• ২৫ মিলিয়ন ঘণ্টা ভিউ! কী আছে সাড়াজাগানো এই সিরিজে

    বার্লিনের গুপ্তচর জগৎকে পটভূমি করে তৈরি নতুন থ্রিলার সিরিজ ‘আনফ্যামিলিয়ার’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই নন–ইংরেজি কনটেন্টের তালিকায় বিশ্বব্যাপী শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছিল। ৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া সিরিজটি দেখা যাচ্ছে নেটফ্লিক্সে। মুক্তির পর এ পর্যন্ত ২৫ মিলিয়ন ঘণ্টার বেশি ভিউ হয়েছে সিরিজটির। আন্তর্জাতিক দর্শকের আগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছে—ইউরোপীয় পটভূমির গোয়েন্দা গল্পও আজ বৈশ্বিক বিনোদনের কেন্দ্রে জায়গা করে নিতে পারে।

    সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছেন সাবেক শীর্ষ দুই গোয়েন্দা কর্মকর্তা—মেরেট ও সিমন। মেরেট চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুসান উলফ আর সিমনের ভূমিকায় ফেলিক্স কারমার। একসময় তাঁরা ছিলেন জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষ অপারেটিভ; এখন বার্লিনে একটি গোপন ‘সেফ হাউস’ পরিচালনা করেন। কিন্তু অতীতের এক অন্ধকার হুমকি হঠাৎ ফিরে এলে তাঁদের শান্ত জীবন ভেঙে পড়ে। চুক্তিভিত্তিক খুনি, রুশ এজেন্ট ও নিজেদের সাবেক নিয়োগকর্তা জার্মান ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)—সবাইকে মোকাবিলা করতে হয় তাঁদের। আর সেই লড়াই শুধু দায়িত্বের নয়, নিজেদের পরিবার ও জীবনের সুরক্ষারও।

    ‘আনফ্যামিলিয়ার’ আসলে প্রযোজনা সংস্থা গোমোঁ জার্মানির নেটফ্লিক্সের সঙ্গে দ্বিতীয় বড় প্রকল্প, রোমান সাম্রাজ্যকে ঘিরে নির্মিত ‘বারবারিয়ানস’–এর পর। সেই সিরিজের পরিকল্পিত তৃতীয় মৌসুমের জন্য কাজ শুরু করেছিলেন নির্মাতা পল কোটস। কিন্তু সেটি বাতিল হলে তিনি নতুন এক গুপ্তচর গল্পের ধারণা দেন, যা থেকে জন্ম নেয় ‘আনফ্যামিলিয়ার’।

    কোটসের ভাষায়, এই সিরিজের ভেতরে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ছাপ রয়েছে। তিনি নিজেও পঞ্চাশোর্ধ্ব, তাই মেরেট ও সিমনের বয়সও জীবনের বাস্তবতা তাঁকে টেনেছে। সাধারণত গুপ্তচর কাহিনিতে তরুণ, শক্তিশালী, প্রায় অতিমানবীয় চরিত্র দেখা যায়। কিন্তু এখানে দুই মধ্যবয়সী মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা, বয়সজনিত ক্লান্তি ও মানসিক টানাপোড়েন গল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। বেরাইসও মনে করেন, বয়সকে গল্পের অংশ করে তোলার মধ্যেই রয়েছে মৌলিকতা ও বাস্তবতা।

    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সিরিজ নির্মাণে বাস্তবতার ছোঁয়া আনতে সরাসরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল জার্মান গোয়েন্দা সংস্থা বিএনডির কাছ থেকে। প্রযোজকেরা গল্পের খসড়া তাঁদের সঙ্গে ভাগ করেন, যাতে উপস্থাপনা বিশ্বাসযোগ্য হয়। অভিনয়শিল্পীরাও সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছে প্রশ্ন করার সুযোগ পান। এমনকি বার্লিনে বিএনডির সদর দপ্তরের বাইরে শুটিংয়ের অনুমতিও মিলেছিল, তবে কড়া নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মেনে। সপ্তাহান্তে শুটিং করতে হয়েছে, যাতে সংস্থার কর্মীদের স্বাভাবিক যাতায়াত চিত্রায়িত না হয়।

    গোমোঁর জন্য ‘আনফ্যামিলিয়ার’ ছিল এক উচ্চাভিলাষী আন্তর্জাতিক প্রকল্প। তাদের আগের সফল সিরিজগুলোর মতো ‘নার্কোস’ বা ‘লুপিন’—এখানেও নির্মাতারা একটি স্বতন্ত্র জগৎ তৈরি করতে চেয়েছেন। বার্লিনের ইতিহাস, শীতল যুদ্ধের স্মৃতি, আধুনিক ইউরোপীয় রাজনীতির উত্তাপ—সব মিলিয়ে এক বাস্তব অথচ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে গল্প স্বাভাবিকভাবেই বিস্তার লাভ করেছে।

    কোটস জানান, শুরুতে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন তারিক সালেহ পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার ‘দ্য কন্ডাক্টর’ থেকে। বিশেষ করে একটি দৃশ্যে আহত নায়ককে একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়, সেই রহস্যময় সেফ হাউসের ধারণাই তাঁকে ভাবায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতি ছিল এডি মারসনের। সেই চরিত্রটির অদেখা জীবন, অজানা অতীত—এসব প্রশ্ন থেকেই সিরিজটির জন্ম।

    সিরিজটির নির্মাণভঙ্গি ধীর ও সংযত। প্রথম পর্বেই সব রহস্য উন্মোচন না করে দর্শককে ধাপে ধাপে তথ্য দেন। চমকপ্রদ টুইস্টের বদলে তাঁরা বেছে নিয়েছেন ‘স্লো–বার্ন’ পদ্ধতি—চাপ জমতে থাকে, উত্তেজনা বাড়ে এবং দর্শক অনিবার্য পরিণতির অপেক্ষায় থাকেন। এই ধৈর্যশীল গতি সবার কাছে সমান আকর্ষণীয় না–ও হতে পারে, কিন্তু অনেকেই এই সংযমকেই সিরিজটির শক্তি হিসেবে দেখছেন।

    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    নেটফ্লিক্স সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্পাই থ্রিলারকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে দক্ষতা দেখিয়েছে। ‘আনফ্যামিলিয়ার’ সেই ধারাতেই নতুন সংযোজন। অল্প পর্বসংখ্যা সিরিজটিকে সহজে টানা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। জার্মান গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বাস্তবধর্মী উপস্থাপন সিরিজটিকে বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছে, যা অনেক কল্পনাপ্রবণ স্পাই ড্রামার ভিড়ে আলাদাভাবে চোখে পড়ে।

    তবে বিতর্কের জায়গাটিও স্পষ্ট। অনেক দর্শকের কাছে এটি পরিচিত ফর্মুলার পুনরাবৃত্তি—অবসরপ্রাপ্ত গুপ্তচর, অতীতের ব্যর্থ মিশন, ভুয়া পরিচয়ে গড়া পরিবার। নতুনত্বের সন্ধানীরা হয়তো এটিকে ‘রিমিক্স’ বলবেন। কিন্তু চরিত্রকেন্দ্রিক উত্তেজনা, আবেগের ধীরে জমাট বাধা স্তর ও মধ্যবয়সী জীবনের বাস্তব সংকট—এই উপাদানগুলোই সিরিজটিকে অন্যদের কাছে আলাদা করে তুলেছে। মুক্তির পর প্রথম সপ্তাহেই বৈশ্বিক সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে, দর্শক এখন এমন গুপ্তচর কাহিনি দেখতে চায়, যেখানে আছে মানবিক দুর্বলতা, বয়সের বাস্তবতা ও রাজনৈতিক জটিলতার সমন্বয়।

    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি
    ‘আনফ্যামিলিয়ার’–এর পোস্টিার। আইএমডিবি

    এটি শুধু অ্যাকশন নয়; বরং মধ্যবয়সী দুই মানুষের টিকে থাকার গল্প; অতীতের ছায়া থেকে বর্তমানকে বাঁচানোর লড়াই। আর বার্লিন গুপ্তচর ইতিহাসের চিরন্তন শহর—এই লড়াইয়ের জন্য যেন আদর্শ মঞ্চ।

  • ৩২ ম্যাচেই ৪৩১ ছক্কা, রেকর্ড তাহলে ভেঙেই যাচ্ছে

    ক্রিকেট দিনে দিনে ছক্কার খেলায় পরিণত হচ্ছে বললে হয়তো ভুল হবে না। পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ ওভার—সব সময়ই ছক্কা মারার চেষ্টা থাকে ব্যাটসম্যানদের।

    স্বাভাবিকভাবেই ছক্কার সংখ্যায় একটা টুর্নামেন্ট আরেকটাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। না, ছক্কার সংখ্যায় এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে ছাড়ায়নি। তবে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে গড়া ছক্কার রেকর্ড ভেঙে এবারের বিশ্বকাপ নতুন রেকর্ড গড়বে, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত।

    ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৫২ ম্যাচে ছক্কা দেখা গিয়েছিল ৫১৭টি, যা এক টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ম্যাচ হয়েছে ৩২টি। এরই মধ্যে ছক্কা হয়েছে ৪৩১টি। ফাইনালসহ এখনো ম্যাচ বাকি ২৩টি। রেকর্ড কি ভাঙবে? তেমনটাই তো হওয়ার কথা।

    কারণ, গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচপ্রতি প্রায় ১০টি করে ছক্কা মেরেছে—৯.৯৪। এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছক্কা হয়েছে ম্যাচপ্রতি অনেক বেশি— ১৩.৪৭ । সেই হিসাবে বাকি ম্যাচগুলোতে রেকর্ড ভেঙে যাওয়ারই কথা।

    ২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন। গত টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেট ছিল ১০৯.৯৬, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৪২। এটিই টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে ব্যাটসম্যানদের সমন্বিত স্ট্রাইকরেটের হিসাবে সর্বোচ্চ।

    ২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন
    ২০২৪ বিশ্বকাপের চেয়ে এবারের ব্যাটসম্যানরাও বেশি হাত খুলে খেলেছেন, এএফপি
     

    এবারের বিশ্বকাপ ও এর আগের বিশ্বকাপ ছাড়া এক আসরে ৪০০ ছক্কা হয়েছে মাত্র একবার। সেটি ২০২১ বিশ্বকাপে। সবচেয়ে কম ছক্কা হয়েছে ২০০৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। সেবার মাত্র ১৬৬টি ছক্কা হয়েছে, ম্যাচও হয়েছিল মাত্র ২৭টি।

    অবশ্য চারটি বিশ্বকাপেই ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে। ২৭টি করে ম্যাচ হয়েছে এমন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কা হয়েছিল ২০১০ সালে, ২৭৮টি।

  • ‘কিছু দলের প্রভাব বেশি’—আইসিসির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নিয়েছে ১ মার্চ, দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ মার্চ। কিন্তু তাদের পর বাদ পড়েও আগেই ভারত ছেড়েছে ইংল্যান্ড। ৫ মার্চ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারের দুই দিনের মধ্যেই, ৭ মার্চ চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন হ্যারি ব্রুকরা।

    নিজেদের পর বাদ পড়লেও ইংল্যান্ডকে আগেভাগে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করায় আইসিসির ওপর ক্ষুব্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন আচরণে ‘ক্ষমতা’ দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনার কারণে অঞ্চলটির আকাশপথ ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিশ্বকাপ খেলে ফেরার যাত্রাতেও। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসা কয়েকটি দল সময়মতো দেশে ফিরতে পারেনি। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ে দল সুপার এইট থেকে বাদ পড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষার পর ভারত ছাড়তে পেরেছে।

    বিশ্বকাপে খেলা দলগুলোর ভ্রমণের বিষয়টি দেখভাল করে আইসিসি। ইএসপিএনক্রিইনফোর খবরে বলা হয়, আইসিসি ইংল্যান্ড দলের জন্য একটি চাটার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করায় হ্যারি ব্রুকরা শনিবার ভারত ছেড়ে গেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা দল যাবে ৮ মার্চ।

    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ
    ইনস্টাগ্রামে ডেভিড মিলারের ক্ষোভ স্ক্রিনশট

    এই পরিস্থিতিতে আইসিসির ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডেভিড মিলার। বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান ক্রিকইনফোর একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখেন, ‘মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাদ পড়েও আজ রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় উত্তরের অপেক্ষায় বসে আছে।’

    মিলারের সেই পোস্টেই প্রতিক্রিয়া জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। মন্তব্যের ঘরেই তিনি লেখেন, ‘মিলার, যাঁরা পেছনে আছেন, তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন স্যার।’

    এরপর স্যামিকে ট্যাগ করে মিলার আরও তীব্র ভাষায় আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘ইংল্যান্ডের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে চার্টার্ড ফ্লাইটের অপেক্ষায় আছে আর দক্ষিণ আফ্রিকার আজ চার দিন হলো। তবুও আমরা এখনো অপেক্ষাতেই আছি।’

    একই সুর শোনা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি ককের কণ্ঠেও। তিনি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লেখেন, ‘আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। অথচ ইংল্যান্ড আমাদের আগেই কোনোভাবে চলে যাচ্ছে? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা একেবারেই অন্ধকারে পড়ে আছে! অদ্ভুত ব্যাপার যে কিছু দলের প্রভাব অন্যদের চেয়ে কত বেশি।’

    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি
    ইংল্যান্ড দলের আগেভাগে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করেছে আইসিসি, রয়টার্স

    শুধু খেলোয়াড় ও কোচই নন, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনও। তিনি এক্সে লেখেন, ‘ইংল্যান্ড বৃহস্পতিবার বিদায় নিয়েছে আর আজই চার্টার ফ্লাইটে দেশে ফিরে যাচ্ছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ গত রোববার টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েও এখনো কলকাতায় আছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও একই অবস্থায়। এখানেই বোঝা যায় ক্ষমতার ভারসাম্যটা ঠিক নেই।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।’

    আইসিসির ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই সমালোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • ‘জেল থেকে ফেরার পর পুরুষ দেখলেই শরীর ভয়ে কাঁপে’

    প্রেমিক সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পর থেকেই দুঃস্বপ্নের সময় কাটিয়েছেন অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী। মাদক–কাণ্ডে জেল খেটেছেন, দিনের পর দিন খবরের শিরোনাম হয়েছেন। সম্প্রতি দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন রিয়া। এ উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

    সুশান্তের মৃত্যু ঘিরে বিতর্কে রিয়ার নাম জড়িয়ে পড়েছিল। বিষয়টি তাঁর অভিনয়জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছিল। এমনকি অভিনেত্রী দূরে সরে গিয়েছিলেন রোল-ক্যামেরা, অ্যাকশনের জগৎ থেকে। দীর্ঘ সাত বছর পর অভিনয়জীবনে ফিরছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আজকাল তিনি ‘ট্রোল্‌ড’ না হলে মনে হয় সব আদৌ ঠিক করছেন তো! সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর জেলে যাওয়ার দৃশ্য টেলিভিশনের পর্দায় বসে দেখেছিলেন কোটি কোটি মানুষ। রিয়ার আক্ষেপ, সেইসব মানুষের মধ্যে ১ কোটি মানুষও যদি তাঁর আদালত থেকে ক্লিনচিট পাওয়ার অর্থটা বুঝত।

    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    রিয়া চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    যদিও জেলে যাওয়ার পর থেকে কিছু ভয় মনের মধ্যে বসে গিয়েছে রিয়ার। তিনি বলেন, ‘জেল থেকে ফেরার পর মনে হতো পৃথিবীটা বাসযোগ্য নয়, বাইরে বেরোতে ইচ্ছে করত না। দরজা খুলে কোনো পুরুষকে দেখলেই শরীর কাঁপে এখনো। অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়।’

    অভিনয়ে ফেরা
    নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজ ‘ফ্যামিলি বিজনেস’–এর মাধ্যমে অভিনয়ে প্রত্যাবর্তন হচ্ছে রিয়ার; যা তাঁর ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিরে আসা প্রসঙ্গে রিয়া বলেন, এই অভিজ্ঞতা তার কাছে একই সঙ্গে আবেগঘন ও অবাস্তব মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাত বছর। ব্যাপারটা সত্যিই অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য লাগছে। আমি ভাবতেই পারিনি যে আবার কখনো অভিনয় করব। সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

    নিজের অতীত ও বর্তমানের তুলনা টেনে রিয়া আরও বলেন, ‘১৭ বছর বয়সে অভিনয়ই ছিল আমার স্বপ্ন। তারপর অনেক কিছু ঘটে গেল, কাজ বন্ধ হয়ে গেল, আর আমাকে সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসতে হয়েছিল। এখন আমি আবার ফিরেছি, কিন্তু আমি আগের মতো নেই। আমার ক্যারিয়ারও বদলেছে। অভিনয় এখন আগের মতো একই অর্থ বহন না করলেও, অনেক দিক থেকে এর গুরুত্ব আমার কাছে আগের চেয়েও বেশি।’
    রিয়ার এই প্রত্যাবর্তনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক। অনেকেই তাঁকে সাহস ও ভালোবাসার বার্তা দিয়ে লিখেছেন—‘তোমাকে নিয়ে গর্বিত’, ‘তুমি আরও শক্ত হয়ে ফিরেছ’, ‘নতুন শুরুতে শুভকামনা’।
    নিউজ ১৮ অবলম্বনে

  • ‘দয়া করে বাঁচান’, দুবাইয়ে আটকে পড়া অভিনেত্রীর আকুতি

    পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে দুবাইয়ে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত হওয়ায় বলিউড অভিনেত্রী সোনাল চৌহান বর্তমানে সেখানেই আটকে পড়েছেন। নিরাপদে ভারতে ফিরতে তিনি ভারতের সরকারের সহায়তা চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছেন।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশপথে ব্যাপক বিঘ্ন দেখা দেয় এবং দুবাইসহ একাধিক শহরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এই অবস্থায় দুবাইয়ে অবস্থানরত সোনাল চৌহান ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ট্যাগ করে লেখেন, তিনি চলমান সংকটের মধ্যে দুবাইয়ে আটকে আছেন এবং দেশে ফেরার কোনো পরিষ্কার পথ নেই। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি সরকারের দিকনির্দেশনা ও সহায়তা কামনা করেন।

    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    সোনাল চৌহান। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দুবাইয়ে ভারতীয় দূতাবাসকেও উল্লেখ করে দ্রুত সহায়তার আবেদন জানান। তাঁর এই আবেদন সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্বোধন করে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে একাধিক বিমান বাতিল হওয়ায় আটকে পড়েছেন তিনি। নিরাপদে এবং সঠিক সময়ে নিজভূমে ফেরার কোনো আশা তিনি দেখছেন না। ‘আমাকে সাহায্য করুন, দয়া করে বাঁচান’, লিখেছেন তিনি।

    শুধু সোনাল নন, এই পরিস্থিতিতে আরও কয়েকজন ভারতীয় তারকাও উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা পিভি সান্ধ, দক্ষিণি তারকা অজিত দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া দোহায় থাকা ভারতীয় বাস্কেটবল দলও যাত্রা স্থগিতের কারণে এগোতে পারছে না।

    রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, ইসরায়েল ও বাহরাইনের আকাশসীমা কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে। ইসরায়েল ইরানে হামলার কথা নিশ্চিত করার পর যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের দোহা, আবুধাবি ও দুবাইয়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উপসাগরীয় অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে

  • ‘প্রতিভা নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়’

    অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি সম্প্রতি নির্বাক চলচ্চিত্র ‘গান্ধী টকস’-এ অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে রয়েছেন বিজয় সেতুপতি। ভারতীয় দৈনিক অমর উজালাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অদিতি জানিয়েছেন, কেন এই নির্বাক ছবি তাঁর কাছে এতটা বিশেষ। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে হিন্দি ছবিতে তুলনামূলক কম কাজ করার কারণ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।

    নির্বাক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘আমার সব সময়ই ইচ্ছা ছিল কোনো নির্বাক ছবিতে কাজ করার। যখন এই সিনেমার প্রস্তাব আসে, সত্যিই খুব খুশি হয়েছিলাম। পরিচালক কিশোর পাণ্ডুরং বেলেকর যেভাবে ছবির কাঠামো দাঁড় করিয়েছেন, এ আর রাহমান যেভাবে সংগীত দিয়েছেন, সেটা দারুণ। তা ছাড়া বিজয় সেতুপতি, অরবিন্দ স্বামী ও সিদ্ধার্থ যাদবের মতো শিল্পীরা যুক্ত হয়েছেন—সব মিলিয়ে ছবিটা আমার কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমার চরিত্রটি শুধু প্রেমের আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়; গল্পের আবেগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

    নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা বলেন অদিতি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন অভিনেতার কাছে প্রতিটি ছবিই চ্যালেঞ্জিং। তবে নির্বাক ছবির চ্যালেঞ্জ আলাদা। এখানে সংলাপ নেই, তাই শরীরী ভাষা, চোখের অভিব্যক্তি আর ভেতরের অনুভূতির প্রকাশই হয়ে ওঠে প্রধান মাধ্যম। কিছু না বলেও অনুভূতি প্রকাশ করার প্রক্রিয়াটা আমি ভীষণ উপভোগ করেছি।’

    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে
    ‘গান্ধী টকস’–এ বিজয় ও অদিতি। এক্স থেকে

    নিরীক্ষাধর্মী ছবি নিয়ে দর্শকের মনোভাব প্রসঙ্গে অদিতি বলেন, ‘নির্বাক ছবি অনেক দর্শকের কাছেই নতুন অভিজ্ঞতা, তাই এর গতি কিছুটা ধীর মনে হতে পারে। কিন্তু আমরা প্রায়ই শুক্রবার মুক্তির পরই একটি ছবির ভাগ্য নির্ধারণ করে ফেলি। সত্যিটা হলো, এ ধরনের ছবির জন্য সময় দরকার। মন দিয়ে অনুভব করে দেখতে হয়।’
    গত চার বছরে হিন্দি ছবিতে তাঁকে তুলনামূলক কম দেখা যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অদিতি বলেন, ‘বিষয়টা খুব সহজ। ভালো কাজ পেলে তবেই আমি হিন্দি ছবি করি। যারা বাইরে থেকে বলিউডে আসে, তাদের প্রতিটি ছবিতে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করতে হয়। এটা কোনো অভিযোগ নয়, বাস্তবতা। আমাদের একসঙ্গে পাঁচটি ছবির চুক্তি হয় না। প্রতিটি নতুন কাজেই নিজেকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ২০১১ সাল থেকে কাজ করছি। আমার বিশ্বাস, প্রতিভা শেষ পর্যন্ত নিজের পথ নিজেই তৈরি করে নেয়।’

    ভারতে বিনোদন–দুনিয়ায় কাজের সময়সীমা ও দীর্ঘ শিফট নিয়ে চলমান বিতর্কেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অদিতি। তিনি বলেন, ‘আমরা কেউই যন্ত্র নই। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় কাজ করা মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্তিকর। একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাজ করা স্বাভাবিক, কিন্তু তারপর কাজের মানও প্রভাবিত হয়। শিল্পীরা মন আর শরীর—দুটো দিয়েই কাজ করেন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া টানা কাজ করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।’

    অদিতির মতে, সৃজনশীল কাজের ক্ষেত্রে সময়ের ভারসাম্য অত্যন্ত জরুরি। ‘কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া উচিত। ইন্ডাস্ট্রিতে এ বিষয়ে আরও সংবেদনশীল হওয়া দরকার,’ বলেন তিনি।

    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    অদিতি রাও হায়দারি। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    নির্বাক ছবির মতো ভিন্ন ঘরানায় কাজের মাধ্যমে অদিতি আবারও জানিয়ে দিলেন, চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। এখন দেখার, দর্শক ‘গান্ধী টকস’কে কতটা সময় ও মনোযোগ দেন।

  • ‘ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটাই দেব’—চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে প্রত্যয়ী মনিকা

    সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার ঐতিহাসিক এক ম্যাচে মাঠে নামছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।

    নয়বারের এশিয়ান কাপ চ্যাম্পিয়ন চীনের মুখোমুখি হওয়ার আগে সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে আজ সকালে নিবিড় অনুশীলন করেছেন মারিয়া-মনিকারা। অনুশীলন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা জানিয়েছেন, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলেও নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছেন তাঁরা।

    অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন নিয়ে বাংলাদেশের দুবারের সাফজয়ী দলের সদস্য মনিকা বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি অনেক দিন হয়েছে। এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছি। এখানে ভালো অনুশীলন হচ্ছে। প্রতিদিনই আমাদের উন্নতি হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালোই যাচ্ছে।’

    এশিয়ান কাপের প্রতিপক্ষ চীন কতটা শক্তিশালী, তা নিয়ে দলের ভেতর কাটাছেঁড়া চলছে নিয়মিত। ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রতিপক্ষকে আটকানোর কৌশল সাজাচ্ছেন কোচ পিটার বাটলার। এ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, ‘যেহেতু ওরা এশিয়ার মধ্যে সেরা, এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নও, তো ওদের নিয়ে আমাদের প্রত্যেক দিন মিটিং হয়। ভিডিও দেখানো হয়। ওরা কোন পজিশনে কীভাবে খেলে, আমাদের কীভাবে দৌড়াতে হবে বা মাঠে কীভাবে খেলতে হবে, এগুলো মিটিংয়েও বলা হচ্ছে। আর আমরা মাঠেও সেটা নিয়ে কাজ করতেছি।’

    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা
    সিডনিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিকা চাকমা

    চীনের বিপক্ষে লড়াই করতে হলে রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ—সব বিভাগেই সমান সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করেন এই মিডফিল্ডার। চীনের শক্তি নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘গোলকিপার থেকে স্ট্রাইকার—সবদিক দিয়ে ওরা স্ট্রং। আমাদেরও রক্ষণ থেকে আক্রমণভাগ পর্যন্ত সবদিক নিয়ে কাজ করা লাগছে।’

    বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে চীনের কাছে হারের ব্যবধান যত কম রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। এক সাংবাদিক ড্র বা জয়ের লক্ষ্য থাকবে কি না, জিজ্ঞেস করলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি মনিকা, ‘আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফল যা–ই হোক, আমরা আমাদের সেরাটা দেব।’

    মনিকা আরও যোগ করেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবছি, কারণ, আমাদের এখানে পারফরম্যান্স করতে হবে। দেশের জন্য হোক, নিজের জন্য হোক বা ফ্যামিলির জন্য, সবার জন্যই আমরা এখানে খেলতে এসেছি। আমরা আমাদের দেশের জন্যই ভাবছি।’

    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন
    সিডনিতে চলছে বাংলাদেশ দলের অনুশীলন, বাফুফে
     

    মাঝমাঠ, আক্রমণভাগ আর রক্ষণভাগের ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে মনিকা জানান, বল পেলে তাঁরা অবশ্যই আক্রমণে যাবেন, আর বল হারালে দ্রুত পজিশন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করবেন। মূল ভেন্যুতে অনুশীলনের সুযোগ না পেলেও রাগবি ও ফুটবলের ভেন্যু জুবুলি স্টেডিয়ামে অনুশীলন নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট বলে জানান।

    মঙ্গলবার সিডনির মাঠে লাল-সবুজের মেয়েরা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত।

  • ‘হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়’

    প্রশ্ন:এই প্রথম এশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

    ‎তহুরা খাতুন: সত্যি বলতে অনেক ভালো লাগছে। চীন–কোরিয়ার মতো দলগুলো এশিয়ান কাপে অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাও কম কী! এমন টুর্নামেন্টে প্রথমবার আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি, এটা ভেবে আরও ভালো লাগছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতেও পারব। আমাদের মূল লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলা, সবার সঙ্গে লড়াই করা। তবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলে হারলেও অনেক কিছু শেখা যায়।

    প্রশ্ন:টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আপনার দৃষ্টিতে প্রস্তুতি কেমন হলো?

    ‎তহুরা: মোটামুটি হয়েছে, তবে আরও ভালো হতে পারত। এশিয়ান কাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে জাতীয় দলের ক্যাম্পে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারলে ভালো হতো। ঘরোয়া লিগ চলায় সেটা আর হয়নি। পুরো দল যদি আগে থেকে একসঙ্গে দীর্ঘ সময় অনুশীলন করতে পারত, দলের কম্বিনেশন আরও ভালো হতো।

    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
    এশিয়া কাপ খেলতে সিডনি যাওয়ার আগে নিজের প্রত্যাশার কথা বলে গেছেন তহুরা খাতুন
     
    প্রশ্ন:আপনি তাহলে বলছেন, এ সময় লিগ আয়োজন করাটা ঠিক হয়নি?

    ‎তহুরা: লিগের কারণে হয়তো ফিটনেসে ঘাটতি পড়েনি, তবু এ সময়ে লিগ আয়োজন করা একদম ঠিক হয়নি। বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ-পাতাল তফাত। লিগ হতে হবে এমন একটা সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ব্যস্ততা কম থাকবে। আমাদের উচিত ছিল, এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে পড়ে থাকা। কিন্তু সবাইকে লিগ খেলতে হয়েছে। এত বড় টুর্নামেন্টের আগে লিগ কেন করা হলো, এ বিষয়টা কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে দলের সবচেয়ে বড় ঘাটতিটা কোথায় দেখছেন?

    তহুরা: দেখুন, ভারত অনেকগুলো ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছে। তারা তুরস্কেও ক্যাম্প করেছে। বড় কোনো টুর্নামেন্টে যাওয়ার আগে ভালো দলের বিপক্ষে বেশি বেশি ম্যাচ খেলা উচিত। আমরা যদি র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর সঙ্গে খেলতাম, হয়তো গোল খেতাম, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা মূল টুর্নামেন্টে অনেক কাজে লাগত।

    প্রশ্ন:চীন–উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিধর প্রতিপক্ষ নিয়ে কী পরিকল্পনা?

    তহুরা: চীন, কোরিয়া র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে, তারা প্রতি ম্যাচেই প্রচুর গোল দেয়। যাঁরা ফুটবল সম্পর্কে জানেন, তাঁরা বুঝবেন, হুট করে এমন দলের বিপক্ষে ভালো করা সম্ভব নয়। আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে সর্বোচ্চ লড়াই করা। হার–জিত যা–ই হোক, লক্ষ্য থাকবে সম্মানজনক স্কোর করা এবং যতটা কম সম্ভব গোল খাওয়া। দু-একটা গোল পেলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি। আসলে তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো আশা দেখছি না।

    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    বাংলাদেশ নারী দলের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা
    প্রশ্ন:গোল আটকানোর জন্য রুপনা-শিউলিরা কতটা প্রস্তুত?

    তহুরা: গোল আটকানোর কাজটা সহজ হবে না। চীন-কোরিয়ার সঙ্গে আমরা আগে কখনো খেলিনি। তারপরও রুপনা আমাদের সেরা গোলকিপার। অবশ্যই সে সেরা চেষ্টাটাই করবে। ডিফেন্ডাররাও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    প্রশ্ন:‘অচেনা’ চীন-কোরিয়া সম্পর্কে কীভাবে ধারণা নিচ্ছেন?

    ‎তহুরা: কোচ চীন-কোরিয়ার শক্তিমত্তা ও দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলেছেন। তারা কোথায় ভালো, কোন দলের সঙ্গে কীভাবে খেলতে হবে—এসব নিয়ে কোচ বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। এভাবে কিছুটা ধারণা পাচ্ছি।

    প্রশ্ন:ভিডিওতে তাদের খেলা দেখেননি? তাহলেও তো কিছু ধারণা পেতেন...

    ‎তহুরা: না, তাদের খেলার ভিডিও দেখার সুযোগ হয়নি, কোচও দেখাননি। হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর দেখাবেন।

    প্রশ্ন:এই প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোচের কী বার্তা?

    তহুরা: সেটা না-ই বলি। অনুশীলনে সবাই কঠোর পরিশ্রম করছে। কোচ আমাদের যেভাবে খেলার নির্দেশনা দেবেন, আমরা সেভাবেই মাঠে তা কার্যকর করার চেষ্টা করব। সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে চাই।

    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতুন
    প্রথম আলোর ক্রীড়া পুরস্কার অনুষ্ঠানে দুই নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা ও তহুরা খাতু
    প্রশ্ন:উজবেকিস্তানকে নিয়ে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভাবনা আছে...

    তহুরা: তারাও কিন্তু সবাইকে হারিয়েই এই টুর্নামেন্টে এসেছে। তবে বড় দুই দলের তুলনায় তাদের সঙ্গে লড়াই একটু ভালো হতে পারে। যদি আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু মাঠে দিতে পারি, তাদের বিপক্ষে ভালো কিছুর সম্ভাবনা আছে।

    প্রশ্ন:এই সফরে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাও আছেন। তাঁকে নিয়ে কতটা আশাবাদী?

    ‎তহুরা: ভালো, সে আমাদের সঙ্গে অনুশীলন করছে। ধীরে ধীরে সবকিছু মানিয়ে নিচ্ছে। এখন মাঠে কেমন করে, সেটা তো আর আমি বলতে পারব না।

    প্রশ্ন:অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কোনো বাধা হবে?

    তহুরা: মনে হয় না। আমরা সেখানে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাব। আমাদের সঙ্গে একজন অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ আছেন, যিনি ট্রেনিং ও খাবারদাবার সবকিছু তদারক করছেন। এই সুবিধা আরও আগে থেকে পেলে ভালো হতো।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব