর থেকে যে তাঁকে পাওয়া যাবে, সেই নিশ্চয়তাও নেই।

    🚨 Jorge Jesus: “After tests, we see the injury suffered by Cristiano Ronaldo was more serious than expected”.

    “Cristiano will now travel to Spain, like other players who went for treatment when they were injured. His injury required treatment in Madrid with his personal… pic.twitter.com/uCb70kgiGg

    — Fabrizio Romano (@FabrizioRomano) March 6, 2026

    তবে রোনালদোর চোট নিয়ে দুশ্চিন্তা আছে পর্তুগালেরও। বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ২৯ মার্চ মেক্সিকো এবং ১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুটি ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর খেলা নিশ্চিত নয়।

  • রোজায় বাড়ল মাছ, মাংস ও সবজির দাম, এক হালি লেবু এখন ১০০ টাকার বেশি

    রাজধানী ঢাকার বাজারে ভালো মানের এক হালি লেবুর দাম এখন ১০০-১২০ টাকা। আর ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন (১২টি) ডিমের দাম ১১০ টাকা। অর্থাৎ এক হালি লেবুর দামে এখন এক ডজন ডিম কেনা যাচ্ছে।

    আজ বৃহস্পতিবার শুরু হলো পবিত্র রমজান মাস। এর আগেই বাজারে লেবুসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, খেজুর, ব্রয়লার মুরগি ও বিভিন্ন ধরনের মাছ।

    গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।

    বিক্রেতারা বলছেন, রোজার শুরুর দিকে বেশ কিছু পণ্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। অবশ্য এই সুযোগে কেউ কেউ অতিরিক্ত দামও রাখছেন। তবে সপ্তাহখানেক পর অধিকাংশ পণ্যের দাম কমে আসতে পারে বলে জানান তাঁরা।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। সেই লেবু এখন ৬০ টাকার নিচে কেনা যায় না। আর একটু ভালো মানের ও বড় আকারের এক হালি লেবু কিনতে লাগছে ১২০ টাকা। অর্থাৎ একটি লেবুর দামই পড়ছে প্রায় ৩০ টাকা। গত বছর রোজা শুরুর আগে এক হালি লেবুর দাম ছিল ৪০-৫০ টাকা।

    রোজার সময় ইফতারিতে অনেকেই লেবুর শরবত খান। কিন্তু গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে লেবুর দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে মাঝারি আকারের এক হালি লেবু ২০ থেকে ৪০ টাকায় কেনা যেত। সেই লেবু এখন ৬০ টাকার নিচে কেনা যায় না।

    ইফতারির বিভিন্ন উপকরণ তৈরির জন্য ভোক্তারা শসা, টমেটো, গাজর, বেগুন কেনেন। বাজারে বেগুন ও শসার দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে।

    গতকাল ধরনভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের বেগুনের দাম আরও বেশি। আর প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়।

    এ ছাড়া টমেটো ও গাজরের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় বেগুন, শসা, টমেটোর দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেশি রয়েছে।

    বাজারে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ বলেন, ‘মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় লেবুর দাম বেড়েছে। আর শসা, টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার তেমন কারণ নেই। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় আড়তে (পাইকারি) দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি দামের চেয়ে আমরা ১০-২০ টাকা লাভ রাখি।’

    সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকায়।

    ব্রয়লারের কেজি ২০০ টাকা ছাড়াল

    নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা আমিষের উৎস হিসেবে গরু, খাসি বা দামি মাছ তুলনামূলক কম খান। এর পরিবর্তে তাঁদের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। কিন্তু রোজা শুরুর আগেই বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে ৪০-৫০ টাকা বেড়েছে।

    সপ্তাহ দুই আগে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৬০-১৭০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে ২০০-২২০ টাকায়। এই সময়ে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। গতকাল প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এক ডজন ডিমের দাম এখন ১০৫-১১০ টাকা।

    মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে লেবুর সরবরাহ কম। হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় লেবুর দাম বেড়েছে। আর শসা, টমেটোসহ অন্যান্য সবজির দাম বাড়ার তেমন কারণ নেই। কিন্তু চাহিদা বাড়ায় আড়তে (পাইকারি) দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি দামের চেয়ে আমরা ১০-২০ টাকা লাভ রাখি।সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ

    বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাচ্চার দাম বেড়েছে। আর শীতে খামারে মুরগির মৃত্যুর কারণেও দামে প্রভাব পড়েছে। আর প্রতিবছর রোজার শুরুতে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বাড়ে। এটিও মূল্যবৃদ্ধির আর আরেকটি কারণ।

    এবার মাছবাজারের খোঁজ নেওয়া যাক। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, রুই, কাতলের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ২০-৫০ টাকা বেড়েছে। যেমন গতকাল প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২২০-২৫০ টাকায়। কয়েক দিন আগে ছিল ২০০-২২০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই বা কাতলা মাছ ৪০০ টাকার কমে কেনা যায় না। রোজা শুরুর আগে এভাবে মাছ-মুরগির দাম বাড়ায় কষ্ট বেড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষের।

    দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    রাজধানীর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা ও একটি পোশাক কারখানার কর্মী শামসুল ইসলাম বলেন, রোজার মধ্যে যেসব জিনিসের চাহিদা বেশি, সব কটির দাম বেড়েছে। এটা তো অস্বাভাবিক। রোজা এলে যেখানে দাম কমার কথা, সেখানে উল্টো দাম বেড়েছে।

    কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

    ফলের দামও চড়া

    রোজা শুরুর আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম বেড়েছে। বিদেশি ফলের মধ্যে রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে খেজুর, মাল্টা ও আপেলের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে মাল্টা ও আপেলের। গতকাল এক কেজি মাল্টা ৩১০-৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর আপেল বিক্রি হয়েছে ৩৩০-৪০০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে মাল্টা ও আপেলের দাম কেজিতে ৫০-৮০ টাকা কম ছিল। দেশীয় ফলের মধ্যে ধরনভেদে কলার দাম ডজনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া পেঁপে, পেয়ারা, বরই প্রভৃতি ফল আগের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    রোজায় প্রয়োজনীয় ছোলা, অ্যাংকর ডাল, চিনির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়েছে। আর কয়েক দিন ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট চলছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

  • রোজায় হাইস্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত

    পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

    সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন।

    আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।

    এর আগে রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

    বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।

    তার আগে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।

    নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।

    নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।

  • লঙ্কা বধে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে, বিশ্বকাপ যেন রোডেশিয়ান রূপকথা

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর এবার স্বাগতিক লঙ্কানদের হারিয়ে নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে রোডেশিয়ানরা। ১৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে আফ্রিকার দলটি।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা।

    আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় শ্রীলঙ্কা। মুজারাবানির পেসে ২২ রানে কুশাল পেরেরা ফিরলে ভাঙ্গে পার্টনারশিপ। দলীয় ১০০ রানের মাথায় ২য় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে। ৪৪ রান করে ক্যাচ আউটের ফাঁদে পড়েন পাভান রত্নায়েকে।

    নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লে দুনিথ ভেল্লালাগের ১৫ রানে ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি, ইভান্স ও ক্রেমার তুলে নেন ২টি করে উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় জিম্বাবুয়ে। ৩৪ রান করে আউট হোন মারুমানি। আর ১২ বলে ২৩ রান করে আউট হয়েছেন রায়ান বার্ল।

    ৪৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন সিকান্দার রাজা। তবে বেনেটের অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।

  • লিফটে সালমানকে দেখে অবাক

    শুরু থেকেই নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টায় আছেন সাই মাঞ্জরেকার। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় ‘দাবাং থ্রি’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। এরপর একাধিক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা-পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকার-কন্যা। এবার পিরিয়ড ড্রামা দ্য ইন্ডিয়া হাউস-এ আসছেন সাই। প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ছবি, নিজের অভিনয় অভিজ্ঞতা এবং সালমান খানকে ঘিরে কিছু স্মৃতির কথা বলেছেন তিনি।

    সাই বলেন, ‘“দ্য ইন্ডিয়া হাউস” আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গভীর ছবি।’ দক্ষিণের তারকা রামচরণের প্রযোজনায় একই সঙ্গে হিন্দি ও তেলেগু ভাষায় ছবিটি তৈরি হচ্ছে। ‘মেজর’-এর পর এটি সাইয়ের দ্বিতীয় ছবি, যা একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুট হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা রোমাঞ্চকর, আবার চ্যালেঞ্জিংও। একই দিনে আবেগ, ভাষা আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সামলাতে হয়েছে।’

    হিন্দি ও তেলেগু—দুই ভাষার ছবিতেই অবশ্য আগে কাজ করেছেন তিনি, ‘“মেজর”-এ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি কিছুটা পরিচিত ছিল। তবে প্রতিটি ছবি নতুন কিছু শেখায়।’ ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘সতী’। ‘চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে সেই সময়ের মানুষ, তাদের শক্তি, দুর্বলতা আর নীরব দৃঢ়তাকে বুঝতে হয়েছে।’

    প্যান-ইন্ডিয়া সেটআপে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত সাই, ‘এ ধরনের প্রজেক্টে সিনেমাই একটা ভাষা হয়ে যায়। ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে কাজ করে শুধু গল্পের জন্য।’ সহশিল্পী নিখিল সিদ্ধার্থ, পরিচালক বামসিসহ পুরো টিমের প্রশংসা করেন তিনি।

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গে সাই জানান, ‘মেজর’, ‘অরো মে কহাঁ দম থা’ ও ‘স্কন্দা’র মতো ছবিতে কাজ করে তিনি অনেকটা পথ এগিয়েছেন। প্রিয় তারকাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শাহরুখ স্যার আর সালমান স্যারকে খুব ভালোবাসতাম। অক্ষয় কুমারের কমেডি ছবি দেখেই বড় হয়েছি।’ শৈশবের নায়িকাদের কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, ‘সোনালি বেন্দ্রের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ ছিলাম। রানী মুখার্জি আর কাজলকে নিয়ে তখন খুব আবেগপূর্ণ ছিলাম।’

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    কথাপ্রসঙ্গে জানালেন, সালমান খানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি আজও উজ্জ্বল, ‘আমার বয়স তখন তিন-চার। টিভিতে জুড়ওয়া খুব দেখতাম। দুবাইয়ে লিফটে হঠাৎ সালমান স্যারকে দেখে শুধু ভাবছিলাম—“ওহ মাই গড!”’ সালমান খানের আদর আর একবার ফ্লাইটে তিরামিসু খাওয়ানোর স্মৃতি আজও মনে আছে।

    শৈশবের সেই বিস্ময় আর মুগ্ধতাই সময়ের সঙ্গে ঘুরে এসে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। যে মানুষটিকে তিন-চার বছর বয়সে লিফটে দেখে বিস্মিত হয়েছিল ছোট্ট সাই, কয়েক বছর পর সেই সালমান খানেরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন ‘দাবাং থ্রি’-তে। পর্দায় দেখা নায়ক হয়ে ওঠেন তাঁরই সহশিল্পী। সেই স্মৃতির বৃত্ত পূর্ণ করেই আজ বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছেন সাই মাঞ্জরেকার।

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন ফারজানা-রেনু-রোকেয়ারা

    রাজধানীর কোলাহল ছাপিয়ে রাত দুইটার নিস্তব্ধতায় যাঁদের বঁটির ধারালো শব্দে বেঁচে থাকার ছন্দ তৈরি হয়, সেই অদম্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনেরা। অনলাইনে মাছ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ কর্মরত ফারজানা রহমান, রেনু বেগম এবং আশি ছুঁই ছুঁই রোকেয়া বেগমের হাতে আজ মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার। এই তিনজনসহ মাছ কাটেন রিভার ফিশের আরও চার নারী—হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতারকে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

    ১০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে ‘মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আজ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই নারীদের অদম্য জীবনযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি। বর্তমানে তিনি এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

    অদম্য এই নারীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন। তিনি এই নারীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের সততা ও পরিশ্রমই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। উপহার হাতে তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম।

    উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে রেনু বেগম বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য আনন্দের।’

    ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের মতো নারীরা সমাজের তথাকথিত ‘ছোট কাজ’কে জীবনের ঢাল বানিয়ে যে নতুন পৃথিবী গড়েছেন, সে লড়াইয়ে শামিল হতে পেরে অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • শিক্ষা উপবৃত্তির নির্দেশিকা প্রকাশ, কোন ক্লাসে কত টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা

    প্রাথমিকের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এসকেটি) অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।

    উপবৃত্তির টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, ব্যাগ, ছাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্স ইত্যাদি কেনা যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম সরকারের ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাক্‌–প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ (পঁচাত্তর) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ (এক শ পঞ্চাশ) টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ (তিন শ) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ (দুই শ) টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ (চার শ) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপবৃত্তির পরিমাণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে।

    উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত

    প্রাক্‌–প্রাথমিকের জন্য ন্যূনতম বয়স চার বছর এবং প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। প্রথম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি এবং পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তি। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তির শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ছাড়পত্রে শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে। প্রাক্‌–প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বাংলা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি) থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মুঠোফোনে খোলা সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

    অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে

    প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর না পেলে, সে উপবৃত্তি পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অথবা ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। শিক্ষার্থী কোনো মাসে নিয়মিত উপস্থিতির শর্ত ভঙ্গ করলে উক্ত মাসের উপবৃত্তি প্রদান করা যাবে না। উক্ত শিক্ষার্থী পরবর্তী সময় শর্তপূরণ করলে শর্তপূরণের মাস থেকে আবার উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য যোগ্য হবে। শিক্ষার্থীকে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রতি মাসে অন্যূন ৮০ শতাংশ পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্ধারণ করবেন। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০ শতাংশ পাঠদিবসের কম হলে, তা প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যুক্তিসংগত কারণ বলে বিবেচিত হলে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিল করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের কোনো এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব না হলে, দুর্যোগের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান স্থগিতকালীন উপস্থিতি দিবসগুলো উক্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাসিক উপস্থিতি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হলেও উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে উপবৃত্তি দেওয়া যাবে। জুন মাসের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে ১০ জুন পর্যন্ত পাঠদিবসের ৮০ শতাংশ উপস্থিতির ভিত্তিতে উপবৃত্তি বিতরণ করা যাবে।

    **নির্দেশিকা দেখুন এখানে...

  • শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলায় বেকারত্ব বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। কিন্তু শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমানো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

    এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য।

    আলোচনা সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিমুল–পলাশরাঙা বসন্তের সকাল, গানের সুর–নাচের ছন্দে বর্ণিল উৎসব

    শিমুল–পলাশের রঙে লাল বসন্তের প্রথম সকাল মুখর হয়ে উঠেছিল গানের সুর আর নৃত্যের ছন্দে। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ ঋতুরাজের আগমনী দিনে বিপুল প্রাণের উচ্ছ্বাসে স্পন্দিত হয়েছিল আজ শনিবার সকাল থেকে। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ আহ্বান নিয়ে ৩৮তম বারের মতো বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ।

    সকাল আটটায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এরপর দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের একক সংগীত, আবৃত্তির সঙ্গে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা, বিশেষত নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। নারীদের পরনে ছিল বাসন্তী রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপা বা মাথায় ফুলের সজ্জা। পুরুষদের বেশির ভাগই পরেছেন উজ্জ্বল বর্ণের পাঞ্জাবি। রাজধানীতে শীতের প্রভাব কমেছে আরও কিছুদিন আগেই। বসন্তে গরম পোশাকের আবশ্যকতা নেই বলে বাহারি সাজে সেজেগুজে উৎসবকে রঙিন করে তুলেছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতারা।

    অধিকাংশ গান, আবৃত্তি আর নৃত্য ছিল বসন্ত নিয়ে। বসন্ত ভালোবাসারও ঋতু। তাই ঋতুরাজের আগমনী দিনে ভালোবাসার গানও বাদ পড়েনি পরিবেশনা থেকে। দর্শক–শ্রোতাদেরও অনেকে এসব গানের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। নাচের মুদ্রায় তাল মিলিয়ে নৃত্য করেছেন কেউ কেউ।

    জাদুঘরের প্রথম তলার খোলা পরিসরে মঞ্চ করে অনুষ্ঠান। সামনে দর্শকদের জন্য সারি দিয়ে চেয়ার পাতা হয়েছিল। তবে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রচুর। অনেকে চারপাশে দাঁড়িয়ে ও সিঁড়ির ওপর থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। আবার অনেকে প্রবেশপথের সামনের উন্মুক্ত পরিসরে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন। অনেকে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ও সামনের খোলা পরিসরে বসে চা পানের পাশাপাশি সঙ্গীদের সঙ্গে আলাপে–আড্ডায় মেতেছেন। সবটা মিলিয়ে দারুণ এক আনন্দঘন আয়োজন সম্পন্ন হলো বসন্ত উৎসবের এই নতুন স্থানে।

    বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছিল ১৪০১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এর পর থেকে বরাবর সেখানেই দিনভর উৎসব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবেশ পাল্টে যায়। বকুলতলায় উৎসব করার আর অনুমতি মেলেনি। বকুলতলায় আশ্রয় হারিয়ে ‘অনিকেত’ আয়োজকেরা এরপর বিভিন্ন স্থানে উৎসব আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছেন। অনুমতি পাননি। অবশেষে তাঁরা শরণাপন্ন হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে। বসন্তকথনে এই কথাগুলোই তুলে ধরলেন আয়োজকেরা।

    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলেন, ‘এবারই প্রথম চারুকলার বকুলতলার বাইরে উৎসবটির আয়োজন করতে হলো। বকুলতলাতেই উৎসব করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধ হলো বাংলাদেশের শিকড়। আর বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক উৎসগুলো আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। শিকড়ের টানেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক এই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছি। তবে আগামী বছর থেকে আমরা আবার চারুকলার বকুলতলাতেই উৎসব করতে আগ্রহী। সংস্কৃতিচর্চার মুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

    বসন্তকথনে উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সহসভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজ এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে একটি বন্ধ দরজা খুলে গেল।’ আগামী দিনগুলোতে পরিবেশ আরও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকেই মব আতঙ্ক নিয়ে জনমনে একটি ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের আশঙ্কা ছিল তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসবটি করতে পারব কি না। কারা ক্ষমতায় আসবে, তারা দেশে সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ রুদ্ধ করে দেবে কি না, এ নিয়েও উদ্বেগ ছিল। তবু আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এই পরিস্থিতিতে উৎসবটি করতে পেরেছি। আর তেমন কোনো প্রচার না করা সত্ত্বেও যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে অংশ নিয়েছেন, সে জন্য আমরা আনন্দিত।’

    সফিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার দেশে সংস্কৃতিচর্চার জন্য, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেবেন, এটা জনসাধারণের প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানের একক কণ্ঠের পরিবেশনার মধ্যে শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি গেয়েছেন ‘ফুল ফাগুনের এল মৌসুম’; তানজিলা তমা গেয়েছেন ‘আহা আজি এ বসন্তে’; অনিমা রায়ের নেতৃত্বে তাঁর দলের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়েছেন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’; শ্রাবণী গুহ রায় গেয়েছেন, ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি’; ‘মধু মালতি ডাকে আয়’ গেয়েছেন সুস্মিতা সূচি, মারুফ হোসেন গেয়েছেন ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’; রীতা রানী সাহা গেয়েছেন ‘বন্ধু বিনা পরান বাঁচে না’।

    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গানের মধ্যে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা ছিল ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়া’; বহ্নিশিখার পরিবেশনা ‘ফুটিল ফুল ফুটিল চৈতি রাতের শেষে’। নায়লা তারান্নুম আবৃত্তি করেছেন কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা ‘ফাল্গুন এলো’।

    ‘কুহু কুহু ডাক দিলা কোকিলে’ গানের সঙ্গে অনীক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্পন্দের শিল্পীরা। কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের শিল্পীরা কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন সাজু আহমেদের পরিচালনায়।

    বসন্ত উৎসবের স্পনসর ছিল ইস্পাহানি গ্রুপ। শ্রোতা–দর্শকদের জন্য চা পরিবেশন করেছে তারা। ইস্পাহানি গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, বসন্ত উৎসবের শুরু থেকেই তাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঋতুভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক এই উৎসব বাংলাদেশের একটি প্রাণের উৎসব। এর সঙ্গে আছে ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে ইস্পাহানি গ্রুপ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত।

    উৎসব চলেছে দুপুর অবধি। একক সংগীত পরিবেশনায় আরও অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহাদেব সাহা, আবিদা রহমান, ফেরদৌসী কাকলি, সেমন্তী মঞ্জুরি, অবিনাশ বাউল, সঞ্চিতা রাখী প্রমুখ। আবৃত্তি করেছেন বেলায়েত হোসেন।

    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গান করেছে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সুরবিহার, পঞ্চভাস্কর, সুরতীর্থ।

    নৃত্যে অংশ নিয়েছে অনেকগুলো সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল—গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমি, নবচেতনা, গারো কালচারাল একাডেমি, নৃত্যর, তুরঙ্গমী, অংশী, ভাবনা, দিব্য, নন্দিনী নৃত্যালয়, নর্তনম, জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যলোক, নৃত্যাক্ষ, ধৃতি নর্তনালয়, বাংলাদেশ একাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট, সাধনা, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, ফিকা চাকমা, মম কালচারাল সেন্টার, নৃত্যালোকসহ অনেকে। সঞ্চালনা করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও আহসান দিপু।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব