• মা হচ্ছেন অভিনেত্রী পূজা

    সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন দ্বিতীয়বার মা হতে যাচ্ছেন বলে খবর দেন। এরই মধ্যে আরও এক ভারতীয় অভিনেত্রী সুখবর শেয়ার করেছেন। দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় থাকার কথা জানিয়েছেন পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়
    পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি: ইনস্টাগ্রাম
     

    সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে স্বামী কুণাল ভার্মার সঙ্গে এই সুখবর জানান পূজা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানান, তিনি আবার গর্ভবতী। ভ্লগে নিজেই পজিটিভ প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট দেখিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি—যেমনটা সম্প্রতি দীপিকা পাড়ুকোনও সামাজিক মাধ্যমে করেছিলেন।

    ২০২০ সালের অক্টোবরে পূজা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ভার্মার ঘর আলো করে জন্ম নেয় তাঁদের প্রথম সন্তান কৃষভ। বিয়ের চার বছর পর এবার আবারও নতুন সদস্য আসছে তাঁদের পরিবারে। বর্তমানে নতুন অতিথিকে ঘিরে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। ভ্লগে শুধু আনন্দের কথা নয়, এক সন্তান থাকার পর দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে যে বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো আসে, সেগুলো নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই দম্পতি।
    প্রায় এক দশকের সম্পর্কের পর পূজা ও কুণাল ২০২০ সালে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে সেই সময় বড় অনুষ্ঠান বাতিল করে তাঁরা বিয়ের বাজেট দান করেছিলেন সমাজসেবায়।

    দেবের বিপরীতে ‘চ্যালেঞ্জ ২’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পূজা। তাঁকে আরও দেখা গেছে, ‘রকি’, ‘হইচই আনলিমিটেড’-এর মতো সিনেমায়। ‘পাপ’, ‘ক্যাবারে’ ওয়েব সিরিজেও দেখা গেছে তাঁকে।
    ‘কাহানি হামারে মহাভারত কি’, ‘তুঝ সাং প্রীত লাগাই সাজনা’–এর মতো হিন্দি সিরিয়ালেও দেখা গেছে পূজাকে। ‘বাংলা ড্যান্স বাংলা ড্যান্সে’র বিচারকও ছিলেন পূজা।

  • মাঠের অতন্দ্র প্রহরী থেকে এবার ক্রীড়াঙ্গনের ‘ক্যাপ্টেন’ আমিনুল

    ফুটবল মাঠে একসময় যাঁর বিশ্বস্ত হাত প্রতিপক্ষের গোল রুখে দিত, সেই আমিনুল হক এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ অভিভাবক। দীর্ঘ জল্পনা আর রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে ‘টেকনোক্র্যাট কোটায়’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। মাঠ থেকে পরে মন্ত্রিসভায় যাওয়ার নজির অবশ্য এ দেশে নতুন নয়। এর আগে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও আরিফ খান জয়রাও বুট জোড়া তুলে রেখে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছিলেন। হয়েছিলেন মন্ত্রীও।

    ভোলার ছেলে আমিনুলের বেড়ে ওঠা ঢাকার মিরপুরে। বড় ভাই মঈনুল হকও ছিলেন মাঠের মানুষ। ভাইয়ের হাত ধরেই ফুটবলের প্রেমে পড়া। কিশোর বয়সে খ্যাপ খেলে পাওয়া প্রথম ১৫০ টাকা যখন মায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, সেই তৃপ্তির হাসিই যেন আমিনুলকে বুঝিয়ে দিয়েছিল—তাঁকে অনেক দূর যেতে হবে। পাইওনিয়ার লিগের এমএসপিসি সিটি ক্লাবে যখন হাতেখড়ি হলো, তখনই কোচরা টের পেয়েছিলেন, এই ছেলেটি বিশেষ কিছুর জন্য জন্ম নিয়েছে।

    অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্য, নব্বইয়ের দশকে ঢাকার পাইওনিয়ার লিগে নিজের প্রথম ৯ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি আমিনুল। পাইওনিয়ার লিগে নৈপুণ্যের পর আমিনুলকে ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগের দল ইস্ট এন্ড ক্লাবে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভাই মঈনুল হক এবং মোহামেডানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইমতিয়াজ সুলতান জনির সহায়তায় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব তাঁকে দলে ভেড়ায়। অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ছাঈদ হাসান কানন ক্লাবে থাকায় মোহামেডানে আমিনুলের সময়টা কেটেছিল তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে।

    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদ
    ২০০১ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে বাংলাদেশের ফুটবলের তিন তারকা হাসান আল মামুন, আমিনুল হক (মাঝে) ও আলফাজ আহমেদছবি: ফেসবুক

    মোহামেডানের সঙ্গে দুই বছরের বাইন্ডিংস শেষে আমিনুল ১৯৯৬ সালের প্রিমিয়ার লিগে ফরাশগঞ্জ এসসিতে নাম লেখান। কোচ প্রাণ গোবিন্দ কুণ্ডুর অধীনে আমিনুল দলের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। আমিনুলের অভিষেক মৌসুমে ফরাশগঞ্জ লিগে ষষ্ঠ হয়ে অবনমন এড়ায়। ১৯৯৬ সালে ফরাশগঞ্জের জার্সি গায়েই আমিনুল বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত তিনি। তাঁর রক্ষণব্যূহের সামনে দেশের সেরা স্ট্রাইকাররা বারবার খেই হারিয়ে ফেলতেন। সেই লিগের দুই পর্বে আবাহনী-মোহামেডানের বিপক্ষে চার ম্যাচে ফরাশগঞ্জ হারেনি। চারটিই হয়েছে ড্র। আবাহনীকে রুখে দিলে মোহামেডান পুরস্কার দিত ১০ হাজার টাকা, আবার মোহামেডানকে রুখলে আবাহনী দিত ১০ হাজার টাকা। এভাবে ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি প্রেরণা পান বড় দলের কাছ থেকে।

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    আমিনুলের ক্যারিয়ারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র। ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে দলটির গোলপোস্টের নিচে ছিলেন। এর মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত দলটিকে এনে দিয়েছেন অসংখ্য ট্রফি। আবাহনী, মোহামেডান বা শেখ জামালের হয়ে যখনই তিনি মাঠে নেমেছেন, সমর্থকদের মনে নিশ্চিন্ত ভরসা জেগেছে। দলকে এনে দিয়েছেন ট্রফি। ২০০৯ সালে প্রথম সুপার কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পেয়েছেন।

    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক
    ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের গোলকিপার আমিনুল হক, ছবি: এএফপি

    জাতীয় দলে অভিষেক ১৯৯৮ সালে কাতারের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। খেলেছেন ২০১১ পর্যন্ত। চোট ছাড়া তাঁকে কখনো বসে থাকতে হয়নি। আমিনুলের জন্যই জাতীয় দলে বেশি খেলার সুযোগ হয়নি বিপ্লব ভট্টাচার্যর।

    ২০০৩ সালে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম মেতেছিল সাফ ট্রফি জয়ের আনন্দে। পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল সাফের ফাইনালের দিকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে আমিনুল যখন দ্বিতীয় শটটি রুখে দিলেন, তখন পুরো গ্যালারি গর্জে উঠেছিল। সেই মুহূর্তটি আমিনুলকে পরিণত করেছিল জাতীয় নায়কে। বাংলাদেশের ফুটবলে এখনো ২০০৩ সালের সাফ জয়ই শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে গণ্য করা হয়।

     

    ২০১০ সালের এসএ গেমস ছিল আমিনুলের ক্যারিয়ারের আরও এক স্মরণীয় মাইলফলক। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল সোনা জিতেছিল এবং বিস্ময়করভাবে পুরো টুর্নামেন্টে আমিনুলের বিপক্ষে কোনো গোল হয়নি। ২০০১ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দাম্মামে ভিয়েতনামের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। মঙ্গোলিয়াকে হারিয়ে বড় জয় পায় বাংলাদেশ। তারপর সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৩-০ গোলে হারলেও তাঁর লড়াকু মনোভাব প্রশংসিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহলে। দাম্মামের রাস্তায় বেরোলে তাঁকে ঘিরে ধরতেন প্রবাসীরা। কাতার যুব দলের সঙ্গে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের প্রীতি ম্যাচ ড্রয়ের পর দোহার এক প্রবাসীর কাছে পাওয়া ২০০ রিয়াল পুরস্কার আমিনুলের ফুটবল–জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি।

    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক
    গোলকিপারের জার্সিতে আমিনুল হক, ফেসবুক

    বাংলাদেশের সাফ জয়ের নেপথ্য কারিগর প্রয়াত অস্ট্রিয়ান কোচ জর্জ কোটানের প্রিয় ছাত্র ছিলেন আমিনুল। কোটান থেকে শুরু করে অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞর মতেই আমিনুলের প্রতিভা ছিল ইউরোপের বড় লিগে খেলার মতো। কাতারের আল হিলাল ক্লাব একবার তাঁকে দলভুক্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য খোলেনি শেষ পর্যন্ত।

    ঢাকার দলবদলে তাঁকে নিয়ে নাটক হয়েছে অনেক। ২০০০ সালে লন্ডনে প্রীতি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ জাতীয় দল ঢাকায় ফিরলে বিমানবন্দরেই আমিনুলকে নিয়ে কাড়াকাড়ি লাগে আবাহনী আর মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে। ২০০৩ সালে এই দুই ক্লাব আবার যুদ্ধে নামে আমিনুলকে দলে নিতে। তারই জেরে মুন্সিগঞ্জের এক জায়গায় ১২ দিন তাঁকে লুকিয়ে রাখে মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমিনুলের ভাই মঈনুল হক রমনা থানায় একটি মামলা করেন, যেখানে তিনি আবাহনী লিমিটেড ঢাকার বিরুদ্ধে আমিনুলকে অপহরণের অভিযোগ আনেন। ১২ সেপ্টেম্বর ভোরে পুলিশ আমিনুলের সন্ধানে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাবে নজিরবিহীন অভিযান চালায়, কিন্তু সেখানে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    দেশজুড়ে যখন তাঁর খোঁজ চলছিল, তখন ওই দিন বিকেলেই আমিনুল আকস্মিকভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড অফিসে হাজির। সেখানে তিনি দাবি করেন, বন্দুকের মুখে তাঁকে তুলে নিয়ে আবাহনী ক্লাবে রাখা হয়েছিল এবং পরে মোহাম্মদপুরের একটি বাড়িতে বন্দী করে রাখা হয়। আমিনুল তখন বলেছিলেন, তিনি ওই বাড়ির দোতলার ব্যালকনি থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে এসেছেন।

    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক
    খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে যোগ দেন আমিনুল হক

    খেলার মাঠ থেকে অবসর নিয়ে আমিনুল বেছে নেন দেশের মূলধারার রাজনীতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে রাজপথে সক্রিয় হন। কিন্তু এই পথ তাঁর জন্য মসৃণ ছিল না। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁকে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। দিনের পর দিন কারাগারে কাটাতে হয়েছে, সহ্য করতে হয়েছে হয়রানি।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে অত্যন্ত স্বল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া আমিনুলের জন্য ছিল এক সাময়িক ধাক্কা। তবে তাঁর ক্রীড়া মেধা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কথা বিবেচনা করে তাঁকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে নতুন সরকার।

    পোস্টের নিচে যেমন কোনো বলকে জালে ঢুকতে দেননি, তেমনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনেও আমিনুল কোনো ‘অনিয়মের গোল’ হতে দেবেন না—এমনটাই প্রত্যাশা ক্রীড়াপ্রেমীদের।

  • মাতৃত্বই জীবনের সেরা চরিত্র: দীপিকা পাড়ুকোন

    বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন আবারও মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পা রাখতে চলেছেন। স্বামী রণবীর সিংয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় সন্তানের আগমনের খবর জানিয়ে ভক্তদের আনন্দে ভাসিয়েছেন তিনি। তবে এই ঘোষণার মাঝেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীপিকার সেই পুরোনো বক্তব্য; যেখানে তিনি বলেছিলেন মাতৃত্বই তাঁর জীবনের ‘সেরা চরিত্র’।

    আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি—ছোট্ট হাতের মুঠোয় ধরা একটি ‘প্রেগন্যান্সি কিট’। আর সেই ছবিই এখন বলিউডজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র। দ্বিতীয়বার মা হতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন—এই সুখবরটি নিজেই জানালেন তিনি।
    ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, মেয়ে দুয়া পাড়ুকোন সিংয়ের হাতে ধরা রয়েছে প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিট। কোনো দীর্ঘ ক্যাপশন নয়, খুবই সংযত ভঙ্গিতে এই ছবির মাধ্যমেই সুখবরটি জানান অভিনেত্রী। মুহূর্তেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায়, ভক্ত–সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। ছবি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া মন্তব্য করেন, ‘কনগ্রেটস!’—যা দ্রুতই নজর কাড়ে।

    মাতৃত্ব নিয়ে দীপিকার ভাবনা নতুন নয়। ২০২৫ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। আগে নিজেকে ধৈর্যশীল মনে করলেও, সন্তান জন্মের পর সেই ধৈর্য ও সহনশীলতা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।

    দীপিকার কথায়, মাতৃত্ব মানুষকে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি থেকে বের করে আনে। দীপিকা স্বীকার করেছিলেন, তিনি স্বভাবতই খুব সামাজিক ছিলেন না। কিন্তু সন্তানের কারণে অন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মেলামেশা, প্লে-স্কুলের পরিবেশ—সব মিলিয়ে তাঁকে নতুনভাবে মানুষের সঙ্গে যুক্ত হতে শিখিয়েছে। এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক বলেই দেখেন।

    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে
    কন্যা দুয়ার সঙ্গে রণবীর ও দীপিকা। ইনস্টাগ্রামা থেকে

    দীপিকা এই সাক্ষাৎকারে আরও বলেন, ‘আমি সব সময়ই মা হতে চেয়েছি। আর এখন আমি আমার জীবনের সেরা চরিত্রে অভিনয় করছি।’এই এক বাক্যেই যেন তাঁর অনুভূতির গভীরতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিনয়ের জগতে অসংখ্য চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করলেও, বাস্তব জীবনের এই ভূমিকাকেই তিনি সবচেয়ে পূর্ণতা দেওয়া বলে মনে করেন।

    ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দীপিকা ও রণবীরের সংসারে আসে তাঁদের প্রথম সন্তান দুয়া। বেশ কিছু সময় তাঁরা মেয়েকে গণমাধ্যমের আড়ালে রেখেছিলেন। পরে দেওয়ালির সময় প্রথমবারের মতো কন্যার ছবি প্রকাশ করেন, যা ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

    সেই সঙ্গে এই দম্পতি জানান, ‘দুয়া’ নামটির অর্থ ‘প্রার্থনা’—যা তাঁদের জীবনে সন্তানের আগমনের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আবেগের প্রতীক।

    এদিকে পেশাগত জীবনেও দুজনেই রয়েছেন ব্যস্ততায়। রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বক্স অফিসে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে দীপিকাকে শিগগিরই দেখা যাবে শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘কিং’ ছবিতে। এ ছাড়া দক্ষিণের তারকা আল্লু অর্জুনের সঙ্গে তাঁর আরেকটি বড় প্রকল্পও রয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • মাদক মামলায় জড়িয়ে থমকে যায় নায়িকার ক্যারিয়ার

    মালয়ালম সিনেমার একসময়ের আলোচিত মুখ প্রজ্ঞা মার্টিন। অল্প বয়সেই বড় তারকার ছবিতে অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। কিন্তু ক্যারিয়ারের মাঝপথে বিতর্ক, বিশেষ করে একটি মাদক মামলার সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পথ অনেকটাই কঠিন হয়ে যায়। তবু শেষ পর্যন্ত সেই মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে আবার নতুনভাবে পথচলার চেষ্টা করছেন এই অভিনেত্রী।

    বড় তারকার ছবিতে অভিষেক
    প্রজ্ঞা মার্টিন প্রথমবার সিনেমায় অভিনয় করেন কিশোরী বয়সে। তাঁর অভিষেক হয় মালয়ালম তারকা মোহনলালের অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘সাগর অ্যালিয়াস জ্যাকি রিলোডেড’ ছবিতে। এটি মূলত ১৯৮৭ সালের সিনেমা ‘ইরুপাথাম নোত্তানডু’র স্পিন-অফ। যদিও এটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি, তবু ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেও দর্শকের নজর কাড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। বিশেষ করে মোহনলালের সঙ্গে তাঁর কয়েকটি দৃশ্য দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছিল।

    ধীরে ধীরে পরিচিতি
    অভিষেকের পরপরই প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ার খুব দ্রুত এগোয়নি। কয়েক বছর পরে তিনি ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন জনপ্রিয় মালয়ালম ছবি ‘উস্তাদ হোটেল’-এ। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন দুলকার সালমান, নিত্যা মেনন। সিনেমার পাশাপাশি প্রজ্ঞা তখন মডেলিংয়েও যুক্ত হন। ধীরে ধীরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করতে থাকেন তিনি।

    তামিল হরর ছবিতে জনপ্রিয়তা
    প্রজ্ঞা মার্টিনের ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে তামিল হরর সিনেমা ‘পিসাসু’র মাধ্যমে। ভৌতিক আবহে নির্মিত এই সিনেমা মুক্তির পর দ্রুতই দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং সমালোচকদের কাছ থেকেও প্রশংসা পায়। ছবিতে প্রজ্ঞার উপস্থিতি তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে তিনি তখন পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মালয়ালম সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র
    পরে প্রজ্ঞা মার্টিন আবার মালয়ালম সিনেমায় নিয়মিত অভিনয় শুরু করেন। একপর্যায়ে পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের সঙ্গে একটি ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। ধীরে ধীরে তাঁর ক্যারিয়ার এগোচ্ছিল এবং তিনি মালয়ালম ও তামিল—দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করছিলেন।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    বিতর্কে থমকে যাওয়া ক্যারিয়ার
    ক্যারিয়ারের এই সময়েই হঠাৎ বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রজ্ঞা মার্টিন। কুখ্যাত এক গ্যাংস্টারের সঙ্গে যুক্ত মাদক মামলায় তাঁর নাম উঠে আসে। এই ঘটনায় দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রজগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ারও হঠাৎ করেই স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক প্রযোজক ও পরিচালক তখন তাঁকে নিয়ে কাজ করতে অনাগ্রহ দেখান।

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    মামলায় অবশেষে স্বস্তি
    দীর্ঘ তদন্তের পর অবশেষে ওই মাদক মামলায় প্রজ্ঞা মার্টিনকে ক্লিন চিট দেওয়া হয়। তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। কারণ, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি নেতিবাচক প্রচারের মধ্যে ছিলেন।

    মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার নতুনভাবে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন প্রজ্ঞা মার্টিন। যদিও আগের মতো নিয়মিত সিনেমায় দেখা যায় না তাঁকে, তবু অভিনয় থেকে পুরোপুরি সরে যাননি।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    প্রজ্ঞা মার্টিন। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • মার্কিন শুল্কচুক্তি থেকে সরে আসার পরামর্শ সিপিডির

    অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা শুল্কচুক্তি চরমভাবে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘চুক্তির শর্ত দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। তাই সরকারের উচিত এই চুক্তি থেকে সরে আসা।’

    আজ শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিনও তারপর’ শীর্ষক এ মিডিয়া ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে সিপিডি।

    অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন শুল্কসংক্রান্ত আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে শুধু শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে। পাল্টা শুল্কের হার কীভাবে ৩৫ থেকে ২০ শতাংশে কমিয়ে আনা যাবে, সেটি। এ জন্য কিছু কেনাকাটার (প্রকিউরমেন্ট) চুক্তি করলেই নাকি হয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে চুক্তি হয়েছে, তা দেখে আমরা হতভম্ব, স্তম্ভিত। এই ধরনের চুক্তি কীভাবে একটি অনির্বাচিত সরকার করে যেতে পারল বা এই দায় কীভাবে একটি নির্বাচিত সরকারের কাঁধে দিয়ে যেতে পারল, তা বোধগম্য নয়। কোনো একটি বিষয়ে যদি অন্তর্বর্তী সরকারকে নিন্দা জানানোর থাকে, তাহলে আমি এই একটি চুক্তির জন্য নিন্দা জানাতে চাই।’

    ব্রিফিংয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের বিষয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান সরকার গভর্নর নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি দুর্বল পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছ ছিল। সরকার রাজনৈতিক বিবেচনাতেও গভর্নর নিয়োগ দিতে চাইলে এর চেয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। নবনিযুক্ত গভর্নরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। সরকার এ ধরনের সমালোচনাগুলো এড়িয়ে আরও ভালো নিয়োগ দিতে পারত। সে ধরনের যোগ্য লোক সরকারের হাতে ছিল।

    বড় সমস্যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির

    দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন সরকারের অগ্রাধিকার বিষয়ে বিভিন্ন খাতভিত্তিক পর্যালোচনা তুলে ধরে সিপিডি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারি কাঠামোর বড় সমস্যা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দুর্বলতা ও দক্ষতার সংকট। নতুন সরকারকে এটি মোকাবিলা করতে হবে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দুর্বলতা। ব্যবসার পরিবেশের ক্ষেত্রে অবকাঠামো, মানবসম্পদ, অর্থায়ন, দুর্নীতি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক লেনদেনের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আস্থা পান না।

    সিপিডি জানিয়েছে, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু তৈরির মতো কিছু বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কথা বলেছে। তবে এ মুহূর্তে সেই আর্থিক সক্ষমতা সরকারের নেই। তাই সরকারের উচিত হবে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা। ইশতেহারে বিএনপি মোট দেশজ আয়ের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আহরণ ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করবে। এটি যৌক্তিক। তবে এ ক্ষেত্রে কর ন্যায্যতা নিশ্চিত ও করব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করতে হবে।

    কয়লা উত্তোলন নয়

    অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বাংলাদেশে বর্তমানে একাধিক সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে অতিমূল্যায়িত চাহিদা প্রক্ষেপণ ও প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহের সংকট অন্যতম। বিএনপির নির্বাচনী পথনকশায় নতুন করে দেশের কয়লা উত্তোলনের একধরনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কয়লা উত্তোলন দেশের জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। সরকারের উচিত হবে এমন উদ্যোগ থেকে সরে আসা। আর গ্যাস–সংকট সমাধানে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি কোনো সমাধান হতে পারে না।

    সরকারকে দুই পায়ে চলার পরামর্শ

    সরকারি কার্যক্রমের তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিতে সংসদের ভূমিকা বাড়ানোর পরামর্শ দেন খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি বলেন, সরকার যদি দুই পায়ে কাজ করে, তাহলে এক পা হলো নির্বাহী বিভাগ, আরেক পা সংসদ। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, বিশেষ করে আর্থিক–সংক্রান্ত কমিটিগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে তা সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিতের বড় সুযোগ তৈরি করবে।

    সিপিডি মনে করে, নতুন সরকারকে সমান্তরালভাবে ১৮০ দিন এবং পরবর্তী ৫ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে সরকারি উদ্যোগ যেন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, এটি যেন স্থানীয় সরকার প্রশাসন তথা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও বাস্তবায়িত হয়।

  • মায়ামির নতুন স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচেই গোল করলেন মেসি

    ইন্টার মায়ামির নতুন স্টেডিয়াম। উদ্বোধনী ম্যাচ। দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি গোল করতে সময় নিলেন মাত্র ১০ মিনিট। নিজের নামাঙ্কিত ‘লিও মেসি স্ট্যান্ড’–এর সামনেই ইন্টার মায়ামির হয়ে প্রথম গোলটি করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    যদিও জয়ের হাসি নিয়ে ম্যাচটি শেষ করতে পারেনি তাঁর দল। ঘরের মাঠে অস্টিন এফসির বিপক্ষে এমএলএসের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়।

    মায়ামির প্রথম গোলটা মেসির পা থেকে এলেও ন্যু স্টেডিয়ামের ইতিহাসের প্রথম গোলটি করেছেন অস্টিন ডিফেন্ডার গুইলহার্মে বিরোর। ৬ মিনিটেই সফরকারীদের এগিয়ে দেন তিনি। এর চার মিনিট পরই দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে মায়ামিকে সমতায় ফেরান মেসি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯০৩ নম্বর গোল।

    সমতায় ফেরার পর মায়ামি বল দখলে আধিপত্য দেখালেও অস্টিনের রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল। উল্টো ৫৩ মিনিটে পাল্টা–আক্রমণে জেইডেন নেলসনের গোলে আবারও লিড নেয় অস্টিন।

    ম্যাচ যখন হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন ৭৩ মিনিটে অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেজকে মাঠে নামান কোচ হাভিয়ের মাচেরানো। মাঠে নামার ৮ মিনিট পরে গোল করে দলের হার বাঁচান এই উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে জর্মান বার্টারেম হেড করার পর খুব কাছ থেকে বল জালে জড়ান সুয়ারেজ।

    গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি
    গোল পেলেও ম্যাচ জেতেনি মায়ামি, এএফপি

    ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শেষ দিকে মেসি দারুণ একটা সমাপ্তি টানতে পারতেন। কিন্তু ৯০ মিনিটে তাঁর ট্রেডমার্ক ফ্রি-কিকটি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে সুয়ারেজ জালে বলে জড়িয়েছিলেন ঠিকই, তবে অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে সেটি। এই ড্রয়ের ফলে এমএলএসে টানা পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত রইল ইন্টার মায়ামি। অন্যদিকে চার ম্যাচ জয়হীন থাকল অস্টিন।

    গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতার পর এটিই ছিল মায়ামির প্রথম হোম ম্যাচ। এ ছাড়া দীর্ঘ ছয় বছর ফোর্ট লডারডেলকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের পর এবারই প্রথম নিজেদের শহরের নামে গড়া স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পেল তারা।

    ২৬ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটি উদ্বোধন করেন ক্লাবের সহমালিক ডেভিড বেকহাম ও জর্জ মাস। খেলা শুরুর আগে আবেগপ্রবণ হয়ে বেকহাম বলেন, ‘মায়ামিতে এই স্টেডিয়াম চালু করার জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা করার পর আজ এটি বাস্তবে রূপ নিতে দেখাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ২০ বছর আগে এমএলএসে আসার সময় অনেক কথা দিয়েছিলাম। ১৩ বছর আগে মায়ামিতে আসার সময়ও সেই প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিলাম। আজ আমাদের সেই স্বপ্ন সত্যি হলো।’

    গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি ও বেকহামের রিয়াল মাদ্রিদ–সতীর্থ রোনালদো নাজারিও।

    ম্যাচ শেষে মায়ামি কোচ হাভিয়ের মাচেরানো স্টেডিয়াম নিয়ে বলেন, ‘এটি দর্শনীয় স্টেডিয়াম, নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। দর্শকদের উপস্থিতি ছিল অবিশ্বাস্য; পুরো গ্যালারি একদম ঠাসা ছিল।’

    আগামী সপ্তাহে নিজেদের এই নতুন মাঠে নিউইয়র্ক রেড বুলসের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

  • মিনহাজুল ও আতহারের জন্য এবার বিসিবি চালানোর চ্যালেঞ্জ

    একজন এখন ধারাভাষ্যকার, অন্যজন চাকরি করেন বিসিবিতেই। তবে আতহার আলী ও মিনহাজুল আবেদীনের সবচেয়ে বড় পরিচয় তাঁরা জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার। আরেকটি জায়গায়ও মিল আছে দুজনের—একসময় তাঁরা ছিলেন জাতীয় দলের নির্বাচক। এবার আতহার ও মিনহাজুল বিসিবিতে এসেছেন অ্যাডহক কমিটির সদস্য হয়ে।

    টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার আগের বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মিনহাজুল আবেদীন। অবসরের পর ২০০৫ সালে বিসিবিতে যোগ দেন কোচ হিসেবে। একসময় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের ব্যাটিং কোচও ছিলেন তিনি, বিসিবির বিভিন্ন প্রোগ্রামেও কোচের ভূমিকায় ছিলেন।

    মিনহাজুল ওই দায়িত্ব ছেড়ে চলে আসেন নির্বাচক প্যানেলে। সদস্য ও প্রধান নির্বাচক হিসেবে এক দশকের বেশি সময় কাজ করেন। ২০২৪ সালে তাঁকে সরিয়ে গাজী আশরাফ হোসেনকে প্রধান নির্বাচক করে বিসিবি। এর পর থেকে মিনহাজুল বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রোগ্রাম কো–অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

     অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
    অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল
     

    প্রায় দুই দশক যে বোর্ডের সঙ্গে জড়িয়ে, সেটিই এখন চালানোর দায়িত্ব পাওয়ার পর মিনহাজুল বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছি। সবকিছু ভেতর থেকে দেখেছি। আশা করি, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। আর আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠভাবে একটা নির্বাচন আয়োজন করা।’

    বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব পেয়েছে ৩ মাসের জন্য। এই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে তাদের। সেই নির্বাচনে অংশ নিতে চান মিনহাজুল আবেদীন। পরিচালক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তিনি কাজে লাগাতে চান লম্বা সময়ের জন্য। এ জন্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর।

    জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে সবার সঙ্গেই আমার একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আছে। সেটা কাজে লাগিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এমন কিছু কাজ করতে চাই, যেন ছাপ থেকে যায়।’

    অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালও জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। তিনি ছাড়া তাঁর কমিটিতে ক্রিকেটার হিসেবে আছেন শুধু আতহার ও মিনহাজুল আবেদীনই। আতহার অবশ্য এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবেই বেশি পরিচিত।

    বাংলাদেশের যেকোনো খেলাতেই শোনা যায় তাঁর কণ্ঠস্বর। অ্যাডহক কমিটি গঠনের দিনও তিনি পিএসএলে ধারাভাষ্য দিতে ছিলেন পাকিস্তানে। সেখান থেকে অনলাইনেই বোর্ড সভায় যোগ দেন গতকাল।

    এখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে পরিচিত হলেও জাতীয় দলের হয়ে ১৯ ওয়ানডেতে তিন ফিফটি করা আতহার একসময় বিসিবিতে নির্বাচক ছিলেন। ২০০৪ সালে প্রথমে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নির্বাচক প্যানেলের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৬–১৭ সালে আতহারকে মেয়েদের নির্বাচক করা হয়। সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই আতহার সব মনোযোগ দেন ধারাভাষ্যে।

    এবার মিনহাজুলের সঙ্গে আতহারও বিসিবিতে এলেন ভিন্ন ভূমিকায়। ক্রিকেট বোর্ড চালানোর এই চ্যালেঞ্জ তাঁরা কতটা নিতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

  • মিলিকে এলভিস প্রিসলির সঙ্গে তুলনা করলেন বাটলার

    তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তার অনেকটাই মার্কিন কিংবদন্তি গায়ক এলভিস প্রিসলির মতো! সিডনিতে নারী এশিয়ান কাপের আবহে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার এমন মন্তব্যই করেছেন। গোলপোস্টের নিচে মিলির স্টাইলে এতটাই মুগ্ধ বাটলার যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কিং অব রক অ্যান্ড রোল’–এর সঙ্গে মিলির তুলনা টানলেন তিনি।

    নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে অভিষেকে প্রথম ম্যাচে চমক দিয়েছে বাংলাদেশ, আর তার নেপথ্যে রয়েছেন কোচ পিটার বাটলার। প্রথম ম্যাচে নয়বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২–০ গোলে হারের ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে বাটলার নামিয়ে দিয়েছিলেন তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তারকে।

    কোরিয়া ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে ম্যাচের ভেন্যু সিডনি ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বাটলার। সেখানেই মিলিকে চীনের বিপক্ষে ম্যাচে কেমন দেখলেন—এমন প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। উত্তরে মিলির প্রশংসায় বাটলার বলেন, ‘গোলকিপার মিলি অনেকটা এলভিস প্রিসলির মতো, তার দারুণ একটা স্টাইল আছে। এই টুর্নামেন্টে তার চুলের স্টাইলই সেরা। আজ সকালেও আমরা এটা নিয়ে কথা বলছিলাম। সে অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল এবং সে যে আগে খেলেনি, তার একমাত্র কারণ হলো আমাদের কোনো ম্যাচ ছিল না।’
    তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেন
    তরুণ মিলি আক্তার চীনের বিপক্ষে দারুণ সব সেইভ করেছেনবাফুফে

    বাটলার মনে করেন, বাংলাদেশে সাহসী গোলকিপার আছে, কিন্তু পরিচর্চার অভাবে তাঁরা আলোয় আসতে পারেন না, তাই তাঁদের সুযোগ করে দেওয়াটাই জরুরি।

    সংবাদ সম্মেলনে বাটলার যোগ করেন, ‘চীন ম্যাচের আগে ৯০ থেকে ১০০ দিন আমাদের কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল না, যা দুর্ভাগ্যজনক। আমাকে এই সিদ্ধান্তের কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না (মিলিকে একাদশে নেওয়া)। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফুটবলে গোলকিপিংয়ে বড় সমস্যা আছে, যা নিয়ে কাজ করা দরকার। এটা করা আমার কাজ নয়; আমি যা করতে পারি, তা হলো নতুনদের খুঁজে বের করা এবং মিলির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়ার মতো সাহসী হওয়া।’

    এলভিস প্রিসলি
    এলভিস প্রিসলিএক্স

    মিলির সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে বাটলার আরও বলেন, ‘সে এই সুযোগ পাওয়ার যোগ্য ছিল, কারণ তার উচ্চতা আছে (৫ ফুট ৬ ইঞ্চি), হাত ভালো এবং দারুণ একটা চরিত্র। সবচেয়ে বড় কথা, সে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ থেকে এসেছে; কারণ, সে একজন সৈনিক এবং অনেকেই এই বিষয়টি জানে না।’

    সিডনির মাঠে কালকের ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে এই ‘এলভিস প্রিসলি’র গ্লাভসজোড়া কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

  • মেসির জাদুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে মায়ামির দুর্দান্ত জয়

    মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) মৌসুমের প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে ২–০ গোলে হেরেছিল ইন্টার মায়ামি। আজ সোমবার সকালে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষেও ২৪ মিনিটের মধ্যে ২–০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল মেসির দল। এই স্কোরলাইনে শেষ হয়েছে ম্যাচের প্রথমার্ধও। অর্থাৎ নতুন মৌসুমের প্রথম ১৩৫ মিনিটে ৫–০ গোলে পিছিয়ে ছিল মায়ামি।

    বিরতিতে যাওয়ার সময় মেসি ও তাঁর সতীর্থদের চোখে মুখে হতাশা ও অসহায়ত্বের ছাপ ছিল স্পষ্ট। কিন্তু পরের ৪৫ মিনিটেই ঘটল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। মেসির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ওপর দাপট দেখিয়ে মায়ামি করে এক এক করে মোট চার গোল, দুটিই মেসির। প্রথমে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ৪–২ গোলের অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে।

    চলতি মৌসুম নতুন খেলোয়াড় ভেড়ানোর পর মায়ামিকে আগের চেয়ে শক্তিশালী মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের খেলায় সেই পরিবর্তনের ছাপ দেখা যাচ্ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেস ম্যাচের পর আজও শুরুতে বেশ ভুগেছে তারা। যার সুযোগ নিয়েই মার্কো পাসালিক ১৮ মিনিটে এগিয়ে দেন অরল্যান্ডোকে। ২৪ মিনিটে মার্টিন ওজেডা ব্যবধান দ্বিগুণ করলে বিপদ আরও বাড়ে মায়ামির। দলকে ম্যাচে ফেরাতে বিরতির পরপর দলে পরিবর্তন আনেন হাভিয়ের মাচেরানো।

    লেফটব্যাক নোয়া অ্যালেনের জায়গায় নামান আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাতেও সিলভেত্তিকে। এই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের দৃশ্যপট। ৪৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ২০ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন তরুণ সিলভেত্তির অসাধারণ এক শটে ব্যবধান কমায় মায়ামি। এরপরই দেখা মেলে মেসি জাদুর। ৫৭ মিনিটে গোছানো এক আক্রমণে অরল্যান্ডো বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে যান মেসি। এ সময় তাঁর সামনে তৈরি হয় ছয় ফুটবলারের দেয়াল।

    সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপন
    সতীর্থদের সঙ্গে মেসির গোল উদ্‌যাপনএএফপি

    আর সেই দেয়ালকে ফাঁকি দিয়েই বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে বছরের প্রথম গোলটি করেন মেসি। ম্যাচে আসে ২–২ সমতা। এরপর ইন্টার মায়ামি যেন আরও ধারালো হয়ে ওঠে। ৮৫ মিনিটে মেসির সহায়তায় বল পেয়ে গোল করেন তালিসকো সেগোভিয়া। এরপর ৯০ মিনিটে আবারও মেসি জাদু।

    বক্সের বাইরে থেকে ফ্রি–কিকে দারুণ এক শটে মায়ামিকে এগিয়ে দেন ৪–২ গোলে, ফ্রি–কিকে এটি তাঁর ৭০তম গোল। এমএলএসের নিয়মিত মৌসুমে প্রথম ৫৫ ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা এখন ৫২। এর মধ্যে শেষ ৪৯ ম্যাচেই মেসি করেছেন ৫১ গোল। সব মিলিয়ে তাঁর ক্যারিয়ার গোল এখন ৮৯৮। যার অর্থ, ৯০০ গোলের জাদুকরী সংখ্যা থেকে আর মাত্র ২ গোল দূরে মেসি।

    ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইন্টার মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো অ্যাপল টিভিকে বলেন, ‘গত মৌসুমে অরল্যান্ডো আমাদের জন্য খুব কঠিন প্রতিপক্ষ ছিল। দলটি শক্তিশালী, তাদের কোচও দারুণ। এখানে জিততে হলে আমাদের নিখুঁত ম্যাচ খেলতে হতো। (আমরা জানতাম) তারা আমাদের ওপর চাপ তৈরি করবে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি এমন ম্যাচ উপভোগ করতাম।'

    আগামী শনিবার ওয়াশিংটনের অডি ফিল্ডে ডিসি ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলবে মায়ামি।

  • মেসির জোড়া গোল, ৭৫ হাজার দর্শকের সামনে মায়ামির জয়

    ইন্টার মায়ামির নতুন কোচ হিসেবে গুইলার্মো হোয়োসের অভিষেকে জয় উপহার দিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আজ মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে মেসির জোড়া গোলে কলোরাডো র্যাপিডসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি।

    মেসি একটি গোল করেছেন পেনাল্টি থেকে, ম্যাচের ১৮ মিনিটে। অন্যটি করেছেন ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে। এই গোলটিই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিয়েছে। শুরুতে অবশ্য মায়ামিই ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েছিল।

    মেসির পেনাল্টিতে মায়ামি এগিয়ে যাওয়ার পর দলটি দ্বিতীয় গোল পায় প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। বিরতির ঠিক আগে মেসির একটি ফ্লিক থেকে বল পেয়ে মাতেও সিলভেত্তি ক্রস বাড়ান, যা থেকে হেডে গোল করেন জার্মান বার্তেরাম।

    তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিক কলোরাডো। ৪ মিনিটের মধ্যে দুই গোল করে ম্যাচে তাদের সমতায় ফেরান রাফায়েল নাভারো (৫৮) ও ড্যারেন ইয়াপি (৬২)। সেই সমতা থেকেই পরে ম্যাচ মায়ামির দিকে ঘুরিয়ে দেন মেসি।

    স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ৭৫,৮২৪ দর্শক, যা এমএলএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
    স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ৭৫,৮২৪ দর্শক, যা এমএলএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।এএফপি
     

    আর্জেন্টাইন তারকার কারণে টিকিটের ব্যাপক চাহিদা মেটাতে কলোরাডো ম্যাচটি ডেনভারের বিশাল এনএফএল স্টেডিয়ামে সরিয়ে নেয়। ম্যাচের সময় দেখা যায়, স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপস্থিত ৭৫,৮২৪ দর্শক, যা এমএলএসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

    এমন এক ম্যাচেই ফল নির্ধারণ হয়েছে মেসিরই গোলে। ম্যাচের ১১ মিনিট বাকি থাকতে রদ্রিগো দি পলের বাড়ানো বল ধরে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। সেখানে তিনজন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বাঁ পায়ের শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।

    ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হাভিয়ের মাচেরানো পদত্যাগ করার চার দিন পর আজ মায়ামির ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে ডাগআউটে ছিলেন হোয়োস। মেসির দীর্ঘদিনের বন্ধু হোয়োস এই জয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় আছে, যে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।’

    এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ইন্টার মায়ামি
    এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ইন্টার মায়ামি, এএফপি
     

    এই হোয়োসের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক দুই দশকের বেশি সময়ের। বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমিতে একসঙ্গে ছিলেন তাঁরা। বর্তমানে ইন্টার মায়ামির স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্বরত হোয়োসকে আপাতত কোচের কাজ চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    এই জয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল ইন্টার মায়ামি। ৮ ম্যাচে দলটির পয়েন্ট ১৫, সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ন্যাশভিল। হোয়োস বলেছেন, ‘এটি আমাদের ধারাবাহিক উন্নতিরই অংশ। মনে রাখতে হবে, এই দলটি বর্তমান এমএলএস চ্যাম্পিয়ন।’

  • মেসির ৯০০ গোল হতে রইল বাকি এক

    ডি.সি. ইউনাইটেড ১–২ ইন্টার মায়ামি

    ৯০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে আর মাত্র এক গোল দরকার লিওনেল মেসির। আজ মেজর লিগ সকারে ডি.সি. ইউনাইটেডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের ৮৯৯তম গোলটি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

    আর একটি গোল করলে তিনি হবেন ৯০০ গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড়, এই মুহূর্তে ৯৬০ গোল নিয়ে তাঁর সামনে শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

    ইন্টার মায়ামির আজকের ম্যাচটি ডিসি ইউনাইটেডের মাঠে হওয়ার কথা থাকলেও মেসিকে নিয়ে প্রবল আগ্রহের কারণে খেলা হয়েছে বেশি দর্শক ধারণক্ষমতার বাল্টিমোর এমঅ্যান্ডটি ব্যাংক স্টেডিয়ামে। ৭২০২৬ জন দর্শকের উপস্থিতিতে মেসি ম্যাচের ২৭তম মিনিটে বক্সে ঢুকে প্রথম স্পর্শেই বল জালে পাঠান।

    ম্যাচটিতে ইন্টার মায়ামি জিতেছে ২-১ গোলে। ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দি পল মায়ামিকে এগিয়ে দেওয়ার পর মেসির গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ডিসি ইউনাইটেডের হয়ে একটি গোল শোধ দেন বারিবো। এটি এবারের লিগে মায়ামির টানা দ্বিতীয় জয়। এর আগে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির কাছে হেরে মৌসুম শুরু হয়েছিল দলটির।

    মেসি ৯০০ গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বুধবার। সেদিন কনক্যাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের প্রথম ম্যাচে ন্যাশভিলের মুখোমুখি হবে মায়ামি।

    বাল্টিমোরের ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন ৭২ হাজারের বেশি দর্শক
    বাল্টিমোরের ম্যাচটি দেখতে গ্যালারিতে ছিলেন ৭২ হাজারের বেশি দর্শকএএফপি

    বছরে সাত-আট কোটি ডলার পান মেসি

    ইন্টার মায়ামির অন্যতম মালিক জর্জ মাস জানিয়েছেন, অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে মালিকানা শেয়ারসহ বছরে ৭ থেকে ৮ কোটি মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। দলের স্পনসরশিপ এবং অতিরিক্ত আয়ের উৎসগুলো সর্বোচ্চ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে মায়ামি ব্রাজিলের আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘নু’-এর সঙ্গে নতুন স্টেডিয়ামের নামকরণের চুক্তি সই করেছে। ২৬,৭০০ আসনবিশিষ্ট এই ‘নু স্টেডিয়ামে’ আগামী ৪ এপ্রিল প্রথম ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মাস বলেন, ‘আমার বিশ্বমানের স্পনসর প্রয়োজন, কারণ, খেলোয়াড়েরা দামি। আমি মেসিকে যা দিই, তার প্রতিটি পয়সার যোগ্য তিনি। তবে এর পরিমাণ সব মিলিয়ে বছরে ৭ থেকে ৮ কোটি ডলার।’

    ২০২৮ পর্যন্ত মায়ামিতে খেলার কথা মেসির
    ২০২৮ পর্যন্ত মায়ামিতে খেলার কথা মেসির, এএফপি

    এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত স্যালারি গাইড অনুযায়ী, মেসি মেজর লিগ সকারের সবচেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন। যার মূল বেতন ১ দশমিক ২ কোটি ডলার, গ্যারান্টিযুক্ত ক্ষতিপূরণ ২০,৪৪৬,৬৬৭ ডলার।

    ইএসপিএন জানিয়েছে, মেসি অ্যাডিডাসের সঙ্গে তাঁর এনডোর্সমেন্ট চুক্তি এবং লিগ সম্প্রচার অংশীদার অ্যাপলের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি চুক্তি থেকেও আয় করে থাকেন। বর্তমান চুক্তি অনুসারে ২০২৮ সাল পর্যন্ত মেসির মায়ামিতে থাকার কথা।

  • মেসি–ম্যানিয়া: এমএলএসের সবচেয়ে ‘দামি’ দল এখন ইন্টার মায়ামি

    লিওনেল মেসি যখন ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেন, তখন থেকেই কথাটা বেশ পরিচিত হয়ে ওঠে—‘মেসি-ম্যানিয়া’। তবে এই উন্মাদনা যে কেবল গ্যালারিতে হইহুল্লোড় আর জার্সি বিক্রিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা বোধ হয় খোদ ক্লাবমালিক ডেভিড বেকহামও ভাবেননি।

    মেসির ছোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের খেলার জগৎটাই যেন রাতারাতি বদলে গেছে। গ্যালারিতে সাধারণ দর্শকের পাশাপাশি হলিউড তারকাদের উপচে পড়া ভিড়ই বলে দিচ্ছিল, ফুটবল এখন আর সেখানে কেবল ‘সকার’ নেই, বরং বিনোদনের বড় অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে।

    মাঠ ও মাঠের বাইরে গত আড়াই বছর আমেরিকায় চলেছে মেসির একক রাজত্ব। যে ক্লাব আগে কখনো শিরোপার মুখ দেখেনি, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের হাত ধরে তারা জিতেছে তিনটি ট্রফি।

    এর মধ্যে আছে ২০২৫ সালের এমএলএস কাপও। মাঠের এই সাফল্যের জোয়ার লেগেছে ক্লাবের সিন্দুকেও। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের লিগের ৩০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে সবচেয়ে দামি বা মূল্যবান দলে পরিণত হয়েছে ‘দ্য হেরনস’–খ্যাত ইন্টার মায়ামি।

    ক্রীড়া অর্থনীতিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম স্পোর্তিকোর হিসাব বলছে, ২০২৬ মৌসুম শুরু করার সময় ইন্টার মায়ামির আনুমানিক মূল্য দাঁড়াবে ১৪৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বেশি! মায়ামির এই ঝড়ে শীর্ষ স্থান হারিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি। ১৪০ কোটি ডলার মূল্য নিয়ে তারা এখন তালিকার ২ নম্বরে।

    এমএলএস কাপের ট্রফি নিয়ে মায়ামির উদযাপন
    এমএলএস কাপের ট্রফি নিয়ে মায়ামির উদযাপনএএফপি

    গত এক বছরে ইন্টার মায়ামির বাজারমূল্য বেড়েছে প্রায় ২২ শতাংশ। মূলত এই ‘লাফ’ দিয়েই তারা ক্যালিফোর্নিয়ার দলটিকে টপকে গেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৯ শতাংশ। তাই মায়ামির গতিবেগের সঙ্গে তারা কুলিয়ে উঠতে পারেনি।

    মায়ামির এই ফুলেফেঁপে ওঠার পেছনে শুধু মেসির পায়ের জাদু নয়, কাজ করেছে ক্লাবের বড় পরিকল্পনাও। এ বছরই ক্লাবটি তাদের নতুন স্টেডিয়াম উদ্বোধন করতে যাচ্ছে। আধুনিক এই অবকাঠামো ক্লাবের সম্পদে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

    মূল্যমানের বিচারে শীর্ষ পাঁচ দলের বাকিরা হলো লস অ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সি (১১৭ কোটি ডলার), আটলান্টা ইউনাইটেড (১১৪ কোটি ডলার) এবং নিউইয়র্ক সিটি এফসি (১১২ কোটি ডলার)।

    সব মিলিয়ে এমএলএসের ৩০টি ক্লাবের গড় মূল্য এখন ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০২১ সালে যখন স্পোর্তিকো প্রথম এই মূল্যায়ন শুরু করেছিল, তার চেয়ে বর্তমানে মূল্য বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। সব ক্লাব মিলিয়ে লিগের মোট সম্পদ এখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফুটবলের এত রমরমা দশা হলেও দেশটির অন্য জনপ্রিয় লিগগুলোর তুলনায় তা এখনো বেশ কম। এনএফএল বা এনবিএর মতো লিগের দলগুলোর সম্পদের পাহাড়ের কাছে এমএলএস এখনো অনেক পিছিয়ে।

    লিওনেল মেসির জাদুতেই বদলে গেছে মায়ামি
    লিওনেল মেসির জাদুতেই বদলে গেছে মায়ামি, রয়টার্স

    যুক্তরাষ্ট্রের বড় ৫টি লিগের মোট ১৫৪টি দলের তালিকা করলে ইন্টার মায়ামির অবস্থান হয় ১১৬তম। এই তালিকার শীর্ষে থাকা এনএফএলের দল ডালাস কাউবয়েসের মূল্য ১ হাজার ২৮০ কোটি ডলার। বাস্কেটবল–দুনিয়ার গোল্ডেন স্টেট ওয়ারিয়র্সের মূল্য ১ হাজার ১৩৩ কোটি ডলার।

    সব হিসাব-নিকাশ শেষে মাঠের লড়াই শুরুর পালা। ২১ ফেব্রুয়ারি পর্দা উঠবে ২০২৬ এমএলএস মৌসুমের। উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে তালিকার সেরা দুই ‘ধনী’ দল। লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির মাঠেই আতিথ্য নেবে মেসির ইন্টার মায়ামি।

  • মোংলা বন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে চায় সরকার: নৌপরিবহন মন্ত্রী

    দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোংলা বন্দর পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি এ কথা বলেন।

    নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমকে মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করছে সরকার। বিগত সরকারের সময় মোংলা বন্দর নিয়ে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল হবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “চুক্তিগুলো আমরা স্টাডি করব। যদি দেশের স্বার্থ রক্ষা হয় এবং আমাদের জন্য সহায়ক হয়, তাহলে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে কার্যকর রাখা হবে।”

    জাতীয় অর্থনীতিতে মোংলা বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সফল সামুদ্রিক বন্দরে পরিণত করা সম্ভব। বর্তমানে রেল ও নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকলেও তা আরও আধুনিক ও গতিশীল করা প্রয়োজন। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কিছু অবকাঠামোগত সুবিধা বাস্তবায়ন করা গেলে মোংলা বন্দরকে সক্ষম ও সফল বন্দরে রূপান্তর করা সম্ভব।

    আগামী ছয় মাসের মধ্যেই বন্দরের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনা হবে বলেও জানান তিনি।

  • মোস্তাফিজকে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায় কিনল বার্মিংহাম

    ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট দ্য হানড্রেডে দল পেয়েছেন বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। আজ লন্ডনে ২০২৬ আসরের নিলামে তাঁকে ১ লাখ পাউন্ডে কিনেছে বার্মিংহাম ফিনিক্স। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি।

    টি–টুয়েন্টি হিসেবে স্বীকৃত ১০০ বলের খেলার দ্য হানড্রেডে এবারই প্রথম খেলবেন মোস্তাফিজ।

    দ্য হানড্রেড নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় মোস্তাফিজসহ বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় ছিলেন। অন্যজন রিশাদ হোসেন। তবে স্পিনারদের টায়ান ওয়ানে থাকা এই ক্রিকেটার দল পাননি।

    ৩০ বছর বয়সী মোস্তাফিজকে ভিত্তিমূল্যেই পেয়েছে বার্মিংহাম। দ্য হানড্রেডের জন্য খেলোয়াড় কিনতে সেন্ট্রাল লন্ডনের পিকাডিলি লাইটসের নিলামে অংশ নেয় মোট ৮টি ফ্র্যাঞ্চাইজি।

    বার্মিংহাম দলে মোস্তাফিজ খেলবেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল, ক্রিস উড, পাকিস্তানের উসমান তারিক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ডোনোভান ফেরেইরার সঙ্গে।

    আগামী ২১ জুলাই শুরু হবে দ্য হানড্রেডের পঞ্চম আসর।

  • যারা আমাকে ‘বোরকা’ কিনতে বলেছিল, তাদের জন্যই ‘এই ছবি’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। পোস্টটিতে তিনি পোশাক পরা নিয়ে ভক্তদের সাথে নিজের চিন্তাধারা শেয়ার করেছেন।

    নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্নের পর পোস্টের প্রথমেই তিনি লেখেন, আমাদের সবার জন্য গর্বের মুহূর্ত। ওয়েল ডান, বাংলাদেশ! নির্ঘুম রাত কাটানোর পর এক শান্তিপূর্ণ সকাল। নিজেকে কৃতজ্ঞ এবং অত্যন্ত গর্বিত মনে হচ্ছে।

    পোস্টে পোশাক পরা নিয়ে  সমালোচনার উত্তরে অভিনেত্রী লেখেন, যারা আমাকে ‘বোরকা’ কিনতে বলেছিলন, তাদের জন্যই এই ছবি। ছোটবেলা থেকেই আমি নিয়মিত বোরকা পরি। আমার কাছে এটি আরেকটি পোশাক। এর থেকে বেশি আর কিছুই নয়। কখনো পায়জামা ঢাকতে, কখনো তেল দেয়া চুল আড়াল করতে, কখনো জনসমাগমে মিশে যেতে এতটাই সহজ পোশাক।

    পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, তবে যারা ট্রোল ও সমালোচনা, অপমান কিংবা হেনস্তা করার চেষ্টা করেছেন; এই পোস্টটি তাদের জন্যও।

    নির্বাচনে বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে অভিনেত্রী বাঁধন বলেন, যারা জিতেছেন তাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা। আর যারা জিততে পারেননি, তাদের জন্যও অভিজ্ঞতাটাই এক ধরনের বিজয়। শেষে তিনি বলেন, এটাই আমাদের দেশ। সম্মান ও ঐক্য নিয়েই আমাদের সামনে এগোতে হবে। সেটাই চূড়ান্ত লক্ষ্য।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সোমবার, সশরীর থাকবেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্কের ওপর বাণিজ্য চুক্তি হবে আগামী সোমবার। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে। নির্ধারিত সময়েই অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি এই চুক্তি হচ্ছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরু হবে অবশ্য আগের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি। তবে দুই দিনব্যাপী এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। উপস্থিত থাকছেন না বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানও।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই প্রতিবেদক আলাদাভাবে মুঠোফোনে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।

    বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি (বাণিজ্য উপদেষ্টা) ও বাণিজ্যসচিব যাচ্ছেন না। তবে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি দল যাচ্ছে ওয়াশিংটনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি দলের সদস্যদের নামে যে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে, তাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    চুক্তির জন্য এবারের সফরকারী দলের প্রধান হচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) অনুবিভাগের প্রধান খাদিজা নাজনীন। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

    জিও অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার তাঁদের ঢাকা ছাড়ার কথা। এতে ১০ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তাঁদের দেশে ফিরে আসার কথা বলা হয়েছে।

    এদিকে আজ বেলা পৌনে দুইটায় জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিব। জাপানের রাজধানী টোকিওতে কাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার নির্ধারিত দিন রয়েছে। ৪ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা টোকিও যাচ্ছেন।

    সরকারি আদেশে জানানো হয়, এ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গঠিত দলে বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বাণিজ্যসচিবের সঙ্গে আরও চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার। উপদেষ্টা ও সচিব ছাড়া এ চারজন দুই দিন আগে থেকেই টোকিওতে আছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি বা তার কাছাকাছি সময়ে তাঁদের ঢাকায় ফেরার কথা।

    বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, জাপানের সঙ্গে ইপিএ সই করে তাঁরা ঢাকায় ফিরে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে কে স্বাক্ষর করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টা চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন, যা হবে অনলাইনে।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ঢাকায় বসে ইতিমধ্যেই এ চুক্তিতে সই করেছেন। তাঁর সই করা কপি বাংলাদেশের দলটি ওয়াশিংটনে নিয়ে যাবে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সই করবেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিয়েসন গ্রিয়ার।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘কোনো চুক্তিই চূড়ান্ত নয়। প্রতিটি চুক্তিতে সংশোধন ও পুনরায় আলোচনার সুযোগ থাকে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আলোচনা করে বাণিজ্যচুক্তিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।’

    আজ বুধবার সকালে সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

    সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি হয়।

    আজকের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পৃথক কোনো আলোচনা হয়নি। এই চুক্তি ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি দুই দেশের মধ্যে একটি রাষ্ট্রীয় চুক্তি। ফলে এ নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই।

    চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে দুই পক্ষেরই কিছু দাবি থাকে। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে থাকে, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের জন্য সুবিধাজনক হয়। আলোচনার মাধ্যমে একটি উইন-উইন পরিস্থিতিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এই চুক্তিকে এখনই পুরোপুরি নেতিবাচক বা ইতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একটি বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এর অনেক ধারা কাজে লাগানো যাবে।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের ট্যারিফসংক্রান্ত রায়ের পর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি এখনো বিকাশমান।

    খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে নির্দিষ্টভাবে চুক্তি নিয়ে আলাদা কোনো আলোচনা হয়নি।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় বাণিজ্য ও সামরিক বিষয়সংক্রান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ থাকলেও, তা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, সামরিক বিষয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত নয়।

    ভিসা বন্ড প্রসঙ্গে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান, বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সরকার চায় দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো বাধার মুখে না পড়েন।

    নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, কিছু নন-ট্যারিফ বাধা দূর করা গেলে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ আরও বাড়বে। এতে দেশটি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় হবে।

    বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো আবদুর রহিম খান, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই, পাল্টা শুল্ক কমল ১ শতাংশ

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এই চুক্তির পর বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে দেশটির আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। তাতে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কহার ২০ থেকে কমে ১৯ শতাংশ হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে থেকে তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানি করে তৈরি করা পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করা হলে তাতে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামালে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

    আজ রাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও  যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার আলোচিত এই বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল বেলা আড়াইটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির সার্বিক দিক তুলে ধরা হবে।

    এদিকে চুক্তির ফলে সার্বিকভাবে ১ শতাংশ শুল্ক কমা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কাঁচামালের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে বাংলাদেশের জন্য খুবই আনন্দের ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন দেশটিতে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের একটি হা–মীম গ্রুপ।

    চুক্তি ও তার ফলে প্রাপ্ত সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ আজ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবরটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। চুক্তির ফলে যে সুবিধা আমরা পেয়েছি, তা খুবই ইতিবাচক। আশা করছি, এই সুবিধা আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। এমনিতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা আমদানি করি। এখন সেটি আরও বাড়বে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কোনো পাল্টা শুল্ক বসবে না। এ জন্য আশা করছি, সুবিধাটি আমরা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারব। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে।’

    আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষর হওয়া বাণিজ্যচুক্তি করতে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ওয়াশিংটন যাননি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

    চুক্তি সই অনুষ্ঠান উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের একটি দল ওয়াশিংটন গেছে। অন্য চারজনের মধ্যে রয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কমিশনার রইছ উদ্দিন খান। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সশরীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি হয়।

    চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা আমরা জানি না। আমি মনে করি, এই ধরনের চুক্তি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে করা মোটেই উচিত হয়নি। আমরা কিছু নতুন সুবিধা পেয়েছি, সেটিকে আমরা অর্জন হিসেবে মনে করতে পারি। কিন্তু তার বদলে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে বা বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, তা আমরা জানি না। ফলে এই চুক্তিতে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হলো, তা এককথায় বলা মুশকিল। এই চুক্তির দায়ভার এসে পড়বে পরবর্তী সরকারের ওপর। সেই সরকার চুক্তি শর্তগুলো পূরণে কতটুকু প্রস্তুত এবং তাদের এসব বিষয়ে বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কি না, তা–ও বড় প্রশ্ন। তাই আমি মনে করি, চুক্তির লাভ–লোকসানের হিসাব কষতে হবে চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে, তা সার্বিকভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল দেশটিতে পণ্য রপ্তানিকারক ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

    শুরুতে বাংলাদেশের জন্য এই হারটি ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক তিন মাসের মাথায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের ওপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে ৩৫ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট এ হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। গত বছরের ৭ আগস্ট থেকে এই পাল্টা শুল্কহার কার্যকর হয়। পাল্টা শুল্কের বাইরে আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে দেশটিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। পাল্টা শুল্কারোপের পর সব মিলিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩৪ শতাংশে।

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ৮০০ কোটি মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে ৬০০ কোটি ডলারের রপ্তানি করে বাংলাদেশ। আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে। এ ঘাটতি কমাতে এরই মধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য; উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ; তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ইত্যাদি আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ।

  • যুদ্ধবিরতির খবরে তেলের দাম কমেছে, ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে নেমেছে

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে—এই খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে; এবং শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান হয়েছে। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ব বাজারে আজ বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারের কাছাকাছি নেমে যায়, যদিও প্রাক যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির তুলনায় তা এখনো বেশি।

    যুদ্ধ শুরুর পর ইরান হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তা ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারে উঠে যায়। এদিকে যুদ্ধবিরতির খবরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি হয়তো সাময়িক স্বস্তি দেবে, কিন্তু স্থায়ী শান্তি না এলে জ্বালানি উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলো, এই সংকটে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি পার হতে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি জাহাজ

    চট্টগ্রাম

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব