• Colors: Blue Color

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা গত সপ্তাহান্তে ইরানের গোরুক শহর ও কেশম দ্বীপে দেশটির রাডারসহ ড্রোন–সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম এই তথ্য জানায়। সেন্টকম বলেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন এমকিউ–১ ড্রোনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়াসহ ইরানের ‘আগ্রাসী পদক্ষেপের’ জবাবে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, একটি স্থলভিত্তিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও একমুখী হামলার জন্য ব্যবহৃত দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। এগুলো আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ ছিল।

এর আগে গতকাল রোববার ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ–১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুতামূলক অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে মার্কিন ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। ড্রোনটিকে দ্রুত শনাক্ত করা হয়। আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ড্রোনটিকে ভূপাতিত করা হয়।

আল–জাজিরা

গত মাসে গ্যাসের দাম আবারও বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পারিবারিক সঞ্চয় চার বছরের মধ্যে এপ্রিলেই হয়েছে সবচেয়ে কম।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম যে হারে বেড়েছে, তার প্রভাবে এপ্রিল মাসে ফেডারেল রিজার্ভের পছন্দের মূল্যসূচক (পিসিই) বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, মার্চে যা ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে এপ্রিলে ব্যক্তিগত ভোগব্যয় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ, মার্চে যা ছিল শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ, অর্থাৎ মার্চের তুলনায় কিছুটা ধীর।

অর্থনীতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোক্তা ব্যয়ের ওপর নির্ভরশীল, এপ্রিলে তা বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। তবে মার্চে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ শতাংশ, সেখানে এই গতি তুলনামূলকভাবে কম। মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রকৃত ব্যয় বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। কর ফেরতের কারণে সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া অনেক পরিবার জ্বালানি দামের ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে। তবে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই সক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হবে।

নেশনওয়াইড মিউচুয়ালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্যাথি বোস্টজ্যানসিক বলেন, পরিবারগুলো এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্টভাবে অনুভব করছে। এক মাসে ভোক্তাদের আয় ছিল প্রায় স্থির। কর-পরবর্তী আয় কমেছে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করার পর প্রকৃত আয় কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

এই অবস্থায় মানুষ সঞ্চয় ভাঙিয়ে খরচ চালাচ্ছে। এপ্রিলে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার নেমে এসেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে, ২০২২ সালের জুনের পর যা সর্বনিম্ন। চলতি বছরের শুরুতে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

ন্যাভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং লিখেছেন, আমেরিকানরা এখন আর্থিকভাবে চাপে আছে। মূল্যস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং ব্যক্তিগত সঞ্চয় গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে। অনেকেই এখন আয় থেকে বেশি ব্যয় করছেন—বিষয়টি টেকসই নয়, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জন্য।

মূল্যস্ফীতির আবারও উল্টো পথে

ফ্যাক্টসেটের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে মাসিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। ব্যয় বৃদ্ধিও শূন্য দশমিক ৩ শতাংশে নামতে পারে। গত মাসে ব্যয়ের বড় অংশই গেছে গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে—জ্বালানি, বিদ্যুৎ, বাসস্থান ও খাদ্য মিলিয়ে মোট ব্যয় বৃদ্ধির প্রায় অর্ধেক এসেছে এসব খাত থেকে। তবে মানুষ এখনো ঐচ্ছিক খাতে ব্যয় কমায়নি; বিনোদন ও রেস্তোরাঁয় খরচ বরং বেড়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, ফলে তেল, গ্যাস, সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এই যুদ্ধের ধাক্কায় জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়েছে, খাদ্যের দাম (বিশেষ করে তাজা পণ্যের) বাড়তে শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে পণ্য ও সেবার দাম আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এলিজাবেথ রেন্টার বলেন, তেলের দামের ধাক্কা ও তার পরোক্ষ প্রভাব এবং শুল্কনীতির কারণে মূল্যস্ফীতি আবারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। কিন্তু আয় সেই হারে বাড়ছে না, ফলে ভোক্তারা অস্বস্তিকর অবস্থায় পড়ছেন।

অর্থনীতিবিদেরা সাধারণত খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির খাত বাদ দিয়ে মূল্যসূচক পরিমাপ করে থাকেন। এতে মৌলিক মূল্যস্ফীতির প্রবণতা বোঝা যায়। এই কোর পিসিই সূচক এপ্রিল মাসে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে; এটি প্রত্যাশার তুলনায় কম হলেও বার্ষিক হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশে।

ব্যাংক অব আমেরিকা সিকিউরিটিজের অর্থনীতিবিদ স্টিফেন জুনো মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে এই চাপ বাড়ছে। নেশনওয়াইডের বোস্টজ্যানসিক বলেন, টেকসই পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে উঠেছে, এটি জ্বালানি ও খাদ্য ব্যতীত মূল্যস্ফীতির চেয়েও বেশি, যেখানে সাধারণত এই খাতে দাম কমে থাকে।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, এর পেছনে আছে একদিকে শুল্কনীতি, অন্যদিকে চীনের পরিস্থিতিও দায়ী। তিনি বলেন, চীন এখন আর আগের মতো ডিফ্লেশন বা মূল্যহ্রাসের পর্যায়ে নেই; পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। রপ্তানিকারক হিসেবে তারা এত বড় যে মার্কিন শুল্কের কারণে বাণিজ্য কিছুটা কমলেও তাদের রপ্তানি বাণিজ্যের বদৌলতে মূল্যস্ফীতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে।

ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকদের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের অধীন সুদের হার কমবে, আপাতত তেমন সম্ভাবনা কম।

বোস্টজ্যানসিকের মতে, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন দীর্ঘ সময় ধরে ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ করবে। বাণিজ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষি খাতে সহায়তা কর্মসূচি কমে যাওয়ায় এক মাসে আয় কিছুটা কমেছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, অর্থনীতিতে গড় মজুরি বৃদ্ধির চেয়ে মূল্যস্ফীতি দ্রুত হারে বাড়ছে।

একই দিনে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি হয়েছে আগের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। সংশোধিত হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, আগের পূর্বাভাস ছিল ২ শতাংশ। এর আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে প্রথম প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি কিছুটা গতি পেয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা। আটলান্টা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমান অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।

সিএনএন

তেহরান

ইরানের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করায় একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি আইআরজিসি’র একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এমকিউ-১’ মডেলের একটি মার্কিন ড্রোন ইরানের ভেতরে একটি ‘শত্রুতামূলক অভিযান’ পরিচালনার চেষ্টা করছিল।

আইআরজিসি জানায়, ড্রোনটি ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করা মাত্রই বিপ্লবী গার্ডের আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেটিকে শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।

বিবৃতিতে আইআরজিসি স্পষ্ট  আরও বলেছে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এত দিন ‘যুবরাজ’ বলে চিহ্নিত তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারধর করা হয়েছে। আজ শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে হামলার শিকার হন লোকসভার সদস্য অভিষেক।

এ ঘটনার জন্য বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটি বলেছে, পরিকল্পনামাফিক এ ঘটনা রাজ্যের শাসক দল ঘটিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, কিছু লোক অভিষেককে যথেচ্ছভাবে কিল–চড়, ঘুষি মারছে। এ ঘটনা ঘটার সময় কাছ থেকে ডিম ছুড়েও তৃণমূল নেতাকে মারা হয়।

এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোনারপুরের একটু আগে নারীরা তাঁকে কালো পতাকা দেখান আর সোনারপুরে ঢোকার পরে শুরু হয় ডিমের বৃষ্টি। বহু মানুষ জড়ো হয়ে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। ধারাবাহিকভাবে ডিম ছোড়ার ফলে অভিষেকের পোশাক বেশ খানিকটা হলুদ হয়ে যায়। তিনি গাড়ি থেকে নেমে একটি বাইকে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁর বাইক ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। তিনি মাথায় হেলমেট পরে নেন। সেটারই ওপরেই ডিমের বৃষ্টি চলতে থাকে। হেলমেট ও জামাকাপড় হলুদ হয়ে যায়। একপর্যায়ে মারতে মারতে তাঁর জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ সময় দলীয় নেতা–কর্মী ও কিছু নিরাপত্তারক্ষী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুটা সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে
তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। আজ শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরেছবি: ভাস্কর মুখার্জি

এরপরে সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকেরা। অভিষেক বলেন, ‘এই হলো ডাবল ইঞ্জিন (সরকারের) নমুনা। সবাই চেয়েছিল, ডাবল ইঞ্জিন হোক (ডাবল ইঞ্জিন অর্থাৎ কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার) ওরা চায়, আমাদের মেরে ফেলতে। মারুক। আমার মৃতদেহ এখান থেকে বেরোবে।’

হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার মাথাটা বেঁচে গেল শুধু হেলমেট ছিল বলে। পুলিশ কোথাও নেই। সব ঘটনার ভিডিও রেকর্ড রইল। পুলিশকে খবর দেওয়া হোক। আমি এখান থেকে বেরিয়ে যেতেই পারি। কিন্তু এই পরিবারের ওপর হামলা হবে আমি বেরিয়ে যাওয়ার পরে। আমি এখন এদের ছেড়ে যেতে পারব না। নিরাপত্তা বাহিনী পাঠিয়ে আগে এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।’ হামলায় অভিষেকের চশমা, ঘড়ি ইত্যাদি ভেঙে গেছে বলে স্থানীয় প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

‘অভিষেকের পুনর্জন্ম হলো’

এ হামলা রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও অন্যতম মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেছেন, ‘সম্পূর্ণ চক্রান্ত করে সংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। এই একইভাবে হামলা চালানো হয়েছিল ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ওপরে। অভিষেকের মতোই তাঁরও নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল এবং তার কী ফল হয়েছিল, তা আমরা দেখেছি।’

‘এ হামলার ফলে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের পুনর্জন্ম ঘটল। এত দিন যাঁকে অভিহিত করা হতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো বলে, আজ তাঁর ওপর আক্রমণ করে তাঁর নেতৃত্বকে প্রতিষ্ঠা করে দেওয়া হলো। আজকে যে লড়াই হলো…সেই স্নায়ুযুদ্ধকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অতিক্রম করে গেছেন এবং এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।’

হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
হামলার মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সোনারপুরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
 

হামলার নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শাসক ঘাতকে পরিণত হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘এসবের মধ্যে বিজেপি নেই। এ ধরনের ঘটনা সুস্থ, স্বাভাবিক, গণতান্ত্রিক পরিবেশে হয় না। আজ বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই তৃণমূলের নেতারা অক্ষত রয়েছেন। ওরা যে পরিমাণ অত্যাচার মানুষের ওপর করেছে, আমাদের জেলা সভাপতি, আমাদের দলের কর্মীদের ওপর করেছে, তারপর আমরা ছিলাম বলেই ওদের বিধায়ক-সাংসদেরা এখনো এ অবস্থায় আছেন। অন্য কোনো দল থাকলে এতক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে বলার সুযোগ পেতেন না।’

আবার উত্তপ্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ

এ ঘটনার পরে সন্ধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুইলচেয়ারে বসিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা আজ রাতে হাসপাতালে তাঁকে দেখতে গেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, শীর্ষস্থানীয় নেতার ওপর এ হামলার ঘটনাকে সামনে রেখে আপাতত তাঁরা প্রতিবাদের রাজনীতি শুরু করবেন।

একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে হকার উচ্ছেদ ও বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে নতুন করে নাম নথিভুক্তিকরণের বিষয়টি নিয়ে পথে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই মাস ধরে সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলোয় অর্থসহায়তা পাচ্ছেন না নারীরা, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই গরম হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এরপরে তৃণমূল কংগ্রেস, যাদের এখনো ৪০ শতাংশ ভোট রাজ্যে রয়েছে, তারা পথে নামলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকেরা।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব