• চীনের সঙ্গে দারুণ লড়ে হারল বাংলাদেশ

    সিডনি থেকে

  • ছয় মাসে ১৫৬ কোটি টাকা মুনাফা রেনাটার

    চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় দেশীয় কোম্পানি রেনাটা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ব্যবসা বেড়েছে ১৩৭ কোটি টাকার বা সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি। কোম্পানিটির অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে গতকাল রোববার কোম্পানিটি তাদের অর্ধবার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সভায় এই আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রেনাটা ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো মিলে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। কোম্পানিটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি রেনাটা (ইউকে) লিমিটেড, অন্যটি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেড। রেনাটা (ইউকে) লিমিটেডের আওতায় যুক্তরাজ্যের বাজারে আর রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস (আয়ারল্যান্ড) লিমিটেডের আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন বাজারে ওষুধ রপ্তানি করা হয়। আর মূল কোম্পানি রেনাটা দেশের বাজারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওষুধ বাজারজাত করা হয়।

    আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বাজার ও রপ্তানি বাজার মিলিয়ে রেনাটা ২ হাজার ২০৫ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। আর রেনাটা আয়ারল্যান্ড এই সময়ে ব্যবসা করেছে ১৯ কোটি টাকা। রেনাটা ইউকে ব্যবসা করেছে ১৬ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে এই তিন কোম্পানি মিলিয়ে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে। সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ রেনাটার তিন কোম্পানি মিলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফা করেছে প্রায় ১৫৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা ৩১ কোটি টাকা বা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

    আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটির ব্যবসা যতটা বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে মুনাফায়। যার বড় কারণ উৎপাদন ও সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ কমে যাওয়া। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে কোম্পানিটির পণ্য উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২৩২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির ২ হাজার ৮৭ কোটি টাকার ব্যবসার বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ১ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা মোট ব্যবসার ৫৮ শতাংশ। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটির উৎপাদন খরচ ৩ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচও। গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতে কোম্পানিটির খরচ ছিল ৭৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৭৩ কোটি টাকায়। একদিকে ব্যবসা বেড়েছে, অন্যদিকে বিভিন্ন খাতে খরচ কমেছে। তাতে কোম্পানিটির মুনাফার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়।

    জানতে চাইলে রেনাটার কোম্পানি সচিব জোবায়ের আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানির সুদসহ অন্যান্য আর্থিক খরচ আগের অর্থবছরের চেয়ে সোয়া ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। এ ছাড়া উৎপাদন খরচসহ অন্যান্য কিছু খরচও কমেছে। যার ফলে ব্যবসার প্রবৃদ্ধির চেয়ে মুনাফা প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে।

  • জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ পোস্টের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স পোস্টে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে থাকা আপত্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহীদ মিনারে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    কর্মসূচিতে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যে বৈষম্যহীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, তা আজ হুমকির মুখে। একটি দল নিজেদের নামের সঙ্গে ইসলাম ব্যবহার করে নারীদের নিয়েই কটূক্তি করছে। আবার তার কোনো দায় নিচ্ছে না। ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা নারীদের অপমান করে, তাদের আসল চেহারা জনগণের সামনে উন্মোচন করতে হবে।’

    শাখা ছাত্রদলের সহছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে কর্মজীবী মা-বোনেরাই দেশ চালিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে তাঁদের নিয়ে এমন কটূক্তি অত্যন্ত নিন্দনীয়। ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ তারা সেই নারীদেরই অপমান করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

    মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ‘নারী অঙ্গন’-এর সংগঠক সুমাইয়া শিকদার বলেন, ‘আমরা আইডি হ্যাকের বিষয়টি বিশ্বাস করি না। এর আগেও বিভিন্ন সময় নারীদের কটাক্ষ করা হয়েছে। এত দ্রুত হ্যাক হয়ে আবার আইডি ফিরে আসা কীভাবে সম্ভব? তারা কি বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়? রাষ্ট্রের কাছে কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কোনো আইন নেই? আমরা জামায়াত নেতার এসব বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। রাষ্ট্রের উচিত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।’

    কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হল সংসদের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক তাসফিয়া তাবাসসুম, নারী অঙ্গনের সংগঠক জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ‘আমার সোনার বাংলায়, নারী হেনস্তাকারীদের ঠাঁই নাই’, ‘মোল্লাতন্ত্রের বিষদাঁত, ভেঙে দাও’সহ নানা স্লোগান দেন।

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের অবমাননাকর পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মধ্যেই গত শনিবার রাতে এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে দলটি। জামায়াতের দাবি, দলীয় আমির শফিকুর রহমানের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডল হ্যাক করে পোস্টটি করা হয়েছে। ওই পোস্ট বা কনটেন্ট জামায়াতের আমিরের কোনো বক্তব্য, মতামত বা অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। একই সময়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় জামায়াত।

  • জাহানারার অভিযোগে যে শাস্তি হলো মঞ্জুরুলের

    জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক এবং ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামকে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের কোনো কিছুতে সম্পৃক্ত করবে না বিসিবি। আজ বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বিসিবির অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

    এর আগে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী নারী দলের ক্রিকেটার জাহানারা আলম এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্ত করে দেখতে বিসিবি তদন্ত কমিটি গঠন করলে জাহানারা তাদের কাছেও লিখিতভাবে একই অভিযোগ করেন।

    জাহানারা আলম
    জাহানারা আলম
     

    তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, স্বাধীন তদন্ত কমিটি মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে। কমিটি জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পেলেও বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে বলে জানায় বিসিবি। তাঁর কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলেও জানানো হয়েছিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

    মঞ্জুরুল ইসলাম
    মঞ্জুরুল ইসলাম
     

    তদন্ত কমিটির করা সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় মঞ্জুরুলকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) চাকরি করা মঞ্জুরুল অবশ্য গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকেই বিসিবির কোনো দায়িত্বে নেই। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে মঞ্জুরুলের সঙ্গে। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

    জাহানারার অভিযোগ ছিল বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও। কিন্তু বিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি তৌহিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি।

  • জিতল ইংল্যান্ড, ঝুলে গেল নিউজিল্যান্ডের ভাগ্য, টিকে থাকল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের প্রার্থনাই কাজে এল কি না কে জানে। ম্যাচটা নয়তো নিউজিল্যান্ডের হাতের মুঠোয়ই ছিল প্রায় পুরো সময়। হঠাৎ উইল জ্যাকস এমন একটা ঝড় তুললেন, যা শেষ পর্যন্ত ঝুলিয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ ভাগ্য।    

    প্রেমাদাসায় ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে কারও ফিফটি ছাড়াও তাই ৩ বল হাতে রেখেই ৪ উইকেটের জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের এই জয় বিশ্বকাপে টিকিয়ে রেখেছে পাকিস্তানকেও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলে তাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার পথ হবে, নয়তো শেষ চারে খেলবে নিউজিল্যান্ড।  

    রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ৮ বলেই দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও জস বাটলারকে হারিয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। তবু তাদের পাওয়ার প্লে ভালো কাটে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের কল্যাণে। ৬ ওভারে তারা তোলে ৪৭ রান।

    তখন ১৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্রুক। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার এক ওভার পরই গ্লেন ফিলিপসের বলে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ইংল্যান্ডের রান তোলার গতিও ধীর হতে থাকে, তারা হারায় উইকেটও। শেষ ৩ ওভারে ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়ায় ৪৩ রানের সমীকরণ।

    সেখান থেকে কাজটা কঠিনই মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জন্য। কিন্তু গ্লেন ফিলিপসের এক ওভার থেকেই জ্যাকস ও রেহান আহমেদ মিলে নেন ২২ রান। টানা তিন বলে বাউন্ডারি হাঁকান জ্যাকস। বাকি দুই ওভারে ২১ রান নেওয়ার কাজটা আর কঠিন হয়নি ইংল্যান্ডের জন্য। জ্যাকস ১৮ বলে ৩২ আর রেহান ৭ বলে অপরাজিত থাকেন ১৯ রানে।

    ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান
    ইংল্যান্ডের জয়ে শেষ চারের লড়াইয়ে টিকে আছে পাকিস্তান, এএফপি
     

    ইংল্যান্ডের জন্য রান তাড়ার কাজটা আরেকটু কঠিন হতে পারত নিউজিল্যান্ড বড় সংগ্রহ দাঁড় করালে। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তুলে ফেলার পর সেই সম্ভাবনা জেগেছিলও। কিন্তু পরে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানরা আর ওই গতি ধরে রাখতে পারেননি।

    তা আসলে হতে দেননি ইংল্যান্ডের স্পিনাররা। একে একে নিউজিল্যান্ডের ৭ ব্যাটসম্যানকে ড্রেসিংরুমে ফেরান তাঁরা। কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউ তাই ফিফটি পাননি, ২৮ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ফিলিপসে ৩৯ রানই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ।

    শেষ পর্যন্ত তাদের রান যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য। তবু অবশ্য সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা নিউজিল্যান্ডেরই এখনো জোরালো। ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পাওয়া দলটির নেট রান রেট এখনো ইতিবাচক (+১.৩৯০)। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে পাকিস্তানের পয়েন্টও ৩ হবে। তবে তাদের রান রেট আপাতত নেতিবাচক (–০.৪৬১)।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর

    নিউজিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৫৯/৭ (ফিলিপস ৩৯, সাইফার্ট ৩৫; রশিদ ২/২৮, জ্যাকস ২/২৩)

    ইংল্যান্ড: ১৯.৩ ওভারে ১৬১/৬ (জ্যাকস ৩২*, রেহান ১৯*; রবীন্দ্র ৩/১৯, ফিলিপস ১/৪৩)

    ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী

    ম্যাচসেরা: উইল জ্যাকস

  • জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ, শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে যেভাবে

    জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, দাখিল ৮ম শ্রেণি, ইবতেদায়ি ৫ম শ্রেণি, জেএস ও জেডি (ভোকেশনাল) বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে আজ বুধবার। এতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের আওতায় মোট ৪৬ হাজার ২০০ জন বৃত্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭০০ জনকে মেধাবৃত্তি এবং ৩১ হাজার ৫০০ জন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে।

    আজ বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    ২০২৫ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা বাংলা (বিষয় কোড ১০১), ইংরেজি (১০৭), গণিত (১০৯), বিজ্ঞান (১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (১৫০) বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা দুইভাবে ফলাফল দেখতে পারবে—

    ১. অনলাইন পদ্ধতি: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (dpe.gov.bd) গিয়ে ‘Scholarship Result’ অপশনে রোল নম্বর ও সাল ২০২৬ (2026) দিলেই ফল দেখা যাবে।

    ২. এসএমএস পদ্ধতি: মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে বোর্ডের নাম, রোল নম্বর এবং সাল টাইপ করে ১৬২২২ (16222) নম্বরে পাঠিয়ে দিলেই ফিরতি মেসেজে রেজাল্ট জানা যাবে।

    এবার শিক্ষার্থীদের ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির জন্য কোটা বরাদ্দ করা হয়েছে। বোর্ড ভিত্তিক এ বৃত্তি বণ্টন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ বৃত্তির জন্য কোটা বরাদ্দ হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে।

    ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সারাদেশে একযোগে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়। এই পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে শেষ হয়েছে দুপুর ১টায়। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী। দেশের ৬১১টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় এই পরীক্ষা।

    শুরুর দিনে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি ও ৩০ ডিসেম্বর গণিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩১ ডিসেম্বরের বিজ্ঞান আর বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। সেই স্থগিত পরীক্ষাটি ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে। এবার ফল প্রকাশের অপেক্ষাও শেষ হচ্ছে আজ।

  • টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সুপার এইটের পাঁচ দল নিশ্চিত, বাকিদের সামনে কী হিসাব

    পরশু প্রথম দল হিসেবে সুপার এইট নিশ্চিত করে ‘সি’ গ্রুপের দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ আটে ওঠে ‘এ’ গ্রুপের ভারত। কাল শেষ আট নিশ্চিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কারও। সুপার এইটের অন্য তিনটি দল কারা হবে, কোন দলের কেমন সম্ভাবনা, কোন দলকে কী করতে হবে—

    গ্রুপ ‘এ’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ভারত ৩.০৫০
    যুক্তরাষ্ট্র ০.৭৮৮
    পাকিস্তান -০.৪০৩
    নেদারল্যান্ডস -১.৩৫২
    নামিবিয়া -২.৪৪৩

    ভারত

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেদারল্যান্ডস (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    পাকিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: নামিবিয়া (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নামিবিয়াকে হারালেই সুপার এইটে উঠবে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। হেরে গেলে বাদ পড়তে হবে।

    যুক্তরাষ্ট্র

    হাতে কোনো ম্যাচ নেই।

    পাকিস্তান শেষ ম্যাচে হারলেই টানা দ্বিতীয়বার শেষ আটে উঠে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নেট রান রেটে এগিয়ে আছে দলটি।

    নেদারল্যান্ডস

    হাতে থাকা ম্যাচ: ভারত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    ভারতকে হারাতেই হবে। এরপর আসবে অন্য হিসাব। নেট রান রেটে পিছিয়ে থাকায় সম্ভাবনা কম।

    নামিবিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: পাকিস্তান (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘বি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    শ্রীলঙ্কা ২.৪৬২
    জিম্বাবুয়ে ১.৯৮৪
    অস্ট্রেলিয়া ০.৪১৪
    আয়ারল্যান্ড ০.১৫০
    ওমান -৪.৫৪৬

    শ্রীলঙ্কা

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    জিম্বাবুয়ে

    হাতে থাকা ম্যাচ: আয়ারল্যান্ড (আজ), শ্রীলঙ্কা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই সুপার এইট নিশ্চিত হবে জিম্বাবুয়ের। দুই ম্যাচ হারলেও সুযোগ থাকবে।

    অস্ট্রেলিয়া

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওমান (২০ ফেব্রুয়ারি)

    ভাগ্য নিজেদের হাতে নেই অস্ট্রেলিয়ার। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জিতলেই বাদ অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ে শেষ দুই ম্যাচ হারলে, শেষ ম্যাচে নেট রান রেটের হিসাব মিলিয়ে ওমানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে মিচেল মার্শের দলকে।

    আয়ারল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: জিম্বাবুয়ে (আজ)

    শেষ ম্যাচে জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকে।

    ওমান

    হাতে থাকা ম্যাচ: অস্ট্রেলিয়া (২০ ফেব্রুয়ারি)

    কোনো সুযোগ নেই ওমানের।

    গ্রুপ ‘সি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১.৮২০
    ইংল্যান্ড ০.২০১
    স্কটল্যান্ড ০.৩৫৯
    ইতালি -০.৫৮৮
    নেপাল -১.৯৪২

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত হয়ে গেছে।

    ইংল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: ইতালি (১৬ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইট নিশ্চিত।

    স্কটল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: নেপাল (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    ইতালি

    হাতে থাকা ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    বাদ পড়ে গেছে।

    নেপাল

    হাতে থাকা ম্যাচ: স্কটল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    নেপাল বাদ পড়ে গেছে।

    গ্রুপ ‘ডি’ পয়েন্ট তালিকা

      ম্যাচ জয় হার পয়েন্ট নে.রা.রে.
    দক্ষিণ আফ্রিকা ১.৪৭৭
    নিউজিল্যান্ড ০.৭০১
    আফগানিস্তান -০.২১৫
    আরব আমিরাত -০.৭৯৭
    কানাডা -১.৫২৬

    দক্ষিণ আফ্রিকা

    হাতে থাকা ম্যাচ: সংযুক্ত আরব আমিরাত (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    সুপার এইটে উঠে গেছে।

    নিউজিল্যান্ড

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৭ ফেব্রুয়ারি)

    আজ শেষ ম্যাচে কানাডাকে হারালেই সুপার এইটে কিউইরা। না পারলে যদি-কিন্তুর মধ্যে পড়ে যাবে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত

    হাতে থাকা ম্যাচ: দক্ষিণ আফ্রিকা (১৮ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আমিরাত।

    আফগানিস্তান

    হাতে থাকা ম্যাচ: কানাডা (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    নিউজিল্যান্ড কানাডাকে হারালে শেষ ম্যাচ জিতেও সুপার এইটে উঠতে পারবে না আফগানরা।

    কানাডা

    হাতে থাকা ম্যাচ: নিউজিল্যান্ড (১৭ ফেব্রুয়ারি), আফগানিস্তান (১৯ ফেব্রুয়ারি)

    শেষ দুই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর তাকিয়ে থাকতে হবে আমিরাতের ফলের দিকে।

  • ট্রাম্পের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে: এইচআরডব্লিউ

    ট্রাম্প প্রশাসন এবং চীন ও রাশিয়ার নেতাদের কারণে হুমকির মুখে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষায় মানবাধিকারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি কৌশলগত জোট গঠন করা উচিত। আজ বুধবার প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

    ৫২৯ পৃষ্ঠার বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২৬-এর ৩৬তম সংস্করণে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনের শুরুতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতাকে প্রতিরোধ করা এই প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ থেকে শুরু করে মানুষকে তৃতীয় দেশে বহিষ্কার করাসহ সাম্প্রতিক মার্কিন সরকারের অপব্যবহার আইনের শাসনের ওপর প্রশাসনের আক্রমণকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। চীন ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার সঙ্গে মিলিত হয়ে; যার লক্ষ্য নিয়মভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করা—ট্রাম্প প্রশাসনের এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে গভীর ও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলছেন, ‘বৈশ্বিক মানবাধিকার ব্যবস্থা গুরুতর ঝুঁকির মুখে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অব্যাহত চাপ এবং চীন ও রাশিয়ার ধারাবাহিক অবমূল্যায়নের ফলে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকারীরা যে কাঠামোর ওপর ভর করে মানদণ্ড এগিয়ে নেওয়া ও স্বাধীনতা সুরক্ষার কাজ করছিলেন, সেটিও ধ্বংসের মুখে পড়ছে।

    এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে মানবাধিকারকে এখনো মূল্য দেয়—এমন সরকারগুলোকে সামাজিক আন্দোলন, নাগরিক সমাজ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি কৌশলগত জোট গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

    বোলোপিওঁ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করেছেন। তিনি সরকারের জবাবদিহি কমিয়ে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ করেছেন, আদালতের আদেশ অমান্য করেছেন, খাদ্যসহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি কাটছাঁট করেছেন, নারীর অধিকার খর্ব করেছেন, গর্ভপাতসেবা পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন, বর্ণগত বৈষম্যের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো দুর্বল করেছেন, ট্রান্স ও ইন্টারসেক্স মানুষের সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছেন এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার তোয়াক্কা করছেন না।

    ট্রাম্প সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, গণমাধ্যম, আইনজীবী প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিক সমাজ এমনকি কৌতুকশিল্পীদেরও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।

    বোলোপিওঁ বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি গণতন্ত্র ও মানবাধিকার এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বিধিনির্ভর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভিত্তি উল্টে দিয়েছে। ট্রাম্প নিজেই গর্ব করে বলেছেন, কোনো ‘আন্তর্জাতিক আইন’ তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। তাঁকে থামানোর জন্য তাঁর ‘নিজস্ব নৈতিকতা’ যথেষ্ট।’

    প্রশাসন হঠাৎ প্রায় সব মার্কিন বিদেশি সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন এমন বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে, যা বৈশ্বিক মানবাধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি।

    যুক্তরাষ্ট্রের বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান দুর্বল করার পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। হলোকাস্টের ভয়াবহতা থেকে জন্ম নেওয়া এবং রুয়ান্ডা ও বসনিয়ার গণহত্যার মাধ্যমে আবার উদ্দীপিত হওয়া ‘নেভার এগেইন’ আন্দোলন ২০০৫ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদকে ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ গ্রহণের দিকে প্ররোচিত করেছিল।

    আজ ‘সুরক্ষার দায়িত্ব’ প্রায় ব্যবহার হয় না এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

    ২০ বছর আগে মার্কিন সরকার এবং নাগরিক সমাজ দারফুরে গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সুদানে আবারও অগ্নিসংযোগ চলছে। কিন্তু এবার ট্রাম্পের নেতৃত্বে তা তুলনামূলকভাবে বিনা বাধায় ঘটছে।

    অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনী জাতিগত নিধন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে তারা ৭১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যা করেছে। তাদের নির্বিচার হামলায় গাজার অধিকাংশ মানুষকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    এসব অপরাধকে বিশ্বব্যাপী অসমভাবে নিন্দা করা হয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতি অনুযায়ী ইসরায়েলের প্রতি প্রায় শর্তহীন সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন, এমন সময় যখন আন্তর্জাতিক আদালত জাতিগত নিধনের অভিযোগগুলো বিচারাধীন।

    ইউক্রেনে ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগগুলো ক্রমাগত রাশিয়ার গুরুতর লঙ্ঘনের দায়কে কমিয়ে দেখিয়েছে। এই অপরাধ বন্ধ করতে পুতিনের ওপর যথাযথ চাপ প্রয়োগ করার পরিবর্তে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে তিরস্কার করেছেন, শোষণমূলক খনিজ চুক্তি দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে ব্যাপক ভূখণ্ড ছাড়তে চাপ দিয়েছেন এবং যুদ্ধাপরাধের জন্য ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তির’ প্রস্তাব করেছেন।

    হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ্পে বোলোপিওঁ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে মানবাধিকারকে উপেক্ষা করায় মানবাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নেতৃত্ব উদারপন্থাবিরোধী অভ্যন্তরীণ শক্তির কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

    নির্বাহী পরিচালক বলেন, যদি এসব দেশ একত্র হয়, তবে তারা একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি এবং উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ব্লক হিসেবে উদ্ভূত হতে পারে। মানবাধিকারকে সমর্থন কখনই কেবল শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ বা নিখুঁত অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার রেকর্ড থাকা দেশগুলো থেকে আসেনি।

    এই বৈশ্বিক জোট, যা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সমন্বয়ে গঠিত—ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলায় অন্যান্য প্রণোদনা তৈরি করতে পারে। ট্রাম্পের নীতি বহুপক্ষীয় বাণিজ্য ও মানবাধিকার সুরক্ষার অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিগুলোকে দুর্বল করেছে।

    এই নতুন মানবাধিকারভিত্তিক জোট জাতিসংঘে শক্তিশালী ভোটদানকারী ব্লক হিসেবেও কাজ করতে পারবে। এটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোর স্বাধীনতা ও অখণ্ডতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সমর্থন দিতে পারে এবং এমন জোট তৈরি করতে পারে যা গণতান্ত্রিক মানদণ্ড এগিয়ে নিতে সক্ষম—এমনকি সুপারপাওয়ারের বিরোধিতা থাকলেও।

    বোলোপিওঁ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এটি স্পষ্টভাবে দেখা যাবে, যার বিস্তৃত প্রভাব বিশ্বের অন্য দেশগুলোর ওপর পড়বে। প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দরকার হবে ভোটার, নাগরিক সমাজ, বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকারগুলোর দৃঢ়, কৌশলগত ও সমন্বিত উদ্যোগ।

  • ট্রাম্পের শুল্ক বাতিল: ঢাকা-মার্কিন চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইবে সরকার

    ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল। বিশ্বের ১৫৭টি দেশের পণ্যে বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্বজুড়ে তার পাল্টা শুল্ক মার্কিন আদালতে বাতিল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-ওয়াশিংটনের বাণিজ্যচুক্তির পরিণতি কী হবে, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেবে সরকার।

    সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নাগাদ এ চিঠি দেওয়া হতে পারে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

    দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানিতে নানা অঙ্কে সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর একেক দেশের সঙ্গে এক হার চূড়ান্ত করে ট্রাম্প প্রশাসন।

    গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে যে চুক্তি হয়, তাতে সম্পূরক শুল্ক শেষমেশ ঠেকে ১৯ শতাংশে; আর মোট শুল্ক দাঁড়ায় ৩৪ শতাংশে।

    ডনাল্ড ট্রাম্প সম্পূরক শুল্ক আরোপ করেন ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনোমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে, যা শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।

    আদালত বলেছে, আইইইপিএ প্রেসিডেন্টকে এককভাবে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না। এ রায়ের পর আলোচনায় আসে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তি।

    এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, রায়ে ওদের পাল্টা শুল্ক দেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। এখন আমাদের চুক্তির ‘স্ট্যাটাসটা’ কী হবে, সে ব্যাপারে ইউএসটিআর বলেছে, ওদের যে আইন আছে— ১২২, ২৩২ কিংবা ৩০১ অনুযায়ী গড়ে ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করবে। এগুলো শেষ পর্যন্ত ২৪ তারিখ নাগাদ একটা ডিসাইসিভ আসবে, এরকমটা বলছে।

    এর বিপরীতে সরকার কী করছে, তাও তুলে ধরেন বাণিজ্য সচিব বলেন শনিবারে আমি মেইলটা দেই নাই। মেইল দিব। আমি চিঠিটা এখনই খুব আগ্রহ, গুরুত্ব দেই নাই। কাল-পরশু, দুয়েকদিন গেলে আমি মেইল দিব।

    মেইলে কী জানতে চাওয়া হবে— এমন প্রশ্নে বাণিজ্য সচিব বলেন, চুক্তির ওইটাই স্পষ্ট করতে বলব; চুক্তির 'স্ট্যাটাসটা' কী হবে?

    ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঢাকা যে চুক্তি (এগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড বা এআরটি) করেছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কেনার কথা বলা হয়েছে। এরমধ্যে গম, তুলা ও সয়াবিনও রয়েছে।

    সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তিকে নিজের সাফল্য দাবি করলেও অনেকেই সেটির সমালোচনা করছেন। চুক্তিটি পর্যালোচনার দাবি তুলে কেউ কেউ বলছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনেক কঠোর। তবে 'চুক্তিটি ফেবারেবল' ছিল বলেই মনে করেন বাণিজ্য সচিব।

    কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের কটন স্পেসিফিক যে ডিলটা ছিল, ওটা তো আমাদের জন্য প্রচণ্ড ফেভারেবল ছিল। বাকি যে জিনিসগুলো, এগুলো লোকে যত কথাই বলুক না কেন, আমরা তো ওই সময় অনেক ভালো ইয়ে (চুক্তি) করেছি।

    উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেমন আমরা ইন্টারন্যাশনাল লেবার ল মানবো, ওগুলো; আমরা যে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট ইমপ্লিমেন্ট করব, এগুলো। আমরা অনেক আগে চুক্তি করে স্বীকৃতি দিয়ে আসছি। অন্য ইয়েতে (চুক্তিতে)। যেমন ডব্লিউটিওতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি।

    এ সমস্ত আমরা করেছি। ওগুলোর জন্য এখন বলা ঠিক আছে যে মূল ট্রেড ডিলটা, সেটা আমাদের জন্য 'খুব ফেভারেবল' ছিল।

     

  • ড্র করেও কোয়ার্টার ফাইনালে পিএসজি

    চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর সাথে ২-২ গোলে ড্র করেও হাসি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে পিএসজি। দুই লেগের লড়াই ৫-৪ এর অগ্রগামিতায় কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    ঘরের মাঠে মোনাকোর সাথে খেলায় নাটক কম হয়নি। প্রথমার্ধে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে সাজঘরে ফেরা মোনাকো ৫৮ মিনিটে ১০ জনের দল হয়ে যায়।

    মামাদু কুলিবালি লাল কার্ড দেখার পর মারকিনওস ও কাভারাস্কেইয়ার গোল পিএসজি সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটায়।

    শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হতে পারে বার্সেলোনা অথবা চেলসি। শুক্রবার ড্রতে জানা যাবে, পিএসজি কাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য নিয়োগ

    সাত কলেজের জন্য হওয়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এ এস মো. আবদুল হাছিব।

    গতকাল রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, গতকাল দিনের শেষ ভাগে এই নিয়োগ হয়। আজ সোমবার এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

    মো. আবদুল হাছিব বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর মধ্যে তিনি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হলেন।

    উপাচার্যের মেয়াদ হবে চার বছর। অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

  • দাঁত প্রতিস্থাপনের আগে যেসব বিষয় জেনে রাখবেন

    নানা কারণে দাঁত হারাতে হতে পারে। দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি), মাড়ির রোগ, দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়া, দীর্ঘদিনের অবহেলা, বয়সজনিত সমস্যা ও বিভিন্ন রোগের কারণে দাঁত পড়ে যেতে পারে। এমনকি জন্মগতভাবেও দাঁত অনুপস্থিত থাকতে পারে। অনেকেই দাঁত হারানোকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে আগ্রহী হন না। তবে দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে।

    মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে মুখ ও দাঁতের স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দাঁত না থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে পুরো মুখগহ্বর ও শরীরে পড়তে শুরু করে। একটি দাঁত না থাকলে আশপাশের দাঁতগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা জায়গার দিকে সরে যেতে থাকে, চোয়ালের হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং মুখের স্বাভাবিক গঠন বদলে যায়।

    ফলে মুখের সৌন্দর্য নষ্ট হয়, কথা বলায় জড়তা আসে, মাড়ি ও চোয়ালের হাড় দুর্বল হয়ে যায়। তাই যত দ্রুত সম্ভব দাঁত প্রতিস্থাপন করে নেওয়া জরুরি।

    দাঁত প্রতিস্থাপন ও করণীয়

    আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে দাঁত প্রতিস্থাপনের বেশ কয়েকটি কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে।

    ডেন্টাল ব্রিজ: যদি এক বা একাধিক দাঁত না থাকে ও পাশের দাঁত সুস্থ থাকে, তাহলে ডেন্টাল ব্রিজ কার্যকর সমাধান। এ পদ্ধতিতে ফাঁকা জায়গার দুই পাশের দাঁত ব্যবহার করে মাঝখানে কৃত্রিম দাঁত বসানো হয়।

    ডেন্টাল ইমপ্লান্ট: দাঁত প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে আধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। এতে চোয়ালের হাড়ের ভেতর টাইটেনিয়ামের তৈরি স্ক্রু বসানো হয়, যা ধীরে ধীরে হাড়ের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ওপরই কৃত্রিম দাঁত বা ডেন্টাল ক্রাউন স্থাপন করা হয়। এ ক্ষেত্রে পাশের দাঁত ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

    ডেঞ্চার: যাঁদের অনেকগুলো দাঁত নেই বা সম্পূর্ণ দাঁতই নেই, তাঁদের জন্য ডেঞ্চার একটি বহুল প্রচলিত সমাধান। এটি রোগী নিজের ইচ্ছেমতো পরতে পারেন, আবার খুলেও রাখতে পারেন।

    সব রোগীর জন্য একই পদ্ধতি উপযোগী নয়। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ডেন্টাল সার্জন উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করেন। দাঁত হারানো লজ্জার বিষয় নয়, দাঁত না থাকার সমস্যাকে অবহেলা করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। হারানো দাঁতের প্রতিস্থাপন চিকিৎসা রয়েছে। সচেতনতা ও সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই পারে সুন্দর হাসি ও সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে।

    ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন; চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর

  • দেশ রক্তাক্ত যুদ্ধে, মাঠে ইরানের মেয়েদের অন্য এক লড়াই

    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে বারুদের গন্ধ। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তেহরানের পাল্টা জবাবে উত্তাল পৃথিবী।

    ঠিক এমনই এক সময়ে তেহরান থেকে হাজার মাইল দূরে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে ইরানের নারী ফুটবল দল নিচ্ছে অন্য এক লড়াইয়ের প্রস্তুতি। লক্ষ্য—এশিয়ান কাপ এবং এই টুর্নামেন্টে দারুণ কিছু করে ২০২৭ নারী বিশ্বকাপের টিকিট কাটা।

    এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলছে ইরান। ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার গ্রুপ পর্বে ইরানের প্রথম ম্যাচ আজ, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। একদিকে রণকৌশল নিয়ে ভাবনা, অন্যদিকে স্বদেশ থেকে ভেসে আসা এক চরম অস্থিরতার খবর। ফুটবল-উৎসবের আড়ালে যে বারুদগন্ধ, তা উপেক্ষা করার সাধ্য কার!

    ঠিক এই আবহে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এলেন ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি এবং অধিনায়ক জাহরা গানবারি। প্রত্যাশিতভাবেই ফুটবল ছাপিয়ে সেখানে বড় হয়ে উঠল রাজনীতি। প্রশ্ন ধেয়ে এল—আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর আপনাদের মানসিক অবস্থা কী, এই সংকটময় মুহূর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আপনারা ঠিক কী ভাবছেন?

    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি
    ইরান নারী ফুটবল দলের কোচ মারজিয়া জাফরি, এএফসি

    প্রশ্নটা প্রথমে ফারসিতে হলো, তারপর ইংরেজিতে। মুহূর্তেই যেন সংবাদ সম্মেলনকক্ষের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি নেমে গেল। একটু দম নিয়ে কোচ মারজিয়া জাফরি ফারসিতে কিছু একটা উত্তরও দিতে যাচ্ছিলেন; কিন্তু এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রতিনিধি মাঝপথে তাঁকে থামিয়ে দিলেন। অনেকটা গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করার মতো করেই বললেন, ‘পরের প্রশ্নে যাই চলুন। শুধু খেলাতেই মন দিই।’

    বাকিটা সময় আলোচনা চলল শুধুই ফুটবল নিয়ে। তবে তেহরানে রেখে আসা পরিবার-পরিজন এখন যে যুদ্ধ–পরিস্থিতিতে আছেন, সেই উৎকন্ঠা থেকে ইরানের এই খেলোয়াড়েরা কতটা মুক্ত, সেই প্রশ্নটা থেকেই গেল।

    কোচ মারজিয়া জাফরি ও অধিনায়ক জাহরা গানবারি যখন দল নিয়ে দেশ ছাড়েন, তখনো ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছিল। তবে ইরানের মেয়েদের প্রস্তুতির গল্পটা বলতে গিয়ে অধিনায়ক আর কোচ যেন কোনো এক ‘আদর্শ পৃথিবী’র ছবি আঁকলেন। কোচ জাফরির কথায়, ‘দেশের লিগে খেলে মেয়েরা প্রস্তুত হয়েছে। তারপর কয়েকটা ক্যাম্প করে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি। আশা করি, কাল একটা দারুণ ম্যাচ উপহার দিতে পারব।’

    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি
    ইরান নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারি, এএফসি
     

    ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা ইরানের গ্রুপে এবার দক্ষিণ কোরিয়া (র্যাঙ্কিং ২১) ছাড়াও আছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া (১৫) ও ফিলিপাইন (৪১)। অধিনায়ক গানবারিও কোচের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বললেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি খুব ভালো। দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া বা ফিলিপাইন—সবাই শক্তিশালী ঠিকই, তবে আমরা বিশ্বকাপে যাওয়ার লক্ষ্যেই লড়ব।’

    সংবাদ সম্মেলন শেষে ইরানের মেয়েরা যখন গোল্ড কোস্ট স্টেডিয়ামের মাঠটা পরখ করতে নামলেন, তখন তাঁদের চেহারায় কোনো উদ্বেগের ছাপ নেই। একে অপরের ছবি তুলছেন, হাসছেন।

    কিন্তু সেই হাসির আড়ালে কি দেশের জন্য দীর্ঘশ্বাস লুকানো ছিল না? কাল যখন দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে তাঁরা নামবেন, গ্যালারির গর্জন ছাপিয়ে তাঁদের কানে কি বাজবে তেহরানে একের পর বিস্ফোরণের শব্দ।

    কিংবা হয়তো ফুটবলই এখন তাঁদের একমাত্র আশ্রয়, দমবন্ধ পরিস্থিতিতে একটুখানি নিশ্বাস নেওয়ার খোলা জানালা!

  • দেশে প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

    দেশে সম্প্রতি শনাক্ত হওয়া একটি রহস্যজনক রোগের পেছনে নিপাহ ভাইরাস নয়, বরং বাদুড়বাহিত নতুন একটি ভাইরাস দায়ী এমন তথ্য উঠে এসেছে সর্বশেষ গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্তরা প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন, যা মানুষের জন্য মারাত্মক স্নায়ুবিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খবর দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

    গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঁচজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের উপসর্গের মধ্যে ছিল জ্বর, বমি, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়ুবিক সমস্যা। আক্রান্ত পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে এবং আগে নিপাহ সংক্রমণের একটি পরিচিত মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।

    প্রাথমিকভাবে রোগটি নিপাহ ভাইরাসজনিত বলে ধারণা করা হলেও পরীক্ষায় দেখা যায়, কারও শরীরেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নেই। কয়েক সপ্তাহের চিকিৎসার পর সবাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাসকষ্ট ও হাঁটাচলার জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

    সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন, এই রোগের প্রকৃত কারণ প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি) একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস। গবেষকদের মতে, ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। এতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এ পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা জনগণকে খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকার, রোগতত্ত্বীয় নজরদারি জোরদার, এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

    স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: ব্যক্তিগত সুরক্ষা, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

     

  • দেশে ফিরেই আবুধাবিতে আটকে পড়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা জানালেন এশা গুপ্তা

    ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী এশা গুপ্তা। আবুধাবি বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে অবশেষে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তিনি। আর দেশে ফিরেই তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ভক্তদের।

    সোমবার (৩ মার্চ) এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন অভিনেত্রী। সেখানে সেই স্মৃতির কথা শেয়ার করেন ঈশা।

    তিনি জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি আবুধাবি বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন নির্ধারিত সময়েই। কিন্তু দুপুরের পর হঠাৎ করেই বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিভ্রান্তি আর উৎকণ্ঠা। কেউ স্পষ্ট করে কিছুই জানাতে পারছিল না ঠিক কী ঘটেছে। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আকাশপথে।

    তিনি বলেন, সেই সময়টা ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তায় ভরা। যাত্রীরা একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, অচেনা মানুষও হয়ে উঠেছিলেন ভরসার জায়গা। সবাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন। বিমানবন্দরে আটকে পড়া যাত্রীদের খাবারের জন্য নগদ অর্থ দেওয়া হয়। যাদের ফ্লাইট বাতিল হয়, তাদের আবুধাবির বিভিন্ন হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয় স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে।

    হোটেল কর্মীদের প্রশংসা করে এশা লেখেন, ভয় ও চাপের মধ্যেও তারা অসাধারণ ধৈর্য ও পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন।

    অবশেষে ২ মার্চ দিল্লিগামী প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ওঠার সুযোগ পান এশা। নিজেকে ভাগ্যবান উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানান সবার প্রতি।

    শেষ পোস্টে অভিনেত্রী প্রকাশ করেন নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারার অনুভূতি। এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাকে মনে করিয়ে দিয়েছে দুর্যোগের সময় মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।

     

  • দেশের প্রথম এমভিএনও সিমে থাকছে যেসব সুবিধা

    দেশে প্রথম ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো চালু হয়ে গেল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠাটির মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) সিম।

    রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হয়েছে।

    পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া এই সেবার আওতায় এখন আনলিমিটেড ভয়েস কল, আনলিমিটেড ডেটা এবং কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই এমভিএনও সিম সাধারণ গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    গত ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, দেশের প্রথম বিটিসিএল এমভিএনও সিমটি সচল হয়েছে। ভয়েস কল, ডাটা কল, আলাপ টু মোবাইল নেটওয়ার্ক, আলাপ টু আলাপ, জিপন ইন্টিগ্রেশন-এই চারটি ইভেন্টের সফল প্রভিশনিং সম্পন্ন হয়েছে। কল টেস্টও সফল হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও জানান, বিটিসিএল গুলিস্তান/রমনা কার্যালয়ে সরেজমিন প্রভিশনিং, অ্যাক্টিভেশন ও টেস্ট কল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএল এমভিএনওর লাইভ পাইলট শুরু হবে। এখন এমভিএনও এবং ট্রিপল প্লে নিয়ে কাজ চলছে। এগুলো একসঙ্গেই চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী।

    এদিকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিটিসিএল দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরের মাধ্যমে আনলিমিটেড কোয়াড-প্লে সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। এই উদ্যোগকে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি ও সেবা উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ৩ ফেব্রুয়ারি বিটিসিএলের রমনা অফিসে এ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই আনলিমিটেড মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের জন্য এই সেবা চালু করছে।

    এ সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল এবং আনলিমিটেড ইন্টারনেট সেবা উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা ‘আলাপ’-ও এই প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জিপন কানেকশন এবং রাউটারসহ আনলিমিটেড ইন্টারনেট এবং জনপ্রিয় ওটিটি কনটেন্ট (নাটক, মুভির) প্ল্যাটফর্ম টফি এই এমভিএনও সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি আনলিমিটেড ভয়েস, আনলিমিটেড ডেটা, আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড ও ডিজিটাল কনটেন্টকে একীভূত করে কোয়াড-প্লে সেবা দেওয়া হবে।

    এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে এমভিএনও নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। আধুনিক এই প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে গ্রাহক সেবায় রাষ্ট্রায়ত্ত এ প্রতিষ্ঠানটি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    কী এই এমভিএনও

    নিজস্ব অবকাঠামো ছাড়া অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে টেলিকমসেবা প্রদানের পদ্ধতিকে বলা হয় ভার্চুয়াল অপারেটর বা এমভিএনও। এই অপারেটরদের নিজস্ব স্পেকট্রাম লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, নেটওয়ার্ক অবকাঠামো তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও নেই। তারা অন্যান্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি পাইকারি হারে কিনে গ্রাহক পর্যায়ে খুচরা বিক্রি করে।

    যেসব অপারেটরের বাড়তি নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি আছে অথবা পুরো ফি দিয়ে স্পেকট্রাম লাইসেন্স কেনার সমপরিমাণ গ্রাহক নেই, তারা উদ্বৃত্ত নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি এভাবে বিক্রি করে থাকে। এতে দুই প্রতিষ্ঠানই লাভবান হয়। এমভিএনও প্রতিষ্ঠানগুলোর অপারেটিং ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় কল ও ডেটা ব্যবহারের রেটও কম হয়ে থাকে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারে এমন এমভিএনও-এর সংযোগ ব্যবহার করলে গ্রাহকেরও মোবাইল নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা কম হবে।
    এত দিন নিজস্ব নেটওয়ার্ক অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে সেবা দিচ্ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি মোবাইল অপারেটর (এমএনও)। অথচ বিশ্বের অন্য দেশগুলো মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবার শুরুর দিকেই এমভিএনও নিয়ে কাজ করেছে। ২০০০ সালের আগস্টে বিশ্বের প্রথম এমভিএনও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ডেনমার্কের সনোফোন। ২০০৮ সালের মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই চালু হয় ৪০টিরও বেশি এমভিএনও।

    এমভিএনওর ধরন

    এমভিএনওর রয়েছে চারটি ধরন। ব্র্যান্ডেড রিসেলার এমভিএনও শুধু একটি এমএনও-এর অধীনে কাজ করে, বলা যায় একই প্রতিষ্ঠানের দুটি আলাদা ব্র্যান্ড। ভিন্ন ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের এমভিএনও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। থিন এনভিএমও অনেকটাই ব্র্যান্ডেড রিসেলারের মতো, তবে তাদের নিজস্ব কাস্টমার সাপোর্ট সিস্টেম, বিলিং ও ট্যারিফ থাকে। দুই ক্ষেত্রেই মূল অপারেটরের সিম ও নাম্বার সিরিজে সেবা দিয়ে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান। মিডিয়াম এমভিএনও চাইলে নিজস্ব ব্র্যান্ডের সিম, নাম্বার এবং ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস বিক্রি করতে পারে। এই তিন ধরনের এমভিএনও সাধারণত একাধিক এমএনওর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে না।
    বিটিসিএল কাজ করছে ফুল এমভিএনও হিসেবে। একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক, নিজস্ব সিম, নাম্বার, আলাদা ধরনের সেবার জন্য আলাদা সিম এবং পুরো নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও কাস্টমার সেবা অবকাঠামোর মাধ্যমে কাজ করবে তারা।

    গ্রাহকের লাভ

    এমভিএনও ব্যবহারে বেশ কয়েকটি বাড়তি সেবা পাবে ব্যবহারকারীরা। একই সংযোগ থেকে ভয়েস কল ও মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পাশাপাশি ডেটা কলিং এবং জিপনের মাধ্যমে ইন্টারনেটসেবা ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একাধিক অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা থাকায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যাও কম হবে, কভারেজ নিয়ে চিন্তা থাকবে না। বিশ্বের অন্যান্য দেশের এমভিএনও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পাইকারি মিনিট ও ডেটা প্যাক বিক্রি করে। সেটিও গ্রাহকদের জন্য লাভজনক। বিটিসিএল জানিয়েছে, তারা চেষ্টা করবে গ্রাহকদের সর্বনিম্ন মূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেটসেবা দেওয়ার।

     

  • দ্রুত এলপিজি আমদানির পথ খুঁজছে বিপিসি

    চট্টগ্রাম
  • ধর্ষণ–ছুরি হামলাসহ ৩৮ অভিযোগ: নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলে গ্রেপ্তার

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের (যুবরাজ্ঞী) বড় ছেলে মারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ছুরি হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অসলোতে স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার তাঁর বিচার শুরুর কথা রয়েছে।

    মারিয়াস বোর্গ হোইবির বিরুদ্ধে মোট ৩৮টি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে চার নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ওই বিচার শুরু হচ্ছে।

    ২৯ বছর বয়সী হোইবি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিটের ছেলে এবং সিংহাসনের উত্তরসূরি ক্রাউন প্রিন্স হাকনের সৎছেলে।

    নরওয়ের পুলিশ মারিয়াস হোইবিকে চার সপ্তাহের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ছুরি নিয়ে হামলা এবং আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর আবারও অপরাধ করার ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

    হোইবি তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই অস্বীকার করেছেন। তবে আদালতে বিচারকাজ শুরু হলে কিছু কম গুরুতর অভিযোগের দায় স্বীকার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    হোইবিকে গত রোববার গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে চতুর্থবারের মতো গ্রেপ্তার হলেন তিনি। হোইবির বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা এক নারীর ওপর হামলা চালিয়েছেন তিনি।

    এ ঘটনাকে নরওয়ের রাজপরিবার ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ের আরেকটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    নরওয়ের মানুষ এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর আরেকটি খবরের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। জানা গেছে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে–ম্যারিট ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে টানা তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন।

    এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর নরওয়ের ভবিষ্যৎ রানি মেটে-ম্যারিট এ ঘটনাকে তাঁর ‘অবিবেচক সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘জেফরি এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার সব ভুক্তভোগীর প্রতি আমি গভীর সহমর্মিতা আর সংহতি প্রকাশ করছি।’

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন, ‘তাঁর (জেফরি এপস্টেইন) সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়টি ভীষণ বিব্রতকর।’

    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট
    নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-ম্যারিট, ফাইল ছবি: রয়টার্স
     

    প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, মেটে-ম্যারিট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এপস্টেইনের বাড়িতে চার রাত ছিলেন। তবে ওই সময় এপস্টেইন ওই বাড়িতে ছিলেন না। ক্রাউন প্রিন্সেস তখন এপস্টেইনকে এ–ও জিজ্ঞেস করেছিলেন, একজন মা হিসেবে ১৫ বছর বয়সের ছেলেকে ‘দুজন নগ্ন নারীর সার্ফ–বোর্ড বহনের ছবিযুক্ত ওয়ালপেপার’ দেখানো ‘অনুচিত’ হবে কি না।

    এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে মারিয়াস হোইবির বিরুদ্ধে একজন নারীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। নোরা হাউকল্যান্ড নামের ওই নারীর সঙ্গে একসময় তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। আর নোরা হলেন হোইবির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে নাম প্রকাশ হওয়া একমাত্র ভুক্তভোগী। অন্যদের নাম জানা যায়নি।

    সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, হোইবি গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটান। কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে থাকা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ২০২৩ সালে পুলিশ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। পরের বছর হোইবিকে ২০১৭ সালের একটি সংগীত উৎসবে কোকেন ব্যবহার করার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল।

  • নতুন গবেষণা দ্রুত দেবে যাচ্ছে ঢাকা

    জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনায় সাধারণত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মেরু অঞ্চলের বরফ গলা কিংবা শক্তিশালী ঝড়ের খবরই শিরোনামে থাকে। কিন্তু বিশ্বের অনেক মেগাসিটি বা জনবহুল শহরের জন্য সমস্যাটি কেবল পানির স্তর বেড়ে যাওয়া নয়; পায়ের নিচের মাটিই ধীরে ধীরে নিচে দেবে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। এই নীরব ধস কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সম্প্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে ৪০টি প্রধান নদী বদ্বীপ বা ডেল্টার মানচিত্র তৈরি করেছেন, যেখানে দেখা গেছে, সমুদ্রের পানি যে গতিতে বাড়ছে, মাটি দেবে যাওয়ার গতি তার চেয়েও বেশি। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ক্ষেত্রেও এমন প্রবণতা খেয়াল করেছেন বিজ্ঞানীরা।

    নদী বদ্বীপ পৃথিবীর মোট ভূখণ্ডের মাত্র ১ শতাংশ হলেও এখানে প্রায় ৫০ কোটি মানুষ বাস করে। বিশ্বের বড় ৩৪টি শহরের ১০টিই এই নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত। এর মধ্যে গঙ্গা বদ্বীপে কলকাতা ও ঢাকা, নীল নদে আলেকজান্দ্রিয়া, ইয়াংজিতে সাংহাই এবং মেকং বদ্বীপে হো চি মিন সিটি অন্যতম। এই অঞ্চলগুলো মূলত অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র, যেখানে বড় বড় বন্দর, বিমানবন্দর এবং শিল্পাঞ্চল অবস্থিত। অধিকাংশ বদ্বীপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১ থেকে ২ মিটার (৩ থেকে ৬ ফুট) উঁচুতে অবস্থিত। ফলে মাটির সামান্যতম অবনমনও এই শহরগুলোর জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের ১০ বছরের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অর্ধেকের বেশি বদ্বীপ বছরে ৩ মিলিমিটারের চেয়ে দ্রুত নিচে নামছে। থাইল্যান্ডের চাও ফ্রায়া, ভিয়েতনামের মেকং এবং চীনের ইয়েলো নদী বদ্বীপে এখন সমুদ্রের পানি বাড়ার চেয়ে মাটি দেবে যাওয়াই প্রধান আপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাটি মাত্র কয়েক ইঞ্চি দেবে গেলেই বন্যা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

    বদ্বীপের মাটি প্রাকৃতিক নিয়মেই কিছুটা পরিবর্তনশীল। কিন্তু মানুষের কিছু কর্মকাণ্ড এই ধসকে ত্বরান্বিত করছে। বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে মাটির নিচের স্তরগুলো সংকুচিত হয়ে যায় এবং ভূমি দেবে যায়। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ফলে মাটির ভেতরে শূন্যতা তৈরি হয়। মেগাসিটিগুলোর বিশাল সব দালান ও স্থাপনার ভার নরম মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

    গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বদ্বীপে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, সেখানেই ভূমি দেবে যাওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। ঢাকা, কলকাতা, ব্যাংকক, সাংহাই ও ইয়াঙ্গুন এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ মিটারেরও কম উচ্চতায় বসবাসকারী ৭ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮৪ শতাংশই (প্রায় ৬ কোটি ৩৭ লাখ মানুষ) এমন এলাকায় বাস করছেন, যেখানে ভূমি দ্রুত দেবে যাচ্ছে। এর মধ্যে এশিয়ায় ঝুঁকির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তবে আমেরিকা মহাদেশের মিসিসিপি এবং আমাজন বদ্বীপও এই ৫টি এশীয় বদ্বীপের মতোই সংকটাপন্ন।

    ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক লিওনার্ড ওহেনহেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ বলছে, ৪০টির মধ্যে ১৮টি বদ্বীপে ভূমিধসের হার সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার পাশাপাশি ভূমি দেবে যাওয়া রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

    মহাকাশ থেকে নিখুঁতভাবে সেন্টিমিটারের ভগ্নাংশ পরিমাণ পরিবর্তনও পরিমাপ করতে সক্ষম, এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এখন কেবল সমুদ্রের পানিকে আটকে রাখাই চ্যালেঞ্জ নয়। পায়ের নিচের মাটিকে স্থিতিশীল রাখাই হবে আগামী কয়েক দশকের প্রধান লড়াই।

    সূত্র: আর্থ

    জাহিদ হোসাইন খান

  • নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থ রেখে যাবে সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

    সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকবে।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা।

    পরবর্তী সরকার যে এটা করবে, তার নিশ্চয়তা কী—সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘টাকাপয়সা দিয়ে যাব। তারপর সুপারিশ করে যাব। আশা করি, এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।’

    সরকার কেন এখনই বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করছে না—এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘গেজেট করা কি সোজা? গেজেট করতে হলে স্পষ্ট করে বলতে হয়, কোনটা কত দেওয়া হবে। মোট কথা, আমরা এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দিয়ে যাচ্ছি।’

    গণভোটের খরচ বিষয়ে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা আমি জানি না। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আমরা কার্পণ্য করিনি। যে টাকা চেয়েছে, আমরা দিয়ে দিয়েছি। বাড়তি কিছু টাকা চেয়েছে, সেটাও আমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছি।’

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব