• Colors: Blue Color

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা দখলে নিতে ইসরায়েলি বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থী ইহুদিবাদী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এ কথা জানান।

এদিন অধিকৃত পশ্চিম তীরে এক সম্মেলনে সাক্ষাৎকার দেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, হামাসের ওপর ইসরায়েল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করছে।

কট্টরপন্থী এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা এখন আমাদের হাতে। আগে আমরা ৫০ শতাংশ এলাকায় ছিলাম। সেখান থেকে আমরা ৬০ শতাংশে পৌঁছেছি।’ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার নির্দেশ হলো ধাপে ধাপে এগোনো। প্রথমেই ৭০ শতাংশে যেতে হবে। আপাতত এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা শুরু করি।’

যুদ্ধবাজ নেতানিয়াহু এ কথার বলার সময় উপস্থিত উগ্রপন্থী ইহুদিরা দর্শকেরা পুরো গাজা দখলে নেওয়ার দাবি জানান।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোকে কিছু মানচিত্র দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। সেসব মানচিত্রে দেখা যায়, গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা আগে থেকেই ইসরায়েলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

গাজার আরও এলাকা ইসরায়েল দখলে নিলে সেখানকার প্রায় ২০ লাখ ফিলিস্তিনি চরম বিপাকে পড়বেন। এই উপকূলীয় উপত্যকার সামান্য ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকায় তাঁদের গাদাগাদি করে থাকতে হবে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েলি সেনারা ‘ইয়োলো লাইন’ (হলুদ রেখা) নামের একটি সীমানায় পিছিয়ে যায়। এর ফলে গাজার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ওই সীমানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করেছে হামাস। মঙ্গলবার হামাস বলেছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রকাশ্যেই যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তারা জোরপূর্বক নতুন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মূলত গাজার ওপর নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। এর ফলে ওই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরানো ও সংঘাত কমানোর যেকোনো চেষ্টাই ব্যর্থ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি গত অক্টোবরে কার্যকর হয়। ইসরায়েল ও হামাস—উভয় পক্ষেরই এই চুক্তির শর্ত মেনে চলার কথা। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে এর বাস্তবায়ন থমকে আছে। এতে গাজা ভূখণ্ড স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন বুলগেরিয়ার কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ। চলতি মাসের শুরুতে তিনি একটি সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হলে এই ‘ইয়োলো লাইন’ একসময় সীমানাপ্রাচীর বা দেয়ালে পরিণত হতে পারে। এর ফলে গাজা স্থায়ীভাবে বিভক্ত হয়ে পড়বে।

গাজার বর্তমান বাস্তবতার কথাও স্বীকার করেন ম্লাদেনভ। তিনি বলেন, সেখানে ‘এখনো বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন’। ইসরায়েলি বিমান হামলার ‘ভয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো’।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় বারবার হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তারা নিজেদের মতো করে অভিযোগ তুলেছে, হামাস নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ করছে এবং নিজেদের বাহিনীকে আবার সংগঠিত করছে। এর মধ্য দিয়ে হামাসই প্রথম যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

ফিলিস্তিনের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর ইসরায়েলের এসব হামলায় গাজায় ৮৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের সামরিক শাখার নেতা ইজ্জ আল-দিন আল-হাদ্দাদকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর ১১ দিন পর আরেক হামলায় তাঁর উত্তরসূরিকেও হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

ইসরায়েলের আরেক উগ্রবাদী নেতা প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘৭ অক্টোবরের হামলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে হত্যার শপথ নিয়েছিলাম আমরা। আর আমরা সেটাই করব। তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, তাঁদের মৃত্যুদণ্ড অবধারিত।’

ম্লাদেনভ আরও বলেন, হামাসও তাদের অস্ত্র সমর্পণ বা ধ্বংস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ গাজার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার এই প্রধান শর্তটির ওপর। শর্ত অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গাজার বিভিন্ন অংশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এরপর ইসরায়েলি বাহিনী গাজার দখল করা এলাকা থেকে ধীরে ধীরে সরে যাবে।

বেশ কয়েকটি দেশ গাজায় নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাতে চেয়েছে। তবে ঠিক কবে এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট সময়সীমা নেই। যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নেও কোনো অগ্রগতি নেই। এই সুযোগে গাজার আরও বেশি এলাকা ক্রমশ দখলে নিচ্ছে ইসরায়েল। ধ্বংসপ্রাপ্ত এই ভূখণ্ডে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করছে।

সিএনএন

সামরিক জোট ন্যাটোভুক্ত দেশ রোমানিয়ার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আজ শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার একটি ড্রোন আছড়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার সর্বশেষ নজির এটি। রোমানিয়ায় হামলার ঘটনায় ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

রোমানিয়া সরকার রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকুসন ড্যান জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তিনি এটিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর ‘রোমানিয়ার ভূখণ্ডে হওয়া সবচেয়ে গুরুতর ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোমানিয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে গালাতি শহরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ড্রোনটি আছড়ে পড়ে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ও ৫৩ বছর বয়সী এক নারী গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার অভিযান শুরুর পর থেকে রোমানিয়ায় বহুবার ড্রোন অনুপ্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে এবারই প্রথম কোনো আবাসিক ভবনে সরাসরি আঘাতের ঘটনা ঘটল।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেছেন, এই হামলার মধ্য দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন আরও একটি সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উরসুলা লিখেছেন, ‘আমরা রোমানিয়া ও এর জনগণের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’

ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব সীমান্তে প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ আরও জোরদার করা হবে।

মস্কোর আচরণকে ‘বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছে ন্যাটো। পাশাপাশি রোমানিয়াকে ‘পূর্ণ সমর্থন’ দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে তারা।

ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটে রোমানিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্যই বিপজ্জনক।’

মার্ক রুটে আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করছি, মিত্র জোটের প্রতি ইঞ্চি ভূখণ্ড রক্ষার জন্য প্রস্তুত আছে ন্যাটো।’

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ নোয়েল বারো এই ঘটনাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্দু রাশিয়াকে ‘সবার জন্য বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মলদোভার অবস্থান রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মাঝখানে। মলদোভাতেও এর আগে একাধিকবার ড্রোন অনুপ্রবেশ ও ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৮ থেকে ২৯ মে রাতের মধ্যে ইউক্রেনের ভেতরে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। রোমানিয়ার নৌ-সীমার কাছে এ ঘটনা ঘটে।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ওই ড্রোনগুলোর একটি রোমানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে বলে রাডারে শনাক্ত হয়। গালাতি শহরের দক্ষিণ অংশ পর্যন্ত ড্রোনটি রাডারে শনাক্ত হয়েছে। পরে এটি একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ছাদে বিধ্বস্ত হয়। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়।

ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান পাঠায়।

ইউক্রেনের আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কায় রাতভর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ইউক্রেনের দক্ষিণে জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে এক হামলার ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।

এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু জটিল বিষয় সমাধান করা বাকি আছে বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ভ্যান্স আরও বলেন, দুই পক্ষ আদৌ চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাবে কি না, বা কখন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তা এত তাড়াতাড়ি বলা সম্ভব নয়।

প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা আছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে মূল জটিলতা থেকে গেছে। এ ক্ষেত্রে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে।

এর আগে গতকাল মার্কিন কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, দুই দেশ একটি চুক্তির রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। সেটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

তবে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

গতকাল সন্ধ্যায় জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচকেরা এখনো কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। এর মধ্যে আছে–‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ প্রশ্নটি।

জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি এবং এ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।’

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, ইরান যেন বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ করে এবং তাদের বিদ্যমান মজুত সরিয়ে ফেলে।

জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আশাবাদী সুরে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে যে ইরান ‘আন্তরিকভাবে’ আলোচনা করছে।

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুই পক্ষ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বাস্তবসম্মত ফল পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর নেতা, ডেমোক্র্যাট দলের সদস্য এমনকি কংগ্রেসের কিছু রিপাবলিকান সদস্যের কাছ থেকেও এমন চাপ আসছে। তাঁরা সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে গতকাল প্রকাশিত পরস্পরবিরোধী খবরগুলো দেখিয়ে দিয়েছে যে আলোচনা এখনো কতটা অনিশ্চিত ও পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে।

দুই দেশই একে অপরের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্য দিয়েছে। তারা প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে খুব কম তথ্য দিয়েছে।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে একমত হয়েছে। সে সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা বিধিনিষেধও তুলে নেওয়া হচ্ছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমও বলেছে, চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের উৎক্ষেপণ স্থলে ব্লু অরিজিনের কোম্পানি তৈরি একটি রকেট নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সময় সেটি বিস্ফোরিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রকেটটি হঠাৎ করে বিশাল আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছে এবং আশপাশের পুরো এলাকা আগুনে ঢেকে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ব্লু অরিজিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘হটফায়ার টেস্টের সময় একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে।’

তারা আরও বলেছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মীর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং সবাই নিরাপদ আছেন।

ই–কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ২০০০ সালে এই মহাকাশপ্রযুক্তি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেপ ক্যানাভেরালে স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে ব্রেভার্ড কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।

বেজোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা কর্মীরা নিরাপদ আছেন এবং তাদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

বেজোস বলেন, ‘এত আগে ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে না। তবে আমরা ইতিমধ্যে তা খুঁজে বের করার কাজ শুরু করেছি। আজকের দিনটি খুব কঠিন ছিল। কিন্তু যা কিছু আবার তৈরি করা দরকার, আমরা তা করব এবং আবার উড্ডয়নের কাজে ফিরে যাব। এটা জরুরি।’

যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর মহাকাশ বিভাগ বলেছে, জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং কর্মকর্তারা ব্লু অরিজিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে ঘটনার সঠিক কারণ জানার চেষ্টা করছেন।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজাকম্যান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, মহাকাশযাত্রা খুবই কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। আর নতুন ভারী রকেট তৈরির কাজ অত্যন্ত জটিল। এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য আমরা আমাদের সহযোগীদের সহায়তা দেব, স্বল্পমেয়াদি অভিযানের ওপর এর প্রভাব মূল্যায়ন করব এবং আবার রকেট উৎক্ষেপণের কাজে ফিরব।’

বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল–সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রশাসন (এফএএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা এই ঘটনার বিষয়ে জানে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘এই পরীক্ষা এফএএর লাইসেন্সপ্রাপ্ত কার্যক্রমের আওতার মধ্যে ছিল না।’

তারা আরও বলেছে, এ ঘটনায় উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি।

গত মাসেই ব্লু অরিজিনের নতুন রকেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। তখন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয় এফএএ।

বিবিসি

ওয়ারশ

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব