• Colors: Blue Color

ইরান যুদ্ধের ধাক্কা ও এর ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের চিরশত্রু দেশগুলোও এখন একটি শান্তিচুক্তির পক্ষে একজোট হয়েছে। ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনে তেল আবিব সমর্থকদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি খসড়া চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করেছে।

এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এমন এক সময়েই ঘটছে, যখন ওই অঞ্চলের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়িষ্ণু ক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছে। বিশেষ করে যখন ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানতে, হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক উন্মুক্ত করতে কিংবা তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

অবশ্য এ অঞ্চলে তেহরানের বন্ধু খুব কমই আছে। তবে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে যাওয়ার কারণে প্রতিবেশীরা বাধ্য হয়েই তাদের সঙ্গে একটি সমঝোতার পথ খুঁজছে।

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। মুসানদাম, ওমান, ৬ মে ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান। মুসানদাম, ওমান, ৬ মে ২০২৬, ছবি: রয়টার্স

লন্ডনের কিংস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো (যুক্তরাষ্ট্রে) লাখ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ করার পরও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ওয়াশিংটন যেভাবে সবার আগে ইসরায়েলকে রক্ষা করেছে, এ ঘটনা তাদের হতবাক করেছে।

আন্দ্রেয়াস বলেন, ‘আমরা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের শেষ দিনগুলো দেখছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার ওপর থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মোহ পুরোপুরি কেটে গেছে।’

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তির রূপরেখা তৈরির জন্য গত সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তান ও কাতারের কর্মকর্তারা ইরানে যান। তাঁদের এ চূড়ান্ত চেষ্টার পরই একটি খসড়া চুক্তিতে সবাই একমত হন। গত শনিবার আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। তাঁরা তাঁকে এমন একটি চুক্তি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান, যার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ হবে, হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হবে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ৬ মে ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি ম্যুরালের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ৬ মে ২০২৬ছবি: রয়টার্স

যুদ্ধের আগে এসব দেশ ওয়াশিংটনের কাছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তির কাছে হেরে গিয়েছিল। কিন্তু এবার তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে পেছনে ফেলতে পেরেছে। নেতানিয়াহুও একই দিনে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এখন ঘোষণা দিয়েছেন যে চুক্তির বিষয়ে ‘অনেকটাই আলোচনা হয়ে গেছে’।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে ‘আমি যা বলব, তিনি তা-ই করবেন।’ গত সোমবার টাইমস অব ইসরায়েল পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণী খবরের শিরোনাম ছিল, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিল, আর এখন সাইডলাইনে থেকে তা শেষ করছে’।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল এবং নিজেরাও বিমান হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু এখন তারাও সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, বাহরাইন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের পাশাপাশি শান্তিচুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ইরানে যুদ্ধ বন্ধে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদ
ইরানে যুদ্ধ বন্ধে দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলবিরোধী প্রতিবাদছবি: রয়টার্স

এ অঞ্চলে একমত হওয়ার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যকার প্রভাব বিস্তারের তিক্ত লড়াই কিছুটা কমেছে বলে মনে হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে এ দুই দেশের শাসকদের মধ্যে বেশ কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে।

যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে ট্রাম্পের বিখ্যাত আব্রাহাম চুক্তিতে নতুন করে অন্য দেশগুলোর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও বেশ কয়েকটি আরব দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা। গত শনিবার কনফারেন্স কলে ট্রাম্প যখন আরও দেশকে এ চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন সবাই চুপ ছিল বলে জানা গেছে। এ মধ্যস্থতাপ্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছে পাকিস্তান (ইসলামাবাদ)। তারা বলেছে, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে বিভেদ থাকলে তা কেবল ইসরায়েলেরই সুবিধা করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বলেন, ইসলামাবাদের আসল সাফল্য হলো, অন্যান্য দেশকেও শান্তিপ্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে পারা। তুরস্ক, মিসর, সৌদি আরব ও কাতার নিজ নিজ জায়গা থেকে এ প্রচেষ্টাকে সমর্থন জুগিয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাজধানী তেহরানে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের (বাঁয়ে) সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের রাজধানী তেহরানে, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ছবি: রয়টার্স

মাসুদ খান বলেন, পাকিস্তান একা এ পথে এগোতে পারত না। নিজেদের মধ্যস্থতাকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে তাদের চারপাশের সমর্থন প্রয়োজন ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে এক ডজনের বেশি ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আছে এবং তা ভবিষ্যতেও থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন নিজেদের অঞ্চলে এবং এর বাইরে নতুন নিরাপত্তাসঙ্গীর খোঁজ করছে, যেখানে ইউরোপ আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। যুদ্ধের সময় সৌদি আরবকে রক্ষায় সেনা ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল পাকিস্তান।

অন্যদিকে, মিসরের সবচেয়ে বড় আর্থিক সহায়তাকারী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে মিসরের সৈন্য ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে একে অপরের ওপর হামলা না করার চুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবদুল খালেক আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর দেশ চেয়েছিল ইরানের কাছে যেন কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন না থাকে, তারা যেন প্রক্সি যুদ্ধ না করে এবং তাদের কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম না থাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা অসম্ভব বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ইরানের হামলার পর জেবেল আলী বন্দর থেকে উড়ছে ধোঁয়া। দু্বাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১ মার্চ ২০২৬
ইরানের হামলার পর জেবেল আলী বন্দর থেকে উড়ছে ধোঁয়া। দু্বাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ১ মার্চ ২০২৬ছবি: এএফপি

আবদুল্লাহ বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত খুবই বাস্তববাদী একটি দেশ। ইরান এখনো বড় এক হুমকি। তবে ২০ বছর ধরে আমরা যে ক্ষমতাশালী ইরানকে দেখেছি, তারা এখন আর তেমন নেই।’

আবদুল্লাহ বলেন, নতুন এক মধ্যপ্রাচ্যের উত্থান ঘটছে, যেখানে দুর্বল হয়ে পড়া তেহরানের শূন্যতা পূরণ করতে তুরস্ক, ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করছে।

নতুন উদীয়মান এক অক্ষ গড়ে উঠছে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে, যারা গত বছর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এ ব্যবস্থার মধ্যে তুরস্ক, কাতার ও মিসরকেও অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা চলছে, যাকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। অন্যপাশে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার একটি জোট, যা ‘আইটুইউটু’ গ্রুপ নামে পরিচিত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: রয়টার্স

লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলো হিসাব কষে দেখেছে যে তেহরানের সরকার বদল করাটা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। আর এমনটা কেবল ইসরায়েলই চেয়েছিল।

হেলিয়ার আরও বলেন, ট্রাম্পও ভালোভাবে বুঝে গিয়েছিলেন যে এ যুদ্ধ থেকে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত ফল পাবেন না। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাঁকে চুক্তি মানতে জোর করেনি। বরং এই চুক্তিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর ব্যাপক সমর্থন আছে, ট্রাম্পকে শুধু এমনটা বলার সুযোগ করে দিয়েছে।

হেলিয়ার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থা এখন আর কেবল যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে তৈরি হচ্ছে না। উপসাগরীয় দেশগুলো ক্রমেই এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মুহূর্তে হয়তো ওয়াশিংটন তাদের পাশে থাকবে না।

দ্য গার্ডিয়ান

২০০৬ সালের ২৬ মে মুক্তি পেয়েছিল ‘ফানা’। আজ সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্ণ হলো। দেখতে দেখতে কেটে গেছে দুই দশক। সময়ের হিসেবে ২০ বছর। কিন্তু প্রেম, প্রতারণা, দেশপ্রেম আর ট্র্যাজেডির মিশেলে তৈরি এই ছবির আবেগ এখনো বলিউডপ্রেমীদের মনে একই রকম তাজা। একদিকে আমির খানের রহস্যময় আকর্ষণ, অন্যদিকে কাজলের আবেগঘন অভিনয়—সব মিলিয়ে ‘ফানা’ ছিল ২০০০–এর দশকের অন্যতম আলোচিত ও সফল চলচ্চিত্র।

দুই দশক পরও কেন বিশেষ ‘ফানা’
‘ফানা’ শুধু একটি প্রেমের গল্প ছিল না, এটি ছিল প্রেম আর আদর্শের সংঘাতের গল্প। বলিউডে তখন রোমান্টিক ছবির অভাব ছিল না, কিন্তু ‘ফানা’ দর্শকদের সামনে এমন এক নায়ককে হাজির করেছিল, যিনি একই সঙ্গে প্রেমিক, কবি এবং সন্ত্রাসী। সেই সময়ের মূলধারার বলিউডে এমন ধূসর চরিত্র খুব বেশি দেখা যেত না।
ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন কুনাল কোহলি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছিল যশরাজ ফিল্মস। আর ছবির গান, সংলাপ, কাশ্মীরি আবহ আর আবেগঘন নির্মাণ দ্রুতই এটিকে কাল্ট মর্যাদা এনে দেয়।

প্রেম, মিথ্যা আর বিশ্বাসঘাতকতার জটিলতা
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র রেহান কাদরি, যার ভূমিকায় ছিলেন আমির খান। দিল্লির এক পর্যটক গাইড রেহান নিজেকে পরিচয় দেয় হাসিখুশি, রোমান্টিক এক তরুণ হিসেবে। তার প্রেমে পড়েন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কাশ্মীরি তরুণী জুনি চরিত্রে কাজল।

দিল্লিতে কয়েক দিনের পরিচয় দ্রুতই প্রেমে রূপ নেয়। কিন্তু সম্পর্কের ঠিক পরপরই ঘটে বিস্ফোরণ। সবাই জানতে পারে, রেহান আসলে একজন জঙ্গি, যে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত। জুনির জীবন ভেঙে পড়ে।

‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

এরপর গল্প এগোয় বহু বছর পর। সবাই ধরে নেয় রেহান মারা গেছে। কিন্তু এক দুর্ঘটনার পর আহত অবস্থায় সে আশ্রয় নেয় জুনির বাড়িতেই—যেখানে জুনি এখন এক সন্তানের মা। রেহান নিজের পরিচয় গোপন রাখে। কিন্তু ধীরে ধীরে পুরোনো প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা আর সত্য একসঙ্গে সামনে আসতে থাকে।
‘ফানা’র সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল এখানেই—এটি শুধু প্রেমের গল্প নয়, বরং নৈতিক দ্বন্দ্বের গল্প। একজন মানুষ কি একই সঙ্গে ভালোবাসতে এবং ধ্বংস ডেকে আনতে পারে? এই প্রশ্নই ছবিটিকে অন্য মাত্রা দেয়।

আমির–কাজল জুটির জাদু
ছবিটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল আমির খান ও কাজলের প্রথম জুটি। নব্বইয়ের দশকে কাজল তখন বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী। কিন্তু বিয়ের পর তিনি অনেকটাই পর্দা থেকে দূরে ছিলেন। ‘ফানা’ ছিল তাঁর বড় প্রত্যাবর্তন।
অন্যদিকে আমির খান তখন পরীক্ষাধর্মী চরিত্রে ঝুঁকছেন। রেহানের চরিত্রে তিনি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক—যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
দর্শক ও সমালোচকেরা বিশেষভাবে প্রশংসা করেছিলেন তাঁদের রসায়নের। ছবির আবেগঘন দৃশ্যগুলো আজও বলিউডের সেরা রোমান্টিক মুহূর্তের তালিকায় জায়গা পায়।

গানগুলো আজও জনপ্রিয়
‘ফানা’র গান ছিল ছবির আরেক বড় শক্তি। জতিন–ললিতের সুরে তৈরি গানগুলো তখন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।

বিশেষ করে ‘চাঁদ সিফারিশ’, ‘মেরে হাত মে’, ‘দেশ রংগিলা’ ও ‘দেখো না’—এই গানগুলো এখনো নস্টালজিয়ার অংশ।

‘চাঁদ সিফারিশ’ গানটি তো একসময় প্রায় প্রতিটি পুরস্কার জিতে নেয়। গানগুলোর ভিজ্যুয়াল, কাশ্মীরি লোকেশনের ব্যবহার এবং আবেগঘন কথাগুলো ছবির জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি
‘ফানা সিনেমায় আমির খান ও কাজল। আইএমডিবি

মুক্তির আগে বিতর্ক
ছবিটি মুক্তির আগেই বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন আমির খান। নর্মদা বাঁধ ইস্যুতে তাঁর একটি মন্তব্য ঘিরে ভারতের গুজরাটে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। এর প্রভাব পড়ে ‘ফানা’র ওপরও।
গুজরাটের অনেক সিনেমা হল ছবিটি প্রদর্শন করতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় বলিউডে বিষয়টি বড় আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই বিতর্ক ছবির ব্যবসায় বড় ক্ষতি করবে।
কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা ঘটে। বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি বক্স অফিসে দুর্দান্ত সাফল্য পায়।

বক্স অফিসে ঝড়
‘ফানা’ মুক্তির পরপরই ভারত ও বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে। সে সময়কার হিসাবে এটি বছরের অন্যতম সর্বোচ্চ আয় করা বলিউড ছবিতে পরিণত হয়।
ভারতে ছবিটি ৫০ কোটির বেশি ব্যবসা করেছিল, যা তখন বিশাল অঙ্ক হিসেবে ধরা হতো। আন্তর্জাতিক বাজারেও ছবিটি ভালো ব্যবসা করে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে ছবিটির জনপ্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে সিনেমাটি বক্স অফিসে ১০৫ কোটি রুপির বেশি আয় করে।

পর্দার পেছনের কিছু গল্প
ছবির শুটিংয়ের বড় অংশ হয়েছিল পোল্যান্ড ও ভারতে। কাশ্মীরের আবহ ফুটিয়ে তুলতে নির্মাতারা ইউরোপের কিছু তুষারাচ্ছন্ন লোকেশন ব্যবহার করেছিলেন।
আরেকটি মজার তথ্য হলো ছবিতে রেহানের চরিত্রটি নিয়ে শুরুতে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছিল। আমির খান চরিত্রটিকে আরও মানবিক ও বাস্তবসম্মত করতে চেয়েছিলেন। ফলে স্ক্রিপ্টে কয়েকবার পরিবর্তন আনা হয়।
কাজলও ছবিটির জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীর শরীরী ভাষা ও চোখের অভিব্যক্তি কীভাবে হবে, তা নিয়ে তিনি আলাদা করে কাজ করেছিলেন।

কী বললেন কাজল
এদিকে সিনেমাটি মুক্তির দুই দশক পূর্তিতে স্মৃতিকাতর কাজল। নিজের ফেসবুকে সিনেমাটির কিছু স্টিল ছবি শেয়ার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘“ফানা”র ২০ বছর…তখন আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র আড়াই বছর, আর আমি ছিলাম...। তবে সবচেয়ে বেশি যা মনে পড়ে, তা হলো অপূর্ব সুন্দর পোল্যান্ড। মাইনাস ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, দারুণ সব বন আর ফুটপাতে চলা স্লেজ। আর অবশ্যই, সেই সময় সবাই যখন মোটা গুজ ডাউন জ্যাকেট পরে ঘুরছিল, তখন আমি পাতলা সালোয়ার–কামিজ পরে শুটিং করছিলাম। সত্যিই, কী দারুণ এক স্মৃতি!’

আইএমডিবি ও বলিউড হাঙ্গামা অবলম্বনে

আরাফাত

ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, ‘আত্মরক্ষা’ এবং ইরানি বাহিনীর হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের সুরক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির নীতি বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে মার্কিন বাহিনী প্রতিরোধ জারি রেখেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এমন সময় এই হামলা চালাল, যখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শিগগিরই কোনো চুক্তি হচ্ছে না।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হকিন্স নিশ্চিত করেছেন যে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছে এই হামলা চালানো হয়। এই উপকূলীয় শহরটিতে ইরানের একটি বড় নৌ ঘাঁটি রয়েছে।

এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, বন্দর আব্বাসে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

এই হামলার বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে, তা-ও এখনো স্পষ্ট নয়।

গত সপ্তাহান্তেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে উভয় পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কিন্তু এর পরপরই তিনি সুর বদল করেন এবং মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের এই বিষয়ে তাড়াহুড়া না করার নির্দেশ দেন।

বিবিসি

আকাশসীমায় ড্রোন সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস। ‘স্টর্ম শিল্ড’ নামে নতুন এই ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (ইডব্লিউ) সিস্টেম ড্রোনকে শত্রুপক্ষের আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।

মূলত, রাফায়েল ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এবং বিদেশে রফতানির জন্য অস্ত্র, সামরিক এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিকাশ এবং উৎপাদন করে থাকে।

ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে আয়োজিত এওসি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সম্মেলনে প্রযুক্তিটি প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে আনা হয়। মূলত, শত্রুপক্ষের রেডার ফাঁকি দিয়ে প্রবেশকরা ড্রোনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এটি তৈরি করা হয়েছে।

সম্প্রতি 'অপারেশন রাইজিং লায়ন' বা ‘এপিক ফিউরি’ অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর ড্রোন সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। 

মার্কিন কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ২৪টি 'এমকিউ-৯ রিপার' ড্রোন হারিয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলেরও এক ডজনের বেশি ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি অস্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের দাবি, 'স্টর্ম শিল্ড' সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম (সব ধরনের অদৃশ্য সিগন্যাল কিংবা তরঙ্গ) পুরো রেঞ্জ পর্যবেক্ষণ করে শত্রুপক্ষের রাডার ও সিগন্যাল শনাক্ত করতে পারে। এরপর বিভ্রান্তিমূলক ইলেকট্রনিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনকে নিরাপদ রাখে।

এতে ব্যবহৃত হয়েছে ট্রান্সমিটার ও ডিজিটাল আরএফ মেমোরি প্রযুক্তি। একই প্রযুক্তি রাফায়েলের ‘লাইট শিল্ড’, ‘স্কাই শিল্ড’ এবং ‘এক্স-গার্ড’ সিস্টেমেও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে নতুন সংস্করণটি আকারে ছোট ও হালকা হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ড্রোনে সহজে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলোর টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়ানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই বাস্তবতায় স্টর্ম শিল্ড নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

 

বার্লিন থেকে

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব