• ফন ডাইকের শেষ মুহূর্তের গোলে লিভারপুলের দুর্দান্ত জয়

    চলতি মৌসুমে সব হারানো লিভারপুলের লক্ষ্য এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা পাওয়া। ফলে সামনে থাকা সব ম্যাচই এখন দলটির জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ। তেমন এক ম্যাচে আজ রোববার রাতে এভারটনের মুখোমুখি হয়েছিল আর্নে স্লটের দল। নানা দিক বিবেচনায় মার্সিসাইড ডার্বির এ ম্যাচটিতে চোখ ছিল অনেকের।

    এভারটনের নতুন মাঠ হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে এটি ছিল প্রথম ডার্বি ম্যাচ। যেটি আবার লিভারপুলের হয়ে মোহাম্মদ সালাহর শেষ ডার্বি ম্যাচও বটে। এমন ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলে দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে লিভারপুল। এভারটনের বিপক্ষে লিভারপুলের জয় ২–১ গোলে। লিভারপুলকে প্রথমার্ধে এগিয়ে দেন সালাহ। পরে বেতোর গোলে সমতা ফেরায় এভারটন। সেই সেই সমতাতেই শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিল ম্যাচ।

    কিন্তু যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে চমক উপহার দেন লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। কর্নার থেকে বল পেয়ে হেডে গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলই নিশ্চিত করে লিভারপুলের জয়। এই জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে ৫ নম্বরে থাকল লিভারপুল। ১০ নম্বরে থাকা এভারটনের পয়েন্ট ৪৭। রাতের অন্য ম্যাচে স্যান্ডারল্যান্ডকে ৪–৩ গোলে হারিয়েছে চারে থাকা অ্যাস্টন ভিলা। যাদের পয়েন্ট ৩৩ ম্যাচে ৫৮।

    এভারটনের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণ ও প্রতি–আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। গতিময় ফুটবলে দুই দলই প্রতিপক্ষের রক্ষণকে চাপে রাখে। তবে প্রথম দিকে এভারটনের চেয়ে লিভারপুলই চাপে ছিল বেশি। এভারটন একাধিকবার কাছাকাছি গিয়ে ব্যর্থ হয়।

    সালাহর গোল উদ্‌যাপন
    সালাহর গোল উদ্‌যাপনএএফপি

    শেষ পর্যন্ত ২৭ মিনিটে হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে মার্সিসাইড ডার্বির প্রথম গোলটি করেন ইলিমান এনদিয়ায়ের। তখন পর্যন্ত যোগ্যতম দল হিসেবেই গোলটি পেয়েছিল তারা। ডান দিক থেকে জ্যাক ও’ব্রেইনের ক্রসে বল পেয়ে সহজেই লক্ষ্যভেদ করেন এনদিয়ায়ে; কিন্তু ভিএআর যাচাইয়ের পর দেখা গেল, ও’ব্রায়েন অফসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়।

    গোল বাতিল হওয়ার হতাশা থেকে বেরোনোর আগেই উল্টো গোল পিছিয়ে পড়ে এভারটন। ৩০ মিনিটে মার্সিসাইড ডার্বিতে নিজের শেষ ম্যাচেই গোল করে লিভারপুলকে এগিয়ে দেন সালাহ। মাঝমাঠে ভুল করে বল হারান এভারটনের ডিউইট ম্যাকনেইল। সেই সুযোগে কোডি গাকপো নিখুঁতভাবে বল বাড়ান সালাহর দিকে। পুরো ফাঁকা জায়গা পেয়ে ঠান্ডা মাথায় শট নেন সালাহ, আর বল জড়িয়ে যায় জালে। ভালো খেলেও পিছিয়ে পড়ে এভারটন। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি এভারটন।

    বিরতির পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যায় এভারটন। তবে ৫৪ মিনিটে সমতাসূচক গোলটি অনেকটা আকস্মিকভাবেই পেয়ে যায় তারা। হঠাৎ বাঁ দিকের চ্যানেলে একটি লং পাস আসলে সেটি ধরার জন্য দৌড়ে যান এনদিয়ায়ে ও ডিউসবারি–হল। ইব্রাহিমা কোনাতেকে পেছনে ফেলে বল পেয়ে যান হল। তিনি গোলমুখে দারুণভাবে বল বাড়ান। সেখানে অপেক্ষায় থাকা বেতো ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ালে ম্যাচে ফিরে আসে এভারটন।

    এরপর ম্যাচের শেষ পর্যন্ত দুই দলই চেষ্টা করেছে লিড নেওয়ার। এভারটন ব্যর্থ হলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হেসেছে লিভারপুল। শেষ মুহূর্তে ফন ডাইকের গোলই গড়ে দেয় পার্থক্য।

  • ফরেস্টের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার আশা শেষ চেলসির

    একটা নয়, দুটো নয়, প্রিমিয়ার লিগে টানা ছয় ম্যাচে হার। এ কোন চেলসি! ব্লুদের সর্বশেষ হারটা আজ  নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে। ৩-১ গোলের যে হারে চেলসির আগামী মৌসুমে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলার স্বপ্ন কার্যত শেষ হয়ে গেল।

    ৩৫ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট চেলসির, দলটি নেমে গেছে নয় নম্বরে। চ্যাম্পিয়নস লিগে যাবে শীর্ষ পাঁচ দল। পাঁচে থাকা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৫৮। শেষ তিন ম্যাচ জিতলেও চেলসির পয়েন্ট সর্বোচ্চ ৫৭ হবে।

    আজ ম্যাচের শুরুটা ছিল চেলসির জন্য এক বিভীষিকার মতো। মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে তারা। দিলান বাকওয়ার ক্রস থেকে হেডে বল জালে জড়ান তাইওয়ো আয়োনিয়ি। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনাল সামনে রেখে ফরেস্ট তাদের মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন এনেছিল। দ্বিতীয় সারির সেই দলের বিপক্ষেও চেলসির রক্ষণভাগকে মনে হচ্ছিল তাসের ঘর।

    ফরেস্টের গোল উদযাপন, চেলসির হতাশা।
    ফরেস্টের গোল উদযাপন, চেলসির হতাশা। প্রিমিয়ার লিগ
     

    ১০ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ। কিন্তু কপাল মন্দ, তাঁর শট ফিরে আসে পোস্টে লেগে। ভাগ্যের এই পরিহাস কাটতে না কাটতেই চেলসির বিপদ দ্বিগুণ হয়। বক্সে আয়োনিয়িকে ফাউল করে বসেন মালো গুস্তো। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি ইগর জেসুস। ১৫ মিনিট পার হওয়ার আগেই স্কোরলাইন ২-০!

    বিরতির ঠিক আগে জেসি ডেরি ও জ্যাচ অ্যাবটের মধ্যে ভয়াবহ এক সংঘর্ষে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ১২ মিনিট। অভিষেক ম্যাচেই স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় ডেরিকে। চেলসি পায় পেনাল্টি। কিন্তু কোল পালমার যেন এদিন নিজেকে হারিয়ে খুঁজছিলেন। ম্যাট সেলস তাঁর শট আটকে দিলে হতাশা নিয়ে বিরতিতে যায় ব্লুরা।

    দ্বিতীয়ার্ধেও ছবিটা পাল্টায়নি। মরগান গিবস-হোয়াইটের রক্ষণ চেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আয়োনিয়ি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়া চেলসি এরপর  একটা গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জোয়াও পেদ্রোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার পর যোগ করা সময়ে চমৎকার এক ‘ওভারহেড’ কিকে তিনি একটি গোল শোধ করেন ঠিকই, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ।

    টানা ৯ ঘণ্টার গোল খরা ভাঙলেও পয়েন্ট টেবিলের ৯ নম্বরে থাকা চেলসির জন্য ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার পথ এখন ঘোর অমানিশায় ঢাকা।

  • ফাইনালে চাপহীন ফুটবল খেলতে চান মারিয়ারা

    ভারতের বিপক্ষে আগামীকাল শনিবারের ফাইনালের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল কোনো চাপ নিচ্ছে না বলে অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। গোয়ার সমুদ্রপাড়ের এক পাঁচ তারকা হোটেলে আজ শুক্রবার দুপুরে ট্রফি উন্মোচনের আগে সংবাদ সম্মেলনে মারিয়ার কণ্ঠে ঝরল এক পরিণত পেশাদার ফুটবলারের আত্মবিশ্বাস।

    বাংলাদেশ ও ভারত—দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলই অবস্থান করছে সমুদ্রপাড়ে একই হোটেলে। ফাইনালের আগে এমন আবহে কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, জানতে চাওয়া হলে মারিয়া শুরুতেই বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন এভাবে, ‘দুই দলই একই হোটেলে অবস্থান করলেও আমরা কোনো চাপ নিচ্ছি না।’

    ভারতের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মেয়েদের দীর্ঘদিনের। তাই প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেও ভড়কে যাওয়ার পাত্রী নন এই মিডফিল্ডার। নিজের পেশাদার মনোভাব প্রকাশ করে অধিনায়কের কথা, ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে এর আগেও অনেকবার খেলেছি, তাই এটি আমাদের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। আমরা পেশাদার খেলোয়াড়।’

    ভারতের বিপক্ষে গোলপোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে মিলি আক্তারকে
    ভারতের বিপক্ষে গোলপোস্টের নিচে দেখা যেতে পারে মিলি আক্তারকে, বাফুফে
     

    তবে ফাইনালের মঞ্চে যে অতীতের পরিসংখ্যান খাটে না, মাঠের লড়াই যে সম্পূর্ণ নতুন এক চিত্রনাট্য—সেটি মনে করিয়ে দিয়ে মারিয়া যোগ করেন, ‘মাঠের লড়াই একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন খেলা ও ভিন্ন পরিস্থিতি। আমরা আমাদের সেরাটা দেব। যে দল সেরাটা দিতে পারবে, তারাই জয়ী হবে।’

    টুর্নামেন্টে ফাইনালের আগপর্যন্ত গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে স্বাগতিক ভারতের সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। শূন্য গ্যালারির সামনেই ভারত খেলেছে নিজেদের তিনটি ম্যাচ। তবে ফাইনালে হয়তো কিছু দর্শক হলেও হতে পারে। সেটিতে মোটেও ভয় পাচ্ছেন না মারিয়া।

    কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালার উপচে পড়া নেপালি দর্শকের সামনে খেলার অভিজ্ঞতা টেনে মারিয়া বেশ পরিপক্ব উত্তর দেন, ‘গ্যালারির দর্শক আমাদের জন্য কোনো সমস্যা হবে না। নেপালে আমরা গত দুটি ফাইনালে অনেক দর্শকের চাপ সামলে খেলে জিতেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো খেলায় এবং নিজেদের পারফরম্যান্সে মনোযোগ দেওয়া। আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলার সুযোগ পাই, তবে ফাইনাল জিততে আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

    ফাইনালের আগে দলের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘যেহেতু আমরা এখন ফাইনালে, তাই আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ আমাদের একটি অনুশীলন সেশন ছিল। দলের সবাই খুব ভালো মেজাজে আছে এবং আশা করি, আমরা আগামীকাল একটি ভালো ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

    [caption id="attachment_275688" align="alignnone" width="777"] ফাইনালের আগে অনুশীলনে নিজেদের ভালোভাবে ঝালিয়ে নিচ্ছেন আনিকা–মনিকারা, বাফুফে[/caption]

    দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে মারিয়া স্পষ্ট জানান, তিনি বাহুতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড বাঁধুন আর না–ই বাঁধুন, দলের একজন সাধারণ সৈনিক হিসেবেও তাঁর লক্ষ্য একটাই—দলের জন্য অবদান রাখা। দলনেতা বা সাধারণ খেলোয়াড় যে ভূমিকাই হোক না কেন, তিনি নিজের সেরাটা উজাড় করে দেবেন। সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    সবশেষে দেশের ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন মারিয়া মান্দা। সাফে হ্যাটট্রিক ট্রফি উঁচিয়ে ধরার এই ঐতিহাসিক লক্ষ্য পূরণে পুরো দেশবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

  • ফারহান ও তারিকের ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্সে সুপার এইটে পাকিস্তান

    না কোনো অঘটন নয়!

    কলম্বোতে আজ নামিবিয়ার বিপক্ষে সহজ জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট নিশ্চিত করল পাকিস্তান। টসে জিতে আগে ব্যাট করে সাহিবজাদা ফারহানের সেঞ্চুরিতে ১৯৯ রান তুলেছিল সালমান আগার দল। সেই রান তাড়া করতে নেমে নামিবিয়া গুটিয়ে গেছে ৯৭ রানে।

    ১০২ রানের জয়ে পাকিস্তান সুপার এইটে জায়গা করেছে ৬ পয়েন্ট নিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে সালমানের দল। এই জয়ে ২০২৮ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি খেলাও নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের।

    রান তাড়ায় নামিবিয়া ২০০ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলবে, এমনটা আবহ দলটি তৈরিই করতে পারেনি। ৭.৩ ওভারে ৪৯ রান তুলতেই হারায় ৪ উইকেট, একে একে ফিরে যান লরেন স্টিনক্যাম্প, ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনরা।

    ৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক
    ৪ উইকেট নিয়েছেন তারিক, এএফপি
     

    পরের ৬ উইকেটে যোগ হয়েছে ৪৮ রান। পাকিস্তানের হয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করেছেন স্পিনার উসমান তারিক। ডান হাতি এই রহস্য স্পিনার ১৬ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার শাদাব খান ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট।

    এর আগে ব্যাট হাতে পাকিস্তান ১৯৯ রান করে ফারহানের প্রথম আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টি সেঞ্চুরিতে। ২৯ বছর বয়সী এই ওপেনার ৫৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন করেছেন। এটি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে আহমেদ শেহজাদের ৫৮ বলে সেঞ্চুরি। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হয়ে শুধু ফারহান ও শেহজাদই সেঞ্চুরি করেছেন।

    ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

    সেঞ্চুরির পথে আজ ফারহান হাঁকিয়েছেন ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। তবে শুরুটা ছিল ধীরগতির—ইনিংসের প্রথম ৩০ রান করতে তিনি খেলেন ২৭ বল। তবে পরের ৭০ রান করেন মাত্র ৩১ বলে। ফারহানের পাশাপাপাশি পাকিস্তান রান পেয়েছে শাদাব ও সালমানের ব্যাট থেকেও। শেষদিকে শাদাব ২২ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার আগে অধিনায়ক সালমান ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হন।

    সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান
    সেঞ্চুরি করেছেন ফারহান, এএফপি

    এই সেঞ্চুরির সুবাদে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও এখন ফারহান। তাঁর মোট রান ২২০। দ্বিতীয় স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার এইডেন মার্করাম, তাঁর সংগ্রহ ১৭৮ রান। ম্যাচসেরা হয়েছেন ফারহানই।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১৯৯/৩ (ফারহান ১০০, সালমান ৩৮; ব্রাসেল ২/৪৮, ইরাসমাস ১/২৫)। নামিবিয়া: ১৭.৩ ওভারে ৯৭ (স্টিনক্যাম্প ২৩; তারিক ৪/১৬, শাদাব ৩/ ১৯)। ফল: পাকিস্তান ১০২ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: সাহিবজাদা ফারহান।
  • ফার্নান্দেজের রেকর্ডছোঁয়া রাতে ইউনাইটেডের দারুণ জয়

    ৫ গোলের রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ে নটিংহাম ফরেস্টকে ৩–২ গোলে হারিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে আজ রাতে ইউনাইটেডের জয়ের পথে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোলে সহায়তার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

    ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের ৭৫ মিনিটে ফার্নান্দেজের ডান দিক থেকে দেওয়া ক্রস থেকে ‘রেড ডেভিল’দের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন ব্রায়ান এমবেউমো। এর মধ্য দিয়ে এক মৌসুমে ২০ অ্যাসিস্টে পৌঁছে যান ফার্নান্দেজ। যার ফলে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছে শীর্ষে থাকা সাবেক আর্সেনাল তারকা থিয়েরি অঁরি (২০০২–০৩ মৌসুম) ও ম্যানচেস্টার সিটি কিংবদন্তি কেভিন ডি ব্রুইনাকে (২০১৯–২০)।

    লিগে এখনো ইউনাইটেডের এক ম্যাচ বাকি আছে। অর্থাৎ বাকি দুজনকে পেছনে ফেলে এককভাবে শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে ফার্নান্দেজের। পর্তুগিজ মিডফিল্ডারের রেকর্ডছোঁয়া রাতে এমবেউমো ছাড়া ইউনাটেডের অন্য গোল দুটি আসে লুক শ ও মাতেউস কুনহার কাছ থেকে। আর নটিংহাম ফরেস্টের হয়ে গোল করেন মোরাতো ও মরগান গিভস–হোয়াইট।

    এই ম্যাচটা বিশেষ হয়ে থাকবে ব্রাজিলিয়ান তারকা কাসেমিরোর জন্যও। ম্যাচে ৭৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়ার সময় পুরো ওল্ড ট্রাফোর্ড দাঁড়িয়ে সম্মান জানায় এই মিডফিল্ডারকে। মৌসুম শেষেই ইউনাইটেডকে বিদায় জানাবেন অভিজ্ঞ এই ফুটবল তারকা।

    কাসেমিরো ও ফার্নান্দেজের উদ্‌যাপন
    কাসেমিরো ও ফার্নান্দেজের উদ্‌যাপনরয়টার্স

    এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৩৭ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে মাইকেল ক্যারিকের ইউনাইটেড। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে দলটিকে টেনে তোলা ক্যারিককে এখনো স্থায়ী কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।

    ম্যাচটি জিতে দলীয়ভাবেও অসাধারণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে ইউনাইটেড। ১৯৮৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা ৪০০ ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকার পর কখনো হারেনি ইউনাইটেড। ৩৬৫ ম্যাচ জিতেছে ও বাকি ৩৫ ম্যাচে ড্র করেছে।

  • ফিফটির চেয়ে সেঞ্চুরি বেশি, নাজমুলের জন্য করতালি

    মুমিনুল হক তখন ফিফটি ছুঁয়েছেন, নাজমুল সেটা করে ফেলেছিলেন আগেই। দুজনের জুটিও ততক্ষণে এক শ ছাড়িয়ে গেছে। পেস, স্পিন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না—পাকিস্তান দল তখন যেন নিরুপায়!

    মোহাম্মদ রিজওয়ান শর্ট লেগের ফিল্ডারকে একটু পিছিয়ে যেতে বললেন। নন–স্ট্রাইক প্রান্তে পপিং ক্রিজে টানা সাদা দাগের ওপর দাঁড়ালেন সেই ফিল্ডার। বোলাররা যেহেতু পারছেন না, ফিল্ডার সরিয়ে যদি বিভ্রান্ত করা যায় ব্যাটসম্যানকে, যদি একটি উইকেট মেলে!

    তবে ব্যাটিংয়ের জন্য উইকেট ততটাও কঠিন ছিল না। সময় যত যায়, নাজমুলকে দেখেও মনে হলো ব্যাটিং করা কত সহজ! অন ড্রাইভ, কাভার ড্রাইভ কিংবা পুল—সবকিছুতে স্বচ্ছন্দ। প্রয়োজনে আবার নিখাদ ডিফেন্সিভ ব্যাটসম্যানও!

    সেঞ্চুরির পর ব্যাটে চুমু এঁকে চেনা উদ্‌যাপন শেষ করার পরের বলেই নাজমুল আউট হলেন এলবিডব্লুর শিকার হয়ে। মাঠের আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় পাকিস্তান। নিজের ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে ঝাড়তে নাজমুল যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছেন, তখন তাঁকে দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানান দর্শকেরা। টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে এমন নিখাদ ব্যাটিং যে সরাচর দেখা যায় না।

    সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন
    সেঞ্চুরি করে নাজমুল যেন হাওয়ায় উড়লেন

    দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপেই ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নাজমুল শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মোহাম্মদ আব্বাসকে চার মেরে যে বাউন্ডারির ঝড় শুরু হয়েছিল, সেটির শেষও হয়েছে তাঁর বলে এসেই। আউট হওয়ার আগের বলেই অবশ্য তাঁকেই বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরিটা তুলে নেন।

    মুমিনুল হক উইকেটে এসেছিলেন নাজমুলেরও আগে। কিন্তু মুমিনুলের আগেই ৭১ বলে ফিফটি পান নাজমুল। একপ্রান্ত থেকে তাঁর দারুণ ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের কারণে অন্য প্রান্তে মুমিনুলও খেলতে পারেন তাঁর মতো করে। ফিফটি তুলে নেন ১০২ বলে।

    পাকিস্তানের তিন পেসার আব্বাস, শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলী—কাউকেই থিতু হতে দেননি নাজমুল। বাউন্সারে পুল করেছেন, অফ স্টাম্পের বাইরের বল কাভার কিংবা পয়েন্ট দিয়ে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। তাতে ফিল্ডারদের দ্রুত মাঠে ছড়িয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান। এতে নাজমুলের স্বাভাবিক ব্যাটিংটাও হয়েছে আরও পরিশীলিত।

    পেসাররা মুমিনুল–নাজমুলের জুটি ভাঙতে না পারায় সালমান আগাকে দিয়ে যে ওভারে স্পিন শুরু করেছিল পাকিস্তান, ওই ওভারেই ছক্কা মারেন নাজমুল। ৭১ বলের ফিফটির পর সেঞ্চুরি পেতে খেলেন মাত্র ৫৮ বল। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত করার অভ্যাসের কারণে নাজমুল কিন্তু আলাদা করে বড় একটা বাহবা পেতেই পারেন। টেস্টে ফিফটির চেয়ে তাঁর সেঞ্চুরিসংখ্যা যে বেশি!

    যে ১৪ বার পঞ্চাশ পেরিয়ে গেছেন এই সংস্করণে, তার মধ্যে ৯টিতেই সেঞ্চুরি করলেন (ফিফটি ৫টি)। শেষ ৮ ইনিংসেই সেঞ্চুরি ৪টি। হয়তো বাকিগুলোর চেয়ে এটা একটু বিশেষও—দুর্দান্তভাবে চাপ কাটিয়ে প্রতিপক্ষকে উল্টো চাপে ফেলেছেন, সচল রেখেছেন রানের চাকাও এবং মুমিনুলের সঙ্গে ১৭০ রানের জুটিতে এক দিন আগেই প্রথম ইনিংসে দলীয় চার শ রান করার প্রতিশ্রুতিরও পথ করে দিয়েছেন।

    সেঞ্চুরির পরপরই আউট হয়ে যাওয়ার হতাশা ভুলে নাজমুলের জন্য তাই শুধু করতালিই প্রাপ্য।

  • ফিফা কংগ্রেসে যোগ দিতে কানাডায় ঢুকতে পারেননি ইরানের কর্মকর্তারা

    ফুটবলের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আজ বৃহস্পতিবার ভ্যাঙ্কুভারে একত্র হচ্ছেন, যেখানে ফিফা আয়োজন করছে ৭৬তম কংগ্রেস। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই মাসের কম সময় আগে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।

    ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ, বিশ্বকাপ আয়োজনের লজিস্টিক জটিলতা এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছেন ২০০টির বেশি সদস্য দেশের প্রায় ১ হাজার ৬০০ প্রতিনিধি।

    তবে ইরানের অনুপস্থিতি ইতিমধ্যেই বৈঠকের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। কানাডায় পৌঁছানোর পর চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) কর্মকর্তারা হঠাৎই কানাডা ছেড়ে চলে যান এবং ভ্যাঙ্কুভারে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেন।

    ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, এফএফআইআরআই সভাপতি মেহদি তাজসহ (যিনি আগে ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির সদস্য ছিলেন) আরও দুই কর্মকর্তা কানাডার অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘অপমানজনক আচরণের’ কারণে দেশে ফিরে গেছেন।

    মেহদি তাজ ছাড়া অন্য দুই কর্মকর্তা হচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত মোমবেনি ও তাঁর ডেপুটি হামেদ মোমেনি। অন্যদিকে কানাডা জানিয়েছে, ২০২৪ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পর ওই বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশে ‘অনুমোদন দেওয়া হয় না।’

    কানাডার অভিবাসন সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘গোপনীয়তা–সম্পর্কিত আইনের কারণে আমরা কোনো ব্যক্তিগত ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না। তবে সরকার এ বিষয়ে শুরু থেকেই স্পষ্ট ও ধারাবাহিক অবস্থানে রয়েছে। আইআরজিসি–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কানাডায় প্রবেশের যোগ্য নন এবং আমাদের দেশে তাঁদের কোনো জায়গা নেই।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোফিফা

    এ ঘটনা ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। গত মাসে ইরানের ফুটবল কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তাঁরা বিশ্বকাপে নিজেদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে সহ-আয়োজক মেক্সিকোতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দ্রুতই সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ইনফান্তিনো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ড্র অনুযায়ী ইরান যেখানে খেলার কথা, সেখানেই তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে।

    অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেন, ইরানের ফুটবলারদের টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের যেসব সদস্যের আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

    ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বাড়তি চাপের মধ্যেই বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়া এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

    গত মঙ্গলবার ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্বকাপ থেকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্য আর্থিক বণ্টনের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় ৯০ কোটি ডলার করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরে এই অঙ্ক ধরা হয়েছিল ৭২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া একাধিক দল অভিযোগ করেছিল, ভ্রমণ ব্যয়, কর এবং সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এত বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েও তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। সেই প্রেক্ষাপটেই ফিফার এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ইনফান্তিনোর কাছে দাবি জানিয়েছে, তিনি যেন ফিফা কংগ্রেসে দেওয়া বক্তব্যে বিশ্বকাপ দর্শক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেন। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে কেউ যেন নির্বিচার আটক, গণ বহিষ্কার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন–পীড়নের শিকার না হন, সে বিষয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল
    ইরান ফুটবল দল যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল, এএফপি
     

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক প্রধান স্টিভ ককবার্ন গতকাল বুধবার বলেন, ‘ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেননি, কীভাবে সমর্থক, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগণ নির্বিচার আটক, গণ বহিষ্কার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর দমন-পীড়ন থেকে নিরাপদ থাকবেন।’

    এক বিবৃতিতে স্টিভ ককবার্ন আরও বলেন, ‘এই ফিফা কংগ্রেসই হওয়া উচিত সেই মুহূর্ত, যখন তিনি বিষয়টি পরিষ্কার করবেন। বিশ্ব ফুটবল সম্প্রদায় শুধু ফাঁকা আশ্বাসের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার অধিকার রাখে।’

    এর মধ্যে ফিফার দেওয়া শান্তি পুরস্কার বাতিলের দাবিও উঠেছে। ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ড্র অনুষ্ঠানে ইনফান্তিনো এই পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভনেস এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এই পুরস্কার বাতিল দেখতে চাই। এমন কোনো পুরস্কার দেওয়া ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলে আমরা মনে করি না।’

    ফিফা কংগ্রেসে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক ফুটবল নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে চলতি বছরের শুরুতে ইনফান্তিনো রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই রাশিয়াকে আবার ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এই নিষেধাজ্ঞা কোনো ফল বয়ে আনেনি। বরং এটি শুধু আরও হতাশা ও ঘৃণা তৈরি করেছে।’

  • ফুটসাল লিগ যুগে বাংলাদেশ, কাল শুরু ১১ দলের প্রথম আসর

    দেশের ইতিহাসের প্রথম ফুটসাল লিগ শুরু হচ্ছে আগামীকাল। মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে পুরুষ ও নারী বিভাগে অংশ নেবে ১১টি করে দল।

    ফুটসাল লিগের প্রথম আসরে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলো হলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, আনসার, বিকেএসপি, চাঁদপুর জেলা, ঢাকা অ্যাথলেটিক, ফকির এফসি, আইএম টেন, স্পোর্টস ফিল্ড লজিস্টিকস, টেকভিল ফুটসাল ক্লাব, ওয়ারিয়র স্পোর্টস একাডেমি ও জেনন এফসি।

    লিগের প্রথম দিনে মাঠে নামবে তিনটি দল। বিকেল ৫টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিকেএসপির নারী দল। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু পুরুষ বিভাগের প্রথম ম্যাচেও খেলবে একই দল দুটি। দিনের শেষ ম্যাচে রাত ৯টায় খেলবে পুরুষ বিভাগের জেনন এফসি ও ঢাকা অ্যাথলেটিক।

    ফুটসালের প্রথম আসরে তারকাবহুল স্কোয়াড গড়েছে আইএম টেন এফসি। সাফ ফুটসাল জয়ী ৮ জন–সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী, মাসুরা পারভীন, স্বপ্না আক্তার, লিপি আক্তার, নিলুফা ইয়াসমিন, মার্জিয়া আক্তার ও মাতসুশিমা সুমাইয়া খেলবেন এই দলের হয়ে।

    এ ছাড়া ওয়ারিয়র স্পোর্টসের জার্সিতে দেখা যাবে সাফজয়ী দুই খেলোয়াড় সুমি খাতুন ও ইতি রানীকে। অন্যান্য দলের মধ্যে সেনাবাহিনীর জার্সিতে দেখা যাবে মেহেনুর আক্তার ও নওশন জাহানকে। টেকভিল ফুটসাল ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন সানজিদা আক্তার ও ফায়েদ আজিম।

    ছেলেদের বিভাগে আইএম টেনের হয়ে মাঠ মাতাবেন কাজী ইব্রাহিম ও মঈদ আহমেদ। ফকির এফসির হয়ে খেলবেন জাতীয় দলের ফয়সাল হোসেন।

    লিগের সূচিতে প্রথম পর্বের পর লম্বা বিরতি রাখা হয়েছে। ২৪ মে থেকে ২২ জুলাই টানা দুই মাস লিগ বন্ধ থাকবে। বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানিয়েছেন, ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার কথা বিবেচনা করে দীর্ঘ বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে, তখন কে দেখবে আমাদের খেলা। দর্শক দরকার আছে। তাই বিরতিটা সেভাবেই দেওয়া। যাতে বিশ্বকাপ শেষ করে দ্বিতীয় পর্ব শুরু করা যায়।’

    ফুটসাল মূলত ফুটবলের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যেখানে বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত খেলার ওপর জোর দেওয়া হয়। ৫ খেলোয়াড়ের ফুটসালে সর্বোচ্চ ১২ জন ব্যবহার করা যায়, বদলি করা যায় যত খুশি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৯৩০ সাল থেকে প্রচলিত থাকলেও বাংলাদেশে এর বড় উদ্যোগে পথচলা শুরু ২০১৮ সালে মেয়েদের এএফসি চ্যাম্পিয়নশিপের মাধ্যমে।

    এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান কাপ বাছাই দিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেয় জাতীয় পুরুষ ফুটসাল দল।
    সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে প্রথম সাফ নারী ফুটসালে অংশ নিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ওই একই সময়ে ছেলেদের ফুটসালে বাংলাদেশ সাত দলের মধ্যে পঞ্চম হয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার ঘরোয়া লিগের মাধ্যমে দেশে ফুটসালের নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে।

  • ফেসবুকে পোস্ট করেই ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত আয়ের সুযোগ, কারা পাবেন ও নেপথ্যে কী

    ভিডিও কনটেন্টের বৈশ্বিক বাজারে বর্তমানে ইউটিউব শর্টস, ইনস্টাগ্রাম রিলস বা টিকটকের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে। জনপ্রিয় এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ভিড়ে আধেয় নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) আবার ফেসবুকমুখী করতে এবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে মেটা। নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে একজন নির্মাতা প্রতি মাসে তিন হাজার ডলার পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের সুযোগ পাবেন। মূলত ‘ক্রিয়েটর ফাস্ট ট্র্যাক’ নামক একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় এই আর্থিক নিশ্চয়তা দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান।

    ফেসবুক কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের অধীনে আয়ের পরিমাণ সরাসরি নির্ভর করবে একজন নির্মাতার অনুসারী বা ফলোয়ার সংখ্যার ওপর। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য প্রযোজ্য হবে। যাঁদের অনুসারী সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে, তাঁরা প্রতি মাসে পাবেন প্রায় ১ হাজার ডলার। অন্যদিকে ১০ লাখ বা ১ মিলিয়নের বেশি অনুসারী থাকলে প্রতি মাসে আয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ডলারে।

    তবে এই নিশ্চিত আয়ের সুযোগটি কেবল প্রথম তিন মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে নির্মাতাদের ফেসবুকে নিজেদের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিন মাস পার হওয়ার পর এই নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলেও ফেসবুকের সাধারণ মনিটাইজেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে আয় অব্যাহত রাখা যাবে।

    এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা পেতে হলে নির্মাতাদের কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো সক্রিয়তা ও ধারাবাহিকতা। একজন নির্মাতাকে প্রতি ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি রিলস বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও পোস্ট করতে হবে। পাশাপাশি পুরো মাসের অন্তত ১০টি পৃথক দিনে ভিডিও আপলোড করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ভিডিওগুলো অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। তবে এই ভিডিওগুলো অন্য প্ল্যাটফর্মে যেমন ইউটিউব বা টিকটকে প্রকাশিত হলেও ফেসবুকের ক্ষেত্রে তা বাধা হিসেবে গণ্য হবে না।

    মেটা বলছে, বর্তমান বিশ্বে শর্ট-ফর্ম ভিডিও বা স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওর জয়জয়কার চলছে। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ফেসবুক এখন রিলস নির্মাতাদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্দিষ্ট এই আয়ের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় থাকা নির্মাতারা ফেসবুকের নিয়মিত বিজ্ঞাপন বা ইন স্ট্রিম অ্যাডস, ব্র্যান্ড কোলাবরেশন, সাবস্ক্রিপশন এবং স্টারসের মাধ্যমেও উপার্জনের সুযোগ পাবেন। আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মেটা নতুন কিছু অ্যানালিটিক্স টুলও ব্যবস্থা উন্মুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে কোন ভিডিও থেকে কেন এবং কত টাকা আয় হচ্ছে, তা নির্মাতারা নিজেরাই তদারকি করতে পারবেন।

    শত কোটি ব্যবহারকারী থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অনেক জনপ্রিয় নির্মাতা ফেসবুক ছেড়ে ইউটিউব বা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে থিতু হয়েছেন। দর্শকপ্রিয়তা এবং আয়ের স্থিতিশীলতার দৌড়ে ফেসবুক কিছুটা পিছিয়ে পড়ায় নির্মাতাদের ফিরিয়ে আনতেই মেটা এখন এই ‘আর্থিক নিশ্চয়তা ও অ্যালগরিদম সাপোর্ট’ কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে মেটা বিশ্বজুড়ে নির্মাতাদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। যার সিংহভাগই এসেছে রিলস থেকে। অর্থাৎ ফেসবুক এখন টেক্সট বা ছবির চেয়ে ভিডিও কনটেন্টকেই তাদের ব্যবসার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

    সূত্র: টেকলুসিভ

    আহসান হাবীব

  • ফ্রেঞ্চ ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন আন্দ্রিভা

    তাঁকে মেয়েদের টেনিসের ভবিষ্যৎ তারকা ভাবা হচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। সেই ভবিষ্যৎ চলে এলো বলে!

    প্রথমবারের ফ্রেঞ্চ ওপেনে নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ১৯ বছর বয়সী রুশকন্যা মিরা আন্দ্রিভা। আজ রোলাঁ গারোর ফাইনালে পোল্যান্ডের মায়া চফালিনিয়েস্কাকে ৬–৩, ৬–২ সেটে হারিয়েছেন তিনি। এটি আন্দ্রিভার প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি। ছেলে ও মেয়েদের মধ্যে তিনিই গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপাজয়ী, যার জন্ম ২০০৫ সালের পরে।

    বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে থাকা আন্দ্রিভা ফাইনাল শুরুর আগেই ফেবারিট ছিলেন। ১৫ বছর বয়সে প্রথম ডব্লিউটিএ ট্যুর ম্যাচ জেতা এই রুশ এরই মধ্যে ৫টি ডব্লিউটিএ শিরোপা জিতেছেন। খেলেছেন উইম্বলডনের চতুর্থ রাউন্ডেও।

    বিপরীতে চফালিনিয়েস্কা এবারের ফ্রেঞ্চ ওপেন শুরু করেছেন ১১৪ নম্বরে থেকে। প্যারিসে আসার আগে ১৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মাত্র ২টিতে কোয়ালিফাই করা এই পোলিশ এবারও খেলেছেন বাছাইপর্বে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠে এলেও তাঁর চেয়ে আন্দ্রিভাকেই ফেবারিট ধরা হচ্ছিল।

    জয় নিশ্চিতের পর মিরা আন্দ্রিভা
    জয় নিশ্চিতের পর মিরা আন্দ্রিভা, এএফপি
     

    কোর্টেও শেষ পর্যন্ত রুশকন্যার দাপটই দেখা গেছে। দুই সেটেই জিতে নিয়েছেন ফাইনাল।

    খেলা শেষে চফালিনিয়েস্কা তাঁর প্রতিপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম আজ আপনারা আরও ভালো একটা ম্যাচ দেখতে পাবেন, কিন্তু মিরা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলেছে; আমার মনে হয় দোষটা ওরই! আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, আমাকে ক্ষমা করবেন।’

    ফ্রেঞ্চ ওপেনের ট্রফি হাতে নিয়ে আন্দ্রিভা বলেন, ‘আমি যখন অনেক অনেক ছোট, তখন থেকেই টিভিতে রোঁলা গারোর খেলা দেখছি। এই টুর্নামেন্ট জেতা সত্যিই অনেক বড় একটা ব্যাপার। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না যে এখন আমি এই ট্রফিটা হাতে ধরে আছি!’

  • বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা, হোমওয়ার্কের খাতায় লেখা চিঠি: মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেমের গল্প

    বন্ধুর বাড়িতে ভিডিও গেম খেলতে গিয়ে ৯ বছর বয়সী এক ফুটবলপাগল ছেলে প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের এক মেয়েকে। চোখে চোখ পড়তেই মনের ভেতর কাঁপন। শুরু হয়েছিল এক চুপচাপ প্রেম, যা পরে গড়ায় পরিণয়ে। আজ ভালোবাসা দিবসে পাঠকদের জন্য লিওনেল মেসি ও আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোর দারুণ প্রেমের গল্প।

    প্রথম দেখা

    গল্পটা শুরু হয়েছিল এক বন্ধুর বাড়িতে।
    প্রেমের গল্পগুলো অবশ্য এমনই হয়। বন্ধুর বাড়িতে দেখা, প্রথম দেখাতেই ভালো লাগা, বুকের ধুকপুকানি বেড়ে যাওয়া...শুরুটা এমন ছিল লিওনেল মেসিরও।
    ১৯৯৬ সালের কথা সেটা। আর্জেন্টিনার রোজারিও শহর। মেসির বয়স তখন ৯। সারা দিন ফুটবল নিয়ে পড়ে থাকা ছেলেটা মাঝেমধ্যে বন্ধু লুকাস স্কাগলিয়ার বাড়িতে যেত ভিডিও গেম খেলতে। এ রকমই এক দিনে মেসি ও স্কাগলিয়া যে ঘরে বসে গেম খেলছিল, সেখানে ঢোকে একটি মেয়ে।
    ‘তোমাদের কিছু লাগবে?’—জিজ্ঞেস করেছিল মেয়েটা।
    ‘না’, উত্তর দিয়েছিল স্কাগলিয়া।
    মেয়েটা ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মেসি বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিল, ‘কে রে এটা?’
    ‘আমার কাজিন, আন্তোনেল্লা।’
    ৯ বছরের মেসি সেই প্রথম দেখেছিল ৮ বছরের আন্তোনেল্লা রোকুজ্জোকে। সেই দেখাই বদলে দিয়েছিল মেসির দুনিয়া।

    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার
    বন্ধুর বাড়িতে প্রথম দেখা হয়েছিল মেসি-আন্তোনেল্লার, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম
     

    গল্পটা অনেক দিন পরে মেসি নিজেই বলেছেন আর্জেন্টাইন এক টেলিভিশনে, ভালোবাসা দিবসের এক অনুষ্ঠানে। এরপর থেকে নাকি মেসি আরও বেশি যেতে শুরু করেছিলেন স্কাগলিয়ার বাড়িতে। তখন উদ্দেশ্য আর শুধু ভিডিও গেম খেলা নয়, যদি আন্তোনেল্লার দেখা মেলে!
    কখনো দেখা হতো, কখনো না। কেউ কেউ এটা টেরও পেলেন। মেসির তখনকার কোচ এনরিকে ডমিঙ্গেজ নাকি একবার স্কাগলিয়ার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘লিওকে দেখলাম তোমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছে, ঘটনা কী?
    স্কাগলিয়ার বাবা হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘ও আমাদের বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। আমরা বের হলে ও আমাদের বাড়িতে ঢুকবে। প্রায়ই আসে।’
    ‘কেন?’
    ‘আসলে উইকেন্ডে লুকাসের কাজিন আন্তোনেল্লা আসে তো, লিও ওকে খুব পছন্দ করে।’
    টের পেয়েছিল হয়তো আন্তোনেল্লাও। নইলে কি আর নিয়ম করে উইকেন্ডে স্কাগলিয়ার বাসায় যেত!

    না পাঠানো সেই চিঠি

    এখন অবশ্য চিঠির যুগ নয়। তবে মেসির কৈশোরের পৃথিবীতে চিঠির চল ছিল। প্রেমে পড়ে কিশোর মেসিও চিঠি লিখেছিল। একদিন নাকি হোমওয়ার্ক করতে বসে খাতায় আনমনেই লিখেছিল, ‘প্রিয় আন্তোনেল্লা... একদিন তুমি আমার হবে, আমি হব তোমার।’
    তবে বরাবরই লাজুক মেসি সেই চিঠি কখনো আন্তোনেল্লাকে পাঠাতে পারেনি।
    এই গল্পটাও মেসি নিজেই বলেছেন।

    হঠাৎ দূরত্ব

    ভালোবাসার গল্পে কিছুটা বিচ্ছেদ, কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত মোড় না থাকলে কি আর সেটা পূর্ণতা পায়! মেসি-আন্তোনেল্লার গল্পেও এমন বিচ্ছেদ এসেছিল। কিশোর মেসির ফুটবলপ্রতিভার খবর তত দিনে আর্জেন্টিনার রোজারিও ছাড়িয়ে ইউরোপে চলে গেছে। ট্রায়ালে তাঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে হাতের কাছে পাওয়া একটি ন্যাপকিন পেপারেই তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বার্সেলোনা। ১৩ বছরের মেসিকে নিয়ে ২০০০ সালে তাঁর বাবা হোর্হে মেসি পাড়ি জমান বার্সেলোনায়।
    বার্সা একাডেমিতে শুরু হলো মেসির নতুন জীবন। মুঠোফোন তখনো সহজলভ্য হয়নি, ইন্টারনেটও না। আন্তোনেল্লার সঙ্গে যোগাযোগের খুব একটা উপায় রইল না মেসির। মাঝেমধ্যে ছুটি কাটাতে রোজারিওতে ফিরলে কখনো দেখা হতো, কখনো না।

    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লা
    মেসি বার্সেলোনায় চলে যাওয়ার পর কিছুদিনের জন্য একা হয়ে গিয়েছিলেন আন্তোনেল্লাআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    যেভাবে পুনর্মিলন

    ২০০৫ সালে আন্তোনেল্লার সবচেয়ে প্রিয় বান্ধবী উরসুলা নটজ এক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। ওই সময়ে আন্তোনেল্লায় মানসিক অবস্থা কী রকম থাকতে পারে, সেটা জানতেন মেসি। বার্সেলোনা থেকে তাই তখন উড়ে গিয়েছিলেন রোজারিওতে, আন্তোনেল্লাকে সান্ত্বনা দিতে! আর্জেন্টিনার ‘প্যারা টি’ সাময়িকীতে পরে আন্তোনেল্লা নিজেই বলেছেন, ওই কঠিন সময়ে মেসির পাশে দাঁড়ানোটা কতটা সাহায্য করেছিল তাঁকে। ওই পুনর্মিলনী বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁদের ভালোবাসার সম্পর্কটা আরও শক্ত করতে।

    প্রেম যেভাবে প্রকাশ্যে

    মেসি তত দিনে বার্সেলোনায় এবং ফুটবল-দুনিয়ায় নিজের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। আভাস দিয়েছেন আগামীর মহাতারকা হয়ে ওঠার। আর তারকাদের তো ব্যক্তিজীবনের সবকিছুই গোপন রাখতে হয়। মেসি-আন্তোনেল্লার প্রেম অবশ্য একেবারে গোপন থাকেনি। ২০০৭ সালের দিকে আন্তোনেল্লা নিজেই তাঁর কাছের কয়েকজন বন্ধুকে কথা প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, মেসির সঙ্গে তাঁর হৃদয়ঘটিত ব্যাপারস্যাপার আছে। কিন্তু সেটা গোপন থাকেনি। গুঞ্জন হয়ে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদমাধ্যমে। এর বছর দুয়েক পরে এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলে দেন, আর্জেন্টিনায় এক মেয়ের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের প্রেম! দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সংবাদমাধ্যমও নিশ্চিত করে দেয়, রোকুজ্জোই সেই আর্জেন্টাইন মেয়ে।

    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছে
    আন্তোনেল্লাই প্রথম জানিয়েছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর প্রেম চলছেআন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    প্রেমের টানে বার্সেলোনায়

    ভ্যানিটি ফেয়ার এস্পানা পত্রিকা জানায়, আন্তোনেল্লা সেই সময়টায় আর্জেন্টিনায় ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব রোজারিও থেকে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে দন্তচিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শুরু করেছিলেন। তবে ভালোবাসার টানে তিনি তখন পড়াশোনা ছেড়ে মেসির কাছাকাছি থাকার সিদ্ধান্ত নেন। চলে যান বার্সেলোনায়। সেখানে গিয়ে অবশ্য মডেলিং শুরু করেন। ভালো ক্যারিয়ারও গড়েন।

    অবশেষে বিয়ে

    ২০১৭ সালের ৩০ জুন রোজারিও ডাউনটাউনের পুলম্যান হোটেল রূপ নিল উৎসবের মঞ্চে। মেসি ও আন্তোনেল্লা—দুই শৈশবের বন্ধু, দুজন চুপি চুপি ভালোবেসে বড় হওয়া মানুষ শপথ নিলেন—‘যতক্ষণ না মৃত্যু আমাদের আলাদা করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা একে অন্যের সঙ্গে থাকব।’

    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লা
    বিয়ের দিন মেসি ও আন্তোনেল্লাএএফপি

    ফুটবলে এই শতাব্দীর অন্যতম আলোচিত সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন নেইমার, সুয়ারেজসহ মেসির তখনকার বার্সেলোনা দলের প্রায় সব সতীর্থ, ছিলেন পপ স্টার শাকিরা (যিনি তখন মেসির সতীর্থ জেরার্ড পিকের স্ত্রী) এবং মেসির আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থ ও বন্ধুরা। তত দিনে অবশ্য মেসি-আন্তোনেল্লা জুটির দুই ছেলে থিয়াগো (জন্ম ২০১২) ও মাতেও (জন্ম ২০১৫) পৃথিবীতে চলে এসেছে। বিয়ের এক বছর পর ২০১৮ সালে জন্ম নেয় এই দম্পতির তৃতীয় ছেলে চিরো।

    আন্তোনেল্লা কী করেন

    বার্সেলোনায় মেসির খুব ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায় উরুগুইয়ান তারকা লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে। সেই সূত্রে, ভালো বন্ধু হয়ে ওঠেন মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা ও সুয়ারেজের স্ত্রী সোফিয়া বালবিও। ২০১৭ সালে আন্তোনেল্লা ও সোফিয়া মিলে আর্জেন্টিনার ফুটওয়্যার ব্র্যান্ড সারকানির জন্য বার্সেলোনায় একটি বুটিক শপ খোলেন। একই সঙ্গে অ্যাডিডাস এবং স্টেলা ম্যাককার্টনির মতো বিখ্যাত কয়েকটি ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন আন্তোনেল্লা। সব মিলিয়ে তিনি নিজেও এখন বড় তারকা। এক্স বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী।

    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী
    ইনস্টাগ্রামে আন্তোনেল্লার ৩ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি অনুসারী, আন্তোনেল্লার ইনস্টাগ্রাম

    বার্সেলোনার ওয়েবসাইটে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি একবার বলেছিলেন, ‘আন্তোনেল্লার অনেক গুণ। ও যেভাবে প্রতিদিনের কাজ সামলায়, সেটার প্রশংসা করতেই হবে। সব সময় হাসিখুশি থাকে এবং প্রতিদিনের সমস্যাগুলোকে খুব ভালোভাবে সামলায়। সে খুব বুদ্ধিমান এবং সব দিক থেকেই দারুণ।’

    এখন দুজনের জীবন

    বার্সেলোনা ছেড়ে মেসি ২০২১ সালে পাড়ি জমান প্যারিসে। নতুন সেই শহরে মেসি পরিবারের মানিয়ে নিতে খুব বেশি সমস্যা হয়নি, কারণ আন্তোনেল্লা দারুণভাবে সব সামলেছেন। মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন, ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সময় আন্তোনেল্লা কীভাবে পাশে ছিলেন, সেটা তো সারা বিশ্বই দেখেছে।
    ২০২৩ সালের গ্রীষ্মে মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের দল ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় নতুন শহরে মেসি পরিবারের নতুন অধ্যায়। সেই জীবন কতটা আনন্দময়, সেটা যাঁরা মেসি বা আন্তোনেল্লাকে ইনস্টাগ্রামে অনুসরণ করেন, তাঁরা তো জানেনই।

     

  • বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় আইইউআই, কারা এ পদ্ধতি গ্রহণ করবেন

    ইনট্রা-ইউটেরিন ইনসেমিনেশন বা আইইউআই হলো বন্ধ্যত্ব দূরীকরণের একটি সহজ, কম ব্যয়বহুল ও বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসাপদ্ধতি। এ চিকিৎসাপদ্ধতিতে পুরুষের শুক্রাণু ল্যাবরেটরি অর্থাৎ গবেষণাগারে প্রক্রিয়াজাত করে স্ত্রীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়।

    আইইউআই বন্ধ্যত্ব রোগীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় চিকিৎসাপদ্ধতি। সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) মাঝামাঝি একটি প্রচেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে এ চিকিৎসাপদ্ধতিকে। আইইউআই পদ্ধতিতে সাফল্যের হার সাধারণত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হয়ে থাকে। প্রয়োজনভেদে ৩ থেকে ৬ বার পর্যন্ত আইইউ করা যেতে পারে।

    আইইউআই চিকিৎসার পূর্বশর্ত

    • ন্যূনতম একটি ফেলোপিয়ান টিউব খোলা থাকতে হবে (তবে অনেক ক্ষেত্রে সময়স্বল্পতা থাকলে ফেলোপিয়ান টিউব খোলা নাকি বন্ধ যাচাই না করেও এ চিকিৎসাপদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে)।

    • অন্তত একটি বা দুটি ডিম্বাণু যথেষ্ট ম্যাচিউর বা বড় হতে হবে। স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্ট কিছুটা খারাপ হলেও আইইউআই করা যায়।

    কাদের জন্য এ চিকিৎসা প্রযোজ্য

    • প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসায় যদি গর্ভধারণ সফল না হয়।

    • যদি স্বামী বা স্ত্রীর কারও সময়ের স্বল্পতা থাকে। (প্রবাসী স্বামী বা স্বামী-স্ত্রী দূরবর্তী জেলায় চাকরি করেন। প্রবাসী স্বামীরা শুক্রাণু হিমায়িত করে রেখে যেতে পারেন।)

    • দীর্ঘ সময়ের বন্ধ্যত্ব। স্ত্রীর বয়স যদি বেশি হয়।

    • স্ত্রীর ডিম্বাণুর পরিমাণ যদি কম হয়ে থাকে।

    • স্বামীর শুক্রাণুর রিপোর্টে স্বল্পমাত্রার সমস্যা থাকলে করা যাবে। তবে বেশি সমস্যা থাকলে আইভিএফ/ইকসি চিকিৎসাপদ্ধতি গ্রহণ করা ভালো।

    • স্বামীর সহবাসে অক্ষমতা বা অনেক দিন অন্তর অন্তর সহবাস সম্ভব হওয়া।

    • যদি স্ত্রীর প্রাথমিক পর্যায়ের এন্ডোমেট্রিওসিস থাকে। স্ত্রীর জরায়ুমুখে কোনো সমস্যা বা অ্যান্টিস্পার্ম অ্যান্টিবডি থাকে।

    আইইউআই চিকিৎসা একটি সম্পূর্ণভাবে আউটডোরভিত্তিক চিকিৎসা ও তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল। সাধারণত এতে তেমন কোনো ব্যথা লাগে না। এ চিকিৎসায় স্বামীর শুক্রাণু মিডিয়ার মাধ্যমে ওয়াশ করে জীবাণুমুক্ত চিকন প্লাস্টিকের ক্যাথেটার দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর জীবনযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই চলবে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সহায়ক ওষুধ নিতে হবে।

    ডা. শাহীনা বেগম, কনসালট্যান্ট, ইনফার্টিলিটি ও আইভিএফ, বিআরবি হাসপাতাল, ঢাকা

  • বর্ণিতা পেলেন বিলাসবহুল গাড়ি, অন্য বিজয়ীরা কী পেলেন

    ঢাকা

  • বহুল প্রতীক্ষিত গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন আনল স্যামসাং, দাম কত

    বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোন উন্মোচন করেছে স্যামসাং। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে আয়োজিত ‘গ্যালাক্সি আনপ্যাকড’ অনুষ্ঠানে গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের আওতায় নতুন তিন মডেলের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন প্রদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘গ্যালাক্সি এস২৬’, ‘এস২৬ প্লাস’ ও ‘এস২৬ আলট্রা’ মডেলের স্মার্টফোনগুলো আগামী ১১ মার্চ থেকে বিভিন্ন দেশে পাওয়া গেলেও আগাম ফরমাশ দেওয়া যাবে।

    নতুন সিরিজে বড় নকশাগত পরিবর্তনের বদলে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারকেন্দ্রিক উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। তিনটি মডেলেই ব্যবহার করা হয়েছে স্যামসাং–উপযোগী কাস্টম চিপসেট ‘স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট জেন ৫ ফর গ্যালাক্সি’। উন্নত প্রসেসিং সক্ষমতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজের গতি বাড়াতে চিপসেটটি বিশেষভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গ্যালাক্সি এস২৬–এর প্রারম্ভিক মূল্য ৮৯৯ মার্কিন ডলার, এস২৬ প্লাস ১ হাজার ৯৯ ডলার এবং এস২৬ আলট্রা ১ হাজার ২৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এস২৬ মডেলে এবার আর ১২৮ গিগাবাইট সংস্করণ রাখা হয়নি। ফলে মূল্য গত বছরের তুলনায় ১০০ ডলার বেড়েছে। ফোনগুলো কোবাল্ট ভায়োলেট, স্কাই ব্লু, কালো, সাদা, সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড—এই ছয় রঙে পাওয়া যাবে। এর মধ্যে সিলভার শ্যাডো ও পিংক গোল্ড কেবল অনলাইন সংস্করণ হিসেবে বিক্রি হবে।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস
    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজের স্মার্টফোনের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরছেন স্যামসাং ইলেকট্রনিকস আমেরিকার সিনিয়র প্রোডাক্ট এবং প্ল্যাটফর্ম স্ট্র্যাটেজি র‍্যাচেল রবার্টস, রয়টার্স

    স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্যালাক্সি এস২৬–এ রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা। এস২৬ প্লাসে ৬ দশমিক ৭ ইঞ্চি এবং এস২৬ আলট্রায় ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড পর্দা রয়েছে। তিনটি মডেলেই ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত অ্যাডাপটিভ রিফ্রেশ রেট সমর্থন রয়েছে। আলট্রা মডেলে এস পেন ব্যবহারের সুবিধা বজায় রাখা হয়েছে। এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে ১২ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬ বা ৫১২ গিগাবাইট মেমোরির অপশন রয়েছে। এস২৬ আলট্রা পাওয়া যাবে ১২ বা ১৬ গিগাবাইট র‍্যাম এবং ২৫৬, ৫১২ গিগাবাইট বা ১ টেরাবাইট সংস্করণে। এস২৬ মডেলে ৪ হাজার ৩০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার, এস২৬ প্লাসে ৪ হাজার ৯০০ এবং এস২৬ আলট্রায় ৫ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আলট্রা মডেলে প্রথমবারের মতো ৬০ ওয়াট দ্রুত চার্জিং–সুবিধা যুক্ত হয়েছে।

    ক্যামেরাব্যবস্থায় আলট্রা মডেলটিকেই সবচেয়ে এগিয়ে রেখেছে স্যামসাং। গ্যালাক্সি এস২৬ ও এস২৬ প্লাসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরা, ১২ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড লেন্স, ১০ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা। অন্যদিকে এস২৬ আলট্রায় রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫০ মেগাপিক্সেলের আলট্রাওয়াইড এবং ৫০ ও ১০ মেগাপিক্সেলের দুটি টেলিফটো লেন্স। এতে সর্বোচ্চ ৫ গুণ অপটিক্যাল জুম সুবিধা পাওয়া যাবে। সেলফির জন্য রয়েছে ১২ মেগাপিক্সেলের সামনের ক্যামেরা।

    গ্যালাক্সি এস২৬ সিরিজে দুটি ফিচার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ‘ক্রিয়েটিভ স্টুডিও’ নামের একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ছবি ও ভিডিও সম্পাদনার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক টুলগুলো একসঙ্গে করা হয়েছে। আগে বিভিন্ন অ্যাপে ছড়িয়ে থাকা সুবিধাগুলো এখন এক জায়গায় ব্যবহারের সুযোগ মিলবে। অন্যটি ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’। এ সুবিধায় সরাসরি সামনে থেকে না দেখলে পর্দা অন্ধকার দেখাবে এমনভাবে ডিসপ্লে প্রযুক্তি নকশা করা হয়েছে। ফলে জনসমাগমস্থলে ফোন ব্যবহার করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমবে।

    এস২৬ আলট্রায় উন্নত কর্নিং গরিলা আর্মার ২ প্রটেকশন গ্লাস, তাপ নিয়ন্ত্রণে নতুন নকশার ভেপার চেম্বার এবং সব এস২৬ কেসে ম্যাগনেটিক কানেকশনের কথা জানিয়েছে স্যামসাং। ক্যামেরা অ্যাপে নতুনভাবে নকশা করা নথি স্ক্যানারও যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা বেছে নিতে পারবেন গুগল জেমিনি, স্যামসাং বিক্সবি এবং পারপ্লেক্সিটি।

    সূত্র: ম্যাশেবল

    আহসান হাবীব

  • বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুখবর দিলো পাকিস্তান 

    ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান নলেজ করিডোর’ উদ্যোগের আওতায় পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

    শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপো’ (শিক্ষা মেলা)-তে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

    বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং শাবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সারওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাবিপ্রবির শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

    অনুষ্ঠান চলাকালে শাবিপ্রবি পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সম্মতিপত্র (এমওআই) স্বাক্ষর করে।

    মেলায় অংশ নিয়ে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার তার বক্তব্যে বলেন, এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে এবং এটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে।

    তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে।

    শাবিপ্রবি উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য এবং এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বমঞ্চে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগের দুয়ার উন্মোচন করবে।

     

  • বাংলাদেশিদের হার্ভার্ডে স্কলারশিপ নিয়ে এমবিএ করার সুযোগ

    হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের উচ্চশিক্ষার অন্যতম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ মিলতে পারে যে কারও। এ জন্য পকেট থেকে খসবে না এক কানাকড়িও। কারণ, আছে অনলাইন কোর্স। এ ছাড়া আছে বৃত্তির সুযোগ। বৃত্তির নাম বোস্তানি ফাউন্ডেশন বৃত্তি। ২০২৬ সালে এ বৃত্তির আওতায় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএতে পড়তে পারবেন যে কেউ। বিশ্বের অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেদন করতে পারবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও। ২০২৬ সালে শরৎ (অটাম) সেশনের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হবে।

    হার্ভার্ডের এমবিএ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিক্ষার ব্যবসায়িক প্রোগ্রাম। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল প্রতি দুই বছরে একবার বোস্তানি এমবিএ হার্ভার্ড বৃত্তি দিয়ে থাকে। এ বৃত্তি দুই বছরের কোর্সের জন্য।

    অনেক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে আছেন ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট, হেনরি কিসিঞ্জার, বারাক ওবামা, বিল গেটস, জন এফ কেনেডি, টি এস ইলিওট, মার্ক জাকারবার্গসহ আরও অনেক নাম। বিশ্ববিদ্যালয়টি অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে পড়াশোনা করেছেন আমেরিকার ৮ প্রেসিডেন্ট, ১৫৮ নোবেল বিজয়ী, ১০ অস্কার বিজয়ী, ৪৮ পুলিৎজার জয়ী এবং ১০৮ জন অলিম্পিক মেডেল জয়ী ক্রীড়াবিদ।

    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন
    যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, ছবি: রয়টার্স

    আবেদনের যোগ্যতা—

    বাংলাদেশসহ নানা দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন উন্মুক্ত। তবে এ জন্য কিছু শর্ত আছে। যেমন: আবেদনকারী প্রার্থীকে একাডেমিক পড়াশোনায় ভালো হতে হবে। যে কেউ এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। হার্ভার্ড এমবিএ প্রোগ্রাম থেকে ভর্তির অফার পাওয়ার পরে প্রার্থীরা স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    বৃত্তির সুযোগ–সুবিধা—

    • ৭৫ শতাংশ টিউশন ফি প্রদান করবে;

    • ভ্রমণ খরচ প্রদান করবে;

    • বুস্টানি ফাউন্ডেশন কর্তৃক দুই মসের ইন্টার্নশিপ সুবিধা আছে;

    আবেদন পদ্ধতি কীভাবে—

    হার্ভার্ডের বোস্তানি ফাউন্ডেশনের এমবিএ বৃত্তির আবেদন করতে আগ্রহী প্রার্থীদের একটি সিভি ছবিসহ পাঠাতে হবে। এ ছাড়া জিএমএটি স্কোর এবং যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বীকৃতিপত্রের চিঠি This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.ে পাঠাতে হবে। সব সিভি বাছাই করে তালিকা করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় মনোনীত প্রার্থীকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সাক্ষাত্কারের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে।

    আবেদনের শেষ সময়—

    এ বছরের ৩১ মে (৩১–০৫–২০২৬) পর্যন্ত আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

    সুইজারল্যান্ড ও মোনাকোভিত্তিক বোস্তানি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০৬ সালে। নাবিল বোস্তানি ও তাঁর ছেলে ফাদির হাত ধরে এ ফাউন্ডেশনের পথচলা শুরু। এর আগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১৯৯৭ সাল থেকে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর ২০০৬ সালে ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। সেই থেকে বোস্তানি ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে।

    *আবেদনের বিস্তারিত জানা যাবে এখানে ক্লিক করুন

  • বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালু নির্ভর করছে শিল্পখাতের প্রস্তুতির ওপর

    দেশে বর্তমানে ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ৫জি সেবা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের জন্য অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও চলছে। তবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদন খাতসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর প্রস্তুতির ওপর পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবা চালু নির্ভর করবে।

    ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ৫জি ইকোসিস্টেম ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত খাতগুলো চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধির কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৫জি সেবা চালুর প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তবে ইতোমধ্যে আবাসিক ও শিল্প এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সীমিত আকারে ৫জি সেবা চালু করা হয়েছে। রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান বর্তমানে ৫জি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

    মন্ত্রী বলেন, ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪শ’টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানও সীমিত পরিসরের ৫জি সেবা চালু হয়েছে। সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা জানান। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে চললেও ৫জি প্রযুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে যেসব খাত এ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, সেসব খাতের প্রস্তুতিও জরুরি।

    এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোন কোন শিল্পখাত ৫জি প্রযুক্তি ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ধারণেও কাজ চলছে।

    দেশের প্রস্তুতি কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ট্রান্সমিশন অবকাঠামো শক্তিশালী করা। ‘৫জি সক্ষমতার জন্য বিটিসিএল অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নিরবচ্ছিন্ন ট্রান্সমিশন সেবা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের (ওএফসি) মাধ্যমে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

    একই সঙ্গে জেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে উপজেলায় উচ্চগতির ব্যান্ডউইথ সরবরাহের জন্য এএসওএন  (অটোমেটিক্যালি সুইচড অপটিক্যাল নেটওয়ার্ক)-সক্ষম ডিডব্লিউডিএম সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। ঢাকা মহানগর এলাকাতেও ব্যাকআপ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, অপটিক্যাল ফাইবার ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভবিষ্যতে ৫জি সম্প্রসারণের জন্য আরও শক্তিশালী ট্রান্সমিশন অবকাঠামো গড়ে উঠবে।

    প্রযুক্তিটির বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে। মোবাইল অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ৫জি সেবার জন্য ২.৩ গিগাহার্টজ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ৫জি সম্প্রসারণ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) একটি স্পেকট্রাম রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে। সে অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে নতুন স্পেকট্রাম উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান ও মান উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট শুল্ক চালু করেছে এবং ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইন্টারনেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
    সেবার মান নিশ্চিতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও এক্সপেরিয়েন্সের মানদ- চালু করা হয়েছে। সেখানে সেবামান ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি জরিমানার বিধানও রাখা হয়েছে।

    প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যতের ৫জি সেবার প্রস্তুতির লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ৪জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে।

    মন্ত্রী জানান, টেলিটক ইতোমধ্যে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (ভিওওয়াইফাই), ভয়েস ওভার এলটিই (ভিওএলটিই) চালু করেছে এবং সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চারটি স্থানে পাইলট ৫জি সেবা চালু করেছে। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ডেটার গতি বাড়াতে ও নেটওয়ার্কের আওতা সম্প্রসারণে বৈদেশিক সহায়তায় আরও দুটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার নতুন ৪জি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ৫জি সক্ষম সাইট স্থাপন করা হবে। এতে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা ও কভারেজ আরও উন্নত হবে।

    স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর পাশাপাশি ৫জি সেবার ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক সংযোগ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) বর্তমানে সি-মি-উই ৪ এবং সি-মি-উই ৫ সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করছে।

    দুটি ব্যবস্থার সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৯৯.৯৯৯ শতাংশ নেটওয়ার্ক নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ করা হচ্ছে।

    ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে সি-মি-উই ৬ কনসোর্টিয়ামের আওতায় দেশের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে।

    চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকল্পটি শেষ হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে। এতে বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে দেশে ব্যাপক পরিসরে ৫জি সেবা চালুর ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বাংলাদেশ সীমিত পরীক্ষামূলক পর্যায় পেরিয়ে ব্যাপকভিত্তিক ৫জি গ্রহণের ভিত্তি নির্মাণে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ৫জি সেবায় উত্তরণ ক্যাবল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও স্পেকট্রাম প্রাপ্যতার ওপর নয়, বরং মূল শিল্পখাতগুলো এই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত তার ওপরও নির্ভর করবে।

     

  • বাংলাদেশে সরফরাজের নতুন যাত্রা

    ১৫ মার্চ, ২০২৬। এই দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন সরফরাজ আহমেদ। ১৮ এপ্রিল, ২০২৬–এ তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব দেয় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

    খেলা থেকে অবসরের এক মাস তিন দিন পরই টেস্ট দলের কোচ—কেউ কেউ অবাক হতে পারেন। তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা, অবসরের আগে থেকেই পাকিস্তান দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সরফরাজ। এমনকি কাজ করেছেন পাকিস্তান দলের নির্বাচক হিসেবেও।

    ৩৮ বছর বয়সী এই সাবেক উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানকে প্রধান কোচ বানানোয় খোদ পাকিস্তানের অনেক সাবেক ক্রিকেটারই সমালোচনা করেছেন। সেসব এক পাশে রেখেই সরফরাজ এখন টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব নিয়ে ভিনদেশে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দলের কয়েকজন খেলোয়াড় রোববার সকালে ঢাকায় পা রেখেছেন। এই দলের সঙ্গে এসেছেন সরফরাজও।

    কয়েক বছর ধরে পিসিবি কোচ হিসেবে কারও ওপরই খুব একটা ভরসা করতে পারছে না। সরফরাজকে দায়িত্ব দেওয়ার আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের প্রধান কোচের পদটি কয়েক মাস শূন্যই ছিল। সাবেক ক্রিকেটার আজহার মেহমুদ গত বছর অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বে।

    পরে তাঁর সঙ্গে কাজের মেয়াদ বাড়ায়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এর আগে পাকিস্তানের টেস্ট দলের দায়িত্ব সামলেছিলেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আকিব জাভেদ।

    পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি
    পাকিস্তান টেস্ট দলের প্রধান কোচ ছিলেন জেসন গিলেস্পি, এএফপি
     

    তিনি আবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জেসন গিলেস্পি টেস্ট দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর। এত সব অদল–বদলই ঘটেছে ২০২৪ সাল থেকে। আর এঁদের সবাই খেলা ছেড়েছেন বেশ আগে, কোচিংয়েও অভিজ্ঞতা অনেক।

    প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের টেস্ট দলের কোচদের এই আসা–যাওয়ার মধ্যে হঠাৎ সরফরাজের মতো অপেক্ষাকৃত ‘নবীন’ একজন এলেন কীভাবে?

    সরফরাজ পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। এমনকি গত অক্টোবরেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলেছেন। তবে এর পরপরই পিসিবির কোচিং–প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িয়ে যান তিনি।

    অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে  সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান
    অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে সরফরাজের অধীনে চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান, পিসিবি
     

    গত নভেম্বরে তাঁকে পাকিস্তান শাহিনস (‘এ’ দল) ও অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে তদারকির দায়িত্ব দেয় পিসিবি। তাঁর কাজের আওতায় ছিল দলের কার্যক্রম পরিচালনা, খেলোয়াড়দের উন্নয়নের পথ তৈরি, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যা।

    পিসিবি তখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছিল, পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় কাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং যুব দল, ‘এ’ দল ও জাতীয় সিনিয়র দলের মধ্যে ধারাবাহিকতা আরও জোরদার করার একটি ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    একই বছরের ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপে পরামর্শক করে পাঠানো হয় সরফরাজকে। পাকিস্তানের দলটি ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলে সরফরাজের কোচিং–দক্ষতা নিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে পিসিবি। যার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বাংলাদেশ সফরে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্বই তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।

    সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান
    সরফরাজের অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান, রয়টার্স
     

    এমনিতে অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তান ক্রিকেটে সরফরাজেরও ভালো অবস্থান ছিল আগে থেকেই। তাঁর অধিনায়কত্বে ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। সেটি ছিল ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের প্রথম ৫০ ওভারের আইসিসি ট্রফি। যদিও সরফরাজের নেতৃত্বাধীন দলটি সেবার আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ের সর্বনিম্ন দল ছিল।  

    পাকিস্তানের হয়ে সরফরাজ ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন। ৩৭.৪১ গড়ে ৩ হাজার ৩১ রান করেছেন ২১টি ফিফটি ও চারটি সেঞ্চুরিতে। ১১৭ ওয়ানডেতে ৩৩.৫৫ গড়ে করেছেন ২ হাজার ৩১৫ রান। ১১টি ফিফটি ও দুটি সেঞ্চুরি আছে এ সংস্করণে। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে ৬১ ম্যাচে ১২৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে আছে ৮১৮ রান।

    ভালো উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান, শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এবং কোচিংয়ে সাফল্যের পরও সরফরাজকে এখনই টেস্ট দলের কোচ বানিয়ে দেওয়া কারও কারও পছন্দ হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টিভি অনুষ্ঠানে আলোচনার জবাবে সরফরাজ করাচিতে কয়েক দিন আগে বলেছেন, ‘সাবেক ক্রিকেটার ও আমার আগের সহকর্মীদের নিজস্ব মতামত আছে। তবে সুযোগটা কাজে লাগানোর বিষয়ে আমি ইতিবাচক।’

    পাকিস্তানের এই দুটি টেস্টে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। প্রথম টেস্ট শুরু হবে ৮ মে ঢাকায়, দ্বিতীয় টেস্ট ১৬ মে সিলেটে।

  • বাংলাদেশের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে, খাটো করে দেখছি না—ঋতুপর্ণাদের নিয়ে সতর্ক চীনের কোচ

    এক দল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল, নয়বারের চ্যাম্পিয়ন। অপর দল টুর্নামেন্টটিতে খেলতেই এসেছে এই প্রথম। র‍্যাংঙ্কিংও দেখাচ্ছে বড় পার্থক্য—১৭ আর ১১২। এমন অসম শক্তির দুই দল চীন ও বাংলাদেশ আগামীকাল ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মঞ্চে।

    বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা (সিডনির সময় সন্ধ্যা ৭টা) শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচ সামনে রেখে আজ সকালে সিডনির ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন চীনের প্রধান কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান।

    বাংলাদেশ দল র‍্যাংঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক। বাংলাদেশ কোনো অঘটন ঘটাতে পারে কি না—প্রথম আলো প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে মিলিচিক বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে যেকোনো দল যেকোনো দিনে কঠিন সময় উপহার দিতে পারে। বাংলাদেশ এখানে কোনো চাপ ছাড়াই খেলবে। তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। আমরা তাদের মোটেও খাটো করে দেখছি না। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বিনিয়োগ এবং তাদের খেলার মান অনেক বেড়েছে।’

    নিজের প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ দলের লড়াকু মনোভাবের প্রশংসা করে কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি তরুণ এবং পরিশ্রমী দল, তারা প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্টে খেলতে এসেছে। তারা কোনো চাপ ছাড়াই সাবলীল ফুটবল খেলে। আমরা আগামীকাল একটি কঠিন ম্যাচের প্রত্যাশা করছি, তবে আমাদের মূল লক্ষ্য আমাদের নিজস্ব প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা মাঠে বাস্তবায়ন করা।’

    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান
    চীনের কোচ আন্তে মিলিচিক ও অধিনায়ক উ হাইয়ান

    অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে খেলা হওয়ায় বর্তমান চীনা কোচের জন্য এটি অনেকটা ঘরে ফেরার মতো। ক্রোয়েশীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান মিলিচিক সিডনির ইনার ওয়েস্ট এলাকার উপশহর স্ট্র্যাথফিল্ডে বেড়ে উঠেছেন। নিজের চেনা আঙিনায় চীনের শিরোপা ধরে রাখার চাপ নিয়ে তিনি বাস্তববাদী, ‘চীনা জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করলে সব সময়ই প্রত্যাশার চাপ থাকে। তবে আমরা অনেক দূরের চিন্তা না করে প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। গত চার বছর আগের টুর্নামেন্টের চেয়ে এবারের টুর্নামেন্ট ভিন্ন। আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা অনেক বেশি এবং আমরা আমাদের সমর্থকদের গর্বিত করতে চাই।’

    চীনা ফুটবলে অস্ট্রেলিয়ান কোচের প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান কোচরা টেকনিক্যাল দিক থেকে ভিন্ন কিছু এবং ভালো কাঠামো উপহার দিতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ান কোচ হিসেবে এই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ এবং আমি এই আস্থার প্রতিদান দিতে চাই।’

    চীনের রক্ষণের অতন্দ্র প্রহরী ও ১২৪ ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অধিনায়ক উ হাইয়ান গত টুর্নামেন্টটি চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এবার বাহুবন্ধনী হাতে মাঠে নামার আগে তিনি বেশ রোমাঞ্চিত। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে ৩৩ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা এরই মধ্যে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। আগামীকাল আমাদের প্রথম ম্যাচ এবং কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও আমি বিশ্বাস করি আমরা ইতিবাচক পারফরম্যান্স দেখাতে পারব।’

    বাংলাদেশকে সমীহ করলেও নিজেদের শক্তিতেই বেশি বিশ্বাসী উ হাইয়ান। স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ র‍্যাংঙ্কিংয়ে নিচে থাকলেও আমরা কালকের ম্যাচের আগে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছি না। ধাপে ধাপে এগোতে চাই। চোটের কারণে আমি গত টুর্নামেন্ট মিস করেছিলাম, তাই এবার অধিনায়ক হিসেবে নিজের সেরাটা দিতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।’

    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
    মাঠে চীনকে নেতৃত্ব দেবেন ৩৩ বছর বয়সী ডিফেন্ডার উ হাইয়ান
     

    বাংলাদেশ যে বাছাইপর্বে মিয়ানমারের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এখানে এসেছে, সেটিও নজরে আছে চীনা কোচের। বাংলাদেশের আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘আমরা প্রতিটি প্রতিপক্ষকে সম্মান করি এবং বিশ্লেষণ করি। বাংলাদেশ দল খুব তরুণ এবং আক্রমণাত্মক। তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে হারিয়ে এখানে আসার যোগ্যতা অর্জন করেছে।’

    চীনের ২৬ জনের স্কোয়াডে থাকা বেশ কিছু খেলোয়াড়ের অস্ট্রেলিয়ান লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, যা আগামীকাল তাঁদের কন্ডিশনের বাড়তি সুবিধা দেবে বলে কোচ মনে করেন। এদিকে মাঠের লড়াইয়ে লাল-সবুজের মেয়েরা কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, তা দেখতে মুখিয়ে আছে সিডনিপ্রবাসী বাংলাদেশিরাও। কালকের ম্যাচে চীন তাদের দশম মুকুটের পথে প্রথম ধাপ পার করতে চাইলেও, বাংলাদেশ চাইবে এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে নিজেদের চেনাতে।

  • বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে নাজমুলই সেরা অধিনায়ক

    নাজমুল হোসেনকে কেন বুঝিয়ে–সুঝিয়ে টেস্টের অধিনায়কত্ব ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা এখন বোঝা যাচ্ছে। মুখের যুক্তি নয়, পরিসংখ্যানই কথা বলছে নাজমুলের হয়ে।

    পরিসংখ্যানে যাওয়ার আগে নাজমুলের টেস্ট অধিনায়কত্বের ইতিবৃত্তটা একবার বলতে হয়। ২০২৪ সালে তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাজমুল। টি–টুয়েন্টিতে রানখরায় ভোগায় গত বছরের শুরুতে এ সংস্করণে অধিনায়কত্ব ছাড়েন। সে বছর জুনে নাজমুলকে ওয়ানডের অধিনায়কত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর অনেকটা অভিমান থেকে টেস্টের অধিনায়কত্বও ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাজমুল।

    গত বছর নভেম্বরে টেস্ট অধিনায়কত্বে ফেরেন নাজমুল। এর পেছনের কারণ হিসেবে তখন জানা গিয়েছিল, শুরুতে অধিনায়কত্ব নিতে রাজি ছিলেন না নাজমুল। পরে এক পরিচালককে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাঁকে রাজি করানোর জন্য। শেষ পর্যন্ত নাজমুলও তাতে রাজি হন। এরপর তাঁর অধিনায়কত্বে ঘরের মাঠে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ ২–০ ব্যবধানে জেতে বাংলাদেশ। এরপর পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজেও একই ব্যবধানে ধবলধোলাই করে নাজমুলের দল।

    সেই নাজমুল এখন টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক।

     
    সিলেট টেস্টটা অধিনায়ক হিসেবে নাজমুলের অষ্টম জয়। মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড ভাঙলেন নাজমুল। ২০১১ থেকে ২০১৭—এ সময়ের মধ্যে ৩৪ টেস্টে অধিনায়কত্ব করে ৭ ম্যাচ জিতেছিলেন অধিনায়ক মুশফিক। নাজমুল ২০২৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিনায়ক হিসেবে এ সংস্করণে ১৮ ম্যাচে ৮ জয় পেয়েছেন। বাংলাদেশ দলের আর কোনো অধিনায়ক এত টেস্ট জিততে পারেননি। মুশফিকের চেয়ে ১৬ ম্যাচ কম খেলেই তাঁকে ছাড়িয়ে গেলেন নাজমুল। ১৯ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে এ তালিকায় তৃতীয় সাকিব আল হাসান।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব