• র‍্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের কাছে তিন গোলে হার বাংলাদেশের

    র‍্যাঙ্কিংয়েই ব্যবধান ছিল স্পষ্ট, যার ছাপ ফুটে উঠল মাঠেও।

    ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচে আজ ভিয়েতনামের কাছে ৩–০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ভিয়েতনামের অবস্থান ১০৩–এ, বাংলাদেশ ১৮১। বাংলাদেশ তিনটি গোল হজম করেছে প্রথমার্ধে। ‎হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটই স্বাগতিকদের আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ।

    শক্তিতে পার্থক্যের কারণে এমন হার অপ্রত্যাশিত না হলেও দুশ্চিন্তার জায়গা অবশ্য মিলিয়ে যায়নি। হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সি গায়ে চাপানোর এক বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে আটটি ম্যাচ। হার–জিতের দিকটা বাদ দিলে মাঠে অন্তত লড়াইটা দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়ই। তবে আজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে তেমন কিছু দেখা মেলেনি।

    প্রথমার্ধে তিন গোল হজমের পর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ খানিকটা সতর্ক ফুটবল খেললেও গোলের সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেননি কেউ। হাভিয়ের কাবরেরাও তাঁর হাতে থাকা ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করেছেন। তবু হারের তিক্ততা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।

    হামজা–শমিতদেরও রক্ষণে বেশি খেলতে হয়েছে
    হামজা–শমিতদেরও রক্ষণে বেশি খেলতে হয়েছে, বাফুফে

    ‎‎দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুই পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মিরাজুল ইসলামের জায়গায় শেখ মোরছালিন আর ফাহামিদুল ইসলামের জায়গায় শাহরিয়ার ইমনকে নামান। তবু আক্রমণেও গতি ফেরেনি৷ মাঝেমধ্যে মাঝমাঠ থেকে বলের জোগান দিয়েছেন হামজা-শমিত সোমরা। কিন্তু সে সবের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা। বিপরীতে ভিয়েতনাম নিয়মিতই আক্রমণ করে গেছে। ৫৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের ফ্রি–কিক বাংলাদেশের রক্ষণ দেয়ালে আটকা পড়ে। ৬৫ মিনিটে স্বাগতিকদের আরেকটি গোছানো আক্রমণ অফসাইডে কাটা পড়ে।

    ‎৬৯ মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন আনেন কাবরেরা। নামানো হয় বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমন রেজাকে। মাঠ ছাড়েন সাদ উদ্দিন এবং ফয়সাল আহমেদ। এর তিন মিনিট পরই ভিয়েতনামের চমৎকার একটি আক্রমণ পোস্ট ছেড়ে এসেই প্রতিহত করেন গোলকিপার মেহেদী হাসান। ৭৮ মিনিটে বাংলাদেশ আরও দুই পরিবর্তন আনে। জামাল ভূঁইয়া, রহমত মিয়াদের জায়গা করে  দিতে তুলে নেওয়া হয় জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানাকে। ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য সম্ভবত সবচেয়ে ভালো মুহূর্ত ৮৬ মিনিটে হামজার প্রচেষ্টা। সুমন রেজার ক্রসে শূন্যে লাফিয়ে ব্যাক হিলে লক্ষ্য খোঁজার চেষ্টা করলেও তা অবশ্য কাজে লাগেনি।

    এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে অষ্টম মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের ডিফেন্ডার শুয়ং তিয়েন আইনের কর্নার থেকে আসা বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে জায়ান উল্টো নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে ভিয়েতনাম ব্যবধান দ্বিগুণ করে প্যাম চুন মানের গোলে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল হেডে জালে জড়ান তিনি। আর ৩৮ মিনিটে স্কোরলাইন ৩–০ করেন মিডফিল্ডার হাই লং।
    শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইনেই বেজেছে ম্যাচের শেষ বাঁশি।

    বাংলাদেশ দল: মেহেদী হাসান (গোলকিপার), শাকিল আহাদ, তারিক কাজী, জায়ান আহমেদ (রহমত মিয়া, ৭৮’), সাদ উদ্দিন (বিশ্বনাথ ঘোষ, ৬৯’), হামজা চৌধুরী, সোহেল রানা (জামাল ভূঁইয়া, ৭৮’), শমিত সোম, মিরাজুল ইসলাম (শেখ মোরছালিন, ৪৬’), ফয়সাল আহমেদ (সুমন রেজা, ৬৯’) ও ফাহামিদুল ইসলাম (শাহরিয়ার ইমন, ৪৬’)।
  • লঙ্কা বধে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন জিম্বাবুয়ে, বিশ্বকাপ যেন রোডেশিয়ান রূপকথা

    আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর এবার স্বাগতিক লঙ্কানদের হারিয়ে নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে রোডেশিয়ানরা। ১৭৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে আফ্রিকার দলটি।

    বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলম্বোর রানাসিংহে প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা।

    আগে ব্যাট করতে নেমে ৫৪ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় শ্রীলঙ্কা। মুজারাবানির পেসে ২২ রানে কুশাল পেরেরা ফিরলে ভাঙ্গে পার্টনারশিপ। দলীয় ১০০ রানের মাথায় ২য় উইকেট হারায় লঙ্কানরা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান আসে পাথুম নিশাঙ্কার ব্যাট থেকে। ৪৪ রান করে ক্যাচ আউটের ফাঁদে পড়েন পাভান রত্নায়েকে।

    নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লে দুনিথ ভেল্লালাগের ১৫ রানে ১৭৮ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলঙ্কা। জিম্বাবুয়ের পক্ষে মুজারাবানি, ইভান্স ও ক্রেমার তুলে নেন ২টি করে উইকেট।

    জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৬৯ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় জিম্বাবুয়ে। ৩৪ রান করে আউট হোন মারুমানি। আর ১২ বলে ২৩ রান করে আউট হয়েছেন রায়ান বার্ল।

    ৪৫ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন সিকান্দার রাজা। তবে বেনেটের অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে জিম্বাবুয়ে।

  • লা লিগা রিয়াল নামার আগে ব্যবধান বাড়াল বার্সা, জয়ের নায়ক আরাউহো-গার্সিয়া

  • লাক্স সুপারস্টার চ্যাম্পিয়ান রাজশাহীর বর্ণিতা

    ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি।

    দীর্ঘ সাত বছর পর নতুন করে লাক্স সুপারস্টার পেল বাংলাদেশ। বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী রুহুল কুদ্দুস খান। জানা গেছে, বিজয়ী বর্ণিতাকে নিয়ে নির্মাতা রায়হান রাফী সিনেমা নির্মাণ করবেন।

    প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল। তিনি পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন চট্টগ্রামের আমিনা—তাঁর প্রাপ্তি তিন লাখ টাকা।

    শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
    শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জমকালো আয়োজনে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিজয়ের ট্রফি
     

    চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী—আমিনা ইসলাম, বিদুষী বর্ণিতা, নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, তিস্তা পাল ও নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
    ২০০৫ সালে শুরু হওয়া এই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা কয়েক বছর নিয়মিত আয়োজনের পর বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৮ সালে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাত বছর বিরতির পর গত বছর শুরু হয় এর দশম আসর।

    লক্ষাধিক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রাথমিক বাছাই শেষে ১১ হাজার প্রতিযোগীকে ডাকা হয়। সেখান থেকে সেরা ১০ জনকে নিয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেল আইয়ে প্রতিযোগিতার সম্প্রচার শুরু হয়। এবারের আসরের মেন্টর ছিলেন জয়া আহসান, মেহজাবীন চৌধুরী ও রায়হান রাফী।

    ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
    ‘লাক্স সুপারস্টার ২০২৫’–এর বিজয়ীবিজয়ী বর্ণিতা(মাঝে)
     

    অনুষ্ঠানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর জানান, বিজয়ীদের নিয়ে শিহাব শাহীন ওয়েব সিনেমা নির্মাণ করবেন।
    ইউনিলিভারের মার্কেটিং ডিরেক্টর ও বিজনেস ইউনিট হেড নাবিলা জাবীন খান বলেন, ‘লাক্স সুপারস্টারের গল্পগুলো সব সময়ই অনুপ্রেরণার। এটি একজন সাধারণ নারীর অসাধারণ হয়ে ওঠার যাত্রা।’

    সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হওয়া চূড়ান্ত আসরটি উপস্থাপনা করেন মোশাররফ করিম ও আরিফিন শুভ। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন জেফার রহমান, ইরফান সাজ্জাদ, তৌসিফ মাহবুব, আরশ খানসহ অনেকে।
    এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিহাব শাহীন, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিমসহ শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই।

  • লিফটে সালমানকে দেখে অবাক

    শুরু থেকেই নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টায় আছেন সাই মাঞ্জরেকার। ২০১৯ সালে জনপ্রিয় ‘দাবাং থ্রি’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক। ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। এরপর একাধিক বাণিজ্যিক ছবিতে অভিনয় করেছেন অভিনেতা-পরিচালক মহেশ মাঞ্জরেকার-কন্যা। এবার পিরিয়ড ড্রামা দ্য ইন্ডিয়া হাউস-এ আসছেন সাই। প্রথম আলোসহ কয়েকটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ছবি, নিজের অভিনয় অভিজ্ঞতা এবং সালমান খানকে ঘিরে কিছু স্মৃতির কথা বলেছেন তিনি।

    সাই বলেন, ‘“দ্য ইন্ডিয়া হাউস” আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গভীর ছবি।’ দক্ষিণের তারকা রামচরণের প্রযোজনায় একই সঙ্গে হিন্দি ও তেলেগু ভাষায় ছবিটি তৈরি হচ্ছে। ‘মেজর’-এর পর এটি সাইয়ের দ্বিতীয় ছবি, যা একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুট হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই ভাষায় শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা রোমাঞ্চকর, আবার চ্যালেঞ্জিংও। একই দিনে আবেগ, ভাষা আর সাংস্কৃতিক ভিন্নতা সামলাতে হয়েছে।’

    হিন্দি ও তেলেগু—দুই ভাষার ছবিতেই অবশ্য আগে কাজ করেছেন তিনি, ‘“মেজর”-এ কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি কিছুটা পরিচিত ছিল। তবে প্রতিটি ছবি নতুন কিছু শেখায়।’ ঐতিহাসিক পটভূমিতে নির্মিত ছবিটিতে তাঁর চরিত্রের নাম ‘সতী’। ‘চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে সেই সময়ের মানুষ, তাদের শক্তি, দুর্বলতা আর নীরব দৃঢ়তাকে বুঝতে হয়েছে।’

    প্যান-ইন্ডিয়া সেটআপে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও উচ্ছ্বসিত সাই, ‘এ ধরনের প্রজেক্টে সিনেমাই একটা ভাষা হয়ে যায়। ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে কাজ করে শুধু গল্পের জন্য।’ সহশিল্পী নিখিল সিদ্ধার্থ, পরিচালক বামসিসহ পুরো টিমের প্রশংসা করেন তিনি।

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ক্যারিয়ারের প্রসঙ্গে সাই জানান, ‘মেজর’, ‘অরো মে কহাঁ দম থা’ ও ‘স্কন্দা’র মতো ছবিতে কাজ করে তিনি অনেকটা পথ এগিয়েছেন। প্রিয় তারকাদের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শাহরুখ স্যার আর সালমান স্যারকে খুব ভালোবাসতাম। অক্ষয় কুমারের কমেডি ছবি দেখেই বড় হয়েছি।’ শৈশবের নায়িকাদের কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, ‘সোনালি বেন্দ্রের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ ছিলাম। রানী মুখার্জি আর কাজলকে নিয়ে তখন খুব আবেগপূর্ণ ছিলাম।’

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    কথাপ্রসঙ্গে জানালেন, সালমান খানের সঙ্গে প্রথম দেখা হওয়ার স্মৃতি আজও উজ্জ্বল, ‘আমার বয়স তখন তিন-চার। টিভিতে জুড়ওয়া খুব দেখতাম। দুবাইয়ে লিফটে হঠাৎ সালমান স্যারকে দেখে শুধু ভাবছিলাম—“ওহ মাই গড!”’ সালমান খানের আদর আর একবার ফ্লাইটে তিরামিসু খাওয়ানোর স্মৃতি আজও মনে আছে।

    শৈশবের সেই বিস্ময় আর মুগ্ধতাই সময়ের সঙ্গে ঘুরে এসে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। যে মানুষটিকে তিন-চার বছর বয়সে লিফটে দেখে বিস্মিত হয়েছিল ছোট্ট সাই, কয়েক বছর পর সেই সালমান খানেরই বিপরীতে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন ‘দাবাং থ্রি’-তে। পর্দায় দেখা নায়ক হয়ে ওঠেন তাঁরই সহশিল্পী। সেই স্মৃতির বৃত্ত পূর্ণ করেই আজ বলিউড ও দক্ষিণ—দুই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা গড়ে তোলার পথে এগিয়ে চলেছেন সাই মাঞ্জরেকার।

    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সাই মাঞ্জরেকার। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
  • লিভারপুলের হার, ইয়ামালে বাঁচল বার্সা

    চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোয় অম্লমধুর রাত কেটেছে ফেবারিটদের। গতকাল রাতে প্রথম লেগে লিভারপুল ১-০ গোলে হেরেছে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে। নিউক্যাসলের বিপক্ষে ১–১ গোলে ড্র করে বার্সেলোনা। তবে দাপুটে জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। টটেনহামকে ৫–২ গোলে হারায় আতলেতিকো। আর আতালান্তাকে ৬–১ গোলে উড়িয়ে দেয় বায়ার্ন।

    লিভারপুলের দুঃখ গালাতাসারাই

    প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এরই মধ্যে হাত ফসকে গেছে। এমনকি পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলাও অনিশ্চিত। এমন পরিস্থিতিতে লিভারপুলের জন্য ‘লাইফলাইন’ হতে পারে চ্যাম্পিয়নস লিগ। কিন্তু শেষ ষোলো প্রথম লেগে গালাতাসারাইয়ের কাছে হেরে গেছে তারা। লিগ পর্বের ম্যাচেও তুরস্কের ক্লাবটির মুখোমুখি হয়েছিল লিভারপুল। সেবারও একই ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছিল ‘অল রেড’রা।

    গালাতাসারায়ের কাছে হেরেছে লিভারপুল
    গালাতাসারায়ের কাছে হেরেছে লিভারপুল, এএফপি
     

    গতকাল রাতে তুর্কি লিগের শীর্ষে থাকা গালাতাসারায়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মারিও লেমিনা। ৭ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে হেড করে জাল খুঁজে নেন। এর আগে বলটি নামিয়ে দিয়েছিলেন ভিক্টর ওসিমেন। দ্বিতীয়ার্ধে ওসিমেন আরেকবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে রক্ষা পায় লিভারপুল।

    আগামী সপ্তাহে ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে গালাতাসারাইকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে লিভারপুল। হারের পর লিভারপুলের হয়ে ১০০ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার মাইলফলক স্পর্শ করা কোচ আর্নে স্লট বলেন, ‘এখানে খেলা কঠিন। তার ওপর ১–০ গোলে পিছিয়ে থাকলে কাজটা আরও কঠিন হয়ে যায়।’

    বার্সাকে বাঁচালেন ইয়ামাল

    সেন্ট জেমস পার্কে বার্সেলোনার বিপক্ষে ৮৬ মিনিটে গোল করে পুরো স্টেডিয়াম মাতিয়ে তোলেন হার্ভে বার্নেস। এই গোলেই বার্সেলোনাকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিল নিউক্যাসল। শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। যোগ করা সময়ের ৬ মিনিটে ম্যাচের শেষ কিকে গোল করে বার্সেলোনাকে দারুণ এক ড্র এনে দেন লামিনে ইয়ামাল।

    যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে দানি ওলমোকে ফাউল করে বার্সাকে পেনাল্টি উপহার দেন নিউক্যাসলের মালিক থিয়াউ। স্পটকিক থেকে বল জালে জড়ান ইয়ামাল। ম্যাচজুড়ে নিষ্প্রভ ইয়ামালের গোলেই শেষ পর্যন্ত হার এড়িয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সা।

    এর ফলে আগামী বুধবার ফিরতি লেগে ক্যাম্প ন্যুতে ন্যূনতম ব্যবধানে জিতলেই কোয়ার্টারে ফাইনালে পৌঁছে যাবে বার্সা। ম্যাচ শেষে নিউক্যাসলের সম্ভাবনা নিয়ে কোচ এডি হাও বলেন, ‘আশা অবশ্যই আছে। নিজেদের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে, সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস আছে। আজ আমরা সেটাই প্রমাণ করেছি।’

    ইয়ামালের পেনাল্টি গোলেই হার এড়াল বার্সা
    ইয়ামালের পেনাল্টি গোলেই হার এড়াল বার্সারয়টার্স

    আতলেতিকোয় বিধ্বস্ত টটেনহাম

    আতলেতিকোর কাছে গতকাল রাতে ৫–২ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে টটেনহাম। আতলেতিকোর মাঠ মেত্রোপলিতানোয় ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যে ৩–০ গোলে পিছিয়ে পড়ে টটেনহাম। এই বিপর্যয় থেকে শেষ পর্যন্ত আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। আতলেতিকোর হয়ে জোড়া গোল করেন আর্জেন্টাইন তারকা হুলিয়ান আলভারেজ।

    একটি করে গোল মার্কোস লরেন্তে, আতোয়াঁন গ্রিজমান ও রবিন লে নরমান্দের।
    জয়ের পাশাপাশি তিন গোলের বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকে দারুণ খুশি আলভারেজ।

    মুভিস্টার প্লাসকে ম্যাচ শেষে আলভারেজ বলেন, ‘জয় আর তিন গোলের লিডে আমি খুব আনন্দিত। কিন্তু এখনো ৯০ মিনিট বাকি। ওরা কিছু ভুল করেছে, আমরা জানতাম সেই সুযোগ কীভাবে নিতে হয়। চাপ তৈরি করে খেলেছি, আর সেটাই আমাদের গোলের সুযোগ এনে দিয়েছে।’

    জয়ের পর আতলেতিকোর উদ্‌যাপন
    জয়ের পর আতলেতিকোর উদ্‌যাপনএএফপি

    ‘সিক্স স্টার’ বায়ার্ন

    আতলেতিকোর মতো বড় জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখও। দারুণ ছন্দে থাকা দলটি আতালান্তাকে উড়িয়ে দেয়  ৬–১ গোলে। দুর্দান্ত এই জয়ে শিরোপার দাবিটা যেন আরও জোরালো করল বায়ার্ন। এই ম্যাচে খেলেননি বায়ার্নে মূল স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।

    যদিও তাতে কোনো সমস্যা হয়নি জার্মান চ্যাম্পিয়নদের। বায়ার্নের হয়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে। একটি করে গোল জোসিপ স্টানিসিক, সের্হে নাব্রি, নিকোলাস জ্যাকসন ও জামাল মুসিয়ালার। এ জয়ে বায়ার্নের শেষ আটে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেল।

    ম্যাচ শেষে বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি প্রাইম ভিডিওকে বলেন, ‘আমরা ঠিক এমন পারফরম্যান্সই চেয়েছিলাম। ম্যাচজুড়ে আমরা আক্রমণাত্মক ও বিপজ্জনক ছিলাম। আমাদের দলে প্রতিভা ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে…তাই ছেলেরা যখন এভাবে খেলতে পারে, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

  • লুবাবার বাগ্দান হয়েছে, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে বিয়ে

    আলোচিত মডেল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনয়শিল্পী সিমরিন লুবাবা বলছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি, তবে বাগ্‌দান সেরেছেন।

    গতকাল রাতে লুবাবার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে আজ সন্ধ্যায় আরেক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন তিনি।

    বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে সিমরিন লুবাবা লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে আমাদের বাগ্‌দান সম্পন্ন হয়েছে।’

    বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবা
    বাগ্‌দত্তার সঙ্গে তোলা ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিমরিন লুবাবাফেসবুক থেকে

    দুজনের ছবিটি পেছন থেকে তোলা, ফলে বাগ্‌দত্তাকে চেনা যাচ্ছে না। তাঁর পরিচয়ও প্রকাশ করেননি।

    বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুসারে ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে ও ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে হলে তা বাল্যবিবাহ। কেউ কেউ বলছেন, লুবাবার বয়স এখনো ১৮ বছর হয়নি।

    বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মধ্যে লুবাবা ফেসবুকে লিখেছেন, তিনি এখনো বিয়ে করেননি। তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হবে, ইনশা আল্লাহ। আমরা সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।’

    লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদের
    লুবাবা ও তাঁর দাদা প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরফাইল ছবি

    সিমরিন লুবাবা ছোটবেলা থেকেই মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি হিসেবে খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ে আসেন। শিশুশিল্পী হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর নিয়মিত অভিনয় ও মডেলিংয়ে কাজ করেছেন।

    তবে গত বছরের শেষ দিকে হঠাৎই বিনোদনজগৎ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন লুবাবা।

  • লড়াইয়ের স্বীকৃতি পেলেন ফারজানা-রেনু-রোকেয়ারা

    রাজধানীর কোলাহল ছাপিয়ে রাত দুইটার নিস্তব্ধতায় যাঁদের বঁটির ধারালো শব্দে বেঁচে থাকার ছন্দ তৈরি হয়, সেই অদম্য নারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিশিষ্টজনেরা। অনলাইনে মাছ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘রিভার ফিশ’-এ কর্মরত ফারজানা রহমান, রেনু বেগম এবং আশি ছুঁই ছুঁই রোকেয়া বেগমের হাতে আজ মঙ্গলবার তুলে দেওয়া হয়েছে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার। এই তিনজনসহ মাছ কাটেন রিভার ফিশের আরও চার নারী—হাসনা বেগম, পারভিন আকতার, সকিনা বেগম ও রহিমা আকতারকে নগদ অর্থ ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়।

    ১০ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে ‘মাছ কাটার বঁটিতেই অভাব কেটেছে ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আজ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় রিভার ফিশের কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই নারীদের অদম্য জীবনযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি ও বেসিসের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আবদুল্লাহ এইচ কাফি। বর্তমানে তিনি এশীয়-ওশেনীয় অঞ্চলের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠন অ্যাসোসিওর আজীবন সভাপতি এবং জেএএন অ্যাসোসিয়েটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

    অদম্য এই নারীদের সংগ্রামের গল্প শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে আবদুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়ার চেয়েও বড় বিষয় হলো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। ফারজানা, রেনু আর রোকেয়ারা প্রমাণ করেছেন যে কোনো কাজই ছোট নয়। তাঁদের এই আত্মসম্মানবোধ আমাদের সমাজের জন্য এক বড় শিক্ষা।’ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনলাইনভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্কিলআপারের প্রতিষ্ঠাতা শামীম হুসাইন। তিনি এই নারীদের দক্ষতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    রিভার ফিশের প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা আক্তার এবং তাঁর স্বামী সফটওয়্যার প্রকৌশলী তানভীর আজাদ জানান, এই নারীরা কেবল শ্রমিক নন, তাঁরা প্রতিষ্ঠানের প্রাণ। তাঁদের সততা ও পরিশ্রমই রিভার ফিশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। উপহার হাতে তুলে দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও লেখক রাহিতুল ইসলাম।

    উপহার পেয়ে অশ্রুসিক্ত চোখে রেনু বেগম বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাজকে আপনারা যে সম্মান দিলেন, এটাই আমাদের বড় পাওয়া। এই উপহার আমাদের জন্য আনন্দের।’

    ফারজানা, রেনু ও রোকেয়াদের মতো নারীরা সমাজের তথাকথিত ‘ছোট কাজ’কে জীবনের ঢাল বানিয়ে যে নতুন পৃথিবী গড়েছেন, সে লড়াইয়ে শামিল হতে পেরে অতিথিরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

  • শনিবারের পর আজ আবার বাড়ল সোনার দাম, ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা

    গত শনিবারের পর আজ মঙ্গলবার আবার সোনার দাম বাড়াল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সংগঠনের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ভালো মানের অর্থাৎ, ২২ ক্যারেট সোনার দাম বেড়েছে ভরিপ্রতি ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।

    বাজুসের নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এর ফলে গত শুক্রবারের পর সোনার দাম ভরিপ্রতি বাড়ল ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা। তার আগে টানা কিছুদিন দাম কমেছে।

    নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

    বাজুসের ঘোষণা অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। এই দামের সঙ্গে ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হবে।

    সোনার সঙ্গে আজ রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। পরে ২২ ক্যারেট অর্থাৎ, ভালো মানের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৫ হাজার ৭১৬ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির আগে রুপার দাম ছিল প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। অর্থাৎ, আজ রুপার দাম বেড়েছে ভরিপ্রতি ৩৫১ টাকা।

    বাজুস বলছে, দেশের বাজারে তেজাবি সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় এই দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে মূলত বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় ৩১ মার্চ স্পট মার্কেটে সোনার দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ২৯ ডলার বেড়েছে।

    বিশ্ববাজারে সোনার দাম এখন প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫৫ ডলার। শনিবার যখন শেষবার মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, তখন দাম ছিল ৪ হাজার ৪৯৪ ডলার। অর্থাৎ, এর মধ্যে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬১ ডলার বেড়েছে।

    তবে গত ৩০ দিনে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমেছে। এই সময় সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৭৬৯ ডলার কমেছে। সে কারণে ১২ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা কমানো হয়েছে। এরপর বিশ্ববাজারে দাম আবার বাড়ার কারণে ২৮ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত তিন দফায় সোনার দাম ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়ল।

    বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা ক্রয় বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের অনুসন্ধান—সব মিলিয়ে সোনার দামে অনেক দিন ধরেই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম গত বছর ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    অর্থাৎ, সোনার দাম এখন ঐতিহাসিকভাবে অনেকটাই বেশি। সে কারণে দেখা যাচ্ছে, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সোনার দাম কমেছে। তার সঙ্গে আছে ডলারের শক্তিবৃদ্ধি। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন বন্ডের দিকে ঝুঁকছেন।

    সাধারণত সোনা ও ডলারের দাম একসঙ্গে বৃদ্ধি পায় না। এ দুটোর সম্পর্ক বিপরীতমুখী, তবে কখনো কখনো ব্যতিক্রম দেখা যায়। এখন সে রকম কিছু দেখা যাচ্ছে না।

    গত জানুয়ারিতে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স (৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম) সোনার দাম ৫ হাজার ৬০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। এর প্রভাবে দেশের বাজারে গত ২৯ জানুয়ারি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়। দেশের ইতিহাসে এটাই সোনার সর্বোচ্চ দাম।

  • শাড়ি ও ব্যাকলেস ব্লাউজে মৌনীর ফেস্টিভ লুক

    শাড়ি, বোল্ড স্টেটমেন্ট ব্লাউজ আর মিনিমাল গয়নার কম্বিনেশনে মৌনী রায়ের নতুন ফেস্টিভ লুক নজর কাড়ছে। উৎসবের সাজে অনুপ্রেরণার এক নিখুঁত উদাহরণ এই লুক।

    মৌনী রায় নামটির সঙ্গে ফ্যাশনজগতের কমবেশি সবাই পরিচিত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই বাঙালি মেয়ের দাপট এখন বলিউড জুড়েও। অভিনয়ে তাঁর যতটা নামডাক, তার চেয়েও বেশি নজর কাড়েন ফ্যাশন সেন্সে। নিত্যনতুন ডিজাইনের পোশাকে তাঁর উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

    এথনিক হোক বা ওয়েস্টার্ন—দুই ধরনের পোশাকেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ ও আকর্ষণীয়। তবে বাঙালি বলেই হয়তো শাড়ির লুকে মৌনী যেন হয়ে ওঠেন অপ্সরীর মতো সুন্দর।

     
     

    সম্প্রতি তেমনই এক লুকে ধরা দিয়েছেন তিনি। হালকা পেস্তা-সবুজ টোনের একটি শিয়ার শাড়িতে দেখা গেছে অভিনেত্রীকে, যার জমিনজুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম সিকুইন ডিটেইলিং।

     

    শাড়িটির নরম, স্বচ্ছ টেক্সচার লুকে এনেছে এক ধরনের স্বপ্নিল আবহ। ঝিলমিল করা সোনালি বর্ডারটি মিনিমাল হলেও পুরো লুকে যোগ করেছে রাজকীয় ছোঁয়া।

    এই লুকের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর ব্লাউজ। ব্যাকলেস ডিজাইনে তৈরি এই ব্লাউজে রয়েছে স্টাইলিশ আবেদন। উজ্জ্বল ফুশিয়া গোলাপি রঙের ডিপ-নেক ব্লাউজটি ভারী গোল্ড সিকুইন ও সূক্ষ্ম এমবেলিশমেন্টে অলংকৃত, যা শাড়ির সফট টোনের সঙ্গে তৈরি করেছে দারুণ কনট্রাস্ট।

     

    শাড়ির সঙ্গে মিনিমাল কিন্তু নজরকাড়া গয়না পরেছেন তিনি। ট্র্যাডিশনাল গোল্ড ঝুমকা এবং হাতে পরা আংটি ছাড়া অতিরিক্ত কিছু নেই সাজে । মেকআপে ফুটে উঠেছে সফট গ্ল্যাম আমেজ । স্মোকি আই লুকের সঙ্গে পিচি-ন্যুড লিপকালার আর কপালে সাদা পাথরের টিপে সেজেছেন।

     
     

    কোমর ছুঁয়ে থাকা চুলগুলো  হালকা ওয়েভে স্টাইলে ছেড়ে রাখা। সব মিলিয়ে, শাড়ি, বোল্ড স্টেটমেন্ট ব্লাউজ এবং মিনিমাল গয়নার সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে এক নিখুঁত ফেস্টিভ লুক—যা সহজেই অনুপ্রেরণা হতে পারে যেকোনো উৎসবের সাজে।

    ছবি: ইন্সটাগ্রাম

  • শিক্ষা উপবৃত্তির নির্দেশিকা প্রকাশ, কোন ক্লাসে কত টাকা পাবে শিক্ষার্থীরা

    প্রাথমিকের শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ ২০২৬) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই-সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (এসকেটি) অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থী উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হবে।

    উপবৃত্তির টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ, ব্যাগ, ছাতা, স্কুল ড্রেস, জুতা ও টিফিন বক্স ইত্যাদি কেনা যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রম সরকারের ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাক্‌–প্রাথমিক শ্রেণির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী মাসিক ৭৫ (পঁচাত্তর) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ১৫০ (এক শ পঞ্চাশ) টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৩০০ (তিন শ) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণিতে যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি চালু রয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে কোনো পরিবারের একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ২০০ (দুই শ) টাকা, দুজন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলে মাসিক ৪০০ (চার শ) টাকা হারে উপবৃত্তির টাকা পাবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে উপবৃত্তির পরিমাণ সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে। উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পাবে।

    উপবৃত্তি পাওয়ার শর্ত

    প্রাক্‌–প্রাথমিকের জন্য ন্যূনতম বয়স চার বছর এবং প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। প্রথম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য প্রতি মাসে পাঠদিবসের অন্যূন ৮০ শতাংশ উপস্থিতি এবং পূর্ববর্তী শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তি। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রতি বিষয়ে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তির শর্ত প্রযোজ্য হবে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে ছাড়পত্রে শিক্ষার্থীর নম্বর প্রাপ্তির বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে। প্রাক্‌–প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণির জন্য শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ (বাংলা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ইংরেজি) থাকতে হবে। শিক্ষার্থীর অভিভাবকের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মুঠোফোনে খোলা সক্রিয় এমএফএস অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

    অন্যান্য শর্তের মধ্যে রয়েছে

    প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী বার্ষিক পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর না পেলে, সে উপবৃত্তি পাওয়ার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। অথবা ধারাবাহিকভাবে তিন মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উক্ত শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে। শিক্ষার্থী কোনো মাসে নিয়মিত উপস্থিতির শর্ত ভঙ্গ করলে উক্ত মাসের উপবৃত্তি প্রদান করা যাবে না। উক্ত শিক্ষার্থী পরবর্তী সময় শর্তপূরণ করলে শর্তপূরণের মাস থেকে আবার উপবৃত্তি প্রাপ্তির জন্য যোগ্য হবে। শিক্ষার্থীকে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া প্রতি মাসে অন্যূন ৮০ শতাংশ পাঠদিবসে উপস্থিত থাকতে হবে। যুক্তিসংগত কারণ প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নির্ধারণ করবেন। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৮০ শতাংশ পাঠদিবসের কম হলে, তা প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্তৃক যুক্তিসংগত কারণ বলে বিবেচিত হলে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত শিথিল করতে পারবেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশের কোনো এলাকায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব না হলে, দুর্যোগের কারণে বিদ্যালয়ের পাঠদান স্থগিতকালীন উপস্থিতি দিবসগুলো উক্ত এলাকার শিক্ষার্থীদের মাসিক উপস্থিতি নির্ধারিত হারের চেয়ে কম হলেও উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে উপবৃত্তি দেওয়া যাবে। জুন মাসের উপবৃত্তির টাকা বিতরণের ক্ষেত্রে ১০ জুন পর্যন্ত পাঠদিবসের ৮০ শতাংশ উপস্থিতির ভিত্তিতে উপবৃত্তি বিতরণ করা যাবে।

    **নির্দেশিকা দেখুন এখানে...

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি নিয়ে জরুরি নির্দেশনা

    বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১৬ মার্চ জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠন-সংক্রান্ত নির্দেশনা পালনে ব্যবস্থা নিতেও বলা হয়। মঙ্গলবার ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১৬ মার্চের জারিকৃত পরিপত্রে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠন-সংক্রান্ত প্রদত্ত নির্দেশনা প্রতিপালনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে অনুরোধ করা হলো।

    এর আগে ১৬ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস বা সমমান করে পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ পরিপত্রে বলা হয়েছে, ১০ মার্চ নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ম্যানেজিং কমিটি, অ্যাডহক কমিটি গঠন বিষয়ে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকাসহ অন্যান্য বোর্ডের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৪ (২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্টের সংশোধনী) এর ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে ৭৫ (২) এবং অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে ৭৪(২) প্রবিধি অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নিম্নরূপ নির্দেশনা দেওয়া হলো। এগুলো হলো—

    ক. অ্যাডহক কমিটির সভাপতি— শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস বা সমমান হবে। আবশ্যক ক্ষেত্রে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির শিক্ষা প্রসার ও উন্নয়নে বিশেষ অবদান বা অন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা সাপেক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

    খ. অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়ন—অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান, মহানগরের ক্ষেত্রে বিভাগীয় কমিশনার এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলার সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণির কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা শিক্ষায় আগ্রহী স্থানীয় খ্যাতিমান ব্যক্তি, সমাজসেবক, স্থানীয় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতার মধ্য থেকে ৩ জন ব্যক্তির নাম ও জীবনবৃত্তান্ত–সংবলিত প্রস্তাব শিক্ষা বোর্ডের কাছে পাঠাবেন। শিক্ষা বোর্ড প্রস্তাবিত ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজনকে সভাপতি মনোনীত করবেন।

  • শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা গতানুগতিক ধারায় চলায় বেকারত্ব বাড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। কিন্তু শিক্ষা বেকারত্ব বাড়ানোর জন্য নয়, বরং তা বেকারত্ব কমানো ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও যুগোপযোগী করা হবে।

    মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক বলেন, কর্মমুখী শিক্ষার বিস্তার এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত। শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে। নতুন কলেজ, বিষয় বা প্রতিষ্ঠান চালুর নানান দাবি এলেও কর্মসংস্থানের বাস্তব চাহিদা ও বাজারের উপযোগিতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

    এ সময় শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বাংলা মাতৃভাষা ও প্রথম ভাষা হিসেবে এর মর্যাদা অটুট। মাতৃভাষা চিন্তা, স্বপ্ন ও অনুভূতির প্রধান বাহন। বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ইংরেজিসহ ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো অপরিহার্য।

    আলোচনা সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের সব দপ্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে মন্ত্রণালয়ের কোথাও কোনো দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না এবং কাউকে দুর্নীতির সুযোগ দেওয়া হবে না।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শিমুল–পলাশরাঙা বসন্তের সকাল, গানের সুর–নাচের ছন্দে বর্ণিল উৎসব

    শিমুল–পলাশের রঙে লাল বসন্তের প্রথম সকাল মুখর হয়ে উঠেছিল গানের সুর আর নৃত্যের ছন্দে। আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণ ঋতুরাজের আগমনী দিনে বিপুল প্রাণের উচ্ছ্বাসে স্পন্দিত হয়েছিল আজ শনিবার সকাল থেকে। ‘এসো মিলি প্রাণের উৎসবে’ আহ্বান নিয়ে ৩৮তম বারের মতো বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছিল জাতীয় বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ।

    সকাল আটটায় বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের সমবেত যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের কার্যক্রম। এরপর দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের একক সংগীত, আবৃত্তির সঙ্গে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।

    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা, বিশেষত নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। দর্শকেরাও অংশ নিয়েছিলেন বসন্তের ঐতিহ্যবাহী সজ্জায়। নারীদের পরনে ছিল বাসন্তী রঙের ছাপা শাড়ি, খোঁপা বা মাথায় ফুলের সজ্জা। পুরুষদের বেশির ভাগই পরেছেন উজ্জ্বল বর্ণের পাঞ্জাবি। রাজধানীতে শীতের প্রভাব কমেছে আরও কিছুদিন আগেই। বসন্তে গরম পোশাকের আবশ্যকতা নেই বলে বাহারি সাজে সেজেগুজে উৎসবকে রঙিন করে তুলেছিলেন আবালবৃদ্ধবনিতারা।

    অধিকাংশ গান, আবৃত্তি আর নৃত্য ছিল বসন্ত নিয়ে। বসন্ত ভালোবাসারও ঋতু। তাই ঋতুরাজের আগমনী দিনে ভালোবাসার গানও বাদ পড়েনি পরিবেশনা থেকে। দর্শক–শ্রোতাদেরও অনেকে এসব গানের সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন। নাচের মুদ্রায় তাল মিলিয়ে নৃত্য করেছেন কেউ কেউ।

    জাদুঘরের প্রথম তলার খোলা পরিসরে মঞ্চ করে অনুষ্ঠান। সামনে দর্শকদের জন্য সারি দিয়ে চেয়ার পাতা হয়েছিল। তবে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রচুর। অনেকে চারপাশে দাঁড়িয়ে ও সিঁড়ির ওপর থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন। আবার অনেকে প্রবেশপথের সামনের উন্মুক্ত পরিসরে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলেছেন। অনেকে ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরে ও সামনের খোলা পরিসরে বসে চা পানের পাশাপাশি সঙ্গীদের সঙ্গে আলাপে–আড্ডায় মেতেছেন। সবটা মিলিয়ে দারুণ এক আনন্দঘন আয়োজন সম্পন্ন হলো বসন্ত উৎসবের এই নতুন স্থানে।

    বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছিল ১৪০১ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১৯৯২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। এর পর থেকে বরাবর সেখানেই দিনভর উৎসব হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর পরিবেশ পাল্টে যায়। বকুলতলায় উৎসব করার আর অনুমতি মেলেনি। বকুলতলায় আশ্রয় হারিয়ে ‘অনিকেত’ আয়োজকেরা এরপর বিভিন্ন স্থানে উৎসব আয়োজনের জন্য চেষ্টা করেছেন। অনুমতি পাননি। অবশেষে তাঁরা শরণাপন্ন হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের কাছে। বসন্তকথনে এই কথাগুলোই তুলে ধরলেন আয়োজকেরা।

    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    উৎসবে ছিল দলীয় সংগীত আর নৃত্যের একের পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী বলেন, ‘এবারই প্রথম চারুকলার বকুলতলার বাইরে উৎসবটির আয়োজন করতে হলো। বকুলতলাতেই উৎসব করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। সে কারণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এসেছি। মুক্তিযুদ্ধ হলো বাংলাদেশের শিকড়। আর বসন্ত উৎসবের মতো ঋতুভিত্তিক উৎসগুলো আমাদের সংস্কৃতির শিকড়। শিকড়ের টানেই আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্মারক এই প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছি। তবে আগামী বছর থেকে আমরা আবার চারুকলার বকুলতলাতেই উৎসব করতে আগ্রহী। সংস্কৃতিচর্চার মুক্ত পরিবেশ বজায় থাকবে—এটা আমাদের প্রত্যাশা।’

    বসন্তকথনে উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সহসভাপতি কাজল দেবনাথ বলেন, ‘আমরা মনে করি, আজ এই উৎসবের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে একটি বন্ধ দরজা খুলে গেল।’ আগামী দিনগুলোতে পরিবেশ আরও উন্মুক্ত হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।

    সভাপতির বক্তব্যে বসন্ত উদ্‌যাপন পরিষৎ–এর সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বেশ কিছুদিন থেকেই মব আতঙ্ক নিয়ে জনমনে একটি ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। আমাদের আশঙ্কা ছিল তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলে আসা এই ঋতুভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসবটি করতে পারব কি না। কারা ক্ষমতায় আসবে, তারা দেশে সংস্কৃতিচর্চার পরিবেশ রুদ্ধ করে দেবে কি না, এ নিয়েও উদ্বেগ ছিল। তবু আমাদের প্রস্তুতি ছিল। এই পরিস্থিতিতে উৎসবটি করতে পেরেছি। আর তেমন কোনো প্রচার না করা সত্ত্বেও যে বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে অংশ নিয়েছেন, সে জন্য আমরা আনন্দিত।’

    সফিউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ভবিষ্যতে সরকার দেশে সংস্কৃতিচর্চার জন্য, সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও পরিবেশ নিরাপদ রাখতে কার্যকর ভূমিকা নেবেন, এটা জনসাধারণের প্রত্যাশা।

    অনুষ্ঠানের একক কণ্ঠের পরিবেশনার মধ্যে শিল্পী বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি গেয়েছেন ‘ফুল ফাগুনের এল মৌসুম’; তানজিলা তমা গেয়েছেন ‘আহা আজি এ বসন্তে’; অনিমা রায়ের নেতৃত্বে তাঁর দলের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়েছেন ‘বসন্ত বাতাসে সই গো’; শ্রাবণী গুহ রায় গেয়েছেন, ‘আমি মেলা থেকে তালপাতার এক বাঁশি’; ‘মধু মালতি ডাকে আয়’ গেয়েছেন সুস্মিতা সূচি, মারুফ হোসেন গেয়েছেন ‘বকুল ফুল বকুল ফুল’; রীতা রানী সাহা গেয়েছেন ‘বন্ধু বিনা পরান বাঁচে না’।

    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    নাচের শিল্পীরা এসেছিলেন বর্ণাঢ্য সাজে। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গানের মধ্যে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা ছিল ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি ছুটে ছুটে আয়া’; বহ্নিশিখার পরিবেশনা ‘ফুটিল ফুল ফুটিল চৈতি রাতের শেষে’। নায়লা তারান্নুম আবৃত্তি করেছেন কবি আসাদ চৌধুরীর কবিতা ‘ফাল্গুন এলো’।

    ‘কুহু কুহু ডাক দিলা কোকিলে’ গানের সঙ্গে অনীক বসুর পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেছেন স্পন্দের শিল্পীরা। কত্থক নৃত্য সম্প্রদায়ের শিল্পীরা কত্থক নৃত্য পরিবেশন করেন সাজু আহমেদের পরিচালনায়।

    বসন্ত উৎসবের স্পনসর ছিল ইস্পাহানি গ্রুপ। শ্রোতা–দর্শকদের জন্য চা পরিবেশন করেছে তারা। ইস্পাহানি গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক এইচ এম ফজলে রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, বসন্ত উৎসবের শুরু থেকেই তাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত আছেন। ঋতুভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক এই উৎসব বাংলাদেশের একটি প্রাণের উৎসব। এর সঙ্গে আছে ভালোবাসা দিবস। সব মিলিয়ে ইস্পাহানি গ্রুপ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজনে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত।

    উৎসব চলেছে দুপুর অবধি। একক সংগীত পরিবেশনায় আরও অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, মহাদেব সাহা, আবিদা রহমান, ফেরদৌসী কাকলি, সেমন্তী মঞ্জুরি, অবিনাশ বাউল, সঞ্চিতা রাখী প্রমুখ। আবৃত্তি করেছেন বেলায়েত হোসেন।

    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
    ছিল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবেশনাও। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ভেতরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে
     

    সম্মেলক গান করেছে রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, বুলবুল ললিতকলা একাডেমি, সুরবিহার, পঞ্চভাস্কর, সুরতীর্থ।

    নৃত্যে অংশ নিয়েছে অনেকগুলো সংগঠন। তাদের মধ্যে ছিল—গৌড়ীয় নৃত্য একাডেমি, নবচেতনা, গারো কালচারাল একাডেমি, নৃত্যর, তুরঙ্গমী, অংশী, ভাবনা, দিব্য, নন্দিনী নৃত্যালয়, নর্তনম, জাগো আর্ট সেন্টার, নৃত্যলোক, নৃত্যাক্ষ, ধৃতি নর্তনালয়, বাংলাদেশ একাডেমি অব পারফর্মিং আর্ট, সাধনা, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র, ফিকা চাকমা, মম কালচারাল সেন্টার, নৃত্যালোকসহ অনেকে। সঞ্চালনা করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরী ও আহসান দিপু।

  • শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা

    আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সারাদেশে সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা।

    প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা থাকায় পরীক্ষার্থীরা আরও আগেভাগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়।  

    এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ ৫৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছেলে। আর মেয়ে ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।

    গতকাল সোমবার (২০ এপ্রিল)  সচিবালয়ে ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী আ. ন. ম এহছানুল হক মিলন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। তারা জানান, পরীক্ষার সময় ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলে কেন্দ্র এলাকা যানজটমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা।

    এদিকে, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষায় স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গত দুই সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই জরুরি নির্দেশনা জারি করছে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ৩ হাজার ২০৯টি কেন্দ্র আনা হয়েছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। 

    এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, অনেক জায়গায় সিসি ক্যামেরা অভ্যস্ত আছে। নতুন জায়গায় কেন্দ্র সচিবদেরকে সেভাবে অনুপ্রাণিত করেছি।

     

  • শেষ মুহূর্তের গোলে স্পোর্তিংকে হারাল আর্সেনাল

    স্পোর্তিং লিসবন ০ : ১ আর্সেনাল

    চ্যাম্পিয়নস লিগে আজকের রাতটি যেন প্রতিপক্ষের মাঠে জয়ের রাত। বায়ার্ন মিউনিখ যেমন রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে জিতেছে, তেমনি স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে দারুণ এক জয় পেয়েছে আর্সেনাল। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পর্তুগিজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া ১-০ গোলের এ জয়ে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল আর্সেনাল। আর্সেনালের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন কাই হাভার্টজ।

    স্পোর্তিং লিসবনের মাঠে প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল আর্সেনালই। কিন্তু সুযোগ তৈরিতে আর্সেনালকে ভালোভাবেই টেক্কা দিচ্ছিল লিসবন। প্রতিপক্ষের মাঠে ফিরতি লেগ বলেই হয়তো একটু বেশিই সতর্ক ছিল মিকেল আরতেতার দল। গোল করার চেয়ে ভুল না করাতেই যেন বেশি মনোযোগ ছিল তাদের।

    ফলে প্রথমার্ধে ৭০ শতাংশ বলের দখল রেখেও প্রতিপক্ষকে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ‘গানার’রা। অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে কেবল একটি সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে লিসবন। কিন্তু সেটি গোল আদায়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

    বিরতির পরও আর্সেনালের লক্ষ্য ছিল নিজেদের রক্ষণ সুরক্ষিত রাখার দিকে। তবে গোলের জন্য তারা যে চেষ্টা করছিল না, তা–ও নয়। বল দখলে কিছু ছাড় দিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করে তারা।

    সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল
    সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে গেল আর্সেনাল, এক্স/আর্সেনাল

    যদিও গোলের জন্য আর্সেনালকে অপেক্ষা করতে হয় একেবারে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির অ্যাসিস্টে গোল করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন বদলি নামা হাভার্টজ।

    জার্মান তারকার গোলের আগে আর্সেনালকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। ম্যাচের অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তিনি।

    ১৫ এপ্রিল রাতে আসের্নালের মাঠ এমিরেটসে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্সেনাল ও স্পোর্তিং লিসবন।

  • শেষ সময়ে যেনতেন শিক্ষা আইনের চেষ্টা

    • প্রাথমিক শিক্ষা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমিত রেখে সব শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক হবে।

    • আইন কার্যকর হওয়ার তিন বা পাঁচ বছরের মধ্যে কোচিং সেন্টার, সহায়ক পুস্তক, প্রাইভেট টিউশন স্থায়ীভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া নেবে।

    ঢাকা
  • শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিতে বায়ার্ন মিউনিখ

    লা লিগায় নিজেদের হারিয়ে খুঁজলেও চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে নকআউট পর্বে একের পর এক বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে তাদের। ম্যানসিটির মতো দলকে হারাতে পারলেও বায়ার্ন মিউনিখের কাছে পরাস্ত হয়েছে লস ব্লাঙ্কোসরা।

    যার মূল কারণ গোলকিপার, থিবো কর্তোয়ার ইনজুরি পড়ায় লুনিন দলকে সেরা দিতে পারেননি। বায়ার্নের মাঠে বার বার কামব্যাক করলেও হতাশ করেছে লুনিন। তাই শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পেয়েছে জার্মান ক্লাবটি।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৪-৩ গোলে জিতেছে তারা। প্রথম দেখায় ২-১ ব্যবধানে জয়ী বায়ার্ন দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৪ অগ্রগামিতায় এগিয়ে গেল।

    এদিনের ম্যাচের শুরুর মিনিট থেকে গোল করে রিয়াল। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে যার শুরুটা করেন আর্দা গিলের। ম্যাচের ঘড়িতে সময় তখন ৩৫ সেকেন্ড! চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড চ্যাম্পিয়নদের হয়ে সবচেয়ে দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ড গড়লেন তুর্কি মিডফিল্ডার। পরে আরেকটি দারুণ গোল করেন তিনি। 
    ওই ধাক্কা সামলে নিতে অবশ্য একদমই দেরি করেনি বায়ার্ন। পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচে সমতা টেনে, দুই লেগ মিলিয়ে আবার এগিয়ে যায় তারা। জসুয়া কিমিখের কর্নারে একেবারে গোলমুখে হেডে গোলটি করেন পাভলোভিচ। আয়ত্ত্বের মধ্যে হলেও, উড়ে আসা বলের গতি বুঝতে পারেননি রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রি লুনিন।

    দুর্দান্ত গোলে দলকে আবার ম্যাচে এগিয়ে নেন গিলের। ডি-বক্সের বাইরে ব্রাহিম দিয়াস ফাউলের শিকার হলে ফ্রি কিক পায় রেয়াল এবং অসাধারণ বাঁকানো শটে রক্ষণ দেয়ালের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন ‘তুরস্কের মেসি।’ নয়ার ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।

    ৩৭তম মিনিটে লুনিন আরেকটি দারুণ সেভ করলেও, পরের মিনিটে ফের গোল হজম করে রিয়াল। উপামেকানোর পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে কোনাকুনি শটে মৌসুমে গোলের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কেইন।

    তিন মিনিট পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও, বাধা পায় ক্রসবারে। অবশ্য পরের মিনিটেই দলকে আবার এগিয়ে নেন এমবাপে। ব্রাজিলিয়ান তারকার পাস ডি-বক্সে পেয়ে প্লেসিং শটে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪ সমতা টানেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।

    দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক শুরু করে বায়ার্ন। প্রথম আট মিনিটের প্রায় পুরোটাই খেলা হয় রেয়ালের অর্ধে। এরপর পাল্টা আক্রমণে ম্যাচে প্রথম কর্নার পায় সফরকারীরা। ওই কর্নারের পর, সতীর্থের ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে ভলি করেন এমবাপে, দারুণ ক্ষীপ্রতায় সেটা আটকে দেন নয়ার।

    একটু পর রক্ষণের দুর্বলতায় বিপদে পড়তে যাচ্ছিল রেয়াল। ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস দিয়াস, তবে শট নিতে একটা মুহূর্ত দেরি করেন তিনি, পেছন থেকে বল কেড়ে নেন ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড।

    ৬৮তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন ওলিসে, কোনোমতে এক হাত দিয়ে বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান লুনিন। একটু পর পাল্টা আক্রমণে এমবাপের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেলেও, সুবর্ণ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি ভিনিসিউস।

    নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রেয়াল। ৬৮তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের বদলি নামার ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন কামাভিঙ্গা। আর আট মিনিট পর কেইনকে অহেতুক ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন ফরাসি মিডফিল্ডার।

    এরপরই রিয়ালের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৮৯তম মিনিটে দিয়াসের জোরাল শটে বল একজনের পা ছুঁয়ে একটু দিক পাল্টে জালে জড়ায়, দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় বায়ার্ন।

    আর চার মিনিট যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে ওলিসের গোলে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়নদের সব আশা শেষ হয়ে যায়। একটু পরই বাজে শেষের বাঁশি। উল্লাসে ফেটে পড়ে বায়ার্ন শিবির। আর হতাশায় নুইয়ে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।

    ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।

     

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা

    তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে সমতায় নেমে এসেছে বাংলাদেশ নারী দল। রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৪ উইকেটে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ফলে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ।

    ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা ৫ রান করে বিদায় নেন। ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে ওপেনার ও অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। ৩৯ বলে ৮টি চারে ৪০ রান করেন তিনি।

    ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটিতে। করুনারত্নে ৪০ ও সামারাবিক্রমা ৫০ রান করে আউট হলেও জয়ের ভিত গড়ে দেন তারা। কৌশানি ৪ রান করে ফেরেন। পরে কাভিশা ও নীলাক্ষী দলকে জয় এনে দিয়ে মাঠ ছাড়েন।

    বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা আক্তার সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতু মনি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

    এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দল। মাত্র ৪ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হয়ে যান।

    একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করেন অধিনায়ক জ্যোতি। ১০১ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন তিনি। শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতু মনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০ ও রাবেয়া খান ১৫ রান করে কিছুটা অবদান রাখেন। এছাড়া সোবহানা মোস্তারি ৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন।

    শেষ পর্যন্ত ১৬৫ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার পক্ষে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন। এছাড়া আরও তিন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

     

  • শ্রীলঙ্কা–নিউজিল্যান্ড: ৬১ রানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল শ্রীলঙ্কা

    বড় ব্যবধানে হারল শ্রীলঙ্কা

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬১ রানে হারল শ্রীলঙ্কা। ঘরের মাঠে দলটি একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা গুটিয়ে গেছে ১০৭ রানে। এই হারে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে শ্রীলঙ্কা।

    বড় ব্যবধানে হারের ম্যাচেও একটা সময় এগিয়েই ছিল শ্রীলঙ্কা। ৮৪ রানেই নিউজিল্যান্ডের ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিল তারা। তবে সেখান থেকে দলকে টেনে তুলেছেন দুই অলরাউন্ডার ম্যাকনকি ও স্যান্টনার। ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়েছেন এই দুজন।

    ৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র
    ৪ উইকেট নিয়েছেন রবীন্দ্র, এএফপি

    ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্যান্টনার করেছেন ২৬ বলে ৪৭ রান। ২৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত ছিলেন ম্যাকনকি।

    রান তাড়ায় প্রথম বলেই উইকেট হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। এরপর থেকে ম্যাচের কোনো পর্যায়েই ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন রাচিন রবীন্দ্র।

    এই জয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরের ম্যাচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ইংল্যান্ড প্রথম দল হিসেবে গতকাল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৬৮/৭ (স্যান্টনার ৪৭, রবীন্দ্র ৩২; তিকশানা ৩/৩০, চামিরা ৩/৩৮) শ্রীলঙ্কা: ২০ ওভারে ১০৭/৮ (কামিন্দু ৩১, ভেল্লালাগে ২৯; রবীন্দ্র ৪/২৭, ফিলিপস ১/২১) ফল: নিউজিল্যান্ড ৬১ রানে জয়ী ম্যাচসেরা: রাচিন রবীন্দ্র

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব