• বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম, ওয়ালস্ট্রিটে পতনের আভাস

    মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

    এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আজ ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিষয়টি হলো, হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে জাহাজে হামলার কারণে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

    যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজ অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।

    একই এলাকায় চতুর্থ একটি ঘটনার কথাও ইউকেএমটিও জানিয়েছে, যেখান থেকে জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

    ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    জাহাজ-তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজের বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ আজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

    কেপলারের বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকি অনেক। সেই সঙ্গে বিমার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নৌপথ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবে; সেটি কার্যকর হলে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ‘অনেক’ বাড়তে পারে।

    এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সেই জাহাজগুলোয় আগুন জ্বলছে। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

    জ্বালানি তেল
    জ্বালানি তেল, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক

    গতকাল রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো—সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না–ও আসতে পারে।

    এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভনিক বলেন, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, বাজার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চলাচল স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।

    জাহাজ কোম্পানি কী বলছে

    বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জিব্রাল্টার, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে; ইউকেএমটিও যেসব ঘটনার কথা বলেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে।

    ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং গ্রুপ মেয়ার্সক গতকাল বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করবে। এ ক্ষেত্রে যা হয়, অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ পাঠাবে তারা।

    এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গতকাল ইরান ও ইসরায়েল নতুন করে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে
    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    শেয়ারসূচক পতনের আভাস

    এদিকে আজ পশ্চিমা পৃথিবীতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। খবর সিএনএনের

    তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

    ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্টক্স ৫০–সংযুক্ত ফিউচারস ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচারস নেমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করেছে।

    ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

  • বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলার ছাড়াল

    শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪১ দশমিক ৮০ ডলার।

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শুক্রবার) সোনার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৩ ডলার। গত এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ৩০৭ দশমিক ৫৯ ডলার।

    এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে।

    তবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ফলে সোনার দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

    এদিকে রুপাও অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। যদিও তার আগের দিন রুপার দরপতন হয় ১১ শতাংশ। এত বড় দরপতনের পর রুপার এই ঘুরে দাঁড়ানো উল্লেখযোগ্য। তার পরও দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহ শেষে রুপার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

    রুপার সঙ্গে প্লাটিনামের দামও শুক্রবার বেড়েছে। পশ্চিমা পৃথিবীর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩৩ দশমিক ৯৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে উভয় ধাতুর দামই কমেছে।

    এদিকে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফিরেছে। প্রতাশ্যার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে বেকারত্বের হার কমেছে। সেই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রমবাজার শক্তিশালী ও মূল্যস্ফীতি কমছে—উভয়ই ইতিবাচক। তবে নীতি সুদহার দ্রুত কমানো হলে চাহিদা বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নীতি সুদহার কমানোর আশা করলেও ফেড সম্ভবত আরও ধৈর্য ধরবে।

    তবে বাজারে ধারণা, চলতি বছর ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে দুই দফায় সুদহার কমানো হতে পারে। প্রথমবার কমানো হবে জুন মাসে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার একধরনের ‘মানসিক সীমা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সীমা ভেঙে গেলে দামের দ্রুত উত্থান–পতন হয়, বিশেষ করে যখন অস্থিরতা বেশি থাকে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সোনার দাম কমেছে, তেমন কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা তখন ছিল না।

    দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কোন দিকে যায়, মূল্যস্ফীতির গতি কেমন থাকে বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কতটা অনিশ্চয়তা থাকে—এসবের ওপর নির্ভর করছে সোনার দাম কতটা দ্রুত ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করবে।

    বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সোনা কেবল মুনাফাভিত্তিক সম্পদ নয়; অনেক দেশের জন্য এটি কৌশলগত রিজার্ভ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে সোনা ক্রয় অব্যাহত রাখে, তাহলে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার পেরিয়ে যেতেই পারে।

    এদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

  • বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী এই অভিনেত্রী

    হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।

    কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
    হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

    এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।

    ২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

    [caption id="attachment_272132" align="alignnone" width="582"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।

    সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।

    [caption id="attachment_272131" align="alignnone" width="587"] ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’–এর প্রিমিয়ারের অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।

    ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।

    ‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।

    [caption id="attachment_272130" align="alignnone" width="587"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।

    নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    পিপল ডটকম অবলম্বনে

  • বিসিএল আকবর-প্রিতমের সেঞ্চুরির দিনে মুশফিকের ফিফটি

    আবু হায়দার সেঞ্চুরি পাননি, সেঞ্চুরি পাননি ১৪৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী আশিকুর রহমানও। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় দিনটা তবু সেঞ্চুরিশূন্য থাকেনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরি পেয়েছেন উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমার ও আকবর আলী। দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরের অধিনায়ক আকবর ১২১ রানের আউট হয়ে গেলেও ১৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন উইকেটকিপার প্রিতম কুমার।

    গতকাল ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণকে ৩১৪ রানে অলআউট করে উত্তর। বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করা উত্তর দ্বিতীয় দিনটা শেষে করেছে ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান তুলে। দলটি এগিয়ে ৬৫ রানে।

    আজ দিনের তৃতীয় ওভারে উত্তরাঞ্চল ২৮ রানে হারায় প্রথম উইকেট। ৫৩ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধার করে প্রিতম ও আকবরের ২৩৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। ১৫৮ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রান করা আকবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সামীউন বাসির। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো
    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো, বিসিবি
     

    চারে নামা প্রিতম পেয়েছেন এই সংস্করণে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১৮৪ বলে খেলা অপরাজিত ১৫১ রানের ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সী প্রিতমের সর্বোচ্চ ইনিংসও। তাঁর আগের সর্বোচ্চ ১৪৩, গত নভেম্বরে সর্বশেষ জাতীয় লিগে রাজশাহী বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে। এ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রিতমের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

    পাশের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার ফেরেন আর কোনো রান যোগ না করেই। বাংলাদেশ টেস্ট দলের পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হায়দার। ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা আশিকুর ফিরেছেন ৮৬ রানে। পেসার ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনিও। ৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চল অলআউট ৩০৭ রানে। ৫৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইবাদত।

    ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম
    ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম, বিসিবি
     

    প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে। উইকেটকিপার অমিত হাসান ৮৮ রানে ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। ফিফটি পেয়েছেন দলটির ওপেনার মাহমুদুল হাসানও, করেছেন ৬৪ রান।

  • বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঘোষিত এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব গঠন করা।

    নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিসিবির কার্যক্রম পরিচালিত হবে এই আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে বোর্ডের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবেন কমিটির সদস্যরা।

    ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাশনা ইমামের অন্তর্ভুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি পেশাগত জীবনে দেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং স্বনামধন্য ল’ ফার্ম ‘আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর ম্যানেজিং পার্টনার।

    রাশনা ইমাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমামের কন্যা। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার সমৃদ্ধ কর্মঅভিজ্ঞতা। তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্ম ‘বেকার অ্যান্ড ম্যাকেঞ্জি’র লন্ডন অফিসে কোম্পানি ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত মিত্তাল গ্রুপ এবং শিন্ডলার ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানের আইনি প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

    সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার’ হিসেবে মনোনীত হন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিকে নিয়মিত আইনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    ব্যক্তিগত জীবনে রাশনা ইমাম এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ-এর স্ত্রী। বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অন্তর্ভুক্তি দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বোর্ডের কাঠামোগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

     

  • বিসিবির আরও এক পরিচালকের পদত্যাগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়ল আর এক পরিচালকের পদত্যাগপত্র। আজ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত এই পরিচালক বিসিবির লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

    পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইয়াসির। এ নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হওয়া ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে একই কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ইয়াসিরও।

    গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকেন। গত অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইয়াসির ও রুবাবা দৌলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

    ইয়াসির আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘একদমই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এখানে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।’ তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে যে সংস্থা, সেই এনএসসি বিষয়টি জানে কি না, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘এখনো জানাইনি।’

    বিসিবিতে লজিস্টিকস কমিটির প্রধান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ইয়াসিরের জবাব, ‘ভালো। অনেক কিছু শিখেছি।’ এ সময় তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবার বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বে ফিরতে পারেন।

    গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত পরিচালক ইয়াসির।

    বিসিবি অবশ্য আগের দুই পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে।

  • বিসিবির মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান মোখছেদুল কামাল

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটির আবহের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এসেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন। বোর্ডের মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোখছেদুল কামাল বাবু।

    এর আগে, তিনি একই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি বর্তমানে বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির নেতৃত্বে আসলেন তিনি।

    অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবর থেকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আমজাদ হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে মোখছেদুল কামাল বাবুকে এই পদে বসানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আমজাদ হোসেনকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

    এদিকে, এতদিন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্বে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন নতুন করে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে সহকারী নির্বাচক হিসেবে যুক্ত হতে পারেন নাঈম ইসলাম।

    উল্লেখ্য, ঈদের আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচের পর বিদায় নেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু, যদিও চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। একই সময়ে নতুন নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে বোর্ড। 

     

  • বিসিবির সভাপতি হয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তামিম

    ঢাকা

  • বিয়ে করলেন লুবাবা?—ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত

    আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও  অভিনেত্রী,মডেল সিমরিন লুবাবার বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’—এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এটি লুবাবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

    তবে লুবাবার বিয়ের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তাঁর মা জাহিদা ইসলাম। পারিবারিক সূত্র থেকেও নির্দিষ্টভাবে বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

    লুবাবার পোস্টে একটি ছবি থাকলেও সেখানে বর–কনের চেহারা স্পষ্ট নয়। পাত্রের পরিচয় নিয়েও তিনি কিছু জানাননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী—এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাবিকে ঘিরে চলছে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন। কেউ বলছেন, আগেই নীরবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কেউ বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    সিমরিন লুবাবা
    সিমরিন লুবাবা, ফেসবুক থেকে

    সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

    লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
    লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
     

    তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে  জানান, তিনি আর প্রকাশ্যে আসবেন না। তাঁর মা তখন বলেছিলেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকেই ঝুঁকেছেন লুবাবা এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান।

    সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিয়ে হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

  • বৃষ্টিতে ভেসে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ ছিলো গ্রুপ-২ এর পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে ভেসে পরিত্যক্ত হয় সুপার এইটের এই ম্যাচটি। 

    খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি কিছুটা থামলে টস হয়। টসে জিতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না থামায় ম্যাচটির ভাগ্য গড়ায় পরিত্যক্তর দিকে।

    আইসিসি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের জন্য কোন রিজার্ভ ডে রাখেনি। ফলে ম্যাচটি অন্য দিনে মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই।

    আইসিসির টি-টোয়েন্টি নিয়ম অনুযায়ী দু'দলের কমপক্ষে ৫ ওভার খেলার সুযোগ থাকলে ম্যাচটি মাঠে গড়াতো। সেটিও সম্ভব না হলে সুপার ওভার। কিন্তু বৃষ্টি বাঁধায় সুপার ওভারও সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে। 

    আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

    উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে দুইটি গ্রুপের প্রত্যেক দলই খেলবে ৩টি করে ম্যাচ।   

     

     
     
  • বেজার অধীনে থাকবে বেসরকারি ইপিজেড, অধ্যাদেশ জারি

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে দেশের বিদ্যমান সকল বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সরাসরি ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ বা বেজার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬’ বাতিল করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ ইতিমধেই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোর ফলে ১৯৯৬ সালের পুরনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সকল বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃত হবে। মূলত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে একক তদারকির আওতায় এনে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতেই সরকার এই বড় ধরণের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নতুন অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি রহিত করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগের আইনের অধীনে প্রাপ্ত সকল লাইসেন্স সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং উদ্যোক্তাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। একইসঙ্গে বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগকারীরা আগে যে ধরণের বন্ডেড ও রেয়াতি সুবিধা পেতেন সেগুলোও আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে এসব অঞ্চলের সামগ্রিক পরিচালনা ও তদারকি কার্যাবলি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে বেজার ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য আগে যে ‘গভর্নর বোর্ড’ ও ‘নির্বাহী সেল’ ছিল তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি বেজাতে বদলি করা হবে এবং তাদের চাকরির শর্তাবলি আপাতত আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

    এছাড়া বিলুপ্ত হওয়া বোর্ড বা সেলের পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান কোনো আইনি লড়াই বা মামলা এখন থেকে বেজার মামলা হিসেবেই পরিচালিত হবে। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বেঞ্চের শক্তিতেই কি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে আর্সেনাল

    লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!

    আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।

    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা
    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, এএফপি
     

    ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।

    এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।

    চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।

    এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।

     
    আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।

    কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!

  • বেলজিয়ামে স্কলারশিপ, আইইএলটিএস ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ

    ইউরোপের দেশগুলোতে পড়াশোনার স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে পড়তে চাইলে ওই মহাদেশের বেলজিয়াম হতে পারে আপনার গন্তব্য। দেশটিতে পড়ার ইচ্ছা থাকলে আছে সুখবরও। বেলজিয়াম দিচ্ছে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আছে নানা বৃত্তিও। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের জন্য পরিচিত। আইইএলটিএস পরীক্ষায় না দিয়েও পড়াশোনার জন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারেন যে কেউ।

    আইইএলটিএস ছাড়াই বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য স্কলারশিপের তালিকা তুলে ধরা হলো—

    ১. গভর্মেন্ট অব বেলজিয়াম স্কলারশিপ—

    বেলজিয়াম সরকার এক বছরের বিশেষ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রাম বা চার থেকে ছয় মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সে বৃত্তি দেয়। উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এআরইএস নামের এ বৃত্তিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করতে পারেন। এ বৃত্তিতে বেলজিয়াম সরকারনির্ধারিত যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ পেতে পারবেন যে কেউ।

    ২. আইইএলটিএস ছাড়াই মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ—

    মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ বেলজিয়ামের আঞ্চলিক সরকার বা ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের অর্থায়নের একিট বৃত্তি। ফ্ল্যান্ডার্স ও ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য প্রতিবছর প্রায় ৩০টি স্কলারশিপ দেওয়া হয়। কিছু স্কলারশিপে আবাসন, চিকিৎসা বীমা, টিউশন ফি মওকুফসহ ৮ হাজার ২০০ ইউরো শিক্ষা ভাতা দেয়।

    বেলজিয়ামে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ আছে।
    বেলজিয়ামে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ আছে।ফাইল ছবি

    ৩. ইরাসমাস মুন্ডাস মাস্টার্স স্কলারশিপ—

    ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ স্কলারশিপটি ইউরোপে বিভিন্ন মাস্টার্স ও ডক্টরাল স্টাডি প্রোগ্রামের জন্য। আপনি বেলজিয়ামে পড়ার জন্য আইইএলটিএস ছাড়া ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। বৃত্তিটি শিক্ষার্থীদের মাসিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ ইউরো জীবনযাত্রার খরচসহ টিউশন ফি, ভিসা ফি, ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের বিমা খরচ দিয়ে থাকে।

    ৪. ভিএলআইআর-ইউওএস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম—

    ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াই, জীবনযাত্রার খরচ, বিমানে যাতায়াতের টিকিট ও মাসিক অনুদান দেয়। এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষিত স্কলারশিপ প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে একটি। ফ্লেমিশ ইউনিভার্সিটি বা কলেজে সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়ার জন্য প্রায় ৩১ জন বিদেশি ছাত্রকে প্রতিবছর এই বৃত্তি দেওয়া হয়।

    ৫. গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ—

    গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য কে ইউ লিভেন-এর একটি উদ্যোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিএইচডি প্রার্থীদের গবেষণা করার সুযোগ দেওয়া হয় এ বৃত্তিতে। বৃত্তিটি সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, ২ হাজার ১৯৯ ইউরো মাসিক উপবৃত্তি, চিকিৎসা বিমা, বিমান ভাড়ার টিকিট ও মাসিক ৩১০ ইউরো গবেষণা ভাতা দিয়ে থাকে। এ স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য আইইএলটিএস লাগবে না।

    বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলইটিএস নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। বিশেষ করে, আপনি ইতিমধ্যেই আপনার ডিগ্রিগুলো ইংরেজিতে নিয়ে থাকেন। উপরের বৃত্তি ছাড়াও বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলইটিএস ছাড়াই পড়তে পারবেন। এগুলো হলো—

    *ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলস

    *অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়

    *ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়

    *কে ইউ লিভেন

    *হ্যাসেল্ট বিশ্ববিদ্যালয়

    *ইউ লিগ।

     
     

    এখন প্রশ্ন হতে পারে, কীভাবে আইইএলটিএস ছাড়া বেলজিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন। যদি আপনি আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করতে চান, সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইংরেজিতে লিখতে, পড়তে ও যোগাযোগ করতে পারেন। বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আবেদন করার সময় আইইএলটিএস থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এখানে কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে।

    আপনি যদি ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে আপনার আগের ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন। পূর্ববর্তী শিক্ষা যে ইংরেজিতে ছিল, তার প্রমাণ হিসেবে আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রশংসাপত্র, লেটারহেডযুক্ত কাগজে মুদ্রিত এবং সঠিকভাবে স্ট্যাম্প করা একটি সরকারি প্রশংসাপত্র। বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ব্যবহারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অফার করে।

  • বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও অভিযানে নিহত ছাড়াল ২৫০

    ইসলামাবাদ

  • বোলিং শেষ করতে দেরি, মিরাজদের জরিমানা

    ম্যাচের প্রথম বল হয়েছে বেলা এগারোটায়, ৫০ ওভারের ইনিংস শেষ হওয়ার কথা আড়াইটায়। কিন্তু বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করা কিউইদের ইনিংস আড়াইটার মধ্যে শেষ হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর সোয়া ৩টায় শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাও ৪৮.৪ ওভারে অলআউট না হলে সময় বেশি লাগত আরও।

    সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচটিতে এমন বিলম্বে বাংলাদেশ দলকে জরিমানা করেছে আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ ওভার কম করায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আজ আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।

    গরমের মধ্যে চলা বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দুই ম্যাচেই প্রথম ইনিংস শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগেছে। গরমের কারণে একাধিক পানি পানের বিরতি, খেলোয়াড়দের ছোটখাটো চোটের কারণে অস্বস্তি আর পেসারদের দিয়ে বেশি বোলিংয়ের কারণে বিলম্বটা বেশি হয়েছে।

    সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
    সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
     

    আইসিসি জানিয়েছে, সময়ের সব ছাড় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা যায়, মিরাজরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ওভার পিছিয়ে ছিলেন। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে মন্থর ওভার রেটের অভিযোগ আনেন।

    ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিরাজ অপরাধ স্বীকার করে শাস্তির প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মোট ১০ শতাংশ জরিমানার আদেশ দেন।

  • ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি, নির্বাচিত শিক্ষার্থী মাসে পাবেন ৮,০০০ টাকা

    ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তিতে আবেদন চলছে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মেধাবিকাশ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থী এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং মাসে ৮ হাজার টাকা বৃত্তি পাবেন।

    ব্র্যাক মেধাবিকাশ বৃত্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম করার জন্য ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবিকাশ বৃত্তি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের লক্ষ্য সহানুভূতিশীল, সচেতন ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা নিজেদের সফলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আবেদনের যোগ্যতা—

    *আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে;

    *পরিবারের মাসিক আয় ২০,০০০ টাকার কম হতে হবে।

    শিক্ষার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড—

    ক. এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হতে হবে

    খ. অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসতে হবে

    গ. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে

    ঘ. ব্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

    ঙ. ব্র্যাক গ্র্যাজুয়েট ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর (যেমন: শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী) শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত শিথিলযোগ্য।

    বৃত্তির পরিমাণ

    বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে এককালীন ২০ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করবে ব্র্যাক। মাসিক ৮ হাজার টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    আবেদনকারীর প্রতি বিশেষ নির্দেশনাবলি—

    শিক্ষাবর্ষ/সেশন: এই বৃত্তি শুধু সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (Session: 2025-26) যেকোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন।

    সঠিক তথ্য প্রদান: আবেদনের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মনোযোগসহকারে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে এসএসসি (SSC) ও এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার জিপিএ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সঠিকভাবে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

    ডকুমেন্ট স্ক্যানিং: প্রয়োজনীয় সব মূল সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ কপির পরিষ্কার স্ক্যান কপি (PDF/JPEG ফরম্যাটে) আপলোড করতে হবে। ঝাপসা বা অস্পষ্ট ছবি আবেদনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    পারিবারিক আয়ের বিবরণ: পরিবারের মাসিক/বার্ষিক আয়ের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে এর সাপেক্ষে প্রমাণাদি যাচাই করা হতে পারে।

    যোগাযোগের মাধ্যম: ফরমে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং ই–মেইল ঠিকানাটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে যেকোনো প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

    সতর্কীকরণ: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

    **এখানে সংগৃহীত সব তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে এবং শুধু বৃত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।

    আবেদনপ্রক্রিয়া-

    আবেদনের জন্য লিংকে ফরম পূরণ করতে হবে। ভর্তি রসিদ ব্যতীত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

    আবেদনের শেষ তারিখ—

    ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

  • বড় দলের বিপক্ষে লড়াই কত কঠিন, বুঝল বাংলাদেশ

    আপনি যখন ‘জোড়াতালির’ একটা লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মঞ্চে যাবেন, তখন এমন অসহায় আত্মসমর্পণটা স্বাভাবিক! যেখানে প্রতিপক্ষ চীন–উত্তর কোরিয়া, তাদের সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। এ প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারও বোঝাতে পারেননি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫–০ গোলের হারটা শুধু হার নয়, বাংলাদেশের জন্য একটা শিক্ষাও।

    চীন ও উত্তর কোরিয়া—দুই দলের বিপক্ষে দুরকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতলয়ের প্রতি–আক্রমণ, দূরপাল্লার পাস আর ক্রসের পসরা থামিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণ করেছে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

    বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে উত্তর কোরিয়া দেখিয়েছে কীভাবে রক্ষণ তছনছ করতে হয়। গোল পাঁচটা না হয়ে আট–নয়টা বা দশটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন অন্তত সেই কথাই বলছে।

    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ
    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ, এএফপি
     

    পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার ১১টি ছিল পোস্টে। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। গোলকিপার মিলি আক্তার একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। পাঁচটি বল তাঁর আশপাশ দিয়ে জাল ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু আরও পাঁচ–ছয়টি গোলে শট কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় আটকেছেন তিনি।
    শুধু মিলির দৃঢ়তাই নয়, বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়েও সন্তুষ্টির জায়গা আছে।

    সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ক্ষিপ্রতা এতটাই তীব্র ছিল বাংলাদেশের পাঁচ ডিফেন্ডারের সঙ্গে দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাও প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্টের কাজে মন দেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করেলেও আক্রমণভাগে বরাবরের মতো ব্যর্থই বাংলাদেশ। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া অ্যাটাকিং থার্ডে ক্রমাগত ক্রস বাড়িয়ে, লং শটে তৈরি করা সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করেছে।

    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল
    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল, এএফপি
     

    বাংলাদেশ নিজেদের পায়ে খুব একটা বল রাখতে পারেনি, পারেনি আক্রমণ করতেও। এই ‘না পারাটা’ যেমন তাদের ভীষণ পীড়া দেবে, তেমনি উত্তর কোরিয়ার শক্তি–সামর্থ্য দেখার পর এই হার থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে নেবে।

    উত্তর কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ (র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম) থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে, চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা, দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। গত দশ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটি। এমন একটা দলের বিপক্ষে ৫–০ গোলের হার স্রেফ হারই নয়, বরং বাংলাদেশের এই দলটাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নতুন করে ভাবার উপলক্ষও।

  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টা উপভোগ করছেন, জানালেন জয়া

    ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সিনেমা ছাড়াও নানা প্রসঙ্গ।

    দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী? এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দুটো (দুই বাংলার সিনেমা) নিয়েই তো আশাবাদী। এখানে “ওসিডি”র মতো ছবি রিলিজ করছে এবং দর্শক দেখেছে। এর আগে “ডিয়ার মা”, “পুতুলনাচের ইতিকথা” করেছি; প্রত্যেকটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশনের কাজ (ভিন্ন ধরনের)। একজন আর্টিস্ট হিসেবে কাজগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এসেছে “ওসিডি”, সেখানে পারফরমেন্সটা খাবার একটা জায়গা আছে। আমি কতটুকু পেরেছি, আমি বলব না। তিনটা সিনেমা তিন ধরনের—একটি একেবারে পারিবারিক, একটি একদম ক্ল্যাসিক এবং এখন যেটা হচ্ছে, সেটার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী সামাজিক বার্তা আছে।’

    গত বছরে তাঁর অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমার সাফল্যের কথা তুলে ধরে জয়া আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নানা রকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দুটে ছবি “উৎসব” ও “তান্ডব” ব্লকবাস্টার সুপারহিট। এরপর সামনে আরও খুব ভালো ভালো দারুণ কিছু ছবি আসবে, “রইদ” নামে একটি ছবির ট্রেলার আপনারা দেখেছেন, অসাধারণ ছবি হবে।’

    জয়া অভিনীত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাগুলো বাংলাদেশে মুক্তি পায় না, একইভাবে ঢাকার সিনেমাও কলকাতায় মুক্তি পায় না। জয়া আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে এটা ঠিক হয়ে যাবে।

    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    একই সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো আসলে আমার ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটা জয়া আহসানের ইমেজটাকে দেখার জায়গা। একেবারেই আনুষ্ঠানিক একটা জায়গা। তারপরও আমি মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করি।’

    সাক্ষাৎকারের শেষ অংশ ‘র‍্যাপিড ফায়ার’–এ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দেখতে আমার বাবার মতো হয়ে যাচ্ছি।’
    এ ছাড়া জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে যাচ্ছেন। এমন কিছু নেই, যা করতে নিজেকে ‘না’ করেন।

    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
  • ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রোনালদো

    এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

    রোনালদো লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক! আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তোমাদের দিনটি বিশেষভাবে কাটবে। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।

    বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলিম ভক্তের কথা মাথায় রেখে রোনালদোর এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার পোস্টে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

    বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের খেলছেন রোনালদো। মধ্যপ্রাচ্যে খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

    এর আগেও বিভিন্ন উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন রোনালদো। যা তাকে ক্রীড়াজগতের বাইরেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

     

  • ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানালেন এহছানুল হক মিলন

    চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী ড. এহছানুল হক মিলন ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ড. মিলনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, স্মার্ট ক্লাসরুম, অনলাইন লার্নিং এবং স্কিল-বেইজড ট্রেনিং শিক্ষার মূল ভিত্তি হবে। তার লক্ষ্য হলো দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা, যাতে তারা দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে।

    ড. মিলন জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, দক্ষতা নির্ভর ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থাই গড়বে সবার আগে বাংলাদেশ।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. এহছানুল হক মিলন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নকলবিরোধী কঠোর অভিযান চালানো হয়। এই সাহসী পদক্ষেপের কারণে পরীক্ষার হলে নকলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এছাড়াও তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব