• ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

    ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    ৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

    এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

    বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

    ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

    বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

    প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

    আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

    ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

    এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

    এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

    বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

  • ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: ঢাকা-মার্কিন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইবে সরকার

    ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

    ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

    আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

    এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

    মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

    সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

    উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

    এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

     

  • ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি স্যামসাং, কর্মীরা আরও বোনাস চান

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বৈশ্বিক উত্থানের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী স্যামসাং ইলেকট্রনিকস। সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় এই করপোরেশন চলতি বছরে এক ট্রিলিয়ন বা লাখ কোটি ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে সিউলের শেয়ারবাজারও বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম বাজার হয়ে উঠেছে।

    তবে দেশটির একটি অংশ এই পরিস্থিতিতে সন্তুষ্ট নন। তাঁরা আর কেউ নন, তাঁরা হলেন স্যামসাংয়ের শ্রমিকেরা। কয়েক হাজার কর্মী ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। নজিরবিহীন এই কর্মবিরতি হলে এমন এক সময়ে মেমোরি চিপ উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারত, যখন এআই শিল্পে এসব চিপের চাহিদা তুঙ্গে।

    বৃহস্পতিবার ধর্মঘট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো জানায়, তারা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই চুক্তি এখনো ইউনিয়নের সদস্যদের ভোটে অনুমোদন পেতে হবে, বিষয়টিকে স্যামসাং কর্মীদের জন্য প্রাথমিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোম্পানির রেকর্ড মুনাফার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও বোনাস বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

    এ সমঝোতার ফলে আপাতত কোম্পানির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ধর্মঘট এড়ানো গেছে। ১৮ দিনব্যাপী সম্ভাব্য এই কর্মসূচিতে ৪৮ হাজারের বেশি কর্মী অংশ নিতেন—দক্ষিণ কোরিয়ায় স্যামসাংয়ের মোট কর্মীর প্রায় ৪০ শতাংশ। অংশগ্রহণকারী কর্মীদের অধিকাংশ মেমোরি চিপ বিভাগে কাজ করেন। এনভিডিয়া ও এএমডির মতো প্রযুক্তি জায়ান্টের এআই হার্ডওয়্যারে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে এসব চিপ।

    উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও বৈশ্বিক প্রযুক্তি শিল্প—উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক ছিল। গত বছর স্যামসাংয়ের আয় ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের তিনটি প্রধান মেমোরি চিপ নির্মাণকারী কোম্পানির একটি। এমন সময় এই শিল্পে সরবরাহসংকট চলছে, যখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলছে বিশ্বজুড়ে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সক রোববার বলেন, ‘স্যামসাংয়ের সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে যেকোনো বিঘ্ন শুধু একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে।’

    এদিকে এআই প্রযুক্তির উত্থান বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের চাকরি কাঠামো পাল্টে দেবে, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার মেটা প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই ও পুনর্বিন্যাস করেছে। লক্ষ্য—এআই খাতে আরও বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করা। এ বছর লিংকডইন, অ্যামাজন ও স্ন্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানও এআইকেন্দ্রিক পুনর্গঠন ও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে।

    রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকস
    রেকর্ড আয় করেছে স্যামসাং ইলেকট্রনিকসছবি: রয়টার্স

    এআই মুনাফার বড় অংশ চাইছেন কর্মীরা

    গত মাসে স্যামসাং ঘোষণা দেয়, তাদের রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক মুনাফা হয়েছে। এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ৮ দশমিক ৫ গুণের বেশি বেড়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের পুরো বছরের পরিচালন মুনাফাও ছাড়িয়ে গেছে এই আয়।

    এখন সেই মুনাফার বড় অংশ নিজেদের জন্য চাইছেন কর্মীরা।

    ইউনিয়নের দাবি, বার্ষিক বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত যে বোনাস সীমা, সেটা তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে হবে এবং এই সুবিধা শুধু চলতি বছর নয়, ভবিষ্যতেও বহাল রাখতে হবে।

    স্যামসাংয়ের চিপ বিভাগে কর্মরত ব্যক্তিরা প্রতিযোগিতামূলক বেতন পেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের সঙ্গে বোনাস বৈষম্য তাঁদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সও চলতি বছর রেকর্ড মুনাফা করেছে। তবে গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বোনাস কাঠামো চালু করে, যেখানে মূল বেতনের এক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বোনাস সীমা তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে তারা বার্ষিক পরিচালন মুনাফার ১০ শতাংশ কর্মীদের বোনাস তহবিলে বরাদ্দ করছে।

    নতুন কাঠামোর অধীন এসকে হাইনিক্সের কিছু কর্মী ২০২৫ সালে নিজেদের মূল বেতনের প্রায় ৩ হাজার শতাংশ সমপরিমাণ বোনাস পাবেন। কর্মীপ্রতি গড় বার্ষিক বোনাস দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ওন বা প্রায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ডলার।

    স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন গত মাসে বিবৃতিতে বলেছিল, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এখন মেধা ধরে রাখার যুদ্ধে নেমেছে। এসকে হাইনিক্স ইতিমধ্যে দক্ষ জনবল ধরে রাখতে পারিশ্রমিক কাঠামো পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোও আমাদের প্রকৌশলীদের আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিচ্ছে।’

    বুধবারের প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে স্যামসাং বিদ্যমান বোনাসসীমা তুলে দিতে এবং সেমিকন্ডাক্টর বিভাগের জন্য ব্যবসায়িক মুনাফার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস হিসেবে বরাদ্দ করতে সম্মত হয়েছে।

    বুধবার বিবৃতিতে স্যামসাং বলেছে, ‘সমঝোতা হয়েছে প্রত্যাশিত সময়ের পরে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি আর তৈরি না হয়, সে জন্য আমরা আরও পরিণত ও গঠনমূলক শ্রম-ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করব।’ এই বিরোধ দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে সম্পদ বণ্টন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

    দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবিষয়ক গবেষণা ও অধিকার সংগঠন ‘এনিওনইউনিয়ন’–এর প্রধান জো গিউন-জুন বলেন, এআইের উত্থান মাজে চরম বৈষম্যমূলক মেরুকরণ তৈরি করেছে।

    জো গিউন আরও বলেন, সমাজের একদিকে চাকরির নিরাপত্তা ও শ্রম সুরক্ষা ছাড়া কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা কোম্পানির বিপুল মুনাফার কারণে নজিরবিহীন বোনাস পাচ্ছেন।

    সিএনএন

  • ডায়েট নয়, পরিমিত খাবারেই ফিটনেস ধরে রাখেন তারা সুতারিয়া

    বলিউড অভিনেত্রী তারা সুতারিয়ার কাছে ফিটনেস মানেই কঠোর ডায়েট বা পছন্দের খাবার ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং তার মতে, সুস্থ ও ফিট থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য, সচেতনতা আর পরিমিত খাবার খাওয়া।

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তারা সুতারিয়া জানান, তিনি কখনোই নিজেকে খাবার থেকে বঞ্চিত করেন না। পছন্দের স্ন্যাকস কিংবা ডেজার্ট সবই খান, তবে পরিমাণ বুঝে। তার ভাষায়, “খাবারের স্বাদ থেকে নিজেকে দূরে রাখার দর্শনে আমি বিশ্বাস করি না। যা ভালো লাগে, সেটাই খাই, তবে পরিমিতভাবে।”

     

    দীর্ঘ শুটিং শিডিউলের ব্যস্ততার মাঝেও স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস ধরে রাখেন এই অভিনেত্রী। সেটে সবসময় সঙ্গে রাখেন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস, যেমন বাদাম বা ফল। এতে দীর্ঘ সময় কাজ করলেও শরীর ভারী লাগে না, আবার শক্তিও পাওয়া যায়।

     

    তবে খাবারের ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে বেশ কঠোর তারা সুতারিয়া। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা প্রসেসড খাবার এড়িয়ে চলেন তিনি। কারণ এমন খাবার শরীরের জন্য একদমই ভালো না বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তার পছন্দ টাটকা ও স্বাভাবিক স্বাদের খাবার।

    মজার বিষয় হলো, ফিটনেস সচেতন হলেও নিজের “সুইট টুথ” লুকান না তারা। ডেজার্ট তার খুবই পছন্দের। পাশাপাশি মাঝে মাঝে প্রিয় চিপসের স্বাদও উপভোগ করেন তিনি। তবে সবকিছুই রাখেন নিয়ন্ত্রণ।

     
     

    তারার মতে, ফিট থাকার জন্য কঠিন নিয়ম নয়, বরং দরকার নিজের শরীরের চাহিদা বোঝা এবং খাবারের সঙ্গে একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক তৈরি করা। এই সহজ দর্শনই তাকে ব্যস্ত জীবনেও রাখছে প্রাণবন্ত ও ফিট।

  • ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ দলে কারা

    ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরতে যাওয়া দলটির চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পেয়েছেন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় গায়েল কাকুতা।

    আগামী মাসে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব চলাকালীন ৩৫ বছরে পা দেবেন কাকুতা। গত দুই বছরে কঙ্গোর হয়ে তিনি খেলেছেন মাত্র দুটি ম্যাচ। বছরের শুরুতে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের চূড়ান্ত পর্বে বিকল্প হিসেবে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল।

    তবে গত মার্চে মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে জ্যামাইকাকে হারিয়ে দশম আফ্রিকান দেশ হিসেবে কঙ্গো যখন ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে, তখন কাকুতা দলে ছিলেন না। ফলে অনেকেই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ দেখে ফেলেছিলেন।

    কাকুতা একসময় চেলসির উদীয়মান বিস্ময়বালক ছিলেন। কিশোর বয়সে ফ্রান্স থেকে তাঁর চেলসিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। তবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে উঠতে পারেননি। এর পর থেকে তিনি ৯টি ভিন্ন দেশের ১৫টি ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। বর্তমানে তিনি গ্রিক ক্লাব লারিসায় খেলেন।

    আজ দল ঘোষণার সময়ে কোচ বলেছেন, ‘আমরা সবাই প্রায় চার বছর ধরে একসঙ্গে আছি। বিশ্বকাপ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা খেলোয়াড় তৈরি করার জায়গা নয়।’ ১৯৭৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে দলটির লক্ষ্য শেষ ৩২–এ যাওয়া। এ বিষয়ে কোচ বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটা খেলতে চাই—লক্ষ্য প্রথম পর্ব পার হওয়া। আমি বিশ্বাস করি, এই সামর্থ্য আমাদের আছে।’

    বিশ্বকাপে ডিআর কঙ্গো খেলবে ‘কে’ গ্রুপে—প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান।

    ডিআর কঙ্গোর বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

    গোলকিপার: ম্যাথিউ ইপোলো, টিমোথি ফায়ুলু, লিওনেল এমপাসি
    ডিফেন্ডার: ডিলান বাতুবিৎসিকা, রকি বুশিরি, গেডন কালুলু, স্টিভ কাপুয়াদি, জোরিস কায়েম্বে, আর্থার মাসুয়াকু, চ্যান্সেল এমবেম্বা, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা
    মিডফিল্ডার: থিও বঙ্গোন্ডা, ব্রায়ান সিপেঙ্গা, মেশাক এলিয়া, গায়েল কাকুতা, ইডো কায়েম্বে, নাথানিয়েল এমবুকু, স্যামুয়েল মুতুসামি, এনগালায়েন মুকাউ, চার্লস পিকেল, নোয়াহ সাদিকি
    ফরোয়ার্ড: সেড্রিক বাকাম্বু, সাইমন বানজা, ফিস্তোন মায়েলে, ইয়োয়ান উইসা।

  • ডিজেল ও অকটেন আমদানির জন্য বিকেলে জরুরি বৈঠকে বসছেন অর্থমন্ত্রী

    মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির জন্য সরকারি ছুটির দিন আজ শনিবার জরুরি ভিত্তিতে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক বসছে। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন উভয় কমিটির প্রধান অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    বিভিন্ন ধরনের মোট ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদনের জন্য প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এ বৈঠকের পর অনুষ্ঠেয় ক্রয় কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদন পেতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এ বাস্তবতায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

    ক্রয় কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিওর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এ ছাড়া ইউএইর আরেক কোম্পানি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও কাজাখস্তানের কোম্পানি কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে।

    গত ৩১ মার্চ মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদিত হয় ক্রয় কমিটির বৈঠকে।

    বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, চলতি এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। আজ যে প্রস্তাব উঠছে, তাতে ১৭ লাখ টনের মধ্যে ১৬ লাখ টনই ডিজেল। প্রস্তাব অনুমোদিত হলে আগামী মে ও জুনের দিকে এসব তেল দেশে ঢুকবে বলে সূত্রগুলো জানায়। তবে এর নানা ধাপ আছে। ক্রয় কমিটিতে অনুমোদনের পর কোম্পানিগুলো থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেবে বিপিসি। এরপর বিপিসি ঋণপত্র (এলসি) খুলবে এবং কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেবে।

    যোগাযোগ করা হলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী মুঠোফোনে  বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। তিনি জানান, দেশে অকটেনের সরবরাহে সংকট নেই, অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন আছে। চলতি এপ্রিলে ডিজেলেরও সংকট নেই।

  • ড্র করেও কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি

    চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেও হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। দুই লেগের লড়াই ৫-৪ এর অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    ঘরের মাঠে মোনাকোর সাথে খেলায় নাটক কম হয়নি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরা মোনাকো ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়।

    মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখার পর মারকিনওস ও কাভারাস্কেইয়ার গোল পিএসজি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়।

    শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বার্সেলোনা অথবা চেলসি। শুক্রবার ড্রতে জানা যাবে, পিএসজি কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে।

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সহ–উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালাম, প্রজ্ঞাপন জারি

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক আবদুস সালাম। বর্তমানে তিনি বিজ্ঞান অনুষদের (ভারপ্রাপ্ত) ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুস সালামকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) পদে সাময়িকভাবে কয়েকটি শর্তে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

    শর্তগুলো হচ্ছে—

    • এ নিয়োগ সহ-উপাচার্য পদে যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে

    • সহ-উপাচার্য পদে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন ও ভাতাদি পাবেন

    • তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্য সুবিধা ভোগ করবেন

    • তিনি সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ

    সাত কলেজের জন্য হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এ এস মো. আবদুল হাছিব।

    গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল দিনের শেষ ভাগে এই নিয়োগ হয়। আজ সোমবার এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    মো. আবদুল হাছিব বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর মধ্যে তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হলেন।

    উপাচার্যের মেয়াদ হবে চার বছর। অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • ঢাকায় মোটরগাড়ি ও বাইকের প্রদর্শনী শুরু

    হালনাগাদ প্রযুক্তি এবং নজরকাড়া নকশার নতুন মডেলের গাড়ি ও মোটরবাইক নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলের ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘১৯তম ঢাকা অটো সিরিজ অব এক্সিবিশন্স’। প্রদর্শনীতে একই স্থানে একসঙ্গে চলছে ঢাকা মোটর শো, ঢাকা বাইক শো এবং ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) বাংলাদেশ এক্সপো। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এ কামাল বিল্লাহ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক অনুপম সাহা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মহাপরিচালক গাজী এ কে এম ফজলুল হক এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জাবেদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রদর্শনীর আয়োজক প্রতিষ্ঠান সেমস-গ্লোবালের ইউএসএ অ্যান্ড এশিয়া প্যাসিফিক বিভাগের সভাপতি এবং গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেরুন এন ইসলাম।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা
     

    মেহেরুন এন ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা এবং ক্রমবর্ধমান প্রচলিত জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি এই খাতে নতুন ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ব্যবহারও গুরুত্ব পাচ্ছে। আর তাই এই প্রদর্শনী প্রচলিত অটোমোটিভ শিল্পকে যেমন এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে, তেমনি নতুন বিকল্প প্রযুক্তি ও সমাধান গ্রহণেও সহায়তা করবে।

    প্রদর্শনীতে জাপান, ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ৭০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। ফলে সহজেই মিতসুবিশি, টয়োটা, মার্সিডিজ বেঞ্জ, হুন্ডা, এমজি, প্রোটন, চাঙ্গান, গ্যাক মোটরস, ডংফেন প্রভৃতি ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি দেখার সুযোগ মিলছে। দুই চাকার বাহনের মধ্যে আছে জিহো বাংলাদেশ, সিএফ মটো বাংলাদেশ, লংজিয়া, ভিমোটো প্রভৃতি। বাণিজ্যিক যানের মধ্যে আছে ফোটন, ফোরল্যান্ড প্রভৃতি। প্রদর্শনীতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোটর যন্ত্রাংশও প্রদর্শন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

    সেমস-গ্লোবালের তথ্যমতে, ঢাকা মোটর শো বাংলাদেশের মোটর, বাইক ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ তথা অটোমোটিভ শিল্পের সবচেয়ে বড় ও একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। এর ফলে ক্রেতা, দর্শক ও উদ্যোক্তারা সহজেই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলের গাড়ি, যন্ত্রাংশ, আনুষঙ্গিক উপকরণ ও নিত্যনতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

    ঢাকা বাইক শোতে মোটরবাইক, স্কুটার, ইজিবাইক, হালকা বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনী ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সমস্যার কারণে বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রতি সাধারণ ক্রেতাদের আগ্রহ আগের তুলনায় অনেকে বেড়েছে। আর তাই দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং বাইক।

    প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
    প্রদর্শনীতে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে
     

    প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে আইসিসিবির ১ নম্বর হলে বাণিজ্যিক, বৈদ্যুতিক, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিক্রয় পরবর্তী যন্ত্রাংশ সংযোজনের উপকরণ প্রদর্শন করা হচ্ছে। ২ এবং ৪ নম্বর হলে গাড়ি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে। ৩ নম্বর হলে দুই চাকার বিভিন্ন মোটর এবং বৈদ্যুতিক বাইকের দেখা মিলছে। রয়েছে পছন্দের গাড়ি ও বাইকের টেস্ট ড্রাইভ করার সুযোগও। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে এ প্রদর্শনী।

  • ঢাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় একই বিভাগের শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    আজ সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।

    শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ফুল মোহাম্মদসহ অন্যরা মানবিক বিবেচনায় তাঁর জামিন চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

    কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুদীপ চক্রবর্তীকে জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন। মামলার তদন্তের স্বার্থে ভবিষ্যতে তাঁর রিমান্ডের প্রয়োজন হতে পারে।

    গতকাল রোববার বাড্ডা থেকে মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করে পুলিশ। পরে বাড্ডা থানায় তাঁর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন মিমোর বাবা। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গতকাল বলেন, শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। তবে সেই কল হিস্ট্রি ডিলিট করেছেন।

  • তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারাল বাংলাদেশ

    বাংলাদেশ ২:১ সান মারিনো

    সেরাভেলের সান মারিনো স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উৎসবের আমেজ। দূর পরবাসের ব্যস্ত জীবন এক পাশে ঠেলে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি আজ হাজির হয়েছিলেন ইতালির ভেতরে থাকা ছোট্ট এই দেশটিতে। দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন ঢাকার চেনা কোনো মাঠ!

    প্রবাসী বাঙালিদের এই বাঁধভাঙা উল্লাস আর ভালোবাসার দিনে ইউরোপ জয়ের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। তপু বর্মণের জোড়া গোলে ফিফা প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২–১ গোলে হারিয়েছে হামজা–জামালদের বাংলাদেশ। এটি ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম জয়।

    এর আগে ২০০১ সালে সাহারা কাপে যুগোস্লাভিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ, তবে সেই দুটি ম্যাচেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। ফলে সান মারিনোর বিপক্ষে এই ম্যাচটি ছিল নিজেদের নতুন করে চেনানোর এক বড় মঞ্চ। নিজেকে চেনানোর চ্যালেঞ্জ ছিল টমাস ডুলিরও।

    গ্যালারিতে ছিলেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি
    গ্যালারিতে ছিলেন বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিবাফুফে

    বাংলাদেশ দলের নতুন কোচ কালই প্রথম ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ম্যাচে তিনি দল সাজিয়েছেন ৪–৩–৩ ফরমেশনে। যার মধ্যে বড় পরিবর্তন ছিল মাঝমাঠে। কানাডাপ্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমকে শুরুর একাদশে না রেখে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও সোহেল রানাকে খেলান হামজা চৌধুরীর সঙ্গী হিসেবে।

    ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। স্বাগতিকদের কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গুছিয়ে উঠে সান মারিনোর রক্ষণভাগে চাপ বাড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ। যার ফল মেলে দ্রুতই, ম্যাচের ১৯ মিনিটে। ডান প্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের বাড়ানো লম্বা ক্রসে দারুণ হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ।

    এই হেডেই প্রথম গোল করেন তপু
    এই হেডেই প্রথম গোল করেন তপু, বাফুফে
     

    গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সান মারিনো। স্বাগতিকদের সেই মরিয়া প্রচেষ্টা সফল হয় ৩১ মিনিটে। দারুণ এক গতিময় আক্রমণ থেকে সমতা ফেরায় তারা। সান মারিনোর ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ফিলিপ্পো বেরার্ডির পাস থেকে চমৎকার গোলটি করেন নিকোলাস জিয়াকোপেটি। বাংলাদেশের গোলকিপার মিতুল মারমা ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলে স্পর্শ করলেও জালে যাওয়া থামাতে পারেননি।

    ম্যাচে সমতা আসার ঠিক ছয় মিনিট পরই আবারও লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে একদম একা পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি সাদ উদ্দিন।

    দ্বিতীয় গোলটি এসেছে হামজার ফ্রি কিকের সূত্র ধরে
    দ্বিতীয় গোলটি এসেছে হামজার ফ্রি কিকের সূত্র ধরেবাফুফে
     

    দ্বিতীয়ার্ধে দলের শক্তি ও কৌশল পরীক্ষা করতে একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। রক্ষণভাগের ইসা ফয়সালকে উঠিয়ে নামানো হয় জায়ান আহমেদকে, মাঝমাঠে জামালের বদলে নামেন শমিত সোম, মোরছালিনের জায়গায় মাঠে নামেন সোহেল রানা জুনিয়র। ম্যাচের ৬০ মিনিটে বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহামিদুল ইসলাম এবং ৭৫ মিনিটে কাজেম শাহকেও খেলার সুযোগ দেন ডুলি। তাতে বাংলাদেশের আক্রমণেও গতি ফেরে।

    ম্যাচের শেষ দিকে, ঠিক ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। হামজার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে গোলমুখে শট নেন বিশ্বনাথ ঘোষ। আর সেই শটে মাথা এগিয়ে দিয়ে বল জালে পাঠান তপু। এটি জাতীয় দলের হয়ে তাঁর অষ্টম গোল। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধান ধরে রেখে হাসিমুখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

  • তরুণদের ভুল বার্তা দিচ্ছে বডি-শেমিং: মাধুরী দীক্ষিত

    প্রতিবারের মতো এবারও কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হেঁটে আলোচনায় আছেন সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়ার রাই বচ্চন। তবে এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও বডি-শেমিংয়ের স্বীকার হতে হয়েছে তাঁকে। এ ইস্যুতে এবার কথা বলেছেন বলিউড অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত। বলেছেন, একজন মানুষের অর্জনকে তার ওজন, পোশাকের মাপ বা বয়স দিয়ে বিচার করা যায় না।

    কানের লালগালিচায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
    কানের লালগালিচায় ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন
     

    পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাধুরী বলেন, ‘ঐশ্বরিয়া গত ২০ বছর ধরে কানে যাচ্ছেন। তিনি পুরো দেশকে গর্বিত করেছেন। তিনি একজন বিশ্বতারকা। মিস ওয়ার্ল্ড হিসেবে এবং একজন শিল্পী হিসেবে দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাঁকে কোনো ওজনের সংখ্যা, পোশাকের সাইজ বা বয়স দিয়ে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। তিনি শুধু বাহ্যিকভাবে নন, ভেতর থেকেও সুন্দর একজন মানুষ।’

    ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত কান উৎসবে অংশ নেওয়া ঐশ্বরিয়া সম্প্রতি ২০২৬ সালের আসরে অংশ নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর চেহারা ও শারীরিক গঠন নিয়ে নানা কটূক্তির শিকার হন।

    দেবদাস ছবির ‘ডোলা রে’ গানের দৃশ্যে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই
    দেবদাস ছবির ‘ডোলা রে’ গানের দৃশ্যে মাধুরী দীক্ষিত ও ঐশ্বরিয়া রাই
     

    মাধুরী মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দেয়। তাঁর কথায়, ‘এতে মনে হয় মানুষের মূল্য তার চেহারার ওপর নির্ভর করে, অর্জনের ওপর নয়। এটা খুবই ভুল বার্তা।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আগেও এমন মানুষ ছিল যারা এসব নিয়ে সমালোচনা করত, কিন্তু তাদের মন্তব্য সবাইকে জানানোর সুযোগ ছিল না। এখন সেই সুযোগ হাতের মুঠোয়।’

    একই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী তৃপ্তি দিমরিও। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে আরাম করে অন্যকে নিয়ে মন্তব্য করা খুব সহজ। কিন্তু ঐশ্বরিয়া ম্যাম বা অনন্যা—তাঁরা দুজনই কঠোর পরিশ্রম করে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন। তাঁরা অর্জনকারী মানুষ।’

    তৃপ্তি আরও বলেন, শিল্পীর কাজ নিয়ে দর্শক সমালোচনা করতেই পারেন। তবে ব্যক্তিগত চেহারা বা অন্য বিষয় টেনে আনা বিরক্তিকর। তৃপ্তির কথায়, ‘দর্শক টিকিট কেটে বা সময় দিয়ে আমাদের কাজ দেখেন, তাই কাজের সমালোচনা তাঁদের অধিকার। কিন্তু যখন সেটাকে অন্য কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়, তখন সেটা খারাপ লাগে।’

    মাধুরী আরও বলেন, চলচ্চিত্রজগতে সমালোচনা নতুন কিছু নয়। তবে ডিজিটাল যুগে তা অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অভিনেত্রী বলেন, ‘এখন সিনেমা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। ডিজিটাল মাধ্যমের কারণে প্রতিটি বিষয়ই মুহূর্তে আলোচনায় চলে আসে।’

    মাধুরী ও তৃপ্তি দিমরি অভিনীত ডার্ক কমেডি চলচ্চিত্র ‘মা বেহেন’ আগামী ৪ জুন নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাবে।


    এনডিটিভি অবলম্বনে

  • তামিম সভাপতি হওয়ায় যে সুবিধার কথা বললেন মিরাজ

    এক বছর আগেও তামিম ইকবাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজের সতীর্থ। দুজনে খেলেছিলেন মোহামেডানের হয়ে। এখন দুজনের ভূমিকা বদলেছে—এই সময়ের মধ্যেই মিরাজ হয়েছেন জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক, আর ৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন তামিম।

    ২০২৩ সালেও তামিম জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এখানেই বাড়তি একটা ভরসা পাচ্ছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মিরাজ। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে আজ মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, ‘যেহেতু আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি, তিনি আমাদের সম্পর্কে বেশি ভালো জানবেন। উনি যেহেতু সাম্প্রতিক সময়ে খেলা ছেড়েছেন, আমাদের কী চাহিদা আছে, আমরা কী পছন্দ করি (তা জানেন)। এটা খেলোয়াড়দের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।’

    বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তামিম, বাড়িয়েছেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিও। ক্রিকেটারদের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে তামিমের।

    তামিমের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘সভাপতির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল যে আমাদের দল ভালো করছে। আমাদের প্রেরণা দিয়েছেন। (বলেছেন) আমরা যেভাবে খেলছি, এভাবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।’

    ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
    ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি হাতে দুই দলের অধিনায়ক। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
     

    গত এক সপ্তাহে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেক ঘটনাপ্রবাহের ভেতর দিয়ে গেছে। তবে এ সময়ে জাতীয় দলের ব্যস্ততা ছিল প্রস্তুতিতেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বল এবং আগামী মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে লাল বলে সিরিজের ক্রিকেটারদের অনুশীলন হয়েছে আলাদা করে।

    এ সময়ে বাইরে কী হয়েছে, তা ক্রিকেটারদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে জানিয়েছেন মিরাজ, ‘খুবই ভালো অনুশীলন করেছি এবং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরে কী হয়, এটা আমাদের ও রকম মাথায় প্রভাব ফেলে না। কারণ, আমাদের কাজ হলো পারফর্ম করা।’

    নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি নিয়েও সন্তুষ্টির কথাই বললেন মিরাজ, ‘আমার কাছে মনে হয়, গত তিন সপ্তাহ যেভাবে অনুশীলন হয়েছে, এটা আমার কাছে মনে হয় অনেক ভালো। বাইরে কী হয়েছে, এটা আমরা কখনো চিন্তা করিনি।’

    ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
    ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে
     

    ওয়ানডে সিরিজে আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। তিন ম্যাচের এ সিরিজে প্রথম দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি চট্টগ্রামে। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে বেলা ১১টায়। এরপর তিন ম্যাচের টি–টুয়েন্টি সিরিজ খেলবে দুই দল।

  • তামিল-তেলেগু সিনেমায় ঝড় তুলছেন এই নতুন অভিনেত্রী, দেখুন তাঁর ১০ লুক

    মাত্র ১৭ বছর বয়সে সুপারহিট তেলেগু সিনেমা উপ্পেনা দিয়ে অভিনয় জগতে যাত্রা শুরু কৃতি শেঠির। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। নাগা চৈতন্য ও নানির মতো বিখ্যাত অভিনেতার বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি তামিল-তেলেগু সিনেমায়। প্রতি বছরই হিট দিয়ে চলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে নানা আকর্ষণীয় লুকে দেখা যায় তাঁকে। চলুন এই নতুন দক্ষিণি অভিনেত্রীর এমন কিছু লুক দেখে আসি ইন্সটাগ্রাম থেকে।

    হলটারনেক ক্ল্যাসিক লাল ড্রেসের সঙ্গে কৃতি পরেছেন কালো হিলস
     
    হলটারনেক ক্ল্যাসিক লাল ড্রেসের সঙ্গে কৃতি পরেছেন কালো হিলস
    এথনিক ফিউশন লুকে স্ট্র্যাপলেস মিনিড্রেস আর জমকালো গয়না দেখা যাচ্ছে
     
    এথনিক ফিউশন লুকে স্ট্র্যাপলেস মিনিড্রেস আর জমকালো গয়না দেখা যাচ্ছে
    স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের স্মকিং করা বডিকন শর্ষে হলুদ ড্রেসে কৃতি
     
    স্প্যাগেটি স্ট্র্যাপের স্মকিং করা বডিকন শর্ষে হলুদ ড্রেসে কৃতি
    এখানে তিনি পরেছেন স্ট্র্যাপলেস সিকুইনের পার্পল-পিংক ড্রেস
     
    এখানে তিনি পরেছেন স্ট্র্যাপলেস সিকুইনের পার্পল-পিংক ড্রেস
    কালো স্লিট গাউনের বডিসে এক্সট্রিম কাট আউট। সঙ্গে ব্যাকলেস ডিজাইন
     
    কালো স্লিট গাউনের বডিসে এক্সট্রিম কাট আউট। সঙ্গে ব্যাকলেস ডিজাইন
    স্টেটমেন্ট স্লিভলেস ব্লাউজ দিয়ে পিচরঙা টিস্যু শাড়ির লুক
     
    স্টেটমেন্ট স্লিভলেস ব্লাউজ দিয়ে পিচরঙা টিস্যু শাড়ির লুক
    স্ট্র্যাপলেস লাল টপ আর জিন্সে দেখা যাচ্ছে কৃতিকে
     
    স্ট্র্যাপলেস লাল টপ আর জিন্সে দেখা যাচ্ছে কৃতিকে
    সিকুইনের কাজ করা কালো ক্রপড টপ আর থাই স্লিট লং স্কার্টের সঙ্গে আছে হিলস
     
    সিকুইনের কাজ করা কালো ক্রপড টপ আর থাই স্লিট লং স্কার্টের সঙ্গে আছে হিলস
    ন্যুড শাড়ি ও ব্লাউজে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন কৃতি
     
    ন্যুড শাড়ি ও ব্লাউজে আকর্ষণ ছড়াচ্ছেন কৃতি
    এখানে তিনি পরেছেন কালো স্ট্র্যাপলেস বডিকন জাম্পস্যুট
     
    এখানে তিনি পরেছেন কালো স্ট্র্যাপলেস বডিকন জাম্পস্যুট
     

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • তিন কার্গো এলএনজি ও ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার কিনবে সরকার

    দেশে জ্বালানি ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

    শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ২৩তম বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে তিনটি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনা করা হয়।

    কমিটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার মাধ্যমে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুযায়ী আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে তিনটি এলএনজি কার্গো কেনা হবে।

    এলএনজি কার্গোগুলো ২০২৬ সালের ১৫ থেকে ১৬ জুন, ২১ থেকে ২২ জুন এবং ২৫ থেকে ২৬ জুন সরবরাহ করা হবে, যা যথাক্রমে ২৩তম, ২৪তম ও ২৫তম কার্গো চালান হিসেবে গণ্য হবে।

    অগ্রিম আয়করসহ (এআইটি) মোট ক্রয় ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

    প্রস্তাব অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার পোসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাজ্যের টোটাল অ্যানার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

    কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে, যার আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ থেকে ১৫তম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগজাত দানাদার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

    এজন্য মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৮৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) মূল্য ৬৮৩ দশমিক ৩৭৫ ডলার এবং ব্যাগজাতকরণ খরচ ৫ ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃষি খাতে সারের স্থিতিশীল সরবরাহ বজায় রাখতে কাফকো, বাংলাদেশ থেকে এই সার সংগ্রহ করা হবে।

    এদিকে, কমিটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করে। এর আওতায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির অধীনে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস থেকে ১২তম (ঐচ্ছিক চতুর্থ) লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার আমদানি করা হবে।

    ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৩৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার।

    সূত্র: বাসস

  • তুষি–সাবিলা থেকে পূজা–ফারিণ, ঈদের ছবির নায়িকারা কে কোথায় দাঁড়িয়ে

    ঈদের সিনেমা ‘দম’, ‘প্রিন্স’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘প্রেশার কুকার’–এ অভিনয় করেছেন চার বাংলাদেশি অভিনেত্রী পূজা চেরী, তাসনিয়া ফারিণ, সাবিলা নূর ও নাজিফা তুষি। চার নায়িকার মধ্যে ক্যারিয়ারের দিক থেকে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

    নায়িকা হিসেবে শুরুর পর পূজা চেরীর ক্যারিয়ারের এক যুগ পার হয়েছে। তবে ঈদে মুক্তি পাওয়া রেদওয়ান রনির সিনেমা দম–এর জন্য তিনি অডিশন দিয়েছিলেন। ঢাকাই সিনেমার জন্য যা নতুনই বলা যায়। ছবিতে রানী চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সিনেমার হিসাব করলে গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া পূজা অভিনীত ‘জ্বীন’, ‘লিপিস্টিক’, ‘টাইগার’—কোনোটাই সেভাবে সাড়া ফেলতে পারেনি। হয়তো ‘দম’ দিয়েই নিজেকে ফিরে পাবেন পূজা। মুক্তির পর সে ইঙ্গিতও মিলছে। ছবিতে নিশোর সঙ্গে রসায়ন থেকে আবেগের দৃশ্য তাঁর অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন দর্শকেরা। নির্মাতা রেদওয়ান রনিও তাঁকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। ‘একজন শিল্পীর নিবেদন ছাড়া, তার চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা ছাড়া কখনোই এমন একটা জায়াগায় পৌঁছানো সম্ভব নয়, সবাই প্রশংসা করে। পূজা এই গল্প, চরিত্র বিশ্বাস করেছে, ফলে ও চরিত্রের জন্য নিজেকে ভেঙে নতুন করে তৈরি করেছে,’ বলেন তিনি।

    ‘দম’–এর গান ‘কোথায় পাব তাহারে’ গানে পূজা চেরী। ভিডিও থেকে
    ‘দম’–এর গান ‘কোথায় পাব তাহারে’ গানে পূজা চেরী। ভিডিও থেকে

    এবার ঈদের চার বছর পর ফিরেছেন নাজিফা তুষি। ২০২২ সালে মেজবাহউর রহমান সুমনের ‘হাওয়া’ সিনেমার পর যেন ‘হাওয়া’ হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এবার ফিরলেন রায়াহন রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ দিয়ে। ছবিতে রেশমা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। টিজারে তুষিকে দেখা গেছে নানা লুকে, তখন থেকেই প্রশংসিত হচ্ছেন তিনি। গত রোববার রাতে ছবির অন্যতম চিত্রনাট্যকার মেহেদি হাসান ফেসবুক তুষিকে নিয়ে লিখেছেন, ‘একেকজন অভিনেতার একেক রকম প্রসেস থাকে, চরিত্র তো আর অভিনেতা ভেবে হয় না। কিন্তু রেশমা আসলে নাজিফা তুষি না হলে হতো না। যখন ডায়ালগ নিয়ে বসছি, আমরা তখন থেকেই তুষির মেথড অ্যাকটিংয়ের  প্রসেস দেখতাম বসে বসে। কখনো তুষিকে দেখি ভাতের হোটেলে ঘুরছে এই চরিত্র নিয়ে, কখনো লেখার সময় পাশে বোরকা পরে একটা মেয়ে এলে “স্লামালাইকুম” বলতেই দেখতাম, সে আসলে তুষি, কখনো বসে ব্যাকস্টোরি সাজাতাম আমরা, আবার কখনো একদিন হুট করে সব ডায়ালগ নতুন অ্যাকসেন্টে ট্রাই করা। পর্দায় জাস্ট টেক্সটগুলো ব্লার হয়ে গেল আর আমি তুষিকে রেশমা হয়ে যেতে দেখলাম।’ এই সিনেমা ছাড়াও চলতি বছর রইদ সিনেমায় দেখা যাবে তুষিকে। এ ছবি দিয়েই আবার ফিরছেন সুমন–তুষির নির্মাতা–অভিনেতা জুটি।

    ‘প্রেশার কুকার’ ছবির পোস্টার
    ‘প্রেশার কুকার’ ছবির পোস্টারফেসবুক থেকে

    গত বছরের ঈদুল আজহায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক সিনেমায় দেখা যায় তাসনিয়া ফারিণকে। ইনসাফ ছবিতে পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে তিনি ছিলেন চলনসই। এরপর আরও কয়েকটি সিনেমার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেখা গেল শাকিব খানের বিপরীতে, ‘প্রিন্স’ ছবিতে। ছবির টিজারে তাঁকে একঝলক দেখা গেছে, পরে এসেছে ছবির ড্যান্স নাম্বার ‘জ্বালা জ্বালা’।

    ‘প্রিন্স’–এর টিজারে তাসনিয়া ফারিণ। ভিডিও থেকে
    ‘প্রিন্স’–এর টিজারে তাসনিয়া ফারিণ। ভিডিও থেকে

    গানটিতে শাকিবের সঙ্গে তাঁর রসায়নের মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ছবি দেখার পর অনেক দর্শক বলেছেন, ‘প্রিন্স’–এ তাঁকে আরও একটু জায়গা দিলে ভালো হতো। এর আগে কলকাতার ‘আরও এক পৃথিবী’ আর বাংলাদেশে ‘ফাতিমা’ ছবিতে তাঁর পারফরম্যান্সের প্রশংসা হয়েছে। তবে দুটিই ড্রামা–নির্ভর ভিন্নধারার সিনেমা। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমায় ফারিণের সেরাটা দেখতে হয়তো আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে।

    এবার আসা যাক সাবিল নূরের প্রসঙ্গে। ফারিণের মতো তাঁর গত ঈদের পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিষেক হয়। সেটা ছিল শাকিব খানের নায়িকা হিসেবে, রায়হান রাফীর তাণ্ডব–এ। ছবিতে তাঁর উপস্থিতি স্বল্প হলেও সপ্রতিভ ছিলেন সাবিলা, বিশেষ করে ছবির ‘লিচুর বাগানে’ গানটি আলোচিত হয়। এবার তিনি হাজির হয়েছেন তানিম নূরের ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ; ছবির প্রধান চরিত্র চিত্রা হিসেবে। এক বিশ্ববিদ্যালয় পড়া তরুণীর চরিত্র। সিনেমাটির জন্য অন্য আরেকটি সিনেমার প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন সাবিলা। কারণ, দুটির শুটিং প্রায় একই সময় পড়েছিল। তারকাবহুল সিনেমা বনলতা, মুক্তির পর থেকে ছবির অন্য পাত্র–পাত্রীদের মতো সাবিলারও প্রশংসা করেছেন অনেকে। মুক্তির পর হল ভিজিটে গিয়ে তিনি বলেছেন, ছবিটি পুরো টিম অ্যাফোর্ট। এমন দারুণ একটা টিমের সঙ্গে কাজ করতে পেরে তিনি খুশি। ‘তাণ্ডব’, ‘বনলতা’র পর সামনে হয়তো আরও বৈচিত্র্যময় চরিত্রে পাওয়া যাবে।

    ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ সাবিলা নূর। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    ‘বনলতা এক্সপ্রেস’–এ সাবিলা নূর। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
  • তৃতীয় ওয়ানডের শুরু থেকে শেষ: ৫৫ রানের জয়ের সঙ্গে সিরিজও বাংলাদেশের

    ২১০ রানে অলআউট নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশ জিতল ৫৫ রানে

    শেষটা হলো সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে। মিরাজের বলে ফক্সক্রফটের বড় শট, লং অনে কিছুটা ডাইভ দিয়েই ক্যাচ নিলেন সাইফ। ৭২ বলে ৭৫ রান করা ফক্সক্রফটের বিদায়ে শেষ হলো নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।

    বাংলাদেশের ২৬৫ রান তাড়ায় নিউজিল্যান্ড ৪৪.৫ ওভারে অলআউট ২১০ রানে। বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে জিতল ৫৫ রানে, সঙ্গে ২–১ ব্যবধানে সিরিজও।

    ম্যাচ শেষ!
    ম্যাচ শেষ!

    নিউজিল্যান্ড ম্যাচের শুরুটা করেছিল ভালোই। বাংলাদেশের প্রথম ৩২ রানে তুলে নিয়েছিল ৩ উইকেট। আবার শেষের দিকে দলটির দশম উইকেট জুটি মাত্র ৩১ বলে তুলেছে ৫০ রান। তবে কিউইদের শুরু ও শেষের ভালো বাদে ম্যাচের বাকিটা সময়ে এগিয়েছিল বাংলাদেশই।

    রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে ছিল। ৬১ রানে তৃতীয় উইকেট হারানো দলটিকে কিছুটা আশা জুগিয়েছিলেন নিক কেলি। এই বাঁহাতি ওপেনার ৫৯ রান করে ফিরে যাওয়ার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। ফক্সক্রফটের ৭৫ রানের ইনিংস শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। বাংলাদেশের হয়ে কিউইদের চাপের মধ্যে ফেলার মূল কাজটি করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।

    সিরিজে প্রথমবার খেলতে নামা এই পেসার ৪৩ রানে নিয়েছেন ৫ উইকেট। নাহিদ রানা ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    বাংলাদেশ ইনিংস: ৫০ ওভারে ২৬৫/৮ (নাজমুল ১০৫, লিটন ৭৬, তাওহিদ ৩৩, মিরাজ ২২; ও’রুর্ক ৩/৩২, লেনক্স ২/৫০, লিস্টার ২/৬২)।
    নিউজিল্যান্ড ইনিংস: ৪৪.৫ ওভারে ২১০ (ফক্সক্রফট ৭৫, কেলি ৫৯, আব্বাস ২৫; মোস্তাফিজ ৫/৪৩, মিরাজ ২/৩৬, নাহিদ ২/৩৭)।
    ফল: বাংলাদেশ ৫৫ রানে জয়ী।
    ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাজমুল হোসেন (১১৯ বলে ১০৫ রান)।
    সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২–১ ব্যবধানে জয়ী।
    প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ: নাহিদ রানা (৮ উইকেট)।
  • তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল

    বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল তৃতীয় সন্তানের বাবা হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তার পরিবারে জন্ম নিয়েছে একটি পুত্রসন্তান।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখবরটি নিজেই জানিয়েছেন দেশের ক্রিকেটের এক সময়ের জনপ্রিয় এই তারকা ক্রিকেটার। নবজাতক সন্তানকে মহান আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত ও রহমত উল্লেখ করে আশরাফুল তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।

    তিনি লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ! আজ রাত ১০:৩৫ মিনিটে মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের পরিবারে আরেকটি পুত্র সন্তান দান করেছেন। প্রথমে একটি কন্যাসন্তান, তারপর একটি পুত্রসন্তান, আর আজ আবার একটি পুত্রসন্তানের বাবা হওয়ার সৌভাগ্য আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন।

    [caption id="attachment_274675" align="alignnone" width="623"] ফেসবুকে মোহাম্মদ আশরাফুল[/caption]

    আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আল্লাহর এই অগণিত নিয়ামতের জন্য আমি আল্লাহর কাছে অন্তরের গভীর থেকে শুকরিয়া আদায় করছি। সন্তান হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত ও রহমত। আল্লাহ যেন আমার সকল সন্তানকে নেক, সুস্থ, দ্বীনদার ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার তাওফিক দান করেন।

    পোস্টের শেষদিকে ভক্ত-সমর্থকদের কাছে সন্তানদের জন্য দোয়ার আবেদনও জানান সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি লেখেন, আপনাদের সকলের কাছে আমার সন্তানদের জন্য দোয়ার আবেদন রইল। আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল’।

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার আশরাফুল ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর দীর্ঘ সময় দেশের হয়ে খেলেছেন। ২০০১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তিনি ৬১টি টেস্ট, ১৭৭টি ওয়ানডে এবং ২৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তার আন্তর্জাতিক রান ৬৬৫৫।

    বর্তমানে ৪১ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার বাংলাদেশ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ করছেন এবং তরুণ ক্রিকেটারদের মাঝে নিজের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখছেন।

     

  • ত্রিদেশীয় সিরিজ হারে শুরু নিগারদের

    হার দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশের মেয়েরা। এডিনবার্গে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক স্কটল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেট হেরেছেন নিগার সুলতানারা।

    টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৩ রান তুলেছিল। এই রান স্কটল্যান্ড তাড়া করেছে ৮ উইকেট আর ২৬ বল হাতে রেখে।

    স্কটল্যান্ড যেভাবে রান তাড়া করেছে, তাতে একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশের মেয়েরা ম্যাচটি জিততে পারে। ওপেনিং জুটিতে স্কটল্যান্ডের দুই ব্যাটার ডার্সি কার্টার–ক্যাথরিন ফ্রেসার মিলে তোলেন ৩৩ রান। ২৩ রান করা কার্টারকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিতু মনি। পরে স্কটিশদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি তোলে আরও বেশি রান।

    ৮০ রানে ফ্রেসারকে ফেরান স্বর্ণা আকতার। ম্যাচের বাকি গল্প অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস ও সারাহ ব্রাইসের। দুজনে মিলে গড়েন ৫৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। ৫৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক ক্যাথরিন। সারাহ অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে।

    এর আগে ফিফটি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল বাংলাদেশ অধিনায়কেরও। ৩৯ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত ছিলেন নিগার। যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা। এর আগে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল নড়বড়ে।

    ২৬ রানের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার জুরাইয়া ফেরদৌস, দিলারা আক্তার। প্রথম দশ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ছিল মাত্র ৫৪ রান। পরের অংশে নিগার, সোবহানারা লড়াই করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।

    বাংলাদেশের পরের ম্যাচ ৩১ মে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব