• বিসিবির সভাপতি হয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তামিম

    ঢাকা

  • বিয়ে করলেন লুবাবা?—ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত

    আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও  অভিনেত্রী,মডেল সিমরিন লুবাবার বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে  আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য। আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।’—এই পোস্ট থেকেই মূলত বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এটি লুবাবার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।

    তবে লুবাবার বিয়ের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তাঁর মা জাহিদা ইসলাম। পারিবারিক সূত্র থেকেও নির্দিষ্টভাবে বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।

    লুবাবার পোস্টে একটি ছবি থাকলেও সেখানে বর–কনের চেহারা স্পষ্ট নয়। পাত্রের পরিচয় নিয়েও তিনি কিছু জানাননি। ফলে কে তাঁর জীবনসঙ্গী—এ নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে পাত্রকে বিদেশপ্রবাসী বা আলেম বলে দাবি করা হলেও এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের দাবিকে ঘিরে চলছে নানা ধরনের তথ্য ও গুঞ্জন। কেউ বলছেন, আগেই নীরবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে, আবার কেউ বলছেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত। তবে এসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    সিমরিন লুবাবা
    সিমরিন লুবাবা, ফেসবুক থেকে

    সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

    লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
    লুবাবা ও অভিনেতা আবদুল কাদের
     

    তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎ করেই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। পরে  জানান, তিনি আর প্রকাশ্যে আসবেন না। তাঁর মা তখন বলেছিলেন, ধর্মীয় অনুশীলনের দিকেই ঝুঁকেছেন লুবাবা এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে চান।

    সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় এবার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বিয়ে হয়েছে—এমনটি নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

  • বিয়ের স্মৃতি-সংসার নিয়ে যা বলেছিলেন বুবলী

    ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানকে ঘিরে দুই চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর নানা বক্তব্যে প্রায়ই সরগরম হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যদিও এগুলো নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না শাকিব খান। দুই সন্তানকে সময় দেওয়া এবং বাবার দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই পালন করতে দেখা যায় ‘তুফান’ নায়ককে।
    ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে সন্তান বীরকে নিয়ে ঘুরে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেখান থেকেই নিজেদের আনন্দের মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বুবলী। সেসব ছবি নিয়ে রীতিমতো তোলপাড় চলে অপু-বুবলীর ভক্তদের মধ্যে।

    যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর বেশ প্রাণবন্ত শবনম বুবলী। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে রাজধানীর এক হোটেলে নববধূর সাজে হাজির হন নায়িকা। সেখানেই নিজের গোপন বিয়ে আর সংসারের গল্প বলেন একেবারে সহজভাবে। আগে কখনো এতটা স্বাভাবিকভাবে শাকিব খান ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে বলতে দেখা যায়নি এই নায়িকাকে।

    শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
    শবনম বুবলী। ফেসবুক থেকে
     

    শ্বশুরবাড়ি আর শাশুড়ি প্রসঙ্গে বুবলী জানান, তিনি রান্না করতে ভালোবাসেন। নিজ বাড়ির মতো শ্বশুরবাড়িতেও শাশুড়ি তাঁকে বাচ্চার মতোই দেখেন। নায়িকা বলেন, ‘রান্নাঘরে গেলেই মা (শাশুড়ি) বলেন, থাক, যত দিন আমি আছি আমিই দেখি। তিনি আমাকে মেয়ের মতোই ভালোবাসেন।’ এদিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন শবনম বুবলী।

    বিয়ে প্রসঙ্গে বুবলী বলেছেন, যেহেতু তারকা, তাই তাঁদের বিয়েতেও গোপনীয়তা বজায় ছিল। হয়েছে ঘরোয়া আয়োজনে। তবে সবকিছুই মনের মতো হয়েছে। বিয়ের সাজও ছিমছাম ছিল। বুবলীর সাজ দেখে তাঁকে নাকি প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শাকিব খান। বিয়েতে শাকিব–বুবলীর পছন্দের খাবার মাছ-সবজি ছিল। পাশাপাশি পাতে উঠেছে বিয়েবাড়ির খাবারও।

  • বুবলী এত দিন কোথায় ছিলেন, সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে কোথায়

    চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী মা হয়েছেন। গত শুক্রবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে তিনি জানান, গত ১১ মে তাঁর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। মেয়ের নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। খবরটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান বুবলীর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরা। অভিনন্দনের পাশাপাশি নতুন করে সামনে আসে আরেকটি প্রশ্ন, কয়েক মাস ধরে আলোচনার বাইরে থাকা বুবলী এত দিন কোথায় ছিলেন? প্রথম সন্তান শেহজাদ খানের মতো এবারের সন্তানের জন্মও কি যুক্তরাষ্ট্রে, নাকি বাংলাদেশে?

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    বিনোদন অঙ্গনে কয়েক মাস ধরে বুবলীকে নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। কয়েক মাস ধরে তাঁকে আগের মতো জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছিল না। সিনেমা মুক্তি পেলেও প্রিমিয়ার, এমনকি সংবাদ সম্মেলন কিংবা প্রচারণা অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি ছিল সীমিত। বছরের শুরুতে তিনি একেবারে আড়ালে চলে যান। ফলে ভক্তদের কৌতূহল বাড়তে থাকে।
    প্রথম আলো গত বছরের অক্টোবরে জানতে পারে, বুবলী মা হতে যাচ্ছেন। তখন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হয়। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে তখন কোনো মন্তব্য করেননি। পরবর্তী সময়েও মাতৃত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি; বরং বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বলে এড়িয়ে গেছেন।

    এরই মধ্যে সামাজিকমাধ্যমে শবনম বুবলীর কিছু ছবি ও ভিডিও নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকের নজরে আসে তাঁর শারীরিক পরিবর্তন। ভক্তদের একটা অংশ তখন কানাঘুষা করতে শুরু করে, বুবলী হয়তো আবার মা হতে চলেছেন। তবে এসব জল্পনা-কল্পনার কোনোটির উত্তর দেননি তিনি।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    বছরের শুরুতে হঠাৎই শবনম বুবলীকে প্রকাশ্যে কম দেখা যেতে থাকে। যাঁদের সঙ্গে কাজ চলছিল, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তিনি। তখন চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অনেকের আলোচনা, সন্তান জন্ম দিতে বুবলী হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। কারণ, এর আগেও বুবলী সন্তান জন্ম দিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। বুবলীর ঘনিষ্ঠজনদের কয়েকজন জানিয়েছেন, এবারও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    পরিচিতজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে শেষ মুহূর্তে বুবলীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া সম্ভব হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বুবলী নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে পুরো সময়টাতে ঢাকায় ছিলেন তিনি।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাতৃত্বকালীন পুরো সময়ে ঢাকাতেই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন বুবলী। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় খুব সীমিত পরিসরে চলাফেরা করেছেন। এমনকি হাসপাতালেও যাতায়াত করতেন আড়াল বজায় রেখে।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী,ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    মা হওয়ার কয়েক মাস আগপর্যন্তও শুটিং এবং বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠানের কাজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন শবনম বুবলী। একাধিক সিনেমার শুটিং করেছেন। পরিচালক রায়হান রাফির ‘প্রেশার কুকার’ ছবির শুটিংও করেছেন ওই সময়। গত পবিত্র ঈদুল ফিতরে ছবিটি মুক্তি পায়। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পেলেও প্রচারণায় দেখা যায়নি তাঁকে। বিষয়টি তখন অনেকের নজরে আসে। কারণ, নিজের সিনেমা মুক্তি পেলে সাধারণত হলভিজিট, মানুষের সঙ্গে কথাবার্তা বলা কিংবা গণমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ায় বেশ সরব থাকেন বুবলী। এবার তাঁর অনুপস্থিতি রহস্য বাড়িয়ে দেয়।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলীছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে

    বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই তখন ধারণা করেছিলেন, শবনম বুবলী হয়তো দেশের বাইরে আছেন। পরিচালকও বলেছিলেন, বুবলী অসুস্থ তাই এখন তিনি প্রকাশ্যে আসছেন না। আবার কেউ কেউ মাতৃত্বের বিষয়টিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে বুবলী কিংবা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

    কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি ফেসবুক পোস্টে জানানোর পর সন্তানের জন্ম কোথায় হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা আলোচনা ছিল। বুবলীর কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন প্রথমে ঢাকার গুলশান ও পান্থপথ এলাকার দুটি হাসপাতালের নাম জানান। পরে একাধিক ঘনিষ্ঠজন নিশ্চিত করেছেন, ওই দুটি হাসপাতালের কোনোটিতে নয়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালেই বুবলীর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। যদিও হাসপাতালের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি সংশ্লিষ্টরা। এদিকে হাসপাতালের একাধিক সূত্রও খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : নায়িকার ফেসবুক থেকে
     

    গতকাল শুক্রবার কন্যাসন্তানের মা হওয়ার খবর জানিয়ে ফেসবুক পোস্টে বুবলী লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের পরিবারে একটি কন্যাসন্তানের আগমন হয়েছে। এই আনন্দের মুহূর্তে যারা আমাদের জন্য দোয়া করেছেন এবং শুভকামনা জানিয়েছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আমাদের মেয়ের জন্য সবার দোয়া কামনা করছি।’

    পোস্টের সঙ্গে একটি ফটোকার্ডও প্রকাশ করেন শবনম বুবলী। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ১১ মে জন্ম হয়েছে তাঁর কন্যাসন্তানের। নাম রাখা হয়েছে শারলিন খান। পোস্টে অভিনেতা শাকিব খানকেও ট্যাগ করেন বুবলী। খবরটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজার হাজার প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য জমা হয় পোস্টটিতে। সহশিল্পী, পরিচালক, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা নবজাতকের জন্য শুভকামনা জানান।

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে কন্যা সন্তানের খবরটি জানান শবনম বুবলী
    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ফটোকার্ডটি পোস্ট করে কন্যা সন্তানের খবরটি জানান শবনম বুবলী

    এদিকে মাতৃত্বের কারণে পিছিয়ে যাওয়া কাজগুলোও ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিচ্ছেন বুবলী। তাঁর সঙ্গে কাজ করা কয়েকজন পরিচালক জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছেন। শারীরিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে দুই-এক মাসের মধ্যেই আবারও শুটিংয়ে ফিরতে পারেন।

    ২০২০ সালের ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে শাকিব খান-শবনম বুবলীর সন্তান শেহজাদ খান বীরের জন্ম হয়। দুই বছর পর ২০২২ সালে সন্তান জন্মের খবরটি একসঙ্গে প্রকাশ্যে আনেন এই দুই তারকা। তবে এবার এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই কন্যাসন্তান জন্মের খবরটি প্রকাশ্যে আনলেন বুবলী।

    শবনম বুবলী
    শবনম বুবলী, ছবি : বুবলীর ফেসবুক পেজ
     

    দীর্ঘ কয়েক মাসের নীরবতা, আড়ালে থাকা এবং নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের জীবনের নতুন অধ্যায়ের খবর নিজেই জানালেন শবনম বুবলী। মাতৃত্বের এই ব্যক্তিগত সময়টুকু যে তিনি আলোচনার বাইরে, নিজের মতো করেই কাটাতে চেয়েছিলেন, সেটিও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে তাঁর এই সময়ের কর্মকাণ্ডে।

  • বুয়েটসহ ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য, আগের উপাচার্যদের অব্যাহতি

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) দেশের ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে পরিবর্তন এনেছে সরকার। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন ধরে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করে আসা অধ্যাপকদের অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। যাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, তাঁরা প্রায় সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

    আজ বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে অব্যাহতি ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

    বুয়েটে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক একরামুল হক। তিনি পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

    এ ছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন মো. মামুন অর রশিদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক এ কে এম মতিনুর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবাল (সিলেটের নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি উপাচার্যের দায়িত্বরত), জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক গোলাম রব্বানী, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল হাসনাত মোহা. শামীমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

    সবার নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে আচার্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। উপাচার্যদের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

    এ ছাড়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।

    এর আগে গত মার্চে সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি। এ ছাড়া একই সময় উচ্চশিক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদেও পরিবর্তন আনা হয়।

  • বৃথা গেল শারমিনের লড়াই, শ্রীলঙ্কার কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশের

    ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ছিল বিনা উইকেটে ৪৬। ২০ ওভারের খেলায় ১৫৪ রান তাড়ায় বেশ ভালো শুরু।

    কিন্তু পাওয়ার–প্লে শেষ হওয়ার পর রানের এই ধারা আর ধরে রাখা গেল না। তিনে নামা শারমিন ইসলাম একপ্রান্তে টিকে থাকলেও অন্য প্রান্তে আসা-যাওয়ার মিছিল। বাংলাদেশের ইনিংসও শেষ হলো তা-ই লক্ষ্য থেকে বেশ খানিকটা দূরে।

    সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ নারী দল ৫ উইকেটে ১৩৩ রানে আটকে শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হেরেছে ২১ রানে। এই হারে সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতেছিল ২৫ রানে।

    রান তাড়ায় নামা বাংলাদেশ সপ্তম ওভারে দিলারা আক্তারকে হারালেও আরেক প্রান্তে আক্রমণাত্মকই ছিলেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। অষ্টম ওভারে মালকি মাদারার ওভারে ছক্কা ও চারসহ তোলেন মোট ১৩ রান।

    ৮ ওভারে ১ উইকেটে ৬১ রান তুলে ফেলার পর নবম ওভার থেকে রানের গতি ধীর হতে শুরু করে। দশম ওভারে জুয়াইরিয়া ২৩ বলে ২৯ রান করে ফেরার পর উইকেটের মিছিলও শুরু হয়।

    এক প্রান্ত আগলে রাখতে গিয়ে শারমিনও হয়ে পড়েন রক্ষণাত্মক। এভাবে ওভারের পর ওভার আস্কিং রেটও বাড়তে থাকে, শেষ পর্যন্ত যা আর কমানো যায়নি। শারমিন ৪৭ বল খেলে ৪ চারে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুয়াইরিয়ার ২৯, দিলারার ২৩ তৃতীয় সর্বোচ্চ।

    এর আগে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা শ্রীলঙ্কা হার্শিতা সামারাবিক্রমার ২৯ বলে ৪৯ আর চামারি আতাপাত্তুর ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৪ রান করে।

    বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে একটি করে উইকেট নেন ফারিহা তৃষ্ণা, সুলতানা খাতুন, নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি।

    সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি–টুয়েন্টি ২ মে একই ভেন্যুতে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১৫৪/৪ (সামারাবিক্রমা ৪৯, আতাপাত্তু ৪২; সুলতানা ১.২১, ফারিহা ১/২৩। বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৩৩/৫ (শারমিন ৪৪*, জুয়াইরিয়া ২৯, দিলারা ২৩; কাবিশা ২/১৫)। ফল: শ্রীলঙ্কা নারী দল ২১ রানে জয়ী। সিরিজ: শ্রীলঙ্কা নারী দল তিন ম্যাচ সিরিজে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে।
  • বৃষ্টিতে ভেসে গেল পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ ছিলো গ্রুপ-২ এর পাকিস্তান বনাম নিউজিল্যান্ডের। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টিতে ভেসে পরিত্যক্ত হয় সুপার এইটের এই ম্যাচটি। 

    খেলা শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগে বৃষ্টি কিছুটা থামলে টস হয়। টসে জিতে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি না থামায় ম্যাচটির ভাগ্য গড়ায় পরিত্যক্তর দিকে।

    আইসিসি এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের ম্যাচের জন্য কোন রিজার্ভ ডে রাখেনি। ফলে ম্যাচটি অন্য দিনে মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই।

    আইসিসির টি-টোয়েন্টি নিয়ম অনুযায়ী দু'দলের কমপক্ষে ৫ ওভার খেলার সুযোগ থাকলে ম্যাচটি মাঠে গড়াতো। সেটিও সম্ভব না হলে সুপার ওভার। কিন্তু বৃষ্টি বাঁধায় সুপার ওভারও সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে। 

    আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পাল্লেকেলেতে পাকিস্তান মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড।

    উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে সুপার এইটে দুইটি গ্রুপের প্রত্যেক দলই খেলবে ৩টি করে ম্যাচ।   

     

     
     
  • বেজার অধীনে থাকবে বেসরকারি ইপিজেড, অধ্যাদেশ জারি

    বাংলাদেশের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাণিজ্যে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এখন থেকে দেশের বিদ্যমান সকল বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) সরাসরি ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ’ বা বেজার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬’ বাতিল করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে।

    মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

    আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল রহিতকরণ অধ্যাদেশ ২০২৬’ ইতিমধেই গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই আইনি কাঠামোর ফলে ১৯৯৬ সালের পুরনো আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত সকল বেসরকারি ইপিজেড এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃত হবে। মূলত দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে একক তদারকির আওতায় এনে আরও শক্তিশালী ও সমন্বিত করতেই সরকার এই বড় ধরণের সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নতুন অধ্যাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আইনটি রহিত করা হলেও বিনিয়োগকারীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আগের আইনের অধীনে প্রাপ্ত সকল লাইসেন্স সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং উদ্যোক্তাদের নতুন করে কোনো আবেদন করতে হবে না। একইসঙ্গে বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিনিয়োগকারীরা আগে যে ধরণের বন্ডেড ও রেয়াতি সুবিধা পেতেন সেগুলোও আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে এসব অঞ্চলের সামগ্রিক পরিচালনা ও তদারকি কার্যাবলি এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে বেজার ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে যেকোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

    প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে যে বেসরকারি ইপিজেড পরিচালনার জন্য আগে যে ‘গভর্নর বোর্ড’ ও ‘নির্বাহী সেল’ ছিল তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সরাসরি বেজাতে বদলি করা হবে এবং তাদের চাকরির শর্তাবলি আপাতত আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।

    এছাড়া বিলুপ্ত হওয়া বোর্ড বা সেলের পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান কোনো আইনি লড়াই বা মামলা এখন থেকে বেজার মামলা হিসেবেই পরিচালিত হবে। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই অধ্যাদেশটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী ভিত্তি তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • বেঞ্চের শক্তিতেই কি এবার প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতবে আর্সেনাল

    লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে তখন ঘড়ির কাঁটা ৭৪ মিনিট ছুঁই ছুঁই। আর্সেনাল সমর্থকদের চোখেমুখে রাজ্যের দুশ্চিন্তা। এভারটনের রক্ষণে বারবার আছড়ে পড়ছে ‘গানার’দের আক্রমণ, কিন্তু গোলের দেখা নেই। উল্টো গোলপোস্ট আর ভাগ্য সহায় না হলে পিছিয়েই পড়তে হতো স্বাগতিকদের। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন শিরোপা দৌড়ে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ব্যবধান কমানোর সুযোগটা বুঝি এবার ফসকে যাচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা মিডফিল্ডার মার্তিন জুবিমেন্দিকে তুলে নিয়ে মাঠে নামালেন ১৬ বছরের এক কিশোরকে—ম্যাক্স ডাউম্যান, যাঁর এখনো জিসিএসই পরীক্ষাই শেষ হয়নি!

    আরতেতার সেই বাজিই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হয়ে দাঁড়াল। ডান দিক থেকে ডাউম্যানের এক নিরীহদর্শন ক্রস বিপক্ষ গোলরক্ষক এভারটন জর্ডান পিকফোর্ডকে ভুল লাইনে টেনে আনল। সেই সুযোগে ফাঁকা জালে বল ঠেলে আর্সেনালকে এগিয়ে দিলেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। এরপর ডাউম্যান যা করলেন, তা রূপকথাকেও হার মানায়। এভারটনের এক কর্নার থেকে বল পেয়ে নিজের পায়ে ৬১.৩ মিটার টেনে নিয়ে গিয়ে করলেন দেখার মতো এক গোল। ১৬ বছর ৭৩ দিন বয়সে গোল করে ডাউম্যান ভেঙে দিলেন প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড।

    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা
    আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা, এএফপি
     

    ডাউম্যানের ওই গোল হয়তো ম্যাচের ফলাফল বদলে দেয়নি, গোলটি না হলেও আর্সেনাল ১-০ ব্যবধানে জিতত। কিন্তু ওই গোল এবং এই মৌসুমে ‘সুপার সাব’দের কাছ থেকে পাওয়া এমন অনেক গোলেই লুকিয়ে আছে আর্সেনালের সাফল্যের একটা রহস্যও।

    এবারের মৌসুমে বদলি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত ১১টি গোল এবং ১০টি অ্যাসিস্ট (গোলে সহযোগিতা) পেয়েছে গানাররা। এর মানে মোট ২১টি গোলে অবদান এবার আর্সেনালের সুপার সাবদের, যা প্রিমিয়ার লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অন্তত ৭টি বেশি।

    চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে শুধু ১১ জনে আসলে হয় না, লাগে এক শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ। আর্সেনাল এবার ঠিক সে পথেই হাঁটছে। মার্টিন ওডেগার্ড, ইয়োকেরেস কিংবা গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি—যখনই কেউ বেঞ্চ থেকে মাঠে নামছেন, তখনই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিচ্ছেন। সিটির বিপক্ষে ম্যাচে মার্তিনেল্লির সমতাসূচক গোল কিংবা নিউক্যাসলের বিপক্ষে মিকেল মেরিনোর গোল—সবই এসেছে বেঞ্চ থেকে।

    এর ঠিক উল্টো চিত্র ম্যানচেস্টার সিটিতে। পেপ গার্দিওলার হাতে চেরকি, ডকু, ফোডেন বা রেইন্ডারসের মতো তারকা থাকলেও তাঁরা বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচ জেতাতে পারছেন না। এই মৌসুমে সিটির বদলি খেলোয়াড়েরা গোল করেছেন মাত্র একটি, সেটিও সেই উদ্বোধনী সপ্তাহে উলভসের বিপক্ষে। এরপর ২৯ ম্যাচে সিটির কোনো বদলি খেলোয়াড় জালের দেখা পাননি। অথচ গত শনিবার ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে ড্র ম্যাচেও ডকু-ফোডেনদের নামিয়েছিলেন পেপ, কিন্তু লাভ হয়নি।

     
    আর্সেনাল এখন সিটির চেয়ে ৯ পয়েন্টে এগিয়ে। গার্দিওলার হাতে রত্নভান্ডার থাকলেও সেটা কাজে লাগছে না। অন্যদিকে আরতেতা তাঁর তুরুপের তাসগুলো ব্যবহার করছেন নিখুঁতভাবে। গত মৌসুমে ব্রাইটনের গড়া বদলিদের ২৫ গোলের অবদানের রেকর্ডটি এবার ভেঙে দিতে পারে আর্সেনাল।

    কে জানে, আরতেতার এই সুপার সাবরাই হয়তো শেষ পর্যন্ত এমিরেটসে উৎসবের আবির ওড়াবেন!

  • বেলজিয়ামে স্কলারশিপ, আইইএলটিএস ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ

    ইউরোপের দেশগুলোতে পড়াশোনার স্বপ্ন থাকে অনেকেরই। বৃত্তি নিয়ে ইউরোপে পড়তে চাইলে ওই মহাদেশের বেলজিয়াম হতে পারে আপনার গন্তব্য। দেশটিতে পড়ার ইচ্ছা থাকলে আছে সুখবরও। বেলজিয়াম দিচ্ছে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আছে নানা বৃত্তিও। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের জন্য পরিচিত। আইইএলটিএস পরীক্ষায় না দিয়েও পড়াশোনার জন্য এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারেন যে কেউ।

    আইইএলটিএস ছাড়াই বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য স্কলারশিপের তালিকা তুলে ধরা হলো—

    ১. গভর্মেন্ট অব বেলজিয়াম স্কলারশিপ—

    বেলজিয়াম সরকার এক বছরের বিশেষ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রাম বা চার থেকে ছয় মাসের উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সে বৃত্তি দেয়। উন্নয়নশীল দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এআরইএস নামের এ বৃত্তিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করতে পারেন। এ বৃত্তিতে বেলজিয়াম সরকারনির্ধারিত যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ পেতে পারবেন যে কেউ।

    ২. আইইএলটিএস ছাড়াই মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ—

    মাস্টার মাইন্ড স্কলারশিপ বেলজিয়ামের আঞ্চলিক সরকার বা ফ্ল্যান্ডার্স সরকারের অর্থায়নের একিট বৃত্তি। ফ্ল্যান্ডার্স ও ব্রাসেলসে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার জন্য প্রতিবছর প্রায় ৩০টি স্কলারশিপ দেওয়া হয়। কিছু স্কলারশিপে আবাসন, চিকিৎসা বীমা, টিউশন ফি মওকুফসহ ৮ হাজার ২০০ ইউরো শিক্ষা ভাতা দেয়।

    বেলজিয়ামে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ আছে।
    বেলজিয়ামে আইইএলটিএস ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থায়নে অধ্যয়নের সুযোগ আছে।ফাইল ছবি

    ৩. ইরাসমাস মুন্ডাস মাস্টার্স স্কলারশিপ—

    ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ স্কলারশিপটি ইউরোপে বিভিন্ন মাস্টার্স ও ডক্টরাল স্টাডি প্রোগ্রামের জন্য। আপনি বেলজিয়ামে পড়ার জন্য আইইএলটিএস ছাড়া ইরাসমাস মুন্ডাস স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। বৃত্তিটি শিক্ষার্থীদের মাসিক ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ ইউরো জীবনযাত্রার খরচসহ টিউশন ফি, ভিসা ফি, ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের বিমা খরচ দিয়ে থাকে।

    ৪. ভিএলআইআর-ইউওএস স্কলারশিপ প্রোগ্রাম—

    ভিএলআইআর-ইউওএস বৃত্তি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি ছাড়াই, জীবনযাত্রার খরচ, বিমানে যাতায়াতের টিকিট ও মাসিক অনুদান দেয়। এটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষিত স্কলারশিপ প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে একটি। ফ্লেমিশ ইউনিভার্সিটি বা কলেজে সম্পূর্ণ অর্থায়নে পড়ার জন্য প্রায় ৩১ জন বিদেশি ছাত্রকে প্রতিবছর এই বৃত্তি দেওয়া হয়।

    ৫. গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ—

    গ্লোবাল মাইন্ডস ডক্টরাল স্কলারশিপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতামূলক গবেষণাকে উৎসাহিত করার জন্য কে ইউ লিভেন-এর একটি উদ্যোগ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিএইচডি প্রার্থীদের গবেষণা করার সুযোগ দেওয়া হয় এ বৃত্তিতে। বৃত্তিটি সাধারণত সম্পূর্ণ টিউশন ফি, ২ হাজার ১৯৯ ইউরো মাসিক উপবৃত্তি, চিকিৎসা বিমা, বিমান ভাড়ার টিকিট ও মাসিক ৩১০ ইউরো গবেষণা ভাতা দিয়ে থাকে। এ স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য আইইএলটিএস লাগবে না।

    বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইইএলইটিএস নিয়ে খুব একটা উদ্বিগ্ন নয়। বিশেষ করে, আপনি ইতিমধ্যেই আপনার ডিগ্রিগুলো ইংরেজিতে নিয়ে থাকেন। উপরের বৃত্তি ছাড়াও বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলইটিএস ছাড়াই পড়তে পারবেন। এগুলো হলো—

    *ভ্রিজে ইউনিভার্সিটি ব্রাসেলস

    *অ্যান্টওয়ার্প বিশ্ববিদ্যালয়

    *ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়

    *কে ইউ লিভেন

    *হ্যাসেল্ট বিশ্ববিদ্যালয়

    *ইউ লিগ।

     
     

    এখন প্রশ্ন হতে পারে, কীভাবে আইইএলটিএস ছাড়া বেলজিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন। যদি আপনি আইইএলটিএস ছাড়া আবেদন করতে চান, সে ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইংরেজিতে লিখতে, পড়তে ও যোগাযোগ করতে পারেন। বেলজিয়ামের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আবেদন করার সময় আইইএলটিএস থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য এখানে কয়েকটি সহজ উপায় রয়েছে।

    আপনি যদি ইংরেজি ভাষা ইনস্টিটিউট থেকে আপনার আগের ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন। পূর্ববর্তী শিক্ষা যে ইংরেজিতে ছিল, তার প্রমাণ হিসেবে আপনার পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি ইংরেজি ভাষার দক্ষতার প্রশংসাপত্র, লেটারহেডযুক্ত কাগজে মুদ্রিত এবং সঠিকভাবে স্ট্যাম্প করা একটি সরকারি প্রশংসাপত্র। বেলজিয়ামের কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ইংরেজি ব্যবহারের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম অফার করে।

  • বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলা ও অভিযানে নিহত ছাড়াল ২৫০

    ইসলামাবাদ

  • বোলিং শেষ করতে দেরি, মিরাজদের জরিমানা

    ম্যাচের প্রথম বল হয়েছে বেলা এগারোটায়, ৫০ ওভারের ইনিংস শেষ হওয়ার কথা আড়াইটায়। কিন্তু বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রথমে ব্যাট করা কিউইদের ইনিংস আড়াইটার মধ্যে শেষ হয়নি। নির্দিষ্ট সময়ের পৌনে এক ঘণ্টা পর সোয়া ৩টায় শেষ হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাও ৪৮.৪ ওভারে অলআউট না হলে সময় বেশি লাগত আরও।

    সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে হওয়া ম্যাচটিতে এমন বিলম্বে বাংলাদেশ দলকে জরিমানা করেছে আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২ ওভার কম করায় বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আজ আইসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।

    গরমের মধ্যে চলা বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড সিরিজের দুই ম্যাচেই প্রথম ইনিংস শেষ হতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি লেগেছে। গরমের কারণে একাধিক পানি পানের বিরতি, খেলোয়াড়দের ছোটখাটো চোটের কারণে অস্বস্তি আর পেসারদের দিয়ে বেশি বোলিংয়ের কারণে বিলম্বটা বেশি হয়েছে।

    সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
    সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলিং শেষ হয়েছে নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে
     

    আইসিসি জানিয়েছে, সময়ের সব ছাড় বিবেচনায় নেওয়ার পরও দেখা যায়, মিরাজরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২ ওভার পিছিয়ে ছিলেন। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল, তৃতীয় আম্পায়ার নীতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে মন্থর ওভার রেটের অভিযোগ আনেন।

    ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিরাজ অপরাধ স্বীকার করে শাস্তির প্রস্তাব মেনে নেওয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট আইসিসি কোড অব কন্ডাক্টের ২.২২ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মোট ১০ শতাংশ জরিমানার আদেশ দেন।

  • ব্রিজের নিচে পড়ে ছিল রিনার মৃতদেহ, তোলপাড় করা সেই ঘটনা পর্দায়

    কানাডার এক কিশোরীর মৃত্যু কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো দেশকে। স্কুলের বন্ধুদের হাতে নির্মম নির্যাতন, তারপর হত্যা—সেই বাস্তব ঘটনাই নতুন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে হুলুর ক্রাইম ড্রামা ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর মাধ্যমে। সিরিজটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের গল্প নয়, এটি কিশোর বয়সের নিঃসঙ্গতা, বুলিং, পরিচয়ের সংকট এবং সমাজের অন্ধকার এক বাস্তবতাকে সামনে এনেছে।

    ১৯৯৭ সালের ১৪ নভেম্বর। কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়ার উপকণ্ঠ সানিচ এলাকার ১৪ বছর বয়সী কিশোরী রিনা ভির্ককে ডাকা হয়েছিল একটি পার্টিতে। সেদিন রাতে সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তদন্তে উঠে আসে ভয়াবহ তথ্য—নিজেরই সমবয়সী কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে খুন হয়েছিল রিনা।

    এই সত্য ঘটনা নিয়েই ২০০৫ সালে বই লিখেছিলেন সাংবাদিক ও লেখক রেবেকা গডফ্রে। সেই বই অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’। সিরিজে রেবেকা গডফ্রের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেইলি কিও, পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাম বেন্টল্যান্ড চরিত্রে আছেন লিলি গ্লাডস্টোন।

    যে মেয়েটি নিজেকে ‘বহিরাগত’ মনে করত
    রিনার পরিবার ছিল ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান। ছোটবেলা থেকেই তাকে নানা ধরনের বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। নিজের চেহারা, ওজন, পারিবারিক রক্ষণশীলতা—সবকিছু মিলিয়ে সে প্রায়ই নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবত। পরিবারে ধর্মীয় অনুশাসনও ছিল কঠোর। ফলে কৈশোরে এসে পরিবার থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে সে।

    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকবার বাড়ি থেকেও পালিয়েছিল রিনা। এমনকি স্বাধীনভাবে থাকার আশায় নিজের বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও তুলেছিল, যদিও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয়।

    এই মানসিক অস্থিরতার সময়েই সে জড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এক কিশোরী গ্যাংয়ের সঙ্গে। সেই দলের নেত্রী ছিল নিকোল কুক নামের এক কিশোরী, যাকে বই ও সিরিজে ‘জোসেফিন বেল’ নামে দেখানো হয়েছে।

    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সেতুর নিচে সেই রাত
    ঘটনার রাতে প্রথমে একটি স্কুলের পেছনে কিশোর-কিশোরীদের বড় জমায়েত হয়েছিল। পুলিশ সেটি ভেঙে দিলে কয়েকজন চলে যায় ক্রেগফ্লাওয়ার ব্রিজ এলাকায়। সেখানেই শুরু হয় রিনার ওপর ভয়াবহ হামলা।

    তদন্তে উঠে আসে, গুজব ছড়ানোর অভিযোগে রিনাকে ‘শাস্তি’ দিতে চেয়েছিল দলটি। প্রথমে কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করে। পরে অধিকাংশ চলে গেলেও দুই কিশোর—কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়টসকি রিনার পিছু নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়।
    এক সপ্তাহ পর উদ্ধার করা হয় রিনার মরদেহ।

     

    পুরো কানাডাকে নাড়িয়ে দেওয়া মামলা
    এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি অপরাধ ছিল না। এটি কানাডাজুড়ে বুলিং, কিশোর সহিংসতা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছিল। সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনাটি।

    হামলায় অংশ নেওয়া ছয় কিশোরী পরে হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। তবে মূল হত্যার অভিযোগে বিচার হয় কেলি এলার্ড ও ওয়ারেন গ্লোওয়াটস্কির।
    ওয়ারেন পরে নিজের অপরাধ স্বীকার করে এবং রিনার পরিবারের কাছে ক্ষমাও চেয়েছিল। অন্যদিকে কেলি এলার্ডের বিচার ছিল দীর্ঘ ও জটিল। একাধিকবার মামলা, আপিল ও পুনর্বিচারের পর শেষ পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয় ডিগ্রি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে সে নিজের নাম পরিবর্তন করে কেরি সিম রাখে।

    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’-এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    কেন আবার আলোচনায়
    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাস্তব অপরাধভিত্তিক সিরিজের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। কিন্তু ‘আন্ডার দ্য ব্রিজ’ আলাদা হয়ে উঠেছে এর আবেগগত নির্মাণ ও চরিত্রের গভীরতার কারণে। সিরিজটি শুধু হত্যাকাণ্ড দেখায় না; বরং প্রশ্ন তোলে, কীভাবে কিশোর বয়সের একাকিত্ব, গ্রহণযোগ্যতার আকাঙ্ক্ষা এবং দলগত মানসিকতা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নিতে পারে?

    বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে রিনার পরিচয়ের সংকট ও মানসিক চাপ অনেক দর্শকের কাছেই গভীরভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
    ঘটনার দুই দশক পরও লেখক রেবেকা গডফ্রে লিখেছিলেন, এই হত্যাকাণ্ড এখনো মানুষকে ‘অস্বস্তিতে ফেলে এবং নাড়িয়ে দেয়’।

    টাইম অবলম্বনে

  • ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তি, নির্বাচিত শিক্ষার্থী মাসে পাবেন ৮,০০০ টাকা

    ব্র্যাকের মেধাবিকাশ বৃত্তিতে আবেদন চলছে। ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মেধাবিকাশ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থী এককালীন ২০ হাজার টাকা এবং মাসে ৮ হাজার টাকা বৃত্তি পাবেন।

    ব্র্যাক মেধাবিকাশ বৃত্তিসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পথ সুগম করার জন্য ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য মেধাবিকাশ বৃত্তি কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের লক্ষ্য সহানুভূতিশীল, সচেতন ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা নিজেদের সফলতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার ও শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ করে দিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করতে ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    আবেদনের যোগ্যতা—

    *আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে;

    *পরিবারের মাসিক আয় ২০,০০০ টাকার কম হতে হবে।

    শিক্ষার্থী নির্বাচনের মানদণ্ড—

    ক. এসএসসি, এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত হতে হবে

    খ. অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসতে হবে

    গ. সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হতে হবে

    ঘ. ব্র্যাক কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত সদস্যদের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে

    ঙ. ব্র্যাক গ্র্যাজুয়েট ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর (যেমন: শারীরিক প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী) শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত শিথিলযোগ্য।

    বৃত্তির পরিমাণ

    বৃত্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীকে এককালীন ২০ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করবে ব্র্যাক। মাসিক ৮ হাজার টাকা হারে বৃত্তি প্রদান করা হবে।

    আবেদনকারীর প্রতি বিশেষ নির্দেশনাবলি—

    শিক্ষাবর্ষ/সেশন: এই বৃত্তি শুধু সেই সব শিক্ষার্থীদের জন্য, যাঁরা ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে (Session: 2025-26) যেকোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হয়েছেন।

    সঠিক তথ্য প্রদান: আবেদনের প্রতিটি অংশ অত্যন্ত মনোযোগসহকারে পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে এসএসসি (SSC) ও এইচএসসি (HSC) পরীক্ষার জিপিএ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সঠিকভাবে প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

    ডকুমেন্ট স্ক্যানিং: প্রয়োজনীয় সব মূল সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতকরণ কপির পরিষ্কার স্ক্যান কপি (PDF/JPEG ফরম্যাটে) আপলোড করতে হবে। ঝাপসা বা অস্পষ্ট ছবি আবেদনের অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    পারিবারিক আয়ের বিবরণ: পরিবারের মাসিক/বার্ষিক আয়ের তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সত্যতা বজায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে এর সাপেক্ষে প্রমাণাদি যাচাই করা হতে পারে।

    যোগাযোগের মাধ্যম: ফরমে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর এবং ই–মেইল ঠিকানাটি অবশ্যই সচল থাকতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে যেকোনো প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

    সতর্কীকরণ: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করলে যেকোনো পর্যায়ে আবেদনটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

    **এখানে সংগৃহীত সব তথ্য সম্পূর্ণ গোপনীয় রাখা হবে এবং শুধু বৃত্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার স্বার্থে ব্যবহার করা হবে।

    আবেদনপ্রক্রিয়া-

    আবেদনের জন্য লিংকে ফরম পূরণ করতে হবে। ভর্তি রসিদ ব্যতীত আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

    আবেদনের শেষ তারিখ—

    ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

  • বড় দলের বিপক্ষে লড়াই কত কঠিন, বুঝল বাংলাদেশ

    আপনি যখন ‘জোড়াতালির’ একটা লিগ খেলে এশিয়ান কাপের মঞ্চে যাবেন, তখন এমন অসহায় আত্মসমর্পণটা স্বাভাবিক! যেখানে প্রতিপক্ষ চীন–উত্তর কোরিয়া, তাদের সামনে দাঁড়ানোর আগে অন্তত উচ্চ র‍্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল। এ প্রয়োজনীয়তার কথা বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলারও বোঝাতে পারেননি দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ৫–০ গোলের হারটা শুধু হার নয়, বাংলাদেশের জন্য একটা শিক্ষাও।

    চীন ও উত্তর কোরিয়া—দুই দলের বিপক্ষে দুরকম বাংলাদেশকে দেখা গেল। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে চীনের দ্রুতলয়ের প্রতি–আক্রমণ, দূরপাল্লার পাস আর ক্রসের পসরা থামিয়ে বাংলাদেশও আক্রমণ করেছে। কিন্তু আজকের চিত্র একেবারে ভিন্ন।

    বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে উত্তর কোরিয়া দেখিয়েছে কীভাবে রক্ষণ তছনছ করতে হয়। গোল পাঁচটা না হয়ে আট–নয়টা বা দশটা হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধরন অন্তত সেই কথাই বলছে।

    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ
    রক্ষণ সামলাতেই হিমশিম খেয়েছে বাংলাদেশ, এএফপি
     

    পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের গোলমুখে ৩১টি শট নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, যার ১১টি ছিল পোস্টে। বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও নিতে পারেনি। গোলকিপার মিলি আক্তার একটা ধন্যবাদ পেতেই পারেন। পাঁচটি বল তাঁর আশপাশ দিয়ে জাল ছুঁয়েছে ঠিকই, কিন্তু আরও পাঁচ–ছয়টি গোলে শট কিন্তু দারুণ দৃঢ়তায় আটকেছেন তিনি।
    শুধু মিলির দৃঢ়তাই নয়, বাংলাদেশের রক্ষণভাগ নিয়েও সন্তুষ্টির জায়গা আছে।

    সব মিলিয়ে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণের ক্ষিপ্রতা এতটাই তীব্র ছিল বাংলাদেশের পাঁচ ডিফেন্ডারের সঙ্গে দুই মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাও প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্টের কাজে মন দেন। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করেলেও আক্রমণভাগে বরাবরের মতো ব্যর্থই বাংলাদেশ। বিপরীতে উত্তর কোরিয়া অ্যাটাকিং থার্ডে ক্রমাগত ক্রস বাড়িয়ে, লং শটে তৈরি করা সুযোগগুলোকে গোলে পরিণত করেছে।

    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল
    উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা হয়ে থাকল, এএফপি
     

    বাংলাদেশ নিজেদের পায়ে খুব একটা বল রাখতে পারেনি, পারেনি আক্রমণ করতেও। এই ‘না পারাটা’ যেমন তাদের ভীষণ পীড়া দেবে, তেমনি উত্তর কোরিয়ার শক্তি–সামর্থ্য দেখার পর এই হার থেকে ইতিবাচক বিষয়গুলোও তুলে নেবে।

    উত্তর কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ (র‍্যাঙ্কিংয়ে ১১২তম) থেকে ১০৩ ধাপ এগিয়ে, চারবার বিশ্বকাপে খেলেছে তারা, দশবার এশিয়ান কাপে খেলে তিনবার হয়েছে চ্যাম্পিয়ন। গত দশ ম্যাচে হেরেছে মোটে একটি। এমন একটা দলের বিপক্ষে ৫–০ গোলের হার স্রেফ হারই নয়, বরং বাংলাদেশের এই দলটাকে কীভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নতুন করে ভাবার উপলক্ষও।

  • বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টা উপভোগ করছেন, জানালেন জয়া

    ৬ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পেয়েছে জয়া আহসান অভিনীত সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সিনেমা ‘ওসিডি’। সিনেমাটির প্রচারে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ালের সঙ্গে ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী। এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে সিনেমা ছাড়াও নানা প্রসঙ্গ।

    দুই বাংলার সিনেমা নিয়ে কতটা আশাবাদী? এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দুটো (দুই বাংলার সিনেমা) নিয়েই তো আশাবাদী। এখানে “ওসিডি”র মতো ছবি রিলিজ করছে এবং দর্শক দেখেছে। এর আগে “ডিয়ার মা”, “পুতুলনাচের ইতিকথা” করেছি; প্রত্যেকটি ডিফারেন্ট ডাইমেনশনের কাজ (ভিন্ন ধরনের)। একজন আর্টিস্ট হিসেবে কাজগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব ভাগ্যের ব্যাপার। এখন এসেছে “ওসিডি”, সেখানে পারফরমেন্সটা খাবার একটা জায়গা আছে। আমি কতটুকু পেরেছি, আমি বলব না। তিনটা সিনেমা তিন ধরনের—একটি একেবারে পারিবারিক, একটি একদম ক্ল্যাসিক এবং এখন যেটা হচ্ছে, সেটার ভেতরে একটা প্রচণ্ড শক্তিশালী সামাজিক বার্তা আছে।’

    গত বছরে তাঁর অভিনীত বাংলাদেশি সিনেমার সাফল্যের কথা তুলে ধরে জয়া আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নানা রকম পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমার দুটে ছবি “উৎসব” ও “তান্ডব” ব্লকবাস্টার সুপারহিট। এরপর সামনে আরও খুব ভালো ভালো দারুণ কিছু ছবি আসবে, “রইদ” নামে একটি ছবির ট্রেলার আপনারা দেখেছেন, অসাধারণ ছবি হবে।’

    জয়া অভিনীত পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাগুলো বাংলাদেশে মুক্তি পায় না, একইভাবে ঢাকার সিনেমাও কলকাতায় মুক্তি পায় না। জয়া আশা করেন, অদূর ভবিষ্যতে এটা ঠিক হয়ে যাবে।

    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    ‘ওসিডি’ সিনেমায় জয়া। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে

    একই সাক্ষাৎকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে জয়া আহসান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া তো আসলে আমার ব্যক্তিগত জায়গা নয়; এটা জয়া আহসানের ইমেজটাকে দেখার জায়গা। একেবারেই আনুষ্ঠানিক একটা জায়গা। তারপরও আমি মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করি।’

    সাক্ষাৎকারের শেষ অংশ ‘র‍্যাপিড ফায়ার’–এ ১০টি প্রশ্নের উত্তর দেন জয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোন বিষয়টি বেশি উপভোগ করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে জয়া বলেন, ‘আমি দেখতে আমার বাবার মতো হয়ে যাচ্ছি।’
    এ ছাড়া জয়া জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে যাচ্ছেন। এমন কিছু নেই, যা করতে নিজেকে ‘না’ করেন।

    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
    জয়া আহসান। অভিনেত্রীর ফেসবুক থেকে
  • ভক্তদের ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন রোনালদো

    এক মাসের সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। আর এই উপলক্ষে ভক্ত-সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

    রোনালদো লিখেছেন, সবাইকে ঈদ মোবারক! আশা করি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে তোমাদের দিনটি বিশেষভাবে কাটবে। সবার জন্য শান্তি ও সুখ কামনা করছি।

    বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মুসলিম ভক্তের কথা মাথায় রেখে রোনালদোর এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন দেশ থেকে তার পোস্টে ভক্তরা কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

    বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের খেলছেন রোনালদো। মধ্যপ্রাচ্যে খেলার সুবাদে মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

    এর আগেও বিভিন্ন উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেও বিশ্বব্যাপী ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন রোনালদো। যা তাকে ক্রীড়াজগতের বাইরেও এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।

     

  • ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানালেন এহছানুল হক মিলন

    চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ী ড. এহছানুল হক মিলন ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে নিজের পরিকল্পনা জানিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

    ড. মিলনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, স্মার্ট ক্লাসরুম, অনলাইন লার্নিং এবং স্কিল-বেইজড ট্রেনিং শিক্ষার মূল ভিত্তি হবে। তার লক্ষ্য হলো দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা, যাতে তারা দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে।

    ড. মিলন জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, দক্ষতা নির্ভর ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থাই গড়বে সবার আগে বাংলাদেশ।

    ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. এহছানুল হক মিলন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নকলবিরোধী কঠোর অভিযান চালানো হয়। এই সাহসী পদক্ষেপের কারণে পরীক্ষার হলে নকলের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এছাড়াও তিনি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

     

  • ভাইরাল ভিডিওতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট আর ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কেমিস্ট্রি নিয়ে তোলপাড়

    হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে অন্যান্য সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ফ্রান্সে গিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এর মাঝেই মনোযোগ ঘুরে গিয়েছে এই ভাইরাল ভিডিওতে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁকে এই সময়ের সবচেয়ে ড্যাশিং বিশ্বনেতাদের মধ্যে এগিয়ে রাখা যায়। বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজেদের সার্বভৌম শক্তির জানান দিয়েছেন এই ইয়াং ম্যান বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে।

    ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মেলোনি
     
    ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মেলোনি
    তাঁদের ভিডিও এখন ভাইরাল
     
    তাঁদের ভিডিও এখন ভাইরাল

    তাঁরই ডাকে সাড়া দিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে অন্যান্য সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ফ্রান্সে গিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আছেন যুক্তরাজ্যের কিয়ের স্টারমারসহ আরও সব জাঁদরেল ব্যক্তিত্ব। এর মাঝেই মনোযোগ ঘুরে গিয়েছে এই ভাইরাল ভিডিওতে।

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বরাবরই স্যুটেড লুকে ড্যাপার স্টাইলে দেখা দেন। এদিনও তিনি পরেছেন নেভি স্লিক কাটের চমৎকার ফিটিংয়ের সিঙ্গেল লেপেলের স্যুট, মাচিং টাই, সাদা শার্ট আর ঝা চকচকে ড্রেস শুজ। আর মেলোনি গিয়েছেন টকটকে লাল কিছুটা বেলবটম কাটের প্যান্টস্যুটে। সঙ্গে আছে সাদা শার্ট। উঁকি দিচ্ছে কালো কিটেন হিলস।

     
     

    ফ্রান্সে কারও সঙ্গে দেখা হলে ট্র্যাডিশনাল 'লা বিস' কায়দায় গালে গাল ঠেকিয়ে 'চিক কিস' করার চল আছে। সেই সঙ্গে আলিঙ্গনও থাকতে পারে। ফ্রেঞ্চদের জন্য খুবই স্বাভাবিক এই শুভেচ্ছা জানানোর রীতি। তবে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে এই ফ্রেন্ডলি মুহূর্তটিই কিছুটা অকওয়ার্ড হয়েছে ফ্রেঞ্চ প্রেসিডেন্ট মাখোঁ আর ইতালিয়ান প্রধানমন্ত্রী মেলোনির মাঝে। আবার মাখোঁর কী কথা শুনে যেন হেসে নুয়ে পড়লেন মেলোনি। এখন এই দুই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কেমিস্ট্রি নিয়েও তোলপাড় চলছে। সব মিলিয়ে এই ভিডিও এখন রীতিমতো ভাইরাল।

    সূত্র: এমএসএন, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, উইঅন

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • ভাইরাল ভিডিওতেই মিলল ইঙ্গিত, বিয়ের পথে বিজয়-রাশমিকা

    দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় তারকা জুটি বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো আমন্ত্রণপত্র ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্য মিলিয়ে এখন প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, এই বহুল আলোচিত তারকা–বিয়ের আয়োজন। এই দুই তারকা প্রকাশ্যে এখনো কিছু না বললেও প্রতিটি আপডেটে খবর রাখছেন ভক্তরা। এ কারণেই সম্প্রতি বিজয়ের হায়দরাবাদের বাড়ির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আগামী সপ্তাহে উদয়পুরে হতে যাওয়া বিয়েকে ঘিরে তাঁর বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে জমকালো আলোকসজ্জায়।

    সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি
    সিনেমার দৃশ্যে রাশমিকা ও বিজয়। আইএমডিবি

    আর মাত্র এক সপ্তাহ, শোনা যাচ্ছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজস্থানের উদয়পুরের একটি প্রাসাদে বিয়ে করবেন এই জুটি। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান সামনে রেখে ‘অর্জুন রেড্ডি’খ্যাত অভিনেতার হায়দরাবাদের বিলাসবহুল বাড়িটি সাজানো হয়েছে অসংখ্য ফেয়ারি লাইটে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে কর্মীদের ব্যস্ততা দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতা তাঁবু টানানোসহ নানা প্রস্তুতির কাজ করতে দেখা গেছে তাঁদের।

    কয়েক দিন আগে মুম্বাই বিমানবন্দরে দেখা যায় হবু এই তারকা দম্পতিকে। যদিও তাঁরা একসঙ্গে আসেননি, তবে একই সময়ে একই জায়গায় তাঁদের উপস্থিতি নজরে পড়ে পাপারাজ্জিদের। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিয়ের কার্ডও ভাইরাল হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়—২৬ ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করছেন বিজয় ও রাশমিকা।
    কার্ডে আরও বলা হয়েছে, আগামী ৪ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা থেকে হায়দরাবাদের বানজারা হিলসের তাজ কৃষ্ণা হোটেলে আয়োজন করা হবে বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। কার্ডে লেখা ছিল, ‘পরিবারের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়ে রাশমিকা ও আমি ২৬.০২.২৬ তারিখে একটি ছোট ও ঘরোয়া আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছি। আমাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। ৪ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা থেকে। তাজ কৃষ্ণা, বানজারা হিলস, হায়দরাবাদ। একসঙ্গে উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছান্তে, বিজয় (রাশমিকা ও আমার পক্ষ থেকে)।’

    বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা
    বিজয় দেবরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা, ছবি : ইনস্টাগ্রাম থেকে

    তবে কার্ডটি সত্যিই এই তারকা জুটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
    ‘ডিয়ার কমরেড’ খ্যাত এই জুটি বরাবরই ব্যক্তিগত বিষয় গোপন রাখতে পছন্দ করেন। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি খুব ছোট পরিসরে এবং সীমিত অতিথি তালিকা নিয়ে আয়োজন করা হবে। ইন্ডিয়া টুডেকে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ‘অতিথির সংখ্যা খুবই কম থাকবে। কোনো মোবাইল ফোনের অনুমতি থাকবে না। এমনকি যাঁরা বিয়ের ভিডিও ধারণ করবেন, তাঁদেরও চুক্তিতে সই করতে হচ্ছে।’পিঙ্কভিলা অবলম্বনে

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব