• বিশ্বকাপে ফুটবলাররা কী করতে পারবেন, আর কী পারবেন না

    বিশ্বকাপ ফুটবল মানে তো শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এর বাইরেও জড়িয়ে থাকে হাজারো নিয়মকানুন। ফিফা, আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি), বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থার (ওয়াদা) কড়া নজরদারিতে থাকতে হয় ফুটবলারদের।

    চলুন দেখে নেওয়া যাক, বিশ্বকাপে মাঠ ও মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ঠিক কী কী করার স্বাধীনতা আছে, আর কোন কোন জায়গায় রয়েছে কঠোর ‘লক্ষণরেখা’।
    এই নিয়মকানুনের বেশির ভাগই অবশ্য ফুটবলের মৌলিক বিধিনিষেধ হিসেবে সব সময়ই কার্যকর।

    জার্সি খোলা বারণ

    গোল করে আনন্দে মেতে ওঠার চিরায়ত দৃশ্য এটি। কিন্তু আবেগের বশে জার্সি খুললেই সর্বনাশ, রেফারি পকেট থেকে হলুদ কার্ড বের করতে দ্বিধা করবেন না।

    সীমাছাড়া উদ্‌যাপন

    গোলের পর সতীর্থদের নিয়ে উল্লাস করাই যায়। তবে সময় নষ্ট করা বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দেওয়ার মতো অতি উদ্‌যাপন দেখলে ফিফা কড়া শাস্তি দিতে পারে।
    গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবে
    গোল করার পর এমনকিছু করলেন হলুদ কার্ড দেখতে হবেছবি: রয়টার্স

    গয়নাগাটি নিষিদ্ধ

    মাঠে কোনো রকম গয়না পরা চলবে না। আংটি, গলার চেইন কিংবা ব্রেসলেটকে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে ফিফা।

    সুরক্ষাকবচে সবুজ সংকেত

    খেলোয়াড়েরা চাইলে সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম যেমন ব্যান্ডেজ, ফেস মাস্ক বা গার্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে মাঠে নামার আগে দলীয় চিকিৎসক ও রেফারির অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

    গোপন বার্তা নয়

    ভেতরের গেঞ্জি বা অন্য কোনো পোশাকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত কোনো বার্তা প্রদর্শন করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে অপেক্ষা করছে বড় শাস্তি।

    রেফারির সঙ্গে কথা

    ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে কথা বলা অপরাধ নয়। তবে সেই আলাপচারিতায় আক্রমণাত্মক মনোভাব, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ থাকলে হলুদ কিংবা লাল কার্ড নিশ্চিত।
    ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ড
    ফাউলের শিকারের অভিনয় করলেন দেখতে হবে হলুদ কার্ডছবি: রয়টার্স

    ডাইভিংয়ের শাস্তি

    ফাউলের শিকার হওয়ার ভান করা বা মাঠে অযথা ডাইভ দেওয়া দর্শকও পছন্দ করে না। অভিনয় করে রেফারিকে ঠকাতে গেলে উল্টো হলুদ কার্ড খেতে হবে।

    হলুদ কার্ডের বোঝা

    আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলেই বিপদ। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচটিতে ওই খেলোয়াড়কে বাধ্যতামূলকভাবে দর্শকের সারিতে বসে থাকতে হবে।

    লাল কার্ডের নিয়ম

    লাল কার্ড দেখার সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ছাড়তে হবে। এই নির্দেশের পরও যদি কেউ মাঠে থাকতে গড়িমসি করেন, তবে তাঁর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।

    ডোপ টেস্টের কড়াকড়ি

    বিশ্বকাপজুড়ে চলে ডোপবিরোধী কঠোর নজরদারি। ম্যাচ শেষে, অনুশীলনে, এমনকি টিম হোটেলেও যেকোনো খেলোয়াড়কে আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য ডেকে নেওয়া হতে পারে।

    পরীক্ষায় ‘না’ বলা যাবে না

    ফিফা এবং ‘ওয়াডা’র নিয়ম অনুযায়ী, ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানানো বা নমুনায় কারচুপি করার কোনো সুযোগ নেই। এমনটা করলে ক্যারিয়ারে নেমে আসতে পারে বড় নিষেধাজ্ঞা।

    সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার

    বিশ্বকাপ চলাকালীন ফুটবলাররা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন। তবে অনেক দলই তাদের খেলোয়াড়দের অনলাইনের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখে।
    অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে না
    অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া যাবে নাএএফপি

    আপত্তিকর পোস্ট নিষিদ্ধ

    ইন্টারনেটে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো ধরনের আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি

    ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া কার্যক্রমের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়েরা সাক্ষাৎকার দিতে পারেন এবং সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। এতে কোনো বাধা নেই।

    মিডিয়া এড়ানোর উপায় নেই

    ফিফার পূর্ব অনুমতি ছাড়া অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। কোনো খেলোয়াড় তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে।

    জার্সি বদল

    ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে জার্সি বদল করা ফুটবলের অন্যতম সুন্দর ও ঐতিহ্যবাহী এক সৌজন্য। পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের এই রীতিতে ফিফার পূর্ণ সম্মতি আছে।

    স্বাধীনতায় লাগাম

    খেলোয়াড়েরা চাইলেই যখন-তখন মনের সুখে ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের আগাম অনুমতি লাগবেই।

    স্পনসর বিতর্ক

    ফিফার অফিশিয়াল অনুষ্ঠান বা ইন্টারভিউতে কোনো অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানো যাবে না। বাণিজ্যিক নিয়ম ভাঙলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
     হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলো
    হাঁটু গেড়ে বসে বর্ণবাদ বিরোধী বার্তা দিতে পারবে দলগুলোএএফপি

    মাথার আঘাত

    ম্যাচ চলাকালীন কোনো খেলোয়াড় মাথায় চোট পেলে বা অচেতন হয়ে পড়লে রেফারি কিংবা ডাক্তারদের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে ওই খেলোয়াড় আর খেলতে পারবেন না।

    বর্ণবাদবিরোধী ক্যাম্পেইন

    ফিফার আয়োজনে ম্যাচ শুরুর আগে বর্ণবাদবিরোধী যেকোনো কর্মসূচিতে (যেমন হাঁটু গেড়ে বসা) অংশ নিতে পারবে দলগুলো। তবে তা হতে হবে পূর্ব অনুমোদিত।

    যাতায়াতের নিয়ম

    বিশ্বকাপ চলাকালীন হোটেল, অনুশীলন মাঠ কিংবা স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য দলগুলো কেবল ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে পারবে।
  • বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    ভারতের সবচেয়ে বড় হার

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত ১১১ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ৭৬ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রানের দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে বড় হার এটি। এত দিন বড় হার ছিল ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে।

    ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর এই প্রথম বহুজাতিক টুর্নামেন্টে হারল ভারত। মাঝে ২২টি ম্যাচ খেলে জিতেছিল ২১টিতে, একটি ছিল বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত।

    ভারত ১১১ রানে অলআউট, দক্ষিণ আফ্রিকা ৭৬ রানে জয়ী

    ৮৮ রানে ৮ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হারের ব্যবধান কমাতে ব্যাট চালিয়েছিলেন শিবম দুবে। কিছুটা সফলও হয়েছেন। তবে বেশি দূর দলকে এগিয়ে নিতে পারেননি। উনিশতম ওভারের চতুর্থ বলে তিনি আউট হওয়ার পর পঞ্চম বলে বুমরার উইকেটটিও হারিয়েছে ভারত। টানা দুই বলে উইকেট নিয়ে ভারতের ইনিংসের সমাপ্তি টেনেছেন মার্কো ইয়ানসেন।

    দক্ষিণ আফ্রিকার ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে ভারত অলআউট ১১১ রানে। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার জয় ৭৬ রানে।

  • বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে যে ভিডিও কাঁদাল আনচেলত্তিকে

    ফুটবলের সবচেয়ে বড় আয়োজন বিশ্বকাপ শুরু হতে আর ১০ দিনের কম সময় বাকি। এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলো একত্র হয়ে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলও মারাকানায় পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর্ব শেষ করে উড়াল দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে। তবে যাওয়ার আগে আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

    রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই কোচ ব্রাজিল জাতীয় দলের সঙ্গে যাত্রা শুরুর আগে পান বিশেষ একটি বার্তা। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ও গ্লোবো প্রকাশিত এক ভিডিওতে আনচেলত্তির নাতি-নাতনিরা তাঁকে বিশ্বকাপের জন্য শুভকামনা জানায়।

    শিশুদের তখন বলতে শোনা যায়, ‘দাদু, বিশ্বকাপে শুভকামনা। আমরা তোমাকে ভালোবাসি।’ বিশ্বকাপের আবদার করে তারা তখন বলে, ‘স্পেন ও ফ্রান্সকে হারাতে হবে। আমাদের জন্য ষষ্ঠ শিরোপাটা ঘরে নিয়ে এসো।’

    নাতি-নাতনিদের এমন ভালোবাসার বার্তা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আনচেলত্তিও। চোখের জলও ধরে রাখতে পারেননি ব্রাজিল কোচ। ভিডিও চলাকালে চোখ মুছতে দেখা যায় তাঁকে। পরে সজল চোখে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন, ‘পরিবারের কথা বললে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না।’

     

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে নেইমারসহ পুরো দল একসঙ্গে দলীয় ছবি তুলেছেন। সবাই একই রকম জামা পরা এই ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন নেইমার। আর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘সবাই একসঙ্গে।’

    ‘সি’ গ্রুপ থেকে ১৪ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। ২০ জুন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি এবং ২৫ জুন শেষ ম্যাচে ব্রাজিল খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। এবার আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা।

  • বিশ্বকাপে সবচেয়ে দামি দল কাদের, আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল কোথায়

    ফেবারিটদের তালিকায় কিছুটা পিছিয়ে থেকেই বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর বক্তব্যেই বিষয়টি পরিষ্কার, ‘আমরা তুমুল ফেবারিট দল নই।’

    ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষণা করা বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও খেলোয়াড়দের বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করে একই চিত্র উঠে এসেছে। ‘ট্রান্সফাররুম’–এর বিশেষায়িত গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারমূল্যের হিসাবে বিশ্বকাপের দলগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ দামি স্কোয়াড ব্রাজিলের। দলবদলের বাজারে ক্লাব, এজেন্ট ও খেলোয়াড়দের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ সহজ করার লক্ষ্যে প্রায় দশ বছর আগে ‘ট্রান্সফাররুম’ নামে প্রযুক্তিটি তৈরি করা হয়।

    এই সমীক্ষায় বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়েছে—খেলোয়াড়ের বয়স, গত মৌসুমের পারফরম্যান্স, পুনর্বিক্রয় মূল্য, ভবিষ্যৎ উন্নতির সম্ভাবনা, চুক্তির বাকি সময় এবং তারা যে ক্লাবে খেলেন সেখানকার লিগের মান।

     

    এসব হিসাব-নিকাশে শীর্ষে রয়েছে ফ্রান্স ফুটবল দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং আরও অনেক তারকার কারণে ফ্রান্সের স্কোয়াড দামে সবার ওপরে। তাদের বাজারমূল্য ১৪৬ কোটি ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ হাজার ৮৬৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

    এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও পর্তুগাল। এই পাঁচটি দেশকে ইউরো মুদ্রার হিসেবে ‘বিলিয়নিয়ার ক্লাব’ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাদের স্কোয়াডের মোট বাজারমূল্য অত্যন্ত বেশি। এরপর ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ব্রাজিল।

     
     

    ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার মতো ইউরোপে প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়, এনদ্রিক ও রায়ানের মতো প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ এবং নেইমার, দানিলো ও অ্যালেক্স সান্দ্রোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয়ে ব্রাজিল দলে শক্তিশালী ভারসাম্য তৈরি হয়েছে।

    ফলে ব্রাজিল জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ২৬ জন খেলোয়াড়ের মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ১০ লাখ ইউরো বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

    দুই বছর আগে ফিফার বর্ষসেরা হওয়া ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বর্তমানে ব্রাজিলের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার। তবে এই সমীক্ষায় বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে তাঁর অবস্থান দশম। ভিনির আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ কোটি ৮০ লাখ ইউরো। তালিকায় শীর্ষ তিনে আছেন যথাক্রমে লামিনে ইয়ামাল, আর্লিং হলান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে।

     
     

    তবে বাজারমূল্যের এই হিসাবকে সম্ভবত খুব একটা গুরুত্ব দেবেন না ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তাঁর মতে, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় জাতীয় দলে সেরা পাঁচ খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলের।

    আনচেলত্তির ভাষায়, ‘আমরা সৌভাগ্যবান যে দলে এত প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। জাতীয় দলে থাকা বিশ্বের সেরা পাঁচ খেলোয়াড়ের মধ্যে দুজনই ব্রাজিলিয়ান।... এই দল বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে পারবে—এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট জ্ঞান ও আত্মবিশ্বাস আছে।’

    একই তালিকায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার অবস্থান দেখে কিছুটা খুশি হতে পারে ব্রাজিল ভক্তরা। ৮ নম্বরে থাকা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের বাজারমূল্য ৭৩ কোটি ৯০ লাখ ইউরো। বেশির ভাগ খেলোয়াড় ইউরোপিয়ান শীর্ষ ক্লাবে না খেলার কারণেই মূল্য তালিকায় লিওনেল মেসিদের এমন পতন দেখা গেছে।

  • বিশ্বকাপের টিকিটের ‘আকাশছোঁয়া’ দাম নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা

    ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক শুরু হয়েছে বেশ আগে। এবার এটা গড়াল আদালত পর্যন্ত। সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়া  টিকিটের মূল্যকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করে ফিফার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছে ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের জোট ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই)। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় বসবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে মোট ম্যাচ হবে ১০৪টি। এফএসই এবং ইউরোকনজ্যুমারস গ্রুপের সোজা কথা, টিকিটের দাম মাত্রাতিরিক্ত। তাদের অভিযোগ, টিকিট বিক্রিতে ফিফা নিজেদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।

    এফএসইর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইউরোকনজ্যুমারস এবং এফএসই ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপিয়ান কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ফিফা নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় সমর্থকদের ওপর বিশ্বকাপের টিকিটের অযৌক্তিক দাম, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। ফিফার এই শর্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না।’

    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি
    ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি, ফিফা
     

    এফএসইর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ফাইনালের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম শুরু হয়েছে ৪ হাজার ১৮৫ ডলার থেকে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা), যা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি! তুলনাটা আরও স্পষ্ট হয় যখন দেখা যায়, ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালের সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ছিল মাত্র ৯৫ ইউরো।

    এমনকি ফিফার নিজস্ব দরপত্র নথিতেও গড় টিকিটের দাম ১ হাজার ৪০৮ ডলার ধরা হয়েছিল। বাস্তবে তা বহু আগেই সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ফিফা জানিয়েছে, প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়া হয়েছে।
    একজন দর্শক এক ম্যাচের সর্বোচ্চ ৪টি এবং পুরো টুর্নামেন্টের ৪০টি টিকিট কিনতে পারবেন।

    উত্তর আমেরিকার আয়োজক কমিটি প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মাত্র ২১ ডলার থেকে টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে যোজন দূরে। ক্যালিফোর্নিয়ার লেভিস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বে অস্ট্রিয়া-জর্ডান ম্যাচের মতো অপেক্ষাকৃত ‘কম গ্ল্যামারাস’ লড়াইয়ের টিকিটও বিক্রি হচ্ছে ৬০ ডলারে। বড় দলগুলোর ম্যাচের টিকিটের ন্যূনতম দাম তো ২০০ ডলারের নিচে নামছেই না।

    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো
    ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোফিফা

    আবার ৬০ ডলারের যে সস্তা টিকিটের কথা বলা হয়েছে, সেটাও শুধু বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর সমর্থকদের জন্য সংরক্ষিত এবং তা প্রতিটি জাতীয় ফেডারেশনের বরাদ্দের মাত্র ১০ শতাংশ। এফএসই বলছে, ‘সাধারণের জন্য সংরক্ষিত সেই টিকিটগুলো বিক্রির আগেই হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।’

    সবচেয়ে বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ফিফার নিজস্ব রিসেল বা পুনর্বিক্রয় সাইটে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ফাইনালের একটি ক্যাটাগরি-৩ টিকিটের দাম হাঁকা হয়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৫০ ডলার! মূল দাম যেখানে ছিল মাত্র ৩ হাজার ৪৫০ ডলার, সেখানে পুনর্বিক্রয় বাজারে দাম বেড়েছে ৪১ গুণেরও বেশি। বাংলাদেশি মুদ্রায় একটি টিকিটের দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা!

    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    সূচি প্রকাশের অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, এএফপি
     

    যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই পুনর্বিক্রয় বাজারের ওপর কোনো আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই। মেক্সিকোতে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা খুব একটা কাজে আসছে না।

    টিকিটের এই অগ্নিমূল্য নিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যুক্তি—চাহিদা বেশি, তাই দামও বেশি। তাঁর কথা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অনুযায়ী তারা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিবর্তনশীল দামের নীতি অনুসরণ করছে। অর্থাৎ ম্যাচের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম বাড়বে বা কমবে।
    তবে সমর্থকদের দাবি, এই পদ্ধতির কোনো স্বচ্ছতা নেই। এফএসই বলছে, এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যাওয়ার সময় টিকিটের দাম হুট করে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করার আগে একজন সমর্থক জানতেই পারছেন না তাঁকে শেষ পর্যন্ত কত ডলার গুনতে হবে।
    সব মিলিয়ে খুব স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই উৎসব আসলে কার জন্য?

    এএফপি

  • বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে কেমন হলো আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রস্তুতি

    ঢাকা

  • বিশ্ববাজারে আবার বেড়েছে তেলের দাম, ইরানের জাহাজ আটকের জের

    আজ সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ আটক ও জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর এ ঘোষণার পর তেলের দাম বেড়েছে।

    এর আগে গত শনিবার ইরান ঘোষণা দেয়, তারা আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি তারা সতর্কবার্তা দেয়, কোনো জাহাজ প্রণালির দিকে এগোলে হামলা করা হবে।

    এ পরিস্থিতিতে আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৬৬ ডলার। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জবাবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল একরকম বন্ধ করে দেয়। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়।

    তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, আপাতত এ আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা তেহরানের নেই। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

    আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মার্কির বিশ্লেষক সল কেভোনিক বিবিসিকে বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কারণে নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বার্তার প্রতিক্রিয়াতেই তেলের বাজারে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আলোচনার অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিতে এ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

    গতকাল রোববারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। তার আগের দিন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে এ সিদ্ধান্ত; যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত প্রণালি বন্ধই থাকবে।

    বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে চাপে পড়েছে। এ অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হয়।

    সরবরাহ সাশ্রয়ে বিভিন্ন দেশে সরকারি কর্মীদের বাসা থেকে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হয়েছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় আগেভাগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

    সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশ নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। এমনকি চীনেও নানা ধরনের কাটছাঁট করা হচ্ছে, যদিও চীনের মজুত প্রায় তিন মাসের আমদানি চাহিদা মেটাতে সক্ষম বলে ধারণা করা হয়। জ্বালানির দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পর চীন সরকার মূল্যবৃদ্ধির রাশ টানার চেষ্টা করছে।

    এদিকে জেট জ্বালানির দাম বাড়ায় এশিয়া অঞ্চলে সেবা দেওয়া বিমান সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

    গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করে বলেন, ইউরোপে হয়তো ছয় সপ্তাহের জেট জ্বালানি মজুত রয়েছে। বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে শিগগিরই ফ্লাইট বা উড়ান বাতিল হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাজ্যে টানা কয়েক দফা বৃদ্ধির পর গত সপ্তাহের শেষে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কিছুটা কমেছে।

    বিবিসি

  • বিশ্ববাজারে কমে গেল তেলের দাম

    ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববাজারে কমে গেছে জ্বালানি তেলের দাম।

    শুক্রবার (২৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

    কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় দেখা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক ১২ ডলার।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান যুদ্ধ ধারণার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এমন ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যেই শুক্রবার (২৭ মার্চ) তেলের বাজারে এ পরিস্থিতি দেখা গেছে।

    ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। আর এ সময়ে ডব্লিউটিআই তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

    এদিকে যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিদিন গড়ে ১৩ কোটি ৯০ লাখ (১৩৯ মিলিয়ন) ডলার আয় করছে ইরান। এই বিপুল অর্থের প্রায় পুরোটাই আসছে তেল রপ্তানি থেকে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’তে অবরোধ জারি করেছে ইরানের অভিজাত বাহিনী আইআরজিসি। বিশ্বের মোট তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুটটি ব্যবহার করে। বর্তমানে এই রুটের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় সংকটের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছে তারা।

    হরমুজ প্রণালিকে বলা হয় ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’। অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে এবং তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ইরানের ফ্ল্যাগশিপ জ্বালানি তেল ‘ইরানিয়ান লাইট’ এই রুট দিয়ে অবাধে বহির্বিশ্বে যাচ্ছে।

    বাজার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে ইরান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

     

  • বিশ্ববাজারে টানা দুই দিন কমল জ্বালানি তেলের দাম

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তেলের দাম কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেল বাজারে ফিরতে পারে।

    আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৫২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। আগের দিন এই তেলের দাম কমেছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক শূন্য ৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৯০ দশমিক ২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে; আগের দিন যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছিল। খবর রয়টার্সের

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা আগামী দুই দিনের মধ্যে পুনরায় পাকিস্তানে শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে আলোচনা ভেঙে পড়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে আশাবাদ দেখা দিয়েছে—এতে সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে এবং অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে।

    যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এশিয়া ও ইউরোপে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পরিবহনের প্রধান জলপথ এটি।

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো অনিশ্চিত। সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা অনেকটাই কমে গেছে।

    মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার ইরান থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার বের হতে বাধা দিয়েছে।

    পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ এক নোটে বলেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা আবার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এবং যাতায়াতের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ শিথিল হতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিললেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।

    তাদের মতে, বাজারে এখন স্থিতিশীলতা ফিরবে, এমন সম্ভাবনার চেয়ে সরবরাহ ব্যাহত হবে, এমন আশঙ্কাই বেশি।

    অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিলের ৩০ দিনের যে মেয়াদ, তা এ সপ্তাহে শেষ হচ্ছে, এই শিথিলতার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর অনুরূপ শিথিলতাও গত সপ্তাহান্তে নীরবে শেষ হয়েছে। ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সুযোগ আরও সীমিত হতে পারে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) সাপ্তাহিক মজুতের কী তথ্য প্রকাশ করে, তার দিকে বাজারের নজর থাকবে। রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত সামান্য বেড়েছে, তবে ডিজেল ও পেট্রলের মজুত কমে যেতে পারে।

    আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত টানা তৃতীয় সপ্তাহে বেড়েছে।

    এর আগে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অচলাবস্থা ও হরমুজ প্রণালি অবরোধের পরিকল্পনার খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ১৬ ডলারে ওঠে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে ওঠে। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানিসংকট আরও তীব্র হতে পারে।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার ১১৫ ডলার ছাড়াল

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে, তার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। এ খবরে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলবে।

    আজ সকালে এই প্রতিবেদন লেখার সময় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল ১১৬ ডলার ১০ সেন্ট। আজ ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। খবর অয়েল প্রাইজ ডটকমের

    গতকাল রোববার ইরানের সংসদের স্পিকার বলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন সেনাদের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, আলোচনা চলছে এবং ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা বাড়ানো হয়েছে।

    এদিকে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধে ইয়মেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িয়ে পড়েছে। হুতিরা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফলে তেল পরিবহনে নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে বৈশ্বিক নৌপথের সংযোগপথ বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিদের প্রভাব আছে। তারা চাইলে এই পথ বন্ধ করে দিতে পারে। খবর সিএনএনের

    এদিকে যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগী হয়েছেন। গতকাল তাঁদের বৈঠক ‘খুবই ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় সহায়তা করবে পাকিস্তান।

    হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।

    এ পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেননা, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে তেল পরিবহন হয়, তার গন্তব্য মূলত এশিয়া। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়বে বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন র‍্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো মন্দা; কেবল তেমন কিছু ঘটলেই তেলের দাম কমতে পারে।  

    ম্যাকনালির ভাষায়, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তেলের চাহিদা কমে যায়। কথাটা কর্কশ শোনালেও তেলের দাম হ্রাসের ক্ষেত্রে তা কার্যকর উপায়।’

    বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ শেষ হলেও গ্যাসের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়া এবং আশপাশের অবকাঠামোর ক্ষতি মেরামতের ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। যেমন কাতারের রাস লাফান; এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র এবং মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করে। এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, দাম নির্ভর করবে তার ওপর।

    এদিকে আজ এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। খবর বিবিসির

    গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার। এরপর পরিস্থিতি দ্রুতই বদলে যায়। ১৮ মার্চ ব্রেন্টের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে  উঠে যায়—২০২২ সালের জুন মাসের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।

  • বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন ১২০ ডলার, যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ

    ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধ আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটা বেড়েছে। গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে অল্প সময়ের জন্য ১২২ ডলারে ওঠে, ২০২২ সালের পর যা সর্বোচ্চ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই তেলের দাম ১২০ ডলার।

    গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে শেভরনের প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। মার্কিন ভোক্তাদের জীবনে এই যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সেটিই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। বাজারের ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই বৈঠক কার্যত হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার।

    হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন, ভেনেজুয়েলায় অগ্রগতি, তেলের আগাম বাজার, প্রাকৃতিক গ্যাস, জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্টের নিয়মিত শিল্প-সংশ্লিষ্ট বৈঠকের অংশ হিসেবেই এই বৈঠক, এমনটাই বলা হচ্ছে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়, ইরান চাপে ফেলতে দেশটির বন্দরগুলোয় চলমান অবরোধ দীর্ঘায়িত করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে যাবে তারা।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের দাম ওঠানামা করছে। সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে। মাসের শুরুর দিকে তেহরান সতর্ক করে, প্রণালির কাছে এলে যেকোনো জাহাজে হামলা করা হতে পারে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজ তারা আটকে দেবে বা ফিরিয়ে দেবে।

    বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া অন্তত চারটি জাহাজ মার্কিন অবরোধ অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক ওঠানামা সত্ত্বেও সংঘাতের আগের তুলনায় তেলের দাম এখনো অনেক বেশি। ১৭ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমেছিল; ৮ এপ্রিল ইরানের ওপর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিতের কথাও জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে গত ১২ দিনে অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেলের দাম আবার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

    এদিকে ইরানের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও তেল রপ্তানি থমকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। দেশটির পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছে। রিয়ালের মান নেমেছে রেকর্ড নিম্নপর্যায়ে। গত সপ্তাহে ইরান সরকার জানায়, যুদ্ধের কারণে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন।

    গতকাল ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটিকে ‘শিগগিরই বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নিতে পারছে না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, বোমা হামলা আবার শুরু করা বা সংঘাত থেকে সরে আসা—দুই পথেই ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অবরোধ জারি রেখে ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিতে চাপ বাড়ানোর কৌশলই বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প।

    ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বিকল্প বাণিজ্যপথ ব্যবহার করে তাঁরা অবরোধ মোকাবিলা করতে পারবে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, ইরান-সংঘাতজনিত বড় ধরনের বিঘ্ন মে মাসে শেষ হলেও ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যা হবে সর্বোচ্চ।

    গতকাল ইউরোপের শেয়ারবাজারে পতন দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে; ফ্রান্সের এসএসি সূচক শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ ও জার্মানির ডিএএক্স সূচক শূন্য দশমিক ২৭ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে এশিয়ার বাজারগুলোয় কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে।

    এক্সটিবির গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকস বলেন, ইরানের ওপর দীর্ঘ মেয়াদে অবরোধ থাকবে, আর্থিক বাজার এখন তেমন সম্ভাবনা আমলে নিচ্ছে।

    বিবিসি

  • বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম, ওয়ালস্ট্রিটে পতনের আভাস

    মধ্যপ্রাচ্যে সংকটের কারণে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে।

    এদিকে তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে আজ ওয়ালস্ট্রিটে সূচক পতনের আভাস পাওয়া গেছে। ওয়ালস্ট্রিটের ফিউচার সূচক কমে গেছে। ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ বিশেষ পরিস্থিতির কথা বলে শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিষয়টি হলো, হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেলের বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। এর মধ্যে জাহাজে হামলার কারণে নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

    যুক্তরাজ্যের ইউকে মেরিন ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, দুটি জাহাজ অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায়। তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি অজ্ঞাতনামা ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ওই জাহাজের নাবিকেরা নিরাপদে আছেন।

    একই এলাকায় চতুর্থ একটি ঘটনার কথাও ইউকেএমটিও জানিয়েছে, যেখান থেকে জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে এর কারণ স্পষ্ট নয়। সংস্থাটি আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরজুড়ে ‘একাধিক নিরাপত্তাজনিত ঘটনার’ কথা উল্লেখ করে জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

    ইরান সতর্ক করে বলেছে, কোনো জাহাজ যেন হরমুজ প্রণালি অতিক্রম না করে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

    জাহাজ-তথ্য বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫০টি ট্যাংকার হরমুজের বাইরে উপসাগরের উন্মুক্ত পানিতে নোঙর ফেলেছে। তবে ইরান ও চীনের কয়েকটি জাহাজ আজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।

    কেপলারের বিশ্লেষক হোমায়ুন ফালাকশাহি বলেন, ইরানের হুমকির কারণে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ হয়ে গেছে। এই পথে চলাচলের ঝুঁকি অনেক। সেই সঙ্গে বিমার ব্যয় হু হু করে বেড়ে যাওয়ায় জাহাজগুলো এই পথ এড়িয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত নৌপথ সুরক্ষায় উদ্যোগ নেবে; সেটি কার্যকর হলে দামের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ‘অনেক’ বাড়তে পারে।

    এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী তিনটি ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সেই জাহাজগুলোয় আগুন জ্বলছে। তবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।

    জ্বালানি তেল
    জ্বালানি তেল, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক

    গতকাল রোববার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো দৈনিক উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। লক্ষ্য হলো—সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া। যদিও কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, এতে বড় ধরনের স্বস্তি না–ও আসতে পারে।

    এমএসটি রিসার্চের জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সাউল কাভনিক বলেন, বাজারে এখনো আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েনি। তাঁর মতে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই তেল পরিবহন ও উৎপাদন অবকাঠামোকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালায়নি। ফলে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, বাজার তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চলাচল স্বাভাবিক হলে দাম আবার কমতে পারে।

    জাহাজ কোম্পানি কী বলছে

    বেসরকারি সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, জিব্রাল্টার, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ও লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে; ইউকেএমটিও যেসব ঘটনার কথা বলেছে, সেগুলোর সঙ্গে এর মিল আছে।

    ডেনমার্কভিত্তিক কনটেইনার শিপিং গ্রুপ মেয়ার্সক গতকাল বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাব এল-মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করবে। এ ক্ষেত্রে যা হয়, অর্থাৎ উত্তমাশা অন্তরীপ ঘুরে বিকল্প পথে জাহাজ পাঠাবে তারা।

    এদিকে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গতকাল ইরান ও ইসরায়েল নতুন করে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। দুবাই (সংযুক্ত আরব আমিরাত), কাতারের রাজধানী দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতে হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে
    মার্কিন ও ইউরোপীয় শেয়ারবাজারে সূচক পতনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, ফাইল ছবি: রয়টার্স

    শেয়ারসূচক পতনের আভাস

    এদিকে আজ পশ্চিমা পৃথিবীতে সপ্তাহের প্রথম দিনে শেয়ারবাজারের ফিউচার সূচকগুলোর পতন হয়েছে। ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচার—সব কটিই প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। খবর সিএনএনের

    তবে তেল কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এক্সন মবিল, শেভরনসহ আরও অনেক জ্বালানি কোম্পানির শেয়ারের আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ করে বেড়েছে। প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ারও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

    ইউরোপেও একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইউরোস্টক্স ৫০–সংযুক্ত ফিউচারস ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। জার্মানির ড্যাক্স ফিউচারস নেমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে সাময়িকভাবে শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত করেছে।

    ফিউচার (ভবিষ্যৎ চুক্তি) হলো এমন ধরনের আর্থিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা আগাম নির্ধারিত দামে ভবিষ্যতের কোনো তারিখে শেয়ার, পণ্য বা সূচক কেনাবেচার অঙ্গীকার করেন। বাজার খোলার আগেই ফিউচার লেনদেন দেখে বিনিয়োগকারীরা দিনটি সম্পর্কে আগাম ধারণা পান।

  • বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার ৫ হাজার ডলার ছাড়াল

    শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি সোনার দাম ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪১ দশমিক ৮০ ডলার।

    এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শুক্রবার) সোনার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৩ ডলার। গত এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ৩০৭ দশমিক ৫৯ ডলার।

    এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে।

    তবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ফলে সোনার দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

    এদিকে রুপাও অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। যদিও তার আগের দিন রুপার দরপতন হয় ১১ শতাংশ। এত বড় দরপতনের পর রুপার এই ঘুরে দাঁড়ানো উল্লেখযোগ্য। তার পরও দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহ শেষে রুপার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

    রুপার সঙ্গে প্লাটিনামের দামও শুক্রবার বেড়েছে। পশ্চিমা পৃথিবীর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩৩ দশমিক ৯৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে উভয় ধাতুর দামই কমেছে।

    এদিকে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফিরেছে। প্রতাশ্যার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে বেকারত্বের হার কমেছে। সেই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রমবাজার শক্তিশালী ও মূল্যস্ফীতি কমছে—উভয়ই ইতিবাচক। তবে নীতি সুদহার দ্রুত কমানো হলে চাহিদা বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নীতি সুদহার কমানোর আশা করলেও ফেড সম্ভবত আরও ধৈর্য ধরবে।

    তবে বাজারে ধারণা, চলতি বছর ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে দুই দফায় সুদহার কমানো হতে পারে। প্রথমবার কমানো হবে জুন মাসে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার একধরনের ‘মানসিক সীমা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সীমা ভেঙে গেলে দামের দ্রুত উত্থান–পতন হয়, বিশেষ করে যখন অস্থিরতা বেশি থাকে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সোনার দাম কমেছে, তেমন কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা তখন ছিল না।

    দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কোন দিকে যায়, মূল্যস্ফীতির গতি কেমন থাকে বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কতটা অনিশ্চয়তা থাকে—এসবের ওপর নির্ভর করছে সোনার দাম কতটা দ্রুত ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করবে।

    বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সোনা কেবল মুনাফাভিত্তিক সম্পদ নয়; অনেক দেশের জন্য এটি কৌশলগত রিজার্ভ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে সোনা ক্রয় অব্যাহত রাখে, তাহলে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার পেরিয়ে যেতেই পারে।

    এদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

  • বিশ্বব্যাংক-জাপান স্কলারশিপ, ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪ প্রোগ্রামে পড়াশোনা

    বিশ্বব্যাংক-জাপান যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচি’র ২০২৬ সালের বৃত্তিতে আবেদন চলছে। এই কর্মসূচির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ৪৪টি প্রোগ্রামের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

    বৃত্তি সম্পর্কে তথ্য

    এই স্কলারশিপ মূলত উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করে। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও জাপানে অবস্থিত।

    পাঠ্যবিষয়ের মধ্যে রয়েছে—অর্থনৈতিক নীতি ব্যবস্থাপনা, করনীতি, অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক শাখা।

    বৃত্তির সুবিধা

    নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পাবেন

    • সম্পূর্ণ টিউশন ফি

    • বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে মৌলিক স্বাস্থ্যবিমা।

    • -মাসিক ভাতা (দেশভেদে ভিন্ন)।

    • যাওয়া-আসার ইকোনমি শ্রেণির বিমানভাড়া।

    • প্রতি ভ্রমণে ৬০০ মার্কিন ডলার ভ্রমণভাতা।

    মূল্যায়নকারীরা পেশাগত অভিজ্ঞতা, পেশাগত সুপারিশপত্র, নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার ও শিক্ষাগত পটভূমি—চারটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন করবেন
    মূল্যায়নকারীরা পেশাগত অভিজ্ঞতা, পেশাগত সুপারিশপত্র, নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার ও শিক্ষাগত পটভূমি—চারটি মানদণ্ডে মূল্যায়ন করবেনফাইল ছবি
     

    আবেদনের যোগ্যতা

    • বিশ্বব্যাংকের সদস্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হতে হবে।

    • কোনো উন্নত দেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা যাবে না।

    • আবেদনের শেষ তারিখের অন্তত তিন বছর আগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করতে হবে।

    • গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত তিন বছর পূর্ণকালীন উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

    • আবেদনকালে উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত থাকতে হবে।

    • আগে এই স্কলারশিপ প্রত্যাখ্যান বা অসম্পূর্ণ রাখা যাবে না।

    বৃত্তির আবেদন লিংক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়। কেবল যেসব শিক্ষার্থী নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন (অর্থায়ন ছাড়া) এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যোগ্য হিসেবে শর্টলিস্ট হয়েছেন, তাঁদের কাছেই আবেদন লিংক পাঠানো হবে।

    বাছাই প্রক্রিয়া

    যোগ্য আবেদনগুলো দুজন মূল্যায়নকারী স্বাধীনভাবে ১ থেকে ১০ স্কেলে নম্বর দেবেন। মূল্যায়নের চারটি মানদণ্ড—

    ১. পেশাগত অভিজ্ঞতা (৩০ শতাংশ)।

    ২. পেশাগত সুপারিশপত্র (৩০ শতাংশ)।

    ৩. নিজ দেশের উন্নয়নে অঙ্গীকার (৩০ শতাংশ)।

    ৪. শিক্ষাগত পটভূমি (১০ শতাংশ)।

    জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ৪৪টি প্রোগ্রামের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন
    জাপান/বিশ্বব্যাংক স্নাতকোত্তর বৃত্তি কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ৪৪টি প্রোগ্রামের জন্য শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেনফাইল ছবি

    আবেদনের সময়সূচি

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়া দুই ধাপে সম্পন্ন হয়।

    প্রথম ধাপ: ১৫ জানুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। এটি শেষ হয়েছে।

    দ্বিতীয় ধাপ: ৩০ মার্চ থেকে ২৯ মে ২০২৬।

  • বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর নারী এই অভিনেত্রী

    হলিউডের ঝলমলে দুনিয়ায় সৌন্দর্য, সাফল্য আর আত্মবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যে কয়েকজন তারকা আজও সমান উজ্জ্বল, তাঁদের অন্যতম অ্যান হ্যাথাওয়ে। ২০২৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের ‘ওয়ার্ল্ডস মোস্ট বিউটিফুল’ কভার স্টার হিসেবে নির্বাচিত হওয়া যেন তাঁর দীর্ঘ পথচলারই এক নতুন স্বীকৃতি। তবে এই দীপ্তির পেছনে রয়েছে নিজের সঙ্গে লড়াই, বদলে যাওয়ার সাহস এবং নিজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের গল্প।

    কভার শুটের সেটে তখন বাজছে ব্যাড বানি, বিলি আইলিশ, ম্যাডোনা—এই তিন তারকার মিশ্রণে তৈরি প্লে লিস্ট। বাতাসে উড়ছে তাঁর পোশাকের পালক, আলো-ছায়ার খেলায় তৈরি হচ্ছে এক অনায়াস সৌন্দর্য। কিন্তু এই স্বাচ্ছন্দ্য সব সময় ছিল না। একসময় নিজেকেই নিজের সবচেয়ে কঠোর সমালোচক মনে করতেন তিনি।
    হ্যাথাওয়ে বলেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি বিশ্বাস করতেন, নিজেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেই তিনি ভালো শিল্পী হতে পারবেন। কিন্তু চল্লিশে পা দেওয়ার পর যেন জীবনের গিয়ার বদলে যায়। তখন আর নিখুঁত হওয়ার চাপে নয়; বরং আনন্দ খুঁজে পাওয়ার দিকেই ঝুঁকেছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘অস্বস্তিকর জীবন আর নয়, আমি এখন শুধু মজার অংশটুকু উপভোগ করতে চাই।’

    এ উপলব্ধি আসলে হ্যাথাওয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ারেরই ফল। ২০০১ সালে ‘দ্য প্রিন্সেস ডায়েরিজ’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় যাত্রা শুরু। এরপর ‘ব্রোকব্যাক মাউন্টেন’, ‘বিকামিং জেইন’-এর মতো শিল্পধর্মী সিনেমা থেকে শুরু করে ‘এলিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ কিংবা ‘লা মিজারেবলস’—সব জায়গাতেই নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘লা মিজারেবলস’-এর জন্য জিতেছেন অস্কারও।

    ২০২৬ সালটা হ্যাথাওয়ের জন্য বিশেষ ব্যস্ততার। এক বছরে মুক্তি পাচ্ছে তাঁর পাঁচটি সিনেমা, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’। প্রায় দুই দশক পর আবারও অ্যান্ডি স্যাকস চরিত্রে ফেরা, এ যেন নস্টালজিয়া আর নতুন অভিজ্ঞতার এক মিশেল। তাঁর সঙ্গে ফিরেছেন আগের সহশিল্পীরাও—মেরিল স্ট্রিপ, এমিলি ব্লান্ট ও স্ট্যানলি টুচি। হ্যাথাওয়ের ভাষায়, এই পুনর্মিলন ছিল ‘আনন্দে ভরা, সুন্দর একটি অভিজ্ঞতা’।

    [caption id="attachment_272132" align="alignnone" width="582"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    ব্যক্তিগত জীবনে হ্যাথাওয়ে কৃতিত্ব দেন তাঁর স্বামী অ্যাডাম শুলমানকে। ১৩ বছরের দাম্পত্য জীবন, দুই সন্তান—সব মিলিয়ে তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা। হ্যাথাওয়ে স্বীকার করেন, এত সাফল্যের পরও জীবনে একটা ‘অবিরাম লড়াই’ থেকে যায়। কিন্তু সেই লড়াইটাকেই তিনি ভালোবাসেন।

    সৌন্দর্য সম্পর্কে হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা। তাঁর মতে, ‘সৌন্দর্যের ভেতরে কুৎসিততাও থাকতে পারে, যদি সেখানে সত্য থাকে।’ এ সংজ্ঞা যেন তাঁর নিজের জীবনকেই প্রতিফলিত করে, যেখানে অপূর্ণতা লুকিয়ে না রেখে বরং তাকে গ্রহণ করেই এগিয়ে গেছেন তিনি।

    [caption id="attachment_272131" align="alignnone" width="587"] ‘দ্য ডেভিল ওয়ারস প্রাডা ২’–এর প্রিমিয়ারের অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    শৈশব থেকেই অভিনয়ের প্রতি হ্যাথাওয়ের আগ্রহ। মাত্র তিন বছর বয়সে মঞ্চে মায়ের অভিনয় দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তিনিও একদিন অভিনেত্রী হবেন। তবে পথটা সহজ ছিল না। কৈশোর থেকে ত্রিশের শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেকে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যেই দেখেছেন। এমনকি কথা বলতেও তাঁর অসুবিধা হতো।

    ক্যারিয়ারের শুরুতে সৌন্দর্য নিয়েও ছিল নানা বিভ্রান্তি। কীভাবে নিজের চুল বা লুক ঠিক করতে হবে, এই ‘ভাষা’ বুঝতেই হ্যাথাওয়ের এক দশক লেগে গেছে। এখন অবশ্য তিনি জানেন, নিজের পছন্দ বোঝাতে হলে কল্পনার চেয়ে ছবিই বেশি কার্যকর।

    ‘দ্য ডেভিল ওয়াররস প্রাডা’র অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে হ্যাথাওয়ে বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম মজার সময়। যদিও তখন তিনি চাপ আর উদ্বেগে ছিলেন, তবু সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে আজও আনন্দ দেয়। বিশেষ করে মেরিল স্ট্রিপের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা অপরিসীম, যিনি সব সময় নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে চান।

    [caption id="attachment_272130" align="alignnone" width="587"] অ্যান হ্যাথওয়ে। এএফপি[/caption]

    বয়স বাড়া নিয়েও হ্যাথাওয়ের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। চল্লিশের পর তিনি বুঝেছেন, জীবনের উত্থান-পতনকে একটু দূরত্ব থেকে দেখার ক্ষমতা তৈরি হয়। আগে যেখানে ছোট ঘটনাও বড় মনে হতো, এখন তিনি অনেক বেশি শান্ত ও স্থির।

    নিজের সৌন্দর্যচর্চা নিয়েও হ্যাথাওয়ের সহজ স্বীকারোক্তি আছে। ভালো কিছু খুঁজে নেওয়া—এটাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাঁর মতে, ‘খারাপ পরিবেশ খুব নিষ্ঠুর। এটা ভেতরে নেতিবাচকতা তৈরি করে।’ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

    পিপল ডটকম অবলম্বনে

  • বিসিএল আকবর-প্রিতমের সেঞ্চুরির দিনে মুশফিকের ফিফটি

    আবু হায়দার সেঞ্চুরি পাননি, সেঞ্চুরি পাননি ১৪৭ রানের সপ্তম উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী আশিকুর রহমানও। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) দ্বিতীয় দিনটা তবু সেঞ্চুরিশূন্য থাকেনি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে সেঞ্চুরি পেয়েছেন উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমার ও আকবর আলী। দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে উত্তরের অধিনায়ক আকবর ১২১ রানের আউট হয়ে গেলেও ১৫১ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন উইকেটকিপার প্রিতম কুমার।

    গতকাল ম্যাচের প্রথম দিনে দক্ষিণকে ৩১৪ রানে অলআউট করে উত্তর। বিনা উইকেটে ১৬ রান তুলে প্রথম দিন শেষ করা উত্তর দ্বিতীয় দিনটা শেষে করেছে ৬ উইকেটে ৩৭৯ রান তুলে। দলটি এগিয়ে ৬৫ রানে।

    আজ দিনের তৃতীয় ওভারে উত্তরাঞ্চল ২৮ রানে হারায় প্রথম উইকেট। ৫৩ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারানো দলকে উদ্ধার করে প্রিতম ও আকবরের ২৩৩ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি। ১৫৮ বলে ১৫ চার ও ২ ছক্কায় ১২১ রান করা আকবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সামীউন বাসির। বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো
    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পঞ্চম সেঞ্চুরির পর উত্তরাঞ্চলের প্রিতম কুমারের উদ্‌যাপনটা হলো দেখার মতো, বিসিবি
     

    চারে নামা প্রিতম পেয়েছেন এই সংস্করণে নিজের পঞ্চম সেঞ্চুরি। ১৮৪ বলে খেলা অপরাজিত ১৫১ রানের ইনিংসটি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সী প্রিতমের সর্বোচ্চ ইনিংসও। তাঁর আগের সর্বোচ্চ ১৪৩, গত নভেম্বরে সর্বশেষ জাতীয় লিগে রাজশাহী বিভাগের হয়ে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে। এ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রিতমের এটি তৃতীয় সেঞ্চুরি।

    পাশের আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৯০ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চলের আবু হায়দার ফেরেন আর কোনো রান যোগ না করেই। বাংলাদেশ টেস্ট দলের পেসার খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন হায়দার। ৭৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা আশিকুর ফিরেছেন ৮৬ রানে। পেসার ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনিও। ৬ উইকেটে ২৭২ রান নিয়ে দিন শুরু করা মধ্যাঞ্চল অলআউট ৩০৭ রানে। ৫৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন ইবাদত।

    ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম
    ফিফটি পেয়েছেন পূর্বাঞ্চলের অমিত হাসান ও মুশফিকুর রহিম, বিসিবি
     

    প্রতিপক্ষ পূর্বাঞ্চল দিন শেষ করেছে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান তুলে। উইকেটকিপার অমিত হাসান ৮৮ রানে ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৫৯ রানে অপরাজিত আছেন। ফিফটি পেয়েছেন দলটির ওপেনার মাহমুদুল হাসানও, করেছেন ৬৪ রান।

  • বিসিবির অ্যাডহক কমিটিতে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবগঠিত অ্যাডহক কমিটিতে একমাত্র নারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঘোষিত এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বোর্ডের নতুন নেতৃত্ব গঠন করা।

    নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বিসিবির কার্যক্রম পরিচালিত হবে এই আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে। অন্তর্বর্তীকালীন এই সময়ে বোর্ডের প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করবেন কমিটির সদস্যরা।

    ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রশ্নে রাশনা ইমামের অন্তর্ভুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি পেশাগত জীবনে দেশের সুপ্রিম কোর্টের একজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং স্বনামধন্য ল’ ফার্ম ‘আখতার ইমাম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর ম্যানেজিং পার্টনার।

    রাশনা ইমাম প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমামের কন্যা। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালে লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি সম্পন্ন করেন।

    আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রয়েছে তার সমৃদ্ধ কর্মঅভিজ্ঞতা। তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ল’ ফার্ম ‘বেকার অ্যান্ড ম্যাকেঞ্জি’র লন্ডন অফিসে কোম্পানি ও বাণিজ্যিক আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত মিত্তাল গ্রুপ এবং শিন্ডলার ইলেকট্রিকের মতো প্রতিষ্ঠানের আইনি প্রতিনিধিত্ব করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

    সামাজিক কর্মকাণ্ড ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে ‘এশিয়া ইয়াং লিডার’ হিসেবে মনোনীত হন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বহুজাতিক কোম্পানিকে নিয়মিত আইনি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

    ব্যক্তিগত জীবনে রাশনা ইমাম এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ-এর স্ত্রী। বিসিবির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অন্তর্ভুক্তি দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং বোর্ডের কাঠামোগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

     

  • বিসিবির আরও এক পরিচালকের পদত্যাগ

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা পড়ল আর এক পরিচালকের পদত্যাগপত্র। আজ সভাপতি আমিনুল ইসলাম বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়েছে ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত এই পরিচালক বিসিবির লজিস্টিকস অ্যান্ড প্রটোকল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।

    পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ইয়াসির। এ নিয়ে বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের তিনজন পদত্যাগ করলেন। এর আগে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হওয়া ইশতিয়াক সাদেক ও আমজাদ হোসেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। পদত্যাগপত্রে একই কারণের কথা উল্লেখ করেছেন ইয়াসিরও।

    গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকেন। গত অক্টোবরে সর্বশেষ নির্বাচনের পর ইয়াসির ও রুবাবা দৌলাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।

    ইয়াসির আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, ‘একদমই ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছি। এখানে এর চেয়ে বেশি কিছু নেই।’ তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে যে সংস্থা, সেই এনএসসি বিষয়টি জানে কি না, জিজ্ঞাসা করলে বলেন, ‘এখনো জানাইনি।’

    বিসিবিতে লজিস্টিকস কমিটির প্রধান হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে ইয়াসিরের জবাব, ‘ভালো। অনেক কিছু শিখেছি।’ এ সময় তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবার বিসিবি পরিচালকের দায়িত্বে ফিরতে পারেন।

    গত বছরের অক্টোবরে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে তাদের। এর মধ্যেই সরে দাঁড়ালেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত পরিচালক ইয়াসির।

    বিসিবি অবশ্য আগের দুই পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে।

  • বিসিবির এডহক কমিটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ১১ সদস্যের এডহক কমিটির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনে এই কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়াসহ মোট সাতজন আইনজীবী এ রিটটি দাখিল করেন।

    এর আগে গত ৭ এপ্রিল তিন মাসের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন এডহক কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

    এই কমিটিতে আরও আছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরি, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম বাবু এবং ফাহিম সিনহা।

    এদিকে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, তাদের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটি সাময়িকভাবে বিসিবির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে জানানো হয়।

     

  • বিসিবির মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান মোখছেদুল কামাল

    পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটির আবহের মধ্যেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এসেছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন। বোর্ডের মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোখছেদুল কামাল বাবু।

    এর আগে, তিনি একই কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি বর্তমানে বিসিবির ওয়েলফেয়ার কমিটির দায়িত্বেও রয়েছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাধ্যমে বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির নেতৃত্বে আসলেন তিনি।

    অন্যদিকে, গত বছরের অক্টোবর থেকে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আমজাদ হোসেন। রোববার সন্ধ্যায় তাকে সরিয়ে মোখছেদুল কামাল বাবুকে এই পদে বসানো হয়। তবে ঠিক কী কারণে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আমজাদ হোসেনকে গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

    এদিকে, এতদিন গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির দায়িত্বে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন নতুন করে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে সহকারী নির্বাচক হিসেবে যুক্ত হতে পারেন নাঈম ইসলাম।

    উল্লেখ্য, ঈদের আগে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় পায় বাংলাদেশ। সিরিজের শেষ ম্যাচের পর বিদায় নেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু, যদিও চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ রয়েছে। একই সময়ে নতুন নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নিচ্ছে বোর্ড। 

     

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব