• Colors: Blue Color

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকায় ক্ষুব্ধ তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের এ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে মার্কিন এ অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ কারণেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। এখন থেকে এই কৌশলগত নৌপথটি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরমুখী এবং ইরান থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর চলাচলের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দেবে, ততক্ষণ এ কড়াকড়ি বজায় থাকবে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান—উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে কার্যকর’ থাকবে।

ট্রাম্পের এমন অনড় অবস্থানের কারণেই তেহরান পাল্টা সিদ্ধান্ত নিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও আল–জাজিরা

বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদি আরব পৌঁছেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ৩০০১ ফ্লাইটটি সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। ফ্লাইটে হজযাত্রী ছিল মোট ৪১৯ জন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিমানবন্দরে বাংলাদেশি হজযাত্রীদেরকে অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন ও কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম।
এ সময় হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের হাতে রিফ্রেশমেন্ট কিট তুলে দেওয়া হয়।
অভ্যর্থনাকালে অন্যান্যের মধ্যে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনসুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার মো. রুহুল আমিন, জেদ্দা হজ টার্মিনালের হেড অব অপারেশন ইহাহিয়া রাদি এবং হাজিদের অভ্যর্থনায় নিয়োজিত সৌদি প্রতিষ্ঠান নুসুক মারহাবার ম্যানেজার রায়েদ বাকশাউন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়।

 

ইরান ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির বাকি সময় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ থাকবে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম অনেকটা কমে গেছে।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি নেমে আসে ৮৮ ডলারে, যদিও গতকাল শুক্রবার সকালেই এই তেলের দাম ছিল ৯৮ ডলারের ওপরে।

হরমুজ প্রণালি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইরানের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামুদ্রিক পরিবহন খাতের সংস্থাগুলো বলছে, বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে, তা এখনো যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট যে সময় আছে, সেই সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করবে। এই সময়ের জন্য হরমুজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।

এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপে প্যারিসের ক্যাক ও ফ্রাঙ্কফুর্টের ড্যাক্স সূচক প্রায় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি পায়, লন্ডনের এফটিএসই ১০০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক হামলা চালানোর পর থেকেই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ট্যাংকার চলাচল কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

সংঘাত শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের নিচে। একপর্যায়ে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১১৯ ডলার পেরিয়ে যায়। এর পর থেকে অবশ্য তেলের দাম ওঠানামা করছে।

এদিকে হরমুজ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করছে আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা বিমকো। সংস্থাটির নিরাপত্তাপ্রধান জ্যাকব লারসেন বলেন, প্রণালির নির্ধারিত নৌপথে মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকি এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে জাহাজ চলাচল নিরাপদ হয়েছে, এ কথা আপাতত বলা যাচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ জানিয়েছেন, প্রণালি আবার চালুর ঘোষণা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপদ ও বাধাহীন চলাচল নিশ্চিত হয়েছে কি না।

তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব ইতিমধ্যে জ্বালানি বাজারে পড়েছে। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে, জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। এতে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কেবল তেল, সার, গ্যাসসহ আরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার তৈরির উপাদান এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে খাদ্যপণ্যের দামের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাজ্যের বাজারে এই প্রথম পেট্রল ও ডিজেলের দাম সামান্য কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির মোটরিং সংস্থা আরএসি জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দাম কিছুটা কমতে শুরু করেছে, যদিও ফেব্রুয়ারির তুলনায় তা এখনো অনেক বেশি।

ইরানের ঘোষণার কারণ

এদিকে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি হয়েছে। মূলত এই যুদ্ধবিরতির পর ইরান এই ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং চলাচলের জন্য প্রস্তুত। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রণালি আর ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। তবে স্থায়ী চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল থাকবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শিপিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। কেউ কেউ বলছে, তাঁরা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নন এবং এখনই এই পথ ব্যবহার শুরু করা যাবে না।

তেলবাহী জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্টেনা বাল্ক জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ইসরায়েল-লেবাননের এই যুদ্ধবিরতির কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের সুযোগ যে অনেক বেড়ে গেছে তা নয়, বরং এই সুযোগ সীমিত সময়ের জন্য। এই সময়ের মধ্যে কিছু জাহাজ প্রণালি পার হতে পারলেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে না।

বেইস বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক মনমোহন সোধি বলেন, সরবরাহব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে ভোক্তাদের চাপ যে দ্রুত কমবে, তেমন সম্ভাবনা কম।

বিবিসি

ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নিতে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটন কাজ করবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই তা কোথাও স্থানান্তর করা হবে না।

এর আগে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে বড় বড় খনন যন্ত্র ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার ডাস্ট তুলবো। হামলার গভীরতার কারণে বড় আকারের যন্ত্রের প্রয়োজন হবে। এরপর ওই পারমাণবিক অবশিষ্টাংশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি খুবই সোজা। 

বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ আবারও মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের দুইজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একজন কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা এই রণতরি সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে ‘ইউএসএস মাহান’ ও ‘ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল’ নামে দুটি ডেস্ট্রয়ার (যুদ্ধজাহাজ) রয়েছে। সামরিক অভিযানের গোপনীয়তা রক্ষায় ওই কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, জাহাজের লন্ড্রিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর মেরামতের জন্য গত এক মাসের বেশি ভূমধ্যসাগরে ছিল ফোর্ড। ওই অগ্নিকাণ্ডের ফলে জাহাজটির ৬০০ নৌসেনার ঘুমানোর জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মেরামত শেষে এটি এখন লোহিত সাগরে ফিরেছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দীর্ঘতম সময় মোতায়েন থাকার রেকর্ডও ভেঙেছে এ রণতরি।

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড পৌঁছানোর ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে। অন্যটি হলো আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। এছাড়া ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ নামে আরও একটি রণতরি এ অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে এটি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা।

তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে তৃতীয় দফায় নোঙর তুলেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর শুক্রবার রাত নয়টার দিকে পারস্য উপসাগর থেকে রওনা হয় জাহাজটি। জাহাজে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক রাতে জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ আজ শুক্রবার এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে বলে ঘোষণা দেয়। এরপরই নোঙর তুলতে শুরু করে একের পর এক জাহাজ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হরমুজমুখী জাহাজের স্রোতের শুরুর দিকেই রয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি। ঘণ্টায় নয় নটিক্যাল মাইল গতিতে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে এটি।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাতে বলেন, ‘ইরানি বাহিনীর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় আমরা হরমুজের পথে আছি।’

বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি।

অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এর পর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটল।

জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শুক্রবার রাতে বলেন, হরমুজ পার হওয়ার পর জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে নেওয়া হবে।

আমাদের অনুসরণ করুন

 

সর্বাধিক পড়ুন

  • সপ্তাহ

  • মাস

  • সব