• ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রথম জয় বাংলাদেশের মেয়েদের

    ৪৬*, ৭৭–এর পর আজ ৫৮*। ত্রিদেশীয় সিরিজে নিগার সুলতানার ব্যাটে আবারও দারুণ এক ইনিংসের দেখা মিলল। তাঁর অপরাজিত ৫৮ রানের ইনিংসে আজ ত্রিদেশীয় টি–টুয়েন্টি সিরিজে নিজেদের প্রথম জয়ও পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

    এডিনবরায় স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ নারী দল হারিয়েছে ৩৪ রানে। টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ তুলেছিল ১৫২ রান। রান তাড়ায় স্কটল্যান্ড ১১৮ রানেই গুটিয়ে যায়।

    আজও বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। দলীয় ২৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান দিলারা আক্তার, জুরাইয়া ফেরদৌস ও তাজ নেহার। এরপর সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে ৭৭ রানের জুটি গড়েন নিগার। ৩১ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন সোবহানা। নিগার ৫৮ রান করেন ৪৭ বলে। শেষ দিকে স্বর্ণা করেন ২০ রান।

    ব্যাট হাতে ভালো শুরু না পেলেও বল হাতে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। ১ রান তুলতেই স্কটল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নেয় তারা। ডার্সি কার্টারকে আউট করেন সানজিদা আক্তার, ক্যাথরিন ফ্রেসারকে মারুফা। টুর্নামেন্টের আগের দেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ফিফটি করা অধিনায়ক ক্যাথরিন ব্রাইস আউট হন ২১ রানে।

    শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে বাংলাদেশ
    শিরোপার লড়াইয়ে টিকে আছে বাংলাদেশ, এক্স
     

    সারাহ ব্রাইস করেন ৪০ রান। এরপর আর কোনো ব্যাটারই রান পাননি। বাংলাদেশের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রিতুমনি। দুটি করে উইকেট মারুফা ও সানজিদার।

    টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচ স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হেরেছিল বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুইয়ে।

    অর্থাৎ শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশ এখনো টিকে আছে। তবে ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই। ৩ ম্যাচে ২ জয় পাওয়া স্কটল্যান্ড কাল নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলবে, এই ম্যাচে জিতলে শিরোপা জিতে যাবে তারাই।

  • দাঁত প্রতিস্থাপনের আগে যেসব বিষয় জেনে রাখবেন

    নানা কারণে দাঁত হারাতে হতে পারে। দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি), মাড়ির রোগ, দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁত পড়ে যেতে পারে। এমনকি জন্মগতভাবেও দাঁত অনুপস্থিত থাকতে পারে। অনেকেই দাঁত হারানোকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হন না। তবে দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে।

    মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে। একটি দাঁত না থাকলে আশপাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা জায়গার দিকে সরে যেতে থাকে, চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং মুখের স্বাভাবিক গঠন বদলে যায়।

    ফলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, কথা বলায় জড়তা আসে, মাড়ি ও চোয়ালের হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব দাঁত প্রতিস্থাপন করে নেওয়া জরুরি।

    দাঁত প্রতিস্থাপন ও করণীয়

    আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে দাঁত প্রতিস্থাপনের বেশ কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে।

    ডেন্টাল ব্রিজ: যদি এক বা একাধিক দাঁত না থাকে ও পাশের দাঁত সুস্থ থাকে, তাহলে ডেন্টাল ব্রিজ কার্যকর সমাধান। এ পদ্ধতিতে ফাঁকা জায়গার দুই পাশের দাঁত ব্যবহার করে মাঝখানে কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়।

    ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। এতে চোয়ালের হাড়ের ভেতর টাইটেনিয়ামের তৈরি স্ক্রু বসানো হয়, যা ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ওপরই কৃত্রিম দাঁত বা ডেন্টাল ক্রাউন স্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পাশের দাঁত ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

    ডেঞ্চার: যাঁদের অনেকগুলো দাঁত নেই বা সম্পূর্ণ দাঁতই নেই, তাঁদের জন্য ডেঞ্চার একটি বহুল প্রচলিত সমাধান। এটি রোগী নিজের ইচ্ছেমতো পরতে পারেন, আবার খুলেও রাখতে পারেন।

    সব রোগীর জন্য একই পদ্ধতি উপযোগী নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডেন্টাল সার্জন উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করেন। দাঁত হারানো লজ্জার বিষয় নয়, দাঁত না থাকার সমস্যাকে অবহেলা করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। হারানো দাঁতের প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে। সচেতনতা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে সুন্দর হাসি ও সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে।

    ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন; চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর

  • দুই দিনে ২৭৭ মিলিয়ন ভিউ! ট্রেলারেই ঝড় তুলল ‘হ্যারি পটার’

    এইচবিও ‘হ্যারি পটার’ টিভি সিরিজ বানানোর ঘোষণা দিয়েছিল ২০২৩ সালে। ‘হ্যারি পটার’-এর বই অবলম্বনে পূর্ণাঙ্গ একটি সিরিজ আসতে চলেছে, এ খবরে দারুণ খুশি ছিলেন ‘পটারহেড’রা। এরপর কেটে গেছে তিন বছরের বেশি সময়। অবশেষে ফুরাচ্ছে ভক্তদের অপেক্ষা, চলতি বছরের বড়দিনেই মুক্তি পাবে সিরিজটি। তাঁর আগে ট্রেলারের সাড়া দেখে বোঝা গেছে, সিরিজটি নিয়ে কতটা অপেক্ষায় ভক্তরা। কারণ, মুক্তির মাত্র দুই দিনের মধ্যে ট্রেলারটির ভিউ হয়েছে ২৭৭ মিলিয়ন! যা এটিকে এইচবিও ও এইচবিও ম্যাক্সের সবচেয়ে বেশি ভিউ হওয়া ট্রেলারে পরিণত করেছে।

    এই সিরিজ তৈরি হয়েছে জে. কে. রাওলিংয়ের সাত খণ্ডের জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে। আগে যেখানে ড্যানিয়েল রেডক্লিফের অভিনয়ে বড় পর্দায় হ্যারি পটার বিশ্বজয় করেছিল, এবার সেই গল্পই নতুনভাবে বলা হবে টেলিভিশনের জন্য।
    প্রথম মৌসুমে তুলে ধরা হবে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য সোরসারার্স স্টোন’–এর কাহিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি মৌসুমে সিরিজের একটি করে বই তুলে ধরা হবে।

    ট্রেলারে কী দেখা গেল
    ট্রেলারে দেখা যায়—১১ বছর বয়সী হ্যারি, যে এতদিন জানত সে সাধারণ এক ছেলে, হঠাৎ করেই পায় জাদুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার চিঠি। এরপর তার সামনে খুলে যায় এক অজানা জগৎ।

    হ্যারি পরিচিত হয় তার ভবিষ্যৎ বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জারের সঙ্গে। হাতে ওঠে ‘সোর্টিং হ্যাট’, ক্লাসে যোগ দেয়, আবার কুইডিচ খেলায় অংশ নেয় গ্রিফিন্ডর দলের হয়ে।

    হ্যারি ও হ্যাগ্রিডের একটি সংলাপ ট্রেলারের আবেগ বাড়িয়ে তোলে—হ্যারি জানতে চায় তার মা–বাবা সম্পর্কে। জবাবে হ্যাগ্রিড বলে, তাঁরা ছিলেন সাহসী, দয়ালু এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষ।

    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

    নতুন মুখ, নতুন অভিনয়

    এ সিরিজে হ্যারির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ডমিনিক ম্যাকলাফলিন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অ্যালাস্টেয়ার স্টাউট (রন) ও অ্যারাবেলা স্ট্যানটন (হারমায়োনি)। তাঁরা একসঙ্গে জাদুবিদ্যার পাঠ নেওয়ার পাশাপাশি ভয়ংকর লর্ড ভলডেমর্টের হুমকির মুখোমুখি হবেন।

    হ্যারি পটার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত ডমিনিক ম্যাকলাফলিন অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার সিরিজ ‘গিফটেড’, কমেডি সিনেমা ‘গ্রো’-তে অভিনয় করেছেন। ‘গ্রো’-তে তাঁর সহ–অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ ‘ব্রিজারটন’-এর রোশুয়েল, ‘টেড লাসো’-এর জেরেমি সুইফট। রন উইসলি চরিত্রে আলাস্টার স্টাউটের হবে বড় পর্দার এটিই প্রথম কাজ। তবে এ তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হারমায়োনি গ্রেঞ্জার চরিত্রের জন্য নির্বাচিত হয় আরাবেলা স্ট্যানটন। এই বয়সেই তার রয়েছে মঞ্চে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা। ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালে সে লন্ডনের ওয়েস্টএন্ডে ‘ম্যাটিল্ডা-দ্য মিউজিক্যাল’-এর ম্যাটিল্ডা চরিত্রে অভিনয় করে। তার আবেগপ্রবণ অভিনয়শৈলীতে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

    অভিজ্ঞ নির্মাতাদের হাত ধরে
    সিরিজটির শোরানার হিসেবে আছেন ফ্রানচেস্কা গার্ডিনার, যিনি আগে ‘সাকসেশন’–এর জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। এটি পরিচালনা করবেন মার্ক মেলড, যিনি আগে ‘গেম অব থ্রোনস’–এর মতো জনপ্রিয় সিরিজে কাজ করেছেন।

    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে
    ‘হ্যারি পটার’–এর দৃশ্য। ভিডিও থেকে

    মুক্তির অপেক্ষা
    সবকিছু ঠিক থাকলে ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফারস স্টোন’ মুক্তি পাবে চলতি বছরের বড়দিনে। এটি প্রচারিত হবে এইচবিও টিভি, ওটিটিতে দেখা যাবে এইচবিও ম্যাক্সে।

    ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাওলিংয়ের ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের সাতটি বই রয়েছে। সাতটি বই অবলম্বনে ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত আটটি সিনেমা বানানো হয়। সিনেমার পর্দার হ্যারি পটারের বিশাল জাদুর দুনিয়ার খুব কম জিনিসই ফুটে উঠেছে। এত কম সময় সিনেমা দেখে পটারপ্রেমীদের যে মন ভরত না, তা বলাই বাহুল্য। তাই এইচবিও থেকে যখন ঘোষণা আসে, সিরিজটি হবে সত্যিকার অর্থেই হ্যারি পটার বইয়ের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর, তখন পটারপ্রেমীদের মধ্যে আলোড়ন ওঠে। সেটা কতটা ট্রেলার মুক্তির পর সাড়া দেখেই বোঝা যাচ্ছে।

    দ্য হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে

  • দুই পেনাল্টির ম্যাচে আর্সেনাল-অ্যাটলেটিকোর ড্র

    দুই পেনাল্টির ম্যাচে জিতল না আর্সেনাল-অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কেউই। ১-১ গোলের ড্র নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালের প্রথম লেগ শেষ করেছে তারা।

    অ্যাটলেটিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় আর্সেনাল খেলা শুরু করেছিল ভিক্টর  ইয়োকেরেশকে নিয়ে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে আর্সেনালের হয়ে পেনাল্টিতে গোল করেন সুইডিশ এই স্ট্রাইকার।

    দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ করতে থাকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। লুকমান ও গ্রিজম্যান কাছাকাছি সুযোগ পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। তবে ম্যাচে সমতায় ফিরতে অ্যাটলেটিকোকে যেতে হয় আলভারেজের কাছে। এপ্রিলে কোপা দেল রে ফাইনালের শুট-আউটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন এই আর্জেন্টাইন। তবে এবার আর ভুল করেননি তিনি।

    ম্যাচের শেষদিকে আর্সেনাল একটি পেনাল্টি পেয়েছিল। কিন্তু ভিএআর রিভিউয়ের পর সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যায়।

    সেমির প্রথম লেগ শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র হওয়ায় আগামী মঙ্গলবার (৫ মে) লন্ডনে ফিরতি লেগের জন্য রোমাঞ্চ জমা থাকল।

  • দুই সভাতেই ‘হোম ওয়ার্ক’ সেরে ফেলেছেন ডুলি

    তিন দিন হলো তিনি ঢাকায়। তবে বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ হিসেবে যাঁদের নিয়ে তাঁর কাজ, সেই ফুটবলারদের সঙ্গেই এখনো দেখা হয়নি টমাস ডুলির। সেটি হবে আগামীকাল, সান মারিনোর বিপক্ষে ৫ জুনের প্রীতি ম্যাচের ক্যাম্পে। কাল কোচ, খেলোয়াড়েরা হোটেলে উঠবেন; আগামীকাল কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়ে যাবে অনুশীলন। তবে তিন প্রবাসী ফুটবলার—হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও জায়ান আহমেদ সরাসরি সান মারিনোতে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

    খেলোয়াড়দের সঙ্গে আগামীকাল প্রথম দেখা হবে। তবে ডুলি এরই মধ্যে নিজ উদ্যোগে অনেক কিছু জেনে নিয়েছেন নতুন শিষ্যদের সম্পর্কে। ঢাকায় আসার পর গতকাল ও আজ কোচিং স্টাফ সদস্যদের সঙ্গে দুই দফা আলোচনায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বিভিন্ন তথ্য জেনে ফুটবলারদের সম্পর্কে নিজের ‘হোম ওয়ার্ক’ সেরে ফেলেছেন নতুন কোচ।

    সূত্র জানিয়েছে, আজকের সভায় সান মারিনো ম্যাচের সম্ভাব্য দল, কৌশল ও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই দিনে বাফুফে ভবনে জাতীয় দল কমিটির এক সভায় যোগ দিয়েছেন ডুলি। এই সভায়ও মূল আলোচনা ছিল সান মারিনো ম্যাচের প্রস্তুতি।

    ঢাকায় ৬ দিন অনুশীলন শেষে বাংলাদেশ দলের সান মারিনোর উদ্দেশে দেশ ছাড়ার কথা ৩১ মে। টমাস ডুলির অধীন সান মারিনোর বিপক্ষেই প্রথম খেলবেন না হামজা–জামালরা। ম্যাচের জন্য ৩২ জনের প্রাথমিক দল এরই মধ্যে ঠিক হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

    প্রাথমিক দলে আছেন কিংসের ১০ ফুটবলার। তাঁরা হলেন আনিসুর রহমান, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, তপু বর্মণ, তাজউদ্দিন, সোহেল রানা, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মোহাম্মদ হৃদয়, ইমন শাহরিয়ার ও ফয়সাল আহমেদ। প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছিলেন কিংসের আরেক ফুটবলার রাকিব হোসেনও। তবে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ছুটি নিয়েছেন তিনি।

    গত শনিবার বিএসপিএর অনুষ্ঠানে (বাঁ থেকে) টমাস ডুলি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল
    গত শনিবার বিএসপিএর অনুষ্ঠানে (বাঁ থেকে) টমাস ডুলি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদ ও বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল

    প্রাথমিক দলে নেই সর্বশেষ সিঙ্গাপুর ম্যাচের ২৩ জনের দলে থাকা আরমান ফয়সাল ও সুমন রেজা। কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞার (হলুদ কার্ড) কারণে ডিফেন্ডার তপু বর্মণের খেলা হয়নি সিঙ্গাপুর ম্যাচে। সান মারিনোর বিপক্ষে আবার হয়তো দেখা যাবে এই ডিফেন্ডারকে।

    গোলকিপারের তালিকা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হয়েছে কোচিং স্টাফদের। সর্বশেষ ম্যাচে মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান ছিলেন চূড়ান্ত স্কোয়াডে। এবার মিতুল-সুজন থাকলেও না–ও থাকতে পারেন মেহেদী। প্রাথমিক দলে নতুন মুখ হতে পারেন পিডব্লুডি স্পোর্টিং ক্লাবের ফরোয়ার্ড মিনহাজুল করিম।

    বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে টমাস ডুলি
    বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে টমাস ডুলি
     
     

    মালদ্বীপে নেই সুলিভান ভাইয়েরা

    মালদ্বীপ ফুটবলের ৭৫ বছর পূর্তিতে চার দেশ নিয়ে আগামী ১ থেকে ১০ জুন মালদ্বীপের মালেতে হবে ডায়মন্ড জুবলি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ ছাড়াও টুর্নামেন্টে খেলবে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান। একই সময় সান মারিনোতে জাতীয় দলের ম্যাচ থাকায় এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–২৩ দল খেলবে। তবে অন্য তিন দেশই তাদের জাতীয় দল খেলাবে। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে কাল। এদিনই ৩২ জনের প্রাথমিক স্কোয়াডও ঘোষণা করেছে বাফুফে। যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী দুই ভাই রোনান সুলিভান ও ডেক্লান সুলিভানের নাম নেই সেখানে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত কারণে তাঁরা নিজেরাই এই টুর্নামেন্টে খেলতে চাননি।

  • দুই স্কুলে ‘হরিলুট’: ১৪১ ভুয়া শিক্ষক ও উধাও ১৫ কোটি

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৪১ শিক্ষকের নিয়োগ অবৈধ। তাদের কেউ করেছেন অনার্স পাশ সনদ জালিয়াতি, আবার কেউ দেখিয়েছেন ভুয়া নিয়োগ বোর্ড, আবার অনেকে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসি) সনদ জালিয়াতিসহ নানা প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

    সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক আছেন ১৩৩ জন। এর মধ্যে জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক হয়েছেন ৬৮ জন। এছাড়া অবৈধভাবে ইচ্ছেমতো বেতন-ভাতা নেওয়া, কেনাকাটায় অনিয়ম, হিসাব জালিয়াতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। 

    অন্যদিকে বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৭৩ জনের নিয়োগ অবৈধ হিসেবে প্রমাণ পেয়েছে ডিআইএ। 

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

    পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক এম এম সহিদুল ইসলাম মঙ্গলবার (১৯ মে) গণমাধ্যমকে বলেন, বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবৈধ শিক্ষক নিয়োগ এবং সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতিসহ প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অনিয়মের প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

    জানা গেছে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত দেড় হাজার শিক্ষকের জাল সনদ চিহ্নিত হয়েছে। এসব শিক্ষককে শোকজ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। জাল সনদধারী শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩৭৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যা এসব শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিআইএ পরিচালক।

    ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়, সিদ্ধেশ্বরী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সাহাব উদ্দিন মোল্লা এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলুয়ার হোসেন ২০১৪ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত দ্বিগুণ হারে উৎসব ভাতা গ্রহণ করেছেন। সাহাব উদ্দিন মোল্লা অবৈধভাবে বেসরকারি বেতন বাবদ ৯৭ লাখ টাকা এবং দেলুয়ার হোসেন প্রায় ৮০ লাখ টাকা নিয়েছেন, যা ফেরতযোগ্য। এছাড়া দেলুয়ার হোসেনের নিয়োগ বিধিসম্মত না হওয়ায় আরও প্রায় ৩৮ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে অবৈধভাবে ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, যা ফেরত নিতে প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে ডিআইএ। 

    প্রতিষ্ঠানটির সংরক্ষিত তহবিলের সনদ যাচাইয়ে দেখা গেছে, ফার্স্ব ফিন্যান্স লিজিং কোম্পানিতে ৫ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৬ টাকা, পিপলস লিজিং কোম্পানিতে ২ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৪৯ টাকা এবং এবং জিএসপি ফিন্যান্স কোম্পানিতে ৪ লাখ টাকার এফডিআর করা হয়েছে; যা বিধিসম্মত হয়নি। বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা উত্তোলন করে বিধি মোতাবেক তপশিলি ব্যাংকে এফডিআর করতে হবে। 

    এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির জেনারেটর ও লিফট কেনা এবং বিভিন্ন মেরামতকাজ, অভিভাবক শেড নির্মাণে বড় ধরনের অনিয়ম পেয়েছে ডিআইএ। ক্যান্টিন থেকে প্রতি মাসে ভাড়া পেলেও সেসংক্রান্ত কোনো তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের জন্য কেনা পাঁচটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি ল্যাপটপ পাওয়া গেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সময় দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সভাপতির ছেলে শেখ এমরানুল আলম ২০২৩ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪২ হাজার টাকা করে ৩ লাখ ৩৬ হাজার টাকা অবৈধভাবে নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির কোচিং বাবদ আদায় করা টাকার রসিদ, টাকা ব্যয়ের রেকর্ড পরিদর্শনকালে সরবরাহ করা হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলুয়ার হোসেনকে মোবাইলে একাধিক ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

    এদিকে বনপাড়া আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখায় ৬১ জন শিক্ষকের সবারই নিয়োগ অবৈধ। অন্যদিকে স্কুল শাখা ১২ শিক্ষকের নিয়োগের অবৈধ। ডিআইএর প্রতিবেদন অনুযায়ী- প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তার পরিবারের ১১ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন, যাদের সবারই সনদ জাল। এর মধ্যে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে, বোন, বোনের জামাই, শ্যালকের স্ত্রী, চাচাতো ভাইবোন; বাদ পড়েননি নিজের ব্যক্তিগত গাড়িচালকও। এমনকি অধ্যক্ষ ইমদাদুল হকেরই সব সনদ জাল। শিক্ষক নিয়োগে ইমদাদুল হক নিয়েছেন ঘুষ। নিয়োগ দেওয়ার পর তাদের বেতন-ভাতার একটা অংশও নিয়ে নিতেন তিনি। নিয়োগ পাওয়া এই ভুয়া ব্যক্তিদের দেওয়া বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগারের ৫ কোটি ৫৭ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ফেরত আনতে সুপারিশ করেছে ডিআইএ। আর ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার সুপারিশ করা হয়েছে।

    জানা গেছে, ইমদাদুল হকের স্ত্রী ইসমেতারাকে অফিস সহায়ক, ছেলে ইমরুল হাসান কায়েস ল্যাব সহকারী, ছেলের বউ সুস্মিতা আক্তার জেরিনকে ল্যাব সহকারী, মেয়ে ইসরাত জাহানকে ল্যাব সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

    এছাড়া বোন আসমা খাতুনকে কৃষিশিক্ষার সহকারী শিক্ষক, বোনের জামাই আজিজুল হককে বাণিজ্য বিভাগের প্রভাষক, শ্যালকের স্ত্রী শেফালি খাতুনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন ইমদাদুল। চাচাতো ভাই কামরুল ইসলামকে ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক এবং চাচাতো বোন শাহনাজ পারভীনকে নিয়োগ দেন প্রভাষক হিসেবে। তার ব্যক্তিগত গাড়িচালকও এই নিয়োগ থেকে বাদ যাননি।

     

  • দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ২৭টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি বিজ্ঞানীদের

    মহাবিশ্বে একটিমাত্র নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ছয় হাজারের বেশি গ্রহ আবিষ্কার করা হলেও দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা গ্রহ আবিষ্কার হয়েছে মাত্র ১৮টি। তবে এবার দুটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করা ২৭টি সম্ভাব্য নতুন গ্রহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানীরা। সন্ধান পাওয়া গ্রহগুলো পৃথিবী থেকে ৬৫০ থেকে ১৮ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

    ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের বিজ্ঞানী বেন মন্টেট জানিয়েছেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের অনেক কিছুই খুব সহজে অনুমেয় নয়। যখন এই গ্রহগুলো নক্ষত্রের সামনে দিয়ে যায়, তখন নক্ষত্রের পৃষ্ঠে ছায়া পড়ে এবং উজ্জ্বলতা কমে যায়, যা দেখে গ্রহের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়। কিন্তু এটি কেবল তখনই সম্ভব, যখন পৃথিবী থেকে আমাদের দেখার রেখার সঙ্গে নক্ষত্র ও গ্রহের অবস্থান পুরোপুরি একই সমান্তরালে থাকে। ফলে অনেক গ্রহ নজর এড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    মার্গো থর্নটন আরও বলেন, দুটি নক্ষত্রের ঘূর্ণন এবং মহাকর্ষীয় টানের মতো অন্য বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার পর ১ হাজার ৫৯০টি নক্ষত্রব্যবস্থার মধ্যে ৩৬টিতে এমন ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া গেছে, যাদের আচরণ কেবল একটি তৃতীয় বস্তুর উপস্থিতির মাধ্যমেই ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এই ৩৬টির মধ্যে ২৭টি বস্তুর ভর একটি গ্রহের ভরের সমান হওয়া সম্ভব। তবে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন।

    বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, মহাবিশ্বের অর্ধেকের বেশি নক্ষত্র বাইনারি বা একাধিক নক্ষত্রব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিদ্যমান। সম্ভাব্য গ্রহগুলো নেপচুনের সমান বা বৃহস্পতির চেয়ে দশ গুণ পর্যন্ত ভারী হতে পারে। নাসার ট্রানজিটিং এক্সোপ্ল্যানেট সার্ভে স্যাটেলাইটের তথ্য ব্যবহার করে গ্রহগুলো শনাক্ত করা হয়েছে।

    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

  • দুষ্টু-মিষ্টি বৌ থেকে গ্ল্যামগার্ল, তৃণার বয়স কি বাড়ছে নাকি কমছে

    ওপার বাংলার টিভি সিরিজে দুষ্টু-মিষ্টি বৌয়ের চরিত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছেন এই টালিউড ডিভা। এরপর ওয়েবসিরিজ আর সিনেমায় উষ্ণতা ছড়িয়েছেন আবেদনময়ী সব লুকে। এখন তো নিজের আগের ইমেজ ভেঙে এখন তিনি পুরোদস্তুর গ্ল্যামগার্ল। বয়স কি বাড়ছে নাকি কমছে তৃণা সাহার?

    নিটেড পেনসিল স্কার্ট, শর্ট শ্রাগ আর ব্রালেটে আবেদনময়ী তৃণা
     
    নিটেড পেনসিল স্কার্ট, শর্ট শ্রাগ আর ব্রালেটে আবেদনময়ী তৃণা
    এখানে তিনি পরেছেন সিকুইনের সোনালি-কালো হল্টার টপ আর প্যান্ট
     
    এখানে তিনি পরেছেন সিকুইনের সোনালি-কালো হল্টার টপ আর প্যান্ট
    কালো স্যাটিনের শর্ট শার্ট-টপ আর ম্যাচিং স্কার্ট পরেছেন তৃণা
     
    কালো স্যাটিনের শর্ট শার্ট-টপ আর ম্যাচিং স্কার্ট পরেছেন তৃণা
    কালো মিনিড্রেসের সঙ্গী হয়েছে ব্যান্ডানা আর স্নিকার্স
     
    কালো মিনিড্রেসের সঙ্গী হয়েছে ব্যান্ডানা আর স্নিকার্স
    এখানে নিটেড মিনিস্কার্ট আর জিপ দেওয়া কালো টপের সঙ্গে তৃণা পরেছেন বার্ন্ট অরেঞ্জ শর্ট ব্লেজার
     
    এখানে নিটেড মিনিস্কার্ট আর জিপ দেওয়া কালো টপের সঙ্গে তৃণা পরেছেন বার্ন্ট অরেঞ্জ শর্ট ব্লেজার
    কর্ণফ্লাওয়ার ব্লু কাট আউট ড্রেসে স্ট্র্যাপলেস ডিজাইন নজর কাড়ছে
     
    কর্ণফ্লাওয়ার ব্লু কাট আউট ড্রেসে স্ট্র্যাপলেস ডিজাইন নজর কাড়ছে
    এনিম্যাল প্রিন্ট জ্যাকেট, কালো টাইটস আর চেলসি বুটসে তৃণা
     
    এনিম্যাল প্রিন্ট জ্যাকেট, কালো টাইটস আর চেলসি বুটসে তৃণা
    এখানে তিনি পরেছেন নীল স্যাটিনের থাই স্লিট হলটারনেক গাউন
     
    এখানে তিনি পরেছেন নীল স্যাটিনের থাই স্লিট হলটারনেক গাউন
     

    ছবি: তৃণার ইন্সটাগ্রাম

  • দেশ রক্তাক্ত যুদ্ধে, মাঠে ইরানের মেয়েদের অন্য এক লড়াই

    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পাল্টা জবাবে উত্তাল পৃথিবী।

    ঠিক এমনই এক সময়ে তেহরান থেকে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ইরানের নারী ফুটবল দল নিচ্ছে অন্য এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লক্ষ্য—এশিয়ান কাপ এবং এই টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট কাটা।

    এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। একদিকে রণকৌশল নিয়ে ভাবনা, অন্যদিকে স্বদেশ থেকে ভেসে আসা এক চরম অস্থিরতার খবর। ফুটবল-উৎসবের আড়ালে যে বারুদগন্ধ, তা উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

    ঠিক এই আবহে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। প্রত্যাশিতভাবেই ফুটবল ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠল রাজনীতি। প্রশ্ন ধেয়ে এল—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আপনাদের মানসিক অবস্থা কী, এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আপনারা ঠিক কী ভাবছেন?

    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি
    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি, এএফসি

    প্রশ্নটা প্রথমে ফারসিতে হলো, তারপর ইংরেজিতে। মুহূর্তেই যেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। একটু দম নিয়ে কোচ মারজিয়া জাফরি ফারসিতে কিছু একটা উত্তরও দিতে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধি মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দিলেন। অনেকটা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার মতো করেই বললেন, ‘পরের প্রশ্নে যাই চলুন। শুধু খেলাতেই মন দিই।’

    বাকিটা সময় আলোচনা চলল শুধুই ফুটবল নিয়ে। তবে তেহরানে রেখে আসা পরিবার-পরিজন এখন যে যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে আছেন, সেই উৎকন্ঠা থেকে ইরানের এই খেলোয়াড়েরা কতটা মুক্ত, সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।

    কোচ মারজিয়া জাফরি ও অধিনায়ক জাহরা গানবারি যখন দল নিয়ে দেশ ছাড়েন, তখনো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছিল। তবে ইরানের মেয়েদের প্রস্তুতির গল্পটা বলতে গিয়ে অধিনায়ক আর কোচ যেন কোনো এক ‘আদর্শ পৃথিবী’র ছবি আঁকলেন। কোচ জাফরির কথায়, ‘দেশের লিগে খেলে মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটা ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি
    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, এএফসি
     

    ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা ইরানের গ্রুপে এবার দক্ষিণ কোরিয়া (র্যাঙ্কিং ২১) ছাড়াও আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫) ও ফিলিপাইন (৪১)। অধিনায়ক গানবারিও কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী ঠিকই, তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যেই লড়ব।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে ইরানের মেয়েরা যখন গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের মাঠটা পরখ করতে নামলেন, তখন তাঁদের চেহারায় কোনো উদ্বেগের ছাপ নেই। একে অপরের ছবি তুলছেন, হাসছেন।

    কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কি দেশের জন্য দীর্ঘশ্বাস লুকানো ছিল না? কাল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁরা নামবেন, গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে তাঁদের কানে কি বাজবে তেহরানে একের পর বিস্ফোরণের শব্দ।

    কিংবা হয়তো ফুটবলই এখন তাঁদের একমাত্র আশ্রয়, দমবন্ধ পরিস্থিতিতে একটুখানি নিশ্বাস নেওয়ার খোলা জানালা!

  • দেশে এবার সোনার দাম ভরিতে কমল ৬,৫৯০ টাকা

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখনো কম থাকায় দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সোনার ভরিতে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে। গত বুধবার ভরিতে কমেছিল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা।

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকাল ১০টায় সোনার নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ১২ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত ১৬ দিনে সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমে হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।

    এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৫ হাজার ৩৬৬ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে দাম কমে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা।

    গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া এক ভরি ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

    বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ—সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তার প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের এই অনিশ্চয়তার সময়েও সোনার বাজারে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। সোনার দাম না বেড়ে বরং প্রায় স্থির হয়ে ছিল। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সোনার দাম পড়তে শুরু করে।

    সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হারের ওপর প্রভাব—এই পরস্পরবিরোধী সংকেত মূল্যায়ন করছেন।

    আজ দুপুর সোয়া ১২টায় বিশ্ববাজারের স্পটমার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৪৬৭ ডলার। এই দাম গতকালের তুলনায় ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি। গত সোমবার স্পটমার্কেটে সোনার দাম একপর্যায়ে কমে ৪ হাজার ১০০ ডলারের ঘরে নেমে যায়, যা কিনা গত ১১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। তারপর ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা পাঁচ দিন স্থগিত করার ঘোষণা দিলে সোনার দাম বাড়তে থাকে।

  • দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

    দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

    গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।

    প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

    সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

     

  • দেশে ফিরেই আবুধাবিতে আটকে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন এশা গুপ্তা

    ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী এশা গুপ্তা। আবুধাবি বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি। আর দেশে ফিরেই তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভক্তদের।

    সোমবার (৩ মার্চ) এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন অভিনেত্রী। সেখানে সেই স্মৃতির কথা শেয়ার করেন ঈশা।

    তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবুধাবি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু দুপুরের পর হঠাৎ করেই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি আর উৎকণ্ঠা। কেউ স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে পারছিল না ঠিক কী ঘটেছে। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আকাশপথে।

    তিনি বলেন, সেই সময়টা ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভরা। যাত্রীরা একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, অচেনা মানুষও হয়ে উঠেছিলেন ভরসার জায়গা। সবাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খাবারের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়। যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়, তাদের আবুধাবির বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে।

    হোটেল কর্মীদের প্রশংসা করে এশা লেখেন, ভয় ও চাপের মধ্যেও তারা অসাধারণ ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন।

    অবশেষে ২ মার্চ দিল্লিগামী প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওঠার সুযোগ পান এশা। নিজেকে ভাগ্যবান উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান সবার প্রতি।

    শেষ পোস্টে অভিনেত্রী প্রকাশ করেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারার অনুভূতি। এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে দুর্যোগের সময় মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

     

  • দেশের প্রথম এমভিএনও সিমে থাকছে যেসব সুবিধা

    দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

    রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

    পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

    এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

    এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

    এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কী এই এমভিএনও

    নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

    যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
    এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

    এমভিএনওর ধরন

    এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
    বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

    গ্রাহকের লাভ

    এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

     

  • দেশের ব্যাংকিং খাত সংস্কারে স্পষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে আইএমএফ

    দেশের ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত সংস্কার ঘিরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে একটি স্পষ্ট ও সময়সীমা বদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

    বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠককালে এই রোডম্যাপ লিখিত আকারে চেয়েছে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

    বৈঠককালে বাংলাদেশের আর্থিক খাত সংস্কারের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হলেও, এ প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও সময়সীমা বদ্ধ করার ওপর জোর দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ চাওয়া হয়েছে।

    আইএমএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোডম্যাপ প্রস্তুত হলে তা দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে দিকনির্দেশনার কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

    এছাড়া, বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক শুরু হচ্ছে আগামী মাসে। ওয়াশিংটনে আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি দলের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার প্রমুখেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে সেখানে।

    আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে ৩৬৪ কোটি ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এখনও ১৮৬ কোটি ডলার ঋণ ছাড় বাকি আছে। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, ঋণের পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের জন্য সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর দিচ্ছে সংস্থাটি।

     

  • দ্রুত এলপিজি আমদানির পথ খুঁজছে বিপিসি

    চট্টগ্রাম
  • ধর্ষণ–ছুরি হামলাসহ ৩৮ অভিযোগ: নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে গ্রেপ্তার

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসলোতে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার তাঁর বিচার শুরুর কথা রয়েছে।

    মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিচার শুরু হচ্ছে।

    ২৯ বছর বয়সী হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎছেলে।

    নরওয়ের পুলিশ মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছুরি নিয়ে হামলা এবং আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আবারও অপরাধ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

    হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচারকাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

    এ ঘটনাকে নরওয়ের রাজপরিবার ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নরওয়ের মানুষ এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর আরেকটি খবরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে–ম্যারিট ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

    এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নরওয়ের ভবিষ্যৎ রানি মেটে-ম্যারিট এ ঘটনাকে তাঁর ‘অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার সব ভুক্তভোগীর প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা আর সংহতি প্রকাশ করছি।’

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, ‘তাঁর (জেফরি এপস্টেইন) সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি ভীষণ বিব্রতকর।’

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট
    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট, ফাইল ছবি: রয়টার্স
     

    প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে চার রাত ছিলেন। তবে ওই সময় এপস্টেইন ওই বাড়িতে ছিলেন না। ক্রাউন প্রিন্সেস তখন এপস্টেইনকে এ–ও জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন মা হিসেবে ১৫ বছর বয়সের ছেলেকে ‘দুজন নগ্ন নারীর সার্ফ–বোর্ড বহনের ছবিযুক্ত ওয়ালপেপার’ দেখানো ‘অনুচিত’ হবে কি না।

    এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে মারিয়াস হোইবির বিরুদ্ধে একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নোরা হাউকল্যান্ড নামের ওই নারীর সঙ্গে একসময় তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আর নোরা হলেন হোইবির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ হওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

    সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, হোইবি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে থাকা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ২০২৩ সালে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরের বছর হোইবিকে ২০১৭ সালের একটি সংগীত উৎসবে কোকেন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।

  • নগ্নতা, খুন আর বিকৃত সম্পর্ক, কানে চমকে দিল যে সিনেমা

    কান চলচ্চিত্র উৎসবে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নির্মাতা নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। গত সোমবার মধ্যরাতে তাঁর নতুন সিনেমা ‘হার প্রাইভেট হেল’ ঝড় তুলেছে দর্শকদের মধ্যে। নগ্নতা, রক্তাক্ত খুন, মানসিক ট্রমা আর বিকৃত সম্পর্কের মিশেলে তৈরি এই নিয়নরঙা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার শেষ পর্যন্ত পায় টানা ৭ মিনিটের দাঁড়িয়ে অভিবাদন।

    প্রদর্শনীর পর আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন ছবির প্রধান অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। নির্মাতা রেফন তখন পুরো হল ঘুরে দর্শকদের আরও জোরে হাততালি দিতে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।

    বৃষ্টিভেজা রাতে উন্মাদনা
    গতকাল রাতে কান উৎসবের গ্র্যান্ড প্যালেসে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। ভারী বৃষ্টির মধ্যেই লালগালিচায় হাজির হন চার্লস মেলটন, সোফি থ্যাচার, হাভানা রোজ লুই, ক্রিস্টিন ফ্রসেথসহ অন্য তারকারা। ছবির প্রদর্শনী শেষ হতেই পুরো হল দাঁড়িয়ে করতালি দিতে শুরু করে। সেই মুহূর্তে চোখের জল লুকাতে পারেননি সোফি থ্যাচার।

    ‘আমি ২৫ মিনিট মৃত ছিলাম’
    দীর্ঘ অভিবাদনের পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান নিকোলাস উইন্ডিং রেফন। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে তিনি ২৫ মিনিটের জন্য মৃত্যুর মুখে চলে গিয়েছিলেন। পরে বিদ্যুৎ–চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁকে ফিরিয়ে আনা হয়।

    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা
    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’–এর পরিচালক ও অভিনয়শিল্পীরা

    রেফনের ভাষায়, ‘এ ধরনের অভিজ্ঞতা একজন মানুষকে বদলে দেয়। এখন আমি জানি, বেঁচে থাকার সময় খুব সীমিত। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই।’

    এরপর গম্ভীর পরিবেশ ভেঙে নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে অভিনেতাদের ‘আকর্ষণীয় উপস্থিতি’ নিয়েও মজা করেন তিনি। বিশেষ করে চার্লস মেলটনের শারীরিক গঠন নিয়ে মন্তব্য করে হাসির রোল তোলেন হলে।

    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
    কানের লালগালিচায় ‘হার প্রাইভেট হেল’ অভিনেত্রী সোফি থ্যাচার। আইএমডিবি
     

    সিনেমার গল্প
    ‘হার প্রাইভেট হেল’–এ সোফি অভিনয় করেছেন এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে। তাঁর জীবনে নতুন সংকট তৈরি হয়, যখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বান্ধবী বিয়ে করেন তাঁর বাবাকে।

    একই সময়ে শহরে শুরু হয় ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং। রহস্যময় এক খুনি—‘দ্য লেদার ম্যান’—তরুণীদের হত্যা করতে থাকে। খুন হওয়ার আগে ভুক্তভোগীরা চিৎকার করে শুধু একটি শব্দ উচ্চারণ করে, ‘ড্যাডি!’
    অন্যদিকে চার্লস অভিনয় করেছেন এক সেনাসদস্যের চরিত্রে, যার মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তার প্রতিশোধের অভিযান।

    ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে’

    ভাষণের শেষ দিকে সিনেমা হলকে মানুষের একত্র হওয়ার শেষ জায়গা বলেও মন্তব্য করেন রেফন। তাঁর ভাষায়, ‘রাজনীতিবিদেরা পৃথিবী নষ্ট করেছে, যুদ্ধ লাগিয়েছে, মানুষের অর্থ লুট করেছে। এখন মানুষকে এক করতে পারে শুধু শিল্প।’
    রেফন আরও বলেন, ‘সিনেমা মানে শুধু আইফোনে একা বসে কিছু দেখা নয়; সিনেমা মানে একসঙ্গে বসে একই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া।’

    নিয়নের সঙ্গে কান জয়যাত্রা
    সিনেমাটির পেছনে রয়েছে নিওন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কান উৎসবে সবচেয়ে সফল পরিবেশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি এটি। যদিও ‘হার প্রাইভেট হেল’ প্রতিযোগিতা বিভাগের বাইরে প্রদর্শিত হয়েছে, তবু সিনেমাটি ইতিমধ্যে উৎসবের অন্যতম আলোচিত ছবি হয়ে উঠেছে।

    রেফন এর আগে কান উৎসবে ‘ড্রাইভ’–এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন। পরে ‘অনলি গড ফরগিভস’ ও ‘দ্য নিওন ডেমন’–এর মতো বিভাজিত প্রতিক্রিয়ার সিনেমা বানিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন তিনি।

    দীর্ঘ ১০ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরলেন এই ড্যানিশ নির্মাতা। আর ফিরে এসেই কান উৎসবে তৈরি করলেন নতুন আলোড়ন।

    ভ্যারাইটি অবলম্বনে

  • নতুন কৌশলে ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অনলাইনে বিক্রি

    গুগলের অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাইবার অপারাধীরা প্রায় ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক করেছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তাপ্রতিষ্ঠান গার্ডিও। নতুন এই কৌশলকে ‘অ্যাকাউন্টডাম্পলিং’ নামে অভিহিত করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভিয়েতনামভিত্তিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং হ্যাক করা অ্যাকাউন্টগুলো অবৈধভাবে অনলাইনে বিক্রি করছে।

    গার্ডিওর নিরাপত্তা গবেষক শেকড চেন বলেন, এটি কোনো এককালীন ফিশিং কৌশল নয়, এটি একটি ধারাবাহিক ও ক্রমবিবর্তিত অপরাধ। এতে রিয়েল-টাইম অপারেটর প্যানেল, উন্নত কৌশল এবং একটি সুসংগঠিত বাণিজ্যিক কাঠামো রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দখল করে তা বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার ইতিহাস যুক্ত থাকে, সেগুলোর চাহিদা অবৈধ বাজারে তুলনামূলক বেশি। এই আক্রমণের শুরু হয় লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিং ই–মেইলের মাধ্যমে। মূলত ফেসবুকের বিজনেস অ্যাকাউন্টধারীদের উদ্দেশে পাঠানো এসব ই–মেইলে মেটার সাপোর্ট বিভাগের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, অ্যাকাউন্টে সমস্যা আছে এবং দ্রুত আবেদন না করলে অ্যাকাউন্টটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। গুগল অ্যাপশিট প্ল্যাটফর্মের ‘নোরিপ্লাই’ ঠিকানা থেকে ই–মেইল পাঠানোর কারণে সাধারণ স্প্যাম ফিল্টার এগুলো শনাক্ত করতে পারছে না। পরে তাদের একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে নেওয়া হয়, যেখানে লগইন তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

    গার্ডিও এই অভিযানে ব্যবহৃত চারটি প্রধান কৌশল চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, নেটলিফাইয়ে হোস্ট করা ভুয়া ফেসবুক সাপোর্ট পেজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের জন্মতারিখ, ফোন নম্বর এবং পরিচয়পত্রের ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে এসব তথ্য সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয়ত, ‘ব্লু ব্যাজ’ যাচাইয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের ভেরসেলে হোস্ট করা ভুয়া নিরাপত্তা যাচাই পেজে নেওয়া হয়। সেখানে নকল ক্যাপচা যাচাইয়ের পর ব্যবহারকারীদের ফিশিং পেজে পাঠিয়ে যোগাযোগের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, পাসওয়ার্ড এবং টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন কোড সংগ্রহ করা হয়। তৃতীয়ত, গুগল ড্রাইভে রাখা পিডিএফ ফাইলের মাধ্যমে ভেরিফিকেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই পিডিএফগুলো ‘ক্যানভা’ ব্যবহার করে তৈরি করা। এর মাধ্যমে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ব্যবহারকারীর ব্রাউজারের স্ক্রিনশটও হাতিয়ে নেওয়া হয়।। চতুর্থত, হোয়াটসঅ্যাপ, মেটা, অ্যাপল বা কোকা-কোলার মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে প্রথমে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করে পরে তাঁদের হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়।

    গার্ডিওর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম তিনটি কৌশলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে প্রায় ৩০ হাজার ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, কানাডা, ফিলিপাইন, ভারত, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর বাসিন্দা। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার হারিয়েছেন।

    সূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ

  • নতুন গবেষণা দ্রুত দেবে যাচ্ছে ঢাকা

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

    বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।

    ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।

    সূত্র: আর্থ

    জাহিদ হোসাইন খান

  • নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ রেখে যাবে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

    পরবর্তী সরকার যে এটা করবে, তার নিশ্চয়তা কী—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘টাকাপয়সা দিয়ে যাব। তারপর সুপারিশ করে যাব। আশা করি, এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।’

    সরকার কেন এখনই বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করছে না—এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেট করা কি সোজা? গেজেট করতে হলে স্পষ্ট করে বলতে হয়, কোনটা কত দেওয়া হবে। মোট কথা, আমরা এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    গণভোটের খরচ বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমি জানি না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আমরা কার্পণ্য করিনি। যে টাকা চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিয়েছি। বাড়তি কিছু টাকা চেয়েছে, সেটাও আমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।’

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব