• নেদারল্যান্ডসের বৃত্তি, স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নের সুযোগ

    ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে নেদারল্যান্ডসেও বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ আছে। দেশটির ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সে সুযোগ দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কলারশিপের আওতায় স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। মেধাবী শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ তারিখ ১ মে ২০২৬।

    ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি ১৯৬১ সালে Technische Hogeschool Twente (THT) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে ডাচ্‌ একাডেমিক শিক্ষা আইনের পরিবর্তনের ফলে ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টি (টুয়েন্টি বিশ্ববিদ্যালয়) রাখা হয়।

    সুযোগ-সুবিধা

    স্কলারশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীরা এক বছরের জন্য সর্বনিম্ন ৩,০০০ ইউরো থেকে সর্বোচ্চ ২২,০০০ ইউরো পাবেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

    আবেদনের যোগ্যতা

    আবেদনকারীকে ২০২৬–২৭ (সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টির স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামগুলোর একটিতে ভর্তি হতে হবে।

    —স্টুডেন্ট আইডি নম্বর থাকতে হবে।

    —ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে। আইইএলটিএস ৬ দশমিক ৫ বা টোয়েফলে ৯০ থাকতে হবে।

    আবেদনের প্রক্রিয়িা

    আবেদনকারীকে প্রথমে ইউনিভার্সিটি অব টুয়েন্টিতে একটি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের জন্য আবেদন করতে হবে। পরবর্তী সময় (শর্তসাপেক্ষ) ভর্তির অফার লেটার পেয়ে গেলে, আবেদনকারী তাঁর স্টুডেন্ট আইডি নম্বরসহ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে আবেদন করতে এবং আবেদনপদ্ধতিসহ অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

  • নোবেলজয়ী লেখকের দীর্ঘ লড়াই, অবশেষে মুক্তি পেল সেই সিরিজ

    ছয় বছর আগে নিজের বহুল আলোচিত উপন্যাস ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর চলচ্চিত্র ‘রূপান্তরের খসড়া’ চিত্রনাট্য হাতে পেয়ে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন নোবেলজয়ী তুর্কি লেখক ওরহান পামুক। তাঁর ৫০০ পৃষ্ঠার বেশি দীর্ঘ প্রেমকাহিনি—১৯৭০ ও ৮০–এর দশকের ইস্তাম্বুলের পটভূমিতে লেখা ভালোবাসার গল্প—চিত্রনাট্যে এমনভাবে বদলে ফেলা হয়েছিল, যা তাঁর ভাষায় ‘অতিরিক্ত ও অগ্রহণযোগ্য’।

    প্রযোজনা সংস্থা মূল কাহিনিতে বড় পরিবর্তন আনে, এমনকি নতুন প্লট টুইস্টও যোগ করে। পামুক মনে করেন, এতে তাঁর গল্পের মর্মই বদলে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন, গল্পের স্বত্ব ফিরে পেতে প্রযোজকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

    ‘সেই সময় দুঃস্বপ্ন দেখতাম’—নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন ওরহান পামুক। তিনি আরও যোগ করেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীকে আমার সামর্থ্যের তুলনায় অনেক টাকা দিতে হয়েছে। ভাবতাম, ওরা যদি ওভাবেই বানিয়ে ফেলে!’

    ২০২২ সালে তিনি মামলায় জয়ী হন। এরপর নতুন করে উদ্যোগ নেন—এবার শর্ত সাপেক্ষে, যাতে গল্পের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকে।
    অবশেষে চার বছর পর তিনি সন্তুষ্ট। আজ শুক্রবার থেকে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ৯ পর্বের সিরিজ ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    সাহিত্য থেকে পর্দা: এক দেরিতে পাওয়া সাফল্য
    ৭৩ বছর বয়সী পামুকের দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে এটি একটি নতুন অধ্যায়। দুই দশকের বেশি সময়ে লেখা তাঁর উপন্যাস, স্মৃতিকথা, প্রবন্ধ ও আলোকচিত্রের বই বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে। ২০০৬ সালে তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

    উপন্যাসটি ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। এতে এক মধ্যবিত্ত ব্যাচেলর কামালের আবিষ্ট প্রেমের গল্প বলা হয়েছে তরুণী বিক্রয়কর্মী ফুসুনকে কেন্দ্র করে। ভালোবাসার স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে কামাল নিত্যদিনের জিনিস—লবণদানি, চুলের ক্লিপ, কফির কাপ, এমনকি ৪ হাজার ২১৩টি সিগারেটের অবশিষ্টাংশ সংগ্রহ করে। উপন্যাসের চূড়ান্ত পর্বে সে এসব নিয়ে একটি জাদুঘর তৈরি করে।

    সাহিত্যের বাইরে গল্পটির আরেক জীবনও আছে। ২০১২ সালে পামুক ইস্তাম্বুলে বাস্তবেই ‘মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’ প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে উপন্যাসের নানা উপকরণ প্রদর্শিত হয়। পরে এ নিয়ে তথ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছে।

    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি
    ‘দ্য মিউজিয়াম অব ইনোসেন্স’–এর দৃশ্য। আইএমডিবি

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন নয়’
    ২০১৯ সালে একটি হলিউড প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন পামুক; কিন্তু প্রস্তাবিত চিত্রনাট্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ছিল; যেমন নায়িকা ফুসুনকে গর্ভবতী দেখানোর মতো সংযোজন।

    ‘অতিরিক্ত পরিবর্তন। এভাবে বদলালে বইটি আর আমার বই থাকে না’, বলেন পামুক।
    প্রায় আড়াই বছরের আইনি লড়াই শেষে তিনি চুক্তি বাতিল করেন। এরপর তুরস্কের প্রযোজনা সংস্থা এ ওয়াই ইয়াপিমের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।

    এবার তিনি আগাম অর্থ নেননি এবং চূড়ান্ত চিত্রনাট্য না হওয়া পর্যন্ত চুক্তিতেও সই করেননি। প্রতিটি পর্বের খসড়া নিজে পড়ে মতামত দিয়েছেন। ৯টি পর্বের প্রতিটি পাতায় প্রযোজক ও লেখক দুজনই সই করেন—চিত্রনাট্য যাতে অপরিবর্তিত থাকে।
    প্রযোজনা সংস্থার প্রধান কেরেম চাতাই জানান, চার বছরে সিরিজটি সম্পন্ন হয়েছে—তাঁর ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময় আর কোনো সিরিজে লাগেনি।

    নারীর দৃষ্টিকোণ ও অভিনয়
    উপন্যাস প্রকাশের পর তুরস্কের নারীবাদীরা পামুকের সমালোচনা করেছিলেন—গল্পটি পুরুষ চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয়েছে বলে। পামুক বলেন, ‘আমি মধ্যপ্রাচ্যের একজন পুরুষ—সব নারীবাদী সমালোচনা আমি মেনে নিই।’
    সিরিজটি পরিচালনা করেছেন নারী নির্মাতা যেনেপ গানি তান, যা নায়িকা ফুসুনের দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করেন পামুক।

    নায়ক কামালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তুর্কি তারকা সেলাহাতিন পাসালি, আর ফুসুন চরিত্রে তুলনামূলক নতুন মুখ ইয়েল কান্দেমির।

    সিরিজটি পামুকের জন্য আরেকটি ‘প্রথম’ এনে দিয়েছে—অভিনয়ে অভিষেক। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি নিজেই ‘ওরহান পামুক’ চরিত্রে উপস্থিত, যেখানে কামাল তাঁর গল্প শুনিয়ে যায়।

    তবে নিজের অভিনয় নিয়ে তিনি রসিকতা করে বলেন, ‘এটাকে অভিনয় বলা যায় না, কারণ আমি নিজের চরিত্রেই অভিনয় করেছি।’

    নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে

  • নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির এই স্মার্টফোনে ভিড়ের মধ্যেও স্বচ্ছন্দে কথা বলা যায়

    দেশের বাজারে ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’ মডেলের নতুন স্মার্টফোন এনেছে ইনফিনিক্স। ভয়েজপ্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির ফোনটি আশপাশের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে। ফলে যানজট, বাজার বা গণপরিবহনে থাকা অবস্থায় চারপাশের শব্দ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ফোনটির দাম ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৯ টাকা। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইনফিনিক্স বাংলাদেশ।

    সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬.৭৮ ইঞ্চি পর্দার ফোনটির রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ। ফলে ফোনটির পর্দায় সহজেই ভালো মানের ছবি ও ভিডিও দেখা যায়। মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসরে চলা ফোনটিতে ৪ গিগাবাইট র‍্যাম ও ৬৪ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে। মিলিটারি-গ্রেড শক রেজিস্ট্যান্স–সুবিধার ফোনটি প্রায় ৫ ফুট ওপর থেকে পড়ে গেলেও ভাঙে না বা ফোনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

    ফোনটিতে আলট্রালিংক ফ্রি কল প্রযুক্তি থাকায় আশপাশে নেটওয়ার্ক না থাকলেও স্বল্প দূরত্বে থাকা একই ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটে ফোনকল করাসহ বার্তা আদান–প্রদান করা যায়। আইপি৬৪ প্রযুক্তিনির্ভর ফোনটি ভিজলে নষ্ট হয় না, ধুলাও জমে না। ফলে হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালুর মধ্যেও ফোনটির স্পর্শনির্ভর পর্দা ভালোভাবে কাজ করে।

  • পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ

    রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান একটি বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁর মাসিক বেতন ৫৮ হাজার টাকা। এর মধ্যে ঘরভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৩৮ থেকে ৩৯ হাজার টাকা। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা–বাবাকে মাসে ১০ হাজার টাকা পাঠান তিনি। বাকি ৯-১০ হাজার টাকা খরচ করেন দৈনন্দিন বাজারের জন্য।

    কয়েক মাস আগেও বেতনের এই টাকায় টেনেটুনে হাবিবুরের সংসার চলে যেত। কিন্তু চার-পাঁচ মাস ধরে সংসারের ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। কারণ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তাঁর পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন হাবিবুর। এখন সেটাও বন্ধ। তারপরও ব্যয় সামলাতে পারছেন না। এখন প্রতি মাসে তাঁকে ঋণ করতে হচ্ছে।

    হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ৬-৭ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৯-১০ হাজার টাকা। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, বেগুন, পটোলের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

    বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    হাবিবুরের সঙ্গে কথা হয় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে। এরপর রাজধানীর জোয়ার সাহারা, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের পাশাপাশি মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।

    বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি।

    বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।
    লাইজু বেগম, গৃহকর্মী, আদাবর এলাকা

    ভোগাচ্ছে জ্বালানির দাম

    দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।

    দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।

    রাজধানীর আদাবর এলাকায় গৃহকর্মীর কাজ করেন লাইজু বেগম। তিনি বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্যান্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।’

    সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।

    ডিম-মুরগির দাম বেড়েছে

    সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। গত দুই সপ্তাহে বাজারে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গাড়িভাড়া বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন।

    এদিকে বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। গতকাল প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি সোনালি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছিল। পরে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়।

    সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।

    ঢাকার বিভিন্ন বাজারে গতকাল ছোট আকারের রুই মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

    এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।
    আব্বাস আকন্দ, সবজি বিক্রেতা, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট

    সবজির দাম চড়া

    বাজারে বর্তমানে আলু ছাড়া ৫০ টাকা কেজির নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। আর বেগুন, কাঁকরোলের মতো দু-তিনটি সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

    কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দৈনিক ১৫টি সবজির খুচরা দামের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে নয়টি সবজির দাম বেশি; আর দাম কম রয়েছে চারটি সবজির। দাম বেশি বেড়েছে দেশি টমেটো, মিষ্টিকুমড়া ও করলার। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা ও করলা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

    মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।

    খুচরা দোকানে এখন প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ৫ টাকা কম ছিল। গত এক সপ্তাহে বাজারে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট চলছে। অনেক সময় ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না।

    মূল্যবৃদ্ধির যেসব কারণ

    নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ দেখিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। তাঁরা জানান, গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে বেশ কিছু পণ্য ও কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ–সংকট থেকেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আর সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়তে শুরু করেছে।

    প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট চলছে। অনেক সময় ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে চায়। কিন্তু সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি। তবে ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলো ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে বোতলজাত তেলের দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে ভোক্তাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।

    রাজধানীর জোয়ার সাহারা বাজারের মুদি বিক্রেতা জালাল দেওয়ান বলেন, ‘বাজারে বোতলের সয়াবিন তেল নেই বললেই চলে। কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে গায়ের রেটে (এমআরপি) তেল বিক্রি করে। তাহলে গ্রাহকদের কাছে আমরা বেচব কত টাকায়।’

    বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, সভাপতি, ক্যাব

    মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ

    বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। কারণ, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায় মানুষ। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে দেশ। সাধারণত সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি থাকছে।

    মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ‘লাল’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়তে পারে।

    ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

  • পরকীয়ার জেরে সংসার ভাঙল মৌসুমী হামিদের

    মৌসুমী হামিদ, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বছর দুয়েক আগে পারিবারিক সিদ্ধান্তেই গাটছড়া বেঁধেছিলেন লেখক-নাট্যকার আবু সাইয়িদ রানার সঙ্গে। কিন্তু ভালোবাসার এ সংসার টিকল না স্বামীর পরকীয়ার জেরে! জানা গেছে, গত বছর নভেম্বর থেকে এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন না তারা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও আপাতত এ নিয়ে বিস্তারিত বলার পরিস্থিতিতে নেই বলে বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছ থেকে এড়িয়ে গেছেন মৌসুমী হামিদ।

    তবে একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রানার পরকীয়া নিয়ে গেল কয়েক মাস ধরেই নানা গুঞ্জন ভাসছে শোবিজে। নুসরাত তুবা নামে এক তরুণীর সঙ্গে রানার ঘনিষ্ঠতা নিয়েও শোনা যাচ্ছে নানামুখরোচক কাহিনী। মূলত এসব নিয়েই সংসারে অশান্তির সূত্রপাত। ভালোবাসার ঘরে সন্দেহের আনাগোনা।

    দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন মৌসুমী-রানা। পরিস্থিতি এতোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে এক পর্যায়ে সম্পর্কচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন রানা। ডিভোর্স লেটার পাঠান মৌসুমীকে। অনেকেই বলছেন, নিজের অপকর্ম ঢাকতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন রানা।জানা গেছে, রানা এবং তুবা একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজ করছেন।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌসুমী হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারা যা শুনেছেন, ঠিকই শুনেছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত বলার মতো মানসিক অবস্থায় নেই আমি। পরে কথা বলবো। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি পারিবারিক আয়োজনে মৌসুমী হামিদ ও আবু সাইয়িদ রানার বিয়ে হয়। তাদের এই অনুষ্ঠানে শোবিজ অঙ্গনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

     

  • পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

    আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করে একটি আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় সরকার। 

    আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ কথা জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

    সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকার শিক্ষার্থীদের মন থেকে ‘পরীক্ষা ভীতি’ শব্দটি দূর করতে চায়। এবারের এসএসসি ও সমমানের ব্যাচটি করোনাজনিত কারণে প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এটিই তাদের জীবনের প্রথম পূর্ণ সিলেবাসের পাবলিক পরীক্ষা।

    তিনি আরও বলেন, ‘সেকারণে পরীক্ষার হল যেন কোনোভাবেই আতঙ্কের কারণ না হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

    মাহদী আমিন আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাজপথে যে সৃজনশীলতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছে, তার প্রতিফলন পরীক্ষায় দেখা যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সহিষ্ণুতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশে নিরাপদ পানি, পর্যাপ্ত আলো-ফ্যান, স্বাস্থ্যকর টয়লেট ও জরুরি বিদ্যুৎ (আইপিএস বা জেনারেটর) ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। 

    এ ছাড়া ছাত্রীদের যাতায়াত শতভাগ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা সংক্রান্ত আইন ও আধুনিক তদারকি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতি রোধে ‘পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০’ সংশোধন করা হচ্ছে। নতুন আইনে ডিজিটাল ক্রাইম এবং কেন্দ্র সচিবদের অবহেলার বিষয়টি শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।

    তিনি আরও জানান, ‘যানজট এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের অনুরোধে এবার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই খুলে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে পরীক্ষার্থীরা সময়মতো আসন গ্রহণ করতে পারে।’

    খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অহেতুক কঠোরতা আমাদের লক্ষ্য নয়। তবে মূল্যায়ন যেন সঠিক হয় সেজন্য এবার পরীক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও রেন্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নের মান যাচাই করা হবে।

    কোচিং সেন্টার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্লাসরুমের শিক্ষা কার্যক্রম উন্নত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্লাসরুমে পাঠদান ফলপ্রসূ হলে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এমনিতেই হারাবে। তবে পরীক্ষার সময় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকা- বা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

    সারাদেশে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। বিশেষ করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
     
    শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাসিমুখে কেন্দ্রে যাওয়ার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবার প্রতি শুভকামনা জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

     

  • পর্দার সেই মায়াবী চোখ—কবরীর অজানা গল্পগুলো জানেন কি

    বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দায় যখন মিষ্টি এক হাসি ভেসে উঠত, দর্শকের হৃদয় যেন নিজে থেকেই নরম হয়ে যেত। সেই হাসির নাম কবরী। ‘মিষ্টি মেয়ে’—এই একটি শব্দেই যেন ধরা পড়ে তাঁর সব পরিচয়, তাঁর তারকাখ্যাতি, তাঁর অভিনয়ের জাদু। ১৭ এপ্রিল ছিল তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী, ঠিক ২০২১ সালের এই দিনে তাঁর পৃথিবীর ভ্রমণ শেষ হয়। তাকে স্মরণ করে ফিরে দেখা—একটি জীবন, একটি সময়, এক অনন্য শিল্পীর গল্প।

    সারাহ বেগম কবরী
    সারাহ বেগম কবরী

    ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্ম নেওয়া মিনা পাল—যিনি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন সারাহ বেগম কবরী, যাঁর শৈশবের অনেকটা সময় কেটেছে ফিরিঙ্গিবাজারে। আলকরণ স্কুলে পড়াশোনা, তারপর জে এম সেন হাইস্কুল। ছোটবেলার সেই সাদামাটা জীবনের গল্পে ছিল সংগ্রামের ছোঁয়া—রাতে বালিশের নিচে কাপড় রেখে ইস্তিরি করার স্মৃতি আজও অনেককে স্মৃতিকাতর করে।

    সংস্কৃতিমনা পরিবারে বেড়ে ওঠা কবরীর শিল্পী হয়ে ওঠা যেন ছিল সময়েরই অপেক্ষা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হিসেবে মঞ্চে ওঠা, তারপর টেলিভিশন—শেষমেশ সিনেমা। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে তাঁর রুপালি পর্দায় আগমন। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪। কিন্তু সেই প্রথম পথচলাই যেন বলে দিয়েছিল—বাংলা সিনেমা পেয়েছে এক অনন্য মুখ।

    ষাটের দশকেই কবরীর উত্থান ছিল চোখে পড়ার মতো। ‘জলছবি’, ‘বাহানা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরী’, ‘যে আগুনে পুড়ি’—একটির পর একটি ছবিতে কবরী হয়ে উঠলেন দর্শকের প্রিয় মুখ। তাঁর চোখের ভাষা, সংলাপ বলার ভঙ্গি, আর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় তাঁকে দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলে, জায়গা করে নেন মানুষের মনে।

    সত্তরের দশকে এসে সেই জনপ্রিয়তা পায় নতুন মাত্রা। ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’—এরপর ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘সারেং বৌ’, ‘সুজন সখী’, ‘পারুলের সংসার’, ‘রংবাজ’, ‘দেবদাস’, ‘আগন্তুক’, ‘বধূ বিদায়’—প্রতিটি ছবিতে তিনি যেন নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করেছেন। ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ তাঁকে এনে দেয় অভিনয়ের এক অনন্য উচ্চতা, যেখানে তিনি শুধু নায়িকা নন, হয়ে ওঠেন এক গভীর শিল্পীসত্তার প্রতিনিধি।

    সারাহ বেগম কবরী
    সারাহ বেগম কবরী
     

    উর্দু ছবি ‘বাহানা’ কিংবা খান আতাউর রহমানের ‘সোয়ে নদীয়া জাগে পানি’তেও তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে—ভাষা বা ঘরানার সীমা তাঁকে আটকে রাখতে পারে না। রোমান্টিক হোক বা সামাজিক, প্রতিটি চরিত্রে তিনি ছিলেন সাবলীল। এ কারণেই সাধারণ মানুষই তাঁকে ভালোবেসে নাম দিয়েছিল—‘মিষ্টি মেয়ে’।

    পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন কবরী। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে তাঁর জুটি ছিল দর্শকের চোখে স্বপ্নের মতো। পাশাপাশি ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল, বুলবুল আহমেদ—সবার সঙ্গে কাজ করে তিনি তৈরি করেছেন এক সমৃদ্ধ চলচ্চিত্রভুবন। বিশেষ এক রেকর্ডও রয়েছে তাঁর—বাংলাদেশের একমাত্র অভিনেত্রী, যাঁর বিপরীতে অভিষেক হয়েছিল পাঁচ নায়কের: উজ্জ্বল, ফারুক, আলমগীর, সোহেল রানা ও জাফর ইকবাল।

    ‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
    ‘সারেং বৌ’ ছবিতে কবরী ও ফারুক, ছবি: সংগৃহীত

    তবে কবরী নিজেকে শুধু অভিনয়ের মধ্যেই আটকে রাখেননি। ২০০৫ সালে ‘আয়না’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে পরিচালক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির কাজ শুরু করেছিলেন—যেখানে তিনি ছিলেন অভিনেত্রী, নির্মাতা ও প্রযোজক—তিন ভূমিকাতেই। ছবিটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেলেও তাঁর স্বপ্নের বিস্তারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এতে।

    ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ভারতে গিয়ে সভা-সমিতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বক্তব্যের মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়ে তোলেন। একজন শিল্পীর পাশাপাশি একজন দেশপ্রেমিক মানুষের যে দায়বদ্ধতা—কবরী তা পূর্ণ করেছেন নিঃসন্দেহে।

    কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
    কবরী ও বাংলাদেশি সিনেমার সোনালী দিনের ৫ নায়ক
     

    ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন পাঁচ সন্তানের মা। প্রথমে চিত্ত চৌধুরী, পরে সফিউদ্দীন সরোয়ারের সঙ্গে তাঁর বিবাহিত জীবন—দুই ক্ষেত্রেই বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের ওঠাপড়া কখনো তাঁর শিল্পীসত্তাকে থামাতে পারেনি। রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নারীর অধিকার ও সমাজসেবামূলক নানা কর্মকাণ্ডে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

    মাত্র ১৩ বছর বয়সে  ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী
    মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ ছবিতে কাজ করেছিলেন কবরী

    ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনী ‘স্মৃতিটুকু থাক’ যেন তাঁর জীবনযাত্রারই একটি প্রতিচ্ছবি। জীবদ্দশায় তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, ঋষিজ পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা—যার মধ্যে রয়েছে আজীবন সম্মাননাও।
    কবরীর পছন্দের জগৎও ছিল বৈচিত্র্যময়। সোফিয়া লরেন থেকে অড্রে হেপবার্ন, উত্তম কুমার থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়—বিশ্ব ও বাংলা সিনেমার সেরা তারকারাই ছিলেন তাঁর প্রিয়। সংগীতে মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমীন—এই তালিকাও তাঁর রুচির গভীরতার সাক্ষ্য দেয়। আর একটি অপূর্ণ স্বপ্ন—অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে অভিনয়—যা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে যায়।

    ‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুক
    ‘সুজন সখী’ ছবিতে কবরী ও ফারুকছবি: সংগৃহীত

    ২০২১ সালের ১৭ এপ্রিল, করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। বনানী কবরস্থানে তাঁকে শায়িত করা হয়। শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ছিলেন সরব—ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে, আলো থেকে কখনোই দূরে নন।

    বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী
    বিশেষ ফটোশুটে সারাহ বেগম কবরী

    সহশিল্পীদের চোখে তিনি ছিলেন আদর্শ। উজ্জ্বল বলেছিলেন—একজন বাঙালি নায়িকার সংজ্ঞাই ছিলেন কবরী। সুজাতা তাঁকে দেখেছেন শক্তিশালী ও স্পষ্টবাদী একজন অভিনেত্রী হিসেবে। আর সোহেল রানার কথায়—‘শত বছরে একজন কবরীই জন্মায়।’

  • পলিটেকনিকে ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ এক বছর কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা

    সভায় আলোচনা হয় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোয় বর্তমানে চার বছর মেয়াদি এই ডিপ্লোমা কোর্সে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। আগে এই কোর্স ছিল ৩ বছর মেয়াদি। কিন্তু ৪ বছর করা হলেও সিলেবাসের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। কোর্সের মেয়াদ তিন বছরের করা হলে শিক্ষার্থীরা বর্তমান সময় থেকে এক বছর আগেই কর্মজীবনে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন।

    এ ছাড়া সভায় কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনে নতুন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ‘মডেল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ গড়ার কথাও উঠে আসে।

    বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্সের মেয়াদ এক বছর কমিয়ে তিন বছর করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগে এক সভায় এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। অবশ্য, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে এই পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

    সভায় উন্নয়ন কর্মসূচি সততা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী।

    সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ বিভাগের ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • পাঁচ নারীর সঙ্গে চ্যাট, প্রেমিকের প্রতারণার কথা জানালেন বলিউড অভিনেত্রী

    বলিউড অভিনেত্রী শানায়া কাপুর সম্প্রতি এক পডকাস্টে নিজের অতীত প্রেমজীবনের এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা খোলাখুলি জানিয়েছেন। বিদেশ ভ্রমণে থাকা অবস্থায় প্রেমিকের ফোনে একসঙ্গে পাঁচ নারীর সঙ্গে বার্তা আদান-প্রদানের বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সেটিই ছিল সম্পর্কের সবচেয়ে ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা।

    শানায়া কাপুর অভিনীত নতুন ছবি ‘তু ইয়া ম্যায়’ মুক্তি পেয়েছে আজ শুক্রবার। ছবি প্রচারণায় ব্যস্ত শানায়া রিলেশনসশিট অ্যাডভাইস পডকাস্টে হাজির হয়ে এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলেন। সেখানে তিনি বিশ্বাসভঙ্গ, আবেগঘন প্রতারণা ও সম্পর্ক ভাঙনের পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরেন।

    ‘পারফেক্ট’ প্রেম, তারপর ধাক্কা

    শানায়া জানান, তখন তিনি বিদেশ সফরে ছিলেন তাঁর তৎকালীন প্রেমিকের সঙ্গে। সম্পর্ক নিয়ে তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। ‘আমি ভাবছিলাম, এটাই সেই সম্পর্ক। এত ভালো যেন সত্যি হওয়ার মতো নয়’, বলেন শানায়া।

    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে
    শানায়া কাপুর। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

    ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে সাধারণ একটি মুহূর্তে। রাতের খাবারের জন্য বের হওয়ার আগে তাঁর ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যায়। প্রেমিকের ফোন দিয়ে ক্যাব বুক করতে গিয়ে একটি নোটিফিকেশন চোখে পড়ে—প্রেমিকের সাবেক প্রেমিকার বার্তা। কৌতূহল ও সন্দেহ থেকে তিনি চ্যাট খুলে দেখেন, যা দেখে তিনি বিস্মিত ও আহত হন।
    একের পর এক বার্তা শানায়া বলেন, প্রথম চ্যাটের পরই আরেকটি, তারপর তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম—এভাবে পাঁচ নারীর সঙ্গে একই ধরনের বার্তা আদান-প্রদান দেখতে পান তিনি। ‘ও এমনভাবে কথা বলছিল, যেন সে একেবারেই সিঙ্গেল’, যোগ করেন তিনি।
    শানায়া দ্রুত চ্যাটগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের পাঠান পরামর্শ চেয়ে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী অনন্যা পান্ডে।

    শানায়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অনন্যা তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। ‘অনন্যা বলছিল, ট্রেনে উঠে চলে এসো, আমরা কাছাকাছিই আছি’, বলেন শানায়া। কিন্তু বিদেশে একা থাকার অনিশ্চয়তা তাঁকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
    শানায়া বলেন, ‘আমি কীভাবে হঠাৎ ট্রেনে উঠে চলে যাব? কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পুরো ডিনারে আমি ভান করছিলাম সব ঠিক আছে।’

    শানায়া জানান, পরবর্তী তিন দিনও বাইরে ঘোরাফেরা, ডিনার—সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে গেলেও ভেতরে ভেতরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন।
    অবশেষে প্রেমিক বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঠিক নেই। শানায়ার দাবি, তাঁকে শান্ত করতে প্রেমিক দামি এক জোড়া দুল কিনে দেন। শানায়া সেটিকে রসিকতার সুরে নাম দেন ‘গিল্টি ইয়াররিংস’।

     

    পরে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে মজার ছলে শানায়া বলেন, দুলটি এখনো তাঁর কাছে আছে এবং মাঝেমধ্যে পরেনও—‘আমি তো এটা অর্জন করেছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

    ‘শুধু মেসেজিং’—কিন্তু শানায়ার মতে তা নয়, প্রেমিকের দাবি ছিল, এটি কেবল বার্তা আদান-প্রদান, শারীরিক কোনো সম্পর্ক হয়নি। কিন্তু শানায়ার কাছে সেটিই ছিল প্রতারণা, যা তাঁর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল।

    হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

  • পাঁচ মিনিটে ২ গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল

    ব্রাজিল ৩-১ ক্রোয়েশিয়া

    বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে অরল্যান্ডোর ক্যাম্পিং স্টেডিয়ামে শেষ প্রীতি ম্যাচটি খেলল ব্রাজিল। তাতে ফল সন্তোষজনক। ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।

    আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারের একাদশে ছয়টি পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তি। তাতে ব্রাজিলের খেলায় ধার ফিরতে শুরু করে। যদিও প্রথম গোলটি ব্রাজিল পেয়েছে একটু দেরিতে। প্রথমার্ধে যোগ করা সময়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করেন দানিলো।

    ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানিয়েছিলেন, দানিলোর বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা নিশ্চিত। আজ তাঁর পারফরম্যান্সে ‍খুশিই হওয়ার কথা আনচেলত্তির। ম্যাচের ৮৪ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে হয়েছে আরও ৩ গোল।

    ৮৪ মিনিটে ফ্রুকের পাস থেকে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি করেন লাভরো মেজর। এর ৪ মিনিট পর পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলকে আবারও এগিয়ে দেন ইগর থিয়াগো। যোগ করা (৯২ মিনিট ) সময়ে করা গোলটি গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির। অর্থাৎ, ৫ মিনিটের মধ্যে ক্রোয়েশিয়ার জালে দুই গোল করেছে ব্রাজিল।

    কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই
    কাসেমিরো ও লুকা মদরিচের মধ্যে বল দখলের লড়াই, রয়টার্স
     

    রদানিলোর গোলে বড় অবদান ভিনির। ম্যাথিয়াস কুনেহার পাস থেকে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল বানান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। ক্রোয়েশিয়া বিরতির পর একটু দাপট বিস্তার করে খেলেছে, গোলটি তারই ফল। তবে গোল হজম করার পর ব্রাজিল আবারও খেলার ধার বাড়ায়। ক্রোয়াটদের বক্সে এনদ্রিক ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কুনেহা ও জোয়াও পেদ্রো একাধিকবার ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচের পরীক্ষা নেন।

    বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার আগে শেষ ম্যাচ বলেই হয়তো এ ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা একটু বেশিই করেন আনচেলত্তি। আটজন বদলি নামান।

    ফ্রান্স ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে নেইমারের নামে দর্শকদের স্লোগান। প্রথমার্ধে একটু কম হলেও বিরতির পর নেইমারের নামে স্লোগানে আওয়াজ বেড়েছে।

    গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি
    গোল পেয়েছেন ব্রাজিলের মার্তিনেল্লি, রয়টার্স

    মারাকানা স্টেডিয়ামে আগামী ৩১ মে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে ৬ জুন মিসরের বিপক্ষে বিশ্বকাপের আগে খেলবে শেষ প্রীতি ম্যাচ। এ দুটি ম্যাচে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষণা করা স্কোয়াড থেকে একাদশ গড়বেন আনচেলত্তি। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে আগামী ১৮ মে।

  • পাকিস্তান প্রমাণ করল তারা কেন পাকিস্তান

    ঢাকা
  • পাকিস্তান ম্যাচের আগে প্রেমিকাকে নিয়ে আলোচনায় হার্দিক, কে এই মাহিকা

    টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আজ। দুই প্রতিবেশী ‘হাই ভোল্টেজ’ ম্যাচ খেলতে এখন আছে শ্রীলঙ্কায়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এবারের সফরে খেলোয়াড়দের তাঁদের স্ত্রী বা প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে আছেন তাঁর প্রমিকা মাহিকা শর্মা। খেলার আগে নতুন করে আলোচনায় এই তারকা জুটি।

    ভালোবাসা দিবসে বিশেষ চমক
    এদিকে ভালোবাসা দিবসে হার্দিক পান্ডিয়া প্রেমিকাকে উৎসর্গ করে ট্যাটু করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায়। ট্যাটু আর্টিস্ট সানি ভানুশালির টিম জানিয়েছে, শুরুতে ক্রিকেটারের ভাবনা ছিল খুব সূক্ষ্মভাবে প্রেমিকাকে ট্রিবিউট দেওয়া। কিন্তু আলোচনার পর ধারণাটি আরও গভীর অর্থবহ রূপ নেয়। শুধু একটি অক্ষর নয়, পুরো ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে দুটি চিতাবাঘের মোটিফ দিয়ে। একটি চিতা শক্তি, আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এক চিতা প্রথমটির চারপাশে ঘুরে গিয়ে সূক্ষ্মভাবে ‘এম’ অক্ষরের আকৃতি তৈরি করেছে। এই ‘এম’ দিয়ে যে মাহিকাকে বোঝানো হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

    [caption id="attachment_267288" align="alignnone" width="708"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ট্যাটুশিল্পীর ভাষায়, এটি নাকি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে দুজন একে অপরের শক্তিকে আরও বড় করে তোলে।
    স্ত্রী নাতাশা স্তানকোভিচের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর হার্দিক পান্ডিয়া সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন গায়িকা জেসমিন ওয়ালিয়ার সঙ্গে। সেই সম্পর্ক ভাঙার খবরের পর এবার মডেল ও অভিনেত্রী মাহিকা শর্মার সঙ্গে প্রেম করছেন হার্দিক।

    [caption id="attachment_267287" align="alignnone" width="715"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    দিল্লির মেয়ে মাহিকা
    মাহিকার বেড়ে ওঠা দিল্লিতে। নেভি চিলড্রেন স্কুল থেকে স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি কলেজে অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনায় ছিলেন মেধাবী—দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০ সিজিপিএ। পড়াশোনার সময়ই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইন্টার্নশিপ করেছেন, যার মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শিক্ষা ও তেল–গ্যাসসংক্রান্ত কৌশল–পরিকল্পনা।

    [caption id="attachment_267286" align="alignnone" width="718"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    শিক্ষাজীবন শেষে বিনোদন দুনিয়ায় পা রাখেন মাহিকা। তিনি অভিনয় ও মডেলিং শুরু করেন। ভারতীয় র‌্যাপার রাগার এক মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। এ ছাড়া ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অরল্যান্ডো ভন আইন্সিডেলের ‘ইনটু দ্য ডাক’ ও ওমঙ্গ কুমারের ‘নারেন্দ্র মোদি’ (২০১৯) ছবিতে, যেখানে প্রধান ভূমিকায় ছিলেন বিবেক ওবেরয়। বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপন চিত্রেও কাজ করেছেন তিনি।

    [caption id="attachment_267285" align="alignnone" width="722"] মাহিকা শর্মা। অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে[/caption]

    ফ্যাশন দুনিয়ায়ও সফল মাহিকা। তিনি হেঁটেছেন ভারতের শীর্ষ ডিজাইনারদের র‌্যাম্পে—অনীতা দোংরে, রিতু কুমার, তরুণ তাহিলিয়ানি, মনীশ মালহোত্রা ও অমিত আগারওয়ালের মতো নামকরা ডিজাইনারদের শোতে। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান ফ্যাশন অ্যাওয়ার্ডসে জিতেছেন মডেল অব দ্য ইয়ার (নিউ এজ) খেতাব। এ ছাড়া এল ম্যাগাজিনও তাঁকে মডেল অব দ্য সিজন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

    হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

  • পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে সুপার এইটে ভারত

    আজকাল ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে যা হয়, কলম্বোতে সেটিই হলো। ৬ হাজার কোটি টাকার ম্যাচে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়তে পারল না পাকিস্তান। ঈশান কিষানের ৭৭ রানের তাণ্ডবে ১৭৫ রান করেছিল ভারত। এরপর পাকিস্তানকে ১১৪ রানে অলআউট করে ৬১ রানে ম্যাচটি জিতল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। টানা তৃতীয় জয়ে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুপার এইটে উঠে গেল সূর্যকুমার যাদবের দল।

    এই হারে পাকিস্তানের সুপার এইটের অপেক্ষা বাড়ল। শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে না হারলেই শেষ আটে উঠবে পাকিস্তান। তবে হেরে গেলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব খেলেই দেশে ফিরতে হবে পাকিস্তানকে। ৪ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করা যুক্তরাষ্ট্র নেট রান রেটে পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে।

    ১৮তম ওভারের শেষ বলে উসমান তারিককে বোল্ড করে পাকিস্তানের ইনিংসের যতি টেনেছেন হার্দিক পান্ডিয়া।

    এই জয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত।

    ১৭৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শূন্য রানেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ওভারে যশপ্রীত বুমরা ২ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের স্কোরটাকে ১৩/৩ বানিয়ে দেন। ৩৪ রানে বাবর আজমের বিদায়ের পর যা একটু চেষ্টা করেছিলেন উসমান খান। ৪৪ রান করে উসমান যখন ফিরলেন ৭৩ রানে ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের। এরপর শুধু ব্যাবধানই কমাতে পেরেছে দলটি।

    বল হাতে নেওয়া ভারতের সাত বোলারের ছয়জনই উইকেট পেয়েছেন। দুই পেসার পান্ডিয়া ও বুমরা এবং দুই স্পিনার অক্ষর ও বরুণ ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)
    পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)।
    ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী।
  • পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ ঘণ্টার অভিযান, নিহত ১৪৫

    পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর টানা ৪০ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে অন্তত ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটাসহ গাওদার, মাসতাং ও নোশকি জেলায় একযোগে বন্দুক ও বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলায় মোট ৪৮ জন নিহত হন। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ১৭ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক।

    পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শনিবার(৩১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, হামলাকারীরা সবাই সাধারণ বেসামরিক পোশাক পরিহিত ছিল। এই ছদ্মবেশেই তারা জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে সহজে মিশে যেতে সক্ষম হয়।

    হামলার দায় স্বীকার করেছে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ বেলুচ স্বাধীনতাকামী সংগঠন বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। ৩০ জানুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ‘অপারেশন ব্ল্যাক স্টর্ম’-এর আওতায় তারা পাকিস্তানের সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

    বিএলএ প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিওতে কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনে শক্তিশালী আইইডি (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। সংগঠনটি দাবি করেছে, অভিযানে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর ৮৪ জন সদস্যকে হত্যা এবং ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এসব দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

    বিএলএ-এর দায় স্বীকারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বেলুচিস্তানজুড়ে সংগঠনটির বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার মোট ৪০ ঘণ্টা ধরে এই অভিযান চালানো হয়, যাতে ১৪৫ জন বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হন।

    উল্লেখ্য, ভৌগোলিকভাবে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বেলুচিস্তান খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এটি দেশটির সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলগুলোর একটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকেই প্রদেশটির বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এসব আন্দোলন দমনে ইসলামাবাদ বরাবরই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযান পাকিস্তানের নিরাপত্তা কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেছে। এর আগে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত হওয়ার ঘটনা বেলুচিস্তানের ইতিহাসে বিরল।

    সূত্র : রয়টার্স

     

  • পাকিস্তানের বাঁচা–মরার ম্যাচে ফারহানের রেকর্ড সেঞ্চুরি

    জিতলে সুপার এইট, হারলে বাদ—নামিবিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তানের আজ সমীকরণ এমন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন পাকিস্তান ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান।

    দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন ফারহান। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ।

    ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাতুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩টি সেঞ্চুরি দেখা গেল।

    আজ ৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে।

    সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। তাঁর সেঞ্চুরির কল্যাণে পাকিস্তান তুলতে পেরেছে ১৯৯ রানের বড় সংগ্রহ।

    ফারহানকে আজ সঙ্গ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাটসম্যান। শেষদিকে শাদাব খান ২২ বলে ৩৬ রান করে ছিলেন অপরাজিত। এর আগে ২৩ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়েছেন অধিনায়ক সালমান আগা।

    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান
    পাকিস্তানের হয়ে ওপেন করেছেন সাইম ও ফারহান, আইসিসি
     

    সেঞ্চুরিয়ান ফারহানের শুরুটা আজ তেমন একটা সাবলীল ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৩০ রান তিনি করেছেন ২৭ বলে, এরপর হাত খুলেছেন ফারহান। পরের ৭০ রান করেছেন ৩১ বলে।

    এই সেঞ্চুরিতে এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও হয়েছেন ফারহান। তাঁর রান এখন ২২০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এইডেন মার্করামের, ১৭৮ রান।

  • পাবনায় হামের টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড়, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ভোগান্তি

    পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া অনেক শিশু টিকাদানকেন্দ্রে আসছে। যদিও কিছুদিন আগে টিকার ঘাটতি ছিল, তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে যে সেই ঘাটতি পূরণ হয়েছে।

    জেলা শহরে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয় পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভা ক্যাম্পাসের এক কোনায় এই টিকাদানকেন্দ্র। একতলা ভবনের সামনে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চলছে। পুরো জায়গাটি মানুষে ঠাসা। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা না পাওয়া অনেক অভিভাবক শিশুদের নিয়ে এসেছেন টিকা দিতে। ভিড় সামলাতে টিকাদান কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে।

    শহরের শালগাড়িয়া মহল্লা থেকে খাইরুল ইসলাম তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে সুলতান মোহাম্মদকে নিয়ে হামের টিকা দিতে এসেছেন। তিনি জানান, ছেলের ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে টিকাদানকেন্দ্রে এসেছিলেন। কিন্তু তখন হামের টিকা ছিল না। ১৭ মাস বয়সে দ্বিতীয়বার এসেও হামের টিকা পাননি। টিকা আসার খবরে আজ আবার এসেছেন এবং ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছেন।

    গোবিন্দা মহল্লার সালেহা খাতুন একই কথা জানান। তিনিও দুবার ফেরত গিয়ে আজ মেয়েকে টিকা দিতে পেরেছেন। সালেহা খাতুন বলেন, ‘হাম নিয়ে খুব ভয়ে আছি। মেয়ে টিকা পাইছিল না, খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টিকা পেয়ে শান্তি লাগছে।’ শিবরামপুর মহল্লার জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী বলেন, তাঁর মেয়ের আজ পোলিও টিকার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু এখান থেকে বলা হয়েছে, এই টিকা নেই। টিকা না পেয়ে তিনি মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

    টিকাদানকেন্দ্রের কর্মী শাহারা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে মাঝেমধ্যে হামের টিকার ঘাটতি হচ্ছিল। এক মাস ধরে পোলিওর টিকা (ওপিভি) নেই। গতকাল বুধবার বিকেলে ২৬৪ ভায়াল হামের টিকা এসেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। টিকা আসার খবরে আজ প্রথম দিন মাত্র দুই ঘণ্টায় প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ টিকা আছে, তাতে আগামী দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।

    পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস হামের টিকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা পায়নি। তবে এখন টিকা এসেছে, যা দিয়ে দুই থেকে চার দিন চালানো যাবে। এরপর আবার টিকা লাগবে। অন্যদিকে পোলিওর টিকা প্রায় নেই, অনেক শিশু ফিরে যাচ্ছে। এই টিকারও সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে। জেলায় হামে আক্রান্ত শিশু বেড়ে যাওয়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। তাঁরা টিকার জন্য টিকাদানকেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই মুহূর্তে টিকার ঘাটতি হলে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ব।’

    এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত মোট ১৫৭ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ১১ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১৫ জন। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ১৩ শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৩ জন।

    পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় টিকার চাপ বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের কাছে ২১ হাজার ৪৯০ ডোজ টিকা মজুত আছে। আগে টিকার যে ঘাটতি ছিল, এখন তা আর নেই। আগামী রোববার আবার টিকা আসার কথা রয়েছে। আশা করছি, টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

  • পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসার বাড়ছে, লক্ষণগুলো কী

    পুরুষদের মূত্রথলির নিচে একটি ছোট গ্রন্থি থাকে, যার নাম প্রোস্টেট। এই গ্রন্থির কোষ অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সেটি প্রোস্টেট ক্যানসার বা টিউমারে পরিণত হয়।

    ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা
  • পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণে দেখা যাবে রক্তিম চাঁদ, কবে...

    আগামী ৩ মার্চ আকাশে এক মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। ওই দিন পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ চলাকালীন সময়ে চাঁদ অদ্ভুত লালচে রং ধারণ করবে। এই ঘটনা ব্লাড মুন বা রক্তাভ চাঁদ হিসেবেও পরিচিত। ২০২৬ সালে এটিই হবে একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। পরবর্তী সময় এমন দৃশ্য দেখার জন্য ২০২৮ সালের শেষ ভাগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, তখন সূর্যের সরাসরি আলো চাঁদে পৌঁছাতে বাধা পায়। তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর একটি অংশ প্রতিসারিত হয়ে চাঁদের অন্ধকার পৃষ্ঠে পড়ে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল নীল রঙের তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বেশি বিচ্ছুরিত করে দেয় ও লাল রঙের দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেয়। এই কারণেই গ্রহণ চলাকালীন চাঁদকে তামাটে বা লালচে দেখায়। নাসার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশ যেমন লাল দেখায়, এটিও ঠিক একই বৈজ্ঞানিক কারণে ঘটে থাকে।

    ২০২৬ সালের এই চন্দ্রগ্রহণ বিশ্বের একটি বড় অংশ থেকে দেখা যাবে। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে ১২ থেকে ১৩ মিনিট স্থায়ী হবে এই চন্দ্রগ্রহণ। সর্বোচ্চ চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে। উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় ভোরবেলা সবচেয়ে ভালো দৃশ্যমান থাকবে। আর পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে সন্ধ্যায় লালচে চাঁদ দেখা যাবে।

    সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখার জন্য চোখের বিশেষ সুরক্ষার প্রয়োজন হয় না। এটি খালি চোখেই সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে দেখা যায়। তবে একটি সাধারণ বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যাবে। শহর থেকে দূরে যেখানে আলোক দূষণ কম, সেখান থেকে ব্লাড মুনের লাল আভা সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

    পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ মূলত তিনটি প্রধান ধাপে সম্পন্ন হয়। পেনামব্রাল পর্যায়ে চাঁদ পৃথিবীর হালকা ছায়ার ভেতর প্রবেশ করে, এতে চাঁদের উজ্জ্বলতা কিছুটা কমে যায়। এরপরে আংশিক গ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ যখন পৃথিবীর মূল অন্ধকার ছায়ার ভেতর প্রবেশ করতে শুরু করে। এরপরেই ঘটবে পূর্ণগ্রাস (টোটালিটি)। এই পর্যায়ে চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায় এবং লালচে রং ধারণ করে।

    সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

  • পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়লেন আর্টেমিসের নভোচারীরা

    পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় মানুষের ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস–২ চন্দ্রাভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী।

    নভোচারীরা যখন ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চাঁদের পেছন দিকে যায়, তখন পৃথিবীর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশ ঘুরে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে তাঁদের আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

    আর্টেমিস–২ অভিযানের চারজন নভোচারী গতকাল সোমবার যখন চাঁদের পেছন দিকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় পৌঁছান, তখন পৃথিবী থেকে তাঁদের দূরত্ব ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল। এর আগে পৃথিবী থেকে এত দূরে কোনো মানুষ ভ্রমণ করেননি। এর মধ্য দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে আর্টেমিস–২ অভিযান।

    আগের রেকর্ডটি প্রায় ৫৬ বছর আগের। আল–জাজিরার খবর বলছে, ১৯৭০ সালের এপ্রিলে নাসার অ্যাপোলো–১৩ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী জায়গায় ভ্রমণ করেছিলেন। ওই সময় তাঁরা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার বা প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরে গিয়েছিলেন।

    ১ এপ্রিল  ‘আর্টেমিস-২’ অভিযানে চার নভোচারী কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে এ ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেন। সর্বশেষ চাঁদে নভোচারী গিয়েছিল ১৯৭২ সালে। ওই সময় অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবার প্রথম কোনো মানুষ চাঁদের পথে রওনা হলেন।

    নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী
    নাসার আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া চার নভোচারী, ছবি: নাসার সৌজন্যে
     

    এই চার নভোচারী হলেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন।  

    চাঁদের পেছন দিক থেকে ফিরে নাসার নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে আবারও যোগাযোগ স্থাপিত হওয়ার পর ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, ‘পৃথিবী থেকে আবারও শব্দ শুনতে পাওয়াটা খুবই আনন্দের।’

    নভোচারীরা সেখানে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। আর্টেমিস–২ অভিযানে থাকা ওরিয়ন নভোযানের পাইলট ভিক্টর গ্লোভার বলেন, ‘আমরা যেন কল্পবিজ্ঞানের জগতে চলে গিয়েছিলাম। খুবই অপার্থিব লেগেছে।’

    তাঁদের এ নতুন রেকর্ড ভবিষ্যতে মানুষ ভেঙে দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন আর্টেমিস–২–এর নভোচারীরা।

    আর্টেমিস–২ অভিযানে অংশ নেওয়া নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। ১০ দিনের অভিযানে তাঁরা চাঁদের চারপাশে ঘুরে আবার পৃথিবীতে ফিরবেন। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে ভ্রমণ করছেন।

    মনুষ্যবাহী এই পরীক্ষামূলক যাত্রার মূল লক্ষ্য চাঁদে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করা। নাসা ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে আবারও নভোচারী অবতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

    বিবিসিআল–জাজিরা
  • প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বাড়ালো ভারত

    প্রতিরক্ষা খাতে এবারও বাজেট বাড়ালো ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় করা হবে পৌনে ৮ লাখ কোটি রুপিরও বেশি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি। উন্নত প্রযুক্তির নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে কাজে লাগবে এসব অর্থ। এছাড়া, নৌবহর উন্নয়ন ও সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্যও বরাদ্দ হয়েছে বাজেট। মওকুফ করা হবে বিমান তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের শুল্কও।

    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পার্লামেন্টে নতুন অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন দেশটির কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারামান।

    মূলত, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করতে প্রতিরক্ষা খাতে প্রতি বছর বাজেট বাড়িয়ে চলেছে ভারত। ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও হয়নি এর ব্যতিক্রম। নতুন এ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি রুপি, যা গেল বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ কোটি বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট ছিল ৬ লাখ ৮১ হাজার কোটি রুপি। 

    এর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি মূলধন খাতে এবং রাজস্ব খাতে ব্যয় হবে প্রায় ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি। এই দুই খাতে এবার বরাদ্দ বেড়েছে যথাক্রমে ২১ দশমিক ৮৪ ও ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ। নতুন বাজেটে বেশ খুশি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং বলেন, 'প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের খবরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খুবই খুশি। আমরা এবার যা বরাদ্দ পেয়েছি, তা গেল বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, 'এই বাজেট জনগণের অনুভূতি ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। এটি প্রধানমন্ত্রী মোদির ২০৪৭ সালের মধ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উন্নত ভারত গঠনের যে লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণেও একটি দৃঢ় ভিত্তি প্রদান করে।'

    ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্যমতে, সশস্ত্র বাহিনী আধুনিকীকরণে বরাদ্দ হয়েছে ২ দশমিক ১৯ লাখ কোটি রুপি। রাফাল বিমান, আধুনিক সাবমেরিন ও ড্রোনসহ নানা যুদ্ধাস্ত্র কিনতে ব্যয় হবে এ অর্থ। এছাড়া নৌবহর আধুনিকায়নের জন্যও রয়েছে উচ্চ বাজেট। 

    বলা হচ্ছে— বেসামরিক, প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য বিমানের উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের ওপর মওকুফ করা হবে শুল্ক। এছাড়া বিমান যন্ত্রাংশের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও কাঁচামালের ওপর দেয়া হবে শুল্কছাড়। সবমিলিয়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকীকরণই এখন নয়াদিল্লির মূল লক্ষ্য

    এদিকে, নয়া অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্যও বৈদেশিক সহায়তা খাতে বিপুল অর্থ বরাদ্দ রেখেছে দেশটি। সর্বোচ্চ ২ হাজার ২৮৮ কোটি ৫৬ লাখ রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভুটানের জন্য। এছাড়াও নতুন অর্থবছরে নেপালকে ৮শ কোটি, শ্রীলঙ্কাকেও ৪শ কোটি এবং আফগানিস্তানকে দেড়শ কোটি রুপি সহায়তা দেবে নয়াদিল্লি।

    বাংলাদেশের জন্য ভারতের বরাদ্দকৃত অর্থে পরিমাণ ৬০ কোটি রুপি। এর আগে, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিলো দেশটি। পরে সেটি কমিয়ে প্রায় সাড়ে ৩৪ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছিলো।

    উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত থাকে—‘পার্ট এ’ এবং ‘পার্ট বি’। প্রথাগতভাবে ‘পার্ট এ’তে সরকারের নতুন নীতি ও প্রকল্পের বিস্তারিত ঘোষণা থাকে এবং ‘পার্ট বি’ মূলত আয়কর ও শুল্কসংক্রান্ত প্রস্তাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব