• বায়ার্ন ম্যাচের আগে রিয়ালের দুশ্চিন্তার নাম এমবাপ্পে

    সময়টা ভালো যাচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদের। লা লিগায় শেষ ছয় ম্যাচের তিনটিতে হেরে এখন শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় আছে দলটি। বিশেষ করে গতকাল রাতে মায়োর্কার কাছে হারের পর পরিস্থিতি এখন আরও খারাপ হয়েছে। লিগে ৮ ম্যাচ বাকি থাকতে বার্সেলোনা এখন এগিয়ে আছে ৭ পয়েন্টে। ৩০ ম্যাচে বার্সার পয়েন্ট ৭৬ আর রিয়ালের ৬৯।

    লিগ বিবেচনায় এই ব্যবধান অনেক বড়। নাটকীয় কিছু না হলে রিয়ালের জন্য ঘুরে দাঁড়িয়ে শিরোপা জেতা প্রায় অসম্ভব। শুধু লা লিগাতেই নয়, রিয়ালের দুশ্চিন্তা আছে বায়ার্নের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ঘিরেও। এই ম্যাচের আগে দলীয় পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের অফ ফর্মও এখন রিয়ালের ভাবনা বাড়িয়েছে।

    লা লিগায় এমবাপ্পে সর্বশেষ গোল করেছেন ১৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর রিয়াল লিগে ম্যাচ খেলেছে ৭টি, যার মধ্যে ৪টিতে এমবাপ্পে মাঠে নামেননি। হাঁটুর চোটে মাঠের বাইরে ছিলেন তিন ম্যাচে, আর অন্য ম্যাচটিতে ছিলেন বেঞ্চে।

    আর যে তিন ম্যাচে খেলেছেন, সেগুলোতেও গোলের দেখা পাননি তিনি। আর এই ৭ ম্যাচের ৩টিতেই হার দেখেছে রিয়াল। এই হারগুলোই এখন লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারে রিয়ালের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে
    মায়োর্কার বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচের একটি মুহূর্তে এমবাপ্পে, রয়টার্স

    লা লিগার হিসাব বাদ দিলে এমবাপ্পে এখন সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে গোল পাননি। ফুটবলের তথ্যভিত্তিক পোর্টার স্ট্যাটস ফুট বলছে, এটাই রিয়ালের জার্সিতে এমবাপ্পের দীর্ঘতম গোলখরা। এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিলে এমনটা ঘটেছিল।

    চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ চার ম্যাচের মধ্যে দুটিতে চোটের কারণে খেলা হয়নি এমবাপ্পের। অন্য দুই ম্যাচে খেললেও পাননি গোলের দেখা। ফলে বায়ার্ন ম্যাচের আগে এমবাপ্পের গোলে ফেরার দিকেই এখন সবার চোখ। কারণ, তাঁর ছন্দহীনতার প্রভাব সামগ্রিকভাবে রিয়ালকে চাপে রেখেছে। এখন এমবাপ্পের গোলই পারে এই চাপ থেকে রিয়ালকে এবং তাঁকে বের করে আনতে।

  • বায়োমেট্রিক জটিলতার তিন ক্ষেত্রে ‘বিশেষ পদ্ধতিতে’ মিলবে সিম

    ঢাকা

  • বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা পাঠানোয় আর বাধা নেই

    জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত করা হয়েছিল। চার দিনের জন্য এসব সেবা সীমিত করা হয়। এতে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার এক হাজার টাকার বেশি পাঠাতে পারেননি।

    গত রাত বারোটার পর থেকে এসব বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    গত রোববার রাতে এসব সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিন থেকে ওইসব সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে টাকা পাঠাতে গিয়ে অনেক গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েন।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে রোববার রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা ছিল এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা দৈনিক ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

    এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় (আইবিএফটির মাধ্যমে লেনদেন) ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

  • বিকাশ, রকেট ও নগদে এক হাজার টাকার বেশি পাঠানো যাবে না, নির্দেশনা আসছে

    ঢাকা
  • বিচ্ছেদ থেকে সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ, বারবার আলোচনায় সুস্মিতা

    বিচ্ছেদের পর সদ্যই নতুন করে সংসার পেতেছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী-ইনফ্লুয়েন্সার সুস্মিতা রায়। তাঁকে বহু মানুষ যেমন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, তেমনি কটাক্ষও করেছেন অনেকে। এসবের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর বিকৃত যৌন ইচ্ছা, শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদ থেকে স্বামীর বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনতার অভিযোগ—কয়েক মাস ধরেই আলোচনায় সুস্মিতা।

    যেভাবে পরিচিতি
    সুস্মিতা রায়কে দর্শক ‘জগদ্ধাত্রী’ থেকে শুরু করে ‘কৃষ্ণকলি’, ‘অপরাজিতা অপু’ ধারাবাহিকে দেখেছেন। সুন্দরবন থেকে এসে টলিউডে তিনি নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। এত কাজের মধ্যে তাঁকে সব থেকে বেশি খ্যাতি দিয়েছিল কৃষ্ণকলি ধারাবাহিকটি। বর্তমানে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি ভ্লগিং, ব্যবসা—সবটাই একা হাতে সামলাচ্ছেন।

    জন্মদিনে বিচ্ছেদের ঘোষণা!
    ২০২৫ সালের ২০ মার্চ ছিল সুস্মিতার জন্মদিন। এদিনেই জানা যায়, তাঁর বিচ্ছেদের খবর। সামাজিক মাধ্যমে স্বামী সব্যসাচী চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন সুস্মিতা। এদিন সুস্মিতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের খবর তুলে ধরেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘ভালো থাক। বড় হ আরও। জন্মদিনে, আমার শেষতম শুভেচ্ছায় অনেক ভালো থাকিস। নতুন অধ্যায় ভালো হোক।’ এরপরই বিচ্ছেদের কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমরা আলাদা হচ্ছি। কিছু জিনিস দু তরফে মিলল না, মন খারাপ দু তরফেই। সেটা কাটিয়েই এগিয়ে যাওয়া হোক!’ সেই সঙ্গে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো চর্চা বা আলোচনা না করার অনুরোধও করেন সব্যসাচী। আর এই পোস্ট যে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমেই, তা–ও জানিয়ে দেন।
    দম্পতির বিচ্ছেদের খবর মেনে নিয়েছেন সুস্মিতার দেবর, তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীও। তিনি বলেন, ‘কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তাঁরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।’ উল্লেখ্য, আড়াই বছর আগেও একবার বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাঁরা। যদিও পরবর্তী সময়ে সব মিটমাট করে আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই বিচ্ছেদে এসে থামল তাঁদের পথচলা।

    সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    সুস্মিতা রায়। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    নতুন শুরু
    বিচ্ছেদের পর চলতি মাসেই নতুন করে জীবন শুরু করেছেন সুস্মিতা। গত ১৮ মার্চ  রাতে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী, তথা ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই। বিয়ের ছবি পোস্ট করে সুস্মিতা লিখেছিলেন, ‘এই একটা ইচ্ছে কখনো মন থেকে মুছে যায়নি। একটা শব্দ শোনার আশা—মা ডাক। আজ ৩৬ বছর বয়সে এসে সত্যিই আর কোনো ভণিতা করার সময় নেই৷ নিজেকে আর মিথ্যে সান্ত্বনা দেওয়ারও শক্তি নেই। বিয়ে করলাম…তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো৷’

    আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    আবার বিয়ে করেছেন সুস্মিতা। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    নতুন অভিযোগ
    বিয়ের পর নতুন করে আবার চর্চায় সুস্মিতা ও সব্যসাচী। এর মধ্যেই গতকাল রাতে সাবেক স্বামীর সঙ্গে একটি চ্যাটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেন সুস্মিতা। সেখানে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ অভিনেত্রীর। এরপর তিনি লাইভে আসেন। সেখানেই অতীত তুলে ধরেন। অভিযোগ করেন, এখনো চক্রবর্তী পরিবার; অর্থাৎ সব্যসাচী ও সায়ক তাঁর গোপন কথা ফাঁস করার হুমকি দিচ্ছেন। তাই নিজেই সব জানাবেন বলে জানান। সেই লাইভেই নিজের একাধিক বিয়ে ও সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেন তিনি। এরপরই সাবেক স্বামী সব্যসাচীর বিকৃত যৌনতা নিয়ে মুখ খোলেন। সুস্মিতার দাবি, বিয়ের পরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সব্যসাচীর।

    সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ
    সুস্মিতা ও সব্যসাচী। কোলাজ

    সুস্মিতার দাবি, তাঁর সামনেই একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন সব্যসাচী। এ ছাড়া বিভিন্ন জিনিস ও টাকাপয়সা তো নিয়েছেনই। সুস্মিতার যুক্তি, তিনি ভালোবেসে সবটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু একটা পর্যায়ের পর বাধ্য হয়েছেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে। কারণ, চক্রবর্তী পরিবার চায়নি, সন্তান আসুক তাঁর কোলে।

    এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করেন সব্যসাচী। তিনি লেখেন, ‘প্রথমত, সুস্মিতার এটা ৫ নম্বর বিয়ে। আমার সঙ্গে আলাপ দ্বিতীয় বিয়ের সময়। আমি একটু ধাক্কা খেলেও হজম করেছি। ওর প্রবল সন্দেহবাতিকতা আমি সহ্য করেছি। আমি মার খেয়েছি। সুস্মিতার মারধর, অশান্তি, একাধিক সম্পর্ক বাড়াবাড়ি ছিল। প্রশ্ন তুললে আমার ঘাড়ে ফেলা হতো। আমার চরিত্র নিয়ে একইভাবে প্রশ্ন উঠত। এভাবেই ও বেরিয়ে গিয়েছিল আরেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে। একটা ওয়েব সিরিজ করেছিল তাঁর টাকায়। সুস্মিতা বরাবরই বড়লোক হতে চাইত। বিয়ের পর সত্যি আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। ও এর সুযোগ নিয়ে দিনের পর দিন স্বেচ্ছাচারিতা করে গিয়েছে। বদলে আমাকে গিফট দেওয়ার ব্যবস্থা।’

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই তারকার পক্ষে–বিপক্ষে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ আবার পুরোনো জীবন নিয়ে ক্ষোভ না ঝেড়ে কাজ আর নতুন সংসারে মন দেওয়ারও অনুরোধ করেছেন সুস্মিতা ও সব্যসাচীকে।

  • বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

    পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজি উৎসব বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা চার দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন হয় ৯ এ্রপ্রিল রাঙ্গামাটি পৌর প্রাঙ্গনে। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা।

    অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আরো উপস্থিত রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা।

     এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী ও বাহারী রঙের পোশাক পরিহিত নারী পুরষ। তাদের হাতে নানান দাবি সংবলিত প্লে কার্ড ও ব্যানার। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি উপকরণ ডিসপ্লে করা হয়।

    অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসি ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার ।

    সাবেক সাংসদ বিএনপি সরকারের প্রতি পার্বত্য ‍চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান জানান এবং এ ব্যাপারে জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে বলেন । তিনি আরো অধিকতর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

  • বিজু সাংগ্রাই বৈসু বিষু বিহু সাংক্রান সাংলান পাতা উৎবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্য

    পাহাড়ে বৃহত্তর সামাজি উৎসব বিজু বৈসু সাংগ্রাই বিহু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা চার দিন ব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন হয় ৯ এ্রপ্রিল রাঙ্গামাটি পৌর প্রাঙ্গনে। এ অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন সাবেক সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান উষাতন তালুকদার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপসচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা। আরো উপস্থিত রয়েছেন সাবেক যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা।  এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন নানান বয়সী ও বাহারী রঙের পোশাক পরিহিত নারী পুরষ। তাদের হাতে নানান দাবি সংবলিত প্লে কার্ড ও ব্যানার। আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর সাংস্কৃতি উপকরণ ডিসপ্লে করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আদিবাসি ফোরাম পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক ইন্টু মনি তালুকদার । সাবেক সাংসদ বিএনপি সরকারের প্রতি পার্বত্য ‍চুক্তি বাস্তবায়নের আহবান জানান এবং এ ব্যাপারে জনগণকে আরো বেশি সচেতন হতে বলেন । তিনি আরো অধিকতর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রেণীর মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

  • বিজুমেলায় রাঙাচাঙা দোল মিলেবো/ জোনাকি চাকমা

    বিজু বিহু সাংগ্রাই বৈসু বিষু চাংলান চাংক্রান পাতা ২০২৬ উপলক্ষে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জোনাকি চাকমার মঞ্চ কাঁপানো সংগীত পরিবেশনা।

     

  • বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ বিলিয়ন ডলার

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫১ কোটি মার্কিন ডলার। এই অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা।

    এর তিন মাস আগে সেপ্টেম্বরে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১২ দশমিক ২১ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২২১ কোটি ডলার। আর জুনের শেষে বিদেশি ঋণ ছিল ১১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৩৫৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ বিদেশি ঋণ গত বছরের জুনের চেয়ে কমেছে, তবে সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই বিদেশি ঋণ বেড়েছে। এসব ঋণের বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি।

    [caption id="attachment_270301" align="alignnone" width="832"] অর্ন্তবর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিস্থিতি[/caption]

    বিদেশি ঋণের পরিস্থিতি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের বেশির ভাগ বা প্রায় ৮২ শতাংশ ছিল সরকারি খাতের। বাকিটা বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তাদের। ডিসেম্বর শেষে সরকারি খাতের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ২০ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ঋণের মধ্যে ৮৭ দশমিক ৬২ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি এবং ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ স্বল্পমেয়াদি। সরকারি ঋণের মধ্যে ৮০ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার সরাসরি সরকার নিয়েছে। ১২ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেওয়া।

    বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন প্রান্তিকে এ খাতের ঋণ কমেছে। তবে শেষ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর–ডিসেম্বর শেষে তা আবার ২০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। এ খাতের মোট স্বল্পমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ১০ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ঋণ ৬ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার। বেসরকারি খাতের দীর্ঘমেয়াদি ঋণের স্থিতি ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে ডলার–সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংকসহ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়া হয়। এসব প্রকল্প থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ পরিশোধের চাপ সামলাতে হবে সরকারকে। প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ শোধ করতে হবে সরকার ও বেসরকারি খাতকে।

    এদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে যত বিদেশি ঋণ এসেছে, এর চেয়ে বেশি শোধ করতে হয়েছে। এই সময়ে বিদেশি ঋণ ও অনুদান এসেছে ২৬৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারকে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের পাওনা বাবদ ২৬৭ কোটি ৬৮ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। কয়েক বছর ধরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে।

    ২০২২ সালের শুরুতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর হওয়ার জেরে দেশে ডলারের দাম বাড়তে শুরু করে। এতে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ঘাটতি দেখা দেয়। তখন ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২৩ টাকায় ওঠে। এতে দেশের মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যায়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে। সংকট সামাল দিতে আওয়ামী লীগ সরকার তখন আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বিদেশি ঋণ বাড়ানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। এরপরও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতন থামানো যায়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রিজার্ভের পতন থামাতে সক্ষম হয়েছিল। ডলারের বিনিময় হারেও এসেছে স্থিতিশীলতা।

    ঋণ বেশি বেড়েছে কখন

    বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২০ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। ওই সরকারের সময় ২০০৮ সালে তা বেড়ে হয় ২২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার। ওই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর ২০২৪ সালে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন বা ১০ হাজার ৪৭৬ কোটি ডলারে। অন্তর্বর্তী সরকার ডলার–সংকট মেটাতে ঋণ নেয়। ফলে ২০২৫ সালে বিদেশি ঋণ বেড়ে ১১৩ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

  • বিদেশে ভাষা শিক্ষা: জামানত ছাড়াই ১০ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক

    জাপান–কোরিয়া–চীন–জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে ভাষা শিক্ষা কোর্সে ভর্তিতে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি টিউশন ফি প্রেরণ ও থাকা–খাওয়ার ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রেরণে পাওয়া যাবে এ ঋণ।

    প্রবাসে কর্মসংস্থানপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সহায়তা ও বিদেশগামী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কারিগরি মানোন্নয়নে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভাষা শিক্ষা ও বিশেষ দক্ষতা অর্জনের জন্য ঋণ’ কর্মসূচি চালু করেছে ব্যাংকটি। এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণের সুবিধা পাবেন।

    প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক জানিয়েছে, যাঁরা বিদেশে ভাষা শিক্ষা ও বিশেষ কোনো বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের সহজ শর্তে এই ঋণ দেওয়া হবে। ঋণের সুবিধার মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি টিউশন ফি প্রেরণ, বিদেশে অবস্থানকালে থাকা–খাওয়ার ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রেরণ এবং বিশেষ করে কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তির সুযোগ।

     

    ঋণের শর্ত

    আগ্রহী প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট শাখার স্থানীয় বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর বয়স অনূর্ধ্ব ৪০ বছর হতে হবে। ঋণের জন্য আবেদনকারীকে যে দেশে গমনে ইচ্ছুক, সেই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইস্যুকৃত অফার লেটার এবং ন্যূনতম মধ্যম পর্যায়ের ভাষা শিক্ষার সনদ (যেমন জাপানের জন্য N5, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য TOPIK Level 3) অবশ্যই প্রদর্শন করতে হবে। এ ছাড়া আবেদনপত্রের সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও জামিনদার–সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হবে।

    এই ঋণের বার্ষিক সুদের হার ১১ শতাংশ এবং ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত। ঋণের অন্যান্য ফি ও চার্জ–সংক্রান্ত তথ্যাবলি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

    এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের নিকটস্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শাখা অথবা সরাসরি হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৩৮–এ যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন আগ্রহীরা।

  • বিনা মূল্যের বইয়ের চাহিদা ‘ফুলিয়ে–ফাঁপিয়ে’ দেখানো হচ্ছে, গচ্চা যাচ্ছে টাকা

    • ২৯৩ উপজেলার তথ্য যাচাইয়ে মাধ্যমিক স্তরেই ৮৮ লাখ ৪২ হাজার অতিরিক্ত বইয়ের চাহিদার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

    • সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে এ সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি হতে পারে।

    • এখন যাচাই করে চাহিদা সংশোধন করা হচ্ছে; সে অনুযায়ী বই ছাপা হবে।

    ঢাকা

  • বিশ্বকাপ জিতে ভারত কত টাকা পেল, নিউজিল্যান্ড কত

    বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের পুরস্কার শুধু ট্রফি নয়, অর্থকড়িও। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে যেমন বড় অঙ্কের টাকা পেতে যাচ্ছে ভারত। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) খালি হাতে ফেরাচ্ছে না কাউকেই।

    রানার্সআপ নিউজিল্যান্ড তো বটেই, সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল, সুপার এইটে থমকে যাওয়া চার দল, এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ৮ দলের জন্যও অর্থ বরাদ্দ আছে।

    ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ১ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (১ ডলার সমান ১২১.৬৫ টাকা) মোট ১৬৪ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়নদের জন্য বরাদ্দ ৩০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ শিরোপা জিতে ভারত পাচ্ছে বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩৬ কোটি টাকা।

    ফাইনালে ভারতের কাছে ৯৬ রানে হেরে যাওয়া নিউজিল্যান্ড পাচ্ছে ভারতের প্রায় অর্ধেক—১৬ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ১৯ কোটির টাকার কাছাকাছি। ভারত ও নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালে যাদের হারিয়েছে, সেই ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা পাচ্ছে ৭ লাখ ৯০ হাজার ডলার করে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার বেশি।

    ২০ দল নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে সুপার এইট থেকে বিদায় নেয় ৪টি দল। জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান পাচ্ছে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা সাড়ে চার কোটি টাকার বেশি করে। আর গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ১২টির দলের প্রতিটি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ বাবদ পাচ্ছে আড়াই লাখ ডলার বা ৩ কোটির বেশি টাকা করে।

  • বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬: কোথায় থাকবে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স ও স্পেন

    ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে এই ফুটবল উৎসবে অংশ নেবে ৪৮টি দেশ। ভেন্যুও ছড়িয়ে আছে তিন দেশের বিশাল মানচিত্রজুড়ে। স্বাভাবিকভাবেই এই বিশাল যজ্ঞে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার নাম ‘লজিস্টিকস’। বিশেষ করে টুর্নামেন্ট চলাকালে ঘাঁটি বা ‘বেস ক্যাম্প’ কোথায় করা হবে, তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করতে হচ্ছে দলগুলোকে।

    সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গাটি নিজেদের দখলে নিতে ফিফার কাছে দৌড়ঝাঁপ করছে দলগুলো। যদিও এখনো সব দলের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত হয়নি, তবে অনেক বড় দলই এরই মধ্যে ঠিকানা ঠিক করে ফেলেছে।

    ‘বেস ক্যাম্প’ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলগুলো অনেক কিছু মাথায় রাখে। হোটেলের মান, অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা, অনুশীলন ভেন্যুতে যাতায়াতের সহজ পথ থেকে শুরু করে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা—সবকিছুই হতে হয় নিখুঁত।

    ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত কোন দেশগুলো তাদের ‘বেস ক্যাম্প’ চূড়ান্ত করেছে, তা জানিয়েছে দ্য অ্যাথলেটিক।

    ক্রোয়েশিয়া: আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া

    ক্রোয়েশিয়া তাদের আস্তানা গাড়ছে ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের আলেকজান্দ্রিয়ায়। তাদের থাকার জন্য ঠিক করা হয়েছে শহরের একটি বিলাসবহুল হোটেল। আর অনুশীলনের জন্য তারা বেছে নিয়েছে শহরের এপিসকোপাল হাইস্কুলকে। দলটির কোচ জ্লাতকো দালিচ জানিয়েছেন, অনুশীলনের সুযোগ, হোটেল এবং যাতায়াতের সুবিধা—সবকিছুর বিচারে আলেকজান্দ্রিয়াই তাদের জন্য সেরা।

    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়া
    এই মাঠে অনুশীলন করবে ক্রোয়েশিয়াফিফা

    জার্মানি: উইনস্টন-সালেম, নর্থ ক্যারোলাইনা

    জার্মানরা ডেরা বাঁধছে নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সালেমে। ওয়েইক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটি হবে তাদের মূল কেন্দ্র। এই ইউনিভার্সিটির ফুটবল–ঐতিহ্য বেশ পুরোনো। ২০০৭ সালে তারা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল এবং ছয়বার সেমিফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। জার্মান ফুটবলাররা থাকবেন ‘গ্রেইলিন এস্টেট’-এ।

    স্পেন: চ্যাটানুগা, টেনেসি

    সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন বেছে নিয়েছে টেনেসি অঙ্গরাজ্যের চ্যাটানুগা শহরকে। টেনেসি নদীর তীরে ১ লাখ ৯০ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট শহরের এম্বেসি সুইটস হোটেলে থাকবে স্প্যানিশরা। আর তাদের প্র্যাকটিস চলবে বেলর স্কুলে। গত ক্লাব বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সিটি দলটিও এখানেই অনুশীলন করেছিল।

    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়
    ইয়ামালদের বেস ক্যাম্প টেনেসির চ্যাটানুগায়এএফপি

    উরুগুয়ে: প্লেয়া দেল কারমেন, মেক্সিকো

    বিশ্বকাপের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ বেস ক্যাম্পটি সম্ভবত হতে যাচ্ছে উরুগুয়ের। পর্যটকদের স্বপ্নের গন্তব্য মেক্সিকোর প্লেয়া দেল কারমেনে থাকবে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সাদা বালু আর নীল সমুদ্রের এই পর্যটনকেন্দ্রে অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন দারুণ, তেমনি এখান থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার সময়ও কম লাগবে।

    ব্রাজিল: মরিসটাউন, নিউজার্সি

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বেছে নিয়েছে একদম ঝকঝকে নতুন এক স্থাপনাকে। এমএলএস দল নিউইয়র্ক রেড বুলসের নতুন ঘাঁটি ‘রেড বুল পারফরম্যান্স সেন্টার’-এ (বিশ্বকাপের সময় যার নাম হবে কলাম্বিয়া পার্ক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি) অনুশীলন করবে সেলেসাওরা। নিউইয়র্ক সিটি থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই সেন্টারে ৮টি পূর্ণ মাপের ফুটবল মাঠ রয়েছে।

    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কে
    ব্রাজিল এবার ঘাঁটি গাড়ছে নিউইয়র্কেছবি: রয়টার্স

    ফ্রান্স: বোস্টন, ম্যাসাচুসেটস

    ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্স আস্তানা গাড়ছে ঐতিহাসিক বোস্টন শহরে। দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা থাকবেন ফোর সিজনস হোটেলে। আর বাবলসন কলেজের মাঠে চলবে তাঁদের অনুশীলন। ফ্রান্স তাদের গ্রুপের শেষ ম্যাচটি খেলবে নরওয়ের বিপক্ষে, জিলেট স্টেডিয়ামে।

    আর্জেন্টিনা: কানসাস সিটি, মিসৌরি

    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে
    মেসিরা আস্তানা বানাবেন কানসাস সিটিতে, এএফপি
     

    বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা আস্তানা গড়ছে কানসাস সিটিতে। তারা এমএলএস দল স্পোর্টিং কেসির প্র্যাকটিস মাঠ ব্যবহার করবে। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) জানিয়েছে, দূরত্বের কথা চিন্তা করলে কানসাস সিটিই টুর্নামেন্টে তাদের জন্য সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে কানসাস সিটি চিফস-এর অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে।

  • বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।

    ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।

    ভারত ১১১ রানে অলআউট, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী

    ৮৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারের ব্যবধান কমাতে ব্যাট চালিয়েছিলেন শিবম দুবে। কিছুটা সফলও হয়েছেন। তবে বেশি দূর দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। উনিশতম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি আউট হওয়ার পর পঞ্চম বলে বুমরার উইকেটটিও হারিয়েছে ভারত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কো ইয়ানসেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট ১১১ রানে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭৬ রানে।

  • বিশ্বকাপের টিকিটের ‘আকাশছোঁয়া’ দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়েছে বেশ আগে। এবার এটা গড়াল আদালত পর্যন্ত। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া  টিকিটের মূল্যকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের জোট ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। এফএসই এবং ইউরোকনজ্যুমারস গ্রুপের সোজা কথা, টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত। তাদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রিতে ফিফা নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

    এফএসইর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’

    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি
    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, ফিফা
     

    এফএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা), যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি! তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৯৫ ইউরো।

    এমনকি ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতেও গড় টিকিটের দাম ১ হাজার ৪০৮ ডলার ধরা হয়েছিল। বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে।
    একজন দর্শক এক ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টের ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।

    উত্তর আমেরিকার আয়োজক কমিটি প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে যোজন দূরে। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম গ্ল্যামারাস’ লড়াইয়ের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। বড় দলগুলোর ম্যাচের টিকিটের ন্যূনতম দাম তো ২০০ ডলারের নিচে নামছেই না।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোফিফা

    আবার ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত এবং তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।’

    সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব রিসেল বা পুনর্বিক্রয় সাইটে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের একটি ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! মূল দাম যেখানে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে পুনর্বিক্রয় বাজারে দাম বেড়েছে ৪১ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় একটি টিকিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা!

    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
     

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। মেক্সিকোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।

    টিকিটের এই অগ্নিমূল্য নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি—চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তাঁর কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী তারা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল দামের নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়বে বা কমবে।
    তবে সমর্থকদের দাবি, এই পদ্ধতির কোনো স্বচ্ছতা নেই। এফএসই বলছে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার সময় টিকিটের দাম হুট করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে একজন সমর্থক জানতেই পারছেন না তাঁকে শেষ পর্যন্ত কত ডলার গুনতে হবে।
    সব মিলিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই উৎসব আসলে কার জন্য?

    এএফপি

  • বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে কেমন হলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রস্তুতি

    ঢাকা

  • বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম, ইরানের জাহাজ আটকের জের

    আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর এ ঘোষণার পর তেলের দাম বেড়েছে।

    এর আগে গত শনিবার ইরান ঘোষণা দেয়, তারা আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্কবার্তা দেয়, কোনো জাহাজ প্রণালির দিকে এগোলে হামলা করা হবে।

    এ পরিস্থিতিতে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলার। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

    আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বার্তার প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজারে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

    গতকাল রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। তার আগের দিন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এ সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে।

    বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে চাপে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়।

    সরবরাহ সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হয়েছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি চীনেও নানা ধরনের কাটছাঁট করা হচ্ছে, যদিও চীনের মজুত প্রায় তিন মাসের আমদানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পর চীন সরকার মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানার চেষ্টা করছে।

    এদিকে জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া অঞ্চলে সেবা দেওয়া বিমান সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

    গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত রয়েছে। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে শিগগিরই ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাজ্যে টানা কয়েক দফা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহের শেষে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কিছুটা কমেছে।

    বিবিসি

  • বিশ্ববাজারে কমে গেল তেলের দাম

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে কমে গেছে জ্বালানি তেলের দাম।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলার।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার (২৭ মার্চ) তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    এদিকে যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ (১৩৯ মিলিয়ন) ডলার আয় করছে ইরান। এই বিপুল অর্থের প্রায় পুরোটাই আসছে তেল রপ্তানি থেকে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে অবরোধ জারি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটটি ব্যবহার করে। বর্তমানে এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় সংকটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে তারা।

    হরমুজ প্রণালিকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ এই রুট দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে।

    বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

     

  • বিশ্ববাজারে টানা দুই দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে।

    আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে আশাবাদ দেখা দিয়েছে—এতে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

    যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ এটি।

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।

    মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হতে বাধা দিয়েছে।

    পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ এক নোটে বলেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এবং যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

    তাদের মতে, বাজারে এখন স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন সম্ভাবনার চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হবে, এমন আশঙ্কাই বেশি।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের ৩০ দিনের যে মেয়াদ, তা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে, এই শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর অনুরূপ শিথিলতাও গত সপ্তাহান্তে নীরবে শেষ হয়েছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) সাপ্তাহিক মজুতের কী তথ্য প্রকাশ করে, তার দিকে বাজারের নজর থাকবে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বেড়েছে, তবে ডিজেল ও পেট্রলের মজুত কমে যেতে পারে।

    আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহে বেড়েছে।

    এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ১১৫ ডলার ছাড়াল

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে, তার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এ খবরে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলবে।

    আজ সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ১১৬ ডলার ১০ সেন্ট। আজ ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। খবর অয়েল প্রাইজ ডটকমের

    গতকাল রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার বলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, আলোচনা চলছে এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানো হয়েছে।

    এদিকে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইয়মেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়েছে। হুতিরা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে তেল পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক নৌপথের সংযোগপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব আছে। তারা চাইলে এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে। খবর সিএনএনের

    এদিকে যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগী হয়েছেন। গতকাল তাঁদের বৈঠক ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা করবে পাকিস্তান।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।

    এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবহন হয়, তার গন্তব্য মূলত এশিয়া। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন র‍্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো মন্দা; কেবল তেমন কিছু ঘটলেই তেলের দাম কমতে পারে।  

    ম্যাকনালির ভাষায়, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেলের চাহিদা কমে যায়। কথাটা কর্কশ শোনালেও তেলের দাম হ্রাসের ক্ষেত্রে তা কার্যকর উপায়।’

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও গ্যাসের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং আশপাশের অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন কাতারের রাস লাফান; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করে। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, দাম নির্ভর করবে তার ওপর।

    এদিকে আজ এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। খবর বিবিসির

    গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। এরপর পরিস্থিতি দ্রুতই বদলে যায়। ১৮ মার্চ ব্রেন্টের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে  উঠে যায়—২০২২ সালের জুন মাসের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব